লন্ডন ইসলামী বই মেলা ২০১৫

0
697

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
চেয়ারম্যানের কথা
লন্ডন ইসলামী বই মেলা ২০১৫

অনেকেই বলেন বাংলা ‘‘বই’’্ শব্দটি এসেছে আরবী ‘‘ওহী’’ শব্দ থেকে। তাদের মতে ‘‘বই’’ এক সময় সাধু ভাষায় ছিলো ‘‘বহি’’, আর আরবী ভাষায় ‘‘ওয়াও’’ অক্ষরটি বাংলায় প্রায় সব্ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন আমরা আরবী ‘‘তাজওয়ীদ’’্ শব্দটিকে বাংলায় তাজবীদ বলি। এখানে ‘‘ওয়াও’’ অক্ষরকে আমরা বাংলায় ‘‘ব’’  বলি, ‘‘ব্’’ লিখি।
যারা বর্তমান ‘‘বই’’্কে দেড় হাজার বছর আগে ‘‘ওহী’র আধুনিক সংস্করণ বলেন, তাদের সাথে একমত না হওয়ার আমি কিন্তু তেমন কোনো কারণ দেখি না। বাংলা বই ও আরবী ওহীর সূত্র যে একÑ এতে তো আমাদের কারো মনেই কোনো দ্বিধা দ্বন্দের অবকাশ নেই। বই হড়ে– পড়ার ‘‘কাগজী’’ সংস্করণ, আর পড়া হচ্চে ওহীর বাহন বাহনই বা বলি কেন, প্রথম ওহীই তো ছিলো পড়া এটা তো ওহীর প্রথম শব্দ থেকেই বুঝা যায়।
পড়ার কথা দিয়ে যে জাতির জীবন শুরু তাদের জন্যে মাঝে মাঝে পড়ার আসর বসানো, আর পড়ার প্রিন্টং ভার্সন বইর মেলা আয়োজন করার আসলেই কোনো প্রয়োজন আছে? বই যাদের জীবনের মন্ত্র, বই দিয়েই যে জাতি একদিন আসমান ছোঁয়া সফলতা পেয়েছে তাদের নতুন করে পড়ার পাঠদানে উদ্বুদ্ধ করার জন্যে কিন্তু প্রতিবছর আমরা এই বই মেলার আয়োজন করি না। আমাদের এ আয়োজন তাদের জন্যে যারা যান্ত্রিক সভ্যতার চাপে নিজেরাও এখন যন্ত্রে পরিণত হয়ে গেছেন। বছরের ৩৬৫ দিনই যাদের বই পড়ার কথা, বই কেনার কথা, তাদের মাঝে মাঝে কিছু বই সংগ্রহ করার কথা মনে করিয়ে দেয়ার জন্যেই মূলত আমাদের এ আয়োজন। প্রতিনিয়ত দেশের ভেতরে বাইরে যেভাবে হাজার হাজার বই বেরুচ্চে তার মাঝ থেকে কিছু বই যেন তারা নিজেদের জন্যে খুঁজে বের করতে পারেন ওটাই আমরা এ মেলার মাধ্যমে চেষ্টা করি। অতীতের মতো এবারও আমরা আশা করি কিছু সুন্দর বইয়ের সাথে তাদের পরিচিত করাতে পারবো।
এ নিয়ে ৪ বার আমরা লন্ডনে ইসলামী বই মেলার আয়োজন করেছি। প্রতিবারের মতো এবারও আমাদের মূল বক্তব্য একটাই এবং সেটা হড়ে– আপনি একটি ভালো বই পড়–ন। কারণ একটা ভালো বই যেমন একজন মানুষকে বদলে দিতে পারে, তেমনি একটি খারাপ বইও কিন্তু তাকে বদলে দিতে পারে। তবে সে বদলে দেয়টা কিন্তু মোটেই ভালো অর্থে নয়। যে বই একজন পাঠককে তার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভুলিয়ে দিয়ে তাকে খাও দাও ফূর্তি করার কথা বলেÑ সে বইকে আপনি ভালো বলবেন কি করে? আমরা তো বলিÑ এমন বইটি না পড়ে লোকটির অশিক্ষিত থেকে যাওয়াটাই ভালো ছিলো। এ জন্যেই গুণীজনরা বলেন কুশিক্ষার চেয়ে অশিক্ষা অনেক ভালো; আর আজকের দুনিয়ার অসংখ্য কুশিক্ষার মূল উপকরণই হচ্ছ ব্যাংঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা নানা অখ্যাত প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে প্রকাশিত গাদা গাদা বই। এ বইগুলো কিভাবে আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাড়ি–। এর সাথে ইদানীং আবার এসে যোগ হয়েছে নানা তথ্য প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা আমাদের প্রিন্টং দুনিয়াকে নানাভাবে কলুষিত করে দিয়েছে। এ উভয় প্রযুক্তির বিষপ্রভাব থেকে আজ আমি আপনি, আপনার আমার সন্তান, ভাবী প্রজন্ম কেউই মুক্ত নয়। আল্লাহ তায়ালা জানেনÑ অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জন্যে আর কি ধরনের ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।
লন্ডন ইসলামী বইমেলা ২০১৫ এ সর্বগ্রাসী ধ্বংসকে প্রতিরোধ করার নি:সন্দেহে একটি সাহসী প্রয়াস। গত ৪ বছরে আমাদের মেলায় প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক এসেছেন, তাদের অনেকেই দোকানে দোকানে ঘুরে তাদের পছন্দের বইটি দেখেছেন, নিজেদের ছেলেমেয়েদের ঘুরে ঘুরে দেখিয়েছেন। যাবার সময় তারা কোরআনের একটি অনুবাদ, কোরআনের একটি তাফসীর, কোরআনমূখী দু চারটা বইও কিনে নিয়ে গেছেন। ঘরে নিয়ে নিজেরা তা পড়েছেন, ছেলেমেয়েদের তা মাঝে মাঝে পড়িয়ে শুনিয়েছেন। এ সব সৃজনশীল বইর কোনো একটি বইও যদি আমাদের জীবনের গতি ফিরিয়ে দিতে পারে তাহলে আমরা অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার শোকর আদায় করবো।
জানা কথাই এ বই মেলা থেকে আপনাদের প্রত্যাশা অনেকÑ যার শতাংশও হয়তো আমরা পুরণ করতে পারিনি, তবে আমাদের শান্ত¡না এটুকুই যে, আমরা চেষ্টা করেছি, উপায় উপকরণের স্বল্পতা সত্বেও আমরা আমাদের অভীষ্ট থেকে ফিরে যাইনি। নানা আশংকা, নানা শংকা নিয়েও আমরা এগিয়ে গিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের ত্রুটি বিচ্যুতি ক্ষমা করুন।

হাফেজ মুনির উদ্দীন আহমদ লন্ডন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY