একটি দু:সাহসিক পরিকল্পনা

0
191

কোরআন শরীফ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ বিনামূল্যে বিতরণ
একটি দু:সাহসিক পরিকল্পনা

বাংলা ভাষায় কথা বলে বিশ্বের এমন 16 কোটি লোকের প্রত্যেকের হাতে একেক কপি কোরআন শরীফ ও তার সহজ সরল বাংলা অনুবাদ থাকবে এই আকাশ ছোঁয়া এই মহা পরিকল্পনার কথাটি যেদিন আমরা প্রথম চিন্তা করেছিলাম সেদিন আমরাও ঠিক বুঝতে পারিনি যে, এমনি একটি পরিকল্পনাকে এ দেশের সুধী চিন্তাবিদরা এতো উৎসাহ, এতো আগ্রহ ভরে আপন করে নেবেন।
আমরা জানি, ইউরোপ আমেরিকাসহ সমগ্র খৃষ্টান জগতে কয়েকশত দাতব্য প্রতিষ্ঠান চ্যারিটী অর্গানাইজেশান প্রতিনিয়ত কোটি কোটি কপি বাইবেল ছাপছে। শুধু মার্কিন ভ‚খণ্ডেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন প্রায় ৯০টি । যারা বাইবেলের অনুসারী নয় এরা হচ্ছে এ সব প্রতিষ্ঠানের প্রাইম টার্গেট। এর সাথে আরো রয়েছে দেশের অগণিত জেলখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কলেজ বিশ্বাবিদ্যালয়, এনজিও, মানবাধিকার সংস্থা, নারী সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদেরই প্রচেষ্ঠায় এরা এ যাবৎ প্রায় ৩ হাজার ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করে পৃথিবীর প্রত্যš অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী বাইবেল প্রচারের এই মহা আয়োজনের পাশাপাশি আমরা কোরআনের অনুসারী মুসলমানরা এখনো কোরআনের ২০০শ’র বেশী ভাষায় অনুবাদ প্রকাশ করতে পারিনি। সৌদী আরবের ‘বাদশাহ ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স’-এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী কোরআন বিতরনের এমনি আরেকটি প্রতিষ্ঠানও আমরা আজ পর্যš গড়ে তুলতে পারিনি। এমতাবস্থায় আপনিই বলুনÑ দুনিয়ার কোটি কোটি আল্লাহর বান্দাহদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও তার অনুবাদ পৌঁছাবে কে?র্
আমাদের এ দেশটাকে যারা কোরআনের ভ‚খন্ড বানাতে চানÑ দেশের ছোটো বড়ো সেসব ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠনগুলো আগামীতে যেন তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে কোরআন বিতরণ কর্মসচীকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন, সে চেষ্টা আমাদের সবার করতে হবে। যে যমীনে আমরা সৎ লোকের শাসন ও খেলাফত কায়েমের মাধ্যমে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠা করবোÑ সেখানে যদি জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার হাতে যথাসম্ভব কম সময়ের ভেতর কোরআন না পৌঁছানো যায় তাহলে আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছাবো কি করে? তাছাড়া একথাটাও আমাদের বুঝতে হবে, দেশের যে কোটি কোটি লোকের হাতে আমরা কোরআন ও তার অনুবাদ পৌঁছাতে চাই তাদের একাংশও যদি সহজ সরল বাংলা অনুবাদের সাথে আল্লাহর কিতাব পড়েÑ তাহলে তাদের নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থন সব তো ইসলামী আন্দোলনের ভাগেই পড়বে। যারা নির্বাচিত হলে দেশের কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠা করার কথা বলেন, তাদের সবাইকে জাতির কাছে ওয়াদা করতে হবে; তারা তাদের নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটি শিক্ষিত হিন্দু, মুসলিম, খৃস্টান, বৌদ্ধ নির্বিশেষে সবার হাতে এক কপি কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ পৌঁছাবেন। এটা করতে পারলে নিসন্দেহে তিনি নির্বাচনে এর একটি ইতিবাচক প্রভাবও দেখতে পাবেন। এক সময় তিনি নিজেই টের পাবেন যে, শাড়ী, লংগী ও অর্থ বিতরণের পাশাপাশি সবার হাতে আল্লাহর কোরআন ও তাঁর অনুবাদ পৌঁছানোর মল্য কতো বেশী! এখন থেকে নির্বাচনের ইশতেহার প্রণয়নের সময় এই মৌলিক কথাটা ইসলামী আন্দোলন ও সংগঠনসমহের নেতৃবৃন্দদের আমরা ভেবে দেখতে বলবো।র্
আল্লাহ তায়ালার এই বিশাল পৃথিবীর ৬’শ কোটি মানুষের হাতে কোরআন পৌঁছানোর আকাশচুম্বী পরিকল্পনার স্বপ্ন দেখার সাধ্য আমাদের নেই। মুসলিম জাতির দর্ভাগ্য, আজ পৃথিবীর একটি দেশেরও রাষ্ট্রীয় নিয়šণভার কোরআনের অনুসারীদের হাতে নেই। কোনো একটি জনপদেও যদি সে সুযোগটা থাকতো তাহলে দুনিয়ার প্রত্যেকটি মানুষের হাতে তাদের নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদসহ এক কপি কোরআন পৌঁছে দেয়া মোটেই অসম্ভব হতো না।র্
আমাদের পৃথিবীতে যারা বাংলা ভাষায় কথা বলে তাদের প্রাইম লোকেশান হচ্ছেÑ বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম। এর বাইরেও ইউরোপ, আমেরিকা, অষ্ট্রেলিয়া, দরপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে আরো লক্ষ লক্ষ বাংলা ভাষাভাসী মানুষ। এদের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন। এই ৩০ কোটি আদম সšানের বেশীর ভাগ মানুষ যেখানে বাস করে সেখানকার শিক্ষার হার যদি শতকরা ৫০ ভাগও ধরা হয়, তাহলে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের এই অঞ্চলে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এমন আছেÑ যারা পড়া লেখা জানে। এদের হাতে এক কপি ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’ পৌঁছাতে পারলে এরা আল্লাহর এ কিতাবটি পড়ার সুযোগ পেতো। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি, আমাদের অবহেলার কারণে 16 কোটি মানুষের একজন লোকও যদি আল্লাহর কিতাব ও তাদের ভাষায় এর অনুবাদের সাথে পরিচিত হবার আগে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে আল্লাহর আদলতে কোরআনের বাহক হিসেবে আমাদের সবাইকেই একদিন আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। সেদিন আল্লাহর আদলতের কঠোর দণ্ড থেকে বাঁচার জন্যেই আমরা বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পর্তি উৎসবকে একটি মাইলফলক ধরে এ দেশের গোটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সবার হাতে একেক কপি ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল অনুবাদ’ পৌঁছে দেয়ার ১২ বছর মেয়াদী ‘কোরআন ডিস্ট্রিউশান ওয়ার্ল্ড ওয়াইউ’ তথা বিশ্বাব্যাপী কোরআন বিতরণ কর্মসচী নামের একটি দুসাহসিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আল কোরআন একাডেমীর লন্ডন এই দুসাহসিক পরিকল্পনার স্বপ্ন দেখেছে, কিšু এই মহা পরিকল্পনাটিকে একাডেমী কখনো তার একক কর্মকাণ্ড বলে বিবেচনা করেনি। একাডেমী বিশ্বাস করে এটা মুসলমানদের একটি সামগ্রিক দায়িত্ব। একাডেমী ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষস্থানীয় কোরআন সাধক, কোরআন প্রেমী ও কোরআন কর্মীদের নিয়ে একটি ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে শুরু করেছে। এই রমযানে স্যাটালাইট চ্যানেলে এদেরই এক অভ‚তপর্ব মিলনমেলা বসেছিলো আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের রমযান আয়োজন ‘কোরআনের উৎসব’-এ। দেশের এই নিবেদিত প্রাণ কোরআনের সাথীরা সবাই এক বাক্যে এ কথা বলেছেন, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এই জনপদের সমগ্র শিক্ষিত মানুষদের হাতে এক কপি কোরআন ও তার অনুবাদ পৌঁছে দেয়া বর্তমান সময়ের সর্বাধিক গুরুত্বপর্ণ দাবী। জাতির অভিভাবকদের সবাই এই উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন যে, কোরআনের সাথে আমাদের দরত্ব যেভাবে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আমাদের আর একদিনও বসে থাকার সময় নেই। বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ঐতিহাসিক ২০০ বছর পর্তি উৎসব কর্মসচীর এটাই হবে সবচেয়ে বড়ো সাফল্য। ‘কোরআন ডিস্ট্রিবিউশান ওয়ার্ল্ড ওয়াইড’ তার কার্যক্রম শুরু করার আগে আমরা সর্বমহলের ওলামায়ে কেরাম ও সধী ইসলামী চিšাবিদদের সাথে কথা বলেছি। তাদের সবাইকে সাথে নিয়েই এই প্রতিষ্ঠানটি তার ঐতিহাসিক অভিযাত্রা শুরু করেছে।র্
এই অভিযাত্রার মল কাজ হবে ৪ পর্যায়ের। প্রথম পর্যায়ে একেক বছরের জন্যে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেই পরিমাণ কোরআন ছাপা ও বিতরণের অর্থের যোগান দেবার জন্যে ¯ক্সন্সপর যোগাড় করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সংগৃহীত তহবিল দিয়ে লক্ষ্য মাত্রা মোতাবেক একটি স্বতš কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সের মাধ্যমে কোরআন ছাপার কাজ করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে জাতীয় সমন¦য় কমিটির সিদ্ধাš মোতাবেক নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে মুদ্রিত কপিগুলো যথাযথভাবে পৌঁছে দেয়া হবে। সর্বশেষে এ তিনটি কাজকে সফল করার জন্যে দেশব্যাপী কোরআন পড়ার পক্ষে একটি ইতিবাচক আন্দোলন শুরু করতে হবে। এর দ্বারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে কোরআন পড়া, কোরআন বুঝা ও কোরআন দিয়ে জীবন গড়ার জন্যে উদ্ভুদ্ধ করতে হবে। এটা করতে না পারলে শুধু কোরআন বিতরণ করেই আমরা ই¯িক্সত ফলাফল লাভ করতে পারবো না।র্
আমরা জানি এই দেশের ৮ কোটি মানুষের (পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের ২ কোটি ধরলে এই সংখ্যা হবে 16 কোটি অর্থাৎ 160 মিলিয়ন) প্রত্যেকের হাতে ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’-এর কপি পৌঁছানো নিসন্দেহে একটি দুসাহসিক পরিকল্পনা। অনেকেই এটাকে কোরআনের পক্ষে ‘মোস্ট এম্ভিসাস ড্রীম হেজ এভার আন্ডার টেইকেন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যারা এটাকে মোস্ট এম্ভিসাস মনে করেন তাদের সবাইকে আমি বিনয়ের সাথে বলেছি, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন একদিন কেউ দেখেছে বলেই মানুষ আজ মহাকাশের সীমানা পার হয়ে গ্রহ থেকে গ্রহাšরে ঘুরে বেড়াতে পারছে। কোনো অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্যে কাউকে না কাউকে আগে তো সে স্বপ্ন দেখতেই হবে।র্
আপনার কি মনে হয়Ñ এদেশের মানুষদের হাতে কোরআন ও তার সহজ সরল বাংলা অনুবাদ পৌঁছানো আসলে কি একটি দুসাহসিক পরিকল্পনা? আমরা কোরআনের উৎসবে এ জাতির অভিভাবক পর্যায়ের যে সব চিšাবিদদের সাথে কথা বলেছি তারা তো কেউই একে অবা¯ব পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেননি। তাদের সবার অভিমত হচ্ছে, এ জন্যে প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সে পরিকল্পনা বা¯বায়নে একটি দক্ষ ও নিবেদিত প্রাণ কর্মীবাহিনী। এর সাথে যদি কোরআনের মালিক আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার দয়া শামিল হয় তাহলে প্রয়োজনীয় ৪টি ব¯ুর সমন¦য় ঘটাতে পারলে ইনশাআল্লাহ সেদিন খুব বেশী দরে নয়Ñ যেদিন আমরা না থাকলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই মহা পকিল্পনার কার্যকরী ফলাফল ভোগ করতে পারবে। সর্বশেষে এ জাতির বিবেকবান ও সামর্থবান প্রতিটি ব্যক্তির কাছে আমাদের সবিনয় নিবেদন, আসুন আমরা সবাই মিলে কোরআনের প্রচার ও প্রসারের এই আন্দোলনে শরীক হয়ে আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের জন্যে কিছু স্থায়ী সদকায়ে জারীয়া রেখে যাই। সদকায়ে জারীয়া হিসেবে গাছ লাগালে তা বড়োজোর একশ’ বছর বাঁচবে। পুল, সেতু, রা¯া বানালে তাও একশ বছরের বেশী থাকবে না, কিšু সাদকায়ে জারীয়া হিসেবে এক কপি কোরআন শরীফ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ মানুষদের হাতে তুলে দিতে পারলে তার ফলাফল কেয়ামত পর্যš অব্যাহত থাকবে। কেননা আল্লাহর এ কিতাব অক্ষয়, এ কিতাব চিরšন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY