কোরআনে নোকতা

0
202

কোরআনে নোকতা
হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

আরবদের মধ্যে আগে আরবী বর্ণমালায় নোকতা সংযোজন করার কোনো রীতি প্রচলিত ছিলো না। তারা নোকতাবিহীন অক্ষর লেখতো। এতে কোরআন শরীফ তেলাওয়াতের ব্যাপারে কোনো অসুবিধা হতো না। কেননা কোরআনের তেলাওয়াত কোনদিনই অনুলিপিনির্ভর ছিলো না। হাফেযদের তেলাওয়াত থেকেই লোকেরা তেলাওয়াত শিক্ষা করতো। হযরত ওসমান (রা.) যখন মুসলিম জাহানের বিভিন্ন এলাকায় কোরআনের ‘মাসহাফ’ প্রেরণ করতেন, তখন তার সাথে তিনি বিশিষ্ট তেলাওয়াতকারী হাফেযদেরও পাঠাতেন। সে যুগে আরবী বর্ণমালায় নোকতা সংযোজন করা দূষণীয় কাজ মনে করা হতো। এ কারণেই ওসমানী মাসহাফেও প্রথম দিকে কোনো নোকতা ছিলো না। এতে করে প্রচলিত সব কয়টি কেরাতেই কোরআন তেলাওয়াত করা সহজ হতো, কিন্তু পরে অনারব লোকদের প্রয়োজনে আরবী বর্ণমালায় নোকতা সংযোজন একান্ত জরুরী হয়ে পড়ে।
কোরআনুল কারীমের হরফসমূহে কে সর্বপ্রথম নোকতার প্রচলন করেছিলেন এ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। কোনো কোনো মতে বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ তাবেয়ী হযরত আবুল আসাদ দুয়েলী (র) এ কাজটি সর্বপ্রথম আনজাম দেন। অনেকে মনে করেন, আবুল আসাদ দুয়েলী এ কাজটি হযরত আলী (রা.)-এর নির্দেশেই স¤ক্সাদন করেছেন।
কারো মতে কুফার শাসনকর্তা যিয়াদ বিন আবু সুফিয়ান আবুল আসাদের দ্বারা এ কাজটি সম্পন্ন করিয়েছেন। আবার অন্যদের মতে তিনি এ কাজ আব্দুল মালেক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশে স¤ক্সাদন করেছেন। অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী হাজ্জাজ বিন ইউসুফ এ কাজটি হযরত হাসান বসরী (র), হযরত ইয়াসের ইবনে ইয়ামার এবং নসর বিন আছেম লাইসীর দ্বারা সম্পন্ন করিয়েছিলেন।
অনেকে আবার এ অভিমতও প্রকাশ করেছেন যে, যিনি কোরআনের হরফসমূহে নোকতা সংযোজন করেছেন তিনি সর্বপ্রথম আরবী বর্ণমালায়ও নোকতার প্রচলন করেন। প্রখ্যাত বর্ণমালা বিশেষজ্ঞ ও সাহিত্যিক আল্লামা কলশন্দী এ অভিমতের প্রতিবাদ করে বলেছেন, মূলত এর বহু আগেই আরবদের মাঝে নোকতার আবিষ্কার হয়েছে। তাঁর মতে আরবী লিখন পদ্ধতির আবিষ্কারক ছিলেন মোয়ামের ইবনে মুরার, আসলাম ইবনে সোদরাহ এবং আমর ইবনে জাদারা নামক এ তিন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে মোয়ামের হরফের আকৃতি আবিষ্কার করেন। পড়ার মাঝে থামা, শ্বাস নেয়া এবং একত্রে মিলিয়ে পড়ার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহও তিনি আবিষ্কার করেন। আরেক বর্ণনায় হযরত আবু সুফিয়ানকে নোকতার আবিষ্কারক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তাঁদের মতে তিনি নোকতার এ পদ্ধতি হীরাবাসীদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন, আর এ হীরাবাসীরা তা গ্রহণ করেছিলেন আম্বারবাসীদের কাছ থেকে। এতে বুঝা যায় পরবর্তীকালে যে ব্যক্তির মাধ্যমে কোরআনের নোকতার প্রচলন শুরু হয়, প্রকৃতপক্ষে তিনিই এই নোকতার মূল আবিষ্কারক নন; বরং তিনি ছিলেন কোরআনে সর্বপ্রথম নোকতার প্রচলনকারী মাত্র।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY