কোরআন ও হাদীসের আলোকে ওমরা

0
592

কোরআন ও হাদীসের আলোকে ওমরা

১। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ষ্ক্রআল্লাহর ঘরে যাওয়ার মতো সামর্থ যাদের আছে তাদের জন্য জষ্পরী হলো আল্লাহর ঘরে হজ্জ আদায় করা। আর যে তাকে (আল্লাহ তায়ালার হুকুমকে) অস্বীকার করবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বিশ^জগত হতে অমুখাপেক্ষী। (আলে-ইমরান-৯৭)।
২। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, ষ্ক্রএক ওমরাহৎ হতে পরবর্তী আর এক ওমরাহ মধ্যবর্তী সময়ের কাফফারা (মুছে যাওয়া) স্ব™£প। আর কবুল হজ্জের বদলা একমাত্র জান্নাত। (বোখারী ও মুসলিম)
৩। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম আরো বলেন, ষ্ক্রযে ব্যক্তি এমনভাবে হজ্জ আদায় করলো যাতে কোনো অশ্লীল কথা বা কাজ বা ফাসেকী কোনো কর্ম করলো না সে যেন তার পাপ হতে এমনভাবে পবিত্র হলো যেন এই মাত্রই তার মা তাকে প্রসব করলো। (বোখারী ও মুসলিম)
৪। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বনে, ষ্ক্রতোমরা আমার কাছ হতে হজ্জর নিয়মাবলী শিখে নাও। (মুসলিম)
৫। হে মুসলমান ভাই! যখনই আপনার নিকট এ পরিমাণ অর্থ জমে যা দ্ভারা মক্কা শরীফ আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা হয় তখনই সাথে সাথে ফরয হজ্জ আদায় কষ্পন। এটা জষ্পরী নয় যে, হজ্জের পর অন্যদের জন্য হাদীয়া তোহফা আনার মতো খরচ আপনার নাই, তাই কিভাবে হজ্জ করবেন। কারণ আল্লাহ এই ওজর কবুল করবেন না। তাই অসুস্থ, দরিদন্দ বা পাপী হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়ার পূর্বে হজ্জ কষ্পন। কারণ হজ্জ হড়ে– ইসলামের রোকনসমূহের একটি রোকন।
৬। আর ওমরা ও হজ্জের জন্য যে অর্থ ব্যয় করা হবে তার জন্য ওয়াজিব হড়ে– হালাল কামাই হতে হবে যাতে আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন।
৭। কোনো মহিলার জন্য মাহরেম পুষ্পষ ব্যতীত একাকী হজ্জ্বের সফর বা যে কোনো সফর করা হারাম। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, কোনো মহিলা কখনই কোনো মহরম পুষ্পষ ব্যতীত সফর করবে না। (বোখারী ও মুসলিম)
৮। কারো সাথে কোনো শত্র∆তা থাকলে মিটমাট করে নিন। আর ধারদেনা থাকলে তো শোধ কষ্পন। বিবিকে উপদেশ দিন সেজেস্পজে বের না হতে, ঈদের দিনের মিষ্টি বিতরণ, কোরবানী ইত্যাদি ব্যাপারেও উপদেশ দিন। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ষ্ক্রখাও, পান করো কিন্তু অপচয় করো না। (আল-আরাফ-৩১)
৯। হজ্জ হলো মুসলিমের জন্য বিরাট এক সম্মেলন ক্ষেত্র। এতে তারা একে অন্যকে জানতে পারে, ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, আর একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে তাদের সমস্যাবলী সমাধানের জন্য। আর সাথে সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে উপকারী কার্যসমূহ করতে পারে।
১০। এর থেকেও বড় কথা হলো, আপনি আপনার নিজের সমস্যাবলী সমাধানের জন্য একমাত্র আল্লাহ পাকের কাছে কায়মনোবাক্যে সাহায্য চাইতে পারেন। সকলকে ছেড়ে একমাত্র তাঁর কাছেই দোয়া করতে পারেন। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেন, ষ্ক্রহে নবী! বলুন, আমি তো একমাত্র আমার রবকে ডাকি আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক করি না। (জ্বীন-২০)
১১। বছরের যে কোনো সময় ওমরাহ করা জায়েয। তবে রমযানে করা উত্তম। কারণ রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ষ্ক্ররমযানে ওমরাহ করা হজ্জ্বের সমতূল্য। (বোখারী ও মুসলিম)
১২। আর মসৎজিদুল হারামে সালাত আদায় করলে অন্য যে কোনো মসজিদে সালাত আদায় করা হতে এক লক্ষ্যস্পণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (আমার এই মসজিদে নববীতে অথবা এক রাকায়াত সালাত আদায় করা মসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য যে কোনো মসজিদে হাজার রাকায়াত আদায় করা হতে উত্তম। (বোখারী ও মুসলিম)
অন্যত্র তিনি বলেন, মসজিদুল হারামে সালাত আদায় করা আমার এই মসজিদে সালাত আদায় করা হতে একশত স্পণ বেশি উত্তম। (আহমদ)
এখন ১০০ ও ১০০০ = ১,০০,০০০ বা এক লক্ষ স্পণ।
১৩। আপনার জন্য উত্তম হলো হজ্জে তামাত্তু করা। উহা হড়ে– প্রথমে ওমরাহ করা, তারপর ইহরাম হতে হালাল হয়ে তারপর হজ্জ আদায় করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বলেন, ষ্ক্রহে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের বংশধর! তোমাদের মধ্যে যে কেউ হজ্জ আদায় করে সে যেন হজ্জের সাথে ওমরাহও আদায় করে। (ইবনে হিল্টান)।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY