মুসলিম সমাজের বাস্তবমূখী কর্মসূচী

0
9246

মুসলিম সমাজের বাস্তবমূখী কর্মসূচী

সব মানুষের ৫টি মৌলিক প্রয়োজনের সাথে মহিলাদের বিশেষ প্রয়োজনগুলো সামনে রাখুন। পরিবারের ওপর নেমে আসা কিছু অপ্রকাশ্য খরচের কথাও একবার ভাবুন। এবার আপনিই বলুন, আমাদের সমাজে একটি পরিবারের এসব মৌলিক প্রয়োজন পরণ করা, তার অন্যান্য অপ্রত্যাশিত খরচ ও বিপদ আপদ মোকাবেলা করার জন্যে যে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়Ñ সেফটি ও গ্যারান্টি নেট প্রয়োজন তা কি আছে। অথচ এমন একটি গ্যারান্টি নেট থাকা প্রতিটি মানুষের জন্যেই একাš প্রয়োজন। এমন একটি জায়গা প্রত্যেক মানুষের থাকা প্রয়োজন যেখানে যাতীয় দুর্যোগ ও বিপদ আপদে একজন মানুষ শেষ আশ্রয়ের জন্যে গিয়ে দাঁড়াতে পারে। নাগরিকদের এই শেষ আশ্রয়ের স্থানটিই হচ্ছে ইসলামী রাষ্ট্র। আল্লাহর রসল একথাটাই তাঁর মোবারক যবান দিয়ে বলেছেনÑ যার কোনো অভিভাবক নেই আমিই তার অভিভাবক। এ কারণেই ইসলাম একথা বিশ্বাস করে, এমনি একটি রাষ্ট্র সরকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যš ইসলামী জীবন ব্যবস্থার কল্যাণ মানুষরা কখনোই লাভ করতে পারবে না, আর সত্যিকার অর্থে মানবজাতির আলটিমেট লক্ষ্য হিসেবে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিষ্ঠা না হলে এ দ্বীনের প্রতিষ্ঠাও পর্ণাংগ হতে পারে না।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহর নবী এ কাজটা কিভাবে করেছেন। তাঁর কাছে কোন্ আলাউদ্দীনের চেরাগ ছিলো, যা দিয়ে তিনি গোটা জাতির সব রকমের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হয়েছিলেন। হাঁ, আল্লাহর নবীর কাছে আল্লাহর দেয়া সে আলাউদ্দীনের চেরাগটির নাম ছিলো ‘ইসলামের যাকাত বিধান’।
আমি আগেই বলেছি, ইসলামের এই যাকাত বিধানে আমাদের ৫৪ হাজার বর্গমাইল এলাকার ১৬ কোটি মানুষের সব কয়টি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান রয়েছে, একে আমরা জাতির সব সমস্যার জন্যে ‘ওয়ান স্টপ সলিউশান’ বলে অভিহিত করতে পারি।
আমরা এই পরিকল্পনাটির নাম দিয়েছি ‘মডেল যাকাত ভিলেজ’। প্রকল্পটির ধরন হবে এমন ঃ
মনে করুন আপনি রসলপুর উপজেলার নবীনগর ইউনিয়নে বাস করেন। আপনি আপনার ইউনিয়নের সাথে আরো ২/৩টি ইউনিয়ন মিলিয়ে একটি ‘যাকাত জোন’ গঠন করুন (এলাকার পরিধি ও সীমারেখা সুযোগ সুবিধামতো বড়ো কিংবা ছোটো হতে পারে)। এই জোনটার নামই হচ্ছে ‘মডেল যাকাত ভিলেজ’। এবার আপনি আপনার নির্ধারিত জোনের বি¯ারিত ও নির্ভরযোগ্য একটা পরিসংখ্যান প্র¯ুত করুন। এই পরিসংখ্যানে এখানকার সর্বমোট জনসংখ্যা, নারী পুরুষ, শিক্ষিত অশিক্ষিত লোকের সংখ্যা, কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা, অসহায়, পংগু এতীম বিধবা তালাকী মহিলাদের সংখ্যা ইত্যাদিও নির্ণয় করতে হবে। এর সাথে এই জোনে যারা যাকাত দিতে সক্ষম তাদেরও বি¯ারিত তালিকা থাকবে। পরিসংখ্যান তৈরীর পর এই পুরো এলাকার ৭ থেকে ৯ জন উৎসাহী লোক নিয়ে একটা শক্তিশালী ‘মডেল যাকাত ভিলেজ’ কমিটি গঠন করুন। মনে রাখতে হবে, এ কমিটিতে যেন বিভিন্ন পেশা ও গ্র“পের বিশেষ করে ইমাম, শিক্ষক, ডাক্তার ও গ্রামীণ অর্থনীতির মল কাঠামো বুঝে এমন লোকের অšর্ভুক্তি থাকে। ইসলাম প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের কর্মীদের স্থান-কাল-পাত্রভেদে এই কমিটিতে নিজেদের রোল ঠিক করতে হবে। এরপর সবাই মিলে এ অঞ্চলে কোন্ ধরনের ব্যবসায় লাভজনক হবে তার একটা সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ করুন। এলাকার প্রয়োজন ও পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এটা ঠিক করতে হবে। যে কোনো ধরনের ছোটো খাটো কারখানা, হাঁসমুরগীর খামার, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি, ফিশারী, হেচারী, অবস্থাভেদে হাসপাতাল ক্লিনিক, ডায়াগনোস্টিক সেন্টার ইত্যাদি স্থাপিত হতে পারে।

কোনো প্রজেক্টে নামার আগে এক্সপার্টদের নিয়ে এর একটা ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরী করতে হবে। এবার এই ওয়েল প্রিপেয়ার্ড প্রজেক্ট প্রোফাইল দিয়ে সুন্দর একটি ব্রোশার তৈরী করে আপনার নির্দিষ্ট এলাকার এমন প্রতিটি ব্যক্তির হাতে পৌঁছে দিনÑ যারা যাকাত দিতে পারেন। এলাকার সব প্রবাসীর কাছে এই ব্রোশার পৌঁছে দিন। ইতিমধ্যে আপনার এলাকায় মাসজিদ, মকতব, স্কুল, মাদ্রাসা, ক্লাব সোসাইটিতে এ নতুন আইডিয়ার পক্ষে ব্যাপক মতবিনিময় সভা, আলোচনা সভা ইত্যাদির ব্যবস্থা করুন। আপনার নির্দিষ্ট এলাকার প্রত্যেকটি মানুষকে একথা ব্যাখ্যা করুন। এ যাকাত ভিলেজ কিভাবে এলাকার মানুষদের সব রকমের অভাব দারিদ্র দর করতে পারে সেকথা তাদের বলুন। এ কাজগুলো আপনাদের এক বছর আগে থেকেই করতে হবে। মনে করুন, আপনি প্রজেক্ট শুরু করবেন ২০১০ সালে। এ অবস্থায় আপনাকে এ কাজগুলো শুরু করতে হবে এ বছরই।

‘মডেল যাকাত ভিলেজ’-এর প্রজেক্ট আপনাকে রমযানুল মোবারক সামনে রেখে শুরু করতে হবে। এক বছর থেকে চেষ্টা তদবীর করে আপনার এলাকা থেকে যাকাত কালেকশান করতে হবে। মনে করুন আপনি আপনার ‘যাকাত জোন’ থেকে ৫ লাখ টাকা যাকাত খাতে সংগ্রহ করলেন। এখন এ অর্থ কোনো বিশেষ খাতে বিনিয়োগ করার আগে কমিটি নিয়ে বসুন। এক্সপার্টদের মতামত নিয়ে আল্লাহর নাম নিয়ে কাজে নেমে পড়ূন। এলাকার কর্মক্ষম বেকার নাগরিকদের যে তালিকা আগেই বানানো হয়েছিলো সেখান থেকে সম্ভব হলে কিছু লোককে বাছাই করে এই প্রজেক্টে চাকরি দিন। আমরা জানি, প্রথম বছরেই আপনার প্রজেক্ট লাভের মুখ দেখবে না, কিšু আল্লাহ আল্লাহ করে কোনো রকমে বছর শেষ হলেই আপনার কাছে আবার বেশী না হলেও কমপক্ষে আরো ৫ লাখ টাকা মলধন তো জমা হবে। আগে আপনার প্রজেক্ট ছিলো শুধু থিউরি। আপনি কাউকেই এর বা¯ব কল্যাণ দেখাতে পারেননি। শুধু আপনার কথার ওপর বিশ্বাস করেই লোকেরা ৫ লাখ টাকা যাকাত প্রদান করে, এবার তো আপনার ‘যাকাত ভিলেজ’ শুধু থিউরিই নয়Ñ এখন তো আপনার যাকাত ভিলেজ একটা বা¯ব প্রজেক্ট, লোকেরা ইচ্ছে করলে এখন এসে আপনার প্রজেক্টের কল্যাণকারিতা দেখতে পারে। দ্বিতীয় বছর এই ১০ লাখ টাকার পুঁজি দিয়ে আপনি আপনার প্রকল্প আরো বাড়াতে পারেন। দ্বিতীয় বছর থেকে আপনি আপনার সে নির্দিষ্ট এলাকার আরো কিছু কর্মক্ষম লোককে চাকরি দিতে পারেন। এটা যদি ধরেও নেয়া যায়, দ্বিতীয় বছরেও প্রকল্প কোনো লাভের মুখ দেখতে পারছে না, তবু দু বছর পর্যš প্রকল্পের নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারাটাই এর বড়ো সাফল্য বলে ধরে নেয়া হবে।
আল্লাহ আল্লাহ করে প্রজেক্ট তৃতীয় বছরে পৌঁছতেই আপনার মলধনে বেশী না হলেও কমপক্ষে আরো ৫ লাখ টাকা তো এড হবেই। এবার আশাকরি আপনার স্বপ্নের ‘মডেল যাকাত ভিলেজ’ ‘ব্রেক ইভেনে’ পৌঁছুবে। তাই এবার আরো বেশী পরিমাণ কর্মক্ষম বেকার লোকদের চাকুরি দিতে পারবেন।

এ বছর থেকে কর্মক্ষম বেকার লোকদের চাকরি দেয়ার পাশাপাশি আপনাকে সমাজের অন্যান্য কল্যাণমলক কাজেও ভূমিকা রাখা শুরু করতে হবে। আপনার মনে আছে, প্রজেক্ট শুরু করার আগে আপনি আপনার নির্দিষ্ট এলাকার এতীম, বিধবা, তালাকপ্রাপ্তা অসহায় দারিদ্র ও বেকারত্বের অভিশাপে জর্জরিত লোকদের একটা তালিকা বানিয়েছিলেন। এবার তৃতীয় বর্ষে যখন আপনার প্রজেক্ট লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে, তখন সে তালিকা থেকে আপনি এমন কয়জনের নাম বাছাই করুন যে কয়জনকে মাসে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বৃত্তি আপনি দেবেন। সংগতির ভিত্তিতেই এই তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। চতুর্থ বছর থেকে আপনারা এলাকার অন্যান্য সমস্যাÑ যেমন লোকদের অসখ বিসুখ, গরীব ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা, যৌতুকের অভিশাপে নিপীড়িত মহিলাদের পুনর্বাসন, সমাজ ও পরিবারে নিগৃহীত ভিকটিম মহিলাদের সাপোর্ট ও তাদের নিরাপত্তার জন্যে শেল্টার বানানো, সুদবিহীন ঋণ প্রদান কর্মসচীতে আপনারা অংশ নিতে পারলে পঞ্চম বছরে এসে আপনার এলাকার উন্নয়নমলক কাজকর্ম, রা¯াঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, খালকাটা, নদী সংস্কার ইত্যাদি কাজেও মনোযোগী হতে পারবেন।

আপনার মনে রাখতে হবে, মডেল ডাকাত ভিলেজ হচ্ছে ১৫ বছর মেয়াদী প্রকল্প। এ প্রকল্পে প্রতি বছর একই পরিমাণ যাকাতের অর্থ মলধনের সাথে এসে জমা হবে। ১৫ বছর পর ৫ লাখ টাকার প্রকল্পটি এমনি কোটিখানেক টাকার প্রকল্পে পরিণত হবে। দারিদ্র বিমোচনের জন্যে এ যুগাšকারী কর্মসচী আসলেই একটি বিপ্লব। আমাদের দেশটির যেসব সমস্যার কথা আমি এ পরিচ্ছেদের শুরুতে বলেছি এবং যেসব সমস্যার কথা আমি আমার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে এখানে বলতে পারিনি, তার সব কয়টি সমস্যার এটা হচ্ছে ‘ওয়ান স্টপ সলিউশান’। এ যুগাšকারী প্রজেক্ট হচ্ছে একটি নীরব বিপ্লবের কর্মসচী। এতে মিছিল সমাবেশ মহাসমাবেশ ও কোটি টাকার রাজনৈতিক শো ডাউনের কোনো দরকার নেই। নির্বাচনের তোড়জোড়, অর্থের ছড়াছড়ি, কারচুপি দুর্নীতির কোনোই ঝামেলা নেই। ১৫ বছরে আপনার এলাকার চেহারাই ইনশাআল্লাহ বদলে যাবে। এ পরিসরে বিষয়টি নিয়ে আমরা আর বেশী আলাপ করতে চাই না।
আসলে এখানে আমি যা বলেছি তা আমাদের মতো কিছু ‘লে ম্যানদের’ পরিকল্পনা মাত্র। আমরা কেউই অর্থনীতিবিদ নই। বিষয়টি নিয়ে আরো যথেষ্ট আলোচনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এনজিওদের যুলুম অত্যাচারের কারণে সমাজের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে যে অমানিশা নেমে এসেছে তাদের জন্যে নিসন্দেহে এতে কিছু আশার আলো থাকবে। মনে রাখতে হবে, যাকাত শুধু শাড়ি লুংগি বিলানোর প্রতিযোগিতা, এতীমখানা লিল্লাহ বোডিং ও কোরবানীর চামড়া কালেকশানেরই নাম নয়Ñ এটা হচ্ছে সমাজ বিপ্লবের একটি পর্ণাঙ্গ কর্মসচী। ইতিহাসের পরীক্ষিত এমন কর্মসচী যার সঠিক বা¯বায়নের ফলে বহু বছর ধরে পৃথিবীর এক বিরাট অংশে যাকাত নেয়ার মতো লোক পাওয়া যায়নি। এটা কোনো গল্প, নভেল, নাটক কিংবা এ্যাডভেঞ্চার উপকথা নয়। এটাই হচ্ছে যাকাতের ইতিহাস। আমি দেশের বড়ো বড়ো ইসলামী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক বীমা, লিজিং কো¤পানী, হাউজিং কো¤পানীসহ ইসলামী ধ্যান ধারণার ভিত্তিতে পরিচালিত অগণিত প্রতিষ্ঠানের কাছে অনুরোধ জানাবো, আই এম এফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ দেশী বিদেশী বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠানের অনেক ফর্মলা অনেক নোসখা আপনারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। আল্লাহর ওয়া¯ে আল্লাহ তায়ালার দেখানো এই মহৌষধ ‘মডেল যাকাত ভিলেজ’-এর প্ল্যানটিও একবার পরীক্ষা করুন। আপনাদের ব্যাংকিং ল’ ও টার্মে এর কোনোটা যদি অবা¯ব মনে হয় আপনারা আপনাদের মেধা ও প্রতিভা দিয়ে একে ঠিক করে নিন। তারপরও মেহেরবানী করে চলুন, সবাই মিলে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর নবীর শেখানো এই ফর্মলা একটু পরীক্ষা নিরীক্ষা করি। এটা আমাদের কারো আবিষ্কার নয়Ñ কারো উদ্ভাবনও নয়। এটা আল্লাহ তায়ালারই শেখানো পদ্ধতি। দেশের বড়ো বড়ো কয়েকটি ইসলামিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান চাইলে ৫০০ উপজেলায় এমন ৫০০টি মডেল যাকাত ভিলেজ চালানো কি আসলে অসম্ভব। বিশেষ করে যেখানে স¤পর্ণ পুঁজিটাই আসছে যাকাত দাতাদের কাছ থেকে। বিশ্বসভার বিভিন্ন পরিমন্ডলে যদি আমরা এ প্রকল্পটির কার্যকারিতা বুঝাতে পারি, তাহলে আমি জানি আইডিবিসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক বড়ো বড়ো ব্যাংক ও লিজিং কো¤পানী এই যুগাšকারী প্রকল্প বা¯বায়নে এগিয়ে আসবে। লন্ডন, নিউইয়র্কসহ বাইরে কর্মরত প্রায় এক কোটী ‘ওয়েজ আর্নার’রাও সানন্দে তাদের যাকাতের অর্থ এখানে দেবেন। এই প্রকল্প বা¯বায়িত হলে মাইক্রোক্রেডিটের সদের অভিশাপ থেকেও আমাদের দেশের ১৬ কোটি মানুষ বেঁচে যাবে।
এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ইসলামী আন্দোলন চাইলে একটি পর্ণাংগ যাকাত ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করতে পারে।

লেখকঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের ডাইরেক্টর জেনারেল ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY