হজ্জের প্রতিদিনের কার্যাবলী

হজ্জ গাইড

0
157

হজ্জের প্রতিদিনের কার্যাবলী
-এম এম হাবিবুর রহমান

৮ যিলহজ্জ থেকে ১৩ জিলহজ প্রতিদিনের কার্যক্রম

৮ যিলহজ্জ :
এই তারিখে ফজরের নামায শেষে হজ্জের নিয়তে ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। সাথে বিছানার চাদর, মধ্যম  ধরনের ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র নেবেন। মিনার নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান করবেন। সেখানে ৮ তারিখ যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজর পর্যন্ত মিনায় থাকবেন।

৯ যিলহজ্জ :
এ দিন ফজরের পর মিনা থেকে আরাফার দিকে রওনা হবেন। আরাফাতে পৌঁছে নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান করবেন। যোহরের ওয়াক্তে একসাথে যোহর আদায় করতে হবে। আর একাকী বা নিজেরা জামায়াত করে পড়লে, যে ওয়াক্তের নামায সেই ওয়াক্তেই পড়বেন। মহিলারা নিজ নিজ তাঁবুতেই একাকী নামায আদায় করবেন। সূর্য ডোবার পর সেখান থেকে মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং সূর্য ডোবার আগে আরাফাত ত্যাগ করবেন না।

১০ যিলহজ্জ :
এ তারিখে মুযদালেফায় পৌঁছে এক আযান ও দুই ইকামতে জামায়াতের সাথে মাগরিব ও এশার নামায আদায় করবেন। মিনায় কঙ্কর মারার জন্য এখান থেকে ৭০টি কঙ্কর সংগ্রহ করবেন। অবশ্য মিনাতেও কঙ্কর সংগ্রহ করা যায়। অত:পর ফজরের নামায শেষে এবং সূর্য ওঠার আগে মিনার উষ্কেশে রওনা হবেন। মিনায় নিজের তাঁবুতে একটু বিশ্রাম নিয়ে অদূরে জামরায় আকাবায় সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এ দিন সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত কঙ্কর মারা যাবে। এরপর তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে। এরপর কোরবানী করতে হবে। কোরবানী করা তামাত্তু ও কিরান হজ্জ পালনকারীদের জন্য ওয়াজিব। ইফরাদ হজ্জ পালনকারীদের জন্য মোস্তাহাব।
এরপর তামাত্তু ও কেরান হাজীরা মাথার চুল কামিয়ে নেবেন অথবা ছাঁটিয়ে নেবেন। এরপর ইহরাম খুলে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন। অত:পর মক্কায় গিয়ে হজ্জের তাওয়াফ (তাওয়াফে যেয়ারত) করবেন এবং মিনায় ফিরে আসবেন। এই তারিখে সম্ভব না হলে, ১২ জিলহজ তারিখে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত কোরবানী করা, মাথা কামিয়ে নেয়া বা চুল ছাঁটিয়ে নেয়া এবং হজ্জের তাওয়াফ করা যাবে। আর মাথা মুড়ানো বা চুল ছাঁটানোর পর ইহরাম খুলে সাধারণ পোশাক পরা যাবে।

১১ যিলহজ্জ :
এ দিন দুপুরের পর পর্যায়ক্রমে জামরায়ে উলায় সাতটি, জাকরায়ে বুসতায় সাতটি এবং আকাবায়ে সাতটি কঙ্কর মারতে হবে। কোরবানী করা, মাথা কামানো এবং হজ্জের তাওয়াফ বাদ থাকলে আজ সেগুলো করা যাবে।

১২ যিলহজ্জ :
এ তারিখে দুপুরের পর থেকে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যথাক্রমে জামরায়ে উলায় সাতটি, জামরায়ে বুসতায় সাতটি এবং জামরায়ে আকাবায় সাতটি কঙ্কর মারতে হবে। কোরবানী করা, মাথা মুড়ানো এবং হজ্জের তাওয়াফ বাকি থাকলে আজো তা করা যাবে। সব কাজ সমাধা হলে, আজ মিনা থেকে মক্কায় ফিরে আসা যাবে। তবে সূর্য ডোবার আগেই মিনা ত্যাগ করতে হবে। নতুবা মিনায় থাকতে হবে। ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত নিক্ষিপ্ত কঙ্কর সংখ্যা = ৭ + ২১ + ২১ = ৪৯।

১৩ যিলহজ্জ :
এ দিন মিনায় থাকলে, দুপুরের পর থেকে সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে জামরায়ে উলায় সাতটি, জামরায়ে বুসতায় সাতটি এবং জামরায়ে আকাবায় সাতটি কঙ্কর মারতে হবে।
এরপর হজ্জযাত্রী মক্কায় এসে রাত যাপন করবেন। ৮ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত নিক্ষিপ্ত কঙ্কর সংখ্যা = ৭ + ২১ + ২১ + ২১ = ৭০। এরপর বিদায়ের পালা। তাই এ দিন মক্কায় এসে বিদায়ী তাওয়াফ করতে হবে (ওয়াজিব)। তাওয়াফ শেষে জমজমের পানি পান করে মুলতাজিমে এসে দোয়া করে বিদায় হবেন।
মহান আল্লাহ আমাদের রব। তিনি আমাদেরকে তাওয়াফ করতে বলেছেন, সায়ী করতে বলেছেন, কঙ্কর মারতে বলেছেন, আরাফার ময়দানে অবস্থান করতে বলেছেন এবং আরো যেসব কাজ করতে হুকুম করেছেন আমরা সেস্পলোই করবো ইনশাআল্লাহ।

লেখক : খতিব, রায়পুর হায়দরগঞ্জ জামে মসজিদ, লক্ষ্মীপুর

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY