সৌভাগ্যবানদের মাস রামাদান

0
205

সৌভাগ্যবানদের মাস রামাদান
খাদিজা আখতার রেজায়ী

সওম ইসলামের একটি অন্যতম স্পর∆ত্বর্পূণ বিধান,অন্যতম স্পর∆ত্বর্পূণ এবাদত । আরবী হিসেবের নবম মাসের শুর∆ থেকে শেষ দিন পর্যন্ত এই এবাদত প্রতিটি সুস্থ্য ও সবল মানুষের জন্যে প্রযোজ্য । আল্লাহৎ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই রামাদান মাসে রোযা রাখা ফরয বলে যখন নির্দেশ দেন তখন একথাও তিনি উল্লেখ করেন মানব জাতির জীবন বিধান কোরআন এ মাসেই নাযিল করা হয়েছে । পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- রামাদান ( এমন একটি মাস ) যাতে কোরআন নাযিল করা হয়েছে,আর এ ( কোরআন হচেছ ) মানব জাতির জন্যে পথের দিশা, সচ্ঞ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও (হক-বাতিলের) পার্থক্যকারী । অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে সে এতে রোযা রাখবে ,( তবে) সে যদি অসুস্থ্য হয় কিংবা সফরে থাকে,সে পরবর্তী ( কোনো সময়ে ) স্পণে স্পণে সে পরিমাণ দিন পুরন করে নেবে,( এ সুযোগ দিয়ে ) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ( কাজকর্ম ) আসান করে দিতে চান । আল্লাহ তায়ালা কখনোই তোমাদের (কাজকর্মকে )কঠিন করে দিতে চান না । আল্লাহ তায়ালার উষ্কেশ্য হচেছ তোমরা যেনো স্পনে স্পনে ( রোযার ) সংখ্যাস্পলো পুরন করতে পারো,আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ( কোরআনের মাধ্যমে জীবন যাপনের ) যে পদ্ধতি শিখিয়েছেন তার জন্যে তোমরা তাঁর মাহাতœ্য বর্নণা করতে এবং ক™£তজ্ঞতা আদায় করতে থাকো।

এদিক থেকে রামাদান আসলেই শ্রেষ্ঠ মাস,কারন শ্রেষ্ঠ কিতাব এ মাসেই নাযিল হয়েছে । রাসুলুল্লাহ ( স:) বলেছেন, ইবরাহীম ( আ:) এর সহীফা রামাদানের প্রথম রাতে ;তওরাত রামাদানের ৬ তারিখে ইঞ্জিল রামাদানের ১৩ তারিখ ও কোরআন রামাদানের ২৪ তারিখে নাযিল হয়। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বণির্ত আছে, যবুর রামাদানের ১২ তারিখে অবর্তীণ হয় ।( ইবনে কাছীর )

কোরআনসহ অন্যান্য কিতাব নাযিলের মাধ্যমে এ মাসের বৈশিষ্ট ও স্পর∆ত্ব অনুধাবন করা যায় । এটা অত্যন্ত বরকতময় মাস । এ মাসে যতো স্পনাহগার মানুষের স্পনাহ মাফ করা হয় অন্য কোনো মাসে তা হয় না । হাদিসে আছে এ মাসে কবর আযাব বন্ধ থাকে । জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয় । যারাই আল্লাহ তায়ালার কাছে মাফ চায় আল্লাহ তায়ালা তাদের মাফ করে দেন একমাত্র শিরৎক ছাড়া অন্য সব স্পনাহ মাফ করা হয় রামাদান মাসে ।
রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন-তারা অত্যন্ত র্দূভাগা যারা এ মাস পেয়েছে অথচ নিজের স্পনাহ আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে পারেনি ।এ মাসের প্রতিটি ভালো কাজের সওয়াব দ্ভিস্পণ,দশস্পণ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সত্তর স্পণ, ক্ষেত্রবিশেষে সাতশত স্পণ । সুবহানাল্লাহ ! আসলেই একমাত্র বদ নসীব ছাড়া কেউ এমন নেই যে এ মাস পাবে,আর এর কোনো ফায়দা হাসিল করবে না । দয়াময় আল্লাহ তায়ালা যেনো আমাদের তাওফীক দেন যাতে আমরা রামাদানে আমাদের সকল স্পনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারি । ক্ষমা তিনি সব সময়েই করে থাকেন,তবে রামাদান মাসে তিনি তা অনেক বেশী করেন-মূলত: কারো হাতই খালি এ মাসে আল্লাহ তায়ালা ফিরিয়ে দেননা ।

রামাদানে অনেকেই খুব খুশি হয়ে রোযা রাখেন,কিন্তু তারা সাহরী খানৎনা । সাহরী খেতে ওঠা তারা খুব কষ্টকর মনে করেন । তাই রাতে শোবার সময় রোযার নিয়ত করে শুয়ে পড়েন । সেহরীর সময় সাহরী না খেয়ে রোযা রাখলে সে সাহরীর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলো। তাছাড়া পৃথিবীর অন্যান্য ধর্ম ও সম্পন্দদায়ের লোকেরা যেরকম রোযা রাখে তার রোযা তাদের মতো হলো । রাসুল ( সা:) বলেছেন- তোমরা সেহরী খাও, কেননা সাহরীর মধ্যে বরকত নিহিত আছে
( বোখারী )
রাসুলুল্লাহ (স:) আরো বলেছেন- আমাদের এবং আহলে কিতাবদের মধ্যে পার্থক্য হচেছ সাহরী খাওয়া। আমরা সাহরী খেয়ে রোযা পালন করি আর তারা সাহরী খায় না ( মুসলিম ) রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন- সাহরী খাওয়া বড়ো বরকতের কাজ,এটা ছেড়োনা । অন্তত এক ঢোক পানি হলেও পান করো Ñ কেন না আল্লাহ তায়ালা ও ফেরেস্তারা সাহরী খাওয়া লোকদের ওপর রহমত বর্ষণ করে থাকেন ।

আলহামদুলিল্লাহ ! কতো সুন্দর কথা ! আমরা প্রান ভরে খাবো অথচ এর জন্যেও অঢেল সওয়াব লেখা হবে আমাদের হিসেবের খাতায় । ঠিক তেমনি ইফতার করা । এক ঢোক পানি সামান্য একটু খেজুর বা যা-ই মিলুক তা দিয়েই সূর্য্যাস্তের সাথে সাথে ইফতার করে রোযা ভাংগা । এর জন্যে ও আবার সওয়াব লেখা হবে হিসেবের খাতায় । ইফতার সামনে নিয়ে যখন মানুষ তাসবীহ করতে থাকে ইফতারের অপেক্ষায় তখন আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তাদের সাক্ষী রেখে বলেন, আমার বান্দা সামনে খাবার রেখেও আমারই নির্দেশ পালনে Ñ আমারই সন্তুষ্টির জন্যে অভুক্ত রয়েছে আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তার সব স্পনাহ মাফ করে দিলাম ।
রামাদান দোয়া কবুলের মাস । রাসুলুল্লাহ (স:) বলেছেন,আল্লাহ তায়ালা বলেন,হে আদম সন্তান ! তোমার কাজ হলো তুমি আমারই এবাদত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না, আমার কাজ হলো তোমার প্রতিটি কাজের বিনিময় দেয়া এবং কোনো কাজই বৃথা যেতে না দেয়া,আর তোমার ও আমার যৌথ কাজ হলো তোমার দোয়া করা ও আমার কবুল করা । দোয়ার এ আয়াত রোযার বিধান বর্ণণার সাথে নাযিল করে আল্লাহ তায়ালা আসলে রামাদান মাসে বিশেষত প্রতিদিন ইফতারীর সময় বেশী বেশী দোয়া করার প্রতি উচ্ঞসাহ দান করেছেন ( ইবনে কাছীর ) ।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ( রা:) বলেছেন- আমি নবী করীম ( সা:) কে বলতে শুনেছি Ñ রোযাদারদের ইফতারের সময়ের দোয়া কবুল হয়ে থাকে এবং তা ফেরত দেয়া হয় না ।

রামাদানের এতো বড়ো বড়ো সুযোগ থেকে নিজেদের যারা বঞ্চিত রাখে আসলেই তাদের দূর্ভাগা ছাড়া আর কি বলা যায় । রামাদান আসে, সৌভাগ্যবান লোকেরা মাসজিদের গিয়ে তারাবীর নামাযে শামিল হয়,ভোররাতে তাহাজ্জুদ পড়ে তাসবীহ তাহলীল করে,সাহরী খেয়ে ফজর পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে, সুর্য্যাস্তের পর ইফতার করে এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে স্পনাহ,ভূল,ক্রুটি অপরাধের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে Ñ তাঁর সাহায্য চায়Ñ তার শোকর আদায় করে ! এর চেয়ে সুন্দর মাস,সুন্দর সময় আর কি হতে পারে !
এ মাসের আরেকটি অন্যতম বিষয় হলো দান সাদকা করা । বছরের অন্যান্য সময়ের দান সাদাকার তুলনায় অবশ্যই এ মাসে অনেক বেশী বিনিময় অনেক বেশী সওয়াব পাওয়া যায় । দান সাদাকা আল্লাহ তায়ালার অত্যন্ত পছন্দ করেন । পবিত্র কোরআনের কয়েকটি সুরায় সাদাকার ব্যাপারে আয়াত নাযিল হয়েছে। নি:স্ব গরীব বা দীনহীন মানুষকে দান করা যেনো আল্লাহ তায়ালাকেই ঋণ দেয়া! পবিত্র কোরআনে দান সাদাকার ব্যাপারটা তিনি এভাবেই উল্লেখ করেছেন। সূরা আল হাদীদের ১১ নং আয়াতে তিনি বলেছেন, কে আছে Ñ যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে ঋণ দেবে,উত্তম ঋণ ( যার বিনিময় ) তিনি ( পরকালে তাকে কয়েকস্পণ বাড়িয়ে দেবেন এবং তার জন্যে ( থাকবে আরো) বড়ো ধরনের পুরস্কার । একই সূরার ১৮নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ যেসব পুর∆ষ ও নারী ( আল্লাহর পথে) দান করে এবং আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করে তাদের ( সে ঋণ আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে ) বহুস্পণ বাড়িয়ে দেয়া হবে ( উপরন্ত) তাদের জন্যে ( থাকবে আরো ) সম্মানজনক পুরস্কার ।

আল্লাহতায়ালা আরো বলেছেনÑ( আল্লাহতায়ালা তাদের ভালোবাসেন না ) যারা নিজেরা কার্পন্য করে,আবার অন্যদেরও কাপর্ণ্য করার আদেশ দেয়,যে ব্যক্তি ( আল্লাহর হুকুম থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয় ( তার জানা উচিত) আল্লাহ তায়ালা কারোই মুখাপেক্ষী নন এবং তিনি মহাÑ প্রসংশায় প্রসংশিত ( সূরা আল হাদীদ-২৪ আয়াত )

কার্পণ্য জিনিসটা আল্লাহতায়ালা একেবারেই পছন্দ করেন না । তিনি যাকে দান করেছেন তিনি জানেন কি পরিমাণ দান করেছেন । তা থেকে সে কতোটুকু সাদাকা করলো আর কি পরিমাণ জমা রাখলো তাও তিনি জানেন সম্পদ জমা না রেখে আল্লাহর রাস্তায় দান করলে তিনি অত্যন্ত খুশি হন। সূরা বাকারার ২৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ কে ( এমন আছে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে,আল্লাহ তায়ালা সে অংকটি বহুস্পণ বাড়িয়ে দেবেন। আল্লাহ তায়ালা ( কাউকে) ধনী ( আবার কাউকে) গরীব করেন ( আর ) তোমাদের ( ধনী গরীব) সবাইকেই তো তাঁর কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে ।
দান সম্পর্কে মানুষ যাতে ভ্রান্তির মাঝে না থাকে তাই আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন সূরায় দান সাদাকা সম্পর্কে আলোচনা করে দান সাদাকা করার স্পর∆ত্বের বিষয়টি অবহিত করেছেন । সূরা বাকারার ২৬১ নং আয়াত থেকে ২৭৪ নং আয়াত পর্যন্ত এ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ২৭৪নং আয়াতে তিনি বলেছেন-যারা দিন রাত গোপনে প্রকাশ্যে নিজেদের ধন সম্পদ ব্যয় করে,মালিকের দরবারে তাদের এ দানের প্রতিদান ( সুরক্ষিত ) রয়েছে তাদের কোনো রকম ভয় ভীতি থাকবে না,তারা সেদিন চিন্তিত ও হবে না ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার ঋণ চাওয়া সর্ম্পকিত কয়েকটি আয়াত নাযিল হলে কিছু অসচ্ঞ লোক বলাবলি শুর∆ করলো মুহাম্মাদের রব গরীব হয়ে গেছে তাই ঋণ চাচেছ, আমরা অভাবী নই । হযরত আবু দারদা (রা:) এসে রাসূল(স:)কে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আল্লাহ তায়ালা কি আসলেই আমাদের কাছে ঋণ চাচেছন ( গরীরদের জন্যে ) । তাঁর তো ঋণের প্রয়োজন নেই ( তিনি তো চাইলেই গরীবদের দিতে পারেন ) । উত্তরে আল্লাহর রসূল(স:) বললেন, আল্লাহ তায়ালা চাচেছন এর বিনিময়ে তোমাদের জান্নাতের বাসিন্দা বানাতে । এ কথা শুনে হযরত আবু দারদা(রা:) বললেন হে আল্লাহর রসূল! হাত বাড়ান ! রাসূল (স:) হাত বাড়িয়ে দিলেন। আবু দারদা(রা:) বললেন আমার দুটো বাগান আছে ।দুটো বাগানই আল্লাহর রাস্তায় দান করলাম । রাসূল(স:) বললেন,একটি আল্লাহর রাস্তায় দান করো অন্যটি পরিবারের ভরণ পোষণের জন্যে রেখে দাও । আবু দারদা(রা:) বললেন, আপনি সাক্ষী থাকুন এ দুটি বাগানের মধ্যে যেটি উত্তম যেটাতে ছয়শ ভালো জাতের ফলন্ত খেজুর গাছ রয়েছে সেটি আািম দান করে দিলাম । রাসূল (স:) বললেনÑ দারদা এর বিনিময় বেহেস্ত ছাড়া আর কিছু নয় । আবু দারদা (রা:) খুশী হয়ে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে কথাটা জানালে তিনিও খুশী হলেন। রাসূল(স:) বলেছেনÑ খেজুরে পরিপূর্ণ অসংখ্য বৃক্ষ এবং প্রশস্ত অট্টালিকা আবু দারদার জন্যে তৈরি হয়েছে । সুবহানাল্লাহ ! আল্লাহকে কর্জ দেয়া ! শুনতেই কেমন হৃদয় কেপেঁ ওঠে। যিনি সৌরজগতের একক অধিকারী,আরশে মোয়াল্লার মালিক,জান্নাত-জাহান্নামের মালিক,দুনিয়ার বাদশাহ,আখেরাতের বাদশাহ,হও বললেই যার সব হয়ে যায় তাঁকে কর্জ দেয়া । এই ঋণ এই কর্জ আসলে এখানে রূপক অর্থে বলা হয়েছে Ñ নতুবা তিনিই তো সব কিছুর মালিক। আমাদের যা কিছু আছে তা তো তারঁই দেয়া,তাঁরই দান,তাঁরই রহম। এই ঋণ তিনি ফেরত দেবেন,বাড়িয়ে দেবেন এতো বেশী বাড়িয়ে দেবেন যা আমাদের হিসেবের অংকে আসবেনা ।

রাসূল (স:) বলেছেন আল্লাহর পথে একটি খেজুর দানা ব্যয় করলে আল্লাহ তায়ালা তার বিনিময় যখন দেবেন তখন তা ওহুদ পাহাড়ের চেয়েও বেশী হবে।এই দান,এই সাদাকা যখন রামাদান মাসে করা হবে তখন এর বিনিময়ের পরিমাণ আমাদের ক্ষুদন্দ মস্তিকের হিসেবে আসবে কি ! আসবে না ! আসবে না বলেই আমরা রামাদানে দানের স্পর∆ত্ব বুঝিনা !রামাদানে দান করার জন্যে অর্ডার করে নিম্নমানের শাড়ী আনিয়ে গরীবদের দান করি ! লোক দেখানোর জন্যে সামর্থের তুলনায় সামান্য পরিমাণ দান করি; কিন্তু আল্লাহ তায়ালাকে কখনোই লুকানো যায়না Ñ তিনি জানেন কতোটা আমাকে তিনি দিয়েছেন,কতোটুকু আমার সামর্থ রয়েছে আর তা থেকে আমি কতোটুকু ব্যয় করেছি ।

রামাদান আসে, সৌভাগ্যবানদের জন্যে । এই রামাদান মাসকে তারা রহমতের মাস,বরকতের মাস,নাজাতের মাস এবং সার্বিক কল্যানের মাস হিসেবে জানেন । আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উষ্কেশ্যে পুরো মাসকে যারা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। গভীর রাতের বিগলিত অশ্র∆ তাদের সব স্পনাহ ধুয়ে মুছে দেয়। তারা আল্লাহ তায়ালা যে অবস্থায় রেখেছেন সে অবস্থায় ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যান ! মাশায়াল্লাহ ! কতো ভাগ্যবান তারা,কতো নির্লোভ তারা,কতো হৃদয়বান তারা!
দয়াময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি রহম কর∆ন । এই রামাদানে যেভাবে নামায পড়লে তিনি খুশি হন, যেভাবে রোযা রাখলে তিনি কবুল করেন,যেভাবে তেলাওয়াতে তাসবীহ তাহলীলে আমাদের আমল নেক আমলে গণ্য হয়, যেভাবে দান করলে তিনি কর্জ হিসেবে গ্রহণ করেন সেভাবে করার তাওফীক যেনো তিনি দান করেন । তিনি যেনো আমাদের শয়তানের যাবতীয় ওসওয়াসা থেকে পবিত্র রাখেন,লোভ লালসা ও হারাম থেকে বেঁচে থাকার এবং অলসতা দুর করে ঈমানকে মজবুত রাখতে সার্বিক সাহায্য করেন । আলহামদুলিল্লাহ ! ওয়ামা তাওফীকি ইল্লা বিল্লাহ ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY