নিবেদিতার সংলাপ

0
362

নিবেদিতার সংলাপ
খাদিজা আখতার রেজায়ী

শুকা দ্বাদশীর শেষ প্রহর,
সোনালী রেহালে মাথা রেখে,
সাহসী সাধক
নতুন এক জগতের খোয়াব দেখে।
এক সুবিশাল মাঠ
পারের ঘাটে বিচার বসেছে আজ,
মহা বিচার-
ভীত স¯¯ দিশেহারা
অসংখ্য আসামী
এরা কারা?
গলায় লোহার বেড়ি হাতে শেকল
পায়ে জিঞ্জির-ওরা কারা?
অগণিত মানুষের ভীড়ে
অকস্মাৎ অনুভত হয়
আসামীর কাঠগড়ায় সাধকও হাযির!
কী নাম তোমার, কী তোমার পেশা?
কিভাবে করেছো আয়?-ব্যয়?
জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, জীবন, যৌবন
অঢেল সময়?
কোরআনের চর্চা মালিক!
জ্ঞান কোষের চরম ঘাটতি ছিলো আমার, তবু,
সকল সাধনা আমার নিয়োজিত ছিলো কোরআনের কাজে,
চেষ্টা ছিলো সহজ করে তোমার কেতাবের কথাকে
মানুষের কাছে পেশা করা,
নিবেদিত ছিলো জানমাল তোমার জন্যে,

শুধুই তোমার জন্যে।
আদেশ দিলেন মহা বিচারক
‘আরশে মোয়াল্লায়’
ঝোলানো নামের তালিকাটি দেখো-
এ নাম রয়েছে কি ওখানে?
পেয়েছি, সাধকের নাম লিখিত সসম্মানে
যদিও অনেক নীচে লেখা আছে
এই তো, এখানে!
কিসের তালিকা মালিক!
মন প্রাণ দিয়ে যারা করেছে কোরআনের প্রচার
এ শুধু তাদেরই নামের তালিকা, সৌভাগ্য তার।
গলার বেড়ি তার জন্যে নয়,
হাতের শেকল তার জন্যে নয়,
পায়ের জিঞ্জিরও তার জন্যে নয়,
মহা সম্মানে তাকে পৌঁছে দাও জান্নাতের বাগানে, সুরম্য প্রসাদে,
বিপুল সম্বর্ধনা অপেক্ষা করছে ওখানে। তার জন্যে॥
ভেংগে যায় ঘুম।
না, হাতের কব্জি, গলদেশ, পায়ের গোড়ালী, কোথায়ও শেকল নেই,
শুধু টেবিলে কোরআন আছে,-আছে কাগজ কলম,
বাইরে মোয়াযযীনের ডাক-
‘আস সালাতু খায়রুম মিনান না-উ-ম-ম…’
আমি তো ক্ষুদ্র, নগণ্য, তুচ্ছ
বড়ো দীনহীন,
গভীর প্রশাšিতে অবনত হই-
‘আল হামদুলিল্লাহে রাব্বিল আলামীন।’৩৮
২রা ফেরুয়ারী ’০২

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY