এই রমযানে আমরা শপথ নেব

0
440

সম্পাদকীয়
এই রমযানে আমরা শপথ নেব

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আর মাত্র কয়দিন! সর্বত্র রমযানুল মোবারকের সুবাতাস বইতে শুরু করবে।
আল্লাহ তায়ালা অফার করুনা নিয়ে সারাবিশে^র মুসলমানদের ঘরে হাযির হবে রমযানুল মোবারক, ঠিক গতবার যেভাবে এসেছিলো এবারও তেমনি আসবে, আল্লাহ তায়ালা বাঁচিয়ে রাখলে আগামী বছরস্পলোতেও এই মাসটি আসবে। এটাই তো বৎসর পরিক্রমার স্বাভাবিক নিয়ম। কারো বয়েস যদি এই রমযানে ৪০ বছর পূর্ণ হয় তাহলে তার জীবনে এই মাসটি ৪০ বার এসেছে। আল্লাহ তায়ালা যদি তাকে আরো ২০ বছর বাঁচিয়ে রাখেন
তাহলে এই মাসটি তার জীবনে আরো ২০ বার আসবে। আসলে কার জীবনে কতোবার রমযান মাসটি আসে এটা বড়ো কথা নয়- বড়ো কথা হচ্ছে যে কয়বারই রমযানুল মোবারক আমাদের দ্বারে আসে ততোবারই এই মাসটির মাহাত্ব স্পরুত্ব অনুধাবন করে এই মাস আমাদের ওপর যে দায়িত্ব ও কর্তব্য চাপায় তাকে যথাযথভাবে আদায় করার চেষ্টা করা। জানা কথাই, দায়িত্ব কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে রমযানুল মোবারক আমাদের জীবনে শতবার এলেও তাতে কোনো ফায়দা হবেনা। এভাবে পৃথিবীর কোটি কোটি মুসলমানদের জীবনে প্রতিবছরই তো রমযান আসে আবার তা চলেও যায়।
যাদের জীবনে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আনার জন্যে আল্লাহতায়ালা এই মাসটি আমাদের জন্যে পাঠান তাদেও জীবনে গেলো বছরের সাথে বর্তমান বছরের কোনো পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে কি? এ ধরনের মানুষের জীবনে রমযানুল মোবারক আরো হাজার বার এলেও তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হবেনা। রমযানুল মোবারক আমাদের আল্লাহ ভীতির ওপর দাঁড়ানো একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল জীবন উপহার দিতে চায়। এমন একটি জীবন যেখানে জেনে বুঝে একে অপরের কোনো ক্ষতি করেনা। দৈনন্দিন খাবার, পানীয়
ও জৈবিক সম্ভোগে এ মাসে যে বিধি নিষেধ আল্লাহ তায়ালা আরোপ করেছেন। সে আল্লাহর ভয়ে সে আল্লাহর নিষিদ্ধস্পলো কাজস্পলো করা থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে রোযা। আল্লাহর নবীর একটি হাদীসের উদ্বৃতি থেকে কথাটা এভাবে বলা যায়, যে ব্যক্তির রোযা তাকে মিথ্যা ও স্পনাহ থেকে বাঁচাতে পারলোনা সে ব্যক্তির রোযায় অর্জণের কিছুই নেই। বলা যায় অভুক্ত ও উপবাসের কষ্ট ছাড়া রোযা থেকে সে কিছুই পেলোনা।
রমযানুল মোবারকের একটি বড়ো বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই মাসে কোরআন নাযিল হয়েছে, আর সত্যি কথা হচ্ছে কোরআনের কারনেই রমযানুল মোবারকের এই মর্যাদা, এ কথা স্বয়ং আল্লাহতায়ালা কোরআনেই বলেছেন। এবার এই কোরআনের সাথে আমাদের আচরনটার কথা একবার ভেবে দেখুন। যার জীবনে ৫০ বার রমযানুল মোবারক এসেছে সে মানুষটি যদি প্রতি বছর কোরআন থেকে একটি করে আল্লাহর আদেশকে গ্রহণ করতো এবং প্রতিবছর একটি করে নিষেধকে নিজের জীবন থেকে দূরীভূত করার চেম্ভা করতো তাহলে একজন কোরআন পাঠকের জীবনের চিত্র আসলেই বদলে যেতো। প্রতি রমযানে কোনো মানুষ যদি ৮/৯ রুকু করে কোরআনের অংশ সহীহ শুদ্ধরুপে পড়ে তা মুখস্থ করে বুঝার চেষ্টা করতো তাহলে আল্লাহর এই মহান কিতাবটি পড়া, মুখস্থ করা বা বুঝা তার পক্ষে আসলেই কি কঠিন কাজ হতো? এমন কাজটি করতে পারলে যে কোরআন আল্লাহ তায়ালা আমাদের জীবনে বদলের কর্মসূচী হিসেবে পাঠিয়েছেন তার কার্যকারীতা আমরা বুঝতে পারতাম। আল্লাহ তায়ালা আমাদের বলেছেন তাঁর এই কিতাবটি অন্য মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে। অন্যের কাছে এই কিতাবের বানী পৌছে দেয়াটাকে আল্লাহ তায়ালা যেখানে তাঁর পাঠানো রসূলের প্রাথমিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন, সেখানে আমাদের মতো কোরআনের সাধারণ পাঠকদের কথা কিভাবে বলা যাবে? যার জীবনে ৫০ বার রমযানুল মোবারক এসেছে সে যদি প্রতি মাসে ১০ কপি করে কোরআন অন্যদের হাতে তুলে দিতো তাহলে দুনিয়ায় ৭ বিলিয়ন মানুষের কাছে কোরআন পেীছে দিতে কোরআনের অনুসারী এই পৌনে ২ বিলিয়ন মানুষের কয়দিন সময় লাগতো? রোযা আসে রোযা যায়, এমনি করে আমাদের জীবনে অতীতেও রোযা এসেছিলো এবারো এসেছে একমাস পর আবার তা চলেও যাবে কিন্তু আমরা মুসলমানেরা গেলোবছর যেখানে ছিলাম এবারো সেখানো থেকে যাবো।
কোরআনুল কারীমের যে করুন অবস্থা বরাবর চলে আশা ছিলো সেটা এবারো থাকবে, থাকবে আগামীবারও,থাকবে আরো অনেক বছর। কিন্তু বিশ^ব্যাপী ৭ বিলিয়ন মানুষের পাশাপাশি আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশের ১৬০ মিলিয়ন মানুষের সাথে আমাদের পাশ^বর্তী দেশস্পলোর আরো ১০০ মিলিয়ন বাংলা ভাষী মানুষের কাছে অনুবাদসহ কোরআন পৌঁছানোর স্বপ্ন – স্বপ্নই থেকে যাবে। আর মাত্র কয়দিন পরই রমযানুল মোবারক আসবে: কিন্তু এই রমযানুল মোবারকের পর আরেকটি রমযানুল মোবারক যে আমরা পাবো তার কতোটুকু নিশ্চয়তা আছে? হতে পারে এটাই আমাদের জীবনের শেষ রমযানুল মোবারক। তাই এবারের রমযানের মাসটাকে আমরা একটু বিশেষ স্পরুত্বের সাথে গ্রহণ করতে চাই, আর স্পরুত্বের সাথে গ্রহণ করার অর্থই হচ্ছে রমযানের আলোকে নিজের জীবনটাকে বদলে দেয়া। মানুষের জীবন বদলের কর্মসূচী হিসেবে আল্লাহ তায়ালা যে কোরআন আমাদের ওপর নাযিল করেছেন তা নিজে পড়া, বুঝা, আমল করা ও এই
কর্মসূচীকে অন্য মানুষদের কাছে পৌঁছে দেয়া।
রমযানুল মোবারকের নতুন চাঁদ যেন আমাদের দেহ মনে এবার নতুন এক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে, শাওয়ালের প্রথম চাঁদ যেন আমাদের জীবন থেকে সকল পাপ পঙ্কিলতা দূরীভূত করে নতুন জীবন গঠনের প্রেরণা যোগায় এবারের রমযানে সবাই মিলে আল্লাহ দরবারে এই কামনা করি।
– হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ, ২২ শাবান ১৪৩৬ হিজরী

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY