বঞ্চিতদের আশার আলো : ৩ হাজারের কোটার ব্যাপারে সৌদি দূতাবাসের আশ্বাস

0
134

jumabar: Dhaka: 20150904_134517অবশেষে সব হজ এজেন্সিকে একটি করে মোনাজ্জেম (ব্যবস্থাপনা কাজের জন্য) ভিসা দেয়া হচ্ছে। যে এজেন্সি সর্বনি¤œ ৫০ জন হজযাত্রীও পাঠাচ্ছেন তারাও মোনাজ্জেম ভিসা পাবে। ঢাকার সৌদি দূতাবাস যারা মোনাজ্জেম ভিসা পায়নি তাদেরকে ভিসা দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানিয়েছে। গতকাল দুপুরে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ঢাকার সৌদি রাষ্ট্রদূতের কার্যালয়ে গিয়ে রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করলে তিনি মোনাজ্জেম ভিসা দেয়ার ব্যাপারে সম্মতি জানান। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হাব সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।  জানা গেছে, সৌদি আরব থেকে প্রাপ্ত বারকোড বা স্পিকার স্বল্পতার কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় সব হজ এজেন্সিকে মোনাজ্জেম ভিসা দিতে পারছিল না। মন্ত্রণালয় শুধু যাদের একজন পর্যন্ত হজযাত্রী তাদেরকে একটি করে ভিসা দেয়। যাদের হজযাত্রী এক শ’ জনের কম তারা মোনাজ্জেম ভিসা না পাওয়ায় হজ ব্যবস্থাপনার জন্য সৌদি আরব যেতে পারছিলেন না। এমতাবস্থায় এজেন্সিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছিল। সর্বশেষ ধর্মমন্ত্রীর উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান হলো।

হজযাত্রীদের কোটা, রিপ্লেসমেন্ট ও ডিও ইস্যু নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে হজ অফিসের পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালকে শোকজ এবং সহকারী হজ অফিসার আব্দুল মালেককে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ড. আবু সালেহকে চলতি বছরের হজ প্রশাসনিক দল থেকেও বাদ দেয়া হয়েছে। একই সাথে পুরো বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের পাঠানোর শেষ চেষ্টার অংশ হিসেবে নির্ধারিত কোটা ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জনের অতিরিক্ত আরো ৩ হাজার কোটা দেয়ার জন্য ঢাকাস্থ সৌদি দূতাবাসকে অনুরোধ জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান গতকাল বিকেলে একটি চিঠি দিয়েছেন। ধর্ম মন্ত্রণালয় ও কোটা বঞ্চিত হজ এজেন্সিগুলোর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এবারের হজে যাওয়ার জন্য এজেন্সির মাধ্যমে মোয়াল্লেম ফি জমা দিয়েও কোটাবঞ্চিত হয়েছিলেন ১০ হাজারের বেশি হজযাত্রী। মোয়াল্লেম জমা ছাড়াও হজে যাওয়ার জন্য এজেন্সিকে টাকা দিয়েছিলেনÑ এমন সংখ্যাও প্রায় ১০ হাজার। নির্ধারিত কোটার মধ্যে এন্ট্রি করা ডাটায় ভুয়া নাম ছিল এমন অভিযোগ তুলেছিল বঞ্চিত এজেন্সিগুলো। তাদের অব্যাহত দাবির মুখে সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে অবশেষে যাচাইবাছাইও হয় ডাটা। তাতে ১০ হাজারের বেশি ভুয়া নাম শনাক্ত হয়। অভিযোগের সত্যতা মেলে। বঞ্চিতদের পাঠানোর একটি ব্যবস্থা হয়েছে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিপ্লেসমেন্ট অনিয়মে সেই কোটা হাওয়া হয়ে গেল! আড়ালে ঘটলো মোটা অঙ্কের অবৈধ লেনদেনের ঘটনা। এ অনিয়মে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বঞ্চিত এজেন্সিগুলোর দু-একজন নেতাও শেষ পর্যন্ত অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলে সন্দেহ করছেন খোদ বঞ্চিত এজেন্সি মালিকেরা।

অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের হজে পাঠানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কোটাবঞ্চিত এজেন্সি মালিকেরা। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের পক্ষে এই দাবি করা হয়।
এতে চলতি বছরের হজযাত্রী রেজিস্ট্রেশন, কোটা বণ্টন ও রিপ্লেসমেন্টে অনিয়মের দায়ে ধর্মসচিব চৌধুরী বাবুল হাসান, যুগ্ম সচিব হাসান জাহাঙ্গীর আলম ও হজ অফিসের পরিচালক ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালের অপসারণ ও শাস্তি দাবি করা হয়। অপেক্ষমাণদের হজে পাঠানোর দাবিতে আগামী সোমবার থেকে আশকোনা হজ ক্যাম্পের সামনে লাগাতার অবস্থানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY