ফ্রান্সের রাস্তায় পবিত্র কোরআন পোড়ালো ইসলাম বিদ্বেষীরা, মুসলিম বিদ্বেষী হামলা অব্যাহত

0
144

 সম্প্রতি ফ্রান্সের সন্ত্রাসী হামলার সূত্র ধরে সেদেশের একদল ইসলাম বিদ্বেষী যুবক জনসম্মুখে রাস্তার উপর পবিত্র কুরআনে আগুন লাগিয়েছে। ইসলাম বিদ্বেষীরা পবিত্র কুরআনে আগুন লাগানোর দৃশ্য ধারণ করে সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রকাশ করেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্রান্সের ইসলাম বিদ্বেষী যুবকরা ফ্রান্সের পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করছে এবং এই পবিত্র গ্রন্থের অবমাননা করে আগুন লাগাচ্ছে।

প্যারিসে হামলার জেরে পশ্চিমা দেশসমূহের মসজিদে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আল-আযহার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে এ সকল হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে, মুসলমানদের নিরাপত্তা প্রদান এবং মসজিদগুলো যাতে হামলার শিকার না হয় সে লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য ঐ সকল দেশের সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছে আল-আযহার।
আল-আযহার ঘোষণা করেছে : মুসলমান এবং তাদের ইবাদতের স্থানের বিরুদ্ধে কিছু কিছু উগ্রতাবাদীকে উস্কে দেওয়ার ফলে ফেতনার আগুন জ্বলে উঠবে এবং পারস্পারিক টানাপোড়ন আরো বৃদ্ধি পাবে।
ইসলামি এ কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ অন্ধ চিন্তার অধিকারী শক্তির স্বার্থসিদ্ধ। যাদের মোকাবিলা ও যাদেরকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ঐক্যের বিকল্প নেই।
আইএসআইএল চিন্তাধারা মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা
আল-আযহারের সহকারি প্রধান আব্বাস শুমান গতকাল ১৬ই নভেম্বর, উগ্রতাবাদীদের সাথে বিতর্কের জন্য আলেমগণকে ফ্রান্সে প্রেরণের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছেন।
তিনি আইএসআইএলের বিভ্রান্ত চিন্তাধারার মোকাবিলার প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন : আইএসআইএলের মোকাবিলা  চিন্তাগত দিক থেকেও করতে হবে এবং এ শুধুমাত্র নিরাপত্ত জোরদার করার মাঝে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে
সূত্র : সুদাল বালাদ

লন্ডনের মেট্রোয় এক মুসলিম নারীকে ট্রেনের সামনে ধাক্কা দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক ইসলাম বিদ্বেষী।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ৪টার দিকে লন্ডনের মেট্রোয় (পাতাল রেল স্টেশন) এ ঘটনাটি ঘটে। প্রকাশিত ভিডিও’য় দেখা যায় ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত এক নারীকে এক ব্যক্তি পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ট্রেন লাইনে ফেলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু ঘটনাক্রমে এই মুসলিম নারী চলন্ত ট্রেনের সাথে ধাক্কা খেয়ে পিছনে পরে যায়।
লন্ডনের পুলিশ জানিয়েছে, এই মুসলিম নারী মুখে ও মাথায় আঘাত পেয়েছে। তার চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়।
এদিকে হত্যার অভিযোগে আক্রমনকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।(Iqna)

স্পেনের ‘ডন বেনিতো’ শহরের একটি মসজিদে ইসলাম বিদ্বেষীরা উদ্দেশ্যমূলক ভাবে আগুন দিয়ে মসজিদে অবমাননা করেছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে সম্প্রতি প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলাম বিদ্বেষীদের কর্ম তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর তারই সূত্র ধরে স্পেনের ‘ডন বেনিতো’ শহরের একটি মসজিদে ১৪ই নভেম্বর সকালে ইসলাম বিদ্বেষীরা হামলা করে মসজিদে আগুন লাগিয়েছে।
ডন বেনিতো শহরের মেয়র ‘জোসে লুইস কুইন্টানা’জানিয়েছে: প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার ফলে স্পেনের ইসলাম বিদ্বেষীরা মসজিদে এ হামলা চালিয়েছে।
স্পেন মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি মুহাম্মাদ কিতাবী বলেন: এ শহরে ৪০ হাজার জনগণের মধ্যে প্রায় ৫০০ মুসলমান একত্রিত হয়ে এবং শান্তিপূর্ণ ভাবে জীবনযাপন করছে। যারা এই ঘৃণ্য কর্ম করেছে তারা তাদের উদ্দেশ্য নির্বাচন করতে ভুল করেছে।
মসজিদে আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। মসজিদের প্রবেশ দার আগুনে পুড়ে গিয়েছে। তবে ভিতরে তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।

কানাডার দক্ষিণাঞ্চলীয় পিটারবোরো শহরের একটি মসজিদে আগুন লাগিয়ে এই পবিত্র স্থানের অবমাননা করেছে ইসলাম বিদ্বেষীরা।

বার্তা সংস্থা ইকনা জানিয়েছে কানাডিয়ান পুলিশ ১৫ই নভেম্বর ঘোষণা করেছে, কানাডার কেন্দ্রীয় ওনটারি প্রদেশের অটোনাবি নদীর পাড়ে পিটারবোরো নগরীর মুসলমানদের জন একমাত্র মসজিদ আস-সালামে ইসলাম বিদ্বেষীরা আগুন লাগিয়েছে।
এ মসজিদে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আগুন দেয়া হয়েছে। স্থানীয় মুসলমানরা অভিযোগ করেছেন, এ ঘটনা ইসলাম বিদ্বেষী তৎপরতার অংশ। প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পরপরই কানাডার এ মসজিদে আগুন দেয়া হয়।
কানাডার কেন্দ্রীয় ওনটারি প্রদেশের অটোনাবি নদীর পাড়ে পিটারবোরো নগরীর আস-সালাম মসজিদে এই আগুন দেয়া হয়। নগরীর একমাত্র মসজিদটিতে শনিবার স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১১টায় আগুন দেয়া হয়। এ ঘটনার তদন্ত চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আগুনের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদটি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে গেছে।  আস-সালাম মসজিদে কেন আগুন দেয়া হয়েছে এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত তা এখনো জানা যায়নি।
এদিকে, স্থানীয় সূত্র থেকে বলা হয়েছে, মসজিদটি মেরামতে ৮০,০০০ ডলার লাগবে। এ জন্য তহবিল সংগ্রহ করছেন স্থানীয় মুসলমানরা।
নগরীর মেয়র এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্বেষের কারণে মসজিদে আগুন দেয়া হয়ে থাকলে তার সঙ্গে কানাডার সাধারণ মানুষের কোনো যোগসূত্র নেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY