পারা ৫, সূরা আন নেসা: কোরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ

কোরআনের বাংলা অনুবাদ

0
515

আল কোরআন- পারা ৫
কোরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ

সূরা আন নেসা: আয়াত ২৪ থেকে ১৪৭

২৪. নারীদের মাঝে বিয়ের দুর্গে অবস্থানকারীদেরও (তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে), তবে যেসব নারী (যুদ্ধবন্দী হয়ে) তোমাদের অধিকারে এসে পড়েছে তারা ব্যতীত, এ হচ্ছে (বিয়ের ব্যাপারে) তোমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার বিধান, এর বাইরে যে সব (নারী) রয়েছে, তাদের তোমাদের জন্যে (এ শর্তে) হালাল করা হয়েছে যে, তোমরা (বিয়ের জন্যে) একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (মোহর) বিনিময় আদায় করে দেবে এবং তোমরা (বিয়ের) সংরক্ষিত দুর্গে অবস্থান করবে, তোমরা অবাধ যৌনস্পৃহারণে (নিয়োজিত) হবে না; অতপর তাদের মধ্যে যাদের তোমরা এর মাধ্যমে উপভোগ করবে, তাদের (মোহরের) বিনিময় ফরয হিসেবে আদায় করে দাও, (অবশ্য একবার) এ মোহর নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর যে (পরিমাণের) ওপর তোমরা উভয়ে একমত হও, তাতে কোনো দোষের কিছু নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, কুশলী,

২৫. আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত কোনো ঈমানদার নারীকে বিয়ে করার (আর্থিক ও সামাজিক) সামর্থ না থাকে, তাহলে সে যেন তোমাদের অধিকারভুক্ত কোনো ঈমানদার নারীকে বিয়ে করে নেয়; তোমাদের ঈমান সম্পর্কে তো আল্লাহ তায়ালা সম্যক অবগত আছেন; (ঈমানের মাপকাঠিতে) তোমরা তো একই রকম, অতপর তোমরা তাদের (অধিকারভুক্তদের) অভিভাবকদের অনুমতি নিয়ে বিয়ে করো এবং ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক তাদের যথার্থ মোহরানা দিয়ে দাও (এর উদ্দেশ্য হচ্ছে), তারা যেন বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে যায়Ñ(স্বেচ্ছাচারিণী হয়ে) পরপুরুষকে আনন্দদানের কাজে নিয়োজিত না থাকে, অতপর যখন তাদের বিয়ের দুর্গে অবস্থান করে দেয়া হলো, তখন যদি তারা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, (তখন) তাদের ওপর আরোপিত শাস্তির পরিমাণ কিন্তু (বিয়ের) দুর্গে অবস্থানকারিণী স্বাধীন (সম্ভ্রান্ত) নারীদের ওপর (আরোপিত শাস্তির) অর্ধেক; তোমাদের মধ্যে যাদের ব্যভিচারে লিপ্ত হবার আশংকা থাকবে, (শুধু) তাদের জন্যেই এ (রেয়াত)-টুকু (দেয়া হয়েছে); কিন্তু তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ করতে পারো, অবশ্যই তা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর এবং আল্লাহ তায়ালা একান্ত ক্ষমাপরায়ণ ও পরম দয়ালু।
২৬. আল্লাহ তায়ালা (তাঁর বাণীসমহ) তোমাদের কাছে খুলে খুলে বলে দিতে চান এবং তিনি তোমাদেরÑ তোমাদের পূর্ববর্তী (পুণ্যবান) মানুষদের পথে পরিচালিত করতে চান, আর (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ক্ষমা (অনুগ্রহ) করতে চান, আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
২৭. আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর ক্ষমাপরবশ হতে চান, (অপরদিকে) যারা নিজেদের (পাশবিক) লালসার অনুসরণ করে, তারা চায় তোমরা, সে ক্ষমার পথ থেকে, বহুদূরে (নিক্ষিপ্ত হয়ে গোমরাহ) থেকে যাও।
২৮. আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর থেকে বিধি নিষেধের বোঝা লঘু করে (তোমাদের জীবন সহজ করে) দিতে চান, (কেননা) মানুষকে দুর্বল করে পয়দা করা হয়েছে।
২৯. হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, (কখনো) তোমরা একে অপরের ধন-সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, (হ্যাঁ,) ব্যবসা-বাণিজ্য যা করবে তা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই করবে এবং কখনো (স্বার্থের কারণে) একে অপরকে হত্যা করো না, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতি মেহেরবান।
৩০. যে কেউই বাড়াবাড়ি ও যুলুম করতে গিয়ে এই (হত্যার) কাজ করে, অচিরেই আমি তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেবো, (আর) আল্লাহর পক্ষে এ কাজ একেবারেই সহজ (মোটেই কঠিন কিছু নয়)।
৩১. যদি তোমরা সে সমস্ত বড়ো বড়ো গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে তোমাদের (ছোটোখাটো) গুনাহ আমি (এমনিই) তোমাদের (হিসাব) থেকে মুছে দেবো এবং অত্যন্ত সম্মানজনক স্থানে আমি তোমাদের প্রবেশ করাবো।
৩২. আল্লাহ তায়ালা তোমাদের একজনের ওপর আরেকজনকে যা (কিছু বেশী) দান করেছেন, তোমরা (তা পাওয়ার) লালসা করো না, যা কিছু পুরুষরা উপার্জন করলো তা তাদেরই অংশ হবে; আবার নারীরা যা কিছু অর্জন করলো তাও (হবে) তাদেরই অংশ; তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে তাঁর অনুগ্রহ (পাওয়ার জন্যে) প্রার্থনা করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
৩৩. পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে আমি সবার জন্যেই অভিভাবক বানিয়ে রেখেছি; যাদের সাথে তোমাদের কোনো চুক্তি কিংবা অংগীকার রয়েছে তাদের পাওনা (পুরোপুরিই) আদায় করে দেবে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই প্রতিটি বিষয়ের ওপর সাক্ষী ¬হয়ে আছেন।
৩৪. পুরুষরা হচ্ছে নারীদের (কাজকর্মের) ওপর প্রহরী, কারণ আল্লাহ তায়ালা এদের একজনকে আরেকজনের ওপর (কিছু বিশেষ) মর্যাদা প্রদান করেছেন, (পুরুষের এই মর্যাদার) একটি (বিশেষ) কারণ হচ্ছে, (প্রধানত) তারাই (দাম্পত্য জীবনের জন্যে) নিজেদের অর্থ সম্পদ ব্যয় করে; অতএব সতী-সাধ্বী নারী হবে (একান্ত) অনুগত, (পুরুষদের) অনুপস্থিতিতে তারা (স্বয়ং) আল্লাহর তত্ত্বাবধানে (থেকে) নিজেদের (ইযযত-আবরু ও অন্যান্য) সব অদেখা কিছুর রক্ষণাবেক্ষণ করবে; আর যখন কোনো নারীর অবাধ্যতার (ঔদ্ধত্যের) ব্যাপারে তোমরা আশংকা করো, তখন তোমরা তাদের (ভালো কথার) উপদেশ দাও, (তা কার্যকর না হলে) তাদের সাথে একই বিছানায় থাকা ছেড়ে দাও, (তাতেও যদি তারা সংশোধিত না হয় তাহলে চ’ড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবে) তাদের (মৃদু) প্রহার করো, তবে যদি তারা (এমনিই) অনুগত হয়ে যায়, তাহলে তাদের (খামাখা কষ্ট দেয়ার) ওপর অজুহাত খুঁজে বেড়িয়ো না; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবার চাইতে মহান!
৩৫. আর যদি তাদের (স্বামী-স্ত্রী এ) দুজনের মাঝে বিচ্ছেদের আশংকা দেখা দেয়, তাহলে তার পক্ষ থেকে একজন সালিস এবং তার (স্ত্রীর) পক্ষ থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করো, (আসলে) উভয়ে যদি নিজেদের নিষ্পত্তি চায়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাদের (পুনরায় মীমাংসায় পৌঁছার) তাওফীক দেবেন, আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই সম্যক জ্ঞানী, সর্ববিষয়ে ওয়াকেফহাল।
৩৬. তোমরা এক আল্লাহ তায়ালার এবাদাত করো, কোনো কিছুকেই তাঁর সাথে অংশীদার বানিয়ো না এবং পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো, (আরো) যারা (তোমাদের) ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এতীম, মেসকীন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অত্মীয় প্রতিবেশী, (তোমার) পথচারী সংগী ও তোমার অধিকারভুক্ত (দাস দাসী, তাদের সবার সাথেও ভালো ব্যাবহার করো), অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা এমন মানুষকে কখনো পছন্দ করেন না, যে অহংকারী ও দাম্ভিক।
৩৭. (আল্লাহ তায়ালা এমন ধরনের লোকদেরও ভালোবাসেন না) যারা নিজেরা (যেমন) কার্পণ্য করে, (তেমনি) অন্যদেরও কার্পণ্য করার আদেশ করে, (তাছাড়া) আল্লাহ তায়ালা তাদের যা কিছু (ধন-সম্পদের) অনুগ্রহ দান করেছেন তারা তা লুকিয়ে রাখে; আমি কাফেরদের জন্যে এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।
৩৮. (আল্লাহ তায়ালা তাদেরও পছন্দ করেন না) যারা লোক দেখানোর উদ্দেশে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা আল্লাহ তায়ালা এবং শেষ বিচারের দিনকেও বিশ্বাস করে না; (আর) শয়তান যদি কোনো ব্যক্তির সাথী হয় তাহলে (বুঝতে হবে) সে বড়োই খারাপ সাথী (পেলো)! ৩
৯. কি (দুর্যোগ) তাদের ওপর দিয়ে বয়ে যেতো যদি তারা (শয়তানকে সাথী বানানোর বদলে) আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান আনতো এবং ঈমান আনতো পরকাল দিবসের ওপর, সর্বোপরি আল্লাহ তায়ালা তাদের যা কিছু দান করেছেন তা থেকে তারা খরচ করতো; (বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
৪০. আল্লাহ তায়ালা কারো ওপর এক বিন্দু পরিমাণও যুলুম করেন না, (বরং তিনি তো এতো দয়ালু যে,) নেকীর কাজ যদি একটি হয় তবে তিনি তার পরিমাণ দ্বিগুণ করে দেন এবং (এর সাথে) তিনি নিজ থেকেও বড়ো কিছু পুরস্কার যোগ করেন।
৪১. সেদিন (তাদের অবস্থাটা) কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের (কাজে) সাক্ষী (হিসেবে তাদের নবীকে) এনে হাযির করবো এবং (হে মোহাম্মদ,) এদের সবার কাছে সাক্ষী হিসেবে আমি (সেদিন) তোমাকে নিয়ে আসবো।
৪২. সেদিন যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করেছে এবং (তাঁর) রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তারা কামনা করবে, মাটি যদি তাদের নিজেদের সাথে মিশে একাকার হয়ে যেতো! (কারণ সেদিন) কোনো মানুষ কোনো কথাই (মহাবিচারক) আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে গোপন করতে পারবে না।
৪৩. হে ঈমানদাররা, তোমরা কখনো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের কাছে যেও না, যতোক্ষণ পর্যন্ত (তোমরা এতোটুকু নিশ্চিত না হবে যে,) তোমরা যা কিছু বলছো তা তোমরা (ঠিক ঠিক) জানতে (ও বুঝতে) পারছো, (আবার) অপবিত্র অবস্থায়ও (নামাযের কাছে যেও) না, যতোক্ষণ না তোমরা (পুরোপুরিভাবে) গোসল সেরে নেবে, তবে পথচারী অবস্থায় থাকলে তা ভিন্ন কথা, (আর) যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো অথবা প্রবাসে থাকো, কিংবা তোমাদের কেউ যদি পায়খানা থেকে (ফিরে) আসো অথবা তোমরা যদি (দৈহিক মিলনের সাথে) নারী স্পর্শ করো (তাহলে পানি দিয়ে নিজেদের পরিষ্কার করে নেবে), তবে যদি (এসব অবস্থায়) পানি না-ই পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নেবে (এবং তার পদ্ধতি হচ্ছে), তা দিয়ে তোমাদের মুখমন্ডল ও তোমাদের হাত মাসেহ করে নেবে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা গুনাহ মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল।
৪৪. (হে নবী,) তুমি কি তাদের (অবস্থা) দেখোনি, যাদের (আসমানী) গ্রন্থের (সামান্য) একটা অংশ দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু তারা গোমরাহীর পথই কিনে নিচ্ছে, তারা তো চায় তোমরা যেন পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।
৪৫. তোমাদের দুশমনদের আল্লাহ তায়ালা ভালো করেই জানেন; অভিভাবক হিসেবে (যেমন) আল্লাহ তায়ালা যথেষ্ট, তেমনি সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট। ৪৬. ইহুদী জাতির মধ্যে কিছু লোক এমন আছে যারা (রসূলের) কথাগুলো মূ (অর্থের) স্থান থেকে সরিয়ে (বিকৃত করে) দেয় এবং তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং (সাথে সাথে) অমান্যও করলাম, (আবার বলে) আমাদের কথা শুনুন, (আসলে ইসলামী) জীবন বিধানে অপবাদদানের উদ্দেশ্যে নিজেদের জিহ্বাকে কুঞ্চিত করে এরা বলে (হে নবী), আপনি শুনুন (সাথে সাথেই বলে), আপনার শ্রবণশক্তি রহিত হয়ে যাক, (অথচ এসব কথা না বলে) তারা যদি বলতো (হে নবী), আমরা (আপনার কথা) শুনলাম এবং (তা) মেনে নিলাম এবং আপনি আমাদের কথা শুনুন, আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন, তাহলে এ বিষয়টা তাদের জন্যে কতোই না ভালো হতো, তাই হতো (বরং) তাদের জন্যে সংগত, কিন্তু সত্য অস্বীকার করার কারণে তাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ দিয়েছেন, অতপর (তাদের) সামান্য কিছু লোকই মাত্র ঈমান এনে থাকে।
৪৭. হে মানুষেরা, যাদের কেতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা সেই গ্রন্থের ওপর ঈমান আনো, যা আমি (মোহাম্মদের ওপর) নাযিল করেছি (এ হচ্ছে এমন এক কেতাব), যা তোমাদের কাছে মজুদ (পূর্ববর্তী) কেতাবের সত্যতা স্বীকার করে, (ঈমান আনো) সে সময় আসার আগে, যখন আমি (পাপিষ্ঠদের) চেহারাসমহ বিকৃত করে তাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেবো, অথবা (ইহুদীদের পবিত্র দিন) শনিবারের অবমাননাকারীদের প্রতি আমি যেভাবে অভিশাপ নাযিল করেছি (তেমনি কোনো বড়ো বিপর্যয় আসার আগেই ঈমান আনো), আর আল্লাহ তায়ালার হুকুম, সে তো অবধারিত!
৪৮. নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা কখনো (সে গুনাহ) মাফ করবেন না (যেখানে) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা হয়, এ ছাড়া অন্য সব গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার বানালো সে সত্যিই (আল্লাহর ওপর) মিথ্যা আরোপ করলো এবং একটা মহাপাপে (নিজেকে) জড়ালো!
৪৯. (হে নবী,) তুমি কি তাদের অবস্থা দেখোনি যারা নিজেদের খুব পবিত্র মনে করে, অথচ আল্লাহ তায়ালা যাকে ইচ্ছা তাকেই পবিত্র করেন এবং (সেদিন) তাদের ওপর এক বিন্দু পরিমাণও যুলুম করা হবে না।
৫০. (এদের প্রতি) তাকিয়ে দেখো কিভাবে এরা আল্লাহ তায়ালার ওপর মিথ্যা আরোপ করছে, প্রকাশ্য গুনাহ হিসেবে এটাই তো (এদের জন্যে) যথেষ্ট!
৫১. তুমি কি তাদের (অবস্থা) দেখোনি, যাদের (আল্লাহ তায়ালার) কেতাবের কিছু অংশ দান করা হয়েছিলো, (তারা আস্তে আস্তে) নানা ধরনের ভিত্তিহীন অমূক যাদুমন্ত্র জাতীয় জিনিস ও (বহুতরো) মিথ্যা মাবুদের ওপর ঈমান আনতে শুরু করলো এবং এ কাফেরদের সম্পর্কে তারা বলতে লাগলো, ঈমানদারদের তুলনায় এরাই তো সঠিক পথের ওপর রয়েছে!
৫২. এরাই হচ্ছে সেই (হতভাগ্য) মানুষগুলো, যাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা অভিসম্পাত করেছেন, আর আল্লাহ তায়ালা যার ওপর অভিশাপ পাঠান তার জন্যে তুমি কখনো কোনো সাহায্যকারী পাবে না।
৫৩. অথবা (এরা কি মনে করে যে), তাদের ভাগে রাজত্ব (ও প্রাচুর্য সংক্রান্ত কিছু বরাদ্দ করা) আছে ? (যদি সত্যি সত্যিই তেমন কিছু এদের দেয়া হতো) তাহলে এরা তো খেজুর পাতার একটি ঝিল্লিও কাউকে দিতে চাইতো না।
৫৪. অথবা এরা কি অন্যান্য মানব সন্তানদের ব্যাপারে হিংসা (বিদ্বেষ) পোষণ করে, যাদের আল্লাহ তায়ালা নিজস্ব ভান্ডার থেকে (জ্ঞান, কৌশল ও রাজনৈতিক ক্ষমতা) দান করেছেন, (অথচ) আমি তো ইবরাহীমের বংশধরদেরও (আমার) গ্রন্থ (ও সেই গ্রন্থলব্ধ) জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করেছিলাম, (এর সাথে) আমি তাদের (এক বিশাল পরিমাণ) রাজত্বও দান করেছিলাম।
৫৫. অতপর তাদের মধ্যে অল্প কিছু লোকই তার ওপর ঈমান এনেছে, আবার কেউ কেউ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; এদের (পুড়িয়ে দেয়ার) জন্যে জাহান্নামই যথেষ্ট! ৫৬. যারা আমার আয়াতসমহ অস্বীকার করেছে তাদের আমি অচিরেই জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে দেবো, অতপর (পুড়ে যখন) তাদের দেহের চামড়া গলে যাবে তখন আমি তার বদলে নতুন চামড়া বানিয়ে দেবো, যাতে করে তারা আযাব ভোগ করতে পারে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞ কুশলী।
৫৭. যারা (আমার) আয়াতসমহ বিশ্বাস করেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের অচিরেই আমি এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা (থাকবে) চিরকাল, তাদের জন্যে থাকবে পূতপবিত্র (সংগী) ও সংগিনীরা, (সর্বোপরি) আমি তাদের এক চির øিগ্ধ ছায়ায় প্রবেশ করিয়ে দেবো।
৫৮. (হে ঈমানদার ব্যক্তিরা,) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতসমহ তাদের (যথার্থ) মালিকের কাছে সোপর্দ করে দেবে, আর যখন মানুষের মাঝে (কোনো কিছুর) ব্যাপারে তোমরা বিচার ফয়সালা করো তখন তা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে করবে; আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যা কিছু উপদেশ দেন তা সত্যিই সুন্দর! আল্লাহ তায়ালা সবকিছু দেখেন এবং শোনেন।
৫৯. হে ঈমানদার মানুষেরা, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রসূলের এবং সেসব লোকদের, যারা তোমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত, অতপর কোনো ব্যাপারে তোমরা যদি একে অপরের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) আল্লাহর ওপর এবং শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান এনে থাকো! (তাহলে) এই পদ্ধতিই হবে (তোমাদের বিরোধ মীমাংসার) সর্বোৎকৃষ্ট উপায় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়সমহের ব্যাখ্যার দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।
৬০. (হে নবী,) তুমি কি তাদের (অবস্থা) দেখোনি যারা মনে করে, তারা সে বিষয়ের ওপর ঈমান এনেছে যা তোমার কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সে (কেতাবের) ওপরও ঈমান এনেছে, যা তোমার আগে নাযিল করা হয়েছে, কিন্তু (ফয়সালার সময় আমার কেতাবের বদলে) এরা মিথ্যা মাবুদদের কাছ থেকেই ফয়সালা পেতে চায়, অথচ এদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো তারা এসব (মিথ্যা মাবুদদের) অস্বীকার করবে; (আসল কথা হচ্ছে) শয়তান এদের সত্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
৬১. এদের যখন বলা হয়, আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসূলের ওপর যা কিছু নাযিল করেছেন তোমরা তার দিকে (ফিরে) এসো, তখন তুমি এই মোনাফেকদের দেখবে, এরা তোমার কাছ থেকে (একে একে) মুখ ফিরিয়ে দূরে সরে যাচ্ছে।
৬২. অতপর তাদের কৃতকর্মের কারণে যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ-মসিবত এসে পড়ে, তখন এদের অবস্থাটা কি হয়? তারা তখন সবাই তোমার কাছে (ছুটে) আসে এবং আল্লাহর নামের কসম করে তোমাকে বলে, আমরা তো কল্যাণ ও সম্প্রীতি ছাড়া আর কিছুই চাইনি।
৬৩. এদের মনের ভেতরে কি (অভিসন্ধি লুকিয়ে) আছে তা আল্লাহ তায়ালা ভালো করেই জানেন, তাই তুমি এদের এড়িয়ে চলো, তুমি এদের ভালো উপদেশ দাও এমন সব কথায়, যা তাদের (অন্তর) ছুঁয়ে যায়।
৬৪. (তুমি আরো বলো,) আমি যখনই কোনো (জনপদে) কোনো রসূল পাঠিয়েছি, তাকে এ জন্যেই পাঠিয়েছি যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার (শর্তহীন) আনুগত্য করা হবে; যখনি তারা নিজেদের ওপর কোনো যুলুম করবে, তখনি তারা তোমার কাছে (ছুটে) আসবে এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আল্লাহর রসূলও (তাদের জন্যে) ক্ষমা চাইবে, এমতাবস্থায় তারা অবশ্যই আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে (দেখতে) পাবে!
৬৫. না, আমি তোমার মালিকের শপথ, এরা কিছুতেই ঈমানদার হতে পারবে না, যতোক্ষণ না তারা তাদের যাবতীয় মতবিরোধের ফয়সালায় তোমাকে (শর্তহীনভাবে) বিচারক মেনে নেবে, অতপর তুমি যা ফয়সালা করবে সে ব্যাপারে তাদের মনে আর কোনো দ্বিধাদ্বন্দ¡ থাকবে না, বরং তোমার সিদ্ধান্ত তারা সর্বান্তকরণে মেনে নেবে।
৬৬. আমি যদি তাদের ওপর এ আদেশ জারি করতাম যে, তোমরা নিজেদের জীবন বিসর্জন দাও অথবা তোমরা নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে (অন্যত্র চলে) যাও, (তাহলে) তাদের মধ্যে সামান্য সংখ্যক মানুষই তা করতো, যেসব উপদেশ তাদের দেয়া হয়েছে তা যদি তারা মেনে চলতো, তবে তা তাদের জন্যে খুবই কল্যাণকর হতো এবং (তাদের) মানসিক স্থিরতাও (এতে করে) মযবুত হতো!
৬৭. তাহলে আমিও আমার পক্ষ থেকে (এ জন্যে) তাদের বড়ো ধরনের পুরস্কার দিতাম, ৬৮. (উপরন্তু) আমি তাদের সরল পথও দেখিয়ে দিতাম!
৬৯. যারা আল্লাহ তায়ালা ও (তাঁর) রসূলের আনুগত্য করে, তারা (শেষ বিচারের দিন সেসব) পুণ্যবান মানুষদের সাথে থাকবে, যাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা প্রচুর নেয়ামত বর্ষণ করেছেন, এরা (হচ্ছে) নবী-রসূল, যারা (হেদায়াতের) সত্যতা স্বীকার করেছে, (আল্লাহর পথে জীবন উৎসর্গকারী) শহীদ ও অন্যান্য নেককার মানুষ, সাথী হিসেবে এরা সত্যিই উত্তম!
৭০. এ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে বিরাট এক অনুগ্রহ, (মূত কোনো কিছু) জানার জন্যে আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট!
৭১. হে ঈমানদাররা, (শত্রুর মোকাবেলায়) তোমরা (সর্বদা) তোমাদের সতর্কতা গ্রহণ করো, অতপর হয় দলে দলে বিভক্ত হয়ে, কিংবা সবাই একসংগে (শত্রুর মোকাবেলা) করো।
৭২. তোমাদের মধ্যে অবশ্যই এমন (মোনাফেক) লোক থাকবে, যে (যুদ্ধের ব্যাপারে) গড়িমসি করবে, তোমাদের ওপর কোনো বিপদ-মসিবত এলে সে বলবে, আল্লাহ তায়ালা সত্যিই আমার ওপর বড়ো অনুগ্রহ করেছেন, (কেননা) আমি সে সময় তাদের সাথে ছিলাম না।
৭৩. আর যদি তোমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে (বিজয়ের) অনুগ্রহ আসে, তখন সে (এমনভাবে) বলে, যেন তার সাথে তোমাদের কোনো রকম বন্ধুত্বই ছিলো না, সে (তখন আরো) বলে, কতোই না ভালো হতো যদি আমি তাদের সাথে থাকতাম, তাহলে (আজ) আমিও অনেক বড়ো সফলতা অর্জন করতে পারতাম!
৭৪. যেসব মানুষ পরকালের বিনিময়ে এ পার্থিব জীবন ও তার সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিক্রি করে দিয়েছে, সেসব মানুষের উচিত আল্লাহ তায়ালার পথে লড়াই করা, কারণ যে আল্লাহর পথে লড়াই করবে সে এ পথে জীবন বিলিয়ে দেবে কিংবা সে বিজয় লাভ করবে, অচিরেই আমি তাকে (এ উভয় অবস্থার জন্যেই) বিরাট পুরস্কার দেবো।
৭৫. তোমাদের এ কি হয়েছে, তোমরা আল্লাহর পথে সেসব অসহায় নর-নারী ও (দুস্থ) শিশু সন্তানদের (বাঁচাবার) জন্যে লড়াই করো না, যারা (নির্যাতনে কাতর হয়ে) ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের মালিক, আমাদের যালেমদের এই জনপদ থেকে বের করে (অন্য কোথাও) নিয়ে যাও, অতপর তুমি আমাদের জন্যে তোমার কাছ থেকে একজন অভিভাবক (পাঠিয়ে) দাও, তোমার কাছ থেকে আমাদের জন্যে একজন সাহায্যকারী পাঠাও!
৭৬. যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান এনেছে, তারা (সর্বদা) আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে, আর যারা (আল্লাহ তায়ালাকে) অস্বীকার করেছে তারা লড়াই করে মিথ্যা মাবুদদের পথে, অতএব তোমরা যুদ্ধ করো শয়তান ও তার চেলা-চামুন্ডাদের বিরুদ্ধে (তোমরা সাহস হারিয়ো না), অবশ্যই শয়তানের ষড়যন্ত্র খুবই দুর্বল।
৭৭. (হে নবী,) তুমি কি তাদের অবস্থা দেখোনি, যাদের (প্রথম দিকে) যখন বলা হয়েছিলো, তোমরা (আপাতত লড়াই থেকে) নিজেদের হাত গুটিয়ে রাখো, (এখন) নামায প্রতিষ্ঠা করো এবং যাকাত প্রদান করো, তখন তারা জেহাদের জন্য অস্থির হয়ে পড়েছিলো, অথচ যখন (পরবর্তী সময়ে) তাদের ওপর (সত্যি সত্যিই) লড়াইর হুকুম নাযিল করা হলো (তখন)! এদের একদল লোক তো (প্রতিপক্ষের) মানুষদের এমনভাবে ভয় করতে শুরু করলো, যেমনি ভয় শুধু আল্লাহ তায়ালাকেই করা উচিত; অথবা তার চাইতেও বেশী ভয়! তারা আরো বলতে শুরু করলো, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের ওপর যুদ্ধের এ হুকুম (এতো তাড়াতাড়ি) জারি করতে গেলে কেন? কতো ভালো হতো যদি তুমি আমাদের সামান্য কিছুটা অবকাশ দিতে? (হে নবী,) তুমি বলো, দুনিয়ার এ ভোগ সামগ্রী অত্যন্ত সামান্য; যে ব্যক্তি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে, তার জন্যে পরকাল অনেক উত্তম। আর (সেই পরকালে) তোমাদের ওপর কণামাত্রও কিন্তু অবিচার করা হবে না।
৭৮. তোমরা যেখানেই থাকো না কেন মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, এমনকি তোমরা যদি (কোনো) মযবুত দুর্গেও থাকো (সেখানেও মৃত্যু এসে হাযির হবে। এদের অবস্থা হচ্ছে), যখন কোনো কল্যাণ তাদের স্পর্শ করে তখন তারা বলে, (হ্যাঁ) এ তো আল্লাহর পক্ষ থেকেই এসেছে, অপরদিকে যখন কোনো ক্ষতি (ও অকল্যাণ) তাদের স্পর্শ করে তখন তারা বলে, এ (সব) তো এসেছে তোমার কাছ থেকে, তুমি (তাদের) বলে দাও, (কল্যাণ-অকল্যাণ) সব কিছুই তো আসে আল্লাহর পক্ষ থেকে; এ জাতির হয়েছে কি, এরা মনে হয় কথাটি বুঝতেই চায় না।
৭৯. যে কল্যাণই তুমি লাভ করো (না কেন, মনে রেখো), তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে, আর যেটুকু অকল্যাণ তোমার ওপর আসে তা আসে তোমার নিজের কাছ থেকে; আমি তোমাকে মানুষদের জন্যে রসূল বানিয়ে পাঠিয়েছি; আর সাক্ষী হিসেবে তো আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট।
৮০. যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করে সে (যেন) আল্লাহরই আনুগত্য করে, আর যে ব্যক্তি (তার আনুগত্য থেকে) মুখ ফিরিয়ে নেয়, (মনে রেখো) তাদের ওপর আমি তোমাকে প্রহরী বানিয়ে পাঠাইনি।
৮১. তারা (মুখে মুখে) বলে, (আমরা তোমার) আনুগত্য (স্বীকার করি); কিন্তু তারা যখন তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যায়, তখন তাদের একদল লোক রাতের (অন্ধকার) সময়ে একত্রিত হয়ে ঠিক তুমি যা বলো তার বিরুদ্ধেই সলাপরামর্শ করে বেড়ায়; তারা রাতের বেলায় যা কিছু করে আল্লাহ তায়ালা সেসব কর্মকান্ডগুলো (ঠিকমতোই) লিখে রাখছেন, অতএব তুমি এদের উপেক্ষা করে চলো এবং সর্ববিষয়ে শুধু আল্লাহ তায়ালার ওপরই ভরসা রাখো, অভিভাবক হিসেবে তো আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট!
৮২. এরা কি কোরআন (ও তার আগমন সূত্র নিয়ে চিন্তা) গবেষণা করে না? এ (গ্রন্থ)-টা যদি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে আসতো তাহলে তাতে অবশ্যই তারা অনেক গরমিল (দেখতে) পেতো।
৮৩. এদের কাছে যখনি নিরাপত্তা কিংবা ভয়ের কোনো খবর আসে, তখন (সত্য মিথ্যা না জেনেই) এরা তা প্রচার করে বেড়ায়, অথচ তারা যদি এ (জাতীয়) খবর আল্লাহর রসূল এবং তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতো, তাহলে এমন সব লোকেরা তা জানতে পারতো, যারা তাদের মধ্যে থেকে সেই খবরের যথার্থতা যাচাই করতে পারতো; যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ না থাকতো, তাহলে (এ প্রচারণার ফলে) হাতেগোনা কিছু লোক ছাড়া তোমাদের অধিকাংশ লোকই শয়তানের অনুসারী হয়ে যেতো।
৮৪. অতএব (হে নবী), তুমি আল্লাহর পথে লড়াই করো, (কেননা) তোমাকে শুধু তোমার কাজকর্মের জন্যেই দায়ী করা হবে এবং তুমি (তোমার সাথী) মোমেনদের (আল্লাহ তায়ালার পথে লড়াই করতে) উদ্বুদ্ধ করতে থাকো, আল্লাহ তায়ালা হয়তো অচিরেই এ কাফেরদের শক্তি চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন; (কারণ) আল্লাহ তায়ালা শক্তিতে প্রবলতর, (আবার) শাস্তিদানেও তিনি কঠোরতর।
৮৫. যদি তার জন্যে কোনো ব্যক্তি কোনো ভালো কাজের সুপারিশ করে, তাহলে তাতে অবশ্যই তার অংশ থাকবে, আবার যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় কাজের ব্যাপারে সুপারিশ করবে তাহলে (তার সৃষ্ট অকল্যাণেও) তার (সমপরিমাণ) অংশ থাকবে, আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন (তোমাদের) সব ধরনের কাজের একক নিয়ন্ত্রণকারী।
৮৬. যখন তোমাদের (সালাম বা অন্য কিছু দ্বারা) অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা তার চাইতেও উত্তম পন্থায় তার জবাব দাও, (উত্তমভাবে না হলেও) কমপক্ষে (যতোটুকু সে দিয়েছে) ততোটুকুই ফেরত দাও, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর (পুংখানুপুংখ) হিসাব রাখেন।
৮৭. আল্লাহ তায়ালা (এক মহান সত্তা)Ñ তিনি ছাড়া (দ্বিতীয়) কোনো মাবুদ নেই; অবশ্যই তিনি তোমাদের কেয়ামতের দিন এক জায়গায় জড়ো করবেন, তাতে কোনো রকম সন্দেহ নেই; আর এমন কে আছে যে আল্লাহ তায়ালার চাইতে বেশী সত্য কথা বলতে পারে?
৮৮. এ কি হলো তোমাদের! তোমরা মোনাফেকদের ব্যাপারে দু’দল হয়ে গেলে? (বিশেষ করে) যখন স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের ওপর অভিশাপ নাযিল করেছেন; আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং যাদের পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন তোমরা কি তাদের সঠিক পথে আনতে চাও? (বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার (হেদায়াতের) জন্যে তুমি কোনো পথই (খুঁজে) পাবে না।
৮৯. তারা তো এটাই কামনা করে যে, তারা যেভাবে কুফরী করেছে তোমরাও তেমনি কুফরী করো, তাহলে তোমরা উভয়ে একই রকম হয়ে যেতে পারো, কাজেই তুমি তাদের মধ্য থেকে কাউকেও নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যতোক্ষণ না তারা আল্লাহ তায়ালার পথে নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে (ঈমানের প্রমাণ) না দেবে, আর যদি তারা (হিজরতের) এ কাজটি না করে তাহলে তোমরা তাদের যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং (যুদ্ধরত শত্রুদের সহযোগিতা করার জন্যে) তাদের হত্যা করবে, আর কোন অবস্থায়ই তাদের মধ্য থেকে কাউকে তোমরা বন্ধু ও সাহায্যকারী হিসেবে গ্রহণ করো না।
৯০. অবশ্য তাদের কথা আলাদা যারা তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ কোনো একটি সম্প্রদায়ের সাথে এসে মিলিত হবে, আবার (তাদের ব্যাপারও নয়Ñ) যারা তোমাদের সামনে এমন (মানসিক) অবস্থা নিয়ে আসে যে, (মূত) তাদের অন্তর তোমাদের সাথে (যেমনি) লড়াই করতে বাধা দেয়, (তেমনি) নিজেদের জাতির বিরুদ্ধেও তাদের লড়াই করতে বাধা দেয়; (অপরদিকে) আল্লাহ তায়ালা যদি চাইতেন তিনি তোমাদের ওপর এদের ক্ষমতাবান করে দিতে পারতেন, তেমন অবস্থায় তারা অবশ্যই তোমাদের সাথে লড়াই করতো, অতএব এরা যদি তোমাদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায়, (ময়দানের) লড়াই থেকে বিরত থাকে এবং তোমাদের কাছে শান্তি ও সন্ধির প্রস্তাব পাঠায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযানের কোনো পন্থাই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে (উন্মুক্ত) রাখবেন না।
৯১. (এই মোনাফেকদের মাঝে) তোমরা (এমন) আরেক দল পাবে, যারা তোমাদের দিক থেকে (যেমন) শান্তি ও নিরাপত্তা পেতে চায়; (তেমনি) তারা তাদের নিজেদের জাতির কাছ থেকেও নিরাপত্তা (ও নিশ্চয়তা) পেতে চায়, কিন্তু এদের যখনি কোনো বিপর্যয় সৃষ্টির কাজের দিকে ডাক দেয়া হবে, তখন সাথে সাথেই এরা তোমাদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এরা যদি সত্যিই তোমাদের (সাথে যুদ্ধ করা) থেকে সরে না দাঁড়ায় এবং কোনো শান্তি ও সন্ধি প্রস্তাব তোমাদের কাছে পেশ না করে এবং নিজেদের অস্ত্র সংবরণ না করে, তাহলে তাদের তোমরা যেখানেই পাবে গ্রেফতার করবে এবং (চরম বিদ্রোহের জন্যে) তাদের তোমরা হত্যা করবে; (মূত) এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের ওপর আমি তোমাদের সুস্পষ্ট ক্ষমতা দান করেছি।
৯২. এটা কোনো ঈমানদার ব্যক্তির কাজ নয় যে, সে আরেকজন ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করবে, অবশ্য ভুলবশত করে ফেললে (তা স¤পূর্ণ ভিন্ন কথা) যদি কোনো (ঈমানদার) ব্যক্তি আরেকজন ঈমানদার ব্যক্তিকে ভুল করে হত্যা করে, তাহলে (তার বিনিময় হচ্ছে) সে একজন দাস মুক্ত করে দেবে এবং (তার সাথে) নিহত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনকে (তার) রক্তের (ন্যায়সংগত) মূল্য পরিশোধ করে দেবে, তবে (নিহত ব্যক্তির পরিবারের) লোকেরা যদি (রক্তম্যূ) মাফ করে দেয় (তবে তা স্বতন্ত্র কথা); এ (নিহত) ঈমানদার ব্যক্তি যদি এমন কোনো জাতির (বা গোত্রের) লোক হয় যারা তোমাদের শত্রু এবং সে (নিহত ব্যক্তি) মোমেন হয় তাহলে (তার বিনিময় হবে) একজন মোমেন দাসের মুক্তি; অপরদিকে (নিহত) ব্যক্তি যদি এমন এক সম্প্রদায়ের কেউ হয়ে থাকে, যাদের সাথে তোমাদের কোনো সন্ধি চুক্তি বলবত আছে, তবে তার রক্তের মূল্যআদায় করা ও একজন ঈমানদার দাসের মুক্তিও (অপরিহার্য), যে ব্যক্তি (মুক্ত করার জন্যে কোনো দাস) পাবে না, (তার বিধান হচ্ছে ক্রমাগত দুই মাসের রোযা রাখা, এ হচ্ছে) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে (মানুষের) তাওবা (কবুল করানোর ব্যবস্থামাত্র, বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
৯৩. যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করবে, তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম, সেখানে সে অনন্তকাল ধরে পড়ে থাকবে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর ভয়ানকভাবে রুষ্ট, তাকে তিনি লানত দেন, আল্লাহ তায়ালা তার জন্যে যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রস্তুত করে রেখেছেন।
৯৪. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা যখন আল্লাহ তায়ালার পথে (জেহাদের) রাস্তায় বের হবে, তখন বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করবে, কোনো ব্যক্তি (কিংবা সম্প্রদায়) যখন তোমাদের সামনে (শান্তি ও) সন্ধির প্রস্তাব পেশ করে, তখন কিছু বৈষয়িক ধন-সম্পদের প্রত্যাশায় তাকে তোমরা বলো না যে, না, তুমি ঈমানদার নও, (আসলে) আল্লাহ তায়ালার কাছে অনায়াসলভ্য সম্পদ প্রচুর রয়েছে, আগে তোমরাও এমনি ছিলে, অতপর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন, কাজেই তোমরা (বিষয়টি) যাছাই বাছাই করে নিয়ো; তোমরা যা কিছুই করো আল্লাহ তায়ালা সে ব্যাপারে সম্যক অবগত আছেন।
৯৫. মোমেনদের মাঝে যারা কোনো রকম (শারীরিক পংগুত্ব ও) অক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও বসে থেকেছে, আর যারা নিজেদের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহ তায়ালার পথে জেহাদে অবতীর্ণ হয়েছেÑ এরা উভয়ে কখনো সমান নয়; (ঘরে) বসে থাকা লোকদের তুলনায় (ময়দানের) মোজোহেদদেরÑ যারা নিজেদের জান মাল দিয়ে (আল্লাহ তায়ালার পথে) জেহাদ করেছে, আল্লাহ তায়ালা তাদের উঁচু মর্যাদা দান করেছেন, (জেহাদ তখনো ফরয ঘোষিত না হওয়ায়) এদের সবার জন্যে আল্লাহ তায়ালা উত্তম পুরস্কারের ওয়াদা করেছেন; (কিন্তু এটা ঠিক যে,) আল্লাহ তায়ালা (ঘরে) বসে থাকা লোকদের ওপর (সংগ্রামরত ময়দানের) মোজাহেদদের অনেক শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।
৯৬. এই মর্যাদা দেয়া হয়েছে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকেই, এর সাথে রয়েছে তাঁর ক্ষমা ও দয়া, (মূত) আল্লাহ তায়ালা বড়ো ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু।
৯৭. যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছে তাদের প্রাণ কেড়ে নেয়ার সময় (মওতের) ফেরেশতারা যখন তাদের জিজ্ঞেস করবে, (বলো তো! এর আগে) সেখানে তোমরা কিভাবে ছিলে? তারা বলবে, আমরা দুনিয়ায় দুর্বল (ও অক্ষম) ছিলাম; ফেরেশতারা বলবে, কেন, (তোমাদের জন্যে) আল্লাহর এ যমীন কি প্রশস্ত ছিলো না? তোমরা ইচ্ছা করলে যেখানে চলে যেতে পারতে, (আসলে) এরা হচ্ছে সেসব লোক যাদের (আবাসস্থল) জাহান্নাম; আর তা কতো নিকৃষ্টতম আবাস!
৯৮. তবে সেসব নারী-পুরুষ ও শিশু সন্তান, যাদের (হিজরত করার মতো শারীরিক) শক্তি ছিলো না, কোথাও যাওয়ার কোনো উপকরণ ছিলো না, তাদের কথা আলাদা।
৯৯. এরা হচ্ছে সেসব মানুষÑ আল্লাহ তায়ালা সম্ভবত যাদের কাছ থেকে (গোনাহসমহ) মাফ করে দেবেন, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা গুনাহ মোচনকারী ও পরম ক্ষমাশীল।
১০০. আর যে কেউই আল্লাহ তায়ালার পথে হিজরত করবে সে (অচিরেই আল্লাহ তায়ালার) যমীনে প্রশস্ত জায়গা ও অগণিত ধন-সম্পদ পেয়ে যাবে; যখন কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের উদ্দেশে হিজরত করার জন্যে নিজ বাড়ী থেকে বের হয় এবং এমতাবস্থায় মৃত্যু এসে তাকে গ্রাস করে নেয়, তাহলে তার (সে অপূর্ণ হিজরতের) পুরস্কার দেয়ার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার ওপর; আল্লাহ তায়ালা বড়ো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
১০১. তোমরা যখন সফরে বের হবে, তখন তোমাদের যদি এ আশংকা থাকে যে, কাফেররা (নামাযের সময় আক্রমণ করে) তোমাদের বিপদগ্রস্ত করে ফেলবে, তাহলে সে অবস্থায় তোমরা যদি তোমাদের নামায সংক্ষিপ্ত করে নাও তাতে তোমাদের কোনোই দোষ নেই; নিসন্দেহে কাফেররা হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্যতম দুশমন।
১০২. (হে নবী,) তুমি যখন মুসলমানদের মাঝে অবস্থান করবে এবং (যুদ্ধাবস্থায়) যখন তুমি তাদের (ইমামতির) জন্যে (নামাযে) দাঁড়াবে, তখন যেন তাদের একদল লোক তোমার সাথে (নামাযে) দাঁড়ায় এবং তারা যেন তাদের অস্ত্র সাথে নিয়ে সতর্ক থাকে; অতপর তারা যখন (নামাযের) সাজদা সম্পন্ন করে নেবে তখন তারা তোমাদের পেছনে থাকবে, দ্বিতীয় দলÑ যারা নামায (তখনো) পড়েনি তারা তোমার সাথে এসে নামায আদায় করবে, (কিন্তু সর্বাবস্থায়ই) তারা যেন সতর্কতা অবলম্বন করে এবং সশস্ত্র (অবস্থায়) থাকে, (কারণ,) কাফেররা তো এ (সুযোগটুকুই) চায় যে, যদি তোমরা তোমাদের মালসামানা ও অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে একটু অসাবধান হয়ে যাও, যাতে তারা তোমাদের ওপর (আকস্মিকভাবে) ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে; অবশ্য (অতিরিক্ত) বৃষ্টি বাদলের জন্যে যদি তোমাদের কষ্ট হয় কিংবা শারীরিকভাবে তোমরা যদি অসুস্থ হও, তাহলে (কিছুক্ষণের জন্যে) তোমরা অস্ত্র রেখে দিতে পারো; কিন্তু (অস্ত্র রেখে দিলেও) তোমরা কিন্তু নিজেদের সাবধানতা বজায় রাখবে; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের জন্যে এক অপমানকর আযাব নির্দিষ্ট করে রেখেছেন।
১০৩. অতপর তোমরা যখন নামায শেষ করে নেবে, তখন দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে (তথা সর্বাবস্থায়) আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করতে থাকবে, এরপর যখন তোমরা পুরোপুরি স্বস্তি বোধ করবে তখন (যথারীতি) নামায আদায় করবে, অবশ্যই নামায ঈমানদরাদের ওপর সুনির্দিষ্ট সময়ের সাথেই ফরয করা হয়েছে।
১০৪. কোনো (শত্রু) দলের পেছনে ধাওয়া করার সময় তোমরা বিন্দুমাত্রও মনোবল হারিয়ো না; তোমরা যদি কষ্ট পেয়ে থাকো (তাহলে জেনে রেখো), তারাও তো তোমাদের মতো কষ্ট পাচ্ছে, ঠিক যেমনিভাবে তোমরা কষ্ট পাচ্ছো। কিন্তু তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে যে (জান্নাত) আশা করো, তারা তো তা করে না; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
১০৫. অবশ্যই আমি সত্য (দ্বীনের) সাথে তোমার ওপর এ গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে করে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে যা (জ্ঞানের আলো) দেখিয়েছেন তার আলোকে তুমি মানুষদের বিচার মীমাংসা করতে পারো; (তবে বিচার ফয়সালার সময়) তুমি কখনো বিশ্বাসঘাতকদের পক্ষে তর্ক করো না।
১০৬. তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা বড়ো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
১০৭. যারা নিজেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তুমি কখনো এমন সব লোকের পক্ষে কথা বলো না, (কেননা) আল্লাহ তায়ালা এই পাপিষ্ঠ বিশ্বাসঘাতকদের কখনো পছন্দ করেন না।
১০৮. এরা মানুষদের কাছ থেকে (নিজেদের কর্ম) লুকিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে তারা কিছুই লুকাতে পারবে না; আল্লাহ তায়ালা (তো হচ্ছেন সেই মহান সত্তা) যিনি রাতের অন্ধকারেÑ তিনি যেসব কথা (বা কাজ) পছন্দ করেন না, এমন সব বিষয়ে যখন এরা সলাপরামর্শ করে, তখনও তিনি তাদের সাথেই থাকেন; এরা যা কিছু করে তা স¤পূর্ণ আল্লাহ তায়ালার জ্ঞানের পরিধির আওতাধীন।
১০৯. হ্যাঁ, এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের (সঠিক ঘটনা না জানার কারণে) দুনিয়ার জীবনে তোমরা যাদের পক্ষে কথা বলেছো, কিন্তু কেয়ামতের দিনে আল্লাহ তায়ালার সামনে কে তাদের পক্ষে কথা বলবে, কিংবা কে তাদের ওপর (সেদিন) অভিভাবক হবে? ১১০. যে ব্যক্তি গুনাহের কাজ করে অথবা (গুনাহ করে) নিজের ওপর অবিচার করে, অতপর (এ জন্যে যখন) সে আল্লাহ তায়ালার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, (তখন) সে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালাকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে পাবে।
১১১. যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের কাজ করলো, সে কিন্তু এর দ্বারা নিজেই নিজের ক্ষতি সাধন করলো, আল্লাহ তায়ালা সবকিছুই জানেন, তিনি কুশলী।
১১২. যে ব্যক্তি একটি অন্যায় কিংবা পাপ কাজ করলো; কিন্তু সে দোষ চাপিয়ে দিলো একজন নির্দোষ ব্যক্তির ওপর, এ কাজের ফলে সে (প্রকারান্তরে) সাংঘাতিক একটি অপবাদ ও জঘন্য গুনাহের বোঝা নিজের ঘাড়ে উঠিয়ে নিলো।
১১৩. (এ পরিস্থিতিতে) যদি তোমার ওপর আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও দয়া না থাকতো, তাহলে এদের একদল লোক তো তোমাকে (প্রায়) ভুল পথে পরিচালিত করেই ফেলেছিলো! যদিও তারা এই আচরণ দিয়ে তাদের নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকেই পথভ্রষ্ট করতে পারছিলো না, (অবশ্য) তাদের এ (প্রতারণামূক) কাজ দ্বারা তারা তোমার কোনোই ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হতো না! (কারণ) আল্লাহ তায়ালা তাঁর গ্রন্থ ও (সে গ্রন্থলব্ধ) কলা-কৌশল তোমার ওপর নাযিল করেছেন এবং তিনি তোমাকে এমন সব কিছুর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন, যা (আগে) তোমার জানা ছিলো না; তোমার ওপর আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ছিলো অনেক বড়ো!
১১৪. এদের অধিকাংশ গোপন সলাপরামর্শের ভেতরেই কোনো কল্যাণ নিহিত নেই, তবে যদি কেউ (এর দ্বারা) কাউকে কোনো দান-খয়রাত, সৎকাজ ও অন্য মানুষের মাঝে (সম্প্রীতি ও) সংশোধন আনয়ণের আদেশ দেয়Ñ তা ভিন্ন কথা; আর আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে যদি কেউ এসব কাজ করে তাহলে অতি শীঘ্রই আমি তাকে মহাপুরস্কার দেবো।
১১৫. (আবার) যে ব্যক্তি তার কাছে প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর রসূলের বিরুদ্ধাচরণ করবে এবং ঈমানদারদের পথ ছেড়ে (বেঈমান লোকদের) নিয়ম-নীতির অনুসরণ করবে, তাকে আমি সেদিকেই ধাবিত করবো যেদিকে সে ধাবিত হয়েছে, (এর শাস্তি হিসেবে) তাকে আমি জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে দেবো, (আর) তা কতো নিকৃষ্ট আবাসস্থল!
১১৬. আল্লাহ তায়ালা (এ বিষয়টি) ক্ষমা করবেন না যে, তাঁর সাথে (কোনো রকম) শরীক করা হবে, এ ছাড়া অন্য সকল গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন; যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালার সাথে (কাউকে) শরীক করলো, সে (মূত) চরমভাবে গোমরাহ হয়ে গেলো।
১১৭. আল্লাহকে ছাড়া এরা (আর কাকে ডাকে)Ñ ডাকে (নিকৃষ্ট) দেবীকে কিংবা কোনো বিদ্রোহী শয়তানকে!
১১৮. তার ওপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ বর্ষণ করেছেন, (কারণ) সে (আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে) বলেছিলো, আমি তোমার বান্দাদের এক অংশকে নিজের (দলে শামিল) করেই ছাড়বো।
১১৯. (সে আরো বলেছিলো,) আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের গোমরাহ করে দেবো, আমি অবশ্যই তাদের হৃদয়ে নানা প্রকারের মিথ্যা কামনা (বাসনা) জাগিয়ে তুলবো এবং আমি তাদের নির্দেশ দেবো যেন তারা (কুসংস্কারে লিপ্ত হয়ে) জন্তু-জানোয়ারের কান ছিদ্র করে দেয়, আমি তাদের আরো নির্দেশ দেবো যেন তারা আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টিকে বিকৃত করে দেয়; (মূত) যে ব্যক্তি (এসব কাজ করে) আল্লাহ তায়ালার বদলে শয়তানকে নিজের পৃষ্ঠপোষক বানিয়ে নেবে, সে এক সুস্পষ্ট ক্ষতি ও লোকসানের সম্মুখীন হবে। ১২০. সে (অভিশপ্ত শয়তান) তাদের (নানা) প্রতিশ্রুতি দেয়, তাদের (সামনে) মিথ্যা বাসনার (মায়াজাল) সৃষ্টি করে, আর শয়তান যা প্রতিশ্রুতি দেয় তা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।
১২১. এরাই হচ্ছে সেসব (হতভাগ্য) ব্যক্তি; যাদের আবাসস্থল হচ্ছে জাহান্নাম, যার (আযাব) থেকে মুক্তির কোনো পন্থাই তারা (খুঁজে) পাবে না।
১২২. অপরদিকে যারা (শয়তানের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে) আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান আনবে এবং ভালো কাজ করবে, তাদের আমি অচিরেই এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, তারা সেখানে অনন্তকাল ধরে অবস্থান করবে; আল্লাহর ওয়াদা সত্য; আর আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা কে বলতে পারে?
১২৩. (মানুষের ভালোমন্দ যেমনি) তোমাদের খেয়াল খুশীর সাথে জড়িত নয়, (তেমনি তা) আহলে কেতাবদের খেয়ালখুশীর সাথেও সম্পৃক্ত নয় (আসল কথা হচ্ছে), যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের কাজ করবে, তাকে তার প্রতিফল ভোগ করতে হবে, আর এ (পাপী) ব্যক্তি (সেদিন) আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কাউকেই নিজেদের পৃষ্ঠপোষক ও সাহায্যকারী হিসেবে পাবে না।
১২৪. (পক্ষান্তরে) যে ব্যক্তি কোনো ভালো কাজ করবেÑ নর কিংবা নারী, সে যদি ঈমানদার অবস্থায়ই তা (সম্পাদন) করে, তাহলে (সে এবং তার মতো) সব লোক অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে, (পুরস্কার দেয়ার সময়) তাদের ওপর বিন্দুমাত্রও অবিচার করা হবে না।
১২৫. তার চাইতে উত্তম জীবন বিধান আর কার হতে পারে, যে আল্লাহ তায়ালার জন্যে মাথানত করে দেয়, মূত সে-ই হচ্ছে নিষ্ঠাবান ব্যক্তি, (তদুপরি) সে ইবরাহীমের আদর্শের অনুসরণ করে; আর আল্লাহ তায়ালা ইবরাহীমকে স্বীয় বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।
১২৬. আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে তার সব কিছুই আল্লাহ তায়ালার জন্যে, আর আল্লাহ তায়ালা (তাঁর ক্ষমতা দিয়ে) সব কিছুই পরিবেষ্টন করে আছেন।
১২৭. (হে নবী,) তারা তোমার কাছে নারীদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানতে চায়, তুমি (তাদের) বলো, আল্লাহ তায়ালা তাদের ব্যাপারে তোমাদের জানিয়ে দিচ্ছেন, আর এ কেতাব থেকে যা কিছু তোমাদের ওপর পঠিত হচ্ছে, সেই এতীম নারীদের সম্পর্কিত (ব্যাপার), আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্যে যেসব অধিকার দান করেছেন, যা তোমরা আদায় করতে চাও না, অথচ তোমরা তাদের বিয়ে (ঠিকই) করতে চাও। অসহায় শিশু সন্তান ও এতীমদের ব্যাপারে (তোমাদের বলা হচ্ছে,) তোমরা যেন সুবিচার কায়েম করো; তোমরা যেটুকু সৎ কাজই করো আল্লাহ তায়ালা তার সবকিছু সম্পর্কেই সম্যকভাবে অবহিত রয়েছেন।
১২৮. যদি কোনো স্ত্রীলোক তার স্বামীর কাছ থেকে দুর্ব্যবহার কিংবা অবজ্ঞার আশংকা করে, তাহলে (সে অবস্থায়) পারস্পরিক (ভালোর জন্যে) আপস-নিষ্পত্তি করে নিলে তাদের ওপর এতে কোনো দোষ নেই; কারণ (সর্বাবস্থায়) আপস (মীমাংসার পন্থাই) হচ্ছে উত্তম পন্থা, (কিন্তু সমস্যা হচ্ছে) মানুষ আপসে লালসার দিকেই বেশী পরিমাণে ধাবিত হয়ে পড়ে; (কিন্তু) তোমরা যদি সততার পন্থা অবলম্বন করো এবং (শয়তানের কাছ থেকে) নিজেকে রক্ষা করো, তাহলে (সেটাই তোমাদের জন্যে ভালো, কারণ) আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সব কর্মকান্ড অবলোকন করে থাকেন।
১২৯. তোমরা কখনো (একাধিক) স্ত্রীদের মাঝে ইনসাফ করতে পারবে না, যদিও (মনে প্রাণে) তোমরা তা চাইবে, তাই তাদের একজনের দিকে তুমি (সমস্ত মনোযোগ দিয়ে) এমনভাবে ঝুঁকে পড়ো না যে, (দেখে মনে হবে) আরেকজনকে ঝুলন্ত অবস্থায় (রেখে দিয়েছো); তোমরা যদি সংশোধনের (চেষ্টা করো এবং) আল্লাহ তায়ালাকেও ভয় করো, তাহলে (তুমি দেখবে,) আল্লাহ তায়ালা অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
১৩০. (অতপর) যদি (সত্যি সত্যিই) তারা একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার ভান্ডার থেকে দান করে তাদের সবাইকে পারস্পরিক মুখাপেক্ষিতা থেকে রেহাই দেবেন, আল্লাহ তায়ালা (নিসন্দেহে) প্রাচুর্যময় ও প্রশংসাভাজন।
১৩১. আসমান যমীনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহ তায়ালার জন্যে, তোমাদের আগেও যাদের কাছে কেতাব নাযিল করা হয়েছিলো, তাদের আমি এ নির্দেশ দিয়েছিলাম যেন তারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে; (আমি) তোমাদেরও নির্দেশ দিচ্ছি, আর যদি তোমরা (আল্লাহকে) অস্বীকার করো (তাহলে জেনে রেখো), আকাশ-পাতালে যা কিছু আছে সব কিছুই তো আল্লাহ তায়ালার জন্যে; আল্লাহ তায়ালা বে-নিয়ায, সব প্রশংসা তাঁরই (প্রাপ্য)।
১৩২. অবশ্যই আসমান-যমীনের সব কয়টি জিনিসের মালিকানা তাঁর, যাবতীয় কর্ম সম্পাদনে আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট!
১৩৩. হে মানুষ, তিনি চাইলে যে কোনো সময় (যমীনের কর্তৃত্ব¡ থেকে) তোমাদের অপসারণ করে অন্য কোনো সম্প্রদায়কে এনে বসিয়ে দিতে পারেন, এ কাজে তিনি অবশ্যই ক্ষমতাবান।
১৩৪. তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ দুনিয়াতেই (তার) পুরস্কার পেতে চায় (তার জেনে রাখা উচিত), আল্লাহ তায়ালার কাছে তো ইহকাল পরকাল (এ উভয়কালের) পুরস্কারই রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা সব কিছু শোনেন এবং সব কিছুই দেখেন।
১৩৫. হে ঈমানদাররা, তোমরা (সর্বদাই) ইনসাফের ওপর (দৃঢ়ভাবে) প্রতিষ্ঠিত থেকো এবং আল্লাহ তায়ালার জন্যে সত্যের সাক্ষী হিসেবে নিজেকে পেশ করো, যদি এ (কাজ)-টি তোমার নিজের, নিজের পিতামাতার কিংবা নিজের আত্মীয় স্বজনের ওপরেও আসে (তবুও তা তোমরা মনে রাখবে), সে ব্যক্তি ধনী হোক কিংবা গরীব (এটা কখনো দেখবে না, কেননা), তাদের উভয়ের চাইতে আল্লাহ তায়ালার অধিকার অনেক বেশী, অতএব তুমি কখনো ন্যায়বিচার করতে নিজের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করো না, যদি তোমরা পেঁচানো কথা বলো কিংবা (সাক্ষ্য দেয়া থেকে) বিরত থাকো, তাহলে (জেনে রাখবে,) তোমরা যা কিছুই করো না কেন, আল্লাহ তায়ালা তার যথার্থ খবর রাখেন।
১৩৬. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর ওপর, তাঁর রসূলের ওপর, সে কেতাবের ওপর যা আল্লাহ তায়ালা তাঁর রসূলের ওপর নাযিল করেছেন এবং সেসব কেতাবের ওপর যা (ইতিপূর্বে তিনি) নাযিল করেছেন, আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করলো, (অস্বীকার করলো) তাঁর ফেরেশতাদের, তাঁর (পাঠানো) কেতাবসমহ, তাঁর নবী রসূলদের ও পরকাল দিবসকে, (বুঝতে হবে) সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে!
১৩৭. যারা একবার ঈমান আনলো আবার কুফরী করলো, (কিছু দিন পর) আবার ঈমান আনলো, এরপর (সুযোগ বুঝে) আবার কাফের হয়ে গেলো, এরপর কুফরীর পরিমাণ তারা (দিনে দিনে) বাড়িয়ে দিলো, (ঈমান নিয়ে তামাশা করার) এ লোকদের আল্লাহ তায়ালা কখনো ক্ষমা করবেন না, না কখনো তিনি এ ব্যক্তিদের সঠিক পথ দেখাবেন! ১৩৮. (হে নবী,) মোনাফেক ব্যক্তিদের তুমি সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্যে ভয়াবহ আযাব রয়েছে।
১৩৯. যারা (দুনিয়ার ফায়েদার জন্যে) ঈমানদারদের বদলে কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, তারা (কি এর দ্বারা) এদের কাছ থেকে কোনো রকম মান-সম্মানের প্রত্যাশা করে? অথচ (সবটুকু) মান-সম্মান তো আল্লাহ তায়ালার জন্যেই (নির্দিষ্ট)। ১৪০. আল্লাহ তায়ালা (ইতিপূর্বেও) এ কেতাবের মাধ্যমে তোমাদের ওপর আদেশ নাযিল করেছিলেন যে, তোমরা যখন দেখবে (কাফেরদের কোনো বৈঠকে) আল্লাহ তায়ালার নাযিল করা কোনো আয়াত অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তার সাথে ঠাট্টা-বিদ্রপ করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে (এ ধরনের মজলিসে) বসো না, যতোক্ষণ না তারা অন্য কোনো আলোচনায় লিপ্ত হয়, (এমনটি করলে) অবশ্যই তোমরা তাদের মতো হয়ে যাবে (জেনে রেখো), আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই সব কাফের ও মোনাফেকদের জাহান্নামে একত্রিত করে ছাড়বেন।
১৪১. যারা সব সময়ই তোমাদের (শুভ দিনের) প্রতীক্ষায় থাকে, যদি আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহে তোমাদের বিজয় আসে তখন এরা (কাছে এসে) বলবে, কেন, আমরা কি (এ যুদ্ধে) তোমাদের পক্ষে ছিলাম না? (আবার) যদি কখনো কাফেরদের (ভাগে বিজয়ের) অংশ (লেখা) হয়, তাহলে এরা (সেখানে গিয়ে) বলবে, আমরা কি তোমাদের মুসলমানদের কাছ থেকে রক্ষা করিনি? এমতাবস্থায় শেষ বিচারের দিনেই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের উভয়ের মাঝে ফয়সালা শুনিয়ে দেবেন এবং আল্লাহ তায়ালা (সেদিন) মোমেনদের বিরুদ্ধে এ কাফেরদের কোনো (অজুহাত পেশ করার) পথ অবশিষ্ট রাখবেন না।
১৪২. অবশ্যই মোনাফেকরা আল্লাহ তায়ালাকে ধোকা দেয়, (মূত এর মাধ্যমে) আল্লাহই তাদের প্রতারণায় ফেলে দিচ্ছেন, এরা যখন নামাযে দাঁড়ায় তখন একান্ত আলস্যভরেই দাঁড়ায়, আর তারাও কেবল লোকদের দেখায়, এরা আল্লাহ তায়ালাকে আসলে কমই স্মরণ করে।
১৪৩. এরা (কুফরী ও ঈমানের) এ দোটানায় দোদুল্যমান, (এরা) না এদিকে না ওদিকে; তুমি সে ব্যক্তিকে কখনো (সঠিক) পথ দেখাতে পারবে না, যাকে আল্লাহ তায়ালাই গোমরাহ করে দেন।
১৪৪. হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা ঈমানদার ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে কাফেরদের নিজেদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না; তোমরা কি (তাদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করে) আল্লাহ তায়ালার কাছে তোমাদের বিরুদ্ধে (কোনো) সুস্পষ্ট প্রমাণ তুলে দিতে চাও?
১৪৫. এ মোনাফেকরা জাহান্নামের সর্বনিন্মস্তরে অবস্থান করবে, তুমি সেদিন তাদের জন্যে কোনো সাহায্যকারী খুঁজে পাবে না।
১৪৬. তবে তাদের কথা আলাদা, যারা তাওবা করে এবং (পরবর্তী জীবনকে তাওবার আলোকে) সংশোধন করে নেয়, আল্লাহ তায়ালার রশি শক্ত করে ধরে রাখে এবং একমাত্র আল্লাহ তায়ালার উদ্দেশেই তাদের জীবন বিধানকে নিবেদিত করে নেয়, এসব লোকেরা অবশ্যই (সেদিন) বিশ্বাসী বান্দাদের সাথে (অবস্থান) করবে; আর অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর ঈমানদার বান্দাদের বড়ো ধরনের পুরস্কার দেবেন।
১৪৭. (তোমরাই বলো,) আল্লাহ তায়ালা কি (খামাখা) তোমাদের শাস্তি দেবেন যদি তোমরা (তাঁর প্রতি) কৃতজ্ঞতা আদায় করো এবং তাঁর ওপর ঈমান আনো; (বস্তুত) আল্লাহ তায়ালা হচ্ছেন (সর্বোচ্চ) পুরস্কারদাতা, সম্যক ওয়াকেফহাল।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY