দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায় ওহীর বিভিন্ন প্রকারভেদ

0
284

দাওয়াতের বিভিন্ন পর্যায় ওহীর বিভিন্ন প্রকারভেদ

মোহাম্মদ (স.)-এর নবুয়ত জীবনকে আমরা দ্ভুাগে ভাগ করতে পারি। তার এক ভাগ অন্যভাগ থেকে পুরোপুরি সমুজ্জ্বল এবং বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এ দুভাগ হচ্ছেÑ
মক্কী জীবন Ñ প্রায় তেরো বছর।
মাদানী জীবনÑ দশ বছর।
উল্লিখিত দুভাগ আবার কয়েক পর্যায়ে বিভক্ত এবং এ পর্যায়গুলোও স্বীয় বৈশিষ্ট্যে একটি আরেকটি থেকে ভিন্ন এবং বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। নবীজীবনের উভয় অংশে সংঘটিত বিভিন্ন পরিস্থিতির গভীর পর্যালোচনার পর আপনি তা অনুমান করতে পারবেন।

রসূল (স.)-এর মক্কী জীবন তিন পর্যায়ে বিভক্ত।
১. গোপন দাওয়াতের পর্যায়Ñ তিন বছর।
২. মক্কাবাসীর মাঝে প্রকাশ্যে দাওয়াত ও তাবলীগের পর্যায়Ñ এ পর্যায় নবুয়তের চতুর্থ বছর থেকে দশম বছরের শেষ পর্যন্ত ব্যাপ্ত।

মক্কার বাইরে ইসলামের দাওয়াতের গ্রহণযোগ্যতা এবং বিস্তারে
সময়: নবুয়তের দশম সালের শেষ ভাগ থেকে মদীনায় হিজরত পর্যন্ত

ওহীর বিভিন্ন রকম
এক. সত্য স্বপ্নÑ
যার মাধ্যমে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর ওহী নাযিলের সূচনা হয়।

দুই. ফেরেশতা তাঁকে দেখা না দিয়ে তাঁর মনে কথা প্রক্ষেপ করতেন।
যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, রুহুল কুদুস আমার মনে একথা বসিয়ে দিলেন যে, কোনো মানুষ তার জন্যে নির্ধারিত রেযেক পুরোপুরি পাওয়ার আগে মৃত্যু বরণ করে না। কাজেই আল্লাহকে ভয় করো এবং ভালো পন্থায় রেযেক তালাশ করো।

তিন. ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধরে এসে রসূল (স.)-কে স¤েœাধন করতেন। ফেরেশতা যা কিছু বলতেন, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা মুখস্থ করে নিতেন। এ সময় কখনো কখনো সাহাবায়ে কেরামও ফেরেশতাকে দেখতে পেতেন।

চার. রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে ঘন্টাŸনির মতো টন টন শব্দে ওহী আসতো, এটি ছিলো ওহীর সবচেয়ে কঠোর অবস্থা। এ অবস্থায় ফেরেশতা তাঁর সাথে দেখা করতেন এবং প্রচস্ক শীতের মওসুমেও তাঁর কপাল থেকে ঘাম ঝরে পড়তো।

পাঁচ. তিনি ফেরেশতাকে তার প্রকৃত চেহারায় দেখতেন। সে অবস্থায়ই ফেরেশতা আল্লাহর ইচ্চায় তাঁর ওপর ওহী নাযিল করতেন। দ্বুার এরুপ হয়েছিলো।

ছয়. মেরাজের রাতে আল্লাহ তায়ালা নামায ফরয হওয়া এবং অন্যান্য বিষয়ের ওহী নাযিল করেন। যখন রসূল (স.) আকাশে ছিলেন।

সাত. ফেরেশতার মাধ্যম ছাড়া আল্লাহ তায়ালার সরাসরি রসূল (স.)-এর সাথে কথা বলা,  নবী করীম (স.)-এর এ প্রকারের ওহীর প্রমাণ (কোরআন মাজীদের পরিবর্তে) ম্রোজের হাদীসে রয়েছে।
আট. কেউ কেউ আর এক প্রকার ওহীর উল্লেখ করেছেন। তা হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালার পর্দাবিহীন মুখোমুখি অবস্থায় কথা বলা।
(ওহীর এ প্রকার সম্পর্কে পূর্ববর্তীদের থেকে নিয়ে পরবর্তীদের পর্যন্ত মতভেদ রয়েছে)

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY