মদীনা সফরের স্মৃতি 01

0
287
Yasir Imran Mirza photography

মদীনা সফরের স্মৃতি 01

 

নবীর শহর-মদীনায় যাবার প্রস্তুতি

হাফেজ মনির উদ্দীন আহমদ
৯ই জুলাই সোমবার। আসরের আগেই আমাদের মক্কা শরীফের যাবতীয় কাজকর্ম শেষ করার কথা। মোয়াল্লেমের নির্দেশ অনুযায়ী আসর নামাযের পর থেকেই তার অফিসের সামনে বসে থাকতে হবে। তিনি আগেই বলে দিয়েছেন, আপনারা এখানে এসে বসবেন, (এখানে মানে কোনো ঘরে নয় ১২০ ফারেনহাইট তাপমাত্রায় বাইরের রা¯ার পাশে ফুটপাতে) এক এক করে মদীনার গাড়ী ছাড়বে, আপনারাও একে একে সবাই গাড়ীতে উঠবেন। কথাটা শুনতে তো তেমন খারাপ শুনায় না, তবুও এই যমীনে বিগত দিনগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে তাকে আগের দিন জিজ্ঞেস করেছিলাম, আসরের পর তো ভয়ানক গরম থাকবে, আসলে কি আপনাদের গাড়ী এ সময় ছাড়বে? মোয়াল্লেমের একজন বাংলাদেশী এজেন্ট (যিনি হাফ সৌদী বলতে গিয়ে নিজের দেশীয় ভাষাও হারিয়েছেন, আবার পর্ণাঙ্গ সৌদীও বলতে পারেন না) এক প্রকার বিরক্ত হয়েই বললেন, মদীনা যেতে চাইলে আমাদের দেয়া সময়েই আসবেন। এ সময় মোয়াল্লেম অফিসে আমার সেই পুরনো বন্ধু ফারুক ভাইকে পেলে হয়তো আরো পরিষ্কার কিছু কথা শুনতে পেতাম। যাই হোক সাব-এজেন্টের সাথে তার নির্দেশ মোতাবেক আসর নামাযের পরই তার দপ্তরের সম্মুখে হাযির হবার সিদ্ধাš নিলাম। সোমবারের আসর নামাযই ছিলো খানায়ে কাবায় আমাদের শেষ নামায। আল্লাহর ঘরের চত্বরে জামাতে নামায পড়ে আমরা মোয়াল্লেম মক্কী চৌধুরীর অফিসে হাযির হলাম। ভাগ্যক্রমে এসে সেকানে ফারুক ভাইকে পেলাম। তার অনুরোধে আমরা স্বামী-¯ী দু’জন তলপী তলপা নিয়ে তার অফিস কক্ষে এসে বসলাম। তিনি বললেন, ‘বাসের কোনো টাইম টেবিল নেই। কখন ছাড়বে কেউই বলতে পারে না, তবে এটা ঠিক যে আজ আপনাদের মদীনার দিকে পাঠানো হবে।’ সেই মুহূর্তে তার এয়ারকন্ডিশন্ড কামরার সোফায় বসে বাসের অপেক্ষা করা ছাড়া আর দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। বসতে বসতে মাগরিবের আযান হলো। আল্লাহর ঘরের মিনা থেকে আযানের ধ্বনি শুনতে পেলাম। মাত্র কয়েক শত গজ দরে থেকেও কাবার জামাতে আমরা শরীক হতে পারলাম না। একদিকে মালপত্র সব এখানে, দ্বিতীয়ত আমাদের বলা হয়েছে, যে কোনো সময়েই বাস এসে পড়বে। আর একবার বাস চলে গেলে মদীনার যাত্রা আবার কয়েকদিনের জন্যে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে ভেবে কেউই জায়গা ছেড়ে অন্যত্র যেতে চাইলো না।
সন্ধ্যের পর তাপমাত্রা আ¯ে আ¯ে কমতে থাকে। বাইরে যারা রা¯ার পাশে কয়েক ঘন্টা ধরে বাসের জন্যে দাঁড়িয়ে আছেন তারাও আ¯ে আ¯ে স্ব¯ির নিঃশ্বাস ফেলতে শুরু করলেন। আমরা যে কয়জন ভাগ্যবান ভেতরে বসার সুযোগ পেয়েছি তারা এক সুবাদে অফিস কর্মচারীদের কর্মকান্ড দেখার সুযোগ পেয়েছি।
ভেতরে বসে দেখলাম অফিসের লোকজনরা তখনো চারদিকে ফোন করে কোথায় কোথায় গাড়ী পাওয়া যায় তার সম্ভাবনা পরীক্ষা করছেন। এ দিকে এশার নামাযের সময়ও হয়ে এলো। বাইরে অপেক্ষমান মানুষের সংখ্যা অনেক। সবাই এখন বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে ৫ ঘন্টা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। তখনো অফিসের লোকজন এদিক সেদিক ছুটোছুটি করছেন। ফোনের পর ফোন করে চলেছেন, কিšু গাড়ীর কোনো খোঁজ নেই। একজন আধা সৌদীকে জিজ্ঞেস করলামঃ আসলে গাড়ী কি আগে রিজার্ভ করে রাখা হয়নি? তার কাছ থেকে যা শুনলাম তা হলো, গাড়ী এরা কখনো নাকি আগে রিজার্ভ করে রাখেন না। সব সময়ই এরা ‘স্ট্যান্ড বাই’ গাড়ীর সুযোগে থাকেন। এতে নাকি অনেক পয়সা বাঁচে। এক পর্যায়ে আমাদের দু’জন সাথী মোয়াল্লেম অফিসে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তারা যদি নিজেরা টেক্সী ভাড়া করে মদীনায় যেতে চান তাহলে কোনো অসুবিধা আছে কিনা? তাদের জবাব দেয়া হলো, হা আপনারা আপনাদের দায়িত্বে টেক্সী ভাড়া করে মদীনায় যেতে পারেন। তবে যে টেক্সীতে যাবেন তার ড্রাইভারকে আমাদের অফিসে আসতে হবে। তিনি তার নাম ঠিকানা লিখিয়ে সই স্বাক্ষর করে আপনাদের পাসপোর্ট টিকেট নেবেন এবং মদীনায় গিয়ে পুনরায় মোয়াল্লেম অফিসেই তিনি সেসব কাগজপত্র জমা দেবেন। অপর কথায় পাসপোর্ট টিকেট আপনার হাতে দিয়ে তারা স্বরাষ্ট্র মšণালয়ের কটুক্তি শুনতে চায় না, তাদের কাছে একজন সৌদী নাগরিক হোক না সে টেক্সী ড্রাইভার, তার বিশ্ব¯তা অনেক বেশী। মানুষ যখন দেখলো এভাবে নিজ দায়িত্বেও এখান থেকে নাজাত পাওয়া যাবে না তখন গাড়ীর অপেক্ষা করা ছাড়া কারো সামনেই বিকল্প কিছু থাকলো না। অপেক্ষার সময় যতো দীর্ঘই হোক না কেনো আমাদের মদীনায় প্রিয় নবীর শেষ দশটি বছরের স্মৃতির শহরে যাচ্ছি এই অনুভূতি আমাদের মনে সদা জাগরুক থাকায় কোনো রকমভাবে ব্যক্তিগত তসবীহ তাহলীলে সময় কাটানোই মুদ্ধিমানের কাজ মনে করলাম।
সময় কারো জন্যেই বসে থাকে না। বুঝতে পারলাম ঘড়ির কাটা তখন রাত বারোটা ছাড়িয়ে গেছে। আমরা বসেই আছি। বহু বৃদ্ধ ও মহিলা যারা রা¯ার পাশে বসে আছেন অনেকের চোখেই স্বাভাবিকভাবে ঘুমের প্রবল ছাপ তখন। দু’একজন ঘুমিয়েও পড়েছেন। চারদিকে শোরগোল শোনা গেলো, কে যেনো বললো বাস এসে গেছে। তড়িঘরি করে রা¯ায় এসে দেখি, মাত্র একখানা বাস, অথচ যাত্রীর সংখ্যা বহু। মুহূর্তের মধ্যেই বাস ভরে গেলো, আমরা আবার ফিরে গেলাম। অনেক্ষণ পর আবার বলা হলো বাস এসেছে, বাইরে গিয়ে দেখলাম এবার সত্যিই বাস এসেছে। আমরা বাসে উঠলাম, রাত তখন পৌনে একটা। মক্কার স্মৃতি পেছনে রেখে বাস এবার মদীনার দিকে রওনা দিলো। যাত্রার পর্বক্ষণে ফারুক ভাই তার চিরাচরিত সৌজন্য বজায় রাখতে ভোলেননি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানোর জন্যে দুঃখ প্রকাশ করে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গেলেন।
বাস মক্কার অলিগলি দিয়ে বড়ো রা¯ায় এসে পড়লো। ইতিমথ্যে এক দু’বার চেকিং-এর পালা তো আছেই। পাসপোর্ট, টিকেট তো মোয়াল্লেমের লোকের হাতে, মদীনায় গিয়ে তিনি তাদের সেই অফিসেই তা জমা দেবেন। আবার আপনাকে মদীনা থেকে রওনা দেয়ার সময় কপালের লিখন সেই একই ধরনের ভোগাšির সম্মুখীন হতে হবে।

মদীনার পথে
মক্কা থেকে মদীনার দরত্ব চারশত কিলো মিটারের চাইতে কিছু বেশী। স্বাভাবিকভাবে এটা ৬-৭ ঘন্টার পথ। রাতের বেলায় সময় অবশ্য কিছু কম লাগে। বিশাল রা¯া, ট্রাফিক জ্যামের কোনো সমস্যা নেই। শত শত গাড়ী পাশাপাশি চলছে। অত্যš আধুনিক মানের রা¯াঘাট। ধু ধু মরুভূমি। ৫০-৬০ মাইল পর পর বিশ্রামের জন্যে সার্ভিস স্টেশনের মতো মরূদ্যান আছে। সেখানে সব ধরনের ব্যবস্থাই আছে। সব ধরনের আয়োজনই আপনি সেখানে পাবেন। পানি, টয়লেট, আপ্যায়ন সর্বোপরি নামাযের ব্যবস্থা কোনোটাই নিতাš কম নয়। বাসগুলো সবাই এয়ারকন্ডিশন্ড। যাত্রীরা অনেকেই ৮-৯ ঘন্টা বাইরের তাপে গরমে অপেক্ষা করে ক্লাš ছিলেন বলে বাসে উঠেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। আমরাও একসময়ে ঘুমিয়ে পড়ি। ঘুম থকে যখন জাগলাম তখন দেখি, বাস একটি সার্ভিস স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। বাসের দরজা খুলতেই শুনলাম পাশের ছোট মাসজিদ থেকে ফজরের আযানের সুর ভেসে আসছে। বুঝলাম, ফজরের সময় হয়ে গেছে। জায়গাটাও বেশ ভালো। সবাই আমরা মাসজিদে জামাতের সাথে নামায পড়ে, পুনরায় যাত্রা শুরুর আগে এক কাপ চা পানের লোভে পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানে হাযির হলাম। না¯া পানি শেষে আবার এসে বাসে বসলাম। আমরা বসে আছি প্রায় ঘন্টা খানেক সময় অতিবাহিত হলে গেলো, ড্রাইভারের কোনো পাত্তাই নেই। বহু সন্ধান করে জানা গেলো চায়ের দোকানের পেছনে একটি সীটে সে ঘুমিয়ে আছে। বেচারার কী দোষ, সারারাত ধরে বাস চালিয়েছে। যাত্রীরা ঘুমিয়ে থাকতে পারে কিšু চালক তো আর ঘুমুতে পারে না। গাড়ী আবার রওনা দিলো। সকাল বেলা। দিনের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে, অবশ্য এয়ারকন্ডিশন্ড গাড়ীতে বসেতো তা টের পাওয়া যায় না।
হিসাব অনুযায়ী মদীনার পথ আর বেশী দরে থাকার কথা নয়। আমরা নতুন হাইওয়ে ধরে এয়ারকন্ডিশন্ড বাসে চড়ে নবীর শহরের দিকে যাচ্ছিলাম। স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলো আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগেকার এমনি এক জার্নির কথা- এই পথ দিয়েই আল্লাহর নবী তার এক প্রিয় সাথীকে নিয়ে মদীনার দিকে পাড়ি জমিয়েছিলেন। আমাদের যাত্রা ছিলো জুলাই মাসে, আর তাঁর যাত্রা ছিলো জুনে। মৌসুমের দিক থেকে যদিও তা একই সময়ে পড়ে কিšু কালের পরিবর্তনে এ দুয়ের মাঝে ব্যবধান কতো বি¯র। যতোই সময় এগিয়ে যাচ্ছে ততোই যেনো হৃদয় মন আবেগে আপ্লুত উঠে। কতোক্ষণের জন্যে মন যেনো আজ হারিয়ে যেতে চায় সেই দিন গুলো মাঝে।
মক্কা নগরী। যেখানে শৈশব থেকে কৈশোর, কৌশোর থেকে যৌবনে তিনি পদার্পণ করলেন। যে শহরে তার ওপর অবতীর্ণ হলো বিশ্বের সর্বশেষ হেদায়াতের বাণীবাহক কেতাব আল কোরআন। নবুওয়াতের পর দীর্ঘ ১৩টি বছর আপন জনের বহু গঞ্জনা অত্যাচার অবিচার সয়ে সেই শহরকে চির বিদায় জানিয়ে তিনি আল্লাহর আদেশে পাড়ি জমালেন স¤ক্সর্ণ এক নতুন পরিবেশে, নতুন শহরে, নতুন শপথে বলীয়ান হয়ে। আমার চোখের সামনেই যেন ভেসে উঠলো মদীনার এক যুবক যিনি মদীনাবাসীর প্রতিনিধি হয়ে নবীর দরবারে রাতের আঁধারে হাযির হলেন। সমগ্র আরব উপদ্বীপের শত্র“তার ঝুঁকি নিয়ে আল্লাহর নবীকে আমšণ জানালেন মদীনার আসার জন্যে। প্রিয় নবী, যেনো এমনি একটি সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি সানন্দে দাওয়াত গ্রহণ করলেন। আনসার যুবক একটি ছোট অনুরোধ রাখলেন, হে নবী, আপনি আমাদের কথা দিনÑ আল্লাহ তায়ালা যখন আপনাকে বিজয়ী করবেন, আরব উপদ্বীপে যখন ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হবে, তখন আপনি আমাদের ভুলে যাবেন না। আপনি তখনও আমাদের মাঝে আমাদের মানুষ হিসেবেই থেকে যাবেন! আল্লাহর নবী সেই আঁধার রাতে সেই যুবকের অনুরোধে হাঁ বলে সম্মতি জানালেন।
তারপর একে একে তার সাথীরা সবাই এই পথ ধরেই মদীনার দিকে চলে গেলেন। সর্বশেষ তিনি তাঁর প্রিয় সাথী আবু বকরকে নিয়ে এই প্রচন্ড জুন মাসের গরমে এই পথ দিয়েই মদীনার দিকে পাড়ি জমালেন। পথে পথে ভয় বিপদ ও উৎকন্ঠা, তারপরও তিনি এগিয়ে চলেছেন ইতিহাসের এক নব অধ্যায়ের সচনা করতে।

তালায়াল বাদরু আলাইনা
কল্পনার রাজ্যে আজ আমরা ভাবনাগুলো একে একে যেন ভীড় করতে শুরু করেছে। বাসের জানালা দিয়ে বাইরে উঁকি মারলেই আমার মনে হয় ওই বুঝি প্রিয় নবী তার প্রিয় বাহন কাসওয়ায় বসে প্রচন্ড গরমে মদীনার দিকে এগিয়ে চলেছেন। স্মৃতি মনে জাগতেই কেনো যেনো নিজেদের ভারী অপরাধী মনে হলো। আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় তাঁর ত্যাগ ও কষ্ট সাধনার পাশাপাশি আমাদের এ যাত্রা আরাম আয়েশ ও বিলাস ভ্রমণ কতো বেমানান। আজ এতো আরামে বসেও আমাদের অভিযোগের অš নেই। কিšু সেদিন যখন প্রিয় নবী তাঁর আপন জন ভিটে মাটি জন্মভূমি ছেড়ে মরু বিয়াবানে স¤ক্সর্ণ ভিন্ন পরিবেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তখন তিনি কতো কষ্ট নিষ্ঠাবান ছিলেন। উদ্দেশ্য ও একনিষ্ঠ সাধনা তাঁকে কতো মহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁই ছুঁই করছে। দরে নযর পড়লো একটি জনপদের প্রতি। শত শত খেজুর গাছের সারির ভেতরে মাঝে মাঝে দেখা যায় ছোট্ট ছোট্ট দু’একটি বিল্ডিং। আ¯ে আ¯ে দৃশ্যগুলো আরো পরিষ্কার হয়ে এলো। আমার মন বলে উঠলো, আমার নবীর শহর মদীনা এসে গেছে। আবেগে আমার হৃদয় মন নেচে উঠলো। যুগ যুগ ধরে আমার প্রেমিক মন যে শহর দেখার জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে, যে শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে আছে আমার নবীর হাজারো ধরনের সুখ-দুঃখের স্মৃতি, আজ আমি সেই শহরের উপকণ্ঠে দাঁড়িয়ে আছি, কথাটা ভাবতেই যেনো আনন্দে প্রাণটা নেচে উঠলো। আমি যেনো ¯ক্সষ্টত দেখতে পাচ্ছি, সাদা ধবধবে পোশাক পরে কাসওয়ায় চড়ে আমার নবী ক্লাš ও পরিশ্রাš হয়ে মদীনার দিকে এগিয়ে আসছেন। হাজার হাজার আবাল বৃদ্ধ বনিতা প্রিয় নবীকে এক পলক দেখার জন্যে রা¯ায় নেমে এসেছে। মদীনার আপামর জনতার কণ্ঠে সেই বিখ্যাত গান ‘তালায়াল বাদরু আলাইনা মিন সা’নিয়্যাতিল ওয়েদায়ী’। আমাদের মাঝে আজ উদিত হয়েছে পর্ণিমার চাঁদ। খেজুর ডালির পাশ দিয়ে আমাদের মাঝে অবতীর্ণ হয়েছে সেই পুণ্যময়ী পর্ণিমার চাঁদ।
আজকের মদীনা আর সেই মদীনার মাঝে আকাশ পাতাল তফাৎ। মদীনা এখন আধুনিক নগরী। আধুনিকতার ছোঁয়া এর প্রতিটি পরতে পরতে। ইউরোপীয়ান কায়দায় অত্যাধুনিক বিলাস প্রাসাদ ও বাণিজ্যিক ভবনে সারা শহর যেনো সর্বত্র নতুনের ছড়াছড়ি। রা¯ায় রা¯ায় মার্কিনী ও জাপানী গাড়ীর সমারোহ। শত শত জাপানী পণ্যের বিজ্ঞাপনে শহরের রা¯া ঘাট ঝলমল করছে। স্বাভাবিকভাবেই এখানকার গণমানুষের জীবন এই অতি আধুনিকতার বিষ প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। সবার অজাšে এখানকার গোটা পরিবেশই আ¯ে আ¯ে দষিত হয়ে উঠছে।
আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে আমার প্রিয় নবী যে মদীনায় ইসলামী রাষ্ট্রের প্রথম নীল নকশা অংকন করতে এসেছিলেন নিসন্দেহে সেই মদীনার সাথে আজকের সুরম্য নগরী মদীনার তফাৎ অনেক।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY