একজন আয়লান কুর্দীর নিথর প্রতিবাদ

0
846

জুমাবার ডেস্ক: তুরস্কের সমুদ্র উপকূলে  3 বছর বয়সের একটি শিশু উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। এই নির্জন সৈকতে কি করছে সে, কেনইবা একটি নিষ্পাপ শিশু এখানে ঘুমিয়ে আছে , অসময়ে এই নির্জণ সৈকতে। এরকম একটি ছবি দেখলে একথা আপনার মনে জাগতেই পারে। কিন্তু না আয়নাল মৃত। সমুদ্রে তার জীবন শেষ হয়েছে। না জানি সাগরের অথৈ ঢেউয়ে বাঁচার জন্য কত আকুলি বিকুলি করেছে শিশুটি।

একটি শিশুর মরদেহ পড়ে থাকার ছবি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। ইউরোপের শরণার্থী সংকট কতটা গভীর এই ছবি সেটিই জানান দিচ্ছে।আয়লান কুর্দির নিথর দেহের ছবি ব্রিটেন সহ ইউরোপের সব দেশের সংবাদপত্র, টিভিতে ব্যাপক প্রচার পাচ্ছে। এই একটি ছবি যেন চলমান এই শরণার্থী সঙ্কটের ভয়াবহ এবং করুণ চিত্রটি সামনে তুলে ধরেছে। ছবিটি তুলেছেন। এক তুর্কি সাংবাদিক। এই ছবি বিশ্বজুড়ে অনেকের মাঝে বেদনা তৈরি করেছে।

তুর্কী কোস্ট গার্ড এর বরাত দিয়ে বিবিসি জানাচ্ছে, সিরিয়া থেকে আসা একদল শরণার্থী তুরস্ক হয়ে গতকাল গ্রিসের কস্ দ্বীপে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু যাত্রাপথে সাগরে নৌকাডুবিতে ১২ জন মারা যায়। পাঁচ বছর বয়সী আয়লান কুর্দি ছিল সেই দলে। নৌকা ডুবিতে সে তার মায়ের সাথে প্রাণ হারায়।কিন্তু এই সব বাদানুবাদ ছাপিয়ে আয়লান কুর্দির মৃতদেহের ছবি বিশ্বজুড়ে গভীর আবেগের জন্ম দিয়েছে।

বিবিসির সংবাদদাতা রিচার্ড গ্যালপিন খবর দিচ্ছেন, এই শিশুটির এক খালা থাকেন ক্যানাডার ভ্যাঙ্কুভার শহরে। তিনি জানাচ্ছেন যে এই পরিবারটি সিরিয়ার কোবানে শহরে থাকতো। সেখানে আইএস জঙ্গীদলের সাথে সরকারি বাহিনীর লড়াই শুরু হওয়ার পর তারা পালিয়ে তুরস্কে আসে।

সেখান থেকে ক্যানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করলে কর্তৃপক্ষ তাদের শরণার্থী আবেদন নাকচ করে দেয়। এরপর এরা তুরস্ক থেকে গ্রিসে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল।

জীবনের নিরাপত্তার জন্য ইউরোপ যাওয়ার পথে স্ত্রী-সন্তান হারানো কুর্দি জনকের ব্যাকুল এ আহাজারি বুধবার এক খবরে প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা। সিরিয়ার কোবানিতে ইসলামিক স্টেটের অত্যাচার-নিপীড়ন বেড়েই চলছে। তাই জন্মভূমি ছেড়ে ইউরোপে পালিয়ে যেতে চেয়েছিল আবদুল্লাহ। প্রিয়সন্তান গালিপ (৫) ও আয়লান কুর্দির (৩) সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। সঙ্গে ছিল স্ত্রী রেহান (৩৫)। কিন্তু তার সুন্দর ও যুদ্ধের বিড়ম্বনাহীন জীবনের স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে ভূমধ্যসাগারের প্রাণনাশী ছোবলে।

তুরস্কের উপকূল থেকে ছোট ডিঙ্গিতে চেপে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। এক কথায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকাটিতে আরও ১৯ জনের সঙ্গে গাদাগাদি করে রওনা করেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- গ্রিসের নিকটবর্তী কোস আইল্যান্ডের কাছে ঢেউয়ের তোড়ে উল্টে যায় নৌকাটি। কোনোমতে সাঁতরে কিনারা পেয়ে যমদূতের হাত থেকে রক্ষা পান আবদুলাহ। কিন্তু বাঁচাতে পারেননি তার কলিজার টুকরো শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে।

নৌকাডুবিতে পরিবারটির 3 জন সহ মোট ১২ জন সদস্য মারা গেছেন। শুধু গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে শিশুটির বাবা।

এদিকে শরণার্থি সংকট হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জার্মানিকে আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেছেন অভিবাসী নিয়ে জার্মানির উদার নীতি বিশৃঙ্খলার জন্ম দিচ্ছে। কারণ সবাই শুধু জার্মানিতে যেতে চাইছে।

150903150259_aylan_newspaper__640x360_bbc_nocredit

অন্যদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আজ ব্রাসেলসে প্রস্তাব করেছেন এক লক্ষ শরণার্থীকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে ভাগ করে নিতে হবে। এদিকে হাঙ্গেরী ও স্লোভেনিয়া জানিয়েছে তারা মুসলিম শরানার্থীদের দায়িত্ব নেবেনা। শেষ খবরে অস্ট্রিয়া শরাণার্থিদের আশ্রয় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এখন দেখার বিষয় মধ্যপ্রাচ্যে যদ্ধেলিপ্ত কট্টরগ্রুপগুলো শান্তি ও মানবতার সার্থে কতটা শিথিল করে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY