বই পড়া: ভালো বই

বই পড়া

0
2085

বই পড়া: ভালো বই
জাহাঙ্গীর আলম শোভন

বই পড়া সম্পর্কে জ্ঞানী স্পণী মনীষীরা অনেক কথা বলেছেন। স্কুল কলেজ বিশ^বিদ্যালয়, মাদরাসা মক্তব কোচিং-এ ব্যাপারে অনেক উপদেশ দেয়া হয়। একথা তো সত্যি যে, জগদ্ভিখ্যাত সফল মানুষগুলোর সাফল্যের পেছনে বইয়ের ভূমিকা রয়েছে। তাদের সাফল্য এমনই যে, তারা একসময় নিজেরাও এক একটা বইতে পরিণত হয়ে গেছেন। অর্থাৎ তাদের সাফল্য আজ বইয়ের পাতায় পাঠ্য হিসেবে স্থান পেয়েছে। আবার একথাও সত্যি যে জগৎ সংসারে আজ যেসব বড়ো সংকট তা বই পড়ুয়া লোকদেরই তৈরী করা। প্রশ্ন হচ্ছে যে বইতে জীবন গঠন ও আত্মপরিচয়ের সন্ধান মিলে সে বই পড়ে মানুষদের সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে না কেন?

বিশে^র জ্ঞানের ভান্ডার বর্তমানে এতোই বিশাল যে, তা ভালোমন্দের নীতি নৈতিকতার এবং কল্যাণ আকল্যাণের সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে জগতের সমস্ত ভালো চিন্তার পাশাপাশি নোংরা মতাদর্শ, বিভ্রান্ত সামাজিক চিন্তা, নম্ভ নির্দেশনা, ভ্রান্ত উম্মাদনা, কলুষিত ভাবনা সবই বইয়ের মাধ্যমে মানুষের মনোজগতে প্রভাব ফেলছে। যারা বই লিখছে তাদের ব্যক্তিচিন্তায় যা কিছু ত্রুটি যা কিছু অসংলগ্নতা তা বইয়ের কালো কালো অক্ষরে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। শুধু মাত্র বাংলাভাষার দিকে তাকালেও আমরা বিষয়টি বুঝতে পারবো। পথভ্রষ্ট উচ্ছৃ্খংল নাস্তিক এবং আল্লাহদ্রোহীদের পুস্তকের পাশাপাশি নানা ব্লগ ও পোস্টে ইন্টারনেট সয়লাভ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয় যারা নীতি নৈতিকতা এমনকি ধর্মীয় বিষয় নিয়ে লেখেন তাদেও বিরুদ্ধেও অভিযোগ কম নয়। তারা অনেকে মনগড়া, হিংসাপূর্ণ ও ভ্রান্ত মতবাদ ছড়ান, অনেকে নিন্মমানের ও চরিকরা লেখা লেখেন। ইত্যকার নানা সমস্যা।
তাই আজ প্রয়োজনÑ ভালো বই পড়া, সঠিক বই পড়া, সঠিক ভাবে বই পড়া, নিজের এবং পরিবারের জন্যে সঠিক বইটি বাছাই কর্।া
বই কেন পড়বেন?
প্রথম কথা হলো জানার জন্য পড়া এছাড়া বই আমাদের মানষিক প্রক্রিয়াকে সচল রাখে। চিত্তকে প্রফুল্ল করে। মনকে উদার ও সহনশীল করে। মেজাজী লোককে শান্ত থাকতে সাহায্য করে। নিজস্ব একটি দৃষ্টিভঙ্গি তৈরীতে ভূমিকা রাখে। চিন্তার খোরাক জাগায়। দক্ষতা বৃদ্ধির ভিত্তি তৈরী করে। মেধাকে শানিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ করে।ে বুদ্ধির ধার বাড়িয়ে দেয়। পাঠককে অন্যের সামনে উপস্থাপন করার জন্য যোগ্য করে তৈরী করে।
আপনার সময়ের সঙ্গী হতে পারে বন্তই । বই মানুষের জীবনে শৃংখলা আনে। মানুষের জীবনে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। বই একজন মানুষকে আ—গমযাদাশীল ব্যক্তিত্ববান করে গড়ে তোলে। বইয়ের সঙ্গ পেলে অন্য বাজে কাজে জড়িত হওয়ার সুযোগন্ত থাকেনা। বই পাঠে শব্দভাস্কার সমৃদ্ধ হয়। অন্যের মতের প্রতি শন্দদ্ধাবোধ তৈরী হয়। নতুন চিন্তার মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকশিত হয়।

কি ধরনের বই পড়বেন ?
১। বিষয়বস্তু বাছাই করে যখন যে বিষয় প্রয়োজন, সে বিষয়ের বই পড়া উত্তম। আর গল্প কবিতা উপন্যাস অবসরের মনের খোরাকের জন্য পড়া ভালো। আজকাল সব বিষয়ে বই পাওয়া যায়। একজন মা যতই জানেন তবুও সন্তান লালন পালন বিষয়ে তিনি একটি বই পড়তেই পারেন।
২। অবশ্যই কোনো অনৈতিক বিষয়ের বই পাঠ থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ নিরপেক্ষতা মানেই নীতিহীনতা নয়। এটা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য বেশী জরূরী। প্রাপ্ত বয়স্করা তাদের প্রয়োজনে যেকোন বিষয় জানার জন্য পড়তে পারেন।
৩। আদর্শিক চিন্তাকে ধারণ করে এ ধরনের বই আগে খুজতে হবে।
৪। গল্প উপন্যাস কবিতার ক্ষেত্রে লেখকের ব্যাকগ্রাউন্ড ও মতাদর্শ সম্পর্কে খবর নিয়ে বই কিনতে হবে। তাতে লেখকের চিন্তাটা গ্রহণ করা বাাদ দেয়া সহজ হবে।
৫। প্রবন্ধ পড়ার সময় বিষয় এবং লেখক দুটোই বিবেচনায় নেয়া জরুরী। এবং নোট নিতে পারলে আরো ভালো।
৬। আজকাল নতুন প্রজন্মের পাঠকরা গোয়েন্দা গল্প, রহস্য উপন্যাস এবং বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী পড়তে পছন্দ করে। এসব পড়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে ঈমান আকীদা বিরোধী ও শেরকী কোনো ব্যাপার আছে কিনা থাকলে তা লেখক এবং প্রকাশককে জানাতে হবে অন্য পাঠকদের এ বিষয়ে সচেতন করে নিতে হবে।
এসবে রাস্ট্র ও মানবতা বিরোধী এমনকি আমাদেও সামাজিক নৈতিকতার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয় থাকলেও সতর্ক হতে হবে। কৌশলে জঙ্গিবাদ প্রচার করা হচ্চে কিনা তা দেখলে এ ব্যাপাওে অন্যদেও সচেতন করতে হবে।
৭। যারা ধর্মকে মানতে চান ও জানতে চান তাদেরকে কোরআন হাদীস, অনুবাদ ও ইসলামী বইয়ের অভ্যাসটা ধরে রাখতে হবে এবং সেটা নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে। কারণ না জেনে কোনো কাজ ভালেভাবে করা যায়না।

কি ধরনের বই উপহার দেয়া ভালো বা সংগ্রহ করবেন?

প্রথমত
১. প্রত্যেকের ঘরে যদিও কোরআন থাকে তথাপি একটি সুন্দর বাংলা অনুবাদসহ কোরআন রাখা উচিত। এটা নিয়মিত পড়া দরকার এবং প্রয়োজনে বিষয়ভিত্তিক সূচী ধরে কোরআনের বিভিন্ন নির্দেশনা জেনে নেয়া প্রয়োজন। যিনি মুসলিম নয় তিনিও কোরআন পড়তে পারেন। কারণ কোরআন মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে নাযিল হয়নি। কোরআন নাযিল হয়েছে সমগ্র মানবজাতির জন্য সেকথা কোরআনেই লেখা আছে।
২. আর আপনি অন্য ধর্মানুসারি হলে আপনার ধর্মগ্রন্থসমূহ পড়বেন। মানার জন্যতো পড়বেন অবশ্যই এমনকি আপনি যদি আপনার ধর্ম না মানেন বা প্রাকটিস না করেন তাও পড়বেন। কারণ আপনি নিশ্চই ঘর পরিষ্কার করার সময় কি লেখা আছে না পড়ে কোনো কাগজ ডাস্টবিনে ফেলে দেন না।

৩. যারা ইসলামকে বুঝতে চান তাদেও জন্য একসেট তাফসীর থাকলে আরো ভালো – বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা জানার সুযোগ থাকে।একাধিক তাফসীর থাকলেতো আরো ভালো। তাফসীর হলো কোরআনের ব্যাখ্যা।
৪. প্রিয় নবীর ২/৩টি জীবনী থাকা দরকার এগুলো পরিবারের সবার পাঠ্য তালিকায় থাকা উচিত। সাথে সাথে সাহাবায়ে কেরাম ও মুসলিম মনীষীদের জীবনী জানা উচিত। তবে অথেনটিক বই কিনবেন অবশ্যই দাম বেশী হলেও। কম দামের জন্য বিভ্রান্তিমূলক কোন বই কিনবেন না।
৫. ইসলামকে পূর্ণভাবে বুঝতে হলে প্রয়োজনীয় হাদীসগুলোর সংকলন থাকা জরুরী। দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছুই তাতে জানা যাবে।
৬. মহান মানুষদের জীবনী নিজে পড়বেন অন্যদেও পড়তে বলবেন, উপহার দেবেন এবং শিশুদের অবশ্যই পড়াবেন।
৭. আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও সঠিক ইতিহাস ও মুক্তিযোদ্ধাদেও অবদান বিষয়ক বই হাতের কাছে রাখবেন। রাখবেন দেশের প্রয়োজনীয় তথ্য বা ম্যাপ। ভ্রমণ সংক্রান্ত বইও আপনার পাঠ্যতালিকায় থাকা উচিত।
৮. আপনার থাকা উচিত বাংলা ও ইংরেজী একাধিক অভিধান। প্রতি মুহুর্তে এটা আপনার দরকার হতে পারে।
৯. এক একাধিক দৈনিক পত্রিকার কথাও আপনি ভুলে যেতে পারেন না।
দ্বিতীয়ত: আরো জরুরী বিষয়ের বই থাকলে আপনার জীবন সহজ হয়ে যেতে পারে। যেমন-
১. ছোটখাটো অসুখ বিসুখ নিরাময় ও প্রাথমিক চিকিৎসা সংক্রান্ত
২. ভালো ছাত্র ও পরীক্ষায় ভালো নাম্বার পাওয়া বিষয়ক
৩. মা, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের যতœ সংক্রান্ত
৪. জমি জমা ও সাধারণ জানা দরকার এমন আইন বিষয়ক বই
৫. দেশ বিদেশের ইতিহাস ও সাধারণ জানের বই।
৬. আপনার চাকরী ও পেশা সম্পর্কিত বই।
৭. মানষিক রোগ, মানষিক সমস্যা এ জাতীয় বই সংগ্রহে রাখুন প্রয়োজনে কাজে লাগবে।
৮. ইংরেজী শিক্ষার এক বা একাধিক বই রাখতে পারেন। বলাতো যায়না কোন সময় কাজে লাগবে।
৯. আপনি বই কিনে তৃতীয় কোন ভাষা শিক্ষার অল্প আয়োজন রাখতে পারেন। মাতৃভাষা এবং ইংরেজীর সাথে আজকাল তৃতীয় ভাষা শেখা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্য বিষয়।

তৃতীয়ত: বই পড়াটাকে যদি আপনি অভ্যাসে পরিণত করতে পারেন তাহলে এটা আপনার জন্য একটা টনিক বা ঔষধের কাজ করবে। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার পুস্তক তালিকা দীর্ঘ করতে পারেন।
১. বিশ্লেষণ ধর্মী অন্যান্য কিছু পুস্তক থাকতে পারে। গল্প কবিতা উপন্যাসের ক্ষেত্রে সতর্ক থেকে পুস্তক তালিকা ঠিক করতে হবে।
২। জীবনমূখী বই পড়তে একদম ভুলে যাবেন না। মনে করুন জীবনটা একটা পাঠশালা আপনি সেই পাঠশালার ছাত্র আপনার কিছু পাঠ্যবই আছে। এক্ষেত্রে যেসব বিষয় পড়তে পারেন।
৩. কৌতুক, ম্যাজিক, রম্য এ জাতীয় বইগুলো আপনার বিষন্ন সময়ের সাথী হতে পারে।
৪. আপনি কয়েকটি দরকারী ম্যাগাজিনের সারা বছরের গ্রাহক হয়ে যেতে পারেন। এগুলো আপনাকে কাজে দেবে। যেমন একটি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ম্যাগাজিন, একটি মেডিক্যাল ম্যাগাজিন একটি জীবনমুখী ম্যাগাজিন। এবং আপনার পেশাভিত্তিক কোনো ম্যাগাজিন। যেমন রাজণীতি, ব্যবসা, ছাত্র, ইত্যাদি। মাত্র ৫০-১০০ টাকার মাসিক বাজেট যা আপনার একদিনের যাতায়াত ভাড়াও হয়তো না। কিন্তু এগুলো আপনাকে নব লেটেস্ট ইনফরমেশন পেতে সাহায্য করবে। আপনি সৌখিন পাঠক হলে রাখতে পারেন সাহিত্য পত্রিকাও। রাখতে পারেন একটি ধর্মীয় পত্রিকাও।
৫. একটি বিনোদন ম্যাগাজিন, ক্রীড়া সাময়িকী আপনার অবসরের বন্ধু হতে পারে।

বই পড়ার আগে করণীয়
১. ভালো বই বাছাই করা।পড়তে পড়তেই সাধারণ একটি সাধরণত ধারণা জন্মায় যে কোন বইটি ভালো। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ নেয়া যেতে পারে এজন্য বই লেখক ও বইয়ের বাজার সম্পর্কে একটু খোঁজ খবর রাখা যেতে পারে। কারণ বাজারে প্রচুর বিভ্রান্তিমূলক বই রয়েছে। এগুলো পড়ে সময় নস্ট করা কিংবা কোনোপ্রকার কনফিঊশন তৈরী করার কোনো মানে হয়না।
২. বই পড়ার আগে বই পড়ার উদ্দেশ্য নিরুপন করে নেয়া ভালো । একজন মানুষের জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য হবে ইতিবাচক। সওয়াবের নিয়তে ধর্মীয় বই পড়লে তা ইবাদাতে পরিণত হবে।
৩. অন্যকে ঘায়েল করার জন্য বইপড়া উচিৎ নয়। তাছাড়া একটি বই থেকে কিকি জিনিস আপনি চান তার একটা ছোটো তালিকা করে নিতে পারেন এবং বই পড়া শেষে সেটা মিলিয়ে দেখা যেতে পারেন।
৪. বই পড়ার আগে বইয়ের ভূমিকাটা একবার পড়ে নেয়া জরুরী। দেখে নেয়া উচিৎ সূচীটাও। এছাড়া বইয়ের নামটা সম্পর্কে একটু ধারণা থাকা ভালো প্রয়োজন এর প্রতিশব্দগুলোও জেনে নিতে পারেন। জেনে নিতে পারেন লেখক সম্পর্কেও দু চারটি কথা।
৪। বই পড়ার আগে বইয়ের কোয়লিটি বাঁধাই ও ছাপা দেখে নিন। কোনো সমস্যা থাকলে বদলিয়ে আনুন। কারণ পরে নাম ঠিকানা লিখলে, মলাট ছিড়ে গেলে কিংবা দাগ দিয়ে ফেললে দোকানী বইটা ফেরত নাও নিতে পারে।
৫। খুব মুল্যবান বা গুরুত্ব¡পূর্ণ বই হলে বইটে ভালো মলাটে সুন্দর কাগজে আবদ্ধ করে নিন। যাতে বইটি অনেকদিন টেকে। পড়ার পর বইটি প্লাসটিক মোড়কে রাখতে পারেন।
৬. আপনি বইটি থেকে কিকি তথ্য চান তা আগেই প্রশ্নআকাওে টুকে নিয়ে বই পড়া শুরু করতে পারেন।
৭. এই বই সম্পর্কে বইয়ের ফ্লাপে বা নেটে কোথাও কোনো রিভিউ থাকলে একবার পড়ে নিতে পারেন।

কিভাবে বই যাচাই করবেন ?
ž বই যাচাই প্রথম সূত্র হলো প্রকাশক সম্পর্কে খোজ খবর রাখা। অনেক প্রকাশক জাল-জালিয়াতি করে বই প্রকাশ করে থাকে। এসব প্রকাশক থেকে দূরে থাকতে হবে। যতদূর সম্ভব এ বিষয়ে খোঁজ খবর রাখতে হবে।
২. অতপর লেখক এর জীবন ও মতাদর্শ সর্ম্পকে জেনে রাখতে হবে। আপনাকে জেনে রাখতে হবে, আপনার পাঠ্য তালিকা থেকে ভ্রান্ত লেখকদের বাদ দেয়ার জন্য নয় বরং এ সম্পর্কে জানা থাকলে তার চিন্তার রেখাগুলো সহজে ধরতে পারবেন।
৩. বই কেনার আগে বই ভূমিকা পড়ে অথবা গুরুত্¡পূর্ণ কোনো অংশে চোখ বুলিয়ে বই সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে বই কেনার সিদ্ধান্ত করাটা। এছাড়া অধ্যয়নচর্চা আছে এমন কারো সাথে পরামর্শ করে নিলে মনে হয় বিষয়টি আরো সহজ হয়ে যাবে বই কেনা।
৫. বইয়ের ভ’মিকা বা প্রথম শেষ বা মাঝে কিছু অংশ পড়ে নিতে পারেন। আপনার ধারণা পরিষ্কার করার জন্য।
৬. বইটি সম্পর্কে কোথাও কারো মতামত থাকলে তা জেনে নিন।
৭. বইয়ের কোয়ালিটি দেখতেও ভুলে যাবেন না।

বই পড়ার সময় করনীয়
১. ইসলামী বইকে গল্পের বই পড়ার মুডে না পড়া ভালো। বিছানায় বা হেটে হেটে না পড়ে টেবিলে বসে পড়াই উত্তম।
২. বই থেকে উপক™£ত হতে চাইলে ডিকশনারী, নোটবই, পেন্সিল বা ল্যাপটপ হাতের কাছে নিয়ে রাখা যেতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় নোট নিতে পারেন। অথবা মনে কোন প্রশ্ন থাকলে তা টুকে নেয়া যায়। প্রয়েজনে কোনো রেফারেন্স দেখে নিতে পারেন।
৩. ধীরে ধীরে পড়ুন। বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দিন। এ বিষয়ে আপনার কাছে অন্য কোনো লেখা থাকলে তা মিলিয়ে দেখুন। অনেকের মতে ১ন্টায় কোনো বইয়ের ২০ পৃষ্ঠার বেশী পড়া ঠিক নয়।
৪. ইসলামী বই পড়ার সময় প্রয়োজনীয় রেফারেন্স বা দলিল এর দিকে খেয়াল রাখুন।

৫. আপনি নিজেই নিজেকে যাচাই করুন যে, আপনি বইয়ের আলোচ্যি বষয়ের সাথে একমত হন বা না হন আপনি বইয়ের বক্তব্যটা কতোটুকু বুঝতে পেরেছেন কিনা? অনেক সময় লেখক ও পাঠকের চিন্তার পার্থর্কের কারণে ভুল বোঝাবুজি হতে পারে এ বিষয়টা মাথায় রাখুন।

৬. বইয়ের একটি অধ্যায় থেকে আরেকটি অধ্যায় যাওয়ার আগে একটু সময় নিন। প্রয়োজনে একটু বিরতি নিন। ভাবুন বিষয়টি আপনি ধরতে পারছেন কিনা অথবা এ বিষয়ে আপনার মনে কোনো প্রশ্ন আছে কিনা?
৭. প্রয়োজনীয় অংশ বা বক্তব্য নোট করুন। সামারি লিখুন অথবা পেন্সিল ব্যবহার করে দাগ দিতে পারেন। ভালো হয় যদি এটি আপনার নিজের বই হয় আপনি বইয়ের শেষের দিকে ২/৩ পৃষ্ঠা সাদা কাগজ লাগিয়ে নিতে পারেন এবং তাতে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সংক্ষিপ্ত নোট রাখতে পারেন। তাহলে এটা অন্য কেউ যখন বইটা পড়বে তখন তার কাজে লাগবে এমনকি আপনার নিজেরও কাজে লাগবে পারে।
৮. খোলামনে বই পড়ুন। নিজের মতামত নিজের কাছে রেখে লেখকের বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করুন। লেখার সাথে একমত না হলে ছুড়ে ফেলে দিবেন না আরো পড়–ন এবং শেষপর্যন্ত যদি মনোপুত না হয়। সমস্যাটা কোথায় এবং কেন তা খঁজে বের করার চেম্ভা করুন। তবে খুব বেশী মানের বই না হলে এ চেষ্টা অব্যাহত রাখার দরকার নেই। আবার লেখক যদি কোনো বড়মাপের ব্যক্তি হন তাহলে তার বক্তব্য বুঝে নেয়ার চেষ্টা করুন।

বই পড়ার পর করনীয়
১। বইতে বড়ো ধরনের কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে প্রকাশক বা লেখককে তা সবিনয়ে জানান। বক্তব্য বেশী হলে চিঠি লিখুন বা মেইল করুন। কারণ ভুল ত্রুটি হওয়া খুব স্বাভাবিক। ভুল সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তারপর জানান। মনে রাখবেন আপনি ভুলটা ধরিয়ে দিলে পরবর্তী ছাপায় তা সংশোধন হলে অনেকেও উপকৃত হবে।
২. বইটি পড়ে আপনি একটা রিভিউ লিখতে পারেন। সেটা কোনো ব্লগে বা আপনার ফেইসবুকে প্রক্শা করতে পারেন। এতে আপনি যেমন লেখকের চিন্তার সাথে পরিচিত হলেন পাশাপাশি অন্যরাও আপনার কথাটা জানতে পারলো। রিভিউর একটা কপি বইয়ের সাথে রেখে দিতে পারেন।
৩. সর্বশেষ বইটি ভালো হলে অন্যদের কাছে সেটা বলুন।
৪. বই পড়ার পর বইটি যেন পোকায় না কাটে সেজন্য বইয়ের পাতায় নিমপাতা অথবা ন্যাপথালিন দিয়ে রাখুন।
৫. বইগুলো বিষয় অনুসারে সাজান তাতে খুঁজে পেতে সহজ হবে। তারপর প্রত্যেকটি বইয়ের গায়ে একটি ধারাবাহিক নং বসাতে পারেন তাহলে বই হারিয়ে গেলে সেটা টের পাওয়া যাবে। সবচে ভালো হয় একটি রেজিষ্টার মেনটেন করলে।

শুধু বই পড়া নয় ভালো বই পড়ার আন্দোলনকে বেগবান করুন। ভালো বই পড়–ন। ভালো বই কিনুন। ভালো বই উপহার দিন। ভালো বই নিয়ে আলোচনা করুন এবং ভালো বই পড়ার আন্দোলনে শামিল হউন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY