কোরআন কি বলে আমরা কি ভাবি? – দেশে দেশে মানবীয় দূর্যোগ

0
719

কোরআন কি বলে আমরা কি ভাবি
দেশে দেশে মানবীয় দূর্যোগ

বিশ^ব্যাপী মানবিক বিপর্যয়ের পরিমাণ যে হারে ইদানিং বেড়ে চলেছে তাতে দুনিয়ার সকল ধর্মমতের মানুষরাই তাদের উদ্বেগ ও উতকষ্মার কথা প্রকাশ করেছেন। যে সব মানুষের সাথে সরাসরি আল্লাহর কিতাবের সৃর্ঋক আছে তারা এ বিষয়টাকে আল্লাহর গযব হিসেবেই দেখছেন, তারা এসব বিপর্যয়কে মহানবীর ভবিষ্যতবানী হিসেবে কেয়ামতের লক্ষন বলেছেন। অপরদিকে আমাদের সমাজের বস্তুবাদী মানুষ যারা দুনিয়ার সবকিছুতে শুধু প্রকরুতির কমই দেখেন,তারা মনে করেন,ঝড় বৃষ্টি তুফান জলোচছাস ভূমিকৃঋ সুনামী কোনোটাই আল্লাহর গযব কিংবা তার রোষের কারন নয়,এস্পলোর পেছনে আসলেই কারো কোনো হাত নেই । এখানে বহু কিছুই এমনি এমনি ঘটে। এর পেছনে এরা আল্লাহ তায়ালার ক্ষমতা মানতে রাজী নয় । তাই এরা এসব কিছুতে আল্লাহর গযবের কোনো চিহ্নও দেখতে পায় না।
কোরআনুল কারীমে আল্লাহ তায়ালা এক দাম্ভিক জাতির কথা বলেছেন, ইশান কোনে যখন আল্লাহর গযবের সূচনা হিসেবে কালো মেঘ দলা বাঁধতে শুরু করলো তখন এরা অনেকটা তামাশাস্থলেই বললো, এতো একখস্ক মেঘমাত্র, আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করার জন্যেই একে মেঘের আকারে আমাদের পাঠানো হয়েছে; কিন্তু এ দাম্ভিকতা তাদেও বেশীক্ষন আল্লাহর গযব থেকে বাঁচাতে পারেনি । দেখতে দেখতে অবিশ^াসীদের গোটা জনপদ একসময় বিনাশ হয়ে গেলো । ঝড় তুফান, ভুকৃঋন জলোচছাস, আস্পন, যুদ্ধ বিগ্রহ ও মহামারি যাই বলুন না কেন  কোরআনের ভাষায় এস্পলো সবই হচেছ সে জনপদের মানুষদের নিজেদের অর্জন। সূরা আর রোমের ৪২নং আয়াতটির মমার্থ্যের দিকে একবার লক্ষ্য করুন। আল্লাহ তায়ালা মানুষের কর্মকাস্কের জন্যে তাদের শায়েস্তা করার যেমনি ব্যবস্থা করে রেখেছেন, তেমনি তাদের সে সব বিপর্যয় থেকে বেঁচে থাকার জন্যে তিনি সর্তকবানী ও সর্তকবানীসমূহের বাহক হিসেবে নবী রাসূলদেরও পাঠিয়েছেন। সূরা বনী ইসরাইলের ১৫নং আয়াতটির দিকে তাকিয়ে দেখুন । ষ্ক্রআল্লাহ তায়ালা কোনো জনপদের মানুষদের বিপদ মুসীবত দিয়ে শাস্তি দেন না Π যতোক্ষন না তিনি সেখানে একজন সর্তককারী রসূল না পাঠান ।্ মনে রাখতে হবে মানব জাতির ওপর যুগে যুগে যে সব বিপর্যয় এসেছে তার মধ্যে ভূমিকৃঋ ও ভূমিধসই একমাত্র দূর্যোগ নয় । ভূমিকৃঋ ও সুনামী হচেছ আল্লাহ তায়ালার পাঠানো গযবসমূহের মধ্যে ১টি মাত্র। সৃষ্টির সূচনা থেকেই মানব জাতিকে আল্লাহর কথা না মানার জন্যে কোনো না কোনো বিপর্যয়ের সম্মূখীন হতে হয়েছে। ইতিহাসের কোনো কালেই মানুষরা এ বিপর্যয় থেকে নিরাপদ ছিলোনা। হাঁ যে জনপদের লোকেরা যে বিপদেও সম্মুখীন হয়েছে তাদের কাছে সে বিপদটাই বড়ো হয়ে দেখা দিয়েছে। সাৃঋন্দতিক সময়ে যেমন নেপালীদের কাছে তাদের ৮ মাত্রার ভূমিকৃঋটাই ছিলো বড়ো বিপর্যয়, তেমনি দশবছর আগে এশিয়া মহাদেশের সমূদেন্দাউপকুলোবতী বিশাল এলাকার সুনামী ছিলো বড়ো ি ব প যর্  য় ।
আমাদেও দেশের ৭ ০ সালের প্রবল সামূদিন্দক জলোচছাস ও ৭৪ সালের দূভিক্ষ ছিলো সে সময়কার বড়ো রকমে বিপর্যয় । সমাজের কিছু লোক মনে করেন ,এসব ঝড় তুফান ভূমিকৃঋ ও জলোচছাসের গযব বুঝি শুধু গরীব ও মুসলমাদের ওপরই পতিত হয়। এক সময় বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ষ্ক্রশিকওয়ায্ মহাকবি আল্লামা ইকবালের মতো বিদগ্ধ দার্শনিকও আল্লাহর কাছে ষ্ক্রবরক ভী গিরতি হায় বেচারে মুসলমানুর্প বলে অভিযোগ করেছেন । অবশ্য তিনি ষ্ক্রজবাবে শিকওয়ায়্ নিজেই এর উত্তর দিতে গিয়ে বলেছেন, ষ্ক্রকোন মুসলমানের কথা তুমি বলছো,সৈয়দ তুমি, মিরজা তুমিΠকিন্তু বলতে পারো মুসলমানও কি তুমি ? অনেকেরই আবার অভিমত হচেছ, মানবীয় বিপর্যয়স্পলোকে আমরা যদি আল্লাহর পরীক্ষা হিসেবে গ্রহন করি,তাহলে আমাদের তো বরং এসব পরীক্ষায় খুশীই হবার কথা, কেননা আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ায় তাঁর আপন লোকদেরই পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি যদি জান্নাতের জন্যে উর্ত্তীণ করিয়ে নিতে চান Πতাঁর সে তালিকায় যদি তিনি আমাদের নাম অন্তর্ভূক্ত করেন তাহলে এর চেয়ে আনন্দের বিষয় আর কি আছে ? মনীষী ইবনুল কাইয়েম সম্ভবত এই পরীক্ষার বিষয়টিই উল্লেখ করেছেন । তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা মাঝে মাঝে পৃথিবীকে জীবন্ত হয়ে উঠার অনুমতি দেন,আর ঠিক তখনই এখানে প্রবল ভূমিকৃঋ অনুভূত হয়। এই ভূমিকৃঋ মানুষদের তখন ভীত সংন্ত্রস্ত করে, মানুষরা তখন আল্লাহর দরবারে তওবা করে । আগে যখন এ ধরনের ভূমিকৃঋ হতো তখন লোকেরা বলতো, আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমে আমাদের সর্তক করছেন।
বিখ্যাত হাদীস গ্রন্থ তিরমিযি শরীফে বর্ণিত ১৪৪৭ নং র্দীঘ হাদীসটির বিষয়স্পলোর দিকে একবার লক্ষ্য করুন। এই হাদীসের মোটামুটি বক্তব্য হচেছ, অবৈধ সৃঋদ উপাজর্ন: সৃঋদে যাকাত দানে অনিহা,ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি অবহেলা,সমাজ ব্যবস্থায় মহিলাদের প্রাধান্য,পিতামাতার প্রতি আনুগত্যহীনতা, জাতির নিকরুষ্ট মানুষদের ক্ষমতার র্শীষে আরোহণ, মিউজিক ইস্কাষ্টিন্দর উত্থ্যানΠ বিশেষ করে এ শিল্পে নারীদের ব্যাপক আভির্ভার, মদ ও নেশাকর দন্দব্যের ছড়াছড়ি ইত্যাদি কাজ যখন বাড়তে থাকবে তখন সেখানে একদিন তীবন্দ বাতাস বইবে, প্রবল ভূমিকৃঋ অনুষ্ঠিত হবে । এক সময় তা সেই ভূমিকে তলিয়ে দেবে । আজ আমরা প্রকরুতিবাদীরা যে নামেই একে অভিহিত করি না কেনΠ বড়ো বড়ো ঝড় তুফানকে যতো সুন্দর নামই আমরা দেইনা কেনΠ এস্পলোকে আযাব হিসেবেই আল্লাহ তায়ালা পাঠান,বিজ্ঞানের যতো ব্যাখ্যাই আমরা পেশ করি না কেনΠ ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তরে কঠিন শিলা খস্কের স্থানান্তর ও বিচ্যুতি যেভাবেই আমরা একে বিশ্লেষন করি না । এর ফলে মানব জাতির যে বিরাট ধবংসযজ্ঞ ঘটে তাকে তো অস্বীকার করার উপায় নেই । কোরআন মাজীদ একে বলেছে ষ্ক্রযিলযাল্Πএই নামে কোরআনে একটি স্বতন্ত্র সূরাও নাযিল হয়েছে । এই যিলযালেরই চূড়ান্ত রূপকে কোরআন বলেছে ্দাকক্Πা যা ইসরাফীলের প্রচস্ক ফুতকারের মাধ্যমে কেয়ামতের চুড়ান্ত ধবংসের আকারে একদিন আমাদের চোখের সামনে এসে হাযীর হবে ।
ভূমিকৃঋ ভূমিধবস সুনামী জলোচছাস এস্পলো আল্লাহ তায়ালার একেকটি সর্তকবানী, এস্পলোকে প্রকরুতির লীলা না বলে এ বিপদের সময় আল্লাহর দরবারে তাওবা করে আমাদের নতুন জীবনের শপথ নেয়া প্রয়োজন। সূরা আল আনয়ামের ৬৫ নং আয়াত্আেল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর থেকে ও তোমাদের পায়ের পায়ের নীচে থেকে আযাবের পাঠাতে সক্ষম্ বলে এসব আযাবের কথাই আমাদের বলেছেন । এ অবস্থা দেখা দিলে আল্লাহর নবী আমাদের করনীয় কিΠ তাও বলে দিয়েছেন । খলিফা ওমর ইবনুল আবদুল আজীজ এমন অবস্থায় তার প্রাদেশিক গর্ভনরদের বেশী বেশী তাওবা ও দান সদকা করার আদেশ দিতেন । কেননা প্রিয়নবীর ভাষায় সাদকা বালা মুসীবত দূর কওে ,আর জানা কথাই ভূমিকৃঋ ভূমিধবস ইত্যাদির চাইতে বড়ো বালা মুসীবত আর কি হতে পারে ? এস্পলো হচেছ এমন বালা যার অগ্রীম সর্তকবানী দেয়ার কোনো প্রযুক্তি মানুষরা এখনো আবিস্কার করতে পারেনি। একবার ঘটনা সংঘঠিত হলে বিশে^র বড়ো বড়ো মাথাস্পলো এর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্যে অসংখ্য গবেষনা সংস্থা মাধ্যমে এর হিসাব কষতে শুরু করবে; কিন্তু এসব হিসাব নিকাশ তো মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারবেনা। দূর্যোগের ঘটনাটি ঘটে গেলে দেখা যাবে গোটা মানব জাতিই এখানে অসহায়, অসহায় দর্শকের চাইতে বেশী কোনো ভূমিকা তাদের নেই ।
আমি শুরুতেই বলেছিলাম ভূমিকৃঋ ভূমিধবস সুনামীই একমাত্র মানবীয় দূর্যোগ নয়Π
এর বাইরে আরো বড়ো বড়ো দূর্যোগ বড়ো বড়ো ডিসাসটার আছে । যখন যে দূর্যোগের
ঘটনাটি ঘটে তখন কিছু দিন মিডিয়া তথা বিশ^ প্রচার যন্ত্রে তার কথা প্রচুর আলোচিত হয়
বলে মানুষরা অন্য দূর্যোগের কথা স্বাভাবিকভাবেই কিছু দিনের জন্যে ভূলে যায় ।অথচ এর বাইরে এমন আরো বড়ো দূর্যোগ আছে যেস্পলোর প্রভাব শত শত ভূমিকৃঋ ও ভূমিধবসকে ছাড়িয়ে যায়। যারা মনে করে ঝড় বৃষ্টি তুফান বার বার গরীব দেশস্পলোতেই আসে কেন ? Π কেন ভূমিকৃঋ ভূমিধবস সুনামী শূধু মুসলিম জনপদেই আঘাত হানেΠ তাদের জন্যে সাৃঋন্দতিক শতকের কিছু তথ্য উপাত্ত ও পরিসংখ্যান পেশ করা অিিম মনে করি একান্ত প্রয়োজন। ১৪৯২ সাল থেকে ইউরোপীয়ানদের আমেরিকা দখল ও সে দেখলদারীকে অব্যাহত রাখার জন্যে ৭৫ মিলিয়ন মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে । ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সংঘটিত দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে মানুষ নামের দানবদের হাতে মারা গেছে ৫৮ মিলিয়ন মানুষ। আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ১০৭৫ শ টিন্দলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে ১৯১৪ সাল ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত প্রথম বিশ^যুদ্ধে মারা গেছে ৩১ মিলিয়ন মানুষ । তার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ৪০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ১৯১৯ সালে শুধু ইনফ্লুঞ্জো মহামারিতেই মারা গেছে ৩০ মিলিয়ন মানুষ। ১৬ শতক থেকে ১৮ শতক পর্যন্ত এই ২০০ বছরে আটলান্টক দাস ব্যবসায়ে মারা গেছে ১৫ মিলিয়ন মানুষ। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানীতে হলোকষ্টের শিকার সাড়ে ৮ মিলিয়ন মানুষ, ১৯২২ সালে রাশিয়ান দূর্ভিক্ষে ৮ মিলিয়ন,১৯১৭ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত রাশিয়ান গৃহযুদ্ধে ৭ মিলিয়ন, পূনরায়১৯৩৩ সালে রাশিয়ান দূর্ভিক্ষে মারা গেছে প্রায় ৭ মিলিয়ন মানুষ। ১৬১৮ থেকে ১৬৪৮ সাল পর্যন্ত হলি রোমান এৃঋায়ার যুদ্ধের বলি হয়েছে সাড়ে ৬ মিলিয়ন। ১৮০৩ থেকে ১৮১৫ পর্যন্ত নেপোলিয়নের যুদ্ধে ৫ মিলিয়ন,পশ্চিম ইউরোপের শত বছরব্যাপী ধর্মীয় যুদ্ধেও শিকার হয়েছে ৩ মিলিয়ন ও ১৬ শতকের ফΣান্সে ধর্মীয় যুদ্ধের শিকার হয়েছে আরো ৩ মিলিয়ন মানুষ। ১২৯১ সালে ক্রিশ্চিয়ান ক্রসেডে নিহত লোকের সংখ্যা ২ মিলিয়ন । ১৮৬১ থেকে ১৮৬৫ পর্যন্ত আমেরিকার গৃহযুদ্ধের শিকার ৬ লাখ এবং ১৯৪৫ সালে হিরোশিমা নাগাশাকিতে মার্কিন আনবিক বোমার শিকারে দগ্ধ আদম সন্তানের সংখ্যা ২ লাখের ওপর । মানব জাতির হাজার বছরের ইতিহাসের মাত্র ২শ বছরের কয়েকটি টেন্দজেডির কথা আমি আপনাদের বলেছি। এর কয়টা মানব নিধনের ঘটনা মুসলমানদের সাথে জড়িত? তাদের কয়জন মুসলমান? সত্য কথা হচ্ছে এর একটি ঘটনার সাথেতো মুসলমানদের কোনো সৃর্ঋক নেই, অথচ এসব ঘটনায় শত শত কোটি মানুষ জীবন দিয়েছেΠজীবন দিয়েছে মানুষ নামের কিছু মানুষের দুশমনদের হাতে। প্রতিবছর সারা দুনিয়ায় ক্যানসারে মারা যায় ৭ মিলিয়ন, ৫ বছরের কম বয়সের শিশু মারা যায় ৭ মিলিয়ন, এইচ আইভি এইডসের মহামারিতে মারা যায় ২ মিলিয়ন, ম্যালেরিয়ায় ১ মিলিয়নের বেশী,গাড়ী দূর্ঘটনায় ১ মিলিয়নের ওপর ,সাধারন খুনের শিকার অর্ধ মিলিয়ন ও আতœহত্যা করে মারা যায় দুনিয়ায় আরো ৮ লাখ মানুষ। বিভিন্ন মানবীয় দূর্যোগের শিকার এই যে কোটি মানুষ-তাদের কয়জন গরীব দেশের বাসিন্দা? বরং সত্য কথা হচেছ, এই পরিসংখ্যানের এক বিরাট অংশই বাস করে পশ্চিমা বিশে^ই যাদের অধিকাংশই হচেছ অমুসলিম । ভুমিকৃঋ ভূমিধবস,জলোচছাস ও খরা নিয়েই যেহেতু আমাদের আলোচনা তাই শুধু এ বিষয়ের কিছু আলাদা পরিসংখ্যানও আমি এখানে পেশ করছি। ১৯৮০ সালের আমেরিকায় উঞ্চ তাপ ও খরায় ক্ষতির পরিমাণ ছিলো ৫৫ বিলিয়ন
ডলার । ১৯৮৮ সালে উত্তর আমেরিকায় খরায় লোকসান ছিলো ৭৮ বিলিয়ন ডলার।
১৯৯৪ সালে আমেরিকার নর্থরিজের ভূমিকৃেঋর ক্ষতির পরিমান ছিলো ৪২ বিলিয়ন
ডলার । ১৯৯৫ সালের জাপানের কোবে শহরের ভূমিকৃেঋর ক্ষতির পরিমাণ ছিলো ১০০
বিলিয়ন ডলার। ২০০৪ সালে জাপানের চুটসোর ভূমিকৃেঋর ক্ষতি ছিলো ৩২ বিলিয়ন ডলার । ২০০৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্টেন্দর হারিকেন ক্যাটরিনায় ক্ষতি ছিলো ১০৮ বিলিয়ন ডলার। ২০০৮ সালে চিনের চিচুন এলাকায় ভূমিকৃেঋর ক্ষতির পরিমান ছিলো ২৯ বিলিয়ন ডলার । ২০১০ সালে চিলির মল ভূমিকৃেঋর ক্ষতি ছিলো ৩১ বিলিয়ন। ২০১১ সালে জাপানের তোহোকো ভূমিকৃেঋর অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ, ছিলো ২৩৫ বিলিয়ন ডলার । সর্বশেষ ২০১২ সালে আমেরিকার সুপার ম্ভরম স্যাস্কির ক্ষতির পরিমাণ ছিলো ৫০ বিলিয়ন ডলার । এই সময়ের মধ্যে শুধু শিল্পোন্নত দেশ জাপান চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্টের ওপর দিয়ে যেসব ভূমিকৃেঋর তাস্কব বয়ে গেছেΠতার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণই হচ্ছে প্রায় ৮শ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিছুক্ষন সময়ের জন্যে আপনি একই সময়ে সংঘঠিত গোটা এশিয়া আফিΣকা মহাদেশের সব ভূমিকৃঋ ও ভূমিধসের অর্থনৈতিক ক্ষতির অংকের হিসেবটা করুন ! সুনামী বলুন, ইরান তুরস্ক ও পাকিস্তানের ঝড় তুফানের কথা বলুন, আফগানিস্তান ভারত ও বাংলাদেশ ফিলিফাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় গত কয়েক দশকের সবকটি দূর্যোগের কথা বলুনΠ এর সব ক্ষতিস্পলোকে যদি আপনি এক পাল্লায় রাখেন তারপরও কি তা এই শিল্পোন্নত দেশের ক্ষতির শতভাগের একভাগ হবে। বরং ইতিহাসের তথ্য উপাত্ত ও পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে মনে হয় বিগত এক দুই শতকে মুসলিম জনপদস্পলোই ছিলো বেশী নিরাপদ । পশ্চিমী দুনিয়ার তুলনায় তারাই বরং কম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে । হয়তো বা আল্লাহতে বিশ^াস করার কারনেই আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর এখনো কিছুটা অনুগ্রহ করে চলেছেন। আল্লাহ তায়ালা ওয়াদা করেছেন তিনি মুসলমানদের ওপর এই অনুগ্রহ অব্যহত রাখবেন যদি তারা এসব দুর্যোগকে আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষা হিসেবে গ্রহন করে,নিজেদের স্পনাহ খাতার জন্যে
আল্লাহর কাছে তাওবা করে। আল্লাহর নবী যেখানে আকাশের কোনে এক টুকরা মেঘ
দেখলে সাথে সাথে দ্রুাকাত নামায পড়তেন এবং অনাকাংখিত গযব থেকে বাঁচার জন্যে
আল্লাহর দরবারে দোয়া করতেনΠ যেখানে এতো বড়ো বড়ো গযবস্পলোও আমাদের মনে কোনো রকম আবেদন সৃষ্টি করে না ! বরং দেখা যায় দুনিয়ার বড়ো বড়ো মাথাস্পলো এর নানা আজস্পবি ব্যাখ্যা নিয়ে হাজির হন। এটা মোটেই শুভ লক্ষন নয়।
্আল্লাহুম্মা নাজজেনা বিন কুল্লে বালায়িদ দুনিয়া ও আযাবিল আখেরাহ্ হে আল্লাহ তুমি আমাদের দুনিয়ার যাবতীয় বালা মুসিবত ও দূর্যোগ থেকে রক্ষা করো, পরকালের কঠিন আযাব থেকেও তুমি আমাদের রেহাই দাও।
-হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY