উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ভালো, তবে আরো আগে হলে আরো ভালো হতো !

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ
২০১১ সালের  জানুয়ারী  মাসের ৭ তারিখে আমরা ল-ন থেকে জুমাবার নামের একটি ব্যাতিক্রমধর্মী পত্রিকা বের করেছিলাম।  সেদিন আমরা আমাদের পাঠকদের এই পত্রিকার  ব্যাতিক্রমধর্মী  চরিত্রটা কি হবে তাও স্পষ্ট করে বলেছিলাম । আমাদের সচেতন পাঠকদের অনেকেই যে সে কথাগুলো মনে রেখেছেন আজো আমরা তার প্রমান পাই দেশ- বিদেশে অগনিত পাঠকদের স¦তঃস্ফুর্ত প্রতিক্রিয়া দেখে। সবার দাবী ছিলো প্রবাসী সাংবাদিকতায় যে পরিচ্ছন্নতার ধারা জুমাবার শুরু করেছিলো তাকে যে কোনো মূল্যে অব্যহত রাখা। পাঠকদের অনেকেই সেটা আমাদের কাছে  দাবী করেছিলো । বলতে দ্বিধা নেই জুমাবার পত্রিকাটির নবরূপে আত্বপ্রকাশ পাঠকদের সে আশা-আকাঙ্খারই বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।
প্রথম দিকে জুমাবার ছিলো সাপ্তাহিক পত্রিকা। প্রতি জুমাবারে এটি বের হতো অনেকটা সাপ্তাহিক খবরের কাগজের মতো, সারা সপ্তায় দেশ- বিদেশে যা ঘটতো তার কিছু আমরা পাঠকদের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করতাম। বিশেষ করে দুনিয়ার এখানে-সেখানে কোরআন ও কোরআনের প্রচার-প্রসার নিয়ে যা কিছু ঘটতো প্রধানত সেই কথাগুলো আমরা আমাদের পত্রিকায় পেশ করতাম, এর সাথে আরো কিছু মূল্যবান বিষয়  ছিলো যা আমরা প্রতি সপ্তায় পাঠকদের উপহার দিতাম। বলতে দ্বিধা নেই, ওই কয়েকটি বিষয়-ই জুমাবার পত্রিকাটিকে একটি ইউনিক পত্রিকা হিসেবে দাড়াতে সাহায্য করেছে। আমরা প্রতি সংখ্যা জুমাবার পত্রিকায় পবিত্র কোরআন শরীফের ধারাবাহিক অনুবাদ পেশ করতাম। বিশ্বমানের তাফসীর থেকে কিছু কিছু অনুবাদ পেশ করতাম। কোরআনের বাহক প্রিয় নবী (সঃ)-এর জীবন চরিত্রের খ-চিত্র পেশ করতাম। পেশ করতাম প্রিয় নবীর মুখ নিসৃত পবিত্র খোতবা। মুসলিম ইতিহাস ও ঐতিহ্য থেকে কিছু কিছু কথা আমরা মাঝে মাঝে পাঠকদের উপহার দিতাম। বিশ্বের  এখানে সেখানে কোরআনের আপনজনেরা কোরআনের প্রচার ও প্রসার নিয়ে কোথায় কি কাজ করছেন তার কিছু কিছু খোঁজ খবরও আমরা পাঠকদের শুনাতাম।
কিন্তু এতোসব মৌলিক ও সুন্দর লেখা নিয়ে যে পত্রিকাটি জুমাবারে লোকদের হাতে পৌঁছতো তার একটা বড়ো সমস্যা ছিলো এর মূল্যবান সংগ্রহগুলোর রক্ষনাবেক্ষন নিয়ে। খবরের কাগজের দলে থাকার ফলে জুমাবার যতো সুন্দর  জিনিষই প্রকাশ করতো তার অবস্থা ছিলো অন্যান্য পত্রিকাগুলোর মতোই।প্রতিদিন অগনিত পাঠক আমাদের ফোন করে বলতেন এসব মূল্যবান বিষয়,কোরআনের অনুবাদ, কোরআনের তাফসীর, প্রিয় নবী(সঃ)-এর জীবনী, তাঁর  মূল্যবান জুমার খোতবা, খোলাফায়ে রাশেদীন-সাহাবায়ে কেরামদের জীবন,কোরআন ও কোরআন কেন্দ্রিক অসংখ্য মূল্যবান জিনিষ-যা তারা নিজেদেও সংগ্রহে রাখতে চেয়েও ট্যাবলয়েট সাইজের পত্রিকায় ছাপা হওয়ার কারনে রাখতে উৎসাহ বোধ করছেন না। তারা আমাদের একাধিকবার বরেছেন-জুমাবারকে এখানকার অন্যান্য পত্রিকার দলে না রেখে এগুলোকে যদি আমরা ম্যাগাজিন আকারে বের করি তাহলে সংরক্ষনের বিশেষ সুবিধা হতো । খবরের কাগজের বদলে একটি ম্যাগাজিনকে বুক সেলফে সংরক্ষন করা সহজ এটা আমরা সবাই জানি। এমন বহুবার আমার নিজের সাথেও এটা ঘটেছে যে,জুমাবারে প্রকাশিত কোনো একটি লেখা আমি সংগ্রহে রাখতে চাইলাম, কিন্তু খবরের কাগজের দলে থাকায় তা রাখতে চেয়েও আমি রাখতে পারিনি। ঠিক তখনি ভেবেছি আমাদের পাঠকরা ঠিকই বলেছেন খবরের কাগজের বদলে একে ম্যাগাজিন করে দিলেই মনে হয় ভালো হতো। একটি ম্যাগাজিনের ২০/৩০কপিও ইচ্ছে করলে ক্ষুদ্র পরিসরে সেলফে রাখা যায়। দিনে দিনে আমরাও বদলে গেলাম,এ সময় পাঠকদের আবেগ-অনুভূতির প্রতি শ্রদ্বা দেখিয়ে আমরাও নিজেদের খবরের কাগাজর দল থেকে ম্যাগাজিনের তালিকায় এনে দাড় করিয়ে দিলাম। জুমাবারকে ম্যাগাজিনের তালিকায় এনে সর্ব প্রথম যে কথাটি মনে হলো তা হলো উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ভালো,তবে আরো আগে হলে আরো ভালো হতো। নতুন উদ্যোগের যখন সিদ্ধান্ত হলো তখন আমাদের দোর গোড়ায় এসে দাড়ালো রমাদ্বানুল মোবারক। কোরআন নাযিলের মাসে কোেরআনের পত্রিকা জুমাবার নতুন আংগিকে বেরুবে এর চেয়ে খুশির বিষয় আর কি হতে পারে?কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতার দিকে তাকিয়ে দেখলাম রামাদ¦ানুল মোবারকের কাউন্ট-ডাউন অলরেডী শুরু হযে গেছে,হাতে সময় আছে আর মাত্র১০ দিন। আল্লাহর নামে ম্যাগাজিন সাইজে জুমাবারের প্রথম কপি রামাদ্বানের শুরুতেই ইউকের প্রধান প্রধান শহর সহ ল-নের শত শত মসজিদের মুসল্লিদের হাতে দিতে হলে এই ১০ দিন সময় মোটেই যথেষ্ট নয়। তবুও আল্লাহ তায়ালার করূনার উপর নির্ভর করে আমরা এগিয়ে গেলাম, জানিনা  আমাদের এবারের প্রস্তুতি আপনাদের কেমন লাগবে। তবে আল্লাহ তায়ালার দয়ায় আপনাদের আমরা কথা দিতে পারি এর পর থেকে জুমাবার আপনাদের আরো বেশী ভালো লাগবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এই নতুন উদ্যোগকে কবুল করুন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY