প্রিয় নবীর পোশাক পরিচ্ছদ

0
511

প্রিয় নবীর পোশাক পরিচ্ছদ

কোর্তা অর্থাৎ কামিজ:
এই পোশাক প্রিয় নবী (স:) খুবই পছন্দ করতেন। কোর্তার আস্তিন মাঝামাঝি আকৃতির ছিল। সফরের জেহাদের জন্য তিনি যেসব জামা পরিধান করতেন সেই সব জামার আস্তিন সাধারণত খাটো হতো। জামার কলার বুকের ওপর ছড়ানো থাকতো। মৌসুমের প্রয়োজন অনুযায়ী সেই কলার তিনি মাঝে মাঝে খোলা রাখতেন।

তহবন্দ :
প্রিয় নবী (স:) সারা জীবন তহবন্দ পরিধান করেন। নাভির কিছু নীচে তিনি এটা বাঁধতেন। নীচের দিকে পায়ের গোড়ালীর উপর পর্যন্ত লুংগি নামাতেন। সামনের দিকের অংশ কিছুটা নীচু থাকতো।

পায়জামা :
সাহাবারা পায়জামা পরিধান করতেন। একবার প্রিয় নবী (স:) হযরত আবু হোরায়রাকে (রা:) সংগে নিয়ে বাজারে যান এবং একটি পায়জামা ক্রয় করেন।

পাগড়ি :
মাথায় পাগড়ি বাঁধা প্রিয় নবী (স:)-এর বিশেষ পছন্দের ছিল। সেই পাগড়ি বেশী ভারীও হতো না বেশী হালকাও হতো না। এক বর্ণনায় জানা যায় প্রিয় নবী (স:)-এর ব্যবহৃত পাগড়ি ছিল ৭ গজ লম্বা। পাগড়ির পেছনের দিকে পাগড়ির সীমানা এক বিঘত পরিমাণ লম্বা ছিল। কাঁধের দুইদিকে সেই অংশ ছড়িয়ে দিতেন। সাদা পাগড়ি ছাড়া মাঝে মাঝে তিনি মাটির রংগের পাগড়িও ব্যবহার করতেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি কালো রংগের পাগড়ি ব্যবহার করেছিলেন।

কানাআ্:
পাগড়িকে তেল বা চর্বি থেকে রক্ষার জন্য চুলের ওপর বিশেষ রকমের কাপড় ব্যবহার করতেন। আরবীতে এই কাপড়কে বলা হতো কানাআ্। পাগড়ির নীচে প্রিয় নবী (স:) যে কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করতেন সেটাকে কখনো অপরিষ্কার হতে দেখা যায়নি।

টুপি :
পাগড়ির নীচে তিনি টুপি ব্যবহার করতেন। এটা ছিল একটা বিশেষ পদ্ধতি। এই পদ্ধতি ইসলামী সংস্কৃতির পরিচায়ক হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। প্রিয় নবী (স:) পাগড়ি ছাড়া মাঝে মাঝে সাদা টুপিও ব্যবহার করতেন। ঘরে ব্যবহার করা টুপি মাথার সাথে সেঁটে থাকতো। বাইরে বেরোবার সময় কিছুটা উঁচু টুপি ব্যবহার করতেন। মাঝে মাঝে মোটা কাপড়ের টুপিও ব্যবহার করতেন।

চাদর :
প্রিয় নবী (স:) গায়ে যে চাদর ব্যবহার করতেন সেই চাদর চার গজ লম্বা আড়াই গজ চওড়া হতো। কখনো পরিপাটিভাবে চাদর পরিধান করতেন কখনো বগলের নীচে দিয়ে নিয়ে অপর কাঁধের ওপর রাখতেন। সম্মানিত মেহমানদের জন্য চাদর বিছিয়ে দিতেন। ইয়েমেনের জারারাহ নামক চাদর প্রিয় নবী (স:) খুব পছন্দ করতেন। এই চাদরে লাল বা সবুজ রেখা থাকতো।

নতুন পোশাক :
নতুন পোশাক পাওয়ার পর প্রিয় নবী (স:) তা সাধারণত শুক্রবার দিন থেকে ব্যবহার শুরু করতেন। পরিধানের সময় আল্লাহ পাকের প্রশংসা করতেন।

অতিরিক্ত পোশাক:
অতিরিক্ত পোশাক ঘরে রাখার জন্য তৈরী করতেন না। কাপড়ে তালি লাগাতেন। ধুয়ে নিজে পরিষ্কার করতেন।

পরিচ্ছন্ন পোশাক:
ময়লা নোংরা পোশাককে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ব্যবহারের রীতি প্রিয় নবী (স:) প্রচলন করেন। উকুন বা অন্য পোকা মাকড় থেকে পোশাক রক্ষা করতে তিনি সচেতন থাকতেন।

মধ্যম পন্থা :
প্রিয় নবী (স:) মাঝে মাঝে ভালো ভালো পোশাকও ব্যবহার করতেন। তিনি মধ্যম পন্থা অবল¤œন করতেন। চরমপন্থা অবলম্বন থেকে তিনি উম্মতকে রক্ষা করেছিলেন।

জোল্টাও :
প্রিয় নবী (স:) রোমান জোল্টাও ব্যবহার করতেন। লাল ডোরাকাটা পোশাকও তিনি পরিধান করতেন। নানা রকমের জোল্টা তিনি পরিধান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। কিছু কিছু জোল্টায় হাতের দিকে রেশমী গোটার মতো লাগানো থাকতো।

মূল্যবান পোশাক:
তিনি একবার ২৭টি উটনীর বিনিময়ে একটি মূল্যবান পোশাক ক্রয় করেন এবং সেই পোশাক পরিধান করে নামায আদায় করেন।

সবচেয়ে বেশী পছন্দ :
প্রিয় নবী (স:) সাদা পোশাক সবচেয়ে বেশী পছন্দ করতেন। তিনি বলেন, মসজিদে আল্লাহ পাকের সামনে যাওয়ার জন্যে সাদা কাপড়ই উত্তম, তিনি আরো বলেন, সাদা কাপড় দিয়ে তোমরা তোমাদের মুর্দাদের কাফন দেবে। কেননা সাদা কাপড় অধিক পবিত্র পরিচ্ছন্ন এবং পছন্দ করার মতো।

সবুজ কাপড়:
সাদা ছাড়া প্রিয় নবী (স:) সবুজ কাপড়ও পছন্দ করতেন। এক্ষেত্রে কাপড়ে সবুজ ডোরা বা দাগ তিনি পছন্দ করতেন।

জুতো :
প্রিয় নবী (স:) আরবের প্রচলিত জুতো ব্যবহার করতেন। এসব জুতো ছিল চপ্পল এবং দ্ুিট ফিতা স¤œলিত খড়মের মতো। তিনি যে জুতো পরিধান করতেন তা পশমী ছিল না। এই সব জুতো ছিল এক বিঘত দুই আঙ্গুল লম্বা। তালুর অংশ সাত আঙ্গুল চওড়া। উভয় ফিতার জায়গায় ছিল দুই আঙ্গুলের ব্যবধান। কখনো দাঁড়ানো অবস্থায় আবার কখনো বসে তিনি এই জুতো পরিধান করতেন। জুতো পরিধানের সময়ে প্রথমে ডান পা প্রবেশ করাতেন তারপর বাম পা। খোলার সময় প্রথমে বাম পা বের করতেন তারপর ডান পা।

মোজা:
প্রিয় নবী (স:) জুতোর সাথে মোজাও ব্যবহার করতেন। সেই মোজা ছিল সাদাসিদে। তবে দামী মোজাও তিনি পরিধান করতেন। বাদশাহ নাজ্জাশী কালো রংগের মোজা প্রিয় নবী (স:)-এর জন্য উপহার স্বরুপ প্রেরণ করেছিলেন। সেই মোজা তিনি ছিঁড়ে যাওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করেন।

আংটি :
প্রিয় নবী (স:) রুপার আংটি ব্যবহার করেছেন। আংটি তিনি সাধারণত ডান হাতে পরিধান করতেন, কখনো কখনো বাম হাতে পরিধান করতেন। মাঝখানের আঙ্গুলে নয় বরং চতুর্থ আঙ্গুলে পরিধান করতেন। আংটিতে তিন লাইনে ‘‘মোহাম্মদ রসূল আল্লাহ’’্ এই তিনটি শব্দ লেখা ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে প্রিয় নবী (স:) সীলমোহরের উদ্দেশ্যে ও লক্ষে এ ধরনের আংটির ব্যবহার ছিল অত্যাবশ্যকীয়।

চুল :
প্রিয় নবী (স:) তাঁর চুল পরিপাটিভাবে রাখতেন। তিনি চুলে তেল ব্যবহার করতেন। মাথা আঁচড়াতেন।
সুর্মা :
চোখে সুর্মা ব্যবহার করতেন। রাতে ঘুমোবার আগে প্রিয় নবী (স:) সুর্মা ব্যবহার করতেন। প্রত্যেক চোখে তিনবার করে লাগাতেন।
গোঁফ :
ঠোঁটের ওপরের গোঁফ কামিয়ে ফেলতেন। আশেপাশের লম্বা দাড়ি পরিপাটি করে কেটে রাখতেন।

দাড়ি :
তাঁর মতো করে চুল দাড়ি রাখার জন্য সাহাবাদের নির্দেশ দিতেন। একজন সাহাবীর অপরিচ্ছন্ন দাড়ি নিজ হাতে পরিপাটি করে দেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মাথায় চুল রাখে এবং দাঁড়ি রাখে সে যেন সুন্দর পরিপাটি করে রাখে।

সুগন্ধি:
শেষ রাতে ওজু শেষে পোশাক পরিধান করতেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। রায়হানের সুগন্ধি তাঁর পছন্দনীয় ছিল। মেহেদী ফুলও সুগন্ধির কারণে তিনি পছন্দ করতেন। মেশকের সুগন্ধি সবচেয়ে বেশী পছন্দ করতেন। ঘরে সুগন্ধি ধূপধূলি জ্বালাতেন। তার একটি আতরদান ছিল। সেই আতরদানে উৎকষ্ট: আতর থাকতো। প্রিয় নবী (স:) সেই আতর ব্যবহার করতেন। হযরত আয়েশাও (রা:) মাঝে মাঝে নিজের হাতে তাকে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতেন।

গ্রন্থ: তিনি চাঁদের চেয়ে সুন্দর, আল কোরআন একাডেমী পাবলিকেশন্স

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY