কোরআন বিতরণ এর মহা পরিকল্পনা

0
306
OLYMPUS DIGITAL CAMERA

কোরআন বিতরণ এর মহা পরিকল্পনা

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ

বাংলা ভাষায় কথা বলে এমনি  ভূখন্ড বাংলাদেশ পশ্চিম দিকে, পশ্চিমবংগ, আসাম ত্রিপুরা ও মেঘালয়, আরাকানসহ এ এলাকায় রয়েছে আরো ১০ মিলিয়ন মানুষের বাস। এই কয়টি অঞ্চলের ২০৫ মিলিয়ন মানুষের মাঝে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন মানুষই হচ্ছে মুসলমান।  আজকের পৃথিবীতে যে ৩০০ মিলিয়ন মানুষ বাংলায় কথা বলে এদের ২০০ মিলিয়ন মানুষই বাস করে এই কয়টি অঞ্চলে। এ অঞ্চলটাই হচ্ছে তাদের প্রাইম লোকেশান। এদের কাছে এখনো আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ গ্রন্থ কিতাব কোরআন মাজীদ মজুদ আছে। এক সময় এ উভয় বাংলা ও আসামের মুসলমাদের ঘরে ঘরে কোরআনের চর্চা হতো। আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কোরআনের এতোগুলো অনুবাদ গ্রন্থ তখন না বেরুলেও মুসলমানদের জীবনের এক বিরাট অংশ তারা এই কোরআন দিয়ে পরিচালনা করতো।

যে কোরআন দিয়ে মুসলমানরা নামায পড়তো, সে কোরআন দিয়েই তারা তাদের ব্যবসা বাণিজ্য, লেন দেন, মাদ্রাসা মক্তব, পারিবারিক সামাজিক বিধি বিধান ও ফৌজদারী দেওয়ানী আইন আদালত চালাতো। দিনে দিনে বিদেশীরা আমাদের রাজনীতি ও অর্থনীতি থেকে কোরআন উচ্ছেদ করলো। আমরা দেশীয়রা ক্ষমতা পেয়ে সর্বাগ্রে আমাদের আইন আদালত, ন্ডুল কলেজ ও ব্যবসায় বাণিজ্য থেকে কোরআনকে নির্মমভাবে বর্জন করলাম। এখন কোরআনকে মাসজিদ, মক্তব, বিয়ে শাদী, জানাযা ও কবরস্থানে সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। অতি উৎসাহীরা এই সীমিত পরিসরেও কোরআনকে সহ্য করতে নারাজ।

আসলে আল্লাহ তায়ালা তার কিতাবের প্রতিষ্ঠা বলতে কি বোঝাতে চান, তা তিনি তার কিতাবেই সুস্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, নবী তার কিতাবের তেলাওয়াত করবেন। এই কিতাব দিয়ে তিনি তাদের জীবনের সংশোধন করবেন। এই কিতাব তাদের শিক্ষা দেবেন। সর্বশেষে, দুনিয়া জাহানে চলার জন্যে এই কিতাব দিয়ে তিনি তাদের জ্ঞান কৌশল শিক্ষা দেবেন।
১৯৪৭ সালের পাকিস্তান ও ভারত যখন ইংরেজদের দখলী মুক্ত হয়, তখন থেকেই মূলত আমাদের এই অঞ্চলে কোরআনের অনুবাদ বেরুতে থাকে। কিন্তু আজ যদি বিগত ৬২ বছরের তথ্য অনুসন্ধান করা হয় তাহলে দেখা যাবে এদেশের শতকরা ৫জন ব্যক্তিও এসব অনুবাদের কোনো কল্যাণ লাভ করতে পারেননি।
যে দেশের শতকরা ৫ ভাগ মানুষ তাদের নিজের ভাষায় আল্লাহ তায়ালার এই কিতাবটি বুঝে নাÑ তারা আল্লাহ তায়ালার এই কিতাব দিয়ে মানুষদের চরিত্র, স্বভাব সংস্কৃতি, রাজনীতি অর্থনীতি বদলে দেবেন কি করে? যারা কোরআনের অর্থই বুঝলো না তারা এই কিতাব দিয়ে দুনিয়ায় তাদের চলাফেরার নিয়মনীতি জ্ঞান কৌশল শিক্ষা দেবেন কি করে?
কোরআনকে যারা ভালোবাসেনÑ যারা চান কোরআন দিয়েই আবার এই ২০ কোটি মানুষের জীবন পরিচালিত হোকÑ এ নৈরাশ্যজনক চিত্রটি সাম্পন্দতিক দিনগুলোতে তাদের বেশী উদ্বিগ্ন উৎকণ্ঠিত করে তুলেছে। এ উদ্বেগ উৎকণ্ঠা নিয়ে বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ঐতিহাসিক ২০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশে বিদেশে গুনীজনরা অনেক কথা বলেছেন।
গত ১ বছরে ঢাকা, কলকাতা ও লন্ডনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সভা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এর প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানেই স্ব স্ব দেশের কোরআন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এ সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পন্থা হচ্ছে জাতি ও ধর্মের সীমানা পার করে বাংলাদেশ, পশ্চিম বংগ ও আসামের ১২ কোটি শিক্ষিত বাংলাভাষী নাগরিকদের হাতে অনুবাদসহ কোরআন শরীফ তুলে দেয়া। এ অঞ্চলের এমন প্রতিটি হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খৃষ্টানÑ যারা বাংলা পড়তে জানে তাদের সবার হাতে এক কপি কোরআনের অনুবাদ তুলে দেয়াই হচ্ছে  এই প্রকল্পের প্রাইমারী টার্গেট।
ইউরোপ আমেরিকাসহ সমগ্র খৃষ্টান জগতে কয়েকশত চ্যারিটী অর্গানাইজেশান প্রতিনিয়ত কোটি কাটি কপি বাইবেল ছাপছে। শুধু মার্কিন ভূখ-েই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন প্রায় ৯০টি। যারা বাইবেলের অনুসারী নয় এরাই হচ্ছে এ সব প্রতিষ্ঠানের প্রাইম টার্গেট। এর সাথে আরো রয়েছে সেসব দেশের অগণিত জেলখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কলেজ বিশ^বিদ্যালয়, এনজিও, মানবাধিকার সংস্থা, নারী সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদেরই প্রচেষ্টায় এরা এ যাবৎ বিশে^র প্রায় ৩ হাজার ভাষাই বাইবেল অনুবাদ করেছে। আমাদের পাশর্^বর্তী বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ ভারতের জনগণ প্রায় ২৮০০ ভাষায় কথায় বলে। এর মধ্যে ছোটো ছোটো বহু লোকাল ডায়লেকেট ও বাইবেল মূদিন্দত হয়েছে। এই বাইবেলের বন্যায় কিভাবে আমাদের উপজাতীয় গরীব জনগোষ্ঠীর পুরনো ধর্ম বিশ^াস ভেসে যাচ্ছে তার ভয়াবহ ভবিষ্যদ্বানী করেছেন এ দেশের সুধী চিন্তাবিদরা। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল, ময়মনসিংহের গারো, সিলেটের মনিপুরী ও অন্যান্য হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত খৃষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হচ্ছে। এদের কয়জন লোকের কাছে আমরা অনুবাদসহ কোরআন মাজীদ পৌঁছাতে পেরেছি?
এই এম্বিসার্স প্ল্যানটির কথা এর আগে কোনো বিশেষ ভাষাভাষী কোনো ভাষার লোকেরা এভাবে গ্রহণ করেননি। কোনো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ ধরনের পরিকল্পনা আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোথায়ও নেয়া হয়নি। কোরআনের স্মৃতিভূমি পবিত্র নগরী মদীনায় বাদশাহ ফাহাদ কোরআন প্রিন্টং কমপ্লেক্স দীর্ঘদিন থেকেই এ কাজটি করছেন এবং করছেন আরো ব্যাপক আকারে; কিন্তু সেখানে সৌদী আরবের মতো একটি বিত্তশালী দেশের রাষ্টন্দীয় কোষাগারের অক”ত্তিম সমর্থন আছে।

এই অভিযাত্রার মূল কাজ হবে ৪ পর্যায়ের। প্রথম পর্যায়ে একে বছরের জন্যে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেই পরিমাণ কোরআন ছাপা ও বিতরণের অর্থের যোগান দেবার জন্যে স্পন্সরযোগাড় করা হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে সংগৃহীত তহবিল দিয়ে লক্ষ্য মাত্রা মোতাবেক একটি স্বতন্ত্র কোরআন প্রিন্টং কমপ্লেক্সের মাধ্যমে কোরআন ছাপার কাজ করা হবে।
তৃতীয় পর্যায়ে জাতীয় সমন^য় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে মূদ্রিত কপিগুলো যথাযথভাবে পৌঁছে দেয়া হবে।
সর্বশেষে এ তিনটি কাজকে সফল করার জন্যে দেশব্যাপী কোরআন পড়ার পক্ষে একটি ইতিবাচক আন্দোলন শুরু করতে হবে। এর দ্বারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে কোরআন পড়া, কোরআন বুঝা ও কোরআন দিয়ে জীবন গড়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এটা করতে না পারলে শুধু কোরআন বিতরণ করেই আমরা ইগিুত ফলাফল লাভ করতে পারবো না।
আজ মুসলমানদের জাতীয় জীবনের বৃহত্তর অংশ থেকে যেভাবে কোরআন বিতাড়নের মহাপ্রস্তুতি চলছে তাতে আগামী প্রজন্মকে কোরআনের কাছে ধরে রাখার জন্যে তাদের হাতে সময় থাকতে কোরআন তুলে দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।
দেখতে দেখতে ১৫ বছর পর আল্লাহ তায়ালা চাইলে চূড়ান্ত লক্ষ্য মাত্রায় পৌঁছুতে না পারলেও এ বিশাল সফরের একটা বিরাট অংশ আমরা অতিক্রম করতে পারবো। এ ৩টি ভূখন্ডের হিন্দু মুসলিম, বৌদ্ধ খৃষ্টান, সব জাত সব ধর্মের প্রতিটি শিক্ষিত মানুষের হাতে অনুবাদসহ এক কপি কোরআন থাকবে।
এই ভূখন্ডের ২০ কোটি মানুষের মাঝে যদি মাত্র ৫০ লাখকেও এই ন্ডীমের ভেতরে শামিল করা যায়, তাহলে মেয়াদ শেষে ১০ কোটি মানুষের কাছে ইনশাআল্লাহ কোরআন পৌঁছে যাবে।

আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এ অঞ্চলের ১২ কোটি মানুষের হাতে অনুবাদসহ কোরআন পৌঁছানোর যে ঐতিহাসিক স্বপ্ন দেখেছে আল্লাহ তায়ালার রহমতে সবার সহযোগিতা নিয়ে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গেছে।
ঢাকায় সেনাসদরে আয়োজিত একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের হাতে বাংলাদেশের বীর সেনাবাহিনীর ১০ হাজার অফিসারদের জন্যে ১০ হাজার কপি কোরআন তুলে দেয়ার মাধ্যমে এই বরকতপূর্ণ কাজের শুভ সূচনা করা হলো। এ কয়টি অঞ্চলের ন্ডুল কলেজ মাদ্রাসা বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ২ কোটি ছাত্র ছাত্রীর দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারিক পুস্তক হিসেবে তাদের হাতে কোরআন তুলে দেয়ার ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এসব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষক ও শিক্ষাকার্যক্রমের সাথে কর্মরত আছেন আরো কয়েক লক্ষ লোক, এদের সবার হাতেও কোরআন তুলে দিতে হবে।
বিচারিক প্রক্রিয়ায় মাননীয় বিচারপতি, জর্জ, মেজিষ্ট্রেট মিলে কয়েক হাজার লোকসহ রয়েছে আরো লক্ষ লক্ষ সরকারী বেসরকারী দপ্তর অধিদপ্তর, ব্যাংক বীমা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মচারী। লক্ষ লক্ষ শন্দমিকসহ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিনোদনের সাথে জড়িত কয়েক লক্ষ শিক্ষিত মানুষ। রয়েছে কয়েক লাখ সেনা সদস্য, বিডিআর, পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী। বলুন, এদের কার প্রয়োজন নেই এক কপি অনুবাদসহ কোরআনের! দেশের জেলখানাসমূহে যে লক্ষাধিক কয়েদী আছে সংশোধন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে তাদেরও বাংলা অনুবাদসহ এক কপি কোরআনের প্রয়োজন। কোরআনের কর্মী হিসেবে দেশের ৩ লাখ মাসজিদের ৬ লাখ ইমাম মোয়াযযীনেরও তো বিনামূল্যে ১ কপি অনুবাদসহ কোরআন পাওয়ার অধিকার আছে।
আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে এ অঞ্চলের ১২ কোটি শিক্ষিত মানুষদের সবার হাতে কোরআন পৌঁছে দেয়ার মহান লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। সীমিত পরিম-লে কোরআন ছাপা, বাঁধাই ও বিতরণের কাজও চলছে। একটি নিবেদিত প্রাণ কর্মীবাহিনী দিবানিশি এজন্যে কাজ করে যাচ্ছে।
এদের সবার হাতে অনুবাদসহ ১ কপি কোরআন পৌঁছে দিতে পারলেই এদেশে আগামীকাল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে এমন কথা আমরা কখনো বলিনি, তবে জাতিসমূহের দিন ও সময় বদলের জন্যে কোরআনের চেয়ে কার্যকর কোনো কর্মসূচী নেই বলেই আমরা এ মহান গ্রন্থটির মর্মার্থ মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। কোরআনকে সমাজ ও রাষ্টেন্দ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আগে এ জনপদের প্রত্যেকটি শিক্ষিত নাগরিকের হাতে অনুবাদসহ কোরআন পৌঁছে দিতে হবে।
সদকায়ে জারীয়া হিসেবে গাছ লাগালে তা বড়ো জোর একশ্ বছর বাঁচবে। পুল, সেতু, রাস্তা বানালে তাও একশ বছরের বেশী থাকবে না, কিন্তু সাদকায়ে জারীয়া হিসেবে এক কপি ষ্ক্রকোরআন শরীফ ” সহজ সরল বাংলা অনুবাদ্ মানুষদের হাতে তুলে দিতে পারলে তার ফলাফল কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সর্বশেষে এ জাতির বিবেকবান ও সামর্থবান প্রতিটি ব্যক্তির কাছে আমাদের সবিনয় নিবেদন, আসুন আমরা সবাই মিলে কোরআনের প্রচার ও প্রসারের এই আন্দোলনে শরীক হয়ে আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের জন্যে কিছু স্থায়ী সদকায়ে জারীয়া রেখে যাই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ ষ্ক্রতোমরা আল্লাহ তায়ালাকে উত্তম ঋণ দিতে থাকো, (মনে রাখবে) তোমাদের জন্যে যা উত্তম কাজ তোমরা পাঠাবে তা তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে যথাযথ (সংরক্ষিত দেখতে) পাবে।

বিস্তারিত জানার জন্যে যোগাযোগ করুন
আল কোরআন একাডেমী লন্ডন
ফোন : ০০৪৪ ২০৭২৭৪৯১৬৪
মোবাইল : ০০৪৪ ৭৯৫৬ ৪৬৬ ৯৫৫
লন্ডন ”

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY