মহানবী (স.)-এর কয়েকটি মোজেযা

0
1361

মহানবী (.)-এর কয়েকটি মোজেযা

জাহাঙ্গীর আলম শোভন

মোযেজা মিরাকল বিভিন্ন ধর্ম ও নবীদের বিশেষ প্রমাণ। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবীদেরকে তাদের কওমের কাছে তাদের নবীত্ব প্রমানে সহযোগিতা করতে কিছু সাহায্য করেছেন। মূলত এগুলো আল্লাহরই কুদরত। আল্লাহ সাহায্য না করলে কারো পক্ষে মোযেজা দেখানো সম্ভব নয়।

আমাদের প্রিয়নবী (স)এর বেশ কিছু মোযেজা রয়েছে এগুলো সাধারণত 3 প্রকারের।

এক. স্বভাবতই আল্লাহর ইচ্চায় কিছু বিষয় সংঘঠিত হয়েছে। যেমন ওহী নাযিল ও মেরাজ

দুই. ইসলামের সত্যতা প্রমানের জন্য আল্লাহ এগুলো দেখাতে সাহায্য করেছেন।যেমন: চন্দ্রদ্বিখন্ডন

তিন. কখনো নবী (স)কে এবং মুসলিমদের সাহায্য করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অলেীকিক সাহায্য এসেছে। যুদ্ধের সময় বিভিন্ন সাহায্য

চার: কখনো রাসূল (স) এর ইচ্চায় আল্লাহ স্পেশাল কিছু জিনিস দেখিয়েছেন।যেমন উম্মে মাবাদের তাবুর ঘটনা।

1. পবিত্র কোরআন, হ্যা কোরআনই এক বিশেষ মোযেজা। নিঃসন্দেহে কোরআন হচ্ছে রসূল (স.)-এর সর্বশ্রেষ্ট মোজেযা। এটা মাহন আল্লাহর এক মোযেজা আসলে সব মোযেজাই আল্লাহর পক্ষ থেকে।

2. বদরের যুদ্ধে জয়ের জন্য বৃষ্টির প্রয়োজন ছিলো, রাসূল (স) বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন। দোয়া। এই দোয়া কবুল হয়েছিলো। তিনি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসে (রা.)-র জন্যে দোয়া করেছিলেন যেন দ্বীনী জ্ঞানে বুৎপত্তি লাভ করতে পারেন।

  1. হাদীস থেকে জানা যায় হযরত আনাস (রা.)-এর জন্যে সন্তান সংখ্যাধিক্যের এবং দীর্ঘায়ু লাভের দোয়া করেছিলেন প্রিয় নবী (স)। এসব দোয়া অক্ষরে অক্ষরে কবুল হয়েছিলো।এটাকেও নবীজির মোজেজা হিসেবে ধরা হয়।

৩. নি: সন্দেহে মে’রাজের ঘটনার কথা বলা যায়। কোরআন এবং হাদীসে এ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের যুক্তি তর্ক দ্বারাও এটা প্রমানিত। রাসূল (স)আল্লাহর ইচ্চায় জিবরাইল (আ) এর সাথে বোরাক নামক বাহনে করে উর্ধাকাশে ভ্রমন করেন।

৪. মিম্বর তৈরীর আগে রসূল (স.) খেজুর গাছের একটি গুঁড়ির ওপর দাঁড়িয়ে খোতবা দিতেন। মিম্বর তৈরীর পর রসূল (স.) সেই খেজুর গাছের গুঁড়ি ব্যবহার বন্ধ করেন। এর ফলে সেই গুঁড়ি কাঁদতে শুরু করলো। রসূল (স.) সেই গুঁড়ির কাছে এসে তার ওপর হাত রাখলেন, এতে সেই গুঁড়ির কান্না বন্ধ হলো।

5. সাহাবাদের সঙ্গে জাওবা নামক জায়গায় অবস্থান করছিলেন। তিনি পানিপূর্ণ একটি পাত্র আনালেন এবং সেই পাত্রে হাত ঢোকালেন। তাঁর আঙ্গুল থেকে পানির ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হতে লাগলো। সেই পানি দ্বারা তিনি এবং তাঁর সাহাবারা ওযু করেন। হোদায়বিয়ার সন্ধির সময়ে রসূল (স.) শুকনো কূয়ায় ওযুর অবশিষ্ট পানি ফেলে দিয়ে দোয়া করেন, ফলে সেই কূয়া পানিতে পূর্ণ হয়ে যায়।

6. সহীহ হাদীসসমূহে রসূল (স.)-এর কিছু কিছু ভবিষ্যত বাণীর উল্লেখ পাওয়া যায়। যেসব ভবিষ্যত বাণী অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছিলো। যেমন ইয়েমেন, বসরা এবং পারস্যের ওপর মুসলমানদের জয়লাভ।

হযরত আম্মার (রা.)-এর ক্ষেত্রে ভবিষ্যত বাণী করেছিলেন যে, তাকে একদল অত্যাচারী লোক হত্যা করবে। বাস্তবে তাই ঘটেছিলো। অথবা কনস্টাটিনোপল মুসলমানরা অধিকার করবে, এ রকম ভবিষ্যতবাণীও যথাযথ প্রমাণিত হয়েছিলো।

  1. 8. এছাড়া রয়েছে চন্দ্র দ্বিখন্ডনের ঘটনা। রাসূলরা প্রথমে প্রিয়নবীকে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলো পরে প্রিয় নবী যখণ সত্যি সত্যি চন্দ্র দ্বিখনবডন করেন তখন তারা তাকে যাদুকর বলে আখ্যায়িত

করেছিল।

হিজরতের সময় প্রিয়নবী পথে উম্মে মাবাদ নামক এক ব্যক্তির গৃহে বিশ্রামনেন। তার ছিলো রোগা বকরী। তাতে দূধ ছিলণা কিন্তু নবী করীম (স) হাত দেয়ার পর দূধে পূর্ণ হয়। এবং উপস্থিত সকলে ক্ষুধা তৃষ্ঞা মিটিয়ে তা পান করেন।

এছাড়া আরো অনেক মোজেযা রয়েছে। যেগুলো কোরআন ও হাদীস দ্বারা প্রমানিত। সাধারণত আমাদের দেশে দেখা যায়। উদ্ভট বিভিন্ন গল্প প্রচলিত রয়েছে। একশ্রেনীর বকধার্মিক লোকেরা রাসূল (স) কে অতিমানব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কিছু বানানো গালগল্প রচনা করেছেন। কোরআন এবং সহিহ হাদীসের বাইরে আমরা অন্যকোনো কিছুকে মোজেজা হিসেবে মেনে নেবনা। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন থাকা উচিত। অনেক সময় বিধর্মী ও নাস্তিকরা বিভিন্ন ধরনের উদ্ভট কথাকে রাসূলের মোযজা হিসেবে প্রচার করে পরে তারা বা তাদের অন্য কোন দল সেই গালগল্পকে বৈজ্ঞানিক তত্ব দিয়ে মিথ্যা প্রমান করে ইসলামকে অসার হিসেবে প্রমাণ করতে চায়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY