নিউইয়র্কে সাংবাদিক মতবিনিময়: আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এর চেয়ারম্যান এর বক্তব্য

0
543

নিউইয়র্কে সাংবাদিক মতবিনিময় আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এর চেয়ারম্যান ড. হাফেজ  মুনির উদ্দীন আহমদ এর ভাষন

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু

sir india(ছবিতে কলকতায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এর চেয়ারম্যান হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ)

আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এর নিউইয়র্ক প্রবাসী কতিপয় সুধীর আয়োজনে আজকের অনুষ্ঠানে আমি আপনাদের স্বাগত জানাই। আল্লাহ তায়ালা আমাদের এ আয়োজনকে কবুল করুন।

আপনারা সবাই জানেন – ১৯৪৭ সালের পাকিস্তান ও ভারত যখন ইংরেজদের দখলী মুক্ত হয়, তখন থেকেই মূলত আমাদের এই অঞ্চলে ব্যাপক পরিসরে বেশকিছু কোরআনের অনুবাদ বেরুতে থাকে। এই সংখ্যা আজ ২শর অংককেও ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু আজ যদি বিগত ৬২ বছরের তথ্য অনুসন্ধান করা হয় তাহলে দেখা যাবে এদেশের শতকরা ৫জন ব্যক্তিও এসব অনুবাদ থেকে কোনো প্রত্যক্ষ কল্যাণ লাভ করতে পারছেন না।

বাংলাভাষী অঞ্ছল সমূহে অনুসন্ধান জরিপের ফলাফল অনুযায়ী দেখা যায়, বাংলাদেশের জন্মলাভের পর গত ৩৮ বছরে এখনো ১ কোটী মানুষের হাতে বাংলা অনুবাদসহ কোরআন পৌঁছানো আজো সম্ভব হয়নি। এই হতাশাব্যাঞ্চক পরিসংখ্যানই আমাদের মনে কোরআন নিয়ে একটি মহা পরিকল্পনা প্রেরণা যুগিয়েছে। সে পরিকল্পনাটি হচ্ছে ব্যাপকভাবে কোরআন পৌছানোর এই মহান কাজের।

jellar(ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কোরআন বিতরণকালে হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ)

প্রিয় ভাইয়েরা,
যে দেশের শতকরা ৫ ভাগ মানুষ তাদের নিজের ভাষায় আল্লাহ তায়ালার এই কিতাবটি বুঝে না তারা আল্লাহ তায়ালার এই কিতাব দিয়ে মানুষদের স্বভাব-চরিত্র বদলে দেবেন কি করে? যারা কোরআনের অর্থ বুঝেনা তারাই বা এই কিতাব দিয়ে দুনিয়ায় তাদেরকে চলাফেরার নিয়মনীতি জ্ঞান কৌশল শিক্ষা দেবেন কি করে?

আমরা জানি, আজকের পৃথিবীতে যে ৩০০ মিলিয়ন মানুষ বাংলায় কথা বলে। তাদর কাছে এখনো আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ গ্রন্থ কোরআন মাজীদ মজুদ আছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, এই ৩টি ভূখন্ডের ২৫ কোটি মানুষের কয়জনের ঘরে কোরআন আছে? জবাবে বলা হবে উভয় বাংলা ও তার পাশর্^বর্তী এ অঞ্চলের শতকরা অর্ধেক মানুষের ঘরেই কোরআন আছে। কিন্তু সে কোরআন তো সপ্তাহান্তে শুধু পড়ার জন্যে, মকতব মাদ্রাসায় কোরআন আছে দুলে-দুলে সূর করে পড়ার জন্যে, দেশের সর্বো” আইন সভায় কি কোরআন নেই? কিন্তু যে আইন কানুন ওখানে প্রতিনিয়ত প্রণীত ও রচিত হচ্ছে, তার সাথে এই কোরআনের সম্পর্ক আসলে কতটুকু?

কোরআনের প্রচলিত এই চর্চা দিয়ে যখন আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক ও রাজনৈতিক অধপতন ঠেকানো যাচ্ছেনা তাহলে বুঝতে হবে আল্লাহ তায়ালা তার কিতাবের চর্চা ও প্রতিষ্ঠা বলতে যা বোঝাতে চান আমরা তার থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছি।

তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার কিতাবের প্রতিষ্ঠা বলতে কি বোঝাতে চান, তা তিনি তার কিতাবেই সুগুষ্ট করে বলে দিয়েছেন। তিনি বলছেন, নবী তার কিতাবের তেলাওয়াত করবেন। এই কিতাব দিয়ে তিনি তাদের জীবনের সংশোধন করবেন। এই কিতাব তাদের শিক্ষা দেবেন। সর্বশেষে, দুনিয়া জাহানে চলার জন্যে এই কিতাব দিয়ে তিনি তাদের জ্ঞান কৌশল শিক্ষা দেবেন।

আজ মুসলমানদের জাতীয় জীবনের বৃহত্তর অংশ থেকে যেভাবে কোরআন বিতাড়নের মহাপ্রস্তুতি চলছেÑ তাতে আগামী প্রজন্মকে কোরআনের কাছে ধরে রাখার জন্যে তাদের হাতে সময় থাকতে কোরআন তুলে দেয়ার কোনো বিকল্প নেই।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA
(আল কোরআন একাডেমী লন্ডন কতৃক বিতরণ এর জন্য প্রস্তুতকৃত কোরআন)

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা
ইউরোপ আমেরিকাসহ সমগ্র খৃষ্টান জগতে কয়েকশত চ্যারিটী অর্গানাইজেশান প্রতিনিয়ত কোটি কাটি কপি বাইবেল ছাপছে। শুধু মার্কিন ভূখ-েই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন প্রায় ১০০টি। এ যাবৎ বিশে^র প্রায় ৩ হাজার ভাষাই বাইবেল অনুবাদ করা হয়েছে। আমাদের পাশর্^বর্তী বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশ ভারতের জনগণ প্রায় ২ হাজার ভাষায় কথায় বলে। এর মধ্যে ছোটো ছোটো লোকাল ডায়লেক্টও বাইবেল মূদিদ্রত হয়েছে। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল, ময়মনসিংহের গারো, সিলেটের মনিপুরী ও অন্যান্য হাজার হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত খষ্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হচ্ছে। এদের কয়জন লোকের কাছে আমরা অনুবাদসহ কোরআন মাজীদ পৌঁছাতে পেরেছি?

গত কয়েক বছরে আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এর পক্ষ থেকে ঢাকা, কলকাতা ও লন্ডনে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সভা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এর প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানেই স্ব স্ব দেশের কোরআন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন এ সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পন্থা হচ্ছেজাতি ও ধর্মের সীমানা পার করে বাংলাদেশ, পশ্চিম বংগ আসামের ও প্রবাসের ১৬ কোটি শিক্ষিত বাংলাভাষী নাগরিকদের হাতে অনুবাদসহ কোরআন শরীফ তুলে দেয়া। এ অঞ্চলের এমন প্রতিটি হিদ্রু মুসলমান বৌদ্ধ খষ্টানÑ যারা বাংলা পড়তে জানে তাদের সবার হাতে এক কপি কোরআনের অনুবাদ তুলে দেয়াই হচ্ছে এই প্রকল্পের প্রাইমারী টার্গেট।

IMG_0337(কোরআন হাতে এক কিশোর)

প্রিয় প্রবাসী ভাইয়েরা,
বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর উদযাপন উপলক্ষ্যে আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে আমরা বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম ও আরাকান অঞ্চলের হিদ্রু মুসলিম, বৌদ্ধ, খষ্টান নির্বিশেষে সকল বাংলাভাষী শিক্ষিত নরনারীর হাতে বিনামূল্যে অনুবাদসহ ১ কপি কোরআন তুলে দেয়ার একটি সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আপনি আমি যে দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছি, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত যে দেশের জন্যে আমরা দিবানিশি পরিশ্রম করে যাচ্ছি, আমরা মনে করি তার জন্যে সর্বাগ্রে প্রত্যেকটি মানুষকে কোরআনের পাশে আনতে হবে। আর কোরআনের যথাযথ অনুশাসন ছাড়া মানুষের জীবনে কোনো বড়ো রকম সংশোধন আনয়ন করা যায়না, এটা কে না জানে?

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

ভিন্ন তরীকা, ভিন্ন পথ, এমনকি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সত্ত্বেও কোরআনের জন্যে আমাদের সাথে এখন অনেকেই সহযোগিতা করছেন। কারণ আল কোরআন একাডেমী লন্ডন আজ অবধি কোনো বিশেষ ব্যক্তি দল বা গোষ্ঠীর সাথে বিশেষ শত্রুতা কিংবা সখ্যতা গড়ে তোলেনি। আপনি আমি সে আমরা যে ফিলোসফিতেই বিশ^াস করি না কেন, আমরা যে মতই মানি না কেন, আমরা যে আদর্শের সমর্থক হই না কেন- এখনো কোরআনের ব্যাপারে সবাই একমত। তাই দল মত নির্বিশেষে একসাথে হাতে হাত মিলিয়ে কোরআনের কাজ করতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।

আল কোরআন একাডেমী লন্ডন এ অঞ্চলের ২০ কোটি মানুষের হাতে অনুবাদসহ কোরআন পৌঁছানোর যে ঐতিহাসিক স্বপ্ন দেখেছে আল্লাহ তায়ালার রহমতে সবার সহযোগিতা নিয়ে সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়ে গেছে।

এই ভূখন্ডের ২০ কোটি মানুষের মাঝে যদি মাত্র ৫০ লাখকেও এই স্কীমের ভেতরে শামিল করে কোরআন বিতরণে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাহলে মেয়াদ শেষে ১০ কোটি মানুষের কাছে ইনশাআল্লাহ কোরআন পৌঁছে যাবে।

OLYMPUS DIGITAL CAMERA
(সাউথ ইষ্ট ইউনিভার্সিটিতে কোরআন বিতরণ)

উপস্থিত সূধীবৃন্দ,
আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে এ অঞ্চলের ২০ কোটি শিক্ষিত মানুষদের সবার হাতে কোরআন পৌঁছে দেয়ার মহান লক্ষ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। সীমিত পরিম-লে কোরআন ছাপা, বাঁধাই ও বিতরণের কাজও চলছে। একটি নিবেদিত প্রাণ কর্মীবাহিনী দিবানিশি এজন্যে কাজ করে যাচ্ছে।

আপনারা জানেন, কয়েক বছর আগে সেনাসদরে আয়োজিত একটি মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের হাতে আমাদের বীর সেনাবাহিনীর ১০ হাজার অফিসারদের জন্যে ১০ হাজার কপি কোরআন তুলে দেয়ার মাধ্যমে এই বরকতপূর্ণ কাজের শুভ সূচনা করা হয়েছে। আল্লাহর মেহেরবানীতে এ যাবত অর্ধমিলিয়ন কপি কোরআন মানুষের হাতে তুলে দিয়েছে আল কোরআন একাডেমী লন্ডন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের ৬৪টি জেলার ৪২টি জেলখানা, রয়েছে ৫০০ মসজিদ, ৩০০ লাইব্রেরী ও ১০০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষকসহ লাখো মুসলিম, অমুসলিম, আলেম, বিদ্যান ও সাধারণ মানুষের হাতে হাতে কোরআন পৌছানোর কাজ চলছে। প্রতিদিন কোথাওনা কোথাও শত শত কপি কোরআন বিতরণ করা হচ্ছে।

girl tongi.jpeg( একটি কলেজে কোরআন বিতরনের পর কোরআন হাতে এক ছাত্রী)

সম্মানিত কোরআনপ্রেমী ভাইয়েরা,
আমাদের স্কুল মাদরাসা থেকে প্রতি বছর যে লাখের মতো সন্তান জিপিএ-৫ পেয়ে দেশ ও দশের মুখ উজ্জল করছে এখন থেকে প্রতিবছর দেশের এই ভাবী কারিগরদের হাতে বাংলা অনুবাদসহ কোরআন তুলে দেয়া হবে ইনশাআল্লাহ। এর সাথে আছে আমাদের দেশের স্কুল কলেজ মাদদ্রাসা বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ৪ কোটি ছাত্র ছাত্রীর দৈনন্দিন জীবনের ব্যবহারিক পুস্তক হিসেবে তাদের হাতে কোরআন তুলে দেয়ার এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এসব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষক ও শিক্ষাকার্যক্রমের সাথে কর্মরত আছেন আরো কয়েক লক্ষ লোক, এদের সবার হাতেও কোরআন তুলে দিতে হবে।

আমাদের দেশের বিচারিক প্রক্রিয়ায় মাননীয় বিচারপতি, জর্জ, মেজিস্ট্রেট মিলে কয়েক হাজার লোকের সাথে রয়েছে আরো লক্ষ লক্ষ সরকারী বেসরকারী দপ্তর-অধিদপ্তর, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা। গামেন্টস শিল্পের ৫০ লক্ষ শ্রমিকসহ অন্যান্য শিল্প কারখানায় কাজ করছে আরো লক্ষ লক্ষ লোক। রয়েছে নির্মাণ শিল্প, হাসপাতাল, ক্লিনিক ও বিনোদনের সাথে জড়িত কয়েক লক্ষ মানুষ। রয়েছে কয়েক লাখ সেনা সদস্য, বিডিআর, পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী। বলুন, এদের কার প্রয়োজন নেই এক কপি অনুবাদসহ কোরআনের! দেশের জেলখানাসমূহে যে লক্ষাধিক কয়েদী আছে সংশোধন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে তাদেরও বাংলা অনুবাদসহ এক কপি কোরআনের প্রয়োজন। কোরআনের কর্মী হিসেবে দেশের ৩ লাখ মাসজিদের ৬ লাখ ইমাম মোয়াযযীনেরও তো বিনামূল্যে ১ কপি অনুবাদসহ কোরআন পাওয়ার অধিকার আছে।

এদের সবার হাতে অনুবাদসহ ১ কপি কোরআন পৌঁছে দিতে পারলেই এদেশে আগামীকাল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেÑ এমন কথা আমরা কখনো বলিনি, তবে জাতিসমূহের দিন ও সময় বদলের জন্যে কোরআনের চেয়ে কার্যকর কোনো কর্মসূচী নেই বলেই আমরা এ মহান গ্রন্থটির মর্মার্থ মানুষদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। কোরআনকে সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আগে এ জনপদের প্রত্যেকটি শিক্ষিত নাগরিকের হাতে অনুবাদসহ কোরআন পৌঁছে দিতে হবে।

এ যমীনের বাছাই করা আল্লাহর এমন কিছু বান্দা যারা এ জাতির ভবিষ্যত কারিগর, এদের হাতে আনুবাদসহ আল্লাহর কিতাবটি পৌঁছে দেয়ার একটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচী আমরা আপনাদের কাছে পেশ করলাম। আমি জানি আপনারা সবাই কোরআনকে ভালোবাসেন, কোরআনই হচ্ছে আপনার আমার সবার জীবন। এই কোরআন নিয়েই আমরা দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি চাই, আর সত্যিকার অর্থে কোরআনের এ অকৃত্রিম ভালোবাসাই আমাদের সবাইকে এই কক্ষটিতে আজ সমবেত করেছে।

10411261_682413871835868_6686878772209513326_n(হজ্জ ক্যাম্পে হজ্জ যাত্রীদের হাতে কোরআন তুলে দিচ্ছেন তৎকালীন প্রধান হজ্জ কর্মকর্তা জনাব বজলুর রশীদ)

প্রিয় ভাইয়েরা,
সদকায়ে জারীয়া হিসেবে গাছ লাগালে তা বড়ো জোর একশ্ বছর বাঁচবে। পুল, সেতু, রাস্তা বানালে তাও একশ বছরের বেশী থাকবে না, কিন্তু সাদকায়ে জারীয়া হিসেবে এক কপি ‘‘কোরআন শরীফ ” সহজ সরল বাংলা অনুবাদ্ মানুষদের হাতে তুলে দিতে পারলে তার ফলাফল কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষে এ জাতির বিবেকবান ও সামর্থবান প্রতিটি ব্যক্তির কাছে আমাদের সবিনয় নিবেদন, আসুন আমরা সবাই মিলে কোরআনের প্রচার ও প্রসারের এই আন্দোলনে শরীক হয়ে আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের জন্যে কিছু স্থায়ী সদকায়ে জারীয়া রেখে যাই। আল্লাহ তায়ালা বলেছেনÑ ‘‘তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে উত্তম ঋণ দিতে থাকো, (মনে রাখবে) তোমাদের জন্যে যা উত্তম কাজ তোমরা পাঠাবে তা তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে যথাযথ (সংরক্ষিত দেখতে) পাবে’’।

DSC_0151

নিউইর্য়ক, ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরকিা
তারিখ :১০ অক্টোবর, ২০১৫

লেখক:
চেয়ারম্যান, বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ, আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY