৫ বছরে কোরআন বিতরণ প্রকল্প

0
279

৫ বছরে কোরআন বিতরণ প্রকল্প
জাহাঙ্গীর আলম

গত ৫ টি বছর ধরে আমরা দেশের আনাচে কানাচে আগ্রহী মানুষদের হাতে সহজ সরল অনুবাদসহ কোরআনের কপি তুলে দিতে চেয়েছি। এজন্য আমরা ছুটে বেড়িয়েছি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। আলহামদুলিল্লাহ কম বেশী সব এলাকাতেই কোরআন বিতরণ করা হয়েছে। এমন কোন অঞ্চল নেই যেখানে আল কোরআন একাডেমী প্রদত্ব কোরআনের কপি পৌঁছেনি। গত ৫ বছরে প্রায় ৫ লক্ষ কপি কোরআন আমরা ধর্ম বর্ণ ও শেন্দনীভেদে বিভিন্ন বয়সের মানুষের হাতে তুলে দতে পেরেছি। প্রতিটি জেলায় গড়ে প্রায় ৫৭০০ কপি, প্রতিটি থানায় গড়ে ৯৫০ কপি কোরআন বিতরণ করা হয়েছে। যদিও কোনো জেলায় ২০,০০০ কপি আবার কোনো জেলায় ৫০০০ কপি হবে। আবার কোনো থানায় ৩০০০ কপি আবার কোনো থানায় ৫০০ কপি বিতরণ করা হয়েছে। এ সংখ্যার তারতম্যের কারণ হড়ে– আমাদের সম্মানিত স্পন্সররা বেশীরভাগই প্রবাসি এবং আমাদের লাইট হাউস প্রকল্পের আওতায় তারা নিজ নিজ এলাকার জন্য কোরআন স্পন্সর করেছেন।

গত বছর ২০১৪ সালের এপ্রিল মাসের দিকে আমাদের বিনামুল্যে কোরআন বিতরণ এর মূল প্রকল্প ৫ বছরে পদার্পণ করলো এবং চলতি বছর একই সময়ে তা ৬ বছরে পা রাখলো। গত ২০১৪ সালে ৫ বছরের শুষ্পতে এবং সালের প্রথমার্ধেই ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় রেকর্ড সংখ্যক কোরআন বিতরণের। আমাদের সাথে বাংলাদেশ অফিসে আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশ সেনাবহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্টে কর্নেল শহীদুল্যাহ, পিএসসি। আগে বছর একাডেমীর নিজস্ব প্রেস থেকে কোরআন ছেপে বিতরণ করা হতো। যে মূলত এ কারনেই দেড় পাউস্কে একটি কোরআন স্পন্সর করা সম্ভবপর ছিলো কিন্তু এ বছর চাহিদা এতোই বেড়ে গিয়েছিলো যে আমাদের নিজেদের মেশিনপত্র তা সামল দিতে পারছিলো না। একদিকে সম্মাানিত স্পন্সরদের তাগাদা অন্যদিকে সারাদেশ থেকে কোরআন প্রিয় মানুষদের আকুল আবেদন। ফলে আমাদেরকে কোরআন ছাপার জন্য বেছে নিতে হয় বড়ো একটি প্লাটফরম। ইষ্ট ওয়েম্ভ মিডিয়া ডেভেলপন্টে গ্র∆প এর প্রেস। যেখানে বাংলাদেশের তিনটি বড়ো পত্রিকা ছাপা হয়

গত বছর রমযাকে সামনে রেখে একই লটে ৫০ হাজার কপি কোরআন ছাপার সিদ্ধান্ত হয় । লস্কন থেকে ছুটে আসেন আমাদের টন্দাম্ভি একাডেডমীর ডাইরেক্টর গ্লোবাল অপারেশন মোহতারাম ইকবাল মানসুর আহমদ। কাজটি সঠিক ও নিভুূলভাবে সম্পাদনের জন্য তিন দফায় আমাদের বসতে হয়েছে বসুন্ধরা স্পপের প্রেস ইনচার্জ কর্নেল আউয়ালের সাথে। যথা সময়ে ছাপা, কাগজের মান নিশ্চিতকরণ, মজবুত বাাঁধাই এবং ছাপাকালীন সময়ে কোরআনের আদব রক্ষা ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পরই শুষ্প হয় ছাপার মহাকর্ম। সাজ সাজ রব পড়ে যায় আল কোরআন একাডেমী অফিস এবং প্রেসে। প্রেস ইনচার্জ এর ব্যক্তিত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলতা ও কোরআনের প্রতি ভালোবাসার সাথে যুক্ত হয়েছে প্রেসের কর্মীদের শন্দদ্ধা ও সার্বক্ষনিক সর্তকতা। আল কোরআন একাডেমীর প্রতিনিধিকেও কোরআনের কাজের প্রতিটা ধাপে কোয়ালিটি ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রায় প্রতিদিন সেখানে যেতে হয়েছে। আর যাতে কোন আদব নম্ভ না হয় সে জন্য বসুন্ধরা কর্ত™£পক্ষ সার্বক্ষনিকভাবে একজন আলেমকে সেখানে নিয়োগ করে।

kids

বিশাল অটোমেটিক মেশিনে কোরআন এর খোলা শীট ছাপা হয়ে ভাঁজ হতে লাগলো। কিন্তু ভাঁজের ব্যাপারে একটা আশংকা দেখা দিলো যে এতে নম্ভ কাগজও কোনোরকম বাছাই ছাড়াই ভাঁজ হয়ে যেতে পারে। তাই মেশিনে ছাপানো প্রতিটি পৃষ্টা চেক করার পর হাতেই ভাঁজ করার সিদ্ধান্ত হলো। শতাধিক পেশাদার কর্মী দিন রাতে ৫০,০০০ কোরআনের ২৪ লাখ ৫০ হাজার শীট বা ৩৮ কোটি নয় লক্ষ পৃষ্ঠা রাতদিন কাজ করে প্রতিটা পাতা চেক করে হাতেই ভাঁজ করে দিলো। যুক্তিসঙ্গত কারণে সেলাইটাও প্রতিটি ফর্মা দেখে দেখে হাতেই করতে হলো। সে এক স্পষ্পদায়িত্বের ব্যাপার ছিলো কভার লাগানো, কাটিং এবং প্যাকিং এর আগে প্রতি কপি কোরআন চেকিং। এতোটা সর্তকতার পরও সর্বশেষ চেক করে ৫০ হাজার বই থেকে ২৫০ টি বইকে বিভিন্ন সমস্যার জন্য আলাদা করা হয়েছে। বিন্দুমাত্র সমস্যাকে প্রশন্দয় দেয়া হয়নি। সে কোরআনটি রমযানের সময় এবং তার আগে পরে সারাদেশে মানুষদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

পঞ্চম বছরের শুষ্পতে কোরআন বিতরণ করা হয় পর্যটন শহর খুলনায়। ষ্পপসা নদীর বুকচিয়ে তৈরী হওয়া ষ্পপসা বন্দীজ পাড়ি দিয়ে কোরআনের সওদা নিয়ে আমরা হাজির হলাম এক শান্ত শহরে। গত বছর এপ্রিল মাসের ৮ তারিখ। এসে মনে হলো পুরো শহরটি যেন আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে উঠছে কোরআনের বানীকে হাত পেতে নিতে। সত্যিকার অর্থে হয়েছিলোও তাই। আমাদের কোরআন বিতরণের প্রতিটি ভেন্যুতে আমরা দেখেছি মানুষের উপচেপড়া আগ্রহ। আমরা কোরআন বিতরণ করলাম খুলনা নর্দাণ ইউনিভার্সিটিতে, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি নিজহাতে কোরআন গ্রহণ করলেন। অত্যন্ত আনন্দের সাথে কোরআন হাতে নিল সাইক ইনম্ভিটিটের ছাত্ররা, আইজনজীবি ও ডাক্তারদের একটি অংশ কোরআন পেয়ে একাডেমীকে ধন্যবাদ জানাল। খেলাধুলা মার্কেটের ব্যবসায়ীরা সহজ সরল বাংলা অনুবাদসহ কোরআন পেয়ে যারপরনাই খুশি হলো। খুলনা বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কোরআন ক্লন্দাসের শিক্ষার্থী ও একটি দাওয়াতী গ্র∆পকে কোরআন প্রদান করা হলো। কোরআনের প্রতি এখানকার মানুষের ভালোবাসা ও আগ্রহ থেকে আমার বার বার মনে হতে লাগলো আমরা মনে হয় আমাদের জাতির সাথে সঠিক আচরণ করতে পারছিনা। এই মানুষ স্পলো কোরআন পড়তে চায়, জানতে চায় ও বুঝতে চায়। অথচ আমরা যারা বুঝি কোরআন তাদের হাতে তুলে দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব আজ সে দায়িত্ব পালনে আমরা এগিয়ে আসছিনা। সেখানে দুই লাখ কপি কোরআনের প্রাথমিক চাহিদা ছিলো সেখানে দিলাম মাত্র ২ হাজার কপি। সেখানে কোরআন দিয়ে আসার সময় আমার কেবল কোরআন পেয়ে আনন্দে উদ্ভেলিত হাসিমুখ স্পলোর কথাই মনে পড়েনি, সেইসব মানুষের মুখও আমার মনে ভেসে আসছিলো যারা কোরআন পাওয়ার হকদার কিন্তু আমাদের সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা তাদের হাতে এক কপি কোরআন দিতে পারেনি। সময় স্বল্পতার খুলনা কেন্দন্দীয় কারাগারে উপস্থিত হতে না পারলেও আমরা কোরআন পৌছে দিয়েছি। খুলনা কারাগারে বিগত বছরস্পলোতেও বন্দীদের মাঝে আল কোরআন একাডেমী লস্কন কোরআন বিতরণ করেছে।

আরেক ছায়াঢাকা পাখিডাকা শান্ত শহরে আমরা কোরআনের বানী নিয়ে প্রবেশ করি ২৯ এপ্রিল। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরনীয় দিন ১৯৯১ সালের এই দিনে দেশের উপকুলীয় এলাকায় প্রাক™£তিক দূর্যোগে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছিলো। সেদিনও রাজনৈতিক কোলাহলে উত্তপ্ত ছিলো রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় আর এ গোলোযোগের মধ্যেই বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাক™£তিক সৌন্দর্যমস্কিত ক্যাম্পাস থেকে শুষ্প হয় আমাদের পথচলা। আমরা যখন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় স্কুল এস্ক কলেজের ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মাঝে এক আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে কোরআন দেই তখনো বাইরের সমস্যা সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ন মুক্ত ছিলাম। পরে খবরে শুনেছি সেদিন একজন হতভাগ্য ছাত্র ওখানে নিহত হয়েছিলো। এরপর আমরা বিশ^দ্যিালয়ের আরবি বিভাগে গিয়েছিলাম। কোরআনের কাজে কোথায়ও আমাদের কোনো বেগ পেতে হয়নি। আল্লাহ তার কোরআন ও কোরআনের কর্মীদের এভাবেই সাহায্য করেন। তখন আমার মনে পড়ে গিয়েছিলো ২০১৩ সালের শেষ দিনস্পলোর ব্যাপক রাজনৈতিক হরতাল অবরোধ এর মধ্যে আমরা আমাদের স্পন্সরদের অর্ডারকরা কোরআন তাদের আপনজনের হাতে পৌঁছে দিয়েছি। মানুষ সব সময় সবকিছু না দেখলেও ভেতরের সব সমস্যা ও অস্থির সময়ের শন্দমস্পলো কিন্তু আল্লাহতায়ালা ঠিকই দেখেন এবং তিনি এর বিনিময় দেন। ঠিক একই রকম চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলতি বছর ২০১৫ সালের প্রথম ৩ মাসে লাগাতার অস্থিতিশীল পরিবেশে আমরা কোরআন পৌঁছে দিয়েছি আপনাদের কাংখিত ঠিকানায়।

দুইদিনের সফরে আমরা রাজশাহী মহিলা মাদন্দাসা, রাজশাহী কেন্দন্দীয় কারাগার, মাদানী ফাউস্কেশনসহ বিভিন্ন স্থানে কোরআন বিতরণ করি আর কোরআন বিতরণ ও পঠন নিয়ে বিভিন্ন স্তরে লোকজনের সাথে মত বিনিময় করি। রাজশাহীর প্রতিটি মানুষ এই কাজের প্রতি এতোটা অনুরক্ত হয়েছিলেন যে এই বিভাগের অন্যান্য জেলায় কোরআন বিতরণের এই মহতি কাজকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার জন্যে তারা আমাদের কাছে আকুতি জানিয়েছিলেন। আমরাও আমাদের ঈমানি দায়িত্বের চেতনা আর কোরআন প্রেমী আল্লাহর বান্দাদের ভরসায় ভবিষ্যতে তাদের এই চাহিদা পূরনের সচেম্ভ থাকার আশ^াস দিলাম। আমি জানি একজন মানুষ আমাদের কাছে আল্লাহর কোরআন চা”ে তা বিধাতার দেয়া উপহার আর আমি সেটা তার হাতে তুলে দিতে অপারাগতা প্রকাশ করবো, এমন মানষিকতা কোনো মানুষের যেন কোনোদিন না হয়। রাজশাহী থেকে ফেরার পর আমরা রংপুর, বস্পড়া, চাঁপাই, লালমনির হাট, পাবনা, নীলফামারীসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের জন্য কোরআন পাঠাতে পেরেছি।

আমাদের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম শহর। বারো আওলিয়ার স্মৃতিধন্য পূণ্যভুমি হিসেবে পরিচিত, নদী, সাগর , পাহাড় এই তিনের ক¤িœনেশনের জন্য বিশে^র একটি অনন্য শহর হিসেবে পরিচিতি আছে এর। ইসলামের প্রতি শহরের মানুষদের অনুরাগও তাদের আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। এই শহরে বেশ কয়েকবার কোরআন বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের জেলখানায় কোরআন বিতরণের শুষ্পটা হয়েছিলো এখান থেকেই। শহরের তচ্ঞকালীনমেয়র জনাব মনজুর আলম একাডেমীর চেয়ারম্যান হাফেজ ড. মুনির উষ্কীন আহমদ এর কাছ থেকে কোরআনের কপি গ্রহণ করেছেন। এই ছবি আমাদের ফেইস বুক পেইজে আপনারা অনেকেই দেখেছেন। এখানকার কিছু আগ্রহী মানুষের বিশেষ আবেদনে এবারো আমরা কোরআন বিতরণের জন্য এই বীর চট্টলায় পর্দাপণ করেছি। ২০১৪ সালের ২১ মে থেকে শুষ্প করে ৩ দিনের কর্মসূচীতে আমরা কোরআন দিয়েছি প্রেসিডেন্সি কলেজের ছাত্র শিক্ষকদের মাঝে ও সুলতানিয়া একাডেমীতে এবং অন্যরাকম আবেগ ঘটিত অনুষ্ঠানে কোরআন দিয়েছি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে, বাগমনিরাম হাই স্কুল এবং রোটারী ক্লাব সদস্যদের মাঝে। বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এক কপি বাংলা অনুবাদসহ কোরআনের জন্য কেমন করে আমাদের প্রতীক্ষায় ছিলো তা সেখানে উপস্থিত না থাকলে বোঝার উপায় ছিলনা। চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পর অনেকে অনুযোগ জানিয়েছিলো কেন আমরা চট্টগ্রামে কোথায় কখন প্রোগাম তাদেরকে ফেইসবুক পোম্ভ এর মাধ্যমে জানাইনি। তাহলে তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে এক কপি কোরআন পেতে পারতেন। অনেকে মনে করেন আজকাল মানুষ কি কোরআন পড়ে? মানুষ কি পড়ার সময় পায়? সেইসব ভাইদের আমি দাওয়াত দিয়ে রাখলাম। আমাদের সাথে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে নিজের চোখে সব কিছু দেখে আসার। আপনারা দেশে আসলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন আমরা আপনাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।

শেষদিন আমরা আবারো ত™£তীয়বারের মতো চট্টন্দগাম কেন্দন্দীয় কারাগারে কোরআন বিতরণ করে ফৌজদার হাট ক্যাডেট কলেজে গিয়েছিলাম। ৩০০ ক্যাডেটের হাতে হাতে কোরআন তুলে দিয়ে আমরা ঢাকায় ফিরে এলাম। বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সে কোরআন বিতরণের একটি অনুষ্ঠান থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত করা সম্ভব হয়নি তবে আমরা সেখানে কোরআনের কিছু কপি রেখে এসেছিলাম। সর্বত্র আমাদের অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায় কিন্তু কোরআন দেয়া আর শেষ হয়না, শেষ হয়না কোরআন না পাওয়া মানুষদের অভিযোগ। এখনো চট্টগ্রাম থেকে ফোন- মেইল আসে ষ্ক্রষ্ক্র ভাই আপনারা চট্টগ্রামে এতো সুন্দর একটা কোরআন ফ্রি দিয়ে গেলেন এতো হাজার কপি দিলেন আমিতো একটা কপি পেলাম না। কোরআনটাতো বেশ সুন্দর এবং সহজ সরল।ষ্ক্রম্ব
প্রিয় পাঠক আপনারাই বলুন আল্লাহর কোরআনপ্রেমী আল্লাহর এই বান্দাটাকে আমরা কি বলে স্বান্তনা দিই। আমাদের কাছ থেকে তার কোনো স্বান্তনা বা প্রতিশন্দতি পাপ্য নয়- একমাত্র কোরআন ছাড়া।

IMG_0460

রমযানকে সামনে রেখে বিভাগীয় জেলাস্পলো সফরের কথা থাকলেও আমাদের যেতে হয়েছিলো খুলনা বিভাগের ছোট একটি শহর ঝিনাইদহে। ১৩,১৪,১৫ জুন তারিখের কথা জার্মান প্রবাসী আমির হোসের ভাই তার এলাকায় ১৩শ কোরআন বিতরণ এর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আরও কয়েকটি কারণে এই জেলাটি কোরআনের দাওয়াতের জন্য স্পষ্পত্বপূর্ন ছিলো প্রথমত এখানে চরমপন্থি কয়েকটা দলের অস্তিত্ব রয়েছে। ইসলামের নামে নাশকতা করে এমন জঙ্গিদের কখাও এখানে শোনা যায়। আর সাম্পন্দতিককালে দেশে আ—গহত্যার পরিসংখানে এ জেলাটি বেশ আলোচনায় এসেছে। বাইরের দিক থেকে জেলাটাকে দেখে শান্ত মনে হলেও এসব তথ্য ভেতরগত এক মানসিক অস্তিরতার প্রতীক। আর এ সুযোগে এখানে খিন্দষ্টান মিশনারীদের কাযক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ সংবাদও আমাদের কাছে ছিলো। কেবল হাত স্পটিয়ে বসেছিলাম আমরা মুসলিমরা। সবদিক থেকে এটা আমাদের জন্য ছিলো বিরাট সুযোগ। ৩ দিনে আমরা কোরআন বিতরণ করলাম, ঝিনাইদহ প্রেস ক্লাব, কোর্ট মসজিদ, হজ্জ যাত্রী, ক্যাডেট কলেজ, মহিলা সভা, ভূটিয়ারগাতি গ্রাম, মহাদেবপুর গ্রামসহ শহর ও গ্রামের কয়েকটি পয়েন্ট। কোরআনের আলো ও সত্যের বানী ইত্যাদি নানাদিক নিয়ে উষ্কীপনা পুর্ণ বক্তব্য রাখলেন আল কোরআন একাডেমীর বাংলাদেশ পরিচালক জনাব শহীদুল্যাহ এবং ঢাকায় কোরআন ক্লাসের সংগঠক সর্বজন শন্দদ্ধেয় জনাব রেজাউর রহমান। এর মধ্যে আমেনাখাতুন কলেজে অনুষ্ঠিত কোরআন বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন কলেজ মাদন্দাসার শিক্ষকরাও তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জেলা প্রশাসকের হাত থেকে কোরআনের কপি গ্রহণ করেন। জেলার সর্বস্তরের মানুষ এ কাজে সহযোগিতা করেছিলো।

হযরত শাহজালাল (র) এর স্মৃতি বিজড়িত সিলেটে কোরআন বিতরণ প্রতিবারেই আমার ভেতর একটি বিশেষ উত্তেজনা কাজ করে,এবারো তাই হয়েছিলো। সামনে রমযান আমরা চেয়েছিলাম সিলেটে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে কোরআন বিতরণ করবো। হঠাচ্ঞ ঘোষনা এলো রমযানে সারাদেশে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকবে। আমাদের সিলেটে কোরআন বিতরণ করতেও হবে ব্যাপকভাবে। এমনি একটা পরিস্থিতি সামনে রেখেই সিলেটে কোরআন বিতরণ এর জন্যে আমরা ঢাকা ত্যাগ করি। দিনটা ছিলো ২৫ জুন ২০১৪। প্রথমদিন রাগিব রাবেয়া কলেজ, রশিদ আলী স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে কোরআন বিতরণ করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তারা ব্যাপক উচ্ঞসাহ উষ্কীপনার মাঝে কোরআন গ্রহণ করেন। পরের দিন ২৬ জুন কোরআন বিতরণ করা হয় ক্যামবিন্দজ গ্রামার স্কুল, সিলেট ক্যাডেট কলেজ এবং দরগাহ মহল্লায় কমিশনার আজিজুক হক মানিক ভাইয়ের সহযোগিতায় সেখানকার পেশাজীবিদের মাঝে। ফেরার দিন আমরা একটা কোরআন ক্লাসে কোরআন বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেই। আসলে সিলেটে সারা বছরই আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রচুর কোরআন বিতরণ হয় এটা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। তবুও সিলেট ক্যাডেট কলেজের ৩৫০ জন ক্যাডেটের হাতে কলেজের প্রিন্সিপালের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে কোরআন তুলে দেয়াটা অনেক শানদার একটা ব্যাপার ছিলো। এবং কলেজ কত™£পক্ষ স্বপ্রনোদিত হয়ে ৫০ কপি কোরআন নিজেরাই স্পন্সর করে। প্রতিবারই যখন আমরা সিলেট যাই শাহজালাল এর দরগা মসজিদে মুসল্লিদের পড়ার জন্য কিছু কোরআন রেখে আসি। এবারো তার ব্যতিক্রম ছিলোনা। এর আগে আমরা সিলেট বিভাগের ৪টি কারাগার, ৪টি প্রেসক্লাব, ৪টি পাবলিক লাইবেন্দরীতে কোরআন দিযেছিলাম। নগরীরর বিভিন্ন হোটেলেও বডারদের জন্য কোরআনের কপি রাখা আছে। কোরআনের বিতরণের ক্ষেত্রে আমাদের একটা কমন অভিজ্ঞতা হয়ে গেছে, যেখানে ৫০ কপি বিতরণ করি সেখান থেকেও আরো আবেদন আসে আরো অনেক কোরআন লাগবে। আর যেখানে ১০ হাজার কপি বিতরণ করা হয় সেখান থেকেও একইরকম কথা শোনা যায়। সিলেটেও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে সিলেট বাসিদের সৌভাগ্য যে সেখানকার প্রবাসীদের সহযোগিতায় তাদের চাহিদা আমরা কিছুটা মেটানোর চেম্ভা করছি। কারণ সিলেট বাসী স্পন্সরগণ নিয়মিত আমাদের সাড়া দিয়ে যাড়ে–ন।

আগেই নির্ধারিত ছিলো যে, এবার কোরআন বিতরণের মাসে অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ করা হবে। যে কথা সে কাজ রমযানে ব্যাপক কোরআন বিতরণ করা হলো দেশজুড়ে। এব্যাপারে গত হজ্জ সংখ্যা জুমাবারে বিশাল প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিলো। তার বিবরণ এ লেখায় দেয়া সম্ভব নয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভবাজার, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, বরস্পনা, পটুয়াখালি, ঝিনাদহ, খুলনা, ঢাকা, টঙ্গি, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম সহ দেশের ৩৫ জেলার ১৮৫ টি থানায় ২০১৪ সালের রমযানে কোরআন বিতরণ করা হয়েছে।

রমযানের পর পর খুলে যায় আরেক দিগন্ত। কোরআন বিতরণ শুষ্প হয়, বিভিন্ন কলেজ, স্কুল মাদন্দাসা ও বিশ^বিদ্যালয়ে। আলোচনাসভাসহ কোরআন বিতরণ করা হয় রয়েল ইউনিভার্সিটিতে। দ্ভিতীয়বারের মতো ইষ্ট ওয়েম্ভ ইউনিভার্সিটির ৪টি ক্যাম্পাসেই কোরআন বিতরণ করা হয়। ১৫০০ এর বেশী শিক্ষার্থী আমাদের কাছ থেকে সরাসরি কোরআনের কপি গ্রহণ করে। কোরআন বিতরণ করা হয়, এনাম মেডিক্যাল কলেজে, টঙ্গি মডেল স্কুলসহ অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানে। সাথে যুক্ত হয় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরা। ঢাকা সেনানিবাসে ১৫০০ জিপিএ প্রাপ্ত ছাত্রীর মাঝে শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজে কোরআন বিতরণ করা হয়।

প্রতি বছরের ন্যায় ২০১৪ হজ্জ যাত্রীদের হাতে কোরআনের কপি তুলে দেয়া হয়। প্রথমত হজ্জ এজেন্সিস্পলো, দ্ভিতীয়ত হজ্জ ক্লাসে, ত™£তীয়ত আমাদের বিভাগীয় কমিটি, চতুর্থত একাডেমীর অফিস এবং সর্বশেষ হজ্জ ক্যাম্পে গিয়ে হজ্জ যাত্রীদের হাতে কোরআনের কপি তুলে দেয়া হয়। একজন হাজী যখন ১ কপি কোরআন হাতে পায় তার মনের যে খুশি আর আল্লাহর মেহমানকে কোরআন দিয়ে খাতির করার যে আনন্দ এটা কেবলমাত্র সে ব্যক্তি বুঝতে পারেন যিনি নিজহাতে কোরআন তুলে দেন । সত্যি বলতে কি তারাও ভাগ্যবান যারা এই কোরআন স্পন্সর করেছেন।

এভাবেই প্রতিদিন দেশের কোথাও কোথাও কেউ না কেউ কারো না কারো হাতে তুলে দিড়ে– এই কোরআন। আর আমি যখন এই লেখাটি লিখছি তখন পাঁচ লক্ষ মানুষের কেউ না কেউ- বাসায় নাহয় অফিসে, স্কুলে নাহয় মাদন্দাসায়, মসজিদে না হয় লাইবেন্দরীতে, বাসে চলারপথে কিংবা ওয়েটিং ষ্পমে, ডন্দয়িংুষ্পম কিংবা বারান্দায়, খোলা উঠোন কিংবা মক্তব্য বসে বাংলা অনুবাদসহ এই কোরআনখানি পড়ছে। আর সাদাকায়ে জারিয়া হিসেবে জীবিত মৃত সকল স্পন্সরদের জন্য মন থেকেই দোয়া আসছে।
ষ্ক্রষ্ক্রহে আল্লাহ এই কোরআনের বরকতে তুমি এই কোরআন স্পন্সরকারীর মাতা-পিতা, ভাই-বোন, জীবন সাথী, আ—গীয় স্বজন, বন্ধু- বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী সকলের দুনিয়া আখেরাতের সার্বিক সফলতা দান করো। কোরআনের এই খেদমতেক তুমি আমাদের জান্নাতুল ফেরদাউসে যাওয়ার এবং জাহান্নাম এর আস্পন থেকে রক্ষা পাওয়ার ওসিলা বানিয়ে দিও।ষ্ক্রষ্ক্র

ঠিক এই দোয়াটাই লেখা আছে স্মন্সর করা কোরআন শরীফ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদের পাতায়। প্রতিটি পাঠকই এক বা একাধিক বার এই দোয়াটি পড়ে থাকেন। স্পন্সরদের জন্য দোয়ার সাথে সাথে আমাদের জন্যও আমরা যারা আল কোরআন একাডেমীর সাথে জড়িত থেকে এই মহান কাজের আঞ্জাম দিড়ি– তাদের জন্য হয়তো মনের অজান্তেই বিধাতার দরবারে শুভকামনা জানান একজন কোরআনের পাঠক। আর সেই দোয়ার ভরসায় আমরাও কোরআন বিতরনের এই কাজকে ন্টকমুক্ত করতে আমাদের সর্বো” সামর্থ দিয়ে কাজ করে যাই অবিরত। এবং শেষ বিচারের দিনেও আমরা সবাই দোয়া ও সওয়াবের কিঞ্চিচ্ঞ ভাগীদার হওয়ার প্রত্যাশায় থাকবো। এই কোরআনের বিনিময়ে সেদিন যদি আমার আপনার নাযাতের উসিলা হয় এটা হবে আমার আপনার ব্যক্তিগত পাওয়া। আর যদি এই কোরআন পড়ে মানুষ সে অনুযায়ী সমাজ গড়তে পারে। তার সুফল দেশ জাতি এমনকি আমাদের ভবিষ্যত বংশধরেরাও পাবে যাদের আমরা পৃথিবীর আলো বাতাসে রেখে যাবো।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY