হিজাবের জন্য কবিতা: উজবেকিস্তানে প্রতিবাদের আরেক ভাষা, কানাডায় হিজাব পরে ভোটদান

0
714

উজবেকিস্তানে সম্প্রতি বেশ কিছু হিজাবধারীদের পুলিশের হাতে আটকের ঘটনা ঘটেছে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে তারা হিজাব না খোলা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার খবর পাওয়া গেছে।এজন্য তরুন প্রজন্মের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে তারা প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছে কবিতা, মাধ্যম হিসেবে ফেইসবুক।

খবর বিবিসি

দেশটির টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং চলচ্চিত্রে হিজাবকে ‘বিদেশী’ আরব পোষাক হিসেবে দেখানো হয়। হিজাব যদিও উজবেকিস্তানে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ নয়,

পুলিশ বাড়াবাড়ি করলে আজকাল যা হয় মানুষ যখন রাস্তায় নামতে পারেনা। তখন অনলাইনকে বেছে নেয়।

মধ্য এশিয় দেশগুলোতে হিজাবের ওপর আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যার মধ্যে বেশ কিছু দেশ স্বৈরতান্ত্রিক এবং মুসলিমপ্রধান।

“আমার বিষয়ে অন্যদের নাক গলাতে দেবো না” একটি কবিতার পঙক্তি।

অন্য একটি কবিতায় লেখা “যাদের হিজাব নেই তাদেরকে আমারটা নিয়ে কথা বলতে দেবো না”।

উজবেকিস্তানে হিজাববিরোধী অভিযানের প্রতিবাদকারীরা এভাবেই ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছেন কবিতাকে। এধরণের বেশ কিছু কবিতা ফেসবুকে শত-শত বার শেয়ারও হয়েছে।

“আমার সমালোচনা না করে ফটোশপ দিয়ে তোমার মাথায় একটি কাপড় বসিয়ে দাও/তোমার মাথা ঢেকে ফেলো/ হিজাব পড়া একজন নারীর জন্য স্বাভাবিক বিষয়/ তুমি যদি হিজাব না পরো, আমারটা নিয়ে কিছু বলতে এসো না” একজন অলাইন ব্যবহারকারীর কবিতা। অন্য একটি কবিতায় ইউরোপিয় পোষাকের বিপরীতে ‘ইসলামিক পোষাক’-এর গুণগান করা হয়েছে।

উজবেকিস্তানে যদিও বিবিসিসহ অন্যান্য বিদেশী সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট প্রায়সময়ই বন্ধ করে রাখা হয়, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর সেধরনের নিয়ন্ত্রণ নেই এবং এই মাধ্যমগুলোই প্রতিবাদ প্রকাশের একটি জায়গা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যদিও ফেসবুক, টুইটার এবং রুশ-ভাষার ভিকনটাকটের ব্যবহারকারীর সংখ্যা দেশটিতে খুবই কম। ধারণা করা হয় উজবেকিস্তানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩৬০,০০০, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার মোটে ১ শতাংশ।

এ অঞ্চলের সরকারগুলো ইসলামপন্থার উত্থান এবং ইসলামিক স্টেটের হুমকি নিয়ে শঙ্কিত। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ক্রাইসিস গ্রুপের হিসেবে অঞ্চলটি থেকে প্রায় ৪,০০০ মানুষ আইএসে যোগ দিয়েছে।

এদিকে কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে কিছু ভোটার এর মধ্যে আগাম ভোট দিয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছু ভোটার নেকাব ও মুখোশ পরে ভোট দিয়েছেন। ১৯ অক্টোবর কানাডায় কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোট নেওয়া হবে। থ্যাঙ্কস গিভিং ছুটির দিন নিউ ফাউন্ডলেন্ড, আলবার্টা ও কুইবেকের বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অনেক ভোটারকে আগাম ভোট দিতে দেখা যায়। এসব ভোটারের অনেকের মুখে মুখোশ ছিল। সম্প্রতি দেশটির উচ্চ আদালতের একটি রায় অনুযায়ী সেখানে নেকাব পরা বা মুখ ঢেকে চলায় আর বাধা নেই। কনজারভেটিভ নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার অবশ্য নেকাবের বিপক্ষে। কুইবেকের অনেক ভোটার প্রাদেশিক পতাকায় মুখ ঢেকে ভোট কেন্দ্রে যান। ওই প্রদেশের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা আদিব আল খালেদি কিছু ভোটারের এমন আচরণকে নিছক সাম্প্রদায়িক বলে মন্তব্য করেছেন। অভিবাসীদের প্রধান শহর টরন্টোয় গতকাল প্রধান তিনটি দলের নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেখা গেছে। সেখানে অবশ্য মুখোশ পরে আগাম ভোটদানের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY