কোরআন নাযিলের শুরু

0
340

কোরআন নাযিলের শুরু
কোরআন নাযিলের ছয় মাস আগে থেকেই আল্লাহ তায়ালা মোহাম্মদ (স.)-কে স্বপ্নের মাধ্যমে এ মহান কাজের জন্যে প্রস্তুত করে নিচ্ছিলেন। ইতিহাসের প্রমাণ অনুযায়ী প্রথম ওহী এসেছিলো রমযান মাসের ২১ তারিখ সোমবার রাতে। মোহাম্মদ (স.)-এর বয়স ছিলো তখন ৪০ বছর ৬ মাস ১২ দিন।
হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, প্রিয় নবী (স.)-এর ওপর ওহী নাযিলের সূচনা হয়েছিলো স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা দিনের আলোর মত তাঁর জীবনে প্রতিভাত হতো। এক টুকরো দৃশ্যমান নূর তাঁর অন্তরে সদা
ভাস্বর হয়ে থাকতো। জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে ওহী প্রাপ্তির আগে আস্তে আস্তে তিনি নির্জনতাপ্রিয় হয়ে ওঠেন, হেরা গুহায় নিভৃতে আল্লাহ তায়ালার ধ্যানে তিনি মশগুল হয়ে পড়েন এবং বিশাল সৃষ্টি ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন। এভাবেই হেরা গুহায় তাঁর রাত আর দিন কাটে। খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেলে সেসব নেয়ার জন্যেই তিনি শুধু বাড়ি ফিরেন। মাঝে মাঝে প্রিয় স্ত্রী খাদিজাও হেরা গুহায় তাঁকে খাবার দিয়ে আসেন। এমনি করে একদিন তাঁর কাছে আল্লাহর ফেরেশ্তা হযরত জিবরাঈল (আ.) এসে গম্ভীর কণ্ঠে তাঁকে বললেন, ‘ইক্রা” পড়ূন। মোহাম্মদ বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন। উদ্বেলিত কণ্ঠে বললেন ‘আমি তো পড়তে জানি না’। ফেরেশতা তাঁকে বুকে চেপে ধরে আবার বললেন, পড়ুন। তিনি পুনরায় বললেন, আমি তো পড়তে জানি না। ফেরেশ্তা আবার তাঁকে বুকে জড়িয়ে চেপে ধরলেন এবং বললেন, পড়ুন। তৃতীয় বার যখন ফেরেশতা তাঁকে বুকে আলিংগন করে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন, এবার মোহাম্মদ (স.) ওহীর প্রথম পাঁচটি আয়াত পড়লেন। অতপর তিনি ঘরে ফিরলেন। প্রিয়তমা ¯ীকে বললেন, ‘আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে চাদর দিয়ে ঢেকে দাও’। হযরত খাদিজা (রা.) প্রিয় নবীকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দিলেন। এরপর তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে আপনার? আপনি এমন কাঁপছেন কেন?
রসূল (স.) বললেন, একজন অভিনব ব্যক্তি আমার কাছে এসে আমাকে বললেন, পড়ূন। আমি বললাম, আমি তো পড়তে জানি না। তারপর তিনি তিন তিন বার আমাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন, অতপর তার সাথে আমি পড়তে শুরু করলাম। তার কথা শুনে খাদিজা (রা.) বললেন, আপনার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা আপনি মানুষের উপকার করেন, মানবতার সেবা করেন, এতীমদের আশ্রয় দেন, মহান আল্লাহ আপনার কি কোন ক্ষতি করতে পারেন!
খাদিজা (রা.) প্রিয় নবীকে তাঁর চাচাত ভাই ওরাকা ইবনে নওফেলের কাছে নিয়ে গেলেন। ওরাকা ইবনে নওফেল ছিলেন ঈসায়ী ধর্মের আলেম এবং হিব্র“ ভাষার পন্ডিত ব্যক্তি। সে সময় তিনি বয়সের ভারে ক্লান্ত এবং দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন। হযরত খাদিজা (রা.) বললেন, ভাইজান, আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। রসূল (স.) তাকে হেরা গুহার সব ঘটনার কথা বর্ণনা করলেন। শুনে ওরাকা বললেন, তিনি সে-ই দূত জিবরাঈল, যিনি হযরত মূসা (আ.)-এর কাছে ওহীর বাণী নিয়ে আসতেন। হায়, আমি যদি সে সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারতাম যখন তোমার কওমের লোকেরা তোমাকে জন্মভূমি থেকে বের করে দেবে। রসূল (স.) অবাক হয়ে বললেন, কেন আমাকে তারা মাতৃভূমি থেকে বের করে দেবে? ওরাকা বললেন, তুমি যে ওহী লাভ করেছো, এ ধরনের ওহী যখনই কোন নবী পেয়েছেন তাঁর সাথে এভাবেই স্বজাতির পক্ষ থেকে শক্রতা করা হয়েছে। যদি আমি সে দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকি তাহলে অবশ্যই আমি তোমার সাহায্যে এগিয়ে আসবো।

কোরআন লিপিবদ্ধকরণ
যখন থেকে কোরআন নাযিল শুরু হয়, সেদিন থেকেই আল্লাহর রসূল তা লিপিবদ্ধ করে রাখার জন্য পারদর্শী সাহাবীদের নিযুক্ত করতে আরম্ভ করেন। হযরত যায়দ বিন সাবেত (রা.) ছাড়া আরো ৪২ জন সাহাবী এ কাজে নিযুক্ত ছিলেন। এ সম্পর্কে রসূল (স.) বলেন, তোমরা কোরআন ছাড়া আমার কাছ থেকে অন্য কিছু লেখো না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY