কোরআন সংকলনের ইতিহাস ২

কোরআন তথ্য

0
857

কোরআন সংকলনের ইতিহাস ২
কোরআনে বিভিন্ন অক্ষরের সংখ্যা
আলিফ ৪৮৮৭২, বা ১১৪২৮, তা ১১৯৯, ছা, ১২৭৬, জীম ৩২৭৩, হা ৯৭৩, খা, ২৪১৬, দাল ৫৬০২, যাল, ৪৬৭৭, রা, ১১৭৯৩, যা ১৫৯০, সীন ৫৯৯১, শীন ২১১৫, ছোয়াদ ২০১২, দোয়াদ, ১৩০৭, তোয়া ১২৭৭, যোয়া ৮৪২, আঈন ৯২২০, গাঈন ২২০৮, ফা, ৮৪৯৯, ক্বাফ ৬৮১৩, কাফ ৯৫০০, লাম ২৪৩২, মীম ৩৬৫৩৫, নূন ৪০১৯০, ওয়াও ২৫৫৪৬, হা ১৯০৭০, লাম-আলিফ ৩৭৭০, ইয়া ৪৫৯১৯।

কোরআনের অক্ষর গণনা
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) -ও কোরআনের অক্ষর গণনা করেছেন বলে অনেকে মনে করেন। তাঁর গণনা মতে কোরআনের অক্ষর হচ্ছে ৩,২২,৬৭১। তাবেয়ীদের মাঝে মোজাহেদ (র.)-এর গণনা অনুযায়ী কোরআনের অক্ষর হচ্ছে ৩,২১,১২১। তবে সাধারণভাবে ৩,২০,২৬৭ সংখ্যাটিই বেশী প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

কোরআনের শব্দ সংখ্যা
সাহাবায়ে কেরামরা তাদের যুগে কোরআনের শব্দ সংখ্যাও নির্ণয় করেছেন। অবশ্য এ সম্পর্কে সরাসরি তাদের সাথে স¤ক্সৃক্ত কোন রেওয়ায়াত পাওয়া যায় না। যা কিছু আছে সবই পরবর্তীকালের। হুমায়দা আযরাজের গণনা অনুযায়ী ৭৬,৪৩০, আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহর গণনা মোতাবেক ৭০৪৩৯, মোজাহেদের গণনা মোতাবেক ৭৬২৫০, তবে যে সখ্যাটি সাধারণভাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তা হচ্ছে ৮৬৪৩০।

কোরআনের আয়াত সংখ্যা
হযরত আয়েশা (রা.)-এর মতে ৬৬৬৬, হযরত ওসমান (রা.)-এর মতে ৬২৫০, হযরত আলী (রা.) -এর মতে ৬২৩৬, হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) -এর মতে ৬২১৮, মক্কার গণনা মতে ৬২১২, বসরার গণনা মতে ৬২২৬, ইরাকের গণনা মতে ৬২১৪, ঐতিহাসিকদের মতে হযরত আয়েশার গণনাই বেশী প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। যদিও আমাদের এখানে প্রচলিত কোরআনের নোসফাসমূহ থেকে আয়াতের সংখ্যা গুনলে এ মতের সমর্থন পাওয়া যায় না।

বিষয়ভিত্তিক আয়াত
জান্নাতের ওয়াদা ১০০০, জাহান্নামের ভয় ১০০০, নিষেধ, ১০০০, আদেশ ১০০০, উদাহরণ ১০০০, কাহিনী ১০০০, হারাম ২৫০, হালাল ২৫০, আল্লাহর পবিত্রতা ১০০, বিবিধ ৬৬।
রুকূর সংখ্যা
কোরআনের নোসখায় প্রথম দিকের ‘আখমাস’ এবং ‘আশারের’ আলামত পরবর্তী যুগে এসে পরিত্যক্ত হয়ে যায় এবং অন্য একটা আলামতের ব্যবহার এতে প্রচলিত হতে থাকে। এ নতুন পদ্ধতির চিহ্নটিকে রুকু বলা হয়। আয়াতে আলোচিত বিষয়বস্তুর প্রতি লক্ষ্য রেখে চিহ্নটি নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসংগ যেখানেই এসে শেষ হয়েছে সেখানেই পৃষ্ঠার পাশে রুকুর চিহ্ন দেয়া হয়েছে।

পারাসমূহ
কোরআন শরীফ সমান ত্রিশটি ভাগে বিভক্ত। এগুলোকে পারা বলা হয়। আরবীতে বলা হয় ‘জুয’। পারার এ বিভক্তি কোনো বিষয়বস্তুভিত্তিক ব্যাপার নয়; শুধু তেলাওয়াতের সুবিধার্থ সমান ত্রিশটি ভাগে একে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। তিরিশ পারায় এ বিভক্তি কার দ্বারা প্রথম সম্পন্ন হয়েছে সে তথ্য উদ্ধার করা আসলেই কঠিন। অনেকের ধারণা, হযরত ওসমান (রা.) যখন কোরআন শরীফের অনুলিপি তৈরী করেন, তখন তিনিই এটা করেছেন এবং তা থেকেই তিরিশ পারার প্রচলন হয়েছে, কিন্তু নির্ভরযোগ্য কোন সূত্রে তা প্রমাণিত হয়নি। আল্লামা বদরুদ্দীন যারকাশীর মতে তিরিশ পারার এ নিয়ম বহু আগে থেকেই চলে আসছে। বিশেষত এ ত্রিরিশ পারার রেওয়াজ কোরআনের ছাত্রদের মাঝেই বেশী প্রচলিত হয়েছে। তিরিশ পারার এ বিভক্তি মনে হয় সাহাবায়ে কেরামের যুগেই চালু হয়েছে। শিক্ষাদান কার্যের সুবিধার জন্যে হয়তো এটা করা হয়েছে।

মন্যিলসমূহ ও এর বিভক্তিকরণ
মনযিল কিভাবে এলো তার আলোচনা প্রসংগে অনেকেই এ ঘটনাটি উল্লেখ করেন। আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও মোসনাদে আহমদের বর্ণনা অনুযায়ী একদিন বনী সাফাবী গোত্রের এক প্রতিনিধি দল রসূল (স.)-এর খেদমতে হাযির হলে রসূল (স.)-এর তাদের কাছে আসতে কিছু বিলম্ব হয়। এই দেরী হওয়ার কারণ উল্লেখ করে রসূল (স.) বলেন, আমি কোরআন তেলাওয়াতে ছিলাম, আজকের দিনের নির্ধারিত অংশ পুরো করতে একটু দেরী হয়ে গেছে।
প্রথম মনযিল সূরা আল ফাতেহা থেকে সূরা আন নেসা, দ্বিতীয় মনযিল সূরা আল মায়েদা থেকে সূরা আত তাওবা, তৃতীয় মনযিল সূরা ইউনুস থেকে সূরা আন নাহল, চতুর্থ মনযিল সূরা বনী ইসরাঈল থেকে সূরা আল ফোরকান, পঞ্চম মনযিল সূরা আশ শোয়ারা থেকে সূরা ইয়াসীন, ষষ্ঠ মনযিল সূরা আস সাফফাত থেকে সূরা আল হুজুরাত, সপ্তম মনযিল সূরা ক্বাফ থেকে সূরা আন নাস।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY