রোজা ও ঈদের গানে প্রিয় কবি নজরুল

0
986
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম

রোজা ও ঈদের গানে প্রিয় কবি নজরুল
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

আজ থেকে শত বর্ষ আগে 15/16 বছরের এক কিশোর স্কুলের পাঠ চুকিয়ে কবি হয়ে গেছে। তার কবিতা শুনে লোকেরা মুগ্ধ হয়। তার ভাষা ও শব্দচয়ন দেখে উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা হতবাক হয়। তার আরবি ফারসী ভাষার দখল দেখে পন্ডিত ব্যক্তিরা হকচকিত হয়। তার গানের সুর লহরী দেখে ভিরমী খায় সেই সময়ের সঙ্গীতবোদ্ধারা। সম্ভান্ত দরিদ্র মুসলিম পরিবারের সেই ছেলেটি তখন যাত্রা দলে গান করে। তার কয়েকদিন পরেই বেজে উঠবে প্রথম বিশ্বপুদ্ধের রণদামামা। আর দারিদ্রের কষাঘাত আর শিক্ষার বন্ধন কোনোটাই তার দ্রোহের আগুনকে নেভাতে পারেনি। দমাতে পারেনি তার ভেতরের কবিকে। সেই আমাদের জাতীয় কবি নজরল। সময়ের হিসেবে শত বছর চলে গেছে। রাজনীতির হিসেবে চলে গেছে অনেকগুলে আমল সাহিত্যের হিসেবে চলে গেছে কয়েকটি প্রজন্ম কিন্তু আজো দারুণ ও অপরিহার্যভাবে প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে নজরুল ও নজরুলের গান।
আজ শিল্প সাহিত্যের দৈন্যতায় নজরুল হতে পারে চেতনা। আজ অত্যাচারীর বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠ হওয়ার প্রেরণা হতে পারে নজরুল। আজ ইসলামী চেতনার ভাষ্কর হতে পারেন তিনি। নজরুল জন্মবার্ষিকী ও মাহে রমযান আর রমযানেরই রোযার শেষে ঈদ এই সময়ে কেবল নজরুলকে জীবন্ত করে নিয়ে আসে আমাদের সামনে। নজরুল দ্রোহের কবি, নজরুল প্রেমের কবি, নজরুল মানবতার কবি, নজরুল সাম্যের কবি , নজরুল স্বাধীনতার কবি নজরূল ইসলামী চেতনার যুগসন্ধিক্ষনের ক্ষণজন্মা এক নক্ষত্র।
চিরন্তন গান ‘‘ওমন রমযানের ওই রেযার শেষে’’র গানটি ১৯৩১ সালে লেখার চারদিন পর তখনকার জনপ্রিয় শিল্পী আব্বাস উদ্দিনের গলায় গানটি রেকর্ড করা হয়। রেকর্ড করার দুই মাস পরে ঈদের ঠিক আগে আগে এই ততকারীন জনপ্রিয় গ্রামোফোন কোম্পানী এইচএমভি রেকর্ডটি প্রকাশ করে ফেব্রুয়ারি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ। কিন্তু কাজটি সহজ ছিলনা। কারণ তখন শ্যামাসঙ্গীত ও হিন্দু ধর্মীয় ভাবসংগীতের বাজার ভালো, মুসলমান সম্প্রদায় গান থেকে বহুদূরে। আব্বাস উদীদের লেখনি থেকে জানা যায়। ইসলামী গান রেকড করার কথা ভগবতী বাবুকে জানাতেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি, ‘না না না, ওসব গান চলবে না। ও হতে পারে না।’ সেদিন মনে খুব দুঃখ পেলেন আব্বাসউদ্দীন। ছয় মাস পরে কোন এক শুভ মুহর্তে আবারো একই কথা ভগবতী বাবুর কাছে পাড়লেন আব্বাস উদ্দীন। একটু বিনয়ী হয়ে বললেন, সেই যে বলেছিলাম ইসলামী গান দেওয়ার কথা, আচ্ছা, একটা এঙ্পেরিমেন্টই করুন না, যদি বিক্রি না হয় আর নেবেন না, ক্ষতি কী?’ এবার মন গলল ভগবতী বাবুর। বললেন, ‘নেহাতই নাছোড়বান্দা আপনি, আচ্ছা আচ্ছা, করা যাবে।’
নজরুলের সেই বিখ্যাত কবিতা ওমন রামযারেনই রেযার শেষে থেকে যদি আমরা আজকের এই সময়ের চেতনা, মূল্যবোধের উন্মেনষ এবং চিন্তার গভীরতায় মাপতে যাই। তাহেল এখনো নতুন উপলব্দিতে জেগে ওঠার মতো রসদ রয়েছে তাতে। নজরুল লিখেছেন
“ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।/আপনাকে আজ বিলিয়ে দে শুন আসমানি তাগিদ।
এতে নজরুল কোন তাগিদের কথা বলেছেন। এখানে অনেকে অনেক কথা বললেও সাধারণ মানুষ হিসেবে আমি কিন্তু সেই তাগিদের কথাই বুঝবো।। আসমানী কিতাবে যে তাগিদের কথা বলা হয়েছে। মহাণ আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে সেব বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। তাওহীদ রেসালাতের ঝান্ডা উড্ডয়নের এই বানী কেবল নজরুল এখানেই বলেননি বলেছেন আরো অনেক কবিতা গানে। এভাবে নজরুলের কণ্টে রোজা ও ঈদের কথা এসেছে। যদিও নজরুল েইসলামের মূল চেতনাই বেশী প্রাধান্য দিয়েছে। নজরুলের কণ্ঠে শুনি:- এল রমজানেরই চাঁদ এবার দুনিয়াদারি ভোল/ সারা বরষ ছিলি গাফেল এবার আঁখি খোল।। এই এক মাসে রোজা রেখে, পরহেজ থাক গুণাহ থেকে কিয়ামতের নিয়ামত তোর ঝুলি ভরে তোল।। রযানের রোযা মোমেন মুসলিমের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেকথা নজরুল তার ভং্গিতে বলেছেন।

অন্যত্র কবি লিখেন, এল ঈদুল ফিতর এল ঈদ ঈদ ঈদ। /সারা বছর যে ঈদের আশায় ছিল না ক’নিদ।।
রোজা রাখার ফল ফলেছে দেখ রে ঈদের চাঁদ/ সেহরি খেয়ে কাটল রোজা, আজ সেহেরা বাঁধ। রোজাদারের জন্য ঈদের আন্ন্দ যে নির্মল এবং সে আনন্দের সাথেঅেন্য কোন কিছুরই তুলনা চলেনা। ঈদ ও রোজার জন্য একজন ঈমানদোর ব্যক্তি সারা বছরই প্রতক্ষায় থাকেন। ইসলামের এসব মর্মবানীই ধ্বনিত হয়েছে মহাকবি নজরুলের কলমে।
রোজা ও ঈদ নিয়ে সে জনপ্রিয় গানটির দ্বিতীয় চরন, তোর সোনা দানা বালা খানা, সব রাহে লিল্লাহ/ দে যাকাত মুর্দা মুসলিমে আজ ভাঙ্গাইতে নিদ—–
আসলেই নজরুলের কোন তুলনা হয়না হয়না কোনো উদাহরণ। বিশ্ব সাহিত্যে এমন কোন কবি নেই আমরা যাকে বলতে পারি নজরুলের মতো। দেখুন রমযানের মুল শিক্ষা ও আমল গুলোর একটি হচ্ছে জাগতিক সম্পদে লোভ লালসা ও ভোগবাদ পরিহার করে। এবং কোরআনের নির্দেশিত পথে একটি অংশ যাকাত হিসেবে অসহায় দরিদ্রদের প্রদান করে। সে কথাটি নজরুল এমন ভাবগম্ভীর ছন্দশেলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন। আজ এখানেও জাগরনের কবি নজরুল মৃতপ্রায় মুসলিম জাতিকে জেগে ওঠার কথা বলেছেন। আজকের সমাজে ধনাঢ্য মুসলমানদের তাদের সম্পদের উপর যাকাত দিয়ে দরিদ্র অভাবগ্রস্থ মানুষদের পাশে দাড়ানোর মেযন সময় এসেছে। তেমনি সময় এসেছে সকল জুলুমের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাড়াবার। যাকাত দিতে বলেছেন মুসলিমদের যাতে তারা ঘুম থেকে জাগে। আমরা জানি যাকাতের একটা অংশ ইসলাম প্রচারের জন্য দ্বীনের রাস্তায় দেয়া জায়েজ রয়েছে।আর সেজন্যই এসেছে যাকাত দিয়ে বিশ্বমুসলিমকে জাগানোর কথা। এই কথা নজরুল 100 বছর আগে বুঝে লিখেছেন আমরা কি তা আদ্যৗ অনুধাবন করতে পেরেছি।?
কবি নজরুল লেখেন – যারা জীবন ভরে রাখছে রোজা, নিত্ত উপবাসি
সেই গরিব, ইয়াসিন, মিসকিনদের দে যা কিছু মুকিব—-এখানেও ইসলামের মুল এবং চিরন্তন শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাননি নজরুল। যারা পেটপুরে খেতে পারেনা বলে রমযানের মতো সারা বছর উপবাস থাকে। আধপেটে থাকে। তাদের পাশে দাড়ানো তাদের সাহায্য করা। ইসলামের শিক্ষা তা আজ থেকে 14শ বছর আগে যেমন দরকারী ছিলো। 100 বছর আগেও তা এখনো তাই। এই সব দুখি দরিদ্র মানুষের জন্য কবির আরো অনেক গান কবিতা রয়েছে ‘‘ সিঁড়িওয়ালাদের দুয়ারে এসেছে আজ চাষা-মজুরও বিড়িওয়ালা / মোদের হিসসা আদায় করিতে ঈদে দিল হুকুম আল্লাহ তায়ালা/ দ্বার খোল সাততলা বাড়িওয়ালা দেখ কারা দান চাহে/ খোদার প্রাপ্য নাহি দিলে যেতে নাহি দেব ঈদগাহে।’’ একেবারেই খুব সাধারণ মানুষদের কথা বলেছেন। বলেছেন তাদের মনের গোপন ব্যাথার কথাও।
এই যাকাতের কথা কবি অন্যত্র বলেছেন, ‘‘ মোরা শুধু জানি, যার ঘরে ধন রত্ন জমানো আছে ঈদ আসিয়াছে, জাকাত আদায় করিব তাদের কাছে এসেছে ডাকাত জাকাত লইতে, পেয়েছি তার হুকুম কেন মোরা ক্ষুধা তৃষ্ণায় মরিব। সহিব এই জুলুম? যক্ষের মতো লক্ষ লক্ষ টাকা জমাইয়া যারা খোদার সৃষ্ট কাঙ্গালে জাকাত দেয় না। মরিবে তারা। ইহা আমাদের ক্রোধ নহে আল্লাহর অভিশাপ অর্থের নামে জমেছে তোমার ব্যাঙ্কে বিপুল পাপ।’’
আবার ফিরে যেতে হয় মরমী শিল্পী আবাবআস উদ্ধিনের কন্ঠে গাওয়া সেই গানে। আজ পড়বি ঈদের নামায রে তুই সেই সে ঈদ গাহে/ যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছেন শহীদ——
যদি আমরা 1931 সালের কথা ভাবি আর বিশ্ব মসলিম ইতিহাসের কথা ভাবি। আমরা দেখবো ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য লাখো বীরশহীদ তাজা রক্ত দিয়েছেণ। আর যুগে যুগে ইসলাম প্রচার ও প্রসার হয়েছে বলেই আজ ভারতের এক প্রান্তের মুসলিমরা সারা বিশ্বের মুসলমানদের মতো ঈদের জামাতে শরীক হচ্ছে। আজকের পেক্ষাপটে এই কথা একইভাবে সত্য। নজরুলের এই চেতনা আর ভাবকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। ।
-সে গানটির প্রতিটি লাইন প্রতিটি শব্দ সব সমাজের জন্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। ‘‘আজ ভুলে যা তোর দোস্ত দুশমন, হাত মিলাও হাঁতে
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ——–
নজরুল যে মুসলিম ভাতৃত্বের কথা লিখেছেন সেটা বিশ্ব মুসলিম চেতনা ও মূল্যবোধের আলোকে একথা আমি আগের প্যারাতে লিখে এসেছি। নজরুল েআরো লিখেছেন প্রেমের কথা। মানবপ্রেমের যে কথা ইসলাম বলেছে। ঈদের সার্বজনীন শিক্ষার সাথে যে কথাটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত সেই মানব প্রেমে ধনী গরীব বন্ধু শত্রু ভুলে গিয়ে ইসলামে দাখিল হওয়ার জন্য বলেছেন। নজরুলের এই প্রজ্ঞা ও ভাবের গভীরতা বোঝার সময় এসেছে। এখানে সব মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে বন্ধু হবে মানুষ মানূষকে ভালোবসবে এটাই এর শেষ কথা নয়। ইসলামকে অনুসরণ করার কথাও এসেছে। বলা হয়েছে মানব প্রেম দিয়ে সমস্ত বিশ্বকে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ঠ করার জন্য।
এভাবে নজরুল ইসলামের মুল চেতনার পাশািপাশি রোজা ও ঈদ নিয়ে খুব বেশী না লিখেও সর্বোচ্চ আসনে আসীন রয়েছেন। তিনি আরো লিখেছেন
ঈদ মোবারক হোক আজি ঈদ মোবারক হোক
সবঘরে পৌঁছুক এই ঈদের চাঁদের আলোক
যে আছে আজ প্রাণের কাছে আছে আপন
পুরে যে আছে পরদেশে যার লাগি নয়ন
ঝুরে আজ সবার বারে বারে খোশ খবরি হোক।
অন্য একটি ঈদের গানে লিখেন
তোর পাশের ঘরে গরিব কাঙাল কাঁদছে যে
তুই তাকে ফেলে ঈদ্গাহে যাস্ সঙ সেজে,
তাই চাঁদ উঠ্ল এল না ঈদ্ নাই হিম্মৎ, নাই উম্মিদ্.
শোন্ কেঁদে কেঁদে বেহেশ্ত হ’তে হজরত আজ কি চাহে।
অন গানে লিখেছেন
‘ঈদের চাঁদের তল্তরীতে জান্নাত হ’তে/
আনন্দেরি র্শিণী এল আস্মানী পথে।’
আজিকার এই ঈদের খুশী বিলাব সকলে,
আজের মত সবার সাথে মিল্ব গলে গলে,
আজের মত জীবন-পথে চল্ব দলে দলে,
প্রীতি দিয়ে বিশ্ব-নিখিল ক’রব রে মুরীদ্।
নজরুলের জনপ্রিয় ঈদের এই গানটি সহ বেশ কয়েকটি গান। বাঙালী মুসলমান তথা ভারতীয় মুসলিম মুসলিম সংস্কৃতির ভীত নাড়িয়ে দেয়। তখনো মুসলিম গান তেমন একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। আব্বাস উদ্দিন ভাওয়াইয়া গাইতেন নিজ নামেই। তবে অনেক মুসলিম গায়ক ছধ্মনামে গাইতেন। কারণ মুসলিম নামি শুনলে লোকে তার গান শুনতে চাইবেনা। শিল্পি কাশেম মল্লিক গািইতেন কে মল্লিক নামে। করে।এভাবেই আজ ইসলামী সংস্কৃতির একটি ধারা বর্তমানে দেশে রয়েছে। পরে কবি কায়কোবাদ, কাঝী কাদের নেওয়াজ, ইসমাইল হোসেন সিরাজী, ফররুখ আহমদ, গোলাম মোস্তফাসহ অনেকেই ইসলামী ভাবধারায় গান কবিতা লিখে সফল হয়েছেন। বর্তমানে বেশ কয়েকজন গীতিকার ইসলামী গান লিখে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এর মধ্যে রয়েছে খাদিজা আখতার রেজায়ী, মতিউর রহমান মল্লিক, সাইফুল্লাহ মানছুর, আবুল আলা মাসুম, মশিউর রহমান প্রমূখ। এদের মধ্যে খাদিজা আখতার রেজায়ী আবার বেশকিছু ঈদ ও রমযানের গান লিখেছেন। এগুলোও বেশ জনপ্রিয়। খাদিজা আখতার রেজায়ী রচিত শ্রোতাপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে এই রমযান এসেছে আমার দারে , রমযান মোবারক মাহে রমযানে, রহমতে ঘেরা এই মাহে রমযান , রমযান মোবারক দেখা গেছে চাঁদ , এই রমযানে চাই তোমার রহম , এই রমযানে আল্লাহ তোমার দয়ার দুয়ার দাও খুলে , কি খুশর ঈদ , ঈদ হবে না প্রতিবেশলি খবর না নিলে, ঈদের দিনে কেউ কেঁদো না, আজকে খুশীর দিন , ঈদের এই রাতে সকলের সাথে ঈদের খুশীর কথা , ঈদ বয়ে আসে শাওয়াল, আর এই চাঁদে, অ অমার জন্মুভূমি|
নজরুল ও আবাস উদদীনের কারণে বাঙালী মুসলমানেরা তাদের ধর্মীয় সংগীত শুনতে শুরু।এবার শিল্পীর অভাব দেখা দিলো। ইমলামী গান হিন্দু শিল্পীর কণ্ণ্ঠ কে শুনবে? তাই হিন্দু শিলপীদের দিয়ে এইচএমভি তাদের নাম পরিবর্তণ করে। মুসলিম গান গাওয়াতে শুরু করে । তাই ধীরেন দাস এর নাম গনি মিয়া, চিত্ত রায় হলেন দেলওয়ার হোসেন, আশ্চর্যময়ী নাম রাখা হলো সকিনা বেগম আর হরিমতি আমিনা বেগম; এমনকি গিরীন চক্রবর্তীর মতো জনপ্রিয় গায়কও সোনা মিয়া সেজেছেন। তারপরের ইতিহাস তো সবারই জানা। মুসলিম গানে আব্বাস উদ্দীন আবদুল আলীম আরো কতো প্রতীভা এসেছে। এসেছেন কবিরাও তাদের কবিতার পসরা নিয়ে। কিন্তু নজরুলের কবিতা গান। তার ইসলামী সং্গীত আজে স্বমহিমায় ভাস্কর। আর রোজা ও ঈদের গানেও নজরুল অতুলনীয় রয়ে গেলেন শত বছর ধরে।

নজরুল তার গানে শুধু আন্ন্দ উৎসবের কথা বলেননি। ঈমান ও আখলাকের কথা্ও বলেছেন। এরকম অনেক কারনেই নজরুল অন্যন্য আধুনিক এবং সবসময় প্রাসঙ্গিক।

সূত্র:

01. উইকিপিডিয়া
02. আমার শিল্পীজীবনের কথা, আব্বাসউদ্দীন আহমদ
03. রমযান ও নজরুল, দৈনিক নয়াদিগন্ত তারিখঃ 29 Aug 2013
04. দৈনিক ইনকিলাব, ইনকিলাব সাহিত্য, 8/1/ 2014
05. বাংলাদেশে নজরুল চর্চা, জাহাঙ্গীর আলম শোভন
06. বিস্মৃত শিল্পী কে মল্লিক ও তার আত্মজীবনী: আবুল আহসান চেীধুরী।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY