বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান

0
262

মদীনা সনদ: বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান

 

সময়: ৬২৪ খৃম্ভাব্দ

বিভিন্ন পক্ষ: মদীনায় বসবাসকারী বিভিন্ন সম্পন্দদায়

কারণ: হযরত মোহাম্মদ (স.) আল্লাহর নির্দেশে ৬২২ খৃম্ভাব্দে মদীনায় হিজরত করেন। মদীনার অধিবাসীদের পাঁচ সম্পন্দদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলো ১. মদীনার আদিম পৌত্তলিক, ২. ইহুদী, ৩. খৃম্ভান, ৪. নব-দীক্ষিত মুসলিম (আনসার) এবং ৫. মক্কা থেকে আগত মুসলিম (মোহাজের)। মদীনার এ বিভিন্ন সম্পন্দদায়ের লোকদের মধ্যে তখন সদ্ভাব ছিলো না। তাদের মধ্যে আদর্শের মিল তো ছিলো না, ছিলো দলগত হিংসা-বিদ্ভেষ। মদীনার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি খুবই জটিল ও শোচনীয় হয়ে পড়ে।

 

ধারা: আরবী ভাষায় লিখিত এ সনদে ৪৭টি ধারা ছিলো।

মদীনা সনদের শুষ্পতে ষ্ক্রবিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম্ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, মদীনা সনদ আল্লাহর রসূল হযরত মোহাম্মদ (স.) কত™র্£ক প্রদত্ত এতে বিশ^াসী, কোরায়শ মুসলিম, ইয়াসরেবের মুসলিম এবং তাদের যারা অনুসরণ করেন এবং তাদের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত ও সংগ্রামে যারা তাদের সঙ্গী তাদের সকলের মধ্যে সম্পাদিত হলো।

মদীনা সনদের প্রধান প্রধান শর্তাবলী নি¤œ™£পÑ

১. মদীনার ইহুদী, পৌত্তলিক, খৃম্ভান ও মুসলিম সবাই একই জনগোষ্ঠী বা কওম বলে গণ্য হবে এবং তারা অন্যান্য জনগোষ্ঠী থেকে স্বতন্ত্র থাকবে। তারা সকলেই সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।

২. হযরত মোহাম্মদ (স.) এই নব-গঠিত রাষ্টেন্দর প্রধান নির্বাহী এবং পদাধিকারবলে তিনি মদীনার সর্বো” বিচারালয়ের প্রধান বিচারপতি হবেন।

৩. সকল সম্পন্দদায়ের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা এখানে বজায় থাকবে। সকলেই এখানে বিনা দ্ভিধায় নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে এবং কেউ কারো ধর্ম কর্মে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

৪. মদীনা নগরী পবিত্র বলে গণ্য হবে এবং এজন্য মদীনা রাজ্যে রক্তপাত, হত্যা, ব্যবিচার ও অপরাপর অপরাধমূলক কার্যকলাপ একেবারেই নিষিদ্ধ থাকবে।

৫. স্বাক্ষরকারী সম্পন্দদায়সমূহ মদীনা শহরের মর্যাদা রক্ষা করবে। মদীনা শহর কখনো আক্রান্ত হলে তারা সবাই একত্রিত হয়ে শত্র∆র বিষ্পদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে এবং যখন তাদেরকে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে সন্ধি করতে বলা হবে তখন তারা যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং তা মেনে চলবে।

৬. যুদ্ধের সময় প্রত্যেক সম্পন্দদায় নিজ নিজ ব্যবভার বহন করবে।

৭. হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর সম্মতি ব্যতিরেকে মদীনাবাসীরা কারো বিষ্পদ্ধে কোনো যুদ্ধ ঘোষনা করতে পারবে না।

৮. মদীনার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো স্পপ্ত ষড়যন্ত্রে কোনো সম্পন্দদায়ই বহি”শত্র∆র সঙ্গে লিপ্ত হতে পারবে না।

৯. কেউ কোরায়শদের সঙ্গে একাকী কোনো প্রকার সন্ধি স্থাপন করতে পারবে না কিংবা মদীনাবাসীদের বিষ্পদ্ধে কোরায়শদেরকে কেউ সাহায্য করতে পারবে না।

১০. স্বাক্ষরকারী সম্পন্দদায়সমূহের কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তা ব্যক্তিগত অপরাধ হিসেবেই গণ্য করা হবে। এজন্যে গোটা সম্পন্দদায়কে দোষী করা হবে না।

১১. আশন্দয়প্রাপ্ত প্রতিবেশী কোনো প্রকার নাশকতা অথবা বিশ^াসঘাতকতামূলক কাজে লিপ্ত না থাকলে তারা আপনজন বলে বিবেচিত হবে।

১২. ইহুদী মিত্ররাও সমান নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা ভোগ করবে।

১৩. দুর্বল ও অসহায়কে সর্বতোভাবে সাহায্য ও সংরক্ষণ করতে হবে।

১৪. অপরাধীদের রীতিমতো বিচার শাস্তি হবে। সব ধরনের পাপাচারী, অন্যায়কারী ও দুর্নীতিবাজদেরকে ঘৃণার চোখে দেখতে হবে এবং কেউই এদেরকে সাহায্য করতে পারবে না, এমন কি নিকটতম আ—গীয় হলেও নয়।

১৫. যদি স্বাক্ষরকারী বিভিন্ন সম্পন্দদায়ের এই লোকেরা কোনো প্রকার বিশ^াসঘাতকতা না করে তবে তাদের সঙ্গে সম্মানজনক ব্যবহার করা হবে।

১৬. তারা পরস্পরের মধ্যে নাশকতামূলক বা বিশ^াসঘাতকতামূলক কোনো কাজে লিপ্ত হতে পারবে না।

১৭. স্বাক্ষরকারী সম্পন্দদায়সমূহের মধ্যে ভবিষ্যতে যতো ঝগড়া বিবাদ উপস্থিত হবে, সে সমস্ত মীমাংসার জন্যে হযরত মোহাম্মদ (স.)-এর সামনে উত্থাপন করতে হবে এবং তিনি আল্লাহর বিধান অনুযায়ী তার মীমাংসা করবেন।

১৮. এ সনদ যে বা যারা ভঙ্গ করবে তার বা তাদের ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত।

মদীনা সনদের উপসংহারে বলা হয় যে, আল্লাহ তায়ালাই এ সনদের সত্যিকার বাস্তবায়নকারী। অন্যায়কারী বা বিশ^াসঘাতককে এ সনদ প্রশন্দয় দেয় না। অন্যায় ও বিশ^াসঘাতকতা না করে যে বাইরে চলে যায় সে নিরাপদ, যে ভেতরে থাকে সেও নিরাপদ। আল্লাহ তাদেরকে প্রতিবেশী হিসেবে আশন্দয় দেন যারা সচ্ঞ কাজ করে এবং আল্লাহকে ভয় করে। মোহাম্মদ (স.) আল্লার রসূল।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY