হজ্জ ওয়াজেব হওয়ার শর্তাবলী

0
451
TOPSHOTS Muslim pilgrims perform the final walk (Tawaf al-Wadaa) around the Kaaba at the Grand Mosque in the Saudi holy city of Mecca on November 30, 2009. The annual Muslim hajj pilgrimage to Mecca wound up without the feared mass outbreak of swine flu, Saudi authorities said, reporting a total of five deaths and 73 proven cases. AFP PHOTO/MAHMUD HAMS (Photo credit should read MAHMUD HAMS/AFP/Getty Images)

হজ্জ ওয়াজেব হওয়ার শর্তাবলী

হজ্জ ওয়াজেব হওয়ার শর্ত দশটি। তার মধ্যে কোনো একটি শর্ত পাওয়া না গেলে হজ্জ ওয়াজেব হবে না।

১. ইসলাম :  একজন লোক মুসলমান হলেই তার ওপর হজ্জ ফরজ হতে পারে।

২. জ্ঞান থাকা : পাগল, মস্তিষ্ক বিক™£ত ও অনুভূতিহীন লোকের ওপর হজ্জ ওয়াজেব নয়।

৩. বালেগ হওয়া : নাবালেগ শিশুদের ওপর হজ্জ ওয়াজেব নয়, কোনো সড়–ল ব্যক্তি বালেগ হওয়ার পূর্বে অর্থাৎ শৈশব অবস্থায় হজ্জ করলে তাতে ফরয আদায় হবে না। বালেগ হওয়ার পর পুনরায় তাকে হজ্জ করতে হবে। শৈশবের হজ্জ নফল হবে।

৪. সামর্থ : হজ্জ পালনকারীকে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে হবে। তার কাছে প্রকৃত প্রয়োজন ও ঋণ থেকে নিরাপদ এতোটা অর্থ থাকতে হবে যা সফরের ব্যয়ভার বহনের জন্যে যথে: হয় এবং হজ্জ থেকে ফিরে আসা পর্যন্ত তার পরিবারের লোকের জীবিকা নির্বাহের জন্যে যথে: অর্থ মওজুদ থাকে, কারণ এসব লোকের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব শরীয়ত অনুযায়ী তার।

৫. স্বাধীনতা : গোলাম ও বাঁদীর ওপর হজ্জ ওয়াজেব নয়।

৬. শারীরিক সুস্থতা : এমন অসুস্থ না হওয়া যাতে করে সফর করা সম্ভব নয়। অতএব ন্যাংড়া, বিকলাঙ্গ, প্রতিবন্ধি অন্ধ এবং অতিশয় বৃদ্ধ ব্যক্তির হজ্জ করা ওয়াজেব নয়। অন্যান্য সব শর্তগুলো পাওয়া গেলে অন্যের সাহায্যে হজ্জ করাতে হবে।

৭. কোনো জালেম ও স্বৈরাচারী শাসকের কারনে  জীবনের কোনো আশঙ্কা না থাকা এবং কারাগারে আবদ্ধ না থাকা।
৮. পথ নিরাপদ হওয়া : যদি এমন অবস্থা হয় যুদ্ধ চলছে, পথে বিঘœ সৃস্টি করা হচ্ছে, যানবাহন ধ্বংস করা হচ্ছে, পথে চোর-ডাকাতের আশঙ্কা থাকে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জলপথে ভ্রমণ সম্ভব না হয় অথবা যে কোনো প্রকারের আশঙ্কাও যদি থাকে, তাহলে এসব অবস্থায় হজ্জ ওয়াজেব হবে না। অবশ্য এ অবস্থায় এমন লোকের অসিয়ত করে যাওয়া উচিত যে, তারপরে অবস্থা ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ্জ করবে।

৯. হজ্জের সফরে স্বামী অথবা কোনো মুহাররম ব্যক্তি থাকতে হবে: এর ব্যাখ্যা এই যে, সফর যদি তিন রাত তিন দিনের কম হয় তাহলে মেয়েলোকের স্বামী ছাড়া সফরের অনুমতি আছে। তার বেশি সময়ের সফর হলে স্বামী অথবা মুহাররম পুরুষ ছাড়া হজ্জের সফর জায়েয নয়। এটাও জরুরী যে, এ মুহাররমকে জ্ঞানবান, বালেগ, দীনদার এবং নির্ভরযোগ্য হতে হবে। অবোধ শিশু, ফাসেক এবং অনির্ভরযোগ্য লোকের সাথে সফর জায়েয নয়।

১০. ইদ্দত অবস্থায় না হওয়া : ইদ্দত – স্বামীর মৃত্যুর পর হোক অথবা তালাকের পর হোক, ইদ্দতের সময় হজ্জ ওয়াজেব হবে না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY