প্রিয় নবীর ২৪ ঘন্টা

মূল: জাহেদা খোদাবখশ গাজী

গ্রন্থ: তিনি চাঁদের চেয়ে সুন্দর

সম্পাদনা: খাদিজা আখতার রেজায়ী

প্রকাশনা: আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স

দিনের প্রথম অংশ
670px-Memorize-Ayahs-from-the-Quran-Step-1
শয্যাত্যাগ : রাতের মধ্যভাগের পর
দোয়া পাঠ : ‘‘আলহামদু লিল্লাহিল্লাযি আহইয়ানা ব্দাা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।্
প্রাকৃতিক প্রয়োজন :প্রাকৃতিক প্রয়োজনে জুতো পরিধান করে মাথা ঢেকে বাঁ পা আগে দিয়ে প্রবেশ করতেন। প্রথমে ডান পা বাইরে দিতেন এবং বলতেন হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে মাগফেরাত কামনা করছি।
শেষ রাতের ওযু: রসূলুল্লাহ (স.) ওযুর জন্য বসতেন এবং এই দোয়া বারবার পাঠ করতেন, ‘‘আল্লাহুম্মাগফেরলী যামবী ওয়া ওয়াসস্লিী ফি দারী ওয়া বারেক লী ফি রেযক্ ী’’
শেষ রাতের নামায: রসূল (স.) সূরা আলে এমরানের শেষ রুকু তেলাওয়াত করতেন এবং তাহাজ্জুদ নামায আদায় করতেন। তাহাজ্জুদ কখনো ৪ কখনো ৬ কখনো ১০ কখনো ১২ রাকাত আদায় করতেন।
বিশ্রাম  : তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে রসূল (স) কিছুক্ষণ বিছানায় বিশ্রাম নিতেন। ।
ফজরের নামাযের আযান : ফজরের নামাযের আযান দিলে রসূলুল্লাহ (স.) ঘরের ভেতরেই দুই রাকাত সুন্নত আদায় করতেন।
মসজিদে প্রবেশ: ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করতেন।
নামাযের পর: সাহাবাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বসতেন।
সূর্য কিছুটা ওপরে ওঠার পর:  এশরাকের নামায আদায় করতেন।
দ্বীনের দাওয়াত: ওহী নাযিল হওয়ার পর রসূল (স.) নাযিল করা ওহী সাহাবাদের শোনাতেন এবং লেখাতেন। সাহাবাদের সংগে নিয়ে তিনি বাজারে যেতেন এবং লোকদের ওয়ায নসিহত করতেন। ‘‘লা-শরিক আল্লার্হ ’’ এবাদাতের দাওয়াত দিতেন।

16Dates
দিনের অন্যান্য কাজ

সাক্ষাৎকার: প্রিয়নবী (স) সাক্ষাতে সর্বদা নমন্দতা ভদন্দতার পরিচয় দিতেন। সালাম: তিনি প্রথমে সালাম দিতেন।
শিশুদের প্রতি : শিশুদের ভালোবাসতেন। ¯েœহভরে তিনি তাদের কোলে তুলে নিতেন। মাথায় হাত রেখে দোয়া করতেন।
সাহায্য:  সাহায্যপ্রার্থীদের সাধ্যমত সাহায্য করতেন।
ঘরোয়া কাজকর্মে : ঘরকন্নার কাজ যেমন: ঘরপরিষ্কার , পশুদের খাওয়ানো, বকরির দুধ দোহন করতেন। কাপড় সেলাই, জুতো সেলাই, বাজারে যাওয়া।
চলাফেরার : প্রিয় নবী (স.) সাহাবাদের পেছনে চলাফেরা করতে পছন্দ করতেন।
যাত্রার সময়:  ‘‘বিসমিল্লাহ্ বলে রওয়ানা হতেন।
উঁচু জায়গায় ওঠার সময়:  বারবার ‘‘আল্লাহু আকবর’’্ বলতেন।
নীচু জায়গায় অবতরণের সময় : ‘‘সোবহানাল্লাহ্’ু’ বলতেন
পথ চলার সময়ে: আল্লাহ পাকের যেকের করতেন।
সওয়ারীর পিঠে ওঠার সময়ে : ‘‘বিসমিল্লাহ্’’ বলতেন।
উঠার পর পাঠ করতেন, ‘‘সোবাহানাল্লাযি ছাখখারা লানা হাযা ওয়া ম্ াকুন্না লাহু মোকরেনীন। ওয়া ইন্না ইলা রাল্টেনা লামোনকালেবুন।্ ’’
হাঁচি  দেয়ার পর : ‘‘আল হামদুলিল্লাহ্’’ বলতেন।
যারা শুনতো তারা বলতো: ‘‘ইয়ারহামুকাল্লাহ্। ’’
জবাবে  নবী (স.) বলতেন:  ‘‘ইয়াহদিয়াকুমুল্লাহু ওয়া ইউছলেহ আমালাকুম।’’্
মজলিসে বসা: যেখানে জায়গা পেতেন সেখানেই বসতেন। ।
করমর্দন: কেউ করমর্দন করলে তার হাত সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত রসূল (স.) নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতেন না।
কারো ঘরে প্রবেশ: দরজার এক পাশে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি চাইতেন। সেই সাথে ষ্ক্রআসসালামু আলায়কুম্ বলতেন।
রোগীর সেবা: রোগীর কপালে হাত রাখতেন। রোগ মুক্তির জন্য দোয়া করতেন। আল্রাহকে স্মরন করতে বলতেন। অমুসলিম রোগীদেরও সে শশ্রুষা করতেন।
dv1341028
দিনের শেষ ভাগ

আসর মাগরেব এবং এশার : হুযুর (স.) যোহর আসর মাগরেব এবং এশার নামায সাহাবাদের সংগে মাসজিদে আদায় করতেন।
এশার নামায : জামাতে এশার নামায আদায়ের পর সাহাবাদের বিদায় করে দিয়ে নিজের ঘরে যেতেন।

বিছানার পাশে যা থাকতো: সুর্মাদানি, চিরুনি, তেলের শিশি, কাঁচি, মেসওয়াক, আয়না এবং ছোট এক টুকরো কাঠ। সেই কাঠের টুকরোটাকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে চুলকানোর প্রয়োজনে তিনি ব্যবহার করতেন।
বিছানা: খেজুর পাতায় তৈরী। মাঝে মাঝে তা দুই ভাঁজ করে নেয়া হতো।
শোয়ার আগে:  শোয়ার আগে প্রিয় নবী (স.) চোখে কিছু সুরমা ব্যবহার করতেন। ওযু করা অবস্থায় তিনি শয়ন করতেন।
শয়ন: তিনি কখনো উপুড় হয়ে শয়ন করতেন না। ডান দিকে কাত হয়ে কেবলামুখী হয়ে তিনি শয়ন করতেন। ডান হাতের তালু ঘাড়ের নীচে রাখতেন।
কয়নের সময় দোয়া:  ‘‘আল্লাহুম্মা ক্িেন আযাবাকা ইয়াওমা তাবআছু এবাদাকা’’।্ অর্থাৎ হে আল্লাহ তায়ালা, আমাকে আযাব থেকে রক্ষা করো, যেদিন তুমি বান্দাদের জীবিত করবে। এই দোয়া তিনি তিনবার পাঠ করতেন। এরপর সূরা আল এখলাছ, সূরা আল ফালাক, সূরা আন নাছ পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে সারা দেহ স্পর্শ করতেন। এই আমলও তিনি তিনবার করতেন। এই দোয়াও করতেন ‘‘আল্লাহুম্মা বে এছমেকা আমুতু ওয়া আহইয়’’। অর্থাৎ হে আল্লাহ তায়ালা, আমি তোমার নামেই মৃত্যু বরণ করছি এবং তোমার নামেই জীবিত আছি।
ঘুমানোর আগে:  পরিবারের লোকদের সাথে কথা বলতেন। মাঝে মাঝে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করতেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY