কাংখিত ইসলামী সমাজ

0
287

কাংখিত ইসলামী সমাজ ও বাস্তবমূখী কর্মসূচী
হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

গত অর্ধ শতক ধরে দুনিয়ার বহু দেশেই ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হয়েছে। কিছু কিছু আন্দোলন বৈষয়িক দিক থেকে সফলতার দ্বারপ্রাšে পৌঁছেও পুরোপুরি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। আবার কিছু কিছু আন্দোলন বৈষয়িক দিক থেকে সফলতার ধারে কাছে পৌঁছতে না পারলেও নিজস্ব কর্মসচী কর্মনীতির কারণে পরবর্তীকালের মানুষদের জন্যে অনেক মল্যবান আদর্শ রেখে গেছে।
আমাদের সময়ের ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এদের উভয়ের উত্তরাধিকারকেই আমাদের জন্যে মল্যবান স¤পদ মনে করতে হবে। এদের উভয়ের কাছ থেকেই আমাদের নিজেদের চলার পথের পাথেয় যোগাড় করতে হবে। খোলাফায়ে রাশেদীনের পর থেকে আজ পর্যš এ সাড়ে চৌদ্দশ বছর সময়ের মধ্যে আরব আজমে অনেক কয়টি ইসলামী আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। এদের সবার ব্যর্থতা সফলতার ওপর ভারত উপমহাদেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতার পর্যালোচনামলক মল্যবান একটি পু¯ক আছে। আমি আপনাদের সবাইকে পুনরায় সেটি পড়তে অনুরোধ করবো। এ বই থেকে আমি আমার সচেতন পাঠকদের মাত্র ৩টি আন্দোলন স¤পর্কে ভালো করে পড়তে অনুরোধ করবো। এ ৩টি আন্দোলন ইতিহাসের ৩টি স্বতš ভূখণ্ডে ৩টি ভিন্নধর্মী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
এর প্রথমটি হচ্ছে সপ্তম শতকের ইমাম ইবনে তাইমিয়া,
দ্বিতীয় হচ্ছে চতুর্দশ শতকের মোজাদ্দেদে আলফে সানী ও
সর্বশেষে ঊনবিংশ শতকের বদিউয যামান নরসীর ঐতিহাসিক আন্দোলন।
আমার সচেতন পাঠকরা এতোক্ষণে নিশ্চয়ই ভাবতে শুরু করেছেন, উম্মতের এ দীর্ঘ ইতিহাস থেকে মাত্র ৩টি আন্দোলনের কথা আমি কেন বললাম। এ বইয়ের পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো পড়তে পড়তে আশাকরি তা পাঠকদের কাছে এমনিই পরিস্কার হয়ে যাবে। আমার বক্ষমাণ এ পু¯কের পরিসর নিতাš সীমিত। এই সীমিত পরিসরে বিশ্বের এ ৩টি গুরুত্বপর্ণ আন্দোলনের বি¯ারিত পর্যালোচনা করা সম্ভব নয়। এ কারণেই আমি পাঠকদের বড়ো বইটি পড়তে অনুরোধ করেছি। এর সাথে আরেকটি বিষয় আমি আমার পাঠকদের সম্ভব হলে পড়তে বলবো, অবশ্য এ বিষয়ের ওপর সম্ভবত এখনো তেমন কোনো বই পু¯ক রচিত হয়নি। এগুলো জানার জন্যে বিজ্ঞ পাঠকদের সা¤প্রতিক কালের পত্র পত্রিকার সাহায্যই বেশী নিতে হবে।

আমাদের ব্য¯ জীবনের কিছুটা সময় বের করতে হবে। বের করে কাগজ কলম নিয়ে চলুন আমরা কঠোর কিছু বা¯বতা নিয়ে কথা বলি। আমাদের ৫৪ হাজার বর্গমাইলের ১৬ কোটি মানুষের এই দেশটির কি কি সমস্যা আছে। তাদের কোন্ কোন্ সমস্যা সমাধানের জন্যে আপনি চান এ যমীনে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হোকÑ সেগুলো আমরা একে একে শনাক্ত করি।

আমাদের দেশের সমস্যাগুলো প্রধানত দু ধরনের,
এক ধরনের সমস্যা হচ্ছে আমাদের দ্বীন ঈমানের। আমরা যেহেতু মুসলমান। মুসলমান হিসেবে আমরা চাই আমাদের দেশের আইন কানুন, বিধি বিধান, সবকিছু ইসলামের নিয়ম মোতাবেক চলুক। মুসলমানদের দেশে মুসলমানরাই পরদেশী হবে, তাদের নিজেদের আইন কানুন, সভ্যতা সংস্কৃতি থেকে দরে রাখার ষড়যš করা হবে, আর মুসলমানরা নতজানু হয়ে দুশমনদের ষড়যš মাথা পেতে নেবে, এটা কখনো হতে পারে না। এই মুসলমানদের ইসলামের পথে চালানোর জন্যে দেশে অবিলম্বে একমুখী ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা, ন্যায়ানুগ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশে কোরআন সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন রচনা করা হবে নাÑ একথা বলাই যথেষ্ট নয়, কোরআন সুন্নাহ দিয়েই দেশ ও রাস্ট্র পরিচালনা করতে হবে এবং এ পথের যাবতীয় বাধা বিপত্তি দর করে দেশে ইসলামের পক্ষে একটা ইতিবাচক পরিবেশ কায়েম করার চেষ্টা করতে হবে। মুসলমান হিসেবে এ কাজগুলো আমাদের করতেই হবে। এগুলো আমাদের করতে হবে মুসলমান হিসেবে এ যমীনে নিজেদের অ¯িত্ব বজায় রাখার স্বার্থেই। মুসলমান না হলে এ সমস্যাটা আমাদের থাকতো না।

দ্বিতীয় ধরনের সমস্যা হচ্ছে আমরা মানুষ, মানুষ হিসেবে অন্য মানুষদের মতো আমাদেরও কিছু প্রয়োজন আছে, আছে কিছু মৌলিক সমস্যা।

পৃথিবীতে যেদিন আল্লাহ তায়ালা প্রথম মানুষ পাঠিয়েছেন, সেদিন থেকে শুরু করে আজ পর্যš প্রত্যেক মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো কিšু একই ধরনের। যুগে যুগে মানুষের সমস্যার ধরন হয়তো কিছুটা বদলেছে; কিšু সমস্যার মৌলিক চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সর্বকালের সব মানুষের মৌলিক সমস্যা যদি কয়েকটি শব্দে বর্ণনা করা যায় তাহলে বলতে হবেÑ মানুষকে ক্ষুধা নিবারণের জন্যে খেতে হবে, লজ্জা নিবারণের জন্যে কিছু পরিধান করতে হবে, মাথা গোঁজার জন্যে তাকে মাথার ওপর ছায়া হিসেবে একটু জায়গা দিতে হবে। অসুস্থ হলে চিকিৎসা দিতে হবে। সর্ব শেষে মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকার জন্যে শিক্ষা দিতে হবে। এ ৫টি হচ্ছে প্রত্যেক মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। এর বাইরে যেসব প্রয়োজন আছে তার তালিকা যতো বড়োই আপনি করুন না কেন, এর কোনোটাই মৌলিক প্রয়োজনে পড়ে না। এর কোনোটাই এমন নয় যা ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না।

এ কারণেই সৃষ্টির শুরু থেকে প্রতি যুগেই নবী-রসলগণ, তাদের অনুসারী সমাজসংস্কারক ও রাজনৈতিক নেতারা মানুষের এ ৫টি প্রয়োজন পরণের জন্যে চেষ্টা সাধনা করেছেন। মানব জাতির পুরো ইতিহাসে আল্লাহ তায়ালা যতো নবী রসল পাঠিয়েছেন, তারা মানুষের এই মৌলিক সমস্যা সমাধান করার কথাই আগে বলেছেন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মো¯ফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম নিজেও মানুষের এসব সমস্যার প্রতি সবার আগে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি তো প্রায়ই বলতেন, আমি সে ব্যক্তির অভিভাবকÑ যার কোনো অভিভাবক নেই। এখানে আল্লাহর রসল নিজের কথা বলে মলত ইসলামের রাষ্ট্র ও প্রশাসনকেই বুঝিয়েছেন। অপর কথায় ব্যক্তি মানুষের এ ৫টি মৌলিক প্রয়োজন পরণ করার জন্যেই ইসলামে, রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থা প্রয়োজন। এখন কোনো সমাজে যতোক্ষণ পর্যš এই ৫টি মৌলিক প্রয়োজন পরণ করার মতো পুরোপুরি ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততোক্ষণ পর্যš যারা সে সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজ করবেন তাদের সাধ্যমতো এ কাজের চেষ্টা সাধনা করে যেতে হবে, আর এজন্যে আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারীমে ও প্রিয় নবী তাঁর হাদীসে মুসলমানদের জন্যে কিছু অপরিবর্তনীয় কর্মসচীও তৈরী করে দিয়েছেন।

ইসলাম প্রদর্শিত এই কর্মসচীটি এমন, কোথাও ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা সমাজ ব্যবস্থা কায়েম হলে এটা যেমন হবে সে রাষ্ট্রযšের মাস্টার প্ল্যান, তেমনি রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েমের আগ পর্যš ইসলামী আন্দোলনেরও এটা হবে ‘মাস্টার প্ল্যান’। এ কর্মসচী দিয়েই আল্লাহর নবী ও তাঁর প্রথম কাতারের সাথী খোলাফায়ে রাশেদীন একটি কল্যাণমলক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমাদের ইতিহাসের একটা বিরাট অংশ জুড়ে যখন নিবেদিতপ্রাণ মুসলমানরা তাদের স্ব স্ব সমাজে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করার আন্দোলন চালিয়েছিলেন, তখন তারাও এ কর্মসচী আঞ্জাম দিয়েছিলেন।
ইসলাম প্রদর্শিত এই যুগাšকরী ও বিপ্লবাত্তক কর্মসচীর নাম হচ্ছে ‘মডেল যাকাত ভিলেজ’।

আমার পাঠকরা জীবনে হাজার বার এ শব্দটি শুনেছেন। এর ফযীলত সম্বলিত নেতা উপনেতাদের অসংখ্য বক্তৃতা শুনেছেন। বই পু¯কও কম পড়েননি। সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ফাউন্ডেশানের যাকাত সংগ্রহের সাথেও আপনার পরিচয় আছে। যাকাতের কথা বললেই আপনার আমার সামনে গ্রামের ও শহরের এমন শত শত দৃশ্য ভেসে ওঠে, যেখানে কিছু শাড়ী লুংগির জন্যে ছিন্নমুল নর নারীরা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। অথবা আপনার সামনে ভেসে ওঠবে কিছু মাদ্রাসার ছাত্র কিংবা শিক্ষকরা লিল্লাহ বোর্ডিং-এর রসিদ বই হাতে বড়ো লোকের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অথবা কোরবানীর ঈদের সময় মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের গরু ছাগল যবাইর বড়ো বড়ো ছুরি, চাকু হাতে ঘুরতে দেখবেন। তারা আপনার কোরবানীর পশু যবাই করে চামড়া তাদের মাদ্রাসার জন্যে নিয়ে যাবেন, আবার পাড়ায় পাড়ায় এ মর্মে পোস্টারও দেখা যাবেÑ ‘আপনার চামড়া অমুক মাদরাসায় কিংবা অমুক এতিমখানায় দান করুন’।

এই পরিপার্শ্বিকতায় যখন আমি আপনাদের কাছে যাকাতের কথা বলবো তখন আপনার সামনে এ চিত্রগুলো ভেসে ওঠা মোটেই অসম্ভব নয়, কিšু কিছুক্ষণের জন্যে আমি সেসব দৃশ্য থেকে আপনার দৃষ্টি এদিকে নিবদ্ধ করতে অনুরোধ জানাবো।
ইসলামে যাকাত শুধু যে একটি গুরুত্বপর্ণ এবাদাত তাই নয়। এটা হচ্ছে মুসলিম সমাজের সোস্যাল ইনসিউরেন্সÑ আলটিমেট নিরাপত্তার গ্যারান্টি। এটা এমন এক ব্যবস্থা, যার যথাযথ ব্যবহার সমাজ থেকে সব ধরনের দারিদ্র দর করে একে একটি সুষ্ঠু ও মযবুত অর্থনৈতিক ভিত্তিমলের ওপর দাঁড় করাতে পারে। এ কারণেই বর্তমান সমাজ সংস্কৃতির আলোকে আমরা বিষয়টিকে একটি সমনি¦ত কর্মসচী হিসেবে পেশ করতে চাই। আমি আমার আগের পু¯কে (সাহস করে কিছু সত্য বলা প্রয়োজন) এ বিষয়ে কথা বলেছি। সেখানে বি¯ারিত পরিকল্পনা পেশ করা হয়নি। এ পর্যায়ে পরিকল্পনা পেশ করার আগে বৃহত্তর মানব সমাজের ৫টি মৌলিক সমস্যার পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষের অতিরিক্ত যেসব সমস্যা আছেÑ আমাদের সম্মানিত পাঠকদের সেসব সমস্যা স¤পর্কেও সু¤পষ্ট কিছু ধারণা থাকা দরকার।

আমাদের দেশের অতিরিক্ত সমস্যাগুলো অধিকাংশই মহিলাদের সাথে স¤পর্কিত। আমাদের মহিলাদের এসব সমস্যাসমহ কিছুটা ইউনিক এই অর্থে, ভারত বাংলাদেশ ও পাকি¯ানের বাইরে অন্য কোনো দেশের মহিলারা মনে হয় এসব সমস্যা খুব কমই সাফার করেন। যৌতুকের অভিশাপের কথাই ধরুন না! আমরা আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ধর্ম সংস্কৃতির প্রভাবেই যৌতুক নামের এই অভিশাপের সাথে পরিচিত হয়েছি।

আজ থেকে ৫০ বছর আগের বাংলাদেশটাকে একবার মনে করার চেষ্টা করুন। গ্রামে কোনো মেয়ের বিয়ে ঠিক হলে মুরব্বীরা আগেই বিয়ের ‘ফর্দ’ লিখতে বসে যেতেন। দীর্ঘ ফর্দে কনের জন্যে সব ধরনের জিনিসের তালিকা থাকতো। মোহরের টাকার কতো পরিমাণ আদায়, কতো পরিমাণ অনাদায়ী, কতো ভরি সোনার অলংকার, মেহমানদের তালিকা সবই লেখা থাকতো। যা কিছু লেখা অলেখা সবই ছিলো কনের জন্যে। ধীরে ধীরে অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকলো। বিশেষ করে ৭১ সালের দিকে যখন আমরা স্বাধীন হলাম, তখন কিছু বিজাতীয় রসম রেওয়াজ ও সংস্কৃতির এতো কাছাকাছি এসে গেলাম, এ কারণে তাদের সমাজের যৌতুকের অভিশাপসহ বিয়ের সানাই থেকে গায়ে হলুদ পর্যš অলমোস্ট সবকিছুতেই আমরা ইসলামী তরিকা বাদ দিয়ে তাদের নির্ভেজাল অনুকরণ করতে শুরু করলাম। দেখতে দেখতে যৌতুকের অভিশাপও আমাদের সমাজে চেপে বসলো।

এরপর আছে মহিলাদের ঘাড়ে তালাক নামক খড়গ। দরকারে বেদরকারে এক শ্রেণীর বাজে পুরুষরা নারীদের তালাক দিয়ে তাকে সমাজের অনুক¤পা ও দয়ার ব¯ুতে পরিণত করে দেয়। তালাকের ব্যাপারে ইসলাম প্রদর্শিত নিয়ম পদ্ধতি না মানার কারণে প্রতিবছর আমাদের হাজার হাজার নারী সমাজের নির্মম অবহেলার শিকারে পরিণত হয়। ইসলামের নিয়ম পদ্ধতি মেনে নিলে সমাজে তালাকের পরিমাণ যেমন অনেকাংশে কমে যাবে, তালাক ও তালাক পরবর্তী সময়ের জন্যে যেসব নিয়ম ইসলাম বানিয়ে দিয়েছে সেগুলো মেনে চললে, আমাদের দেশে তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের দুর্দশাও কমে আসবে
আমাদের মহিলাদের আরেকটি বড়ো সমস্যা হচ্ছে উত্তরাধিকার আইনের অপব্যবহার। এ পর্যায়ে মহিলাদের সাথে যেসব না ইনসাফী আজ করা হচ্ছে তা সর্বাংশে নির্মল করা যেতো, যদি ইসলাম আমাদের নারীদের স¤পত্তিতে যে অধিকার দিয়েছে তা আমরা নিশ্চিত করতে পারতাম। আপনি যে গ্রামে যে পরিবেশে বড়ো হয়েছেন, যে পরিবারে আপনি আরো ২/৪ জন ভাই বোন, চাচা চাচী, খালা খালু, ফুফা ফুফীর সাথে থেকে বড়ো হয়েছেন, আপনার জানামতে এদের একজনকেও কি আমাদের সমাজ স¤পত্তির সেই পরিমাণ অংশ প্রদান করেছে, ঠিক যে পরিমাণ অংশ ইসলাম তাকে দিয়েছে। ইসলাম যেখানে তাকে ভাইয়ের অর্ধেক দিতে বলেছে, সেখানে যখন সত্যিই সত্যিই দেয়ার পালা আসে তখন সে ভাই-ই নানা অজুহাত পেশ করে তাদের স¤পত্তি থেকে মাহরুম করার ষড়যš আঁটতে থাকে। এ ব্যাপারে আলেম ওলামা, ইংরেজী শিক্ষিত প্রায়ই সবা সমান। স¤পত্তি দেয়ার কথা উঠলে প্রথমে বলা হয়, মেয়েরা নাকি বাবার বাড়ির স¤পত্তি নেয় না। স¤পত্তি না দেয়ার জন্যে তাদের ১ লাখ টাকার স¤পত্তির জন্যে ৫/৭ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়া হয়। অন্যত্র স¤পত্তি বিক্রি করা হলে বাবার কষ্টার্জিত স¤পত্তিতে অন্য লোকেরা ভাগ বসাবেÑ এসব কথা বলে তাদের ইমোশনালী ব্ল্যাকমেইল করে অনেক ক্ষেত্রেই বিনামল্যে কিংবা নামমাত্র মল্যে তাদের কাছ থেকে যমীন লিখিয়ে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে এ মহিলাদের মনেই ইসলামের ইনসাফপর্ণ ও ‘মোস্ট সাইন্টিফিক ল অব ইনহেরিটেন্স’-এর ব্যাপারে নানা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
মহিলাদের সাথে এসব না-ইনসাফীর পাশাপাশি আমাদের পরিবারগুলোর ওপর আরো কিছু অপ্রত্যাশিত সমস্যা এসে আপতিত হয়। এর মধ্যে আছে সামান্য ব্যাপারেই থানা ও জেলা সদরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গিয়ে মামলা ঠুকে দেয়া। একবার মামলা মোকদ্দমা শুরু হলে এর পেছনে উকিল মুহুরীর ফি, বাস রিকসা ভাড়া, বাদী বিবাদী ও সাক্ষীদের হোটেল রেস্টুরেন্টের খাবার বিল এবং মামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের নানা উপরি খরচ।

ছেলে মেয়েদের বিয়ের খরচের পর পরিবারে, পেছনে রয়েছে পরিবার প্রধানের নানা দৌড়াদৌড়ি। সšান ও পরিবারের লোকদের পোশাক আশাকের পেছনেও অনেক অর্থ ব্যয় হয়। পরিবারে কোনো নতুন সদস্যের আগমন হলে তার কাপড় চোপড়, বেবী ফুড, বেবী পথ্য, ওষুধপত্র কিনতে হয়। আবার চাকরিরত হলে ট্রান্সফারজনিত ঝামেলায়ও মাঝে মধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়ে যায়।

ছেয়ে মেয়ে বিশেষ করে মেয়ের বিয়ের পর জামাই ও তার আপনজনদের মেহমানদারীর একটা বাড়তি খরচও পরিবারের ওপর বিরাট বোঝা হয়ে দেখা দেয়। হঠাৎ করে পরিবারের কেউ একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তার পেছনেও অনেক টাকা পয়সা খরচ হয়ে যায়। এসব কিছুর সাথে পরিবারের ওপর ইদানীং আরেকটা বড়ো খরচের চাপ পড়ে। কোনো না কোনো বছরে কারো না কারো বিদেশ যাবার বিরাট একটা খরচ এই পরিবারকেই যোগাতে হয়। তার সাথে আছে সড়ক, অগ্নি, লঞ্চসহ নানা দর্ঘটনা। আল্লাহ না করুন তেমনি কিছু ঘটলে তো একটি সম্ভাবনাময় পরিবারকে পথে বসা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY