ভারতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের রামায়ণ ও মহাভারত পড়ানোর উদ্যোগ

0
1024

জুমাবার ডেস্ক: ভারতে কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজে রামায়ণ, মহাভারত, গীতা পড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংখ্যালঘু মুসলিম নেতারা।

ভারতে একটি স্কুলে কোরআন বিতরণ করছে আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।
ভারতে একটি স্কুলে কোরআন বিতরণ করছে আল কোরআন একাডেমী লন্ডন।

অল ইন্ডিয়া সুন্নাত অল জামায়াত-এর সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুল মাতিন আজ (শুক্রবার) জানান ‘কেদ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সাংস্কৃতিক দূষণের হাত থেকে রক্ষার অজুহাত দেখিয়ে স্কুল কলেজের পাঠ্যপুস্তকে রামায়ণ, মহাভারত ও গীতা ঢুকিয়ে দেয়ার পরিকল্পনাকে আমি ধিক্কার জানাচ্ছি। দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার পবিত্রতা রক্ষার জন্য সব ধর্মের মানুষকে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়া উচিত। ধর্ম মেনে চলা না চলা মানুষের নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু কারো উপরে জোর করে ধর্ম চাপিয়ে দেয়া ভারতীয় সংস্কৃতি নয়। বিজেপি ভারতীয় সংস্কৃতিকে রক্ষার নামে ভারতীয় সংস্কৃতি ধ্বংসের চক্রান্ত করছে।’

মিল্লি ইত্তেহাদ পরিষদ-এর প্রেসিডেন্ট এবং অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিশ ই মুশাওয়ারাত-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ আজ এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশে বিজেপি পরিচালিত ক্ষমতাসীন এনডিএ  সরকার মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টির চক্রান্ত করছে। এর বিরুদ্ধে সমস্ত শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে হবে।’

সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষার পাঠক্রমে রামায়ন, মহাভারত, গীতা অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ নিয়ে রাজ্য জুড়ে বৃহত্তর প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

কিছু লোক মনে করেন যে, ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক ধর্মের লোকেরা নিজ নিজ ধর্ম পাঠ্য হিসেবে পড়বে। আর যদি সবার জন্য পাঠ্য করা হয় তাহলে সব ধর্মগ্রন্থ থেকে মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলাদা একটা ধর্মীয় পুস্তক হতে পারে।

স্টুডেন্টস ইসলামিক অর্গানাইজেশন বা এসআইও-র পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক মহব্বত শেখ জানান, ‘ভারত হচ্ছে এমন একটা দেশ যেখানে বিভিন্ন ধর্ম এবং ভাষাভাষী মানুষ বসবাস করে। এখানে এমন একটা কমন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা দেয়া হয় যেখানে হিন্দু, মুসলমান, শিখ, জৈন সব ধর্মের ছাত্ররা পড়াশোনা করে। সেই জায়গায় কোনো এক নির্দিষ্ট ধর্মের সিলেবাসকে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। বরং এমন সিলেবাস অন্তর্ভুক্ত করা হোক যাতে সেখান থেকে সমস্ত সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে পারে।’

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা স্কুল, কলেজে রামায়ণ, মহাভারত, গীতা পড়ানোর বিষয়ে শিগগিরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন। মহেশ শর্মা বলেন, ‘কেন্দ্র ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক মুল্যবোধের সঞ্চার করতে বদ্ধপরিকর। জাতি ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে যুব সমাজকে মহাভারত, রামায়ণ, গীতার শিক্ষা দেয়া উচিত।’

মহেশ শর্মা বলেছেন, সরকার, আরএসএসের মতাদর্শ  উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে- এমন সমালোচনাকে পরওয়া করবে না। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সংস্কৃতির একটি অংশকে আনতে চাচ্ছি। যাতে ছাত্রদের মধ্যে মুল্যবোধের শিক্ষা দেয়া যায়।’

তিনি বলেন, ভারতের মানুষ মোদি সরকারকে বিপুল ভাবে ভোট দিয়ে তাদের রায় দিয়েছেন। গেরুয়াকরণ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, ‘যদি কেউ গেরুয়াকরণ করে থাকে তাহলে দেশের ১২৫ কোটি মানুষ তা করেছে, যারা আমাদের বিপুলভাবে জনাদেশ দিয়েছে। তারা জানে আরএসএস কি, বিজেপি কি। তারা আমাদের দেশ চালানোর ম্যান্ডেট দিয়েছে।’

আরএসএসের হয়ে সাফাই গেয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আরএসএসের মতাদর্শ কি? তারা কি জাতীয়তা বিরোধী? আরএসএসের কোনো নেতৃত্ব কি জাতীয়তা বিরোধী? তারা কি সন্ত্রাসী? আরএসএসের মতাদর্শে কি কোনো ভুল কিছু আছে? আমি গত ৪০ বছর ধরে আরএসএসের সঙ্গে রয়েছি। এরা কখনো জাতীয়তা বিরোধী কথা বলে না।’

এরইমধ্যে কেন্দ্র সরকারের উদ্যোগে স্কুল, কলেজে রামায়ণ, মহাভারত, গীতা পড়ানোর পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

কিছু লোক মনে করেন যে, ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেক ধর্মের লোকেরা নিজ নিজ ধর্ম পাঠ্য হিসেবে পড়বে। আর যদি সবার জন্য পাঠ্য করা হয় তাহলে সব ধর্মগ্রন্থ থেকে মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলাদা একটা ধর্মীয় পুস্তক হতে পারে।

সূত্র: রেডিও তেহরান

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY