আরো তিন ফিলিস্তিনী নিহত, শিশু হত্যায় নিরব বিশ্ব, ইসরাইলী তীর্থস্থানে আগুন দেয়ার অভিযোগ, ফিলিস্তিনীদের হত্যা করা ধর্মীয় দায়িত্ব বলে ইহুদি রাব্বিদের বিবৃতি, লন্ডনে বিক্ষোভ

0
460

 

 

 

 

গত 17 অক্টোবর ভিন্ন ভিন্ন স্থানে তিন জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছে। পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে একজন ইসরায়েলি নারী সৈন্যের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া একজন ইহুদি বসতিস্থাপনকারীর গুলিতে অপর এক ফিলিস্তিনি যুবক নিহত হয়। ইসরাঈর বলছে এরা তাদের চুরিকাহত করার চেষ্টা করছিলো। এই সংবাদ বিবিসি প্রতিনিধির। (ছবি: ফাইল ফটো)

এ মাসের শুরু থেকে ফিলিস্তিনিদের ছুরিকাঘাতে এবং গুলিতে সাত জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত তিরিশ জন ফিলিস্তিনি।

জেরুসালেমের আরমোন হানাজতিভ এলাকায় একজন আরব ব্যক্তির দিকে ইসরায়েলি সীমান্ত প্রহরী পুলিশ এগিয়ে গেলে লোকটি তাদের ছুরিকাঘাত করার চেষ্টা করে। পুলিশ তখন তার ওপর গুলি চালায়। যারা আক্রান্ত হয়েছিল তাদের কেউই গুরুতরভাবে আহত হয় নি।গত কয়েকদিনে 30 জনের বেশী ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কয়েকজন নারী শিশু ও কিশোর। ভবিষ্যতে প্রতিবাদে যুবক তৈরী হবে এই আশংকায় আমেরকিার মদদে ফিলিস্তিনে ক্রমাগত শিশু হত্যা করছে ইসরাঈলীরা। এ ধরনের নিন্দনীয় কাজে একরকম দর্শকের ভূমিকা পালন করছে আন্র্তজাতিক সংস্থাসমূহ ও বিশ্বনেতারা। ফলে মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। প্রতিবাদে জাগ্রত হয়েছে ফেইসবুক ব্যবহার কারীরাও।

সম্প্রতি পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসে আহমদ সালেহ মানাসরা নামে এক ফিলিস্তিনি কিশোরকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা।

গুলি করার পর হানাদার ইসরাইলি সেনারা তাকে গালি দিচ্ছিল আরবি-হিব্রু মিশ্র ভাষায়। এসময় তারা আহত শিশুটির ছবি তুলছিল পরিহাস করে! ইহুদিবাদীদের কেউ এগিয়ে এসে তাকে হাসপাতালে নেয়ার চেষ্টা করেনি। ইসরাইল দাবি করছে- এই শিশুসহ অন্য এক ফিলিস্তিনি শিশু ইহুদিবাদী দখলদারদের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা করতে চেয়েছিল।

পশ্চিম তীরের শহর নাবলুসে জোসেফের কবর বলে বিবেচিত এই তীর্থস্থানে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভাকারীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে ইসরাইল।বিবিসি জানায় -পরে অবশ্য ফিলিস্তিনি পুলিশ তাদের হটিয়ে দেয়। দমকল কর্মীরা সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলেও এই প্রাচীন স্থাপনার অনেক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে।

মুসলিমদের কাছে পবিত্র তীর্থ বলে পরিচিত জেরুসালেমের আল আকসা মসজিদ নিয়ে ইসরায়েলের এক কথিত পরিকল্পনাকে ঘিরে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলে আল আকসা মসজিদ প্রাঙ্গনকে পুরোপুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় বলে সন্দেহ করছে ফিলিস্তিনিরা।

ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ইহুদী এবং খ্রীষ্টানদের পবিত্র তীর্থস্থানের ওপর হামলার নিন্দা করেছেন। নাবলুসে এই হামলাকে তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে বর্ণনা করেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই তীর্থস্থানটির সংস্কার করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

মিডলইস্ট মনিটর – এর সূত্র মতে, ইসরাইলি কট্টরপন্থী রাব্বিরা বলেছেন, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হত্যা করা ‘ধর্মীয় দায়িত্ব’। ইসরাইলি মিডিয়া এ খবর প্রকাশ করেছে। ইসরাইলি নিউজ ওয়েবসাইট ওয়ালা জানিয়েছে, ডানপন্থী রাব্বিরা ফিলিস্তিনি আন্দোলন দমন-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, এটা শুধু খালি হাতে নয়, ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে হলেও দমন করা ধর্মীয় দায়িত্ব।
সাফেদ নগরীর প্রধান রাব্বি স্যামুয়েল ইলিইয়াহু আরেক ধাপ এগিয়ে যেসব ইসরাইলি পুলিশ ও সৈন্য আটকের পরও ফিলিস্তিনিদের জীবিত রাখেন তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের উপর ইহুদিবাদী ইসরাইলের বর্বরোচিত দমন অভিযানের বিরুদ্ধে লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদীদের চলমান অপরাধযজ্ঞ বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন।

লন্ডনস্থ ইসরাইল দূতাবাসের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটেনের বেশ কয়েকটি ইসরাইল বিরোধী সংগঠন এ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।

ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি সহিংসতা বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক প্রধান জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন।

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY