কোরআনের পাতায় হালাল হারাম ও আদেশ নিষেধ

0
395

কোরআনের পাতায় হালাল হারাম ও আদেশ নিষেধ

‘কোরআনের পাতায় হালাল হারাম ও আদেশ নিষেধ’ নামটাই আমাদের বলে দেয়, এটা স্বতš কোনো গ্রন্থের নাম নয়, আর আসলে এটা আলাদা কোনো গ্রন্থের নাম হতেও পারে না। তবে এটুকু বলা যায় যে, কোরআনের পাতায় আল্লাহ তায়ালা এ চারটি বিষয়ে যে আয়াতগুলো নাযিল করেছেন তার অধিকাংশগুলোকে এই গ্রন্থের পাতায় একত্র করার চেষ্টা করা হয়েছে।
মানবজাতির সংবিধান কোরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার আদেশ নিষেধ ও হালাল হারাম সম্বলিত আয়াতগুলো স্বাভাবিকভাবে সর্বাধিক গুরুত্বপর্ণ। আল্লাহ তায়ালা মানব জাতির আদি পিতা হযরত আদম ও তার জীবন সাথী হযরত হাওয়াকে দুনিয়ায় পাঠানোর সময়ই বলে দিয়েছিলেন যে, দুনিয়ায় চলার জন্যে তোমাদের কাছে কিšু সু¯ক্সষ্ট হেদায়াত নিয়ে আমার আদেশ নিষেধ আসবে। আদেশ নিষেধের প্রকারভেদে কোন্টা তোমাদের জন্যে হালাল আর কোন্টা তোমাদের জন্যে হারাম তাও সু¯ক্সষ্ট করে তোমাদের জানিয়ে দেয়া হবে। তোমরা যারা জীবন যুদ্ধে জয় পরাজয়ের কথা না ভেবে আমার আদেশ নিষেধের আদলে নিজেদের গড়ে তুলবে তারা দুনিয়ায় যেমন মাথাউঁচু করে দাঁড়াতে পারবে, তেমনি কেয়ামতের কঠিন বিচার দিনেও তাদের মুখমণ্ডল উজ্জল হবে। তাদের ভয় শংকা বলতে কিছুই থাকবে না।
হালাল হারামের বিষয়টি স¤ক্সর্ণ আল্লাহ তায়ালার নিজস্ব এখতিয়ার। আল্লাহ তায়ালা অত্যš ¯ক্সষ্ট করে কোরআনে এ ঘোষণা জারী করেছেন যে, ‘আল্লাহ তায়ালা আদেশ করেছেন তোমরা যেন আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো গোলামী না করো, মনে রেখো, হুকুম জারী করার ক্ষমতা তিনি ছাড়া আর কারোই নেই।’ (সরা ইউসুফ ৪০) তিনি বলছেন, ‘সাবধান! সৃষ্টির সমগ্র কর্মকাণ্ড তাঁর, সুতরাং আদেশ দেয়ার যাবতীয় ক্ষমতাও এককভাবে তাঁর।’ (সরা আ’রাফ ৫৪) স্রষ্টার এই একক সার্বভৌম ক্ষমতার কারণেই আদেশ নিষেধ ও হালাল হারামের বিষয়টি অত্যš ¯ক্সর্ষকাতর। সম্ভবত এই ¯ক্সর্ষকাতরতার জন্যেই একাজের পুরস্কার যেমন সীমাহীন তেমনি এর অস্বীকারকারীদের আযাবও অত্যš কঠোর ও ভীতিকর।
কোরআনের লক্ষ লক্ষ অনুসারীরা এ কারণেই কোরআনের এই চারটি মৌলিক বিষয়কে এতো গুরুত্ব দেন। সত্যি কথা হচ্ছে, কোরআনের এই চারটি মৌলিক বিষয়ের ওপরই আমাদের গোটা সভ্যতা সংস্কৃতির প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে। এই প্রাসাদের একটি ইটও যদি কোথাও কারো অবহেলার কারণে খসে পড়ে তাহলে সভ্যতারূপী এই বিশাল ইমারতে মারাÍক ধ্বশ নেমে আসবে। এ কারণে আল্লাহ তায়ালার আদেশ নিষেধ ও হালাল হারামের সঠিক সীমারেখা প্রতিটি কোরআন কর্মীকেই জানতে হবে, আর প্রতিটি ব¯ুকে সবার আগে বুঝতে হবে কোরআন থেকেই। জ্ঞানের সীমিত পরিমণ্ডল যদি কোথাও তাকে যথার্থ অনুধাবন করতে সহায়তা করতে না পারে তাহলে তাকে অবশ্যই তার ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের দিকে তাকাতে হবেÑ যার প্রসংগে এই মহান বিষয়গুলো নাযিল করা হয়েছিলো।
এই বইতে আমরা বিষয়গুলোকে যেভাবে পরিবেশন করেছি সে ব্যাপারে মনে হয় দু’ একটি কথা বলা জরুরী। আমরা আল্লাহ তায়ালার হালাল হারাম ও আদেশ নিষেধ সম্বলিত আয়াত থেকে নির্দিষ্ট অংশটিকে আলাদা না করে পুরো আয়াতটিই পেশ করেছি। এতে করে একজন পাঠক তার ই¯িক্সত অংশটির সাথে পুরো আয়াতটিও একত্রে দেখে নিতে পারবেন। তাছাড়া কোরআনের কোনো আদেশ নিষেধ কিংবা হালাল হারাম যে মল কোরআনের আবেদনের থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয় তাও পাঠক সহজেই অনুধাবন করতে পারবেন।
আসলে আমরা চেয়েছিলাম একজন সচেতন মুসলমানের হাতে এমন একটি বই তুলে দিতে যেখানে কোরআনের হালাল হারাম ও আদেশ নিষেধ সম্বলিত আয়াতগুলো তিনি একত্রে দেখতে পান। তারপরও আমরা একথা বলবোনা এ চারটি বিষয়ের সব আয়াত আমরা এখানে একত্রিত করতে পেরেছি। যা পারিনি তার ব্যর্থতার জন্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা বিনয়ের সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করি।
কোরআনের এ বিষয়গুলো এতোই গুরুত্বপর্ণ যে আমি মনে করি এগুলোকে বিষয় আকারে সাজিয়ে যথাসম্ভব নিজের পড়ার টেবিলে ঘরের দেয়ালে সর্বদা ঝুলিয়ে রাখা উচিৎ। এভাবে আদেশ নিষেধ ও হালাল হারামের বিষয়গুলো সব সময় তার নযরের সামনে থাকবে। ভুলে গেলেও সামনে থাকার কারণে পাঠক কখনো স¤ক্সর্ণ এর থেকে গাফেল হয়ে যাবে না। সংশোধনের প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখার জন্যে এমন ধরণের একটি বিজ্ঞান সম্মত পন্থার মনে হয় কোনো বিকল্প নেই। এভাবে আল্লাহ তায়ালার একটি আদেশ নিষেধ হালাল হারামও যদি আমরা কেউ মেনে চলতে পারি একদিন তা-ই হয়তো আমার জীবনের কাঠামোটাই পাল্টে দেবে। এমনি একটি কাংখিত জীবনের প্রত্যাশায়ই আমরা পেশ করছি ‘কোরআনের হালাল হারাম ও আদেশ নিষেধ’।

মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার দয়া কামনায়Ñ
হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ
লন্ডন
জমাদিউস সানি ১৪২৮
জুলাই ২০০৭

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY