কোরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ, পারা ৪, সূরা আলে ইমরান, সূরা আন নেসা

কোরআনের বাংলা অনুবাদ

0
430
A young Bahraini Shiite Muslim girl reads the Koran, Islam's holy book, during the holy fasting month of Ramadan at a mosque in the village of Sanabis, west of Manama, on July 27, 2013. AFP PHOTO/MOHAMMED AL-SHAIKH (Photo credit should read MOHAMMED AL-SHAIKH/AFP/Getty Images)

আল কোরআন পারা ৪

 

৯২. তোমরা কখনো (যথার্থ) নেকী অর্জন করতে পারবে না, যতোক্ষণ না তোমরা তোমাদের ভালোবাসার জিনিস আল্লাহর পথে ব্যয় করবে; (মূলত) তোমরা যা কিছুই ব্যয় করো, আল্লাহ তায়ালা তা জানেন।

৯৩. (আজ তোমাদের জন্যে যে) সব খাবার (হালাল করা হয়েছে তা এক সময়) বনী ইসরাঈলদের জন্যেও হালাল ছিলো, (অবশ্য) এমন (দু’একটা) জিনিস বাদে, যা তাওরাত নাযিল হওয়ার আগেই ইসরাঈল তার নিজের ওপর হারাম করে রেখেছিলো; তুমি বলো (সন্দেহ থাকলে যাও), তোমরা গিয়ে তাওরাত নিয়ে এসো এবং তা পড়ে শোনাও, যদি (তোমরা তোমাদের দাবীর ব্যাপারে) সত্যবাদী হও!

৯৪. যারা এরপরও আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, নিসন্দেহে তারা (বড়ো) যালেম। ৯৫. তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালা সত্য কথা বলেছেন, অতএব তোমরা সবাই নিষ্ঠার সাথে ইবরাহীমের মতাদর্শ অনুসরণ করো, আর ইবরাহীম কখনো (আল্লাহর সাথে) মোশরেকদের (দলে) শামিল ছিলো না।

৯৬. নিশ্চয়ই গোটা মানব জাতির জন্যে সর্বপ্রথম যে ঘরটি বানিয়ে রাখা হয়েছিলো তা ছিলো বাক্কায় (তথা মক্কা নগরীতে,) এ ঘরকে কল্যাণ মঙ্গলময় এবং (মানবকুলের) দিশারীটি বানানো হয়েছিলো।

৯৭. এখানে রয়েছে (আল্লাহ তায়ালার) সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ, (আরো) রয়েছে (এবাদাতের জন্যে) ইবরাহীমের দাঁড়ানোর স্থান (এই ঘরের বিশেষ মর্যাদা হচ্ছে), যে এখানে প্রবেশ করবে সে (দুনিয়া আখেরাত উভয় স্থানেই) নিরাপদ (হয়ে যাবে; দ্বিতীয় মর্যাদা হচ্ছে) মানব জাতির ওপর আল্লাহর জন্যে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যে, যে ব্যক্তিরই এ ঘর পর্যন্ত পৌঁছার সামর্থ থাকবে, সে যেন এই ঘরের হজ্জ আদায় করে, আর যদি কেউ (এ বিধান) অস্বীকার করে (তার জেনে রাখা উচিত), আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকুলের মোটেই মুখাপেক্ষী নন।

৯৮. (হে নবী!) তুমি বলো, হে আহলে কেতাবরা, তোমরা কেন (জেনে বুঝে) আল্লাহর আয়াত অস্বীকার করো, অথচ তোমরা যা কিছু করো আল্লাহ তায়ালাই তার ওপর সাক্ষী।

৯৯. তুমি (আরো) বলো, হে আহলে কেতাবরা, যারা ঈমান এনেছে তোমরা কেন তাদের আল্লাহর পথ থেকে ফেরাতে চেষ্টা করছো (এভাবেই) তোমরা (আল্লাহর) পথকে বাঁকা করতে চাও, অথচ (এই লোকদের সত্যপন্থী হবার ব্যাপারে) তোমরাই তো সাক্ষী; আল্লাহ তায়ালা তোমাদের এই সব (বিদ্রোহমলক) আচরণ সম্পর্কে মোটেই উদাসীন নন।

১০০. হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছোÑ (আগে) যাদের কেতাব দেয়া হয়েছে তোমরা যদি তাদের কোনো একটি দলের কথা মেনে চলো, তাহলে (মনে রেখো), এরা ঈমান আনার পরও (ধীরে ধীরে) তোমাদের কাফের বানিয়ে দেবে।

১০১. আর তোমরা কিভাবে কুফরী করবে, যখন তোমাদের সামনে (বার বার) আল্লাহর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হচ্ছে, তাছাড়া (এ আয়াতের বাহক স্বয়ং) আল্লাহর রসূল যখন তোমাদের মাঝেই মজুদ রয়েছে, যে ব্যক্তিই আল্লাহ (ও তাঁর বিধান)-কে শক্ত করে আঁকড়ে ধরবে, সে অবশ্যই সোজা পথে পরিচালিত হবে।

১০২. হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহকে ভয় করো, ঠিক যতোটুকু ভয় তাঁকে করা উচিত, (আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ) আত্মসমর্পণকারী না হয়ে তোমরা কখনো মৃত্যু বরণ করো না।

১০৩. তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরো এবং কখনো পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না, তোমরা তোমাদের ওপর আল্লাহর (সেই) নেয়ামতের কথা স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের দুশমন ছিলে, অতপর আল্লাহ তায়ালা (তাঁর দ্বীনের বন্ধন দিয়ে) তোমাদের একের জন্যে অপরের মনে ভালোবাসার সঞ্চার করে দিলেন, অতপর (যুগ যুগান্তরের শত্রুতা ভুলে) তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহে একে অপরের ভাই’ হয়ে গেলে, অথচ তোমরা ছিলে (হানাহানির) অগ্নিকুন্ডের প্রান্তসীমায়, অতপর সেখান থেকে আল্লাহ তায়ালা (তাঁর রহমত দিয়ে) তোমাদের উদ্ধার করলেন; আল্লাহ তায়ালা এভাবেই তাঁর নিদর্শনসমূহ তোমাদের কাছে স্পষ্ট করে বর্ণনা করেন, যাতে করে তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পেতে পারো।

১০৪. তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা (মানুষদের কল্যাণের দিকে ডাকবে, সত্য ও) ন্যায়ের আদেশ দেবে, আর (অসত্য ও) অন্যায় কাজ থেকে (তাদের) বিরত রাখবে; (সত্যিকার অর্থে) এরাই হচ্ছে সাফল্যমন্ডিত। ১

০৫. তোমরা (কখনো) তাদের মতো হয়ে যেয়ো না, যাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পরও তারা বিভিন্ন দলে উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং (নিজেদের মধ্যে) নানা ধরনের মতানৈক্য সৃষ্টি করেছে; এরাই হচ্ছে সে সব মানুষ যাদের জন্যে কঠোর শাস্তি রয়েছে।

১০৬. সে (কেয়ামতের) দিন (নিজেদের নেক আমল দেখে) কিছু সংখ্যক চেহারা শুভ্র সমুজ্জ্বল হয়ে যাবে, (আবার) কিছু সংখ্যক মানুষের চেহারা (ব্যর্থতার নথিপত্র দেখার পর) কালো (ও বিশ্রী) হয়ে পড়বে, (হাঁ) যাদের মুখ (সেদিন) কালো হয়ে যাবে (জাহান্নামের প্রহরীরা তাদের জিজ্ঞেস করবে), ঈমানের (নেয়ামত পাওয়ার) পরও কি তোমরা কুফরীর পথ অবলম্বন করেছিলে? অতপর তোমরা নিজেদের কুফরীর প্রতিফল (হিসেবে) এ আযাব উপভোগ করতে থাকো!

১০৭. আর যাদের চেহারা আলোকোজ্জ্বল হবে, তারা (সেদিন) আল্লাহ তায়ালার (অফুরন্ত) দয়ার আশ্রয়ে থাকবে, তারা সেখানে থাকবে চিরদিন।

১০৮. এর সব কিছুই হচ্ছে আল্লাহর নিদর্শন, যথাযথভাবে আমি সেগুলো তোমাকে পড়ে শোনাচ্ছি; কেননা আল্লাহ তায়ালা (তাঁর আয়াতসমূহ গোপন রেখে এবং পরে সে জন্যে শাস্তির বিধান করে) সৃষ্টিকুলের ওপর কোনো যুলুম করতে চান না।

১০৯. (মূলত) আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর জন্যে; সব কিছুকে একদিন আল্লাহর দিকেই ফিরিয়ে দেয়া হবে। ১১০. তোমরাই (হচ্ছো দুনিয়ার) সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির (কল্যাণের) জন্যেই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে, (তোমাদের দায়িত্ব হচ্ছে) তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখবে, আর তোমরা নিজেরাও আল্লাহর ওপর (পুরোপুরি) ঈমান আনবে, আহলে কেতাবরা যদি (সত্যি সত্যিই) ঈমান আনতো তাহলে এটা তাদের জন্যে কতোই না ভালো হতো; তাদের মধ্যে কিছু কিছু ঈমানদার ব্যক্তিও রয়েছে, তবে তাদের অধিকাংশই হচ্ছে সত্যত্যাগী লোক।

১১১. সামান্য কিছু দুঃখ কষ্ট দেয়া ছাড়া তারা তোমাদের কখনো কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, তারা যদি কোনো সময় তোমাদের সাথে সম্মুখসমরে লিপ্ত হয়, তাহলে তারা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, অতপর তাদের কোনো রকম সাহায্য করা হবে না।

১১২. যেখানেই এদের পাওয়া যাবে সেখানেই এদের অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে রাখা হবে, তবে আল্লাহ তায়ালার নিজের প্রতিশ্রুতি ও মানুষের প্রতিশ্রুতি (-র মাধ্যমে কিছুটা নিরাপত্তা পাওয়া গেলে সেটা) ভিন্ন, এরা (আল্লাহর ক্রোধ ও) গযবের পাত্র হয়েছে, এদের ওপর দারিদ্র ও লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এর কারণ ছিলো, এরা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর বিধানকে অস্বীকার করেছে, (আল্লাহর) নবীদের এরা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে; (মূলত) এ হচ্ছে তাদের বিদ্রোহ ও সীমালংঘনের ফল।

১১৩. তারা (আহলে কেতাব) আবার সবাই এক রকম নয়, তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও আছে; যারা (সত্য ও ন্যায়ের ওপর অবিচল হয়ে) দাঁড়িয়ে আছে, যারা সারা রাত আল্লাহর কেতাব পাঠ করে এবং নামায পড়ে।

১১৪. তারা আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান রাখে এবং (মানুষদের) তারা ন্যায় কাজের আদেশ দেয় ও অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করে, সৎকাজে এরা প্রতিযোগিতা করে, এ (ধরনের) মানুষরাই হচ্ছে (মূলত) নেক লোকদের অন্তর্ভুক্ত।

১১৫. তারা যা কিছু ভালো কাজ করবে (প্রতিদান দেয়ার সময়) তা কখনো অস্বীকার করা হবে না; (কারণ) আল্লাহ তায়ালা পরহেযগার লোকদের ভালো করেই জানেন।

১১৬. (একথা) সুনিশ্চিত, যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করে, তাদের ধন সম্পদ, সন্তান সন্ততি আল্লাহ তায়ালার মোকাবেলায় তাদের কোনোই উপকারে আসবে না; বরং তারা হবে (নিশ্চিত) জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে অনন্তকাল তারা পড়ে থাকবে।

১১৭. এ (ধরনের) লোকেরা এ দুনিয়ার জীবনে যা খরচ করে, তার উদাহরণ হচ্ছে, যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছে সেই দলের শস্যক্ষেত্রের ওপর দিয়ে প্রবাহমান হীমশীতল (তীব্র) বাতাসের মতো, যা (তাদের শস্যক্ষেত) বরবাদ করে দিয়ে গেলো; (মূলত) আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর কোনোই অবিচার করেননি; বরং (কুফরীর পন্থা অবলম্বন করে) এরা নিজেরাই নিজেদের ওপর যুলুম করেছে।

১১৮. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা কখনো নিজেদের (দলভুক্ত) লোকজন ছাড়া অন্য কাউকে নিজেদের (অন্তরংগ) বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না, কেননা এরা তোমাদের অনিষ্ট সাধনের কোনো পথই অনুসরণ করতে দ্বিধা করবে না, তারা তো তোমাদের ক্ষতি (ও ধ্বংস)-ই কামনা করে, তাদের (জঘন্য) প্রতিহিংসা ও (বিদ্বেষ) তাদের মুখ থেকেই (এখন) প্রকাশ পেতে শুরু করেছে, অবশ্য তাদের অন্তরে লুকানো হিংসা (ও বিদ্বেষ) বাইরের অবস্থার চাইতেও মারাÍক, আমি সব ধরনের নিদর্শনই তোমাদের সামনে খোলাখুলি বলে দিচ্ছি, তোমাদের যদি সত্যিই জ্ঞানবুদ্ধি থাকে (তাহলে তোমরা এ সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবে)।

১১৯. এরা হচ্ছে সেসব মানুষ, যাদের তোমরা ভালোবাসো; কিন্তু তারা তোমাদের (মোটেই) ভালোবাসে না, তোমরা তো (তোমাদের আগে আমার নাযিল করা) সব কয়টি কেতাবের ওপরও ঈমান আনো (আর তারা তো তোমাদের কেতাবকে বিশ্বাসই করে না), এ (মোনাফেক) লোকগুলো যখন তোমাদের সাথে সাক্ষাত করে তখন বলে, হ্যাঁ, আমরা (তোমাদের কেতাবকে) মানি, আবার যখন এরা একান্তে (নিজেদের লোকদের কাছে) চলে যায়, তখন নিজেদের ক্রোধের বশবর্তী হয়ে এরা তোমাদের (সাফল্যের) ওপর (নিজেদের) আংগুল কামড়াতে শুরু করে; তুমি (তাদের) বলো, যাও, নিজেদের ক্রোধের (আগুনে) নিজেরাই (পুড়ে) মরো, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা (এ মোনাফেকদের) মনের ভেতর লুকিয়ে থাকা যাবতীয় (চক্রান্তমলক) বিষয় সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।

১২০. (তাদের অবস্থা হচ্ছে,) তোমাদের কোনো কল্যাণ হলে (তার কারণে) তাদের খারাপ লাগে, আবার তোমাদের কোনো অকল্যাণ দেখলে তারা আনন্দে ফেটে পড়ে; (এ প্রতিকূল অবস্থায়) যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ করতে পারো এবং নিজেরা সাবধান হয়ে চলতে পারো, তাহলে তাদের চক্রান্ত (ও ষড়যন্ত্র) তোমাদের কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তাদের যাবতীয় কর্মকান্ড পরিবেষ্টন করে আছেন।

১২১. (হে নবী, স্মরণ করো,) যখন তুমি (খুব) ভোরবেলায় তোমার আপনজনের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মোমেনদের যুদ্ধের ঘাটিসমহে মোতায়েন করছিলে (তখন তুমি জানতে), আল্লাহ তায়ালা সব কিছু শোনেন এবং (তাঁর বান্দাদের) তিনি ভালো করেই জানেন।

১২২. (বিশেষ করে সেই নাযুক পরিস্থিতিতে) যখন তোমাদের দু’টো দল মনোবল হারিয়ে ফেলার উপক্রম করে ফেলেছিলো, (তখন) আল্লাহ তায়ালাই তাদের উভয় দলের (সেই ভগ্ন মনোবল জোড়া লাগাবার কাজে) অভিভাবক হিসেবে মজুদ ছিলেন, আর আল্লাহর ওপর যারা ঈমান আনে তাদের তো (সর্বাবস্থায়) তাঁর ওপরই ভরসা করা উচিত।

১২৩. (এই ভরসা করার কারণেই) বদরের (যুদ্ধে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের বিজয় ও সাহায্য দান করেছিলেন, অথচ (তোমরা জানো) তোমরা কতো দুর্বল ছিলে; অতএব আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতা আদায় করতে সক্ষমূহবে।

১২৪. (সে মুহূর্তের কথাও স্মরণ করো,) যখন তুমি মোমেনদের বলছিলে, (যুদ্ধে বিজয় লাভ করার জন্যে) তোমাদের মালিক যদি আসমান থেকে তিন হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে তোমাদের সাহায্য করেন, তাহলে তোমাদের (বিজয়ের জন্যে তা কি) যথেষ্ট হবে না?

১২৫. অবশ্যই তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ করো এবং (শয়তানের চক্রান্ত থেকে) বেঁচে থাকতে পারো, এ অবস্থায় তারা (শত্রুবাহিনী) যদি তোমাদের ওপর দ্রুত গতিতে আক্রমণ করে বসে তাহলে তোমাদের মালিক (প্রয়োজনে) পাঁচ হাজার চিহ্নিত ফেরেশতা দিয়েও তোমাদের সাহায্য করবেন।

১২৬. (আসলে) এ সংখ্যাটা (বলে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে একটি সুসংবাদ দিয়েছেন, (নতুবা বিজয়ের জন্যে তো তিনি একাই যথেষ্ট, আল্লাহ তায়ালা চেয়েছেন) যেন এর ফলে তোমাদের মন (কিছুটা) প্রশান্ত (ও আশ্বস্থ) হতে পারে, আর সাহায্য ও বিজয়! তা তো পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই আসে, তিনিই সর্বজ্ঞ।

১২৭. আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারা কাফেরদের এক দলকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চান, অথবা তাদের একাংশকে তিনি এর মাধ্যমে লাঞ্ছিত করে দিতে চান, যেন তারা ব্যর্থ হয়ে (যুদ্ধের ময়দান থেকে) ফিরে যায়।

১২৮. (হে নবী), এ ব্যাপারে তোমার কিছুই করার নেই, আল্লাহ তায়ালা চাইলে তাদের ওপর দয়াপরবশ হবেন কিংবা তিনি চাইলে তাদের কঠোর শাস্তি দেবেন, কেননা এরা ছিলো (স্পষ্টত) যালেম।

১২৯. আসমানসমূহ ও যমীনে যা কিছু আছে তার সব হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার, তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন, যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন; আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। ১৩০. হে মানুষ, তোমরা যারা (ইসলামকে একটি পূর্ণাংগ বিধান হিসেবে) বিশ্বাস করেছো, চক্রবৃদ্ধি হারে সূদ খেয়ো না এবং তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা সফল হতে পারবে।

১৩১. (জাহান্নামের) আগুনকে তোমরা ভয় করো, যা তৈরী করে রাখা হয়েছে তাদের জন্যেÑ যারা (একে) অস্বীকার করেছে,

১৩২. তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও (তাঁর) রসূলের কথা মেনে চলো, আশা করা যায় তোমাদের ওপর দয়া করা হবে।

১৩৩. তোমরা তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা পাওয়ার কাজে প্রতিযোগিতা করো, আর সেই জান্নাতের জন্যেও (প্রতিযোগিতা করো) যার প্রশস্ত তা আকাশ ও পৃথিবী সমান, আর এই (বিশাল) জান্নাত প্রম্তুত করে রাখা হয়েছে সে সব (ভাগ্যবান) লোকদের জন্যে, যারা আল্লাহকে ভয় করে,

১৩৪. সচ্ছল হোক কিংবা অসচ্ছলÑ সর্বাবস্থায় যারা (আল্লাহর পথে) নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, যারা নিজেদের ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের অপরাধসমূহ যারা ক্ষমা করে দেয়; (আসলে) ভালো মানুষদের আল্লাহ তায়ালা (হামেশাই) ভালোবাসেন।

১৩৫. (ভালো মানুষ হচ্ছে তারা,) যারাÑ যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা (এর দ্বারা) নিজেদের ওপর নিজেরা যুলুম করে ফেলে (সাথে সাথেই) তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্যে (আল্লাহর) ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কে আছে যে তাদের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে? (তদুপরি) এরা জেনে বুঝে নিজেদের গুনাহের ওপর অটল হয়েও বসে থাকে না।

১৩৬. এই (সে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত) মানুষগুলো! মালিকের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিদান হবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করে দেবেন, আর (তাদের) এমন এক জান্নাত (দেবেন) যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, সেখানে (নেককার) লোকেরা অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে। (সৎ) কর্মশীল ব্যক্তিদের জন্যে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কতো সুন্দর প্রতিদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে!

১৩৭. তোমাদের আগেও (বহু জাতির) বহু উদাহরণ (ছিলোÑ যা এখন) অতীত হয়ে গেছে, সুতরাং (এদের পরিণতি দেখার জন্যে) তোমরা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াও এবং দেখো, (আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর বিধান) মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের পরিণতি কি হয়েছিলো!

১৩৮. (বস্তুত) এটি হচ্ছে মানব জাতির জন্যে একটি (সুস্পষ্ট) ব্যাখ্যা এবং আল্লাহ তায়ালাকে যারা ভয় করে এটি তাদের জন্যে একটি সুস্পষ্ট পথনির্দেশ ও সদুপদেশ (বৈ কিছুই নয়)।

১৩৯. তোমরা হতোদ্যমূহয়ো না, চিন্তিতত হয়ো না, তোমরা যদি (সত্যিকার অর্থে) ঈমানদার হও তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে।

১৪০. তোমাদের ওপর যদি (কোনো সাময়িক) আঘাত আসে (এতে মনোক্ষুণœ হবার কি আছে), এ ধরনের আঘাত তো (সে) দলের ওপরও এসেছে, আর (এভাবেই) আমি মানুষের মাঝে (তাদের উত্থান পতনের) দিনগুলোকে পালাক্রমে অদল-বদল করাতে থাকি, যাতে করে আল্লাহ তায়ালা (এ কথাটা) জেনে নিতে পারেন যে, কে (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে এবং (এর মাধ্যমে) তোমাদের মাঝখান থেকে কিছু শহীদ’ও আল্লাহ তায়ালা তুলে নিতে চান, (মূলত) আল্লাহ তায়ালা কখনো যালেমদের পছন্দ করেন না।

১৪১. (এর মাধ্যমে তিনি মূলত) ঈমানদার বান্দাদের পরিশুদ্ধ করে কাফেরদের না¯ানাবুদ করে দিতে চান।

১৪২. তোমরা কি মনে করো তোমরা (এমনি এমনি) বেহেশতে প্রবেশ করে যাবে, অথচ আল্লাহ তায়ালা (পরীক্ষার মাধ্যমে) এ কথা জেনে নেবেন না যে, কে (তাঁর পথে) জেহাদ করতে প্রস্তুত হয়েছে এবং কে (বিপদে) কঠোর ধৈর্য ধারণ করতে পেরেছে!

১৪৩. তোমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার আগে থেকেই তা কামনা করছিলে, আর (এখন) তো তা দেখতেই পাচ্ছো, দেখতে পাচ্ছো তোমরা নিজেদের (চর্ম) চোখে।

১৪৪. মোহাম্মদ একজন রসূল ছাড়া (অতিরিক্ত) কিছুই নয়, তার আগেও বহু রসূল গত হয়ে গেছে (এবং তারা সবাই মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে); তাই সে যদি (আজ) মরে যায় অথবা তাকে যদি কেউ মেরে ফেলে, তাহলে তোমরা কি (তার আনীত হেদায়াত থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেবে? আর যে ব্যক্তিই (এ থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে কখনো আল্লাহর (দ্বীনের) কোনোরকম ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, আল্লাহ তায়ালা অচিরেই কৃতজ্ঞ বান্দাদের প্রতিফল দান করবেন।

১৪৫. কোনো প্রাণীই আল্লাহর (সিদ্ধান্ত ও) অনুমতি ছাড়া মরবে না, (আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রত্যেকটি প্রাণীরই মৃত্যুর) দিনক্ষণ সুনির্দিষ্ট (হয়ে আছে,) যে ব্যক্তি পার্থিব পুরস্কারের প্রত্যাশা করে আমি তাকে (এ দুনিয়াতেই) তার কিছু অংশ দান করবো, আর যে ব্যক্তি আখেরাতের পুরস্কারের ইচ্ছা পোষণ করবে আমি তাকে সে (চিরন্তন পাওনা) থেকেই এর প্রতিফল দান করবো এবং অচিরেই আমি (আমার প্রতি) কৃতজ্ঞদের (যথার্থ) প্রতিফল দান করবো।

১৪৬. (আল্লাহর) আরো অনেক নবীই (এখানে এসে) ছিলো, সে নবী (আল্লাহর পথে) যুদ্ধ করেছে, তার সাথে (আরো যুদ্ধ করেছে) অনেক সাধক (ও জ্ঞানবান) ব্যক্তি, আল্লাহর পথে তাদের ওপর যতো বিপদ-মসিবতই এসেছে তাতে (কোনোদিনই) তারা হতাশ হয়ে পড়েনি, তারা দুর্বলও হয়নি, (বাতিলের সামনে তারা) মাথাও নত করেনি, (এ ধরনের) ধৈর্যশীল ব্যক্তিদেরই আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন।

১৪৭. তাদের (মুখে) এছাড়া অন্য কথা ছিলো না যে, তারা বলছিলো, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের যাবতীয় গুনাহখাতা মাফ করে দাও, আমাদের কাজকর্মের সব বাড়াবাড়ি তুমি ক্ষমা করে দাও এবং (বাতিলের মোকাবেলায়) তুমি আমাদের কদমগুলোকে মযবুত রাখো, হক ও বাতিলের (সম্মুখসমরে) কাফেরদের ওপর তুমি আমাদের বিজয় দাও।

১৪৮. অতপর আল্লাহ তায়ালা এই (নেক) বান্দাদের দুনিয়ার জীবনেও (ভালো) প্রতিফল দিয়েছেন এবং পরকালীন জীবনেও তিনি তাদের উত্তম পুরস্কার দিয়েছেন; আল্লাহ তায়ালা নেককার বান্দাদের ভালোবাসেন।

১৪৯. হে মানুষ, তোমরা যারা (আল্লাহর ওপর) ঈমান এনেছো, তোমরা যদি (কথায় কথায়) এ কাফেরদের অনুসরণ করতে শুরু করো, তাহলে এরা তোমাদের (ঈমান) পূর্ববর্তী (জাহেলিয়াতের) অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, ফলে তোমরা নিদারুণভাবে ক্ষতিগ্র¯ হয়ে পড়বে।

১৫০. আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের একমাত্র (রক্ষক ও) অভিভাবক এবং তিনিই হচ্ছেন তোমাদের উত্তম সাহায্যকারী।

১৫১. অচিরেই আমি এ কাফেরদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করে দেবো, কারণ তারা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক (বানিয়ে তাদের অনুসরণ) করেছে, অথচ তাদের এ কাজের সপক্ষে আল্লাহ তায়ালা কোনো দলীল-প্রমাণ (তাদের কাছে) পাঠাননি, এদের শেষ গন্তব্যস্থল হচ্ছে (জাহান্নামের) আগুন; যালেমদের বাসস্থান (এই) জাহান্নাম কতো নিকৃষ্ট!

১৫২. (ওহুদের ময়দানে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে (সাহায্য দেয়ার) প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তিনি পালন করেছেন, (যুদ্ধের প্রথম দিকে) তোমরা আল্লাহর অনুমতি (ও সাহায্য) নিয়ে তাদের নিমর্ল করে যাচ্ছিলে! পরে যখন তোমরা সাহস (ও মনোবল) হারিয়ে ফেললে এবং (আল্লাহর রসূলের বিশেষ একটি) আদেশ পালনের ব্যাপারে মতপার্থক্য শুরু করে দিলে, এমনকি আল্লাহর রসূল যখন তোমাদের ভালোবাসার সেই জিনিস (তথা আসন্ন বিজয়) দেখিয়ে দিলেন, তারপরও তোমরা তার কথা অমান্য করে (তার বলে দেয়া স্থান ছেড়ে) চলে গেলে, তোমাদের কিছু লোক (ঠিক তখন) বৈষয়িক ফায়দা হাসিলে ব্যস্ত হয়ে পড়লো, (অপর দিকে) তখনও তোমাদের কিছু লোক পরকালের কল্যাণই চাইতে থাকলো, অতপর আল্লাহ তায়ালা (এর দ্বারা তোমাদের ঈমানের) পরীক্ষা নিতে চাইলেন এবং তা থেকে তোমাদের অন্য দিকে ফিরিয়ে দিলেন, অতপর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মাফ করে দিলেন, আল্লাহ তায়ালা (হামেশাই) ঈমানদারদের ওপর দয়াবান।

১৫৩. (ওহুদের সম্মুখসমরে বিপর্যয় দেখে) তোমরা যখন (ময়দান ছেড়ে পাহাড়ের) ওপরের দিকে ওঠে যাচ্ছিলে এবং তোমরা তোমাদের কোনো লোকের প্রতি লক্ষ্য রাখছিলে না, অথচ আল্লাহর রসূল তোমাদের (তখনও) পেছন থেকে ডাকছিলো (কিন্তু তোমরা শুনলে না), তাই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দুঃখের পর দুঃখ দিলেন, যেন তোমাদের কাছ থেকে যা হারিয়ে গেছে এবং যা কিছু বিপদ তোমাদের ওপর পতিত হয়েছে এর (কোনোটার) ব্যাপারে তোমরা উদ্বিগ্ন (ও মর্মাহত) না হও, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সব ধরনের কর্মকান্ড সম্পর্কেই ওয়াকেফহাল রয়েছেন।

১৫৪. এর পর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর এমন সন্তোষ (-জনক পরিস্থিতি) নাযিল করে দিলেন যে, তা তোমাদের একদল লোককে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে দেয়, আর আরেক দল, যারা নিজেরাই নিজেদের উদ্বিগ্ন করে রেখেছিলো, তারা তাদের জাহেলী (যুগের) ধারণা অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে অন্যায় ধারণা করতে থাকে, (এক পর্যায়ে) তারা এও বলতে শুরু করে, (যুদ্ধ পরিচালনার) এ কাজে কি আমাদের কোনো ভূমিকা আছে? (হে নবী,) তুমি (তাদের) বলো, (এ ব্যাপারে আমারও কোনো ভূমিকা নেই, ক্ষমতা ও) কর্তৃত্বের সবটুকুই আল্লাহর হাতে, (এই দলের) লোকেরা তাদের মনের ভেতর যেসব কথাবার্তা গোপন করে রেখেছে তা তোমার সামনে (খোলাখুলি) প্রকশ করে না; তারা বলে, এ (যুদ্ধ পরিচালনার) কাজে যদি আমাদের কোনো ভূমিকা থাকতো, তাহলে আজ আমরা এখানে নিহত হতাম না; তুমি তাদের বলে দাও, যদি আজ তোমরা সবাই ঘরের ভেতরেও থাকতে তবুও নিহত হওয়া যাদের অবধারিত ছিলো তারা (তাদের মরণের) বিছানার দিকে বের হয়ে আসতো, আর এভাবেই তোমাদের মনের (ভেতর লুকিয়ে রাখা) বিষয়সমূহের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের পরীক্ষা করেন এবং এ (ঘটনার মাঝ) দিয়ে তিনি তোমাদের অন্তরে যা কিছু আছে তাও পরিশুদ্ধ করে দেন, তোমাদের মনের কথা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সম্যক ওয়াকেফহাল রয়েছেন।

১৫৫. দু’টি বাহিনী যেদিন (সম্মুখসমরে) একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিলো, সেদিন যারা (ময়দান থেকে) পালিয়ে গিয়েছিলো তাদের একাংশের অর্জিত কাজের জন্যে শয়তানই তাদের পদস্খলন ঘটিয়ে দিয়েছিলো, অতপর (তারা অনুতপ্ত হলে) আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করে দিলেন; আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম ধৈর্যশীল।

১৫৬. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা কাফেরদের মতো হয়ো না (তাদের অবস্থা ছিলো এমন), এ কাফেরদের কোনো ভাই (বন্ধু) যখন বিদেশ (বিভূঁইয়ে) মারা যেতো, কিংবা কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতো, তখন এরা (তাদের সম্পর্কে) বলতো, এরা যদি (বাইরে না গিয়ে) আমাদের কাছে থাকতো, তাহলে এরা কিছুতেই মরতো না এবং এরা নিহতও হতো না, এভাবেই এ (মানসিকতা)-কে আল্লাহ তায়ালা তাদের মনের আক্ষেপে পরিণত করে দেন, (আসলে) আল্লাহই মানুষের জীবন দেন, আল্লাহই মানুষের মৃত্যু ঘটান এবং তোমরা (এই দুনিয়ায়) যা করে যাচ্ছো আল্লাহ তায়ালা তার সব কিছুই দেখেন।

১৫৭. তোমরা যদি আল্লাহর পথে নিহত হও অথবা (সে পথে থেকেই) তোমরা মৃত্যুবরণ করো, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে (যে) রহমত ও ক্ষমা (লাভ করবে), তা হবে (কাফেরদের) সঞ্চিত অর্থ সামগ্রীর চাইতে অনেক বেশী উত্তম!

১৫৮. (আল্লাহর পথে) যদি তোমরা জীবন বিলিয়ে দাও, অথবা (তাঁরই পথে) তোমাদের মৃত্যু হয়, (তাহলেই তোমাদের কি করার থাকবে? কারণ,) তোমাদের তো একদিন আল্লাহ তায়ালার সমীপে (এমনিই) একত্রিত করা হবে।

১৫৯. এটা আল্লাহর এক (অসীম) দয়া যে, তুমি এদের সাথে ছিলে কোমল প্রকৃতির (মানুষ, এর বিপরীতে) যদি তুমি নিষ্ঠুর ও পাষাণ হৃদয়ের (মানুষ) হতে, তাহলে এসব লোক তোমার আশপাশ থেকে সরে যেতো, অতএব তুমি এদের (অপরাধসমূহ) মাফ করে দাও, এদের জন্যে (আল্লাহর কাছে) ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং কাজকর্মের ব্যাপারে এদের সাথে পরামর্শ করো, অতপর (সে পরামর্শের ভিত্তিতে) সংকল্প একবার যখন তুমি করে নেবে তখন (তার সফলতার জন্যে) আল্লাহর ওপর ভরসা করো; অবশ্যই আল-াহ তায়ালা (তাঁর ওপর) নির্ভরশীল মানুষদের ভালোবাসেন।

১৬০. যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সাহায্য করেন তাহলে কোনো শক্তিই তোমাদের পরাজিত করতে পারবে না, আর তিনিই যদি তোমাদের পরিত্যাগ করেন তাহলে (এখানে) এমন কোন শক্তি আছে যে অতপর তোমাদের কোনোরকম সাহায্য করতে পারে! কাজেই আল্লাহর ওপর যারা ঈমান আনে তাদের আল্লাহর ওপরই ভরসা করা উচিত। ১৬১. (কোনো) নবীর পক্ষেই (কোনো বস্তুর) খেয়ানত করা সম্ভব নয়; (হাঁ মানুষের মধ্যে) কেউ যদি কিছু খেয়ানত করে তাহলে কেয়ামতের দিন সে ব্যক্তিকে তার (খেয়ানতের) সে বস্তুসহ (আল্লাহর দরবারে) হাযির হতে হবে, অতপর প্রত্যেককেই তার অর্জিত (ভালো মন্দের) পাওনা সঠিকভাবে আদায় করে দেয়া হবে, (সেদিন) তাদের কারো ওপর অবিচার করা হবে না।

১৬২. যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ অনুসরণ করে, তার সাথে কিভাবে সে ব্যক্তির তুলনা করা যায়, যে আল্লাহর বিরোধী পথে চলে শুধু তাঁর ক্রোধই অর্জন করেছে, তার (এমন ব্যক্তির) জন্যে জাহান্নামের আগুন হবে একমাত্র বাসস্থান; আর তা (হবে সত্যিই) একটি নিকৃষ্ট আশ্রয়স্থল! ১৬৩. এরা নিজ নিজ আমল অনুযায়ী আল্লাহর কাছে বিভিন্ন স্তরে (বিভক্ত) হবে, আল্লাহ তায়ালা এদের সব ধরনের কার্যকলাপের ওপর সজাগ দৃষ্টি রাখেন।

১৬৪. আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাঁর ঈমানদার বান্দাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মাঝ থেকে একজন ব্যক্তিকে রসূল করে পাঠিয়েছেন, যে তাদের কাছে আল্লাহর কেতাবের আয়াতসমূহ পড়ে শোনায় এবং (সে অনুযায়ী) সে তাদের জীবনকে পরিশুদ্ধ করে, (সর্বোপরি) সে (নবী) তাদের আল্লাহর কেতাব ও (তাঁর গ্রন্থলব্ধ) জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়, অথচ এরা সবাই ইতিপূর্বে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত ছিলো।

১৬৫. যখনি তোমাদের ওপর (ওহুদ যুদ্ধের) বিপদ নেমে এলো তখনি তোমরা বলতে শুরু করলে, (পরাজয়ের) এ বিপদ কিভাবে এলো (কার দোষে এলো)? অথচ (বদরের যুদ্ধে) এর চাইতে দ্বিগুণ (পরাজয়ের) বিপদ তো তোমরাই তাদের ঘটিয়েছিলে; (হে নবী,) তুমি বলো, এটা এসেছে তোমাদের নিজেদের কারণেই; আল্লাহ তায়ালা সর্ববিষয়ের ওপর (অসীম ক্ষমতায়) ক্ষমতাবান।

১৬৬. (ওহুদের ময়দানে) দু’দলের সম্মুখ লড়াইয়ের দিনে যে (সাময়িক) বিপর্যয় তোমাদের ওপর এসেছিলো, তা (এসেছে) আল্লাহর ইচ্ছায়, এ (বিপর্যয়) দিয়ে আল্লাহ তায়ালা (এ কথাটা) জেনে নিতে চান, কারা তাঁর ওপর (সঠিক অর্থে) ঈমান এনেছে।

১৬৭. (এর মাধ্যমে) তাদের (পরিচয়ও) তিনি জেনে নেবেন, যারা (এই চরম মুহূর্তে) মোনাফেকী) করেছে, এ মোনাফেকদের যখন বলা হয়েছিলো যে, (সবাই এক সাথে) আল্লাহর পথে লড়াই করো, অথবা (কমপক্ষে নিজেদের শহরের) প্রতিরক্ষাটুকু তোমরা করো, তখন তারা বললো, যদি আমরা জানতাম আজ (সত্যি সত্যিই) যুদ্ধ হবে, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমাদের অনুসরণ করতাম, (এ সময়) তারা ঈমানের চাইতে কুফরীরই বেশী কাছাকাছি অবস্থান করছিলো, এরা মুখে এমন সব কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই; আর এরা যা কিছু গোপন করে আল্লাহ তায়ালা তা সম্যক অবগত আছেন।

১৬৮. (এরা হচ্ছে সেসব মোনাফেক), যারা (যুদ্ধে শরীক না হয়ে ঘরে) বসে থাকলো (এবং) ভাইদের সম্পর্কে বললো, তারা যদি (তাদের মতো ঘরে বসে থাকতো এবং) তাদের কথা শুনতো, তাহলে তারা (আজ এভাবে) মারা পড়তো না; (হে নবী,) তুমি (এ মোনাফেকদের) বলো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে তোমাদের থেকে মৃত্যু সরিয়ে দাও।

১৬৯. যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের তোমরা কোনো অবস্থাতেই ‘মৃত’ বলো না, তারা তো জীবিত, তাদের মালিকের পক্ষ থেকে (জীবিত লোকদের মতোই) তাদের রেযেক দেয়া হচ্ছে। ১৭০. আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহ দিয়ে তাদের যা কিছু দান করেছেন তাতেই তারা পরিতৃপ্ত এবং যারা এখনো তাদের পেছনে রয়ে গেছে, যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হতে পারেনি, তাদের ব্যাপারেও এরা খুশী, কেননা এমন ধরনের লোকদের জন্যে (এখানে) কোনো ভয় নেই এবং তারা (সে দিন কোনোরকম) চিন্তাও করবে না।

১৭১. এ (ভাগ্যবান) মানুষরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহে উৎফুল¬ আনন্দিত হয়, (কারণ) আল্লাহ তায়ালা ঈমানদার বান্দাদের পাওনা কখনো বিনষ্ট করেন না। ১৭২. (ওহুদের এতো বড়ো) আঘাত আসার পরও যারা (আবার) আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে আরো যারা নেক কাজ করেছে, (সর্বোপরি) সর্বদা যারা আল্লাহকে ভয় করে চলেছে, এদের সবার জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার।

১৭৩. যাদেরÑ মানুষরা যখন বললো, তোমাদের বিরুদ্ধে (কাফেরদের) এক বিশাল বাহিনী জমায়েত হয়েছে, অতএব তোমরা তাদের ভয় করো, (এ বিষয়টাই যারা যথার্থ ঈমানদার) তাদের ঈমানকে আরো বাড়িয়ে দিলো, তারা বললো, আল্লাহ তায়ালাই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং তিনিই হলেন উত্তম কর্মবিধায়ক।

১৭৪. অতপর আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে এরা (এমনভাবে) ফিরে এলো যে, কোনো প্রকার অনিষ্টই তাদের স্পর্শ করতে পারলো না, এরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথই অনুসরণ করলো; (ব¯ুত) আল্লাহ তায়ালা মহা অনুগ্রহশীল।

১৭৫. এই হচ্ছে তোমাদের (প্ররোচনাদানকারী) শয়তান, তারা (শত্রুপক্ষের অতিরঞ্জিত শক্তির কথা বলে) তাদের আপনজনদের ভয় দেখাচ্ছিলো, তোমরা কোনো অবস্থায়ই তাদের (এ হুমকিকে) ভয় করবে না, বরং আমাকেই ভয় করো, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) ঈমানদার হও!

১৭৬. (হে নবী,) যারা দ্রুতগতিতে কুফরীর পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের কর্মকান্ড যেন তোমাকে চিন্তানি¦ত না করে, তারা কখনো আল্লাহর বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না; (মূলত) আল্লাহ তায়ালা এদের জন্যে পরকালে (পুরস্কারের) কোনো অংশই রাখতে চান না, তাদের জন্যে অবশ্যই কঠিন আযাব রয়েছে।

১৭৭. যারা ঈমানের বদলে কুফরী খরিদ করে নিয়েছে, তারা আল্লাহর (কোনোই) ক্ষতি করতে পারবে না, এদের জন্যে মর্মান্তিক শাস্তির বিধান রয়েছে।

১৭৮. কাফেররা যেন এটা কখনো মনে না করে, আমি যে তাদের ঢিল দিয়ে রেখেছি এটা তাদের জন্যে কল্যাণকর হবে, (আসলে) আমি তো তাদের অবকাশ দিচ্ছি যেন, তারা তাদের গুনাহ (-এর বোঝা) আরো বাড়িয়ে নিতে পারে, আর (তোমাদের মধ্যে) তাদের জন্যেই (প্রস্তুত) রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক আযাব।

১৭৯. আল্লাহ তায়ালা কখনো তাঁর ঈমানদার বান্দাদেরÑ তোমরা বর্তমানে যে (ভালো মন্দে মিশানো) অবস্থার ওপর আছো এর ওপর ছেড়ে দিতে চান না, যতোক্ষণ না তিনি সৎলোকদের অসৎ লোকদের থেকে আলাদা করে দেবেন; (একইভাবে) এটা আল্লাহ তায়ালার কাজ নয় যে, তিনি তোমাদের অদৃশ্য জগতের (খোঁজ খবরের ওপর) কিছু অবহিত করবেন, তবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসূলদের মাঝ থেকে যাকে চান তাকে (বিশেষ কোনো কাজের জন্যে) বাছাই করে নেন, অতপর তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করো, তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ঈমান আনো এবং নিজেরা সাবধান হয়ে চলতে পারো, তাহলে তোমাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে।

১৮০. আল্লাহ তায়ালা নিজের অনুগ্রহ দিয়ে তাদের যে প্রাচুর্য দিয়েছেন যারা তা আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কার্পণ্য করেÑ তারা যেন কখনো এটা মনে না করে, এটা তাদের জন্যে কোনো কল্যাণকর কিছু হবে; না, এ কৃপণতা (আসলে) তাদের জন্যে খুবই অকল্যাণকর। কার্পণ্য করে তারা যা জমা করেছে, অচিরেই কেয়ামতের দিন তা দিয়ে তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে, আসমানসমূহ ও যমীনের উত্তরাধিকার তো আল্লাহ তায়ালার জন্যেই, আর তোমাদের প্রতিটি কার্যকলাপ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে অবগত রয়েছেন।

১৮১. আল্লাহ তায়ালা সেই (ইহুদী) লোকদের কথা (ভালো করেই) শুনেছেন, যখন তারা (বিদ্রƒপ করে) বলেছিলো (হ্যাঁ), আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই গরীব, আর আমরা হচ্ছি ধনী, তারা যা কিছু বলে তা আমি (তাদের হিসেবের খাতায়) লিখে রাখবো, (আমি আরো লিখে রাখবো) অন্যায়ভাবে তাদের নবীদের হত্যা করার বিষয়টিও, (সেদিন) আমি তাদের বলবো, এবার এই জাহান্নামের স্বাদ উপভোগ করো।

১৮২. এ (আযাব) হচ্ছে তোমাদের নিজেদেরই হাতের কামাই, যা তোমরা (আগেই এখানে) পাঠিয়েছো, আল্লাহ তায়ালা কখনো তাঁর নিজ বান্দাদের প্রতি অবিচারক নন।

১৮৩. যারা বলে, (স্বয়ং) আল্লাহ তায়ালাই তো আমাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা কোনো রসূলের ওপর ঈমান না আনি, যতোক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন একটা কোরবানী এনে হাযির করবে, যাকে (গায়ব থেকে এক) আগুন এসে খেয়ে ফেলবে; (হে মোহাম্মদ,) তুমি (তাদের বলো, হ্যাঁ আমার আগেও তোমাদের কাছে বহু নবী রসূল এসেছে, তারা সবাই উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়েই এসেছিলো, তোমরা (আজ) যে কথা বলছো তা সহই তো তারা এসেছিলো, তা সত্ত্বেও তোমরা তাদের হত্যা করলে কেন? আজ যদি তোমরা এতোই সত্যবাদী হও (তাহলে কেন এসব আচরণ করলে?)

১৮৪. (হে মোহাম্মদ,) এরা যদি তোমাকে অস্বীকার করে (তাহলে এ নিয়ে তুমি উদ্বিগ্ন হয়ো না, কারণ), তোমার আগেও এমন বহু নবী রসূল (নবুওতের) সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ ও আল্লাহর কাছ থেকে নাযিল করা হেদায়াতের দীপ্তিমান গ্রন্থমালা নিয়ে এসেছিলো, তাদেরও (এমনিভাবেই) অস্বীকার করা হয়েছিলো।

১৮৫. প্রত্যেক প্রাণীই মরণের স্বাদ ভোগ করবে; (অতপর) তোমাদের (জীবনভর) কামাইর প্রতিফল কেয়ামতের দিন আদায় করে দেয়া হবে, যাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে বাঁচিয়ে দেয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; সেই হবে সফল ব্যক্তি। (মনে রেখো,) এই পার্থিব জীবন কিছু বাহ্যিক ছলনার মাল সামানা ছাড়া আর কিছুই নয়।

১৮৬. (হে ঈমানদার ব্যক্তিরা,) নিশ্চয়ই জান মালের (ক্ষতি সাধনের) মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। (এ পরীক্ষা দিতে গিয়ে) তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী স¤ক্স্রদায়Ñ যাদের কাছে আল্লাহর কেতাব নাযিল হয়েছিলো এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক করেছে, তাদের (উভয়ের) কাছ থেকে অনেক (কষ্টদায়ক) কথাবার্তা শুনবে; এ অবস্থায় তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তাহলে তা হবে অত্যন্ত বড়ো ধরনের এক সাহসিকতার ব্যাপার।

১৮৭. (স্মরণ করো,) যখন আল্লাহ তায়ালা এই কেতাবধারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন, (তিনি তাদের বলেছিলেন) তোমরা একে মানুষদের কাছে বর্ণনা করবে এবং একে তোমরা গোপন করবে না, কিন্তু তারা এ প্রতিশ্রুতি নিজেদের পেছনে ফেলে রাখলো এবং অত্যন্ত অল্প মল্যে তা বিক্রি করে দিলো; বড়োই নিকৃষ্ট ছিলো (যেভাবে) তারা সে বেচাকেনার কাজটি করলো!

১৮৮. এমন সব লোকদের ব্যাপারে তুমি কখনো ভেবো না যারা নিজেরা যা করে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে, আবার নিজেরা যা কখনো করেনি তার জন্যেও প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, তুমি কখনো ভেবো না যে, এরা (বুঝি) আল্লাহর আযাব থেকে অব্যাহতি পেয়ে গেছে, (মূলত) এদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। ১৮৯. আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্যে; আল্লাহ তায়ালাই সবকিছুর ওপর একক ক্ষমতাবান। ১৯০. নিসন্দেহে আসমানসমূহ ও যমীনের (নিখুঁত) সৃষ্টি এবং দিবা রাত্রির আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানবান লোকদের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে।

১৯১. (এই জ্ঞানবান লোক হচ্ছে তারা) যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের এই সৃষ্টি (নৈপুণ্য) সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে (এবং স্বতস্ফূর্তভাবে তারা বলে ওঠে), হে আমাদের মালিক, (সৃষ্টি জগত)-এর কোনো কিছুই তুমি অযথা বানিয়ে রাখোনি, তোমার সত্তা অনেক পবিত্র, অতএব তুমি আমাদের জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে নিষ্কৃতি দাও।

১৯২. হে আমাদের মালিক, যাকেই তুমি জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাবে, অবশ্যই তাকে তুমি অপমানিত করবে, (আর সেই অপমানের দিনে) যালেমদের জন্যে কোনোরকম সাহায্যকারীই থাকবে না।

১৯৩. হে আমাদের মালিক, আমরা শুনতে পেয়েছি একজন আহ্বানকারী (নবী মানুষদের) ঈমানের দিকে ডাকছে (সে বলছিলো, হে মানুষরা), তোমরা তোমাদের মালিক আল-াহর ওপর ঈমান আনো, (হে মালিক, সেই আহ্বানকারীর কথায়) অতপর আমরা ঈমান এনেছি, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দাও, (হিসাবের খাতা থেকে) আমাদের দোষত্রুটি ও গুনাহসমূহ মুছে দাও, (সর্বশেষে তোমার) নেক লোকদের সাথে তুমি আমাদের মৃত্যু দাও।

১৯৪. হে আমাদের মালিক, তুমি তোমার নবী রসূলদের মাধ্যমে যেসব (পুরস্কারের) প্রতিশ্রুতি দিয়েছো তা আমাদের দান করো এবং কেয়ামতের দিন তুমি আমাদের অপমানিত করো না; নিশ্চয়ই তুমি কখনো ওয়াদার বরখেলাপ করো না।

১৯৫. অতএব তাদের মালিক (এই বলে) তাদের আহ্বানে সাড়া দিলেন যে, আমি নর-নারী নির্বিশেষে তোমাদের কোনো কাজ কখনো বিনষ্ট করবো না, (আমি সবার কাজের বিনিময়ই দেবো) এবং তোমরা তো একে অপরেরই অংশ, অতএব (তোমাদের মাঝে) যারা (নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে) হিজরত করেছে এবং যারা নিজেদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আমারই পথে যারা নির্যাতিত হয়েছে, (সর্বোপরি) যারা (আমার জন্যে) লড়াই করেছে এবং (আমারই জন্যে) জীবন দিয়েছে, আমি তাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবো, অবশ্যই আমি এদের (এমন) জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, এ হচ্ছে (তাদের জন্যে) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পুরস্কার, আর উত্তম পুরস্কার তো আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে! ১৯৬. (হে মোহাম্মদ,) জনপদসমূহে যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করেছে, তাদের (দাম্ভিক) পদচারণা যেন কোনোভাবেই তোমাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

১৯৭. (কেননা এসব কিছু হচ্ছে) সামান্য (কয়দিনের) সামগ্রী মাত্র, অতপর তাদের (সবারই অনন্ত) নিবাস (হবে) জাহান্নাম; আর জাহান্নামূহচ্ছে নিকৃষ্টতম আবাসস্থল!

১৯৮. তবে যারা নিজেদের মালিককে ভয় করে চলে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট হয়ে আছে (সুরম্য) উদ্যানমালা, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা, সেখানে তারা অনাদিকাল থাকবে, এ হবে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে (তাদের জন্যে) আতিথেয়তা, আর আল্লাহ তায়ালার কাছে যা (পুরস্কার সংরক্ষিত) আছে, তা অবশ্যই নেককার লোকদের জন্যে অতি উত্তম জিনিস!

১৯৯. (ইতিপর্বে) আমি যাদের কাছে কেতাব পাঠিয়েছি, সেসব কেতাবধারী লোকদের মাঝে এমন লোক অবশ্যই আছে, যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে, তোমাদের এই কেতাবের ওপর তারা (যেমনি) বিশ্বাস করে (তেমনি) তারা বিশ্বাস করে তাদের ওপর প্রেরিত কেতাবের ওপরও, এরা আল্লাহর জন্যে ভীত সন্ত্রস্ত্র ও বিনয়ী বান্দা, এরা আল্লাহর আয়াতকে (স্বার্থের বিনিময়ে) সামান্য মল্যে বিক্রি করে না, এরাই হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যাদের জন্যে তাদের মালিকের কাছ থেকে অগাধ পুরস্কার রয়েছে, নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন দ্রুত হিসাব সম্পন্নকারী।

২০০. হে মোমেনরা, তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, (ধৈয্যের এ কাজে) একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করো, (শত্রুর মোকাবেলায়) সুদৃঢ় থেকো, একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করো, (এভাবেই) আশা করা যায় তোমরা সফলকামূহতে পারবে!

 

সূরা আন্ নেসা

মদীনায় অবতীর্ণÑ আয়াত ১৭৬, রুকু ২৪

রহমান রহীম আল্লাহ তায়ালার নামেÑ

১. হে মানুষ, তোমরা তোমাদের মালিককে ভয় করো, যিনি তোমাদের একটি (মাত্র) ব্যক্তিসত্তা থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি তা থেকে (তার) জুড়ি পয়দা করেছেন, (এরপর) তিনি তাদের (এই আদি জুড়ি) থেকে বহু সংখ্যক নর-নারী (দুনিয়ায় চারদিকে) ছড়িয়ে দিয়েছেন (হে মানুষ), তোমরা ভয় করো আল্লাহ তায়ালাকে, যাঁর (পবিত্র) নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার (ও পাওনা) দাবী করো এবং সম্মান করো গর্ভ (ধারিণী মা)-কে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর তীক্ষ দৃষ্টি রেখে চলেছেন।

২. এতীমদের ধন-সম্পদ তাদের কাছে দিয়ে দাও, (তাদের) ভালো জিনিসের সাথে (নিজেদের) খারাপ জিনিসের বদল করো না, তাদের সম্পদসমূহ কখনো নিজেদের মালের সাথে মিলিয়ে হযম করে নিয়ো না, এটা (আসলেই) একটা জঘন্য পাপ।

৩. আর যদি তোমাদের এ আশংকা থাকে যে, তোমরা এতীম (মহিলা)-দের মাঝে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তাহলে (সাধারণ) নারীদের মাঝে থেকে তোমাদের যাদের ভালো লাগে তাদের দুই জন, তিন জন কিংবা চার জনকে বিয়ে করে নাও, কিন্তু যদি তোমাদের এই ভয় হয় যে, তোমরা (একের অধিক হলে তাদের মাঝে) ইনসাফ করতে পারবে না, তাহলে (তোমাদের জন্যে) একজনই (যথেষ্ট), কিংবা যে তোমাদের অধিকারভুক্ত; (তাদেরই যথেষ্ট মনে করে নাও। মনে রেখো, সব ধরনের) সীমালংঘন থেকে বেঁচে থাকার জন্যে এটাই হচ্ছে (উত্তম ও) সহজতর (পন্থা)।

৪. নারীদের তাদের মোহরানার অংক একান্ত খুশী মনে তাদের (মালিকানায়) দিয়ে দাও; অতপর তারা যদি নিজেদের মনের খুশীতে এর কিছু অংশ তোমাদের (ছেড়ে) দেয়, তাহলে তোমরা তা খুশী মনে ভোগ করতে পারো।

৫. আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে সম্পদকে (দুনিয়ায়) তোমাদের প্রতিষ্ঠা লাভের উপকরণ হিসেবে বানিয়ে দিয়েছেন, তা এই নির্বোধ লোকদের হাতে ছেড়ে দিয়ো না, (অবশ্যই এ থেকে) তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করবে, তাদের পোশাক সরবরাহ করবে, (সর্বোপরি) তাদের সাথে ভালো কথা বলবে।

৬. এতীমদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে থাকবে যতোক্ষণ না তারা বিয়ের বয়স পর্যন্ত পৌঁছে, অতপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে (সম্পদ পরিচালনার) যোগ্যতা অনুভব করতে পারো, তাহলে তাদের ধন-সম্পদ তাদের হাতেই তুলে দেবে এবং তাদের বড়ো হবার আগেই (তাড়াহুড়ো করে) তা হযম করে ফেলো না, (এতীমদের পৃষ্ঠপোষক) যদি সম্পদশালী হয় তাহলে সে যেন (এই বাড়াবাড়ি থেকে) বেঁচে থাকে (তবে হ্যাঁ), যদি সে (পৃষ্ঠপোষক) গরীব হয় তাহলে (সমাজের) প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সে যেন তা থেকে (নিজের পারিশ্রমিক) গ্রহণ করে, যখন তোমরা তাদের ধন-সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে, তখন তাদের ওপর সাক্ষী রেখো, (যদিও) হিসাব গ্রহণের জন্যে আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট!

৭. তাদের পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের রেখে যাওয়া ধন-সম্পদে পুরুষদের (যেমন) নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে, (একইভাবে) নারীদের জন্যেও (সে সম্পদে) নির্র্দিষ্ট অংশ রয়েছে, যা তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনরা রেখে গেছে, (পরিমাণ) অল্প হোক কিংবা বেশী; (উভয়ের জন্যে এর) অংশ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

৮. (মৃত ব্যক্তির সম্পদ) বন্টনের সময় যখন (তার) আপনজন, এতীম ও মেসকীনরা (সেখানে) এসে হাযির হয়, তখন তা থেকে তাদেরও কিছু দেবে এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবে।

৯. (এতীমদের ব্যাপারে) মানুষের (এটুকু) ভয় করা উচিত, যদি তারা নিজেরা (মৃত্যুর সময় এমনি) দুর্বল সন্তানদের পেছনে রেখে চলে আসতো, তাহলে (তাদের ব্যাপারে) তারা (এভাবেই) ভীত শংকিত থাকতো, অতএব তাদের (ব্যাপারে) আল্লাহকে ভয় করে চলা এবং এদের সাথে (হামেশাই) ন্যায়-ইনসাফের কথাবার্তা বলা উচিত।

১০. যারা অন্যায়ভাবে এতীমদের মাল-সম্পদ ভক্ষণ করে, তারা যেন আগুন দিয়েই নিজেদের পেট ভর্তি করে, অচিরেই এ লোকগুলো জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে।

১১. আল্লাহ তায়ালা (তোমাদের উত্তরাধিকারে) সন্তানদের সম্পর্কে (এ মর্মে) তোমাদের জন্যে বিধান জারি করছেন যে, এক ছেলের অংশ হবে দুই কন্যা সন্তানের মতো, কিন্তু (উত্তরাধিকারী) কন্যারা যদি দু’য়ের বেশী হয় তাহলে তাদের জন্যে (থাকবে) রেখে যাওয়া সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ, আর (সে) কন্যা সন্তান যদি একজন হয়, তাহলে তার (অংশ) হবে (পরিত্যক্ত সম্পত্তির) অর্ধেক; মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্যে থাকবে (সে সম্পদের) ছয় ভাগের এক ভাগ, (অপর দিকে) মৃত ব্যক্তির যদি কোনো সন্তান না থাকে এবং পিতামাতাই যদি হয় (তার একমাত্র) উত্তরাধিকারী, তাহলে তার মায়ের (অংশ) হবে তিন ভাগের এক ভাগ, যদি মৃত ব্যক্তির কোনো ভাই বোন (বেঁচে) থাকে তাহলে তার মায়ের (অংশ) হবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (মৃত্যুর) আগে সে যে ওসিয়ত করে গেছে এবং তার (রেখে যাওয়া) ঋণ আদায় করে দেয়ার পরই (কিন্তু এ সব ভাগ-বাটোয়ারা করতে হবে); তোমরা জানো না তোমাদের পিতামাতা ও তোমাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে কে তোমাদের জন্যে উপকারের দিক থেকে বেশী নিকটবর্তী; (অতএব) এ হচ্ছে আল্লাহর বিধান, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সকল কিছু সম্পর্কে ওয়াকেফহাল এবং তিনিই হচ্ছেন বিজ্ঞ, পরম কুশলী।

১২. তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে তোমাদের অংশ হচ্ছে অর্ধেক, যদি তাদের কোনো সন্তানাদি না থাকে, আর যদি তাদের সন্তান থাকে তাহলে (সে সম্পত্তিতে) তোমাদের অংশ হবে চার ভাগের এক ভাগ, তারা যে ওসিয়ত করে গেছে কিংবা (তাদের) ঋণ পরিশোধ করার পরই (কিন্তু তোমরা এই অংশ পাবে); তোমাদের স্ত্রীদের জন্যে (থাকবে) তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে, যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তাহলে তারা পাবে রেখে যাওয়া সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ, (মৃত্যুর আগে) তোমরা যা ওসিয়ত করে যাবে কিংবা যে ঋণ তোমরা রেখে যাবে তা পরিশোধ করে দেয়ার পরই (এই অংশ তারা পাবে); যদি কোনো পুরুষ কিংবা নারী এমন হয় যে, তার কোনো সন্তানও নেই, পিতা মাতাও নেই, (শুধু) আছে তার এক ভাই ও এক বোন, তাহলে তাদের সবার জন্যে থাকবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (ভাই বোন মিলে) তারা যদি এর চাইতে বেশী হয় তবে (মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সস্পদের) এক-তৃতীয়াংশে তারা সবাই (সমান) অংশীদার হবে, অবশ্য (এ সম্পত্তির ওপর) মৃত ব্যক্তির যা অসিয়ত করা আছে কিংবা কোনো ঋণ (পরিশোধ)-এর পরই (এ ভাগাভাগি করা যাবে), তবে (খেয়াল রাখতে হবে), কখনো উত্তারাধিকারীদের অধিকার পাওয়ার পথে তা যেন ক্ষতিকর হয়ে না দাঁড়ায়, কেননা এ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ; আর আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞানী ও পরম ধৈর্যশীল।

১৩. এগুলো হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার সীমারেখা; যে ব্যক্তি (এর ভেতরে থেকে) তাঁর ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে সে অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে; (মূলত) এ হবে এক মহাসাফল্য।

১৪. (অপরদিকে) যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের না-ফরমানী করবে এবং তাঁর (নির্ধারিত) সীমারেখা লংঘন করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে (জ্বলন্ত) আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে অনন্তকাল ধরে থাকবে, তার জন্যে (রয়েছে) অপমানকর শাস্তি।

১৫. তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা (ব্যভিচারের) দুষ্কর্ম নিয়ে আসবে তাদের (বিচারের) ওপর তোমরা নিজেদের মধ্যে থেকে চার জন সাক্ষী যোগাড় করবে, অতপর সে চার জন লোক যদি (ইতিবাচক) সাক্ষ্য প্রদান করে তাহলে সে নারীদের তোমরা ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখবে, যতোদিন না মৃত্যু এসে তাদের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেয়, অথবা আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্যে অন্য কোনো ব্যবস্থা না করেন।

১৬. আর তোমাদের মধ্যে যে দুজন (নর-নারী) এ (ব্যভিচারের) কাজ করবে, তাদের দুজনকেই তোমরা শাস্তি দেবে, (হাঁ) তারা যদি তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তাহলে তাদের (শাস্তি দেয়া) থেকে তোমরা সরে দাঁড়াও, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তাওবা কবুলকারী এবং পরম দয়ালু।

১৭. আল্লাহ তায়ালার ওপর শুধু তাদের তাওবাই (কবুলযোগ্য) হবে, যারা ভুলবশত গুনাহের কাজ করে, অতপর (জানামাত্রই) তারা দ্রুত (তা থেকে) ফিরে আসে, (মূলত) এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশ হন; আর আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন সর্ববিষয়ে জ্ঞানী, কুশলী।

১৮. আর তাদের জন্যে তাওবা (করার কোনো অবকাশই) নেই, যারা (আজীবন) শুধু গুনাহের কাজই করে, এভাবেই (গুনাহের কাজ করতে করতে) একদিন তাদের কারো (দুয়ারে) যখন মৃত্যু এসে হাযির হয়, তখন সে বলে (হে আল্লাহ), আমি এখন তাওবা করলাম, (আসলে) তাদের জন্যেও (কোনো তাওবা) নয় যারা কাফের অবস্থায় ইহলীলা সাংগ করলো; এরা হচ্ছে সেসব লোক, যাদের জন্যে আমি কঠিন যন্ত্রণাদায়ক আযাবের ব্যবস্থা করে রেখেছি।

১৯. হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো তোমাদের জন্যে কখনো জোর করে বিধবা নারীদের উত্তরাধিকারের পণ্য বানানো বৈধ নয়, (বিয়ের সময় মোহর হিসেবে) যা তোমরা তাদের দিয়েছো তার কোনো অংশ তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়ার জন্যে তোমরা তাদের আটক করে রেখো না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা প্রকাশ্য কোনো ব্যভিচারের কাজে লিপ্ত না হয়, তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো, এমনকি তোমরা যদি তাদের পছন্দ নাও করো, এমনও তো হতে পারে, যা কিছু তোমরা পছন্দ করো না তার মধ্যেই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে অফুরন্ত কল্যাণ নিহিত রেখে দিয়েছেন।

২০. আর যদি তোমরা এক স্ত্রীকে আরেকজন স্ত্রী দ্বারা বদল করার সংকল্প করেই নাও, তাহলে (মোহর হিসেবে) বিপুল পরিমাণ সোনাদানা দিলেও তার কোনো অংশ তোমরা তার কাছ থেকে ফেরত নিয়ো না; তোমরা কি (তাদের ওপর মিথ্যা) অপবাদ দিয়ে ও সুস্পষ্ট পাপাচার করে তা ফেরত নিতে চাচ্ছো?

২১. তোমরা (মোহরানার) সে অংশটুকু ফেরত নেবেই বা কি করে? অথচ (বিভিন্নভাবে) তোমরা তো একে অপরের স্বাদ গ্রহণ করেছো, (তাছাড়া এর মাধ্যমে) তারা তোমাদের কাছ থেকে (বিয়ে বন্ধনের) পাকাপাকি একটা প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছিলো (যা তোমরা ভেংগে দিয়েছো)। ২২. নারীদের মধ্য থেকে যাদের তোমাদের পিতা (পিতামহ)-রা বিয়ে করেছে তাদের তোমরা কখনো বিয়ে করো না, (হ্যাঁ, এ নির্দেশ আসার) আগে যা হয়ে গেছে তা তো হয়েই গেছে, এটি (আসলেই) ছিলো এক অশ¬ীল (নির্লজ্জ) কাজ এবং খুবই ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ।

২৩. (বিয়ের জন্যে) তোমাদের ওপর হারাম করে দেয়া হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাইদের মেয়ে, বোনদের মেয়ে, (আরো হারাম করা হয়েছে) সেসব মাÑ যারা তোমাদের বুকের দুধ খাইয়েছে, তোমাদের দুধ (খাওয়ার সাথী) বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে যাদের সাথে তোমরা সহবাস করেছো তাদের আগের স্বামীর ঔরসজাত মেয়েরা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে রয়েছে, (অবশ্য) যদি তাদের সাথে তোমাদের (শুধু বিয়ে হয়ে থাকে কিন্তু) তোমরা কখনো তাদের সাথে সহবাস করোনি, তাহলে (তাদের আগের স্বামীর মেয়েদের বিয়ে করায়) তোমাদের জন্যে কোনো দোষ নেই, (তোমাদের জন্যে) তোমাদের নিজেদের ঔরসজাত ছেলেদের স্ত্রীদের হারাম করা হয়েছে; (উপরন্তু বিয়ের জন্যে) তোমাদের ওপর দুই বোনকে একত্র করাও (হারাম করা হয়েছে), তবে যা কিছু (এর) আগে সংঘটিত হয়ে গেছে (তা তো হয়েই গেছে, সে ব্যাপারে) অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা বড়োই ক্ষমাশীল ও একান্ত দয়াবান।

 

 

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY