হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমেদ এর সাক্ষাৎকার

0
613

এক কপি কোরআন শরীফ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ মানুষদের হাতে তুলে দিতে পারলে তার ফল কেয়ামত পর্যন্তÍ অব্যাহত থাকবে।
হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমেদ
ডাইরেক্টর জেনারেল, আল কোরআন একাডেমী লন্ডনDSC_0212

বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২শ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেশের প্রতিটি শিক্ষিত নাগরিকের জন্যে  কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ
পেঁন্তছে দেয়ার দুঃসাহসিক পরিকল্পনা গ্রহন করেছে লন্ডন ভিত্তিক কোরআন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আল কোরআন একাডেমী লন্ডন। এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের চেয়ারম্যান আন্তর্Íজাতিক খ্যাতিস¤পন্ন কোরআন গবেষক ড. হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমেদ। তার সাক্ষাৎকারটি এখানে তুলে ধরা হলো-

প্রশ্ন: আমরা  জানি  আল কোরআন একাডেমী লন্ডন সাম্প্রতীক সময়ে  বিনামূল্যে কোরআন বিতরণ কর্মসূচীর সূচনা করেছে। এই মহতি পরিকল্পনা স¤পর্কে  বিস্তারিত  বলুন।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ: আমরা বাংলাভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পূর্তি উৎসবকে একটি মাইলফলক ধরে এ দেশের গোটা শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সবার হাতে একেক কপি ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল অনুবাদ’ পেঁন্তছে দেয়ার ১২ বছর মেয়াদী কোরআন বিতরণ কর্মসূচী নামের একটি দুঃসাহসিক পরিকল্পনা। শুরুতেই সুশীল সমাজের হাতে ১ লক্ষ কপি ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’ বিতরণের কাজ শুরু রয়েছে।
আমাদের পৃথিবীতে যারা বাংলাভাষায় কথা বলে তাদের প্রাইম লোকেশান হচ্ছেÑ বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম। এর বাইরেও ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, দূরপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছে আরো লক্ষ লক্ষ বাংলাভাষী মানুষ। এদের সম্মিলিত সংখ্যা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন। এই ৩০ কোটি আদম সন্তÍানের বেশীর ভাগ মানুষ যেখানে বাস করে, সেখানকার শিক্ষার হার যদি শতকরা ৫০ ভাগও ধরা হয়, তাহলে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের এই অঞ্চলে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এমন আছেÑ যারা পড়া লেখা জানে। এদের হাতে এক কপি ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’ পেঁন্তছাতে পারলে এরা আল্লাহর এ কিতাব পড়ার সুযোগ পেতো।

প্রশ্ন: বিনামূল্যে কোরআন ও এর  সহজ সরল বাংলা অনুবাদ বিতরণের এই পরিকল্পনা  গ্রহণ  করার কারণ সম্পর্কে বলুন।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ: আমরা জানি, ইউরোপ আমেরিকাসহ সমগ্র খৃস্টান জগতে কয়েকশত দাতব্য প্রতিষ্ঠানÑ চ্যারিটী অর্গানাইজেশান প্রতিনিয়ত কোটি কোটি কপি বাইবেল ছাপছে। শুধু মার্কিন ভূখন্ডেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন প্রায় ৯০-১০০টি । যারা বাইবেলের অনুসারী নয় এরা হচ্ছে এ সব প্রতিষ্ঠানের প্রাইম টার্গেট। এর সাথে আরো রয়েছে দেশের অগণিত জেলখানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, কলেজ বিশ্বাবিদ্যালয়, এনজিও, মানবাধিকার সংস্থা, নারী সংগঠন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। তাদেরই প্রচেষ্ঠায় এরা এ যাবৎ প্রায় ৩ হাজার ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করে পৃথিবীর প্রত্যন্তÍ অঞ্চলে পেঁন্তছে দিচ্ছে। বিশ্বব্যাপী বাইবেল প্রচারের এই মহা আয়োজনের পাশাপাশি আমরা কোরআনের অনুসারী মুসলমানরা এখনো কোরআনের ২০০শ’র বেশী ভাষায় অনুবাদ প্রকাশ করতে পারিনি। সেন্তদী আরবের ‘বাদশাহ ফাহদ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্স’-এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী কোরআন বিতরণের এমনি আরেকটি প্রতিষ্ঠানও আমরা আজ পর্যন্তÍ গড়ে তুলতে পারিনি। এমতাবস্থায় আপনিই বলুনÑ দুনিয়ার কোটি কোটি আল্লাহর বান্দাদের কাছে আল্লাহর কিতাব ও তার অনুবাদ পেঁন্তছাবে কে? মানুষ যদি কোরআনের অর্থ না বুঝে তাহলে মানুষ আল্লাহর নির্দেশিত পথে কিভাবে মানুষ জীবন গঠন করবে? মানুষ যদি কোরআনই না বুঝলো তাহলে কিভাবে কোরআনের সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বেগবান হবে?
সত্যি কথা বলতে কি, আমার স্ত্রী লন্ডন প্রবাসী সুসাহিত্যিক, নাট্যকার ও গীতিকার একাডেমীর অন্যতম কর্ণদার খাদিজা আখতার রেজায়ী  এই বিশাল কাজে এমন কি আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের দীর্ঘ দেড় যুগের পথ পরিক্রমায় উৎসাহ এবং সাহস দিয়ে আসছেন। সবচেয়ে  বড় কথা কোন মানুষের পক্ষেই কিছু করা সম্ভব নয় যতক্ষণ পর্যন্তÍ আল্লাহ সোবহানা তায়ালা তার সহায় না হয়। পাশাপাশি এদেশের বিদগ্ধ ইসলামী ব্যক্তিদের কথা বলাই বাহুল্য তারা আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন। সর্বোপরি দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতায়  আমরা অভীষ্ঠ লক্ষের দিকে এগিয়ে চলেছি।

প্রশ্ন: প্রতিটি মানুষের হাতে কোরআন পেন্তছানো  নিঃ সন্দেহে একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ।  এ মহা পরিকল্পনা  আল  কোরআন একাডেমী  লন্ডন কি ভাবছে? বা কোন পক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে?

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ: এই অভিযাত্রার মূল কাজ হবে ৪ পর্যায়ের। প্রথম পর্যায়ে একেক বছরের জন্যে বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেই পরিমাণ কোরআন ছাপা ও বিতরণের অর্থের যোগান দেবার জন্যে স্পন্সরর যোগাড় করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে সংগৃহীত তহবিল দিয়ে লক্ষ্য মাত্রা মোতাবেক একটি স্বতন্ত¿ কোরআন প্রিন্টিং কমপ্লেক্সের মাধ্যমে কোরআন ছাপার কাজ করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে জাতীয় সমন¦য় কমিটির সিদ্ধান্তÍ মোতাবেক নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে মুদ্রিত কপিগুলো যথাযথভাবে পেঁন্তছে দেয়া হবে। সর্বশেষে এ তিনটি কাজ সফল করার জন্যে দেশব্যাপী কোরআন পড়ার পক্ষে একটি ইতিবাচক আন্দোলন শুরু করতে হবে। এর দ্বারা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে কোরআন পড়া, কোরআন বুঝা ও কোরআন দিয়ে জীবন গড়ার জন্যে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এটা করতে না পারলে শুধু কোরআন বিতরণ করেই আমরা ঈস্পিত ফল লাভ করতে পারবো না।
প্রশ্ন:   এ সম্পর্কিত প্রস্তুতির প্রথম দিককার কথা কিছু বলুন।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ:  বিগত ১৩ই এপ্রিল জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলন ও সুধী সমাবেশে ২০০৮ ও ০৯ সালকে আমরা বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পূর্তির বছর হিসেবে ঘোষণা দিলাম। তারপর একে একে আমরা বাংলাদেশের ৬টি বিভাগীয় শহরেও এই উদ্দেশ্যে সাংবাদিক সম্মেলন ও সুধী মতবিনিময় সভার আয়োজন করলাম। এক পর্যায়ে আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্যে বাংলা অনুবাদসহ কোরআন চর্চার আদিভূমি কলকাতায় গেলাম। আল্লাহর মেহেরবানীতে সেখানে বিষয়টি হিন্দু মুসলিম উভয় সসম্প্রদায়ের চিন্তÍাশীল মহলে দারুণ উৎসাহ ও সাড়া জাগিয়ে আমরা ঢাকায় ফিরে এলাম।
পরবর্তি পর্যায়ে আমরা আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের যাবতীয় কর্মকান্ডের উৎসভূমি লন্ডনেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্যে সাংবাদিক সম্মেলন ও একটি মত বিনিময় সভার আয়োজন করি। এতে লন্ডনের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিটিয়ার প্রতিনিধিদের সাথে প্রায় সব ইসলামী সংগঠনের প্রধান, বড়ো বড়ো মাসজিদের ইমাম খতীবসহ অনেক টিভি ব্যক্তিত্বও উপস্থিত ছিলেন।

প্রশ্ন:  এ মহা পরিকল্পনা  কি আকাশচুম্বি বা হাই এ্যাম্বিশাস হয়ে গেলোনা?

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ: আমরা জানি, এই দেশের ৮ কোটি মানুষের (পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের ২ কোটি ধরলে এই সংখ্যা হবে ১০ কোটি অর্থাৎ ১০০ মিলিয়ন) প্রত্যেকের হাতে ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’-এর কপি পেঁন্তছানো নিসন্দেহে একটি দুসাহসিক পরিকল্পনা। অনেকেই এটাকে কোরআনের পক্ষে ‘মোস্ট এম্বিসাস ড্রীম হেজ এভার আন্ডার টেইকেন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যারা এটাকে মোস্ট এম্বিসাস মনে করেন তাদের সবাইকে আমি বিনয়ের সাথে বলেছি, আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন একদিন কেউ দেখেছে বলেই মানুষ আজ মহাকাশের সীমানা পার হয়ে গ্রহ থেকে গ্রহান্তÍরে ঘুরে বেড়াতে পারছে। কোনো অভীষ্ট লক্ষ্যে পেঁন্তছানোর জন্যে কাউকে না কাউকে আগে তো সে স্বপ্ন দেখতেই হবে। তাছাড়া এটাতো আজকেই সব হচ্ছেনা ? এটা ধারাবাহিক এবং ১২ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা। তাছাড়া সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে ইসলামী ও কোরআন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ধর্মীয় ও স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, যুব সমাজ, কোরআন পাবলিশিং সংস্থা , বিদেশী দূতাবাস, সরকারী সংস্থা ও সামর্থবান ব্যক্তিরা যদি এগিয়ে আসে তাহলে এটি আসলে অসম্ভব কিছু নয়। অবশ্য এসব কিছুর সম্মিলন এবং দক্ষ সমন¦য় এর ব্যাপার রয়েছে। সেজন্য রয়েছে আমাদের একটি জাতীয় কমিটি।

হ্যাঁ এদেশের মানুষদের হাতে কোরআন ও তার সহজ সরল বাংলা অনুবাদ পেঁন্তছানো আপনার মনে হতে পারে এটি একটি দঃুসাহসিক পরিকল্পনা।  আমরা কোরআনের উৎসবে এ জাতির অভিভাবক পর্যায়ের যেসব চিন্তÍাবিদের সাথে কথা বলেছি, তারা তো কেউই একে অবাস্তব পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেননি। তাদের সবার অভিমত হচ্ছে, এ জন্যে প্রয়োজন একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একটি দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীবাহিনী। এর সাথে যদি কোরআনের মালিক আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালার দয়া শামিল হয়, তাহলে প্রয়োজনীয় ৪টি বস্তর সমন¦য় ঘটাতে পারলে ইনশাআল্লাহ সেদিন খুব বেশী দূরে নয়Ñ যেদিন আমরা না থাকলেও আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই মহাপকিল্পনার কার্যকর ফল ভোগ করতে পারবে।

প্রশ্ন: বাংলা ভাষায় কোরআনে অনুবাদের ২শ বছর পর্তি অনুষ্ঠান মালায় যেসব  কর্মসচীর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে কোন কোন কাজ ইতোমধ্যে সসম্পন্ন হয়েছে?

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ: এ পর্যায়ে এসে এটাই সম্ভবত আমাদের বড়ো শান্তÍনা। ‘বাংলা ভাষায় কোরআন চর্চার ভবিষ্যৎ’ শিরোনামে একটি সুন্দর রচনা প্রতিযোগিতার কথা আমরা আপনাদের বলেছিলাম। আজ আপনাদের সামনে আমরা সে প্রতিযোগীদের পুরস্কৃত করছি। কথানুযায়ী কোরআনের ১৪শ বছরের ঐতিহাসিক সফরের ডকুমেন্টারী আমরা ইতিমধ্যেই নির্মাণ করেছি। এই ঐতিহাসিক উৎসব সুচীর বিভিন্ন দিককে জনসমক্ষে তুলে ধরার জন্যে ইসলামিক টিভিতে গত রমযান মাস জুড়ে আমরা আয়োজন করেছি ‘কোরআনের উৎসব’ নামক একটি ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়েছে।
আল্লাহ তায়ালার অপার অনুগ্রহে ইতিমধ্যেই আমরা ২০ হাজার কপি অনুবাদসহ কোরআন বিতরণ করেছি। এদের মধ্যে আছে সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের ১০ হাজার কপি, মিডিয়া কর্মীদের ৫ হাজার, সিডরে আক্রান্ত͏ দক্ষিণাঞ্চলের জনসাধারনের মাঝে  ৫ হাজার, কোরআন শরীফ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ বিনামূল্যে বিতরন করেছি। সাংস্কৃতিক কর্মী, খেলোযাড়, আইনজীবি, জেলখানার বন্দী, সংসদ সদস্য ও সরকারী আমলাদের জন্য বিনামূল্যে কোরআন বিতরণের কাজ ইনশাআল্লাহ আমরা বিতরণ করতে যাচ্ছি।

আমরা অচিরেই কোরআনের প্রাচীন ও দূর্লভ তথ্য সামগ্রীর প্রদর্শনীর পরিকল্পনা শুরু করতে যাচ্ছি। কোরআনের যাদুঘর প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রনয়ণেও আমরা হাত দিচ্ছি। আগামী বছর ইনশাআল্লাহ এগুলোর পাশাপাশি একটি স্থায়ী কোরআন পদক চালুর কাজও আশাকরি আমরা শুরু করতে পারবো।

গবেষণা কার্যক্রমে আমরা ২টি কাজ করতে চেয়েছিলাম। একটি ছিলো উভয় বাংলায় ২০০ বছরের কোরআনের যাবতীয় অনুবাদ, তাফসীর, বই পুস্তক, গান, কবিতা, গযল পুঁথি, সিডি ভিসিডি ইত্যাদির একটি ডাইরেক্টরী প্রকাশ করা। এটি নিঃসন্দেহে সময় ও ব্যয় সাধ্য কাজ। দ্বিতীয় কাজটি ছিলো বর্তমান বিশ্বের ১০০ জন সেরা লেখকের ১০০টি প্রবন্ধ নিয়ে আল বাছায়ের-এর একটি দুর্লভ কোরআন স্মারক প্রকাশ করা। আলহামদু লিল্লাহ, গত কয়েক মাসে এসব মুল্যবান প্রবন্ধের অনেকগুলোই আমরা আমাদের সংগ্রহে আনতে পেরেছি।  একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠানের বর্তমানে আমরা সব ধরণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

প্রশ্ন: আলে কারআন একাডেমী লন্ডন ও  এর কর্মকান্ড সম্পর্কে  বলুন

‘আল কোরআন একাডেমী লন্ডন’ লন্ডনভিত্তিক একটি আন্তÍর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।  ১৯৯২ সালের গোড়ার দিকে এই প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। বাংলা ভাষায় কোরআনের ওপর একটি পূর্ণাংগ অভিধান রচনা ছিলো ‘আল কোরআন একাডেমী লন্ডন’-এর প্রথম অবদান। এই বিষয়ের ওপর এটাই ছিলো সম্ভবত বাংলা ভাষায় প্রথম প্রয়াস। বছর কয়েক আগে গ্রন্ত’টি লন্ডন থেকে ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত হয়।
হাজার বছরের কোরআন মুদ্রণের ইতিহাসে  প্রথম বিষয়ভিত্তিক রঙীন কোরআন  ‘আমার শখের কোরাআন মাজীদ’। আমাদের ‘কোরআন শরীফ ঃ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ’ বিভিন্ন সাইজে এই কয় বছরের মধ্যে অনুবাদ গ্রন্ত’টির অসংখ্য সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। শতাব্দীর সেরা গ্রন্ত’ সাইয়েদ কুতুব শহীদ রচিত ‘তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন’-এর বাংলা অনুবাদ ও প্রকাশনা একাডেমীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।  তাফসীরের জগতে একাডেমীর আরও  অবদান হচ্ছে , শায়খুল ইসলাম হযরত মওলানা শাব্বীর আহমদ ওসমানীর ‘তাফসীরে ওসমানী’ ও বরণীয় মোফাসসের মওলানা আবু সলিম মোহাম্মদ আবদুল হাই-এর ‘আসান তাফসীর’ এর বাংলা অনুবাদ।
হাজার বছর ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানকারী সর্বজন প্রশংসিতÑ হাফেজ এমাদ উদ্দীন ইবনে কাসীর-এর ‘তাফসীরে ইবনে কাসীর’সহ আরও কয়েকটি তাফসীর ও দূর্লভ ইসলামী গ্রন্ত’ প্রকাশনার কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ‘খোতবাতে মোহাম্মদী’ ও সীরাত গ্রন্ত’ ‘আর রাহীকুল মাখতূম’সহ ইসলামী সাহিত্যের ব্যাপক প্রকাশনায়ও একাডেমী বিরাট অবদান রেখেছে। একই সাথে রয়েছে কিশোর পুস্তকসহ প্রায় একশ’ ইসলামী সাহিত্যের এক বিশাল সংগ্রহ। সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আল কোরআন একাডেমী লন্ডন ইতিমধ্যেই দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের ইসলামী গান, কোরআনভিত্তিক নাটক এর এক বিরাট ভান্ডার নির্মাণ করেছে।
‘আল কোরআন একাডেমী লন্ডন’ বাংলাদেশ সেন্টার কয়েক বছর থেকেই প্রতি রমযান মাসে এ দেশের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের কোরআনের পথে উজ্জীবিত করার জন্যে বিভিন্ন কর্মসূচীর ভিত্তিতে ‘কোরআন বুঝার আন্দোলন’ নামে একটি সামাজিক আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে। একাডেমী বিশ্বাস করে, কোরআন একটি জীবন বিধানের নাম, আর মুসলমানদের দুনিয়ার বুকে পুনরায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে এ বিধানের সক্রিয় ও নিবেদিত কর্মী হয়েই বাঁচতে হবে।
আল কোরআন একাডেমী লন্ডন ২০০৮ ও ০৯ সালকে বাংলা ভাষায় কোরআন অনুবাদের ২০০ বছর পর্তি উৎসব হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্বব্যাপী কোরআন গবেষণার ময়দানে একটি নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে।
আলহামদু লিল্লাহ, আল কোরআন একাডেমী লন্ডনের উদ্যোগে নেপালী ভাষায় কোরআনের অনুবাদের কাজ সসম্পন্ন হয়েছে। একাডেমী অচিরেই চাকমা উপজাতির ভাষায়ও কোরআন অনুবাদের কাজে হাত দেবে ইনশাআল্লাহ।

প্রশ্ন: আমাদের পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?

আসুন আমরা সবাই মিলে কোরআন প্রচার প্রসারের এই আন্দোলনে শরীক হয়ে আমাদের অনাগত ভবিষ্যতের জন্যে কিছু স্থায়ী সদকায়ে জারিয়া রেখে যাই। সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গাছ লাগালে তা বড়োজোর একশ’ বছর বাঁচবে। পুল, সেতু, রাস্তা বানালে তাও একশ বছরের বেশী থাকবে না, কিন্ত সদকায়ে জারিয়া হিসেবে এক কপি কোরআন শরীফ সহজ সরল বাংলা অনুবাদ মানুষদের হাতে তুলে দিতে পারলে তার ফল কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। কেননা আল্লাহর এ কিতাব অক্ষয়, এ কিতাব চিরন্তÍন।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহন করেছেন জাহাঙ্গীর আলম শোভন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY