হজ্জের আধ্যাত্মিক পয়গাম

হজ্জ

0
755

হজ্জের আধ্যাত্মিক পয়গাম
আলাউদ্দিন ইমামী

হজ্জ আরকানে ইসলামের একটি। এ হজ্জের রয়েছে তিনটি ফরয। একটি প্রস্তুতিমূলক যেমন- এহরাম বাধা, দুটি হুকুমতে এলাহিয়ার নি:শর্ত আনুগত্য, অকুফে আরাফাহ, তৃতীয়টি হচ্ছে আল্লাহর পাগল হয়ে তাওয়াফে কাবা, যা চরম আধ্যাত্মিকতা। হজ্জ করা সামর্থ্যবান সক্ষম নারী পুরুষের জন্যে সমানভাবে ফরজ। হজ্জ মুসলিম বিশ^ভ্রাতত্বের নিদর্শন ও মিলনমেলা। ইসলামী সর্বজনীনতার স্মৃতিচিহ্ন হচ্ছে এ হজ্জ। হজ্জের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘‘যার পথের সম্বল থাকে সে যেন আল্লাহর ঘরে হজ্জ করে। যে হজ্জ করবে না, কুফরি করবে তার জেনে রাখা উচিত আল্লাহ বিশে^র কারো প্রতি মুখাপেক্ষী নন। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৯৬-৯৭)

সব নারীপুরুষ সমানভাবেই ইসলামের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং দায়িত্ববান। প্রয়োজনে নারী পুরুষ সবাইকেই এক আল্লাহর ডাকে ঐক্যবদ্ধভাবে সাড়া দিতে হবে। সাড়া দিতে হবে সব কৌলীন্য আর আভিজাত্য ত্যাগ করে। বাড়িঘর, স্বজন, প্রিয়জন সব ছেড়ে। সবাইকে আল্লাহর হাওলা করে চলে যেতে হবে। তবে নারীদের জন্যে কিছু বিশেষ শর্ত আছে যা পূরণ হলেই তারা যাবে। যাবে সবাই দীনহীনাবেশে। ধনী গরীব, রাজা বাদশাহ সবাই একই ছূরত আর একই মন নিয়ে। ফিরে আসবে এক দেহে এক প্রাণ হয়ে। একই শিক্ষা আর পাঠ গ্রহণ করে। যেখানে থাকবে তাদের রুহানী ঈমানী শিক্ষা। যেখানে থাকবে আধ্যাত্বিক জাগতিক ও রাজনৈতিক বিষয়সহ সব বিষয়ে তাদের জন্যে পথনির্দেশনা।
হজ্জের আধ্যাত্বিক পয়গাম ”

সূরায়ে বাকারা এবং সূরায়ে আলে ইমরানে আল্লাহ সামর্থবান মুসলমানদের হজ্জ করার আদেশ দিয়েছেন। মানে বাড়িঘর, বিষয়সম্পদ, আত্মীয়স্বজন সব ত্যাগ করে আল্লাহর ডাকে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে যাওয়া। সব কিছুর মায়া ত্যাগ করে আল্লাহর ভয়ে, ভালোবাসায় নিজের দিল ও দেমাগকে সজ্জিত করা। আল্লাহ এবং তার রসূল (স.)-এর প্রেমপ্রীতিসহ মক্কা মদীনার উদ্দেশে যাত্রা করে সে সাক্ষ্যই দেন হাজী সাহেবরা। যাত্রার শুরুতেই এহরাম পরার যে বিধান তাতে মুসলমানদের আল্লাহর একজন নির্ভেজাল গোলাম এবং পাগলপ্রায় বান্দার রুপদান করে। হজ্জের নিয়ত করে তিনি সব মায়া ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত দিয়ে দীনহীনবেশে সব মুসলমানের সাথে একাত্ম হয়ে যান এবং প্রমাণ করেন, আল্লাহর রঙই তার রঙ, আল্লাহর জন্যে নিবেদিত যারা তারাই তার আপন। আল্লাহই তার চাওয়া, আল্লাহই তার পাওয়া। এখন আল্লাহ ছাড়া আর তার ধ্যান চিন্তায় আর কিছু নেই। তাছাউফের ভাষায় যেটাকে ফানাফিল্লাহ বলা হয়। এক কথায় তিনি এখন আল্লাহর জন্যে নিজেকে পুরোপুরি কোরবান ও বিলীন করে দিতে প্রস্তুত। তার দেহ মন ধন মান, সবই আল্লাহর। কোরআনের ভাষায় যেহেতু আল্লাহ মোমেনদের জান মাল সব কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়ে।

মদিনা শরীফ গিয়ে রসূল (স.)-এর রওজায় হাজীদের হাজিরা দিতে হয়। সেখানে থাকা হয় প্রায় আট দিন। মানে আমরা আল্লাহর বান্দা ও সৈনিক হিসেবে আল্লাহর জন্যে নিবেদিতপ্রাণ হওয়ার বিষয়ে রসূল (স.)-ই আমাদের আদর্শ, আমাদের অগ্রজ। তিনিই মানবতার শাশ^ত মুক্তির পয়গাম আমাদের জন্যে বহন করে নিয়ে এসেছেন। তিনিই দেখিয়েছেন সামগ্রিক শান্তি ও নিরাপত্তার পথ। তিনিই আমার প্রেম, তিনিই আমার ভালোবাসা। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, রসূল (স.)-এর মধ্যে আছে তোমাদের জন্যে উত্তম আদর্শ যারা আল্লাহর সান্নিধ্য এবং পরকালীন সাফল্যের প্রত্যাশী। (আল কোরআন)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY