বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর

0
283

বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পূর্তি উৎসব

আরব ভূখন্ডে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে কোরআন নাযিল হলেও আমাদের দেশে কোরআন মাজীদের প্রথম বাংলা অনুবাদ শুরু হয়েছে মাত্র দু’শ বছর আগে,
অর্থাৎ ১৮০৮ সালে। ফার্সি অনুবাদের প্রায় ৯শ বছর ও উর্দু অনুবাদের প্রায় দু’শ বছর পর।
আমরা এই পৃথিবীর ৩০০ মিলিয়ন বাংলাভাষাভাষী কোরআনের বাহকরা কোরআনের একটি উৎসব পালন করতে চাই। এটি হচ্ছে বাংলাভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পূর্তি উৎসব। পূর্ব গোলার্ধের সিডনী থেকে পশ্চিম গোলার্ধের ভ্যানকুভার পয‍‍‍‌‌‌ন্ত পৃথিবীর সকল বাংলাভাষী মানুষদের আমরা এ উৎসবে শরীক করতে চাই।
আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের এই বিজ্ঞপ্তি হচ্ছে সেই উৎসব কর্মসচীর সূচনা মাত্র।
২০০ বছর কোনো জাতির জন্যেই নিতাšত কম সময় নয়। এ দুশ বছরে এ জাতি পরপর ৩বার দেশের মানচিত্র বদল হতে দেখেছে। যুদ্ধ-বিগ্রহ, দ্বন্ধ হানাহানি, রক্তপাত কোনোটাই কম দেখেনি; কিšতুু এসব রাজনৈতিক পালা বদলে কোরআনের সাথে আমাদের আচরণে কতোটুকু পরিবর্তন এসেছেÑ দুশ বছর পথ পাড়ি দিয়ে
আজ সে আÍ বিশ্লেষণের একাšত প্রয়োজন।
১৮০৮ সালে রংপুরের একজন নিষ্ঠাবান কোরআনের সাধক মাওলানা আমিরুদ্দীন বসুনিয়ার আমপারার বাংলা অনুবাদের পর উভয় বাংলায় সর্বমোট কোরআনের কতোগুলো বাংলা অনুবাদ বেরিয়েছে, মৌলিক ও ভাষান্তর মিলে কতোগুলো তাফসীর বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে, কোরআন বুঝার ও কোরআন দিয়ে জীবন গড়ার জন্যে এখানে কি পরিমাণ সাহিত্য তৈরী হয়েছে, সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে গান, কবিতা, গযল, পুথি, অডিও, সিডি, ভিসিডি, ডিভিডি, ডকুমেন্টারী ও ড্রামা পর্যায়ে কোরআনের পক্ষে এখানে কতোটুকু কাজ করা হয়েছে, কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করাÑ সে তো অনেক বড়ো কথা, কিন্তুু সে সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ যমীনের প্রায় ৮০ মিলিয়ন শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কতো লোককে আমরা এ যাবৎ আল্লাহর কিতাবের বাংলা অনুবাদ ও তাফসীরের সাথে পরিচিত করতে পেরেছি, তারও মনে হয় একটা পর্যালোচনা আজ প্রয়োজন।
এ দুশ বছরের ব্যর্থতার আলোকেই কোরআন কর্মীরা তাদের আগামী শতকের সফলতার কর্মসুচী তৈরী করবে।
বিশ্বের ৩০০ মিলিয়নের অর্ধেকের চাইতে বেশী লোকই আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি ৫৪ হাজার বর্গমাইলের এই ক্ষুদ্র ভ‚খন্ডে বাস করে বলে আমরা এখান থেকেই আমাদের এই উৎসব কর্মসূচীর উদ্বোধন করতে চাই। বাংলাদেশের গোটা জনগোষ্ঠীকে এই উৎসবে শামিল করার জন্যে এই কর্মসূচীর আওতায় ঢাকায় একটি বর্ণাঢ্য কোরআন সেমিনার, বিশ্বমানের একটি কোরআন প্রদর্শনীর সাথে এ জাতির জীবনকে যারা কোনো না কোনোভাবে প্রভাবানি¦ত করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এমন 1 কোটি লোকের হাতে উৎসব পালন কমিটির পক্ষ থেকে কোরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদের একটি উপহার পৌঁছানো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পরে আল্লাহ তায়ালা সময় সুযোগ দিলে দেশের সব শিক্ষিত নর-নারীর হাতে কোরআন শরীফ ও তার সহজ সরল অনুবাদ পৌঁছানোর এক মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ইনশা আল্লাহ অচিরেই একটি অলাভজনক সেবা সংস্থা এ মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করবে।
এ উৎসব কর্মসূচীতে আরো যেসব কাজের পরিকল্পনা নেয়া যেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে দেশ বিদেশের বরেণ্য চিন্তবিদদের রচনা সম্বলিত বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পূর্তি স্মারক প্রকাশ, বাংলাভাষায় কোরআন চর্চার ২০০ বছর’ শিরোনামে একটি মানসম্পন্ন রচনা প্রতিযোগিতা, কোরআনের চৌদ্দশ বছর পর্যায়ে ঐতিহাসিক প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাণ ও প্রদর্শনী। এ দুশ বছরের কোরআনের অনুবাদ, কোরআনের তাফসীর, কোরআনকেন্দ্রিক সাহিত্য, গান, কবিতা, গযল, পুথি, পত্রপত্রিকা ম্যাগাজিন, অডিও, সিডি, ভিসিডি, ডকুমেন্টারী ও ড্রামার একটি পূর্ণাংগ ডাইরেক্টরী প্রকাশ করা, এগুলো নিয়ে ঢাকা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে মেলা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা। স্থায়ীভাবে এগুলো সংগ্রহ করার জন্যে ধীরে ধীরে এ যমীনে একটি কোরআনিক মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা করা। সর্বশেষে বাংলা ভাষায় কোরআন কর্মে অসমান্য অবদানের জন্যে একটি স্থায়ী কোরআন পদক চালু করা ইত্যাদি।
এ বিশাল কর্মসূচীতে সক্রিয় অবদান রাখার জন্যে আমরা জাতি-ধর্ম, বর্ণ-গোত্র, দলমত নির্বিশেষে সবার ঐকািন্তক সহযোগিতা চাই। আপনার সময়, অর্থ ও মেধা কোরআনের এই বরকতময় ঐতিহাসিক আয়োজনকে সার্থক করে তুলবেÑ
এই আমাদের প্রত্যাশা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY