ভারতে ধর্মীয় সহিংসতার প্রতিবাদে পুরস্কার ফিরিয়ে দিচ্ছেন লেখকরা

0
279

ভারতের আরও কয়েকজন সাহিত্যিক দেশটির সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন। এঁরা বলছেন, সেদেশে যেভাবে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বাড়িয়ে চলেছে হিন্দুত্ববাদীরা আর প্রধানমন্ত্রী এইসব ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন, তারই প্রতিবাদ এই সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া। খবর বিবিসি বাংলার

সম্প্রতি উত্তর প্রদেশে এক মুসলমান ব্যক্তিকে গরুর মাংস খাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা বা হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে কলম ধরার জন্য এক লেখককে হত্যা করার এবং গরু বহন করায় এক ট্রাক ড্রাইভারকে আগুন দিয়ে হত্যা চেষ্টা এসব ঘটনার প্রতিবাদ করছেন এই কবি-সাহিত্যিকরা।

গত এক সপ্তাহ ধরে একের পর এক লেখক-কবি তাঁদের সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করছেন। আজ ১৬ জন তামিল সাহিত্যক আর কয়েকদিন আগে একঝাঁক কন্নড় সাহিত্যিক ফিরিয়ে দিয়েছেন তাঁদের রাজ্য সরকারগুলির দেওয়া পুরস্কার।

এঁরা সকলেই বলছেন ভারতে যেভাবে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বেড়ে চলেছে, বাক স্বাধীনতার ওপরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো হস্তক্ষেপ করে চলেছে, তার ফলে তাঁদের সংবেদনশীল মনে গভীর ক্ষত তৈরী করেছে।

হিন্দী ভাষার যে নামকরা কবি এই প্রতিবাদের একেবারে গোড়ার দিকে তাঁর সাহিত্য একাডেমী সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন, সেই অশোক বাজপেয়ী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “যেভাবে শুধুমাত্র গুজবের ফলে একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হল, এতো ধর্মীয় উন্মাদনা। সমস্ত মানুষই এই ঘটনায় আঘাত পেয়েছেন আর কবি-সাহিত্যিকরা তো আরও সংবেদনশীল – তাই সম্মান ফিরিয়ে দিয়েই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন সবাই।“

একের পর এক কবি সাহিত্যিক তাঁদের সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অমিত শাহ এইসব ঘটনা নিয়ে বিশেষ মুখ খোলেন নি। কবি অশোক বাজপেয়ীয়ের সন্দেহ অনেক সময়ে মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ হয় – এক্ষেত্রেই ব্যাপারটা সেরকম নয় তো!

কবি সাহিত্যিকেরা একসঙ্গে সম্মান ফিরিয়ে দিয়ে কোনও ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছেন – এটা ভারতে বেশ বিরল – এমনকি আগেও কখনও ধর্মীয় দাঙ্গার পরে এভাবে প্রতিবাদ হয় নি।

কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী মহেশ শর্মা তাই তাচ্ছিল্যের সুরে বলতে পারেন “যাঁরা পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা লেখা তো বন্ধ করেন নি – লেখা বন্ধ হয়ে গেলে সরকার চিন্তাভাবনা করবে।“

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY