জুমাবার , সম্পাদকীয়

জুমাবার , রামাদান, সম্পাদকীয়

0
189

জুমাবার
সম্পাদকীয়
আহলান ওয়া সাহলান শাহরু রামাদ্বান

হাজার বছর ধরে যে ভাবে মুসলমানদের কাছে রমযান মাস আসে এবারও ঠিক সেভাবেই বছর ঘুরে আমাদের দোর গোড়ায় এসে হাযীর হলো রামাদ্বানুল মোবারক। এই গ্রহের পৌনে ২বিলিয়ন মুসলমানের সাথে আমরাও বলি আহলান ওয়া সাহলান শাহরু রামাদ্বান।
কিন্তু রামাদ্বানুল মোবারকের জন্যে সভাবত এই স্বাগত সম্ভাসন আহলান ওয়া সাহলান বা এই ওয়েল কামের চাইতে যেটা বেশী জরুরী তা হলো রামাদ্বানুল মোবারককে একান্ত নিজের করে নেয়া এবং নিজেকেও রামাদ্বানের মতো করে নেয়া। রামাদ্বানকে নিজের মতো কওে নেয়ার সহজ অর্থ হলো বছরের ১১ মাস পর যে মাসটি আমাদের কাছে এলো তার মূল বিষয়গুলোর সাথে নিজেকে আত্বস্থ করে নেয়া। প্রিয় নবী (সঃ)-র ভাষায় রামাদ্বান আসে মানুষের মানবীয় গুণের বিকাশ ঘটিয়ে যাবতীয় পাশবিক চরিত্রের বিনাশ ঘটাতে। রামাদ্বান আসে জান্নাতের সাথে মানুষের দুরত্ব কমাতে এবং জাহান্নামের সাথে দুরত্ব বাড়াতে। এই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট নিয়ে প্রতি বছর মাসটি আসে, তার আগমনের আগেই তার সাথে দেনা পাওনার হিসাব করে নেয়াটা জরুরী নয় কি ? এই হিসাব –নিকাশ করাটাকেই প্রিয় নবী (সঃ) এহতেসার বলেছেন এবং এই এহতেসার কিংবা আত্বসমালোচনাকেই সমস্ত অর্জনের মূলকথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যাবতীয় সাফল্যের ও পাওনার চাবিকাঠি হচ্ছে এখানে। যদি এই বিষয়টি যথাযত অর্জিত না হয় তবে বাকী অর্জনগুলো কোনো কাজেই আসবেনা, আবার এই একটি জিনিস ঠিকমত অর্জন করতে পারলে অন্যান্য বিষয়গুলো এমনি এমনি অর্জিত হয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সেটুকু অর্জনের তাওফিক দান করুন, (আমিন)।
আমাদের এই গ্রহে ৭ বিলিয়নের উপর মানুষের বাস এর মধ্যে ভালো মুসলমান ও আদম শুমারির খাতায় নামকাওয়াস্তে মুসলমান মিলিয়ে মুসলমানের সংখ্যা পৌনে ২ বিলিয়নের মতো, এদের সবার জীবনে একটি বার্তা নিয়ে প্রতি বছর রামাদ্বান আসে। এবারের মতো গতবারওতো এ মাসটি এসেছিলো, এই পৌনে ২ বিলিয়ন মানুষের জীবনে, রামাদ্বানের প্রথম দিন আর শেষ দিনের মধ্যে পরশ পাথর এসেছিলো কিনা ঘরে ঘরে- ঘুরে ঘুরে সে তথ্য আমাদের কারো পক্ষেই সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি-সেটা সম্ভবও ছিলোনা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে আমাদের এ জাতিটার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের দিকে তাকালে একথাটা বলার জন্যে খুব বেশী একটা সাহসের দরকার নেই যে-না আমরা নিজেদের মোটেই বদলাতে পারিনি। রামাদ্বান এসেছে, রামাদ্বান চলে গেছে কিন্তু আমরা যা ছিলাম তাই আছি, সম্ভবত আগামী বছরও তাই থাকবো। এই জাতিটার কথাই আল্লাহ তায়ালা সুরা আর রাফে ¬( আয়াত….) বলেছেন,আল্লাহ তায়ালা কখনো কোনো জাতির অবস্থা বদলে দেননা-যতোক্ষণ না সে জাতি নিজেরা নিজেদের বদলে না দেয়।
আল্লাহ তায়ালা মানুষদের জীবন বদলে দেযার কর্মসূচী হিসেবে আমাদের জন্য কোরআনুল কারীম পাঠিয়েছেন, পাঠিয়েছেন নিজের এবং নিজের আশে পাশে যারা আছে,তাদের সবার জীবনকে বদলে দেয়ার জন্য। কিন্তু আমরা যারা নিজেদের কোরআনের অনুসারী মনে করি তারা মানষের জীবন বদলে দেয়ার এই কর্মসূচীকে নিজেদের ঘরের বুক সেলফ থেকে বের করে কখনোই নিজেদের জীবনে প্রয়োগ করি নাই। যে মহান গ্রন্থকে আমরা সমাজ-দেশ দেখতে দেইনি তাকে মানুষের ব্যবহারিক গ্রন্থ আমরা বানাবো কি করে ? এই গ্রন্থের সাথে আমাদের আরেকটি বড়ো ট্রাজেডি ছিলো-আমরা এই গ্রন্থকে সাধারন মানব গোষ্টির কাছে প্রত্যেকের আপন আপন ভাষায় পৌছাতে মর্মান্তিকভাবে ব্যর্থ হয়েছি। আর বলতে গেলে এই ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে আজ পৌনে ২ বিলিয়ন মুসলমান একটি স্ফ্যালিটন হয়ে দুনিয়ার বুকে দাড়িয়ে আছে। বিশ্বের ৭ বিলিয়ন মানুষের কাছে কোরআন পৌছানোতো আরো বড় কথা –আমাদের নিজেদের ভাষায় যারা কথা বলে সে ৩০০ মিলিয়ন বাঙ্গালীদের কাছেও কোরআন পৌছাতে পারিনি। আরো সত্য করে বললে বলতে হয আমরা সে চেষ্টা করিনি এবং চেষ্টা করা যে প্রয়োজন তাও অনুভব করিনি। আর করিনি বলেই আজ ৩০০ মিলিয়ন মানুষের জীবন থেকে এই গ্রন্থ দ্রুত প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে।
বলে রাখা ভালো, কোনো জাতীর জীবন থেকে তাদের কাছে রক্ষিত আল্লাহর কিতাবকে নির্মমভাবে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা যারা করেছে তার্্াই আল্লাহর গযবে বিনাশ হয়ে গেছে। এমনি মহা বিপর্যয় থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদের রক্ষা করুন। আল্লাহ তায়ালা আল কোরআন একাডেমী ল-ন-এর ঘরে ঘরে কোরআন পৌছে দেয়ার কর্মসূচীকে কবুল করুন এবং আমাদের জাতিকে আসন্ন মহা বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করুন,(আমিন)।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY