মদীনার পথে প্রিয়নবী: হিজরতের রুট

0
191

মদীনার পথে প্রিয়নবী: হিজরতের রুট

১.       রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.) মদীনার পথে রওয়ানা হন।

 

২.       ১লা রবিউল আউয়াল মোতাবেক ১৬ই সেপ্টেম্বর ৬২২ ঈসায়ী সোমবার পূর্ণিমার রাতে আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকেত সওয়ারী নিয়ে আসে।

৩.      এদিকে আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) সফরের খাদ্যপানীয় নিয়ে আসেন, এরপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.) রওয়ানা হন। আমের ইবনে ফোহায়রা (রা.)-ও সঙ্গে ছিলেন।

৪.       রাহবার আবদুল্লাহ ইবনে উরাইকেত সমুদেন্দাপকূলের পথে মদীনা অভিমুখে রওয়ানা হন।

৫.      গারে ছূর থেকে বেরোবার পর আবদুল্লাহ তাদের প্রথমে দক্ষিণ দিকে ইয়েমেনের পথে বহুদূর নিয়ে যায়। এরপর পশ্চিমাভিমুখী হয়ে সমুদেন্দাপকূল ধরে যাত্রা করেন। পরে এমন এক পথে ওঠেন, যে পথ সম্পর্কে সাধারণ লোকেরা অবহিত ছিলো না। সে পথে উত্তর দিকে অগ্রসর হন। লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী এ পথে লোক চলাচল খুব কম ছিলো।

৬.      আল্লাহর রসূল এ পথে যেসব স্থান অতিক্রম করেন, ইবনে ইসহাক সেগুলোর উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পথপ্রদর্শক যখন তাঁদের নিয়ে বের হন, তখন মক্কার নিন্মভূমি থেকে বের হন।

৭.       উপকূল দিয়ে চলার পর ওসফানের নীচু এলাকায় গিয়ে মোড় নেন। তারপর সানিয়াতুল মোররা হয়ে লকফের বিয়াবান অতিক্রম করেন। এরপর হুজ্জাজ বিয়াবানে পৌঁছে সেখান থেকে মোজাহ মোড় অতিক্রম করে গাযওয়াইন মোড়ের নিন্মভূমিতে পথ চলেন। তারপর যি কেশরার মাঠে প্রবেশ করে জুদাজুদের দিকে যান এবং সেখান থেকে আজার্দে পৌঁছেন। এরপর তায়াহহুন বিয়াবানের পাশের যু-সেলম প্রান্তর অতিক্রম করেন। সেখানে থেকে আবীদ, তারপর ফাজা অভিমুখে রওয়ানা হন। তারপর আরজে অবতরণ করেন। পরে রাকুবার ডান পাশ দিয়ে সানিয়াতুল আয়ের দিয়ে পথ চলেন এবং রেম উপত্যকায় অবতরণ করেন। সবশেষে কোবায় গিয়ে পৌঁছেন। (আর রাহীকুল মাখতুমে এভাবেই আছে)

৮.      হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, গারে ছূর থেকে বেরিয়ে আমরা সারারাত এবং পরদিন দুপুর পর্যন্ত পথ চলতে থাকি। ঠিক দুপুরে রাস্তা একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়ে। এ সময় একটা লম্বা চাতাল দেখতে পাই, যার ছায়ায় তখনও রোদ প্রবেশ করেনি। আমরা সেখানে অবতরণ করি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শোয়ার জন্যে আমি নিজের হাতে একটা জায়গা সমান করি, এরপর সেখানে একখানা চামড়া বিছিয়ে দেই। এরপর তাঁকে বলি, হে আল্লাহর রসূল, আপনি শুয়ে বিশ্রাম নিন, আমি আশপাশে খেয়াল রাখছি। তিনি শুয়ে পড়েন।

৯.      এ সফরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মে মাবাদ খোযাইয়ার তাঁবুর কাছ দিয়ে পথ অতিক্রম করেন।

১০.    পথে বোরায়দা আসলামী রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখোমুখি হয়। এ লোক ছিলো তার কওমের সর্দার। তিনি নিজ গোত্রের ৭০ জন লোকসহ সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করেন।

১১.     মদীনার পথে হযরত যোবায়র ইবনে আওয়াম (রা.)-এর সাথে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দেখা হয়। তিনি মুসলমানদের এক বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে সিরিয়া থেকে ফিরছিলেন। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত আবু বকর (রা.)-কে সাদা কাপড় উপহার দেন

১২.     নবুয়তের চতুর্দশ বছরের ৮ই রবিউল আউয়াল, ১লা হিজরী মোতাবেক ২৩ শে সেপ্টেম্বর ৬২২ ঈসায়ী সালের সোমবার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোবায় অবতরণ করেন।

১৩.    হযরত ওরওয়া ইবনে যোবায়র (রা.) বলেন, মদীনার মুসলমানরা মক্কা থেকে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওয়ানা হওয়ার খবর জেনেছিলেন। এ কারণে তারা ভোরেই হাররার দিকে বেরিয়ে রসূল (স.)-এর পথ পানে চেয়ে থাকতেন আর দুপুরের কড়া রোদে ফিরে আসতেন।

১৪.     এ সময় এক ইহুদী কিছু একটা দেখতে নিজের টিলার উপর ওঠে। সে দেখলো, রসূল (স.) এবং তাঁর সংগীরা সাদা কাপড়ে আচ্চদিত হয়ে আসছেন। যাদের থেকে চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ছে। আনন্দের আতিশয্যে সে চিৎকার করে বলতে লাগলো, শোনো হে আরববাসী, তোমাদের সৌভাগ্য রবি আসছে, তোমরা যার অপেক্ষা করছিলে। একথা শোনামাত্রই মুসলমানরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় রসূল (স.)-কে অভ্যর্থনা জানাতে বেরিয়ে পড়েন।

১৫.    হযরত ওরওয়া ইবনে যোবায়র (রা.) বলেন, লোকদের সাথে মিলিত হওয়ার পর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সাথে ডান দিকে মোড় নিয়ে বনী আমর ইবনে আওফের মহল্লায় শুভাগমন করেন। এ দিন ছিলো সোমবার, মাস ছিলো রবিউল আউয়াল।

১৬.    রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অভ্যর্থনা এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্যে সমগ্র মদীনায় জনতার ঢল নামে।

 

সূত্র: আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স প্রকাশিত সীরাতগ্রন্থ ‘‘ আর রাহীকুল মাখতুম’’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY