কোরআন তেলাওয়াত

0
1782

কোরআন তেলাওয়াত
রোযার মাসের একটি উৎকৃষ্টএবাদত
আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা ষ্ক্রপর্ড়া আদেশ দিয়ে যে কিতাব নাযিল করেছেন,
সে কিতাব পড়ার স্পরুত্ব নিয়ে স্বতন্ত্র কোনো প্রবন্ধ লেখার দরকার আছে বলে আমি মনে
করি না। তারপরও আমরা মানুষরা প্রায়ই স্পরুত্বপূর্ণ কথাস্পলো ভুলে যাই বলে মাঝে মাঝে আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়ার দরকার হয়। আল্লাহ তায়ালার এ নির্দেশের মর্মবাণীই হচ্ছে এই কিতাবটিকে বেশী থেকে বেশী পরিমাণে তেলাওয়াত করতে হবে। এই বিষয়ের ওপর কোরআন হাদীসে এতো বর্ণনা এসেছে যে, সম্ভবত খুব কম এবাদতের ব্যাপারেই তা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মোমেনদের চরিত্র বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলছেনΠ ষ্ক্রতারা রাতে আল্লাহর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করে।্ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১১৩) ফজরের সময় বিশেষভাবে কোরআন তেলাওয়াতের ওপর স্পরুত্ব দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তার নবীকে যোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাযে কোরআন তেলাওয়াতের পাশাপাশি ফজরের সময় গুরুত্বের সাথে তেলাওয়াত করতে বলেছেন।
কোরআন তেলাওয়াত করার কথাটি স্বয়ং আল্লাহ সোবহানাহু ওয়া তায়ালাই আমাদের
বলেছেন। কোরআনের একাধিক আয়াতে এই বিষয়টিকে মানবজাতির কাছে রসূল পাঠানোর উদ্দেশ্য হিসেবেও তিনি বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার এই ঘোষণার কারণেই যাদের সামনে কোরআন নাযিল করা হয়েছে তারা কোরআনের তেলাওয়াত করাকে তাদের দৈনন্দিন কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছিলেন। আল্লাহর রসূল নিজেও একান্ত নিষ্ঠার সাথে তার ওপর নাযিল করা কিতাব তেলাওয়াত করতেন। শেষ রাতে প্রায়ই তিনি প্রথম রাকায়াতে সূরা আল বাকারা ও দ্বিতীয় রাকায়াতে সূরা আলে ইমরান তেলাওয়াত করতেন, দীর্ঘ তেলাওয়াতের কারণে প্রায়ই দেখা যেতো তাঁর কদম মোবারক ফুলে গেছে। কোরআনের নযুল শেষ হয়ে এলে তিনি প্রতিদিনই কোরআনের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অংশ তেলাওয়াত করতেন। ৭ দিনে কোরআনের যে অংশস্পলো তিনি তেলাওয়াত করতেন তাই পরবর্তী সময়ে ষ্ক্রমনযিল্ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। নিজে কোরআনের বাহক হওয়া সত্ত্বেও তিনি সুকণ্ঠের অধিকারী সাহাবীদের পাশে বসিয়ে তাদের মুখ থেকে কোরআনের তেলাওয়াত শুনতেন, এ সময় প্রায়ই তাঁর চোখ থেকে অঝোরে অশন্দুধারা নামতো।

যাদের চোখের সামনে হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের ওপর কোরআন নাযিল হয়েছিলো তারাও দিবানিশি এই কোরআনের তেলাওয়াত করতেন। এদের তেলাওয়াত নিয়ে হাজার হাজার ঘটনা আমাদের
ইতিহাসে স্বর্ণের অক্ষরে লেখা আছে। ইমাম আবু আবদুর রহমান সুলামী ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ কোরআন সাধক, তিনি ছিলেন একজন উঁচু পর্যায়ের তাবেয়ী। জীবনের ৪০টি বছর তিনি কুফার জামে মাসজিদে সবাইকে কোরআন শিখিয়ে কাটিয়েছেন। সাধারণ মানুষদের তিনি কোরআনের তেলাওয়াত, হেফয ও তাজবীদ পড়াতেন। ভক্তরা তার কাছে এ দীর্ঘ সময় ধরে কোরআন শেখানোর কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তরুতীয় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) আমাকে রসূলের এই হাদীসটি শুনিয়েছেন, ষ্ক্রতোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম ব্যক্তি যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়। সত্য কথা হচ্ছে প্রিয় নবীর এই হাদীসটিই ৪০ বছর আমাকে এখানে বসিয়ে রেখেছে।
ষষ্ঠ শতকের মোজাদ্দেদ ইমাম ইবনে তাইমিয়া জীবনের শেষ সময়স্পলো যালেম তাতারী শাসকের অত্যাচারে যখন জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিজের মালিকের দিদারের অপেক্ষা করছিলেন তখন এই কোরআন তেলাওয়াতই ছিলো তার একমাত্র সাথী। এটাই তাকে মৃত্যুও কোলে বসে জীবনের প্রেরণা যুগিয়েছে। ৭৯ বার কোরআন খতম করার পর তিনি চিরদিনের জন্যে নিজের মালিকের দরবারে চলে গেলেন। কোরআনে তেলাওয়াতের এই মহামর্যাদার কারণেই প্রিয় নবী বলেছেন, কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে আমার দস্তরখান, তোমরা কখনো একে বিনষ্ট করো না। তিনি আরো বলেছেন, যে হৃদয়ে কোরআন নেই তা একটি বিরান ঘরের মতো। কোরআনের অনুসারীরা যেন নিজ নিজ হৃদয়কে বিরান ঘর না বানায় সে জন্যেইΠ আল্লাহর নবী বলেছেন- যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর তেলাওয়াত করবে তার জন্যে ১০ নেকী লেখা হবে। এই আক্ষরিক হিসেবের ব্যাখ্যাটা তিনি এভাবে দিয়েছেন যে, কেউ যদি ষ্ক্রআল্লাহ্ শব্দটি তেলাওয়াত করে তাহলে তাঁর আমল নামায় লেখা হবে ৪০টি নেকী, ষ্ক্রআলিফ্ অক্ষরের জন্যে ১০, দুইটি ষ্ক্রলাম্ অক্ষরের জন্যে ২০, সর্বশেষে রয়েছে ষ্ক্রহ্ াঅক্ষরটি, এর জন্যে থাকবে ১০টি নেকী। এ জন্যই সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ী, তাবে তাবেয়ীদের অধিকাংশ লোকই মনে করতেন সহজে বেশি নেকী অর্জন করার ক্ষেত্রে কোরআন তেলাওয়াতের চেয়ে কার্যকর কোনো এবাদত নেই। ষ্ক্রআফদাদুল এবাদতে তেলাওয়াতুল কোরআন্ সর্বোত্তম এবাদত হচ্ছে কোরআনের তেলাওয়াত করা।
হাদীসের কিতাবসমূহেও প্রিয়নবী কোরআন তেলাওয়াতের বহুমুখী মর্যাদার কথা বলেছেন। প্রিয়নবী বলেছেন, দ্জুন ব্যক্তির ব্যাপারে হিংসা করা বৈধΠ তার মধ্যে একজন হচ্ছে এমন এক ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ তায়ালা কোরআনের জ্ঞান দিয়ে ধন্য করেছেন এবং সে রাত দিন এই কোরআন তেলাওয়াত করে। একটি হাদীসে কুদসীর বর্ণনা মতে প্রিয়নবী বলেছেন, সমগ্র মাখলুকাতের ওপর আমার শেন্দষ্ঠত্ব যেমন, তেমনি শেন্দষ্ঠত্ব রয়েছে কোরআন তেলাওয়াতকারীর অন্য লোকদের ওপর। আরো বলা হয়েছে, তোমরা তোমাদের ঘরস্পলোকে নামায ও কোরআন দিয়ে আলোকিত করো। কোরআন তেলাওয়াত হচ্ছে আল্লাহর দস্তরখান, তাকে কখনো ছেড়ে দিয়ো না। হে কোরআনের সাথীরা! কোরআনকে এভাবে পড়ো, যেভাবে কোরআন পড়া দরকার। দিবা নিশি কোরআন পড়ো, কোরআনের প্রসার ঘটাও।তার ওপর চিন্তা গবেষণা করো নে ােমরা সফল হতে পারো।এ ছাড়াও আরো অস্যং হাদীস এমন রয়েছে খোনে ােরআন লোওয়াতের ওপর সমধিক স্প ইত্বয়ো হয়েছে।যদি ােনো ব্যক্তিােরআনের অর্থ নাও বুঝেন, তাকেও কোরআন তেলাওয়াত অব্যহত রাখা দরকার।কারণ ােরআন লোওয়াতের প্রতি অক্ষরই কেী রয়েছে। প্রতি দিন ােরআন কারীমের কি পরিমাণ অং লোওয়াত করতে হবেΠ তার ােনো বিধিবদ্ধ নিয়ম ইে।সাধারণত বলা হয়Π ােমার পক্ষেযতোটুুসম্ভব ততোটুু পড়ো। তারপরও বিভিন্নহাদীস েেক যা জানা যায় তা হচ্ছেসাত দিনের কম সময়ের মধ্যে ােরআন খতম করা ঠিক নয়।এ ব্যাপারে ে কয়টি হাদীসের উদ্ধরুত য়ো হয়, তার মধ্যে একটি হচ্ছে যে ব্যক্তি ৩দিনের কম সময়ের মধ্যে খতম করবে, সে আসলে কোরআনের কিছুই বুঝবে না। তিন দিনের কম সময়ের মধ্যে কোরআন খতম করো নাΠ এটা হচ্ছে আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) ও মোয়ায ইবনে জাবাল (রা.)-এর বর্ণনা, কিন্তু অন্য সূত্রে আবার বলা হয়েছে তিন দিনের কম সময়ের মধ্যেও কোরআন খতম করার অনুমতি আছে। অপর দিকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনা হচ্ছেΠ তিনি একবার রাসূলুল্লাহ (স.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কতো দিনের মধ্যে কোরআন খতম করবেন? রাসূলুল্লাহ (স.) বললেন, এক মাস। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বললেন, আমি আমার মধ্যে আরো সামর্থ অনুভব করছি, তখন রাসূলুল্লাহ (স.) তাকে ১০ দিনের মধ্যে খতম করার অনুমতি দিয়েছেন। তারপর তিনি আবার বললেন, তিনি এর চেয়েও কম সময়ে শেষ করতে পারেন। তখন রাসূলুল্লাহ (স.) তাকে বললেন, ৭ দিনের মধ্যে খতম করবে। এর চেয়ে কম সময়ের মধ্যে নয়। হযরত মাকহুল (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে যারা শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান, তারা ৭ দিনে কোরআন খতম করতেন। কেউ কেউ এক মাসে শেষ করতেন, কেউ দুই মাসে শেষ করতেন। কেউ আবার তার চেয়েও বেশী সময়ের মধ্যে কোরআন শেষ করতেন। ইমাম আবু হানীফা (র.) মনে করেন, বছরে কম পক্ষে দুই বার কোরআন খতম করলে পাঠকের ওপর কোরআনের হক আদায় হয়ে যাবে। কেননা হযরত জিবরাঈল (আ.) প্রিয় নবী (স.)-কে সাথে নিয়ে তাঁর জীবনের শেষ বছরে দুই বার কোরআন খতম করেছেন। ইমাম নববী (র.) বলেন, যারা দ্বীনি ও সামাজিক দায় দায়িত্বের কারণে বেশী ব্যস্ত থাকেন, তাদের নিজেদেও সময় সুযোগমতো কোরআনের কিছু অংশ অন্তত বুঝে পড়া দরকার। কিন্তু যাদের ব্যস্ততা কম ও অবসর সময় একটু বেশী, তাদের অধিক পরিমাণে কোরআন পড়া দরকার। আমি মনে করি, প্রত্যেকটি মানুষেরই দিনের কিছু অংশ কোরআন তেলাওয়াতের জন্যে, কিছু অংশ কোরআন বোঝার জন্যে ব্যয় করা উচিত। প্রিয়নবী (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোরআন পড়লো এবং দৈনিক নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করতে থাকলো, তার উদাহরণ হচ্ছে মিশকে পূর্ণ একটি থলের মতো, যার সুগন্ধি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে, আর যে ব্যক্তি কোরআন পড়া শিখেছে, কিন্তু সে তা তেলাওয়াত করে না, তার উদাহরণ হচ্ছে মিশকে পূর্ণ একটি বোতলের মতো যা ছিপি দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, রীতিমতো কোরআন তেলাওয়াত না করলে এর সৃঋর্কে চিন্তা ভাবনা না করলে তা মানুষের বক্ষ থেকে হারিয়ে যাবে।
আল্লাহর কসম! এটা হচ্ছে ঠিক এমনΠ যেমন রশি ঢিল দিলে উট পালিয়ে যায়। আসলে আল্লাহর এই কিতাব যেমন মানুষের তেলাওয়াতের জন্যে, তেমনি তা বুঝা ও আমল করার জন্যেও। সাহাবায়ে কেরামরা কোরআনকে একটি ব্যবহারিক গ্রন্থ মনে করতেন। তাদের ওপর আয়াতের যতোটুকু নাযিল হতো, তারা আগে তাকে নিজের জীবনে আমল করতেন, রাতে আল্লাহর ভয়ে কোরআন তেলাওয়াত করতেন, আর দিনের বেলায় নিজেকে তারা সে কথাস্পলোর জীবন্ত প্রতীকে পরিণত করতেন। যখনি তারা কোন আয়াত তেলাওয়াত করতেন, তারা বিশ^াস করতেন এ কথাস্পলো তাদের জন্যেই নাযিল করা হয়েছে। এ কথাটিও ভালো করে বুঝতে হবে যে, কোরআন কোনো থিউরী নয়, কোরআন হচ্ছে মানুষের জীবন গড়ার প্র্যাকটিক্যাল কর্মসূচী, কোরআনের বরকত থেকে যথার্থ উপকার পেতে হলে অবশ্যই এ বিষয়টাকে আমাদের এভাবে বুঝতে বে। প্রথমত কোরআন পড়ার আগে প্রত্যেক কোরআনের পাঠককে আল্লাহ তায়ালার প্রতি একনিষ্ঠ হয়ে শুধু তার কাছ থেকেই হেদায়াত চাইতে হবে। এই কিতাব থেকে হেদায়াত ও বরকত পেতে হলে মন থেকে যাবতীয় বৈষয়িক বিষয় ঝেড়ে ফেলতে হবে। দুনিয়ার অর্থ-কড়ি, সহায় সৃঋত্তি, মান সম্মান কোনো কিছুই যেন কোরআন থেকে হেদায়াত ও আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের পথে বাধা না হতে পারে সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। আমি কোন নিয়তে আজ একথাস্পলো লিখছি, কোন সে চরম ও পরম পাওয়া যার জন্যে আজ আমি কোরআনের তেলাওয়াত শুরুকরেছি। কিষেই বা আমাকে কোরআনের এইতেলাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে – এ কথাস্পলো আমি নিজেই জানি, আর জানেন আমার মালিক প্রভু,আমার রব অন্তর্যামী আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ তায়ালার সামনে আমার কোনো কিছুই অজানা নয়। সুতরাং সামনে এস্পবার আগে আবারও চলুন আমরা সবাই আমাদের লক্ষ্যবস্তুটা নির্ধারণ করে নেই। আমাদের অতীত যাই হোক না কেন, আজ এই মুহূর্তে আসুন, আমরা আল্লাহর নামে শপথ নেবোΠ আমাদের কোরআন তেলাওয়াত, আমাদের কোরআন অনুধাবন, আমাদেও কোরআন চর্চা ও সাধনা সবটুকুই হবে আল্লাহ তায়ালাকে সন্তুষ্ট করার জন্যে। হে আমাদেও মালিক প্রভু! তুমি আমাদের মনের যাবতীয় জঞ্জাল সাফ করে দাও। আমাদের মনকে তুমি দুনিয়া ও দুনিয়ার সমুদয় লোভ থেকে মুক্ত করে দাও। আমাদের মনে যেন শয়তানের ওয়াসওয়াসা না থাকে, আমাদের সে তাওফীক দাও।

এ কথাটাই আল্লাহ তায়ালা আমাদের শুরুতে বলে দিয়েছেন। তিনি বলেছেনΠ ষ্ক্রযখন তুমি কোরআন পড়বে, তখন সবার আগে আল্লাহর আলীশান দরবারে অভিশপ্ত শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে আশন্দয় চেয়ে নিয়ো। (সূরা আন নাহল, আয়াত ৯৮)
আজ দুনিয়ার জাহানের অবস্থা দেখলে আল্লাহ তায়ালার এই আয়াতের সত্যতা বুঝতে আমাদের মোটেই কষ্ট হবার কথা নয়। আল্লাহর যমীনে আল্লাহর বান্দারা কোরআন পড়ুক,  কোরআনের আলোচনা করুক, যারা এটা চায় না তারাই আজ দেশে দেশে কোরআনের পাঠ তুলে দিচ্ছে।
কোরআনের আলোচনা ও কোরআনের মাহফিল বন্ধ করে দিচ্ছে। আমাদেও সোনামণিরা জীবনের শুরুতে যেন কোরআন পড়তে না পারে, সে জন্যে তাদের সামনে অন্য লোভনীয় বস্তু রেখে কোরআন থেকে তাদের দূরে রাখছে। স্কুল কলেজ বিশ^বিদ্যালয়, বিচার ও জন প্রশাসনসহ একেবারে সাধারণ পর্যায়েও যারা কোরআনের আনা গোনা সহ্য কওে না তাদের মতো বড়ো বড়ো শয়তানদের প্ররোচনা ও ওয়াসওয়াসা থেকেও আল্লাহ তায়ালা আমাদের বাঁচান। কোরআনের তেলাওয়াত ও কোরআন চর্চার সাথে প্রত্যেক কোরআন পাঠকেরই শারীরিক ও মানসিক পাক পবিত্রতা প্রয়োজন। আরশে আযীম থেকে লাওহে মাহফূয, জিবরাঈল থেকে প্রিয়নবীর সীনা মোবারক পর্যন্ত ওহীর এ দীর্ঘ পথযাত্রার কোথায়ও এতে অপবিত্র কারো স্পর্শ এতে লাগেনি। তাই এই কিতাবের হেদায়াত ও বরকতের জন্যে ভেতর বাইরের পবিত্রতা প্রয়োজন। (সূরা আল ওয়াকেয়া, আয়াত ৭৯)
আল্লাহ তায়ালা যিনি এই কিতাব নাযিল করেছেনΠ তিনিই আমাদের আদেশ দিয়েছেন, তুমি কোরআন পড়ো- ধীরে ধীরে পরিদ্দার করে পড়ো। (সূরা আল মোযৎযাম্মেল, আয়াত ৪)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আল্টাস (রা.) বলেন, পরিদ্দার করে পড়ো, হযরত তাউস (র.) বলেন, এমন পরিদ্দার করে পড়ো, যাতে করে তোমরা এর মর্ম অনুধাবন করতে পারো। এ কারণেই ওলামায়ে কেরামরা এ ব্যপারে একমত যে, ধীরে ধীরে বুঝে সুঝে কম পড়াΠ তাড়াহুড়ো করে বেশী পড়ার চাইতে ভালো। আমাদের দেশে এক শেন্দণীর কিছু পেশাদার কোরআনের পাঠক খতমে তারাবীহ ও সবিনা খতমে যেভাবে কোরআন তেলাওয়াত করেন, তাদের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য না করে আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমরা তাদের জন্যে শুধু দোয়া করতে পারি।
কোরআনের খতম করে আল্লাহর দরবারে প্রাণ ভরে দোয়া করা, নিজের প্রয়োজনসমূহ তার কাছে পেশ করা ও কোরআনের তেলাওয়াত যেন আল্লাহ তায়ালার দরবারে কবুল হয় সে জন্যে দোয়া করা সুন্নত। কোরআন খতম করে পরিবারের লোকজনদের নিয়ে একত্রে দোয়া করাতে কোনো দোষ নেই। তবে কোনো কিছুতেই যেন আনুষ্ঠানিকতা বড়ো হয়ে দেখা না দেয়, সেটা খেয়াল রাখতে হবে।
আমাদের দেশে আরেকটি বিষয়েরও রেওয়াজ আছে, আমরা কোরআন পড়ে এর সাওয়াব অন্য কোনো আত্বীয় স্বজন কিংবা পরিবারের কোনো সদস্যের নামে পৌঁছে দিতে চাই।
এটাকেই অনেকে ষ্ক্রঈসালে সওয়াব্ বলেন। ষ্ক্রঈসালে সওয়াব্ মানে হচ্ছে সওয়াব পৌঁছানো। নীতিগতভাবে অনেকেই মনে করেন, এতে কোনো দোষ নেই। কারণ আমরা আমাদের নিজেদের এবাদতের পরও তো অন্যের জন্যে দোয়া করি। সম্মানিত চার ইমামের তিন জনই অর্থাৎ ইমাম আবু হানীফা, ইমাম আহমদ ও ইমাম মালেক র. মনে করেন, কোরআন খতম কওে অন্যের নামে সওয়াব পাঠালে তা সে ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যায়। ইমাম শাফেয়ী র. অবশ্য এ ব্যাপারে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, কোরআনুল কারীমের এ আয়াতΠ ষ্ক্রমানুষের জন্যে শুধু তাই (থাকবে) যা সে নিজে অর্জন করেছ্ ে(সূরা আনৎ নাজম) অনুযায়ী অন্যের পাঠানো সওয়াব তার কাছে পৌঁছে না। আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন।
(আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স -এর সদ্য প্রকাশিত ৭ রঙে সজ্জিত তাজ
ওয়ীদসহ হাফেজী কোরআনের ভূমিকা থেকে।)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY