আল কোরআনের আলো

0
1086

আল কোরআনের আলো
হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

আপনি শুনে আশ্চর্যান্বিত হবেন, জাতির শতকরা ৯৮ জন মানুষের হাতেই বাংলা অনুবাদসহ আল্লাহর এ কিতাবটির কোনো কপি মজুদ নেই। অথচ এই কিতাবের ওপর ভিত্তি করেই তারা তাদের নামায রোযা হজ্জ যাকাত থেকে শুরু করে রাষ্ট্র ও সমাজ সবকিছু পরিচালনা করার কথা। এ অবস্থায় দেশের নাগরিকদের বিরাট একটি অংশ যদি ইসলামী অনুশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে, তাহলে আপনি তাকে দুষবেন কি করে। সে তো কোনোদিন তার নিজের ভাষায় কোরআন পড়েও দেখিনি। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে তো এ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। আপনার চোখের সামনে আগামী প্রজন্মের যে ফৌজ তৈরী হচ্ছে, তারা আল্লাহর কিতাব এই কোরআন মাজীদ স¤ক্সর্কে এর চেয়ে বেশী কিছু জানে না, এটা মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থÑ হিন্দুদের ভগবদগীতা, খৃস্টানদের বাইবেলের মতোই আরেকটি ধর্মগ্রন্থ। ছোটোকালে কোনো সময় বাবা মা দাদা দাদীকে হযতো সে পড়তে দেখেছে। পড়ার পর যতেœর সাথে তা জুজদানে জড়িয়ে তাকের ওপর রাখতেও সে মাঝে মাঝে দেখেছে। গ্রামে থাকার সময় কালেভদ্রে সে হয়তো সকাল বেলায় মক্তবে হুযুরের কাছে কোরআন পড়াও শিখেছে (যদিও কিছু কিছু এনজিওর কল্যাণে তাও এখন হারিয়ে যেতে বসেছে)। আর যদি সে শহরে থাকে তাহলে তার বাসায় গান ও নাচের ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে এক দু ঘন্টার জন্যে বিকেল বেলায় হুযুর এসে কোরআন পড়িয়ে যান, পড়া শেষ হলেই কোনো রকম কোরআনটাকে ‘তাকে’ রেখে সে গান কিংবা নাচের ক্লাসে বসে গেছে।
কোরআন স¤ক্সর্কে সে এতোটুকুই জানে, এটা পড়লে সাওয়াব হবে, মরে গেলে কয়েকজন হুযুর ডেকে সে মুর্দাকে বেহেশতে পৌঁছানোর জন্যে এটা পড়া হবে। কারো অসুখ বিসুখ হলে, জিন ভূতের আছর দর করার জন্যে এ কিতাব পড়ে তার ওপর ফুঁ দেয়া হবে, কিংবা এর ওপর ফুঁ দেয়া পানি তাকে খাওয়ানো হবে। কোরআনের কিছু কিছু অনুসারীর কাছে সে শুনেছে, এর অর্থ বুঝা শুধু নির্দিষ্ট কয়েকজন হুযুর কিংবা মৌলভীর কাজ। এর মধ্যে যে দুনিয়ার রাজনীতি, অর্থনীতি ও দিন বদলের কর্মসচী আছে তা তো সে কোনোদিনই শোনেনি। সাওয়াবের বাইরে এই কিতাবের আর কোনো পরিচয় সে জানেও না। এ অবস্থায় আমাদের দেশের স্কুল কলেজ মাদরাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁনে দু কোটি ছাত্র ছাত্রী, যারা আগামীকাল এ দেশটির পরিচালনা নিজেদের হাতে নেবে, তাদের কাছে আল্লাহর এ কিতাব কে পৌঁছাবে? কে তাদের একথাটা বলবে, তোমার কাছে অযতেœ যে স¤ক্সদ পড়ে আছে তাই হচ্ছে পৃথিবীর সভ্যতা সংস্কৃতি বদলে দেয়ার সঠিক কর্মসচী। আল্লাহ তায়ালা যে কিতাব দিয়ে দুনিয়ার তাবৎ জীবিত মানুষদের জাহান্নামের আযাবের ভয় দেখাতে বলেছেনÑ তার বাহকরা এখন তাকে জীবিতদের বদলে মরা মানুষদের বেহেশতে পৌঁছানোর জন্যেই ব্যাবহার করছে। (সরা ইয়াসীন, আয়াত ৭০)
প্রায় ২ কোটি কিশোর কিশোরীর এই বিশাল ফৌজ যারা প্রতিদিন আপনার সামনেই ধীরে ধীরে যুবক যুবতীতে পরিণত হচ্ছে, তাদের হাতে মেহেরবানী করে এখনই এক এক কপি কোরআন শরীফ ও তার বাংলা অনুবাদ তুলে দিন। এই দু কোটি ছেলেমেয়েকে যারা পড়ান সে লক্ষাধিক শিক্ষক শিক্ষিকাদের হাতেও অনুবাদসহ কোরআন শরীফ তুলে দিতে হবে। পারলে কমপক্ষে যে ৫০ হাজার ছাত্র ছাত্রী এবার মেট্রিক ও দাখেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে, তাদের দিয়েই কাজটা শুরু করুন। আগামী দিনের বাংলাদেশের যারা কারিগর, তাদের ভালো মানুষ বানাবার দায়িত্ব আমাদের সবার। কারওয়ান বাজারের মিডিয়াওয়ালারা বড়ো হলে বসিয়ে বসিয়ে যে আলো তাদের দিয়ে যাচ্ছে, তার বদলে এদের কোরআনের আলোকেই আলোকিত করার চেষ্টা করুন।
কোরআনের ব্যাপারে আমাদের ধর্মীয় পরিমন্ডলের অবস্থাটা কি খুবই সুখকর? দেশের ৩ লাখ মাসজিদের ইমাম মোয়াযযেন মিলে যে ৬ লাখ লোকের সাথে আপনি প্রতিদিন মাসজিদে নামায পড়েন, তাদের সবার কোরআন স¤ক্সর্কে, কোরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ স¤ক্সর্কে কতোটুকু জানা আছে, তাও আমাদের তলিয়ে দেখা দরকার। শহরের কয়েক হাজার মাসজিদের কথা বাদ দিলে লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ মাসজিদগুলোর কি খবর? তারা যেখান থেকে পড়াশোনা করে ইমাম মোয়াযযেন হয়েছেন, সেখানে কোরআনের চর্চা কতোটুকু ছিলো? তারা যেসব মাদরাসায় পড়াশোনা করে সেখানেও তো আরো ৩৫ লাখের মতো ছাত্র ছাত্রী আছেন, যারা প্রায় ৩০ হাজার মাদরাসায় পড়াশোনা করছেন। সেদিন সংসদে তো একজন বলেই দিলেনÑ কাওমী মাদ্রাসা নাকি আছে ১ লাখ, এ হিসাব সত্যি হলে সেখানেও তো কমপক্ষে আরো ১ কোটির ওপর ছাত্র শিক্ষক আছে, কোরআনের অনুবাদের সাথে তারা কতোটুকু পরিচিত? এদের সবার কথা কে ভাববে? কে কোরআনের অনুবাদ ঘরে ঘরে পৌঁছানোর কথা বলবে?
আমি এভাবে যদি আপনার কাছে এ দেশের অন্যান্য পরিসংখ্যান পেশ করতে থাকি তাহলে আমি জানি, আপনি আরো বেশী উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠিত হবেন। আমাদের সেনাবাহিনী, আমাদের বিডিআর, আমাদের পুলিশ, বাংলাদেশ সচিবালয়, সারা দেশের প্রকাশনা যš, ব্যাংক ইনসিউরেন্স, লিজিং ও ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউটের লোকজন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ পর্যš লোকের সংখ্যা, স্কুল মাদরাসা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক, দেশের কারাগার হাসপাতাল ও প্রাইভেট ক্লিনিকে কর্মরত লোকজন, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ শ্রমিক, অর্ধলক্ষ এনজিওতে কর্মরত কয়েক লক্ষ কর্মচারী ও তাদের কোটি কোটি বেনিফিশিয়ারী, কয়েক কোটি মোবাইল ইউজার, এদের সবার কথা তো ভাবতে হবে। আপনিই বলুন, এ বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে আল্লাহর কিতাব পৌঁছানোর দায়িত্ব কার? আমরা যারা কোরআনের বাহক তাদের না অন্য কারো?
মুসলিম বিশ্বে বিনামল্যে কোরআন বিতরণের জন্যে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্থা নেই। মদীনা শহরে অবস্থিত বাদশাহ ফাহদ কোরআন কমপ্লেক্স এ ক্ষেত্রে সীমিত পর্যায়ে কিছু কাজ করে যাচ্ছে। এ মহান কাজের জন্যে দ্বিতীয় কোনো সংস্থা নেই। আল্লাহর মেহেরবানীতে ইতিমধ্যেই লন্ডনে কোরআন ডিস্ট্রিবিউশান ওয়ার্ল্ডওয়াইড নামে একটি আšর্জাতিক সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ, পশ্চিম বাংলা ও আসামের ১০ কোটি শিক্ষিত বাংলাভাষী মানুষদের হাতে অচিরেই ১০ কোটি কপি কোরআন পৌঁছে দেয়া হবে।
আমি জানি, যারা এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছেন তারা মানুষদের কাছে কোরআন ও তার অনুবাদ পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তাদের কোনো কাজের সমালোচনা আমি করছি না। তাদের কাজকর্মের যথার্থ মল্যায়ন করেই আমি তাদের খেদমতে এ আবেদনটুকু রাখতে চাই। দেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র যুবক, কিশোর ও বিভিন্ন পেশায় কর্মরত লক্ষ লক্ষ নরনারী পুরুষ কর্মী ও সমর্থকরা যদি মাসে কমপক্ষে ১ জন নতুন লোকের হাতে কোরআনের অনুবাদ পৌঁছানোর টার্গেট নির্ধারণ করে কাজ করতে শুরু করেন, তাহলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৩ কোটি নতুন মানুষের কাছে বাংলা অনুবাদসহ কোরআন শরীফ পৌঁছানো সম্ভব হবে। এভাবে যদি আরো দু দশটি সংস্থা দেশের প্রত্যেক শিক্ষিত ব্যক্তির হাতে ১ কপি করে অনুবাদসহ কোরআন পৌঁছাতে পারেন, তাহলে ভিশন ২০২০ ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পাশাপাশি এদেশের বিরাট একটি জনগোষ্ঠীর কাছে অনুবাদসহ কোরআন শরীফ পৌঁছানো কি আসলেই অসম্ভব?
বার বার কোরআন পৌঁছানোর কথা আমি কেন বলছি সে কথাটার নিয়েও মনে হয় কিছু কথা বলা প্রয়োজন।
আমরা সবাই জানি, কোনো মানুষকে আল্লাহর পথে আনার জন্যে কোরআনের চাইতে ইফেকটিভ কোনো গ্রন্থ নেই। পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেয়া সা¤ক্স্রতিক তথ্য জরিপে একথাটাই প্রমাণিত হয়েছে, পৃথিবীর যেখানেই যে ব্যক্তি মুসলমান হচ্ছেন তিনি কোরআন পড়েই ইসলামের ছায়াতলে এসেছেন।
ইতিহাসের মহানায়ক হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) এই কোরআন পড়েই ইসলামের কল্যাণ লাভ করেছেন। বিখ্যাত আরবী কবি তোফায়েল দাওসী প্রিয় নবীর মুখে কোরআন শুনেই আল্লাহর পথের সন্ধান পেয়েছেন। তারা ছিলেন আরব। কোরআনের মর্মার্থ শুনেই তারা এর মাহাÍ্য বুঝে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। লন্ডন নিউইয়র্কের এমন শত শত মানুষ আছে যারা কোরআনের ইংরেজী অনুবাদ পড়েই মুসলমান হয়েছেন। শুধুমাত্র চট্টগ্রামের তাফসীরুল কোরআন মাহফিলে কোরআনের কথা শুনে এ যাবৎ প্রায় চার শতাধিক লোক ইসলাম কবুল করেছেন। আমাদের এই জনপদের এমন অসংখ্য মানুষকে আমি নিজেই চিনি, যারা কোরআনের শুধু বাংলা অনুবাদ পড়েই কোরআন দিয়ে জীবন গড়ার সিদ্ধাš নিয়েছেন। পশ্চিম বাংলা ও আসামের হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের মাঝে কোরআন পড়ার যে আগ্রহ আমি নিজ চোখে দেখেছি, তাতে সেখানে অনুবাদসহ কোরআনের ব্যাপক চাহিদা আমি লক্ষ্য করেছি। নাইন ইলেভেনের পর ওয়েস্টার্ন ওয়ার্ল্ডে যে হারে অমুসলিমদের মাঝে কোরআনের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, তাতে এখন অনেকের মনেই সবার মাঝে কোরআন বিতরণের কর্মসচীর প্রতি ব্যাপক আগ্রহ উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৮/০২/০৯ তারিখে লন্ডনের দারুল উম্মাহ সেন্টারে অনুষ্ঠিত আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের ‘সবার মাঝে কোরআন বিতরণ কর্মসচীর মুক্ত আলোচনায়’ সুধীবৃন্দ কোরআনের ইংরেজী অনুবাদ পড়ে কিভাবে অমুসলিমরা ইসলামের পাশে আসছেন তার কিছু কিছু প্রাণ¯ক্সর্শী বর্ণনা দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে লন্ডন শহরের সব কয়টি দল মত ও সংগঠনের ইমাম খতিব শিক্ষক ডাক্তার একাউন্টে ব্যরিস্টার ও ব্যবসায়ীরা হাযির ছিলেন। তারা সবাই ১০ কোটী শিক্ষিত বাংলাভাষী মানুষদের হাতে ১০ কোটী কপি কোরআনের অনুবাদ পৌঁছানোর ওপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঐতিহ্যবাহী আন্দোলনের লক্ষ লক্ষ যুব কিশোর নরনারী নেতাকর্মীদের প্রতি আবারও আমাদের অনুরোধ, নতুনদের ইসলামের পথে আনার জন্যে, আর পুরাতনদের ইসলামী জীবন গড়ার কাজে অনুপ্রাণিত করার জন্যে সবার হাতে আগে বাংলা অনুবাদসহ এক কপি কোরআন শরীফ তুলে দিন। আমি নিশ্চিত বলতে পারি, মাত্র ৫ বছর সময়ের ভেতর কোরআনের বরকতে যে, ট্রেডিশনাল পলিটিক্যাল প্রসেজে গত ৬৮ বছরে যতোটুকু পথ আমরা অতিক্রম করতে পেরেছি আগামী ১৫ বছরে তার চাইতে অনেক বেশী পথ পাড়ি দিতে পারবো।
এর আগে আমার এক লেখাতে আমি ইসলামী আন্দোলনের একজন শীর্ষ নেতার একটি কথা কোট করেছিলাম। তিনি উপমহাদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রাথমিক সিলেবাসের আকার ই-কার দেখে কিছুটা বিস্ময়ের সাথে আমাকে বলেছিলেন, আপনারা কর্মী ও সমর্থকদের হাতে অন্য বই পু¯ক না দিয়ে আগে অনুবাদহ কোরআন পড়তে দেন না কেন। কোরআনের প্রতিটি কর্মীর কাছে কোরআনের দাবী হচ্ছে সবার আগে নিজ ভাষায় অনুবাদসহ সে কোরআন পড়বে (ইসলামী বই পু¯ক, কোরআনের তাফসীর তাকে অবশ্যই দেবেন। তবে তা অনুবাদসহ কোরআন পড়ার পর, আগে নয়)। উপমহাদেশের ইসলামী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ১৯৪১ সালেই এ কথাটা উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তিনি বলেছেন, মনে বিশেষ কোনো ধারণা বিশ্বাস লালন করে তার আলোকে কোরআন পড়া কখনো উচিৎ নয়। উন্মুক্ত মন নিয়ে কোরআন পড়তে হলে স্মাভাবিকভাবেই সবার আগে কোরআনই তাকে পড়তে হবে। কোরআনের বদলে অন্য বইÑ তা যতো ভালোই হোক না কেন, একটা বিশেষ আইডিয়া কোরআন পাঠকের মনে সৃষ্টি করবে। পরবর্তী সময়ে এটা তার জীবনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব বি¯ার করতে পারে। এটা কোনো কর্মী সমর্থকের মনে কোরআনের মল ¯িক্সরিট বসানোর পরিপন্থী। আমি জানি, আমার ভাইয়েরা বলবেন, আমরা কর্মী ও সমর্থকদের হাতে আগে যেসব বই দেই তা তো কোরআনেরই বই, কিšু এগুলো যতোই কোরআনের বই হোক না কেন, নির্ভেজাল কোরআন তো তা নয়, আর নির্ভেজাল কোরআন ছাড়া কোনো বই মানুষকে কখনোই দ্রুত কোরআনের কাছে আনতে পারে না। ইসলাম স¤ক্সর্কে, ইসলামের বিভিন্ন দিক ও বিষয় স¤ক্সর্কে অবশ্যই কর্মী সমর্থকদের মেধা ও ¯র অনুযায়ী তাদের জন্যে সিলেবাস বানাতে হবে এবং একটি বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ৩ থেকে ৪ বছর সময়ের ভেতর বাছাই করা ৪০/৫০টি মৌলিক বই পড়াতে হবে। যাতে করে এ সময়ের ভেতর একজন কর্মী সমর্থক আধুনিক যুগে ইসলামকে নিয়ে চলার জন্যে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কর্মকৌশল শিখে নিতে পারে, কিšু এসব কিছুই হবে মল কোরআন পর্ণাংগ অনুবাদসহ পড়ার পর, কোনো অবস্থায়ই কোরআন পড়ার আগে নয়। হাঁ, এটা আপনাকে অবস্থাভেদে ঠিক করতে হবে, অনুবাদসহ কোরআন পড়ার জন্যে আপনি কতোদিন সময় তার জন্যে বরাদ্দ করবেন। শুধু যেহেতু অনুবাদসহ পড়া, তাই দৈনিক গড়ে ৩/৪ রুকু করে সহজেই আপনি তার জন্যে বরাদ্দ করতে পারেন। তাতে পুরো কোরআন শেষ করার জন্যে ১৫০ দিন থেকে ১৮০ দিন পর্যš সময় লাগবে। এই সময়টা আল্লাহর ওয়া¯ে তাকে কোরআন ছাড়া অন্য কোনো সাহিত্য পড়তে দেবেন না। নতুন সমর্থকদের ঈমান আকীদা, কোরআনের জ্ঞান ও ইসলামী আন্দোলনের কর্মকৌশল ও চরিত্র অনুধাবনের জন্যে এটা একাš জরুরী।
সমর্থক ও কর্মীদের হাতে অনুবাদসহ কোরআনের কোন্ বাংলা অনুবাদ দেবেন, সেটা আপনাকেই সিদ্ধাš নিতে হবে। যে অনুবাদ পড়লে আপনার নতুন সাথী কোরআনের মর্মার্থের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে বলে আপনি মনে করেন, সেটাই আপনি দিতে পারেন। বাজারে যতোগুলো কোরআনের অনুবাদ আছে তার যে কোনো একটা আপনি পছন্দ করতে পারেন।
কোরআন পৌঁছানোর ব্যাপারে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আমি বরং এ ব্যাপারে আরেকটি অনুরোধ করতে চাই। দেশে যতোগুলো প্রতিষ্ঠান কোরআনের গবেষণা, কোরআনের অনুবাদ প্রকাশনা ও বিপণনের সাথে জড়িত, তাদের কার্যক্রমে সমন¦য় সাধনের জন্যে আপনাদের একটা আলাদা সেল থাকতে পারে। এ সেল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বছরে কি পরিমাণ কোরআন বিনামল্যে বিতরণ করে, তা কেন্দ্রীয়ভাবে সমন¦য় করবে। প্রত্যেক কোরআন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান যদি তাদের নিজেদের প্রকাশিত ও অনদিত কোরআন বিতরণের কর্মসচী গ্রহণ করেন এবং কেন্দ্রীয় সমন¦য় সেলকে যদি তার বিবরণটা যথাযথভাবে অভিহিত করেন, এভাবে একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ শুরু করলে ২০২১ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশের আগেই দেশের অধিকাংশ শিক্ষিত লোকের হাতে কোরআন পৌঁছে যাবে।

লেখকঃ আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের ডাইরেক্টর জেনারেল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY