নেপালে কোরআন বিতরণ

নেপালে কোরআন বিতরণ

0
290

নেপালে কোরআন বিতরণ

দুপুর দুইটার পর থেকে দরবার মার্গ এলাকায় কে ডব্লিউ পার্টি সেন্টারে আসতে শুরু করেছিলো বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ। বিভিন্ন ধর্মের নানা বয়সের মানুষে ভরে উঠলো পুরো হলরুমে। মাইকে সাউন্ড চেক করে কোরআনের বাণীতে শুরু হলো পুরো অনুষ্ঠান। নেপালের শহুরে জীবনে দুটি জিনিস চোখে পড়েছে এক হচ্ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জীবনচলা আর দ্বিতীয়ত সর্বত্র নারী পুরুষের সমান অংশগ্রহণ। এখানে এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। উপস্থিত নেপালীদের বেশীর ভাগই মধ্যবিত্ত এবং নারী-পুরুষ সমানে সমান মহিলাদের উপস্থিতি একটু বেশী হবে বৈকি। সবচে বেশী উপস্থিত ছিলেন পেশাজীবী বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নতুন প্রজন্মের এসব কোমলমতি কিশোর যুবকদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এক নতুন আবহের সৃষ্টি করেছিলো। বিধর্মী এসব তরুন তরুনী আগ্রহ ভরে কোরআনের কথা শুনেছে এবং পরম মমতায় একটি করে কোরআন হাতে নিয়ে বাসায় ফিরছে এমন দৃশ্য দেখে আমাদের মনে হয়েছে। নেপালে এভারেস্ট চূড়া দেখার চেয়ে আকর্ষণীয় মুহুর্ত ছিলো সেট। আসলে একজন কোরআন প্রেমী আল্লাহর বান্দার জন্যে এটি একটি সুখের স্মৃতি।

শুরুতে বক্তব্য রাখলেন ইসলামী সংঘ নেপালের দাওয়াহ বিভাগের প্রধান মাওলানা নজরুল ইসলাম ফালাহী। তিনি কোরআনের শান্তি ও মঙ্গলের বাণী ব্যাখ্যা করলেন। বক্তব্য রাখলেন নেপাল কংগ্রেস-এর জাতীয় নেতা তামুদার গৌতম। তিনি ধর্মে ধর্মে ভ্রাতৃত্ব বোধের কথা বললেন। বক্তব্য রাখলেন ইমেজ টিভির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্দিরা মানেন্দার। তিনি নেপালীদের ভ্রাতৃত্ববোধের কথা বললেন। বক্তব্য রাখলেন ওয়ামী নেপালের কান্ট্রি ডাইরেক্টর ড. শামীম আহমদ। তিনি কোরআনে মানবতা ও কল্যাণের যে নির্দেশনা রয়েছে তা তথ্য প্রমাণ দিয়ে তুলে ধরলেন। বেলা ৫টায় ভরপুর মিলনায়তনে আগত মুসলিম অমুসলিম নারী পুরুষ ও যুবাদের উদ্দেশ্যে মূল্যবান বক্তব্য রাখলেন আল কোরআন একাডেমী লন্ডন-এর চেয়ারম্যান ড. হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ। নেপালী ভাষায় না হলেও উর্দু ও ইংরেজী ভাষায় তার আবেগঘন বক্তব্যে একমুখী হয়ে পড়লো পুরো অনুষ্ঠানস্থল। তিনি পরম মমতায় নেপালীদের জন্যে কাজ করার কথা বললেন। বললেন, কোরআনের কথা। এখন আমরা আসলে টের পাচ্ছিলাম, আজ দুদিন ধরে আমরা তার প্রতি নেপালীদের যে শ্্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখলাম তা সত্যিই তার পাওনা ছিলো।তিনি বললেন, আমরা কোরআনের প্রশংসা অনেক শুনেছি, অনেক বলেছি। এখন সময় এসেছে কোরআন থেকে আমাদের জীবনের কর্মসূচী তৈরী করার।

তারপরই সকলের হাতে হাতে তুলে দেয়া হলো নেপালী ভাষায় অনুবাদকৃত কোরআনের কপি। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের হাতে তুলে দেয়া হলো বরকতময় আলোকের জ্যোতি। যেন এই আলোকেই তারা আলোকিত করতে পারে তাদের জীবনকে। নতুন প্রজন্মের সারথী যেসব কিশোর কিশোরীদের কোরআনের জন্যে যে আকুতি আমরা দেখেছি তা হয়তো নেপাল এসে স্বচক্ষে না দেখলে আমরা অনুভব করতে পারতাম না। অনুষ্ঠানের সভাপতি ইসলামী সংঘ নেপালের চেয়ারম্যান মাওলানা গোলাম রসূল সাহেবের ভাষণের মধ্য দিয়ে এই শানদার অনুষ্ঠান শেষ হলেও অনুষ্ঠানের রেশ রয়ে গেছে অনেকক্ষণ এবং আমাদের মনে সেই স্মৃতি জীবন্ত রয়েছে এখনো। অনুষ্ঠান শেষে আমরা যখন অনুষ্ঠানের স্বার্থকতা এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ততা নিয়ে আলোচনা করছিলাম তখন নেপালী ভাইয়েরা জানালো। এরচেয়ে বড়ো এবং শানদার অনুষ্ঠান ছিলো ২০১০ সালের সেই অনুষ্ঠানটি। তাতে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, কমিউনিটির নেতা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিতি ও সমাগম নিজেরা দেখতে পারিনি বলে আফসোসই হলো।

10817

অ নুষ্ঠানে উপস্থিত একজন চায়না মুসলিম দাঁড়িয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বলতে চাইলেন। জানতে চাইলেন চীনের মুসলমানদের জন্যে একাডেমীর এমন কোনো উদ্যোগ আছে কি না? পরের দিন চীনা ভাই মোহাম্মদ ইয়াসিন-এর সাথে একাডেমীর চেয়ারম্যানের সাক্ষাতের সময় ঠিক করে আমরা যার যার ঠিকানায় চলে গেলাম। সাথে নিয়ে গেলাম নেপালীদের কোরআনের প্রতি ভালোবাসা দেখা সেই তাজা দৃশ্যের স্মৃতি। মোহাম্মদ ইয়াছিন জানালেন চাইনিজ মুসলমানদের মধ্যে আগের চেয়ে বেশী সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্মপালন করার সুযোগও অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্মপালন করার সুযোগও অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু কোটি কোটি চায়না মুসলমানদের জন্যে দ্বীনী শিক্ষার সুযোগ ও উপকরণ কোনোটাই পর্যাপ্ত নয়। চীনা ভাষায় কোরআনের কয়েকটি অনুবাদ থাকলেও সেগুলো যেমনি দু®প্রাপ্য তেমনি পুরনো ভাষায় লেখা।

ইসলামকে জানার জন্যে তিনি তাদের নিজের ভাষায় কোরআনের অনুবাদের কথা বললেন। বললেন, স্বদেশী স্বজাতি লোকদের মাঝে বিনামূল্যে চাইনিজ ও চীনের সরকারী ভাষা মান্ডারীনে কোরআনের অনুবাদ বিনামূল্যে বিতরণের কথা। একাডেমীর চেয়ারম্যান ড. মনির আহমদ আশ্বাস দিলেন চীনা মুসলমানদের পাশে থাকার। ইনশাআল্লাহ সবার সহযোগিতা পেলে একটি জাতির মানুষদের জন্যে একাডেমী অনুরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। যদি কোনোদিন সেই আকাংখিত দিন আসে। চীনের মাটি চীনা ভাই বোনদের হাতে কোরআন তুলে দিতে পারি। সেদিন আবার পাঠকদের সামনে সেই অনুভূতি প্রকাশের জন্যে কলম ধরে হাজির হবো। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সে কাজ হাসিল করার জন্যে সাহায্য করুন। আমীন।

জাহাঙ্গীর আলম
পাবলিক রিলেশন অফিসার
আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY