পারা ৬, লা হিব্বুল্যাহ, কোরআন: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ,

0
421

পারা ৬, লা হিব্বুল্যাহ,  কোরআন: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ,

সূরা আননেসা: আয়াত ১৪৮-১৭৬, আল মায়েদা , আয়াত ১-৮২

১৪৮. আল্লাহ তায়ালা প্রকাশ্যভাবে মন্দ বলা (কখনো) পছন্দ করেন না, তবে যে ব্যক্তির ওপর অবিচার করা হয়েছে তার কথা আলাদা; আল্লাহ তায়ালা ভালোভাবেই শোনেন এবং জানেন।
১৪৯. ভালো কাজ তোমরা প্রকাশ্যে করো কিংবা তা গোপনে করো, অথবা কোন মন্দ কাজের জন্যে যদি তোমরা ক্ষমা করে দাও, তাহলে (তোমরাও দেখতে পাবে,) আল্লাহ তায়ালা অতি ক্ষমাশীল ও প্রবল শক্তিমান।
১৫০. যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলদের অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহ তায়ালা ও রসূলদের মাঝে (এই বলে) একটা পার্থক্য করতে চায় যে, আমরা (রসূলদের) কয়েকজনকে স্বীকার করি আবার কয়েকজনকে অস্বীকার করি, এর দ্বারা (আসলে) এরা (নিজেদের জন্যে) একটা মাঝামাঝি রাস্তা বের করে নিতে চায়।
১৫১. এরাই হচ্ছে সত্যিকারের কাফের, আর আমি এ কাফেরদের জন্যেই নির্দিষ্ট করে রেখেছি এক চরম লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
১৫২. (অপরদিকে) যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের ওপর ঈমান আনে এবং তাদের একজনের সাথে আরেকজনের কোনো রকম পার্থক্য করে না, এরাই হচ্ছে সেসব লোক যাদের তিনি অচিরেই অনেক পুরস্কার দান করবেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও মহাদয়ালু।
১৫৩. আহলে কেতাবের লোকেরা তোমার কাছে চায়, তুমি যেন আসমান থেকে তাদের জন্যে কোনো কেতাব নাযিল করো! এরা তোমার কাছে এর চাইতেও বড়ো রকমের দাবী পেশ করেছিলো, তারা বলেছিলো (হে মূসাা), তুমি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাকেই আমাদের প্রকাশ্যভাবে দেখিয়ে দাও, অতপর তাদের এই বাড়াবাড়ির জন্যে তাদের ওপর প্রচন্ড বজ্রপাত এসে নিপতিত হয়েছে এবং (এ সম্পর্কিত) সুস্পষ্ট প্রমাণসমূহ তাদের কাছে আসার পরও তারা গো-বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে, অতপর আমি তাদের এ অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম এবং আমি মূসাাকে স্পষ্ট প্রমাণ (-সহ কেতাব) দান করলাম।
১৫৪. এদের ওপর তূর পাহাড়কে উঠিয়ে উঁচু করে ধরে আমি এদের কাছ থেকে (আনুগত্যের) প্রতিশ্রুতি আদায় করেছিলাম, আমি তাদের বলেছিলাম, নগরের দ্বারপ্রান্ত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করার সময় তোমরা একান্ত অনুগত হয়ে ঢুকবে, আমি তাদের (আরো) বলেছিলাম, তোমরা শনিবারে (মাছ ধরে আমার বিধানের) সীমালংঘন করো না, (এ ব্যাপারে) আমি তাদের কাছ থেকে শক্ত প্রতিশ্রুতি আদায় করে নিয়েছিলাম।
১৫৫. অতপর তাদের (পক্ষ থেকে এই) প্রতিশ্রুতি ভংগ করা, আল্লাহর আয়াতসমূহকে তাদের অস্বীকার করা এবং অন্যায়ভাবে আল্লাহ তায়ালার নবীদের তাদের হত্যা করা, (তদুপরি) তাদের (একথা) বলা, আমাদের হৃদয় (বাতিল চিন্তাধারায়) আচ্ছাদিত (হয়ে আছে), প্রকৃতপক্ষে তাদের (ক্রমাগত) অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং তাদের দিলের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন, তাই এদের কম সংখ্যক লোকই ঈমান আনে।
১৫৬. যেহেতু এরা (আল্লাহকে) অস্বীকার করতেই থাকলো, এরা (পুণ্যবতী) মারইয়ামের ওপরও জঘন্য অপবাদ আনলো।
১৫৭. তাদের (এ মিথ্যা) উক্তি যে, আমরা অবশ্যই মারইয়ামের পুত্র ঈসাকে হত্যা করেছি, যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল, (যদিও আসল ঘটনা হচ্ছে) তারা কখনোই তাকে হত্যা করেনি, তারা তাকে শূলবিদ্ধও করেনি, (মূলত) তাদের কাছে (ধাঁধার কারণে) এমনি একটা কিছু মনে হয়েছিলো; (তাদের মাঝে) যারা (সঠিক ঘটনা না জানার কারণে) তার ব্যাপারে মতবিরোধ করেছিলো, তারাও (এতে করে) সন্দেহে পড়ে গেলো, এ ব্যাপারে তাদের অনুমানের অনুসরণ করা ছাড়া সঠিক কোনো জ্ঞানই ছিলো না, (তবে) এটুকু নিশ্চিত, তারা তাকে হত্যা করেনি।
১৫৮. বরং (আসল ঘটনা ছিলো,) আল্লাহ তায়ালা তাকে তাঁর নিজের কাছে তুলে নিয়েছেন; আল্লাহ তায়ালা মহাপরাক্রমশালী ও মহাপ্রজ্ঞাময়। (কাউকে উঠিয়ে নেয়া তার কাছে মোটেই কঠিন কিছু নয়।)
১৫৯. (এই) আহলে কেতাবদের মাঝে এমন একজনও থাকবে না, যে ব্যক্তি তার মৃত্যুর আগে (ইসা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার এই কথার) ওপর ঈমান আনবে না, কেয়ামতের দিনে সে নিজেই এদের ওপর সাক্ষী হবে।
১৬০. ইহুদীদের বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনমূলক আচরণের জন্যে এমন অনেক পবিত্র জিনিসও আমি তাদের জন্যে হারাম করে দিয়েছিলাম যেটা তাদের জন্যে (আগে) হালাল ছিলো, এটা এই কারণে যে, এরা বহু মানুষকে আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে বিরত রেখেছে।
১৬১. (যেহেতু) এরা (লেনদেনে) সূদ গ্রহণ করে, অথচ এদের তা থেকে (সুস্পষ্টভাবে) নিষেধ করা হয়েছিলো এবং এরা অন্যের মাল-সম্পদ ধোকা প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাস করে; তাদের মধ্যে (এ সব অপরাধে লিপ্ত) কাফেরদের জন্যে আমি তাই কঠিন আযাব নির্দিষ্ট করে রেখেছি।
১৬২. কিন্তু তাদের মধ্যে যাদের (আবার) জ্ঞানের গভীরতা রয়েছে তারা এবং এমন সব ঈমানদার যারা তোমার ওপর যা কিছু নাযিল হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস করে, (সাথে সাথে) তোমার পূর্ববর্তী নবী ও রসূলদের ওপর যা নাযিল হয়েছে তার ওপরও বিশ্বাস করে, নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি) আল্লাহ তায়ালা ও শেষ দিনের ওপর ঈমান আনে; (মূলত) এরাই হচ্ছে সেসব (সৌভাগ্যবান) মানুষ, যাদের অচিরেই আমি মহাপুরস্কার দেবো।
১৬৩. (হে নবী,) আমি তোমার কাছে আমার ওহী পাঠিয়েছি, যেমনি করে আমি ওহী পাঠিয়েছিলাম নূহ ও তার পরবর্তী নবীদের প্রতি, আমি (অরো) ওহী পাঠিয়েছি ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তার বংশধরদের কাছে, (ওহী পাঠিয়েছি) ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারূন ও সোলায়মানের কাছেও, অতপর আমি দাউদের ওপর যাবুর (গ্রন্থ) অবতীর্ণ করেছি।
১৬৪. রসূলদের মাঝে এমনও অনেকে আছে, যাদের কথা ইতিপূর্বে আমি তোমার কাছে বলেছি, কিন্তু এদের মাঝে বহু রসূল এমনও আছে যাদের (নাম ঠিকানা) কিছুই আমি তোমাকে বলিনি; মূসাার সাথে তো আল্লাহ তায়ালা কথাও বলেছেন।
১৬৫. রসূলরা (ছিলো জান্নাতের) সুসংবাদবাহী ও ‘(জাহান্নামের) ভয় প্রদর্শনকারী, (তাদের এ জন্যেই পাঠানো হয়েছিলো) যাতে করে রসূলদের আগমনের পর আল্লাহ তায়ালার ওপর মানব জাতির কোনো অজুহাত খাড়া করার সুযোগ না থাকে; (সত্যিই) আল্লাহ তায়ালা মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
১৬৬. কিন্তু (মানুষ যতো অজুহাতই পেশ করুকনা কেন,) আল্লাহ তোমার ওপর যা কিছু নাযিল করেছেন তা তাঁর (প্রত্যক্ষ) জ্ঞানের মাধ্যমেই করেছেন, ফেরেশতারাও তো (এ কথার) সাক্ষ্য দেবে; যদিও (ওহীর) সাক্ষ্য প্রদানের জন্যে আল্লাহ তায়ালা (একা)-ই যথেষ্ট।
১৬৭. নিশ্চয়ই যারা (এই ওহী) অস্বীকার করে এবং (অন্য মানুষদেরও) আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে সরিয়ে রাখে, তারা আসলে গোমরাহী ও পথভ্রষ্টতায় অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
১৬৮. নিশ্চয়ই যারা কুফরী করলো এবং (চরমভাবে) সীমালংঘন করলো, (তাদের ব্যাপারে) এটা কখনো হবে না যে, আল্লাহ তায়ালা তাদের ক্ষমা করে দেবেন, আর না তিনি তাদের সঠিক রাস্তা দেখাবেন!
১৬৯. কিন্তু একটি মাত্র (রাস্তাই তাদের জন্যে উন্মুক্ত থাকবে এবং তা হচ্ছে) জাহান্নামের রাস্তা, যেখানে তারা অনন্তকাল ধরে পড়ে থাকবে; (শাস্তি প্রদানের) এ কাজ আল্লাহর জন্যে খুবই সহজ।
১৭০. হে মানুষরা, আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে তোমাদের জন্যে সঠিক (বিধান) নিয়ে রসূল এসেছে, যদি (তার আনীত এ বিধানের ওপর) তোমরা ঈমান আনো, এতেই তোমাদের জন্যে কল্যাণ (রয়েছে), আর তোমরা যদি তা মেনে নিতে অস্বীকার করো তাহলে (জেনে রেখো,) এই আসমান-যমীনের সর্বত্র (যেখানে) যা কিছু আছে তার সব কিছুই আল্লাহ তায়ালার জন্যে এবং আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, কুশলী।
১৭১. হে কেতাবধারীরা, নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না এবং (ঈসার ঘটনা নিয়ে) আল্লাহ তায়ালার ওপর সত্য ছাড়া কোনো মিথ্যা চাপিয়ো না; (সে সত্য কথাটি হচ্ছে এই যে,) মারইয়ামের পুত্র মাসীহ ছিলো (একজন) রসূল ও তার এমন এক বাণী, যা তিনি মারইয়ামের ওপর প্রেরণ করেছেন এবং সে ছিলো আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে পাঠানো এক ‘রূহ’, অতএব (হে আহলে কেতাবরা), তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলদের ওপর ঈমান আনো, আর (কখনো) এটা বলো না যে, (মাবুদের সংখ্যা) তিন; এ (জঘন্য মিথ্যা) থেকে তোমরা বেঁচে থেকো, (এটাই) তোমাদের জন্যে উত্তম; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা; তিনি তো একক মাবুদ; আল্লাহ তায়ালা এ (মর্খতা) থেকে অনেক পবিত্র যে, তাঁর কোনো সন্তান থাকবে; এ আকাশ ও ভূমন্ডলের সব কিছুর মালিকানাই তো তাঁর, আর অভিভাবক হিসেবে আল্লাহ তায়ালাই যথেষ্ট।
১৭২. (ঈসা) মাসীহ কখনো (এতে) বিন্দুমাত্রও নিজেকে হেয় মনে করেনি যে, সে হবে আল্লাহ তায়ালার বান্দা, আল্লাহ তায়ালার একান্ত ঘনিষ্ঠ ফেরেশতারাও (একে লজ্জাকর মনে করেনি); কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহ তায়ালার বন্দেগী করা সত্যিই লজ্জাকর বিষয় মনে করে (এবং এটা ভেবে) সে অহংকার করে (তার জানা উচিত), অচিরেই আল্লাহ তায়ালা এদের সকলকে তাঁর সামনে একত্রিত (করে দন্ডাজ্ঞা দান) করবেন।
১৭৩. যেসব মানুষ আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান এনেছে এবং ভালো কাজ করেছে, (সেদিন) তিনি তাদের এর জন্যে পুরোপুরি পুরস্কার দেবেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর একান্ত অনুগ্রহ থেকে তাদের (পাওনা) আরো বাড়িয়ে দেবেন, অপরদিকে যারা আল্লাহ তায়ালার বিধান মেনে নেয়া লজ্জাজনক কিছু মনে করলো এবং অহংকার করলো, তাদের (সবাইকেই) আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তি দান করবেন, (সেদিন) তারা আল্লাহ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাবে না।
১৭৪. হে মানুষ, তোমাদের মালিকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে একটি উজ্জ্বল প্রমাণ এসেছে এবং আমিই তোমাদের কাছে উজ্জ্বল জ্যোতি নাযিল করেছি।
১৭৫. অতপর যারা (সে জ্যোতি দিয়ে) ঈমান আনলো এবং তাকে শক্ত করে আঁকড়ে থাকলো, আল্লাহ তায়ালা তাদের অচিরেই তাঁর অফুরন্ত দয়া ও অনুগ্রহে (জান্নাতে) প্রবেশ করাবেন এবং তাদের তিনি সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।
১৭৬. (হে নবী,) তারা তোমার কাছে (বিভিন্ন বিষয়ে) ফতোয়া জানতে চায়; তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালা সে ব্যক্তির (উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ব্যাপারে) তোমাদের তাঁর সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন; যার মাতা পিতা কেউই নেই, আবার তার নিজেরও কোনো সন্তান নেই, (এ ধরনের) কোনো ব্যক্তি যদি মারা যায় এবং সে ব্যক্তি যদি সন্তানহীন হয় এবং তার একটি বোন থাকে, তাহলে সে বোনটি সে (মৃত) ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পত্তির অর্ধাংশের মালিক হবে, অপরদিকে সে যদি নিসন্তান হয়, তাহলে সে তার বোনের (সম্পত্তির) উত্তরাধিকারী হবে; (আবার) যদি তারা দুজন হয়, তাহলে তারা দুই বোন সেই পরিত্যক্ত সম্পত্তির তিন ভাগের দুই ভাগ অংশের মালিক হবে; যদি সে ভাইবোনেরা কয়েকজন হয়, তাহলে মেয়েদের অংশ এক ভাগ ও পুরুষদের অংশ দুই ভাগ হবে; আল্লাহ তায়ালা (উত্তরাধিকারের এ আইন-কানুন) অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তোমাদের জন্যে বলে দিয়েছেন, যাতে করে (মানুষের উদ্ভাবিত বন্টন পদ্ধতিতে) তোমরা বিভ্রান্ত হয়ে না পড়ো; আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর ব্যাপারেই সম্যক ওয়াকেফহাল।

সূরা আল মায়েদা
মদীনায় অবতীর্ণ আয়াত ১২০  রুকু ১৬
রহমান রহীম আল্লাহ তায়ালার নামে
১. হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা যারা ঈমান এনেছো তোমরা ওয়াদাসমূহ পূরণ করো (মনে রেখো); তোমাদের জন্যে চার পা’বিশিষ্ট পোষা জন্তু হালাল করা হয়েছে, তবে সেসব জন্তু ছাড়া, যা (বিবরণসহ একটু পরেই) তোমাদের পড়ে শোনানো হচ্ছে, এহরাম (বাঁধা) অবস্থায় (কিন্তু এসব হালাল জন্তু) শিকার করা বৈধ মনে করো না; (অবশ্যই) আল্লাহ তায়ালা যা চান সে আদেশই তিনি জারি করেন।
২. হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনসমহের অসম্মান করো না, সম্মানিত মাসগুলোকেও (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্যে) কখনো হালাল বানিয়ে নিয়ো না, (আল্লাহর নামে) উৎসর্গীকৃত জন্তুসমূহ ও যেসব জন্তুর গলায় (উৎসর্গের চিহ্ন হিসাবে) পট্টি বেঁধে দেয়া হয়েছে, যারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে আল্লাহর পবিত্র (কাবা) ঘরের দিকে রওনা দিয়েছে (তাদের তোমরা অসম্মান করো না), তোমরা যখন এহরামমুক্ত হবে তখন তোমরা শিকার করতে পারো, (বিশেষ) কোনো একটি সম্প্রদায়ের বিদ্বেষÑ (এমন বিদ্বেষ যার কারণে) তারা তোমাদের আল্লাহ তায়ালার পবিত্র মাসজিদে আসার পথ বন্ধ করে দিয়েছিলো, যেন তোমাদের (কোনো রকম) সীমালংঘন করতে প্ররোচিত না করে, তোমরা (শুধু) নেক কাজ ও তাকওয়ার ব্যাপারেই একে অপরের সহযোগিতা করো, পাপ ও বাড়াবাড়ির কাজে (কখনো) একে অপরের সহযোগিতা করো না, সর্বাবস্থায়ই আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, কেননা আল্লাহ তায়ালা (পাপের) দন্ডদানের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর!
৩. মৃত জন্তু, রক্ত, শুয়োরের গোশ্ত ও যে জন্তু আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো নামে যবাই (কিংবা উৎসর্গ) করা হয়েছে, (তা সবই) তোমাদের ওপর হারাম করা হয়েছে, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরা, আঘাত খেয়ে মরা, ওপর থেকে পড়ে মরা, শিংয়ের আঘাতে মরা, হিংস্র জন্তুর খাওয়া জন্তুও (তোমাদের জন্যে হারাম), তবে তোমরা তা যদি (জীবিত অবস্থায় পেয়ে) যবাই করে থাকো (তাহলে তা হারাম নয়)। পূজাার বেদীতে বলি দেয়া জন্তুও হারাম, (লটারি কিংবা) জুয়ার তীর নিক্ষেপ করে ভাগ্য নির্ণয় করা (হারাম), এর সব কয়টাই হচ্ছে বড়ো (বড়ো) গুনাহের কাজ, আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন (নিমর্ল করা) সম্পর্কে হতাশ হয়ে পড়েছে, সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না, বরং আমাকেই ভয় করো; আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন পরিপূর্ণ করে দিলাম, আর তোমাদের ওপর আমার (প্রতিশ্রুত) নেয়ামতও আমি পূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের জন্যে জীবন বিধান হিসাবে আমি ইসলামকেই মনোনীত করলাম; (হারামের ব্যাপারে মনে রেখো,) যদি কোনো ব্যক্তিকে ক্ষুধার তাড়নায় (হারাম খেতে) বাধ্য করা হয়, কিন্তু (ইচ্ছা করে) সে কোনো পাপের দিকে ঝুঁকে পড়তে না চায় (তার ব্যাপারটা আলাদা), অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
৪. তারা তোমার কাছ থেকে জানতে চায় কোন্ কোন্ জিনিস তাদের জন্যে হালাল করা হয়েছে? তুমি (তাদের) বলো, সব ধরনের পাক-সাফ বস্তুই (তোমাদের জন্যে) হালাল করা হয়েছে এবং সেসব শিকারী (জন্তু ও পাখীর) ধরে আনা (জন্তু এবং পাখী)-ও তোমরা খাও, যাদের তোমরা (শিকার করার নিয়ম) শিক্ষা দিয়েছো, যেভাবে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন, (তবে) এর ওপর অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার নাম নেবে, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করো; আল্লাহ তায়ালা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
৫. আজ তোমাদের জন্যে যাবতীয় পাক জিনিস হালাল করা হলো; যাদের ওপর আল্লাহর কেতাব নাযিল করা হয়েছে তাদের খাবারও তোমাদের জন্যে হালাল, আবার তোমাদের খাদ্যদ্রব্যও তাদের জন্যে হালাল, (চরিত্রের) সংরক্ষিত দুর্গে অবস্থানকারী মোমেন নারী ও তোমাদের আগে যাদের কেতাব দেয়া হয়েছিলো, যখন তোমরা (তাদের) মোহরানা আদায় করে দেবে, সেসব (আহলে কেতাব ) সতী সাধ্বী নারীরাও (তখন তোমাদের জন্যে হালাল হয়ে যাবে), তোমরা (থাকবে চরিত্রের) রক্ষক হয়ে, কামনা চরিতার্থ করে কিংবা গোপন অভিসারী (উপপতœী) বানিয়ে নয়; যে কেউই ঈমান অস্বীকার করবে, তার (জীবনের) সব কর্মই নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং শেষ বিচারের দিনে সে হবে (চরমভাবে) ক্ষতিগ্রস্তদের একজন।
৬. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরা যখন নামাযের জন্যে দাঁড়াবেÑতোমরা তোমাদের (পুরো) মুখমন্ডল ও কনুই পর্যন্ত তোমাদের হাত দুটো ধুয়ে নেবে, অতপর তোমাদের মাথা মাসেহ করবে এবং পা দুটো গোড়ালি পর্যন্ত (ধুয়ে নেবে,) কখনো যদি (এমন বেশী) নাপাক হয়ে যাও (যাতে গোসল করা ফরয হয়ে যায়), তাহলে (গোসল করে ভালোভাবে) পবিত্র হয়ে নেবে, যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো কিংবা তোমরা যদি সফরে থাকো, অথবা তোমাদের কেউ যদি মলমূত্র ত্যাগ করে আসে অথবা যদি নারী সম্ভোগ করে থাকো (তাহলে পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করো), আর যদি পানি না পাও তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও, (আর তায়াম্মুমের নিয়ম হচ্ছে, সেই পবিত্র) মাটি দিয়ে তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ও হাত মাসেহ করে নেবে; (মূলত) আল্লাহ তায়ালা কখনো (পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে) তোমাদের কষ্ট দিতে চান না, বরং তিনি চান তোমাদের পাক-সাফ করে দিতে এবং (এভাবেই) তিনি তোমাদের ওপর তাঁর নেয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিতে চান, যাতে করে তোমরা তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো।
৭. তোমাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতসমূহ তোমরা স্মরণ করো এবং তোমাদের কাছ থেকে যে পাকা প্রতিশ্রুতি তিনি গ্রহণ করেছিলেন (সে কথাও ভুলে যেয়ো না), যখন তোমরা (তাঁর সাথে অংগীকার করে) বলেছিলে (হে আমাদের মালিক), আমরা (তোমার কথা) শুনলাম এবং (তা) মেনে নিলাম, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অন্তরে যা কিছু আছে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।
৮. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহর জন্যে (সত্য ও) ন্যায়ের ওপর সাক্ষী হয়ে অবিচলভাবে দাঁড়িয়ে থাকো, (মনে রাখবে, বিশেষ) কোনো সম্প্রদায়ের দুশমনী যেন তোমাদের এমনভাবে প্ররোচিত না করে যে, (এর ফলে) তোমরা (তাদের সাথে) ন্যায় ও ইনসাফ করবে না। তোমরা ইনসাফ করো, কারণ এ (কাজ)-টি (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করে চলার অধিক নিকটতর; তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে পূর্ণাংগ ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
৯. যারা ঈমান আনে এবং নেক কাজ করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে (এই বলে) প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন (যে), তাদের জন্যে (তাঁর কাছে বিশেষ) ক্ষমা ও মহাপুরস্কার রয়েছে। ১০. (অপরদিকে) যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, তারা সবাই হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী।
১১. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমাদের ওপর আল্লাহর নেয়ামত ম্মরণ করো, যখন একটি জনগোষ্ঠী তোমাদের বিরুদ্ধে হাত ওঠাতে উদ্যত হয়েছিলো, তখন আল্লাহ তায়ালা তাদের সে হাত তোমাদের ওপর (আক্রমণ করা) থেকে সংযত করে দিলেন, অতপর তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, মোমেনদের তো আল্লাহ তায়ালার ওপরই ভরসা করা উচিত।
১২. আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাঈলদের (কাছ থেকে আনুগত্যের) অংগীকার গ্রহণ করলেন, অতপর আমি (এ কাজের জন্যে) তাদের মধ্য থেকে বারো জন সর্দার নিযুক্ত করলাম; আল্লাহ তায়ালা তাদের বললেন, অবশ্যই আমি তোমাদের সাথে আছি, তোমরা যদি নামায প্রতিষ্ঠা করো, যাকাত আদায় করো, আমার রসূলদের ওপর ঈমান আনো এবং (দ্বীনের কাজে যদি) তোমরা তাদের সাহায্য- সহযোগিতা করো, (সর্বোপরি) আল্লাহ তায়ালাকে তোমরা যদি উত্তম ঋণ প্রদান করো, তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মোচন করে দেবো এবং তোমাদের আমি এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়, এরপর যদি কোনো ব্যক্তি (আল্লাহকে) অস্বীকার করে, তাহলে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে।
১৩. (অতপর) তাদের সেই অংগীকার ভংগ করার কারণে আমি তাদের ওপর অভিশাপ নাযিল করেছি এবং তাদের হৃদয় কঠিন করে দিয়েছি (তাদের চরিত্রই ছিলো), তারা (আল্লাহর) কালামকে তার নির্দিষ্ট অর্থ থেকে সরিয়ে নিয়ে বিকৃত করে দিতো, (হেদায়াতের) যা কিছু তাদের শিক্ষা দেয়া হয়েছিলো তার অধিকাংশ কথাই তারা ভুলে গেলো; প্রতিনিয়ত তুমি তাদের দেখতে পাবে, তাদের সামান্য একটি অংশ ছাড়া অধিকাংশ মানুষই (আল্লাহর সাথে) বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে, অতএব তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও, (যথাসম্ভব) তুমি তাদের (সংস্রব) এড়িয়ে চলো; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কল্যাণকামী মানুষদের ভালোবাসেন।
১৪. আমি তো তাদের (কাছ থেকেও আনুগত্যের) অংগীকার গ্রহণ করেছিলাম, যারা বলে, আমরা খৃস্টান (সম্প্রদায়ের লোক), অতপর এরাও (সে অংগীকার সম্পর্কিত) অধিকাংশ কথা ভুলে গেলো, যা তাদের স্মরণ করানো হয়েছিলো, অতপর আমিও তাদের (পরষ্পরের) মধ্যে কেয়ামত পর্যন্ত (এক স্থায়ী) শত্রুতা ও বিদ্বেষের বীজ বপন করে দিলাম; অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তাদের বলে দেবেন (দুনিয়ার জীবনে) তারা যা কিছু উদ্ভাবন করতো।
১৫. হে আহলে কেতাবরা, তোমাদের কাছে আমার (পক্ষ থেকে) রসূল এসেছে, (আগের) কেতাবের যা কিছু তোমরা এতোদিন গোপন করে রেখেছিলে তার বহু কিছুই সে তোমাদের বলে দিচ্ছে, আবার অনেক কিছু সে এড়িয়েও যাচ্ছে; তোমাদের কাছে (এখন) তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আলোকবর্তিকা এবং সুস্পষ্ট কেতাবও এসে হাযির হয়েছে।
১৬. যে আল্লাহর আনুগত্য করে তার সন্তুষ্টি লাভ করতে চায়, এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তার শান্তি ও নিরাপত্তার পথ বাতলে দেন, অতপর তিনি তাঁর অনুমতিক্রমে তাদের (জাহেলিয়াতের) অন্ধকার থেকে (ঈমানের) আলোতে বের করে আনেন, আর (এভাবেই) তাদের তিনি সঠিক পথে পরিচালিত করেন।
১৭. নিশ্চয়ই তারা কুফরী করেছে, যারা বলেছে, মারইয়ামের পুত্র মাসীহই আল্লাহ; (হে মোহাম্মদ,) তুমি তাদের বলো, আল্লাহ তায়ালা যদি মারইয়াম পুত্র মাসীহ, তার মা ও গোটা বিশ্ব-চরাচরে যা কিছু আছে সব কিছুও ধ্বংস করে দিতে চান, এমন কে আছে যে আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে এদের রক্ষা করতে পারে? এই আকাশমালা, ভূমন্ডল ও এর মধ্যবর্তী স্থানে যা কিছু আছে, তার সার্বভৌমত্ব (এককভাবে) আল্লাহ তায়ালার জন্যেই (নির্দিষ্ট); তিনি যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন; আল্লাহ তায়ালা সকল বিষয়ের ওপর একক ক্ষমতাবান।
১৮. ইহুদী ও খৃস্টানরা বলে, আমরা আল্লাহর সন্তান এবং তাঁর প্রিয়পাত্র; তুমি (তাদের) বলো, তাহলে তিনি কেন তোমাদের গুনাহের জন্যে তোমাদের দন্ড প্রদান করবেন; (মূলত) তোমরা (সবাই হচ্ছো তাদের মধ্য থেকে কতিপয়) মানুষ, যাদের আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন আবার যাকে ইচ্ছা তিনি শাস্তি প্রদান করেন; আসমানসমূহ ও যমীনের মধ্যবর্তী সব কিছুর একক মালিকানা আল্লাহ তায়ালার জন্যেই (নির্দিষ্ট), সবকিছুকে তাঁর দিকেই ফিরে যেতে হবে।
১৯. হে আহলে কেতাবরা, রসূলদের আগমন ধারার ওপরই আমার (পক্ষ থেকে) তোমাদের কাছে একজন রসূল এসেছে, সে তোমাদের জন্যে (আমার কথাগুলো) সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করছে, যাতে করে তোমরা (বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে) একথা বলতে না পারো যে, (কই) আমাদের কাছে (জান্নাতের) সুসংবাদ বহনকারী ও (জাহান্নামের) সতর্ককারী (হিসেবে) কেউ তো আগমন করেনি, (আজ তো সত্যি সত্যিই) তোমাদের কাছে সুসংবাদবাহী ও সতর্ককারী (একজন রসূল) এসে গেছে, বস্তুত আল্লাহ তায়ালা সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
২০. (স্মরণ করো,) যখন মূসাা তার জাতিকে বলেছিলো, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর যে নেয়ামত নাযিল করেছেন তা তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের মাঝে বহু নবী পয়দা করেছেন, তিনি তোমাদের (এ যমীনের) শাসনকর্তা বানিয়েছেন, এছাড়াও তিনি তোমাদের এমন সব নেয়ামত দান করেছেন যা (এ) সৃষ্টিকূলে (এর আগে) তিনি আর কাউকে দান করেননি।
২১. হে আমার জাতি, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে যে পবিত্র ভূখন্ড লিখে রেখেছেন তোমরা তাতে প্রবেশ করো এবং (এ অগ্রাভিযানে) কখনো পশ্চাদপসরণ করো না; তারপরও তোমরা যদি ফিরে আসো তাহলে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২২. তারা বললো, হে মূসাা (আমরা কিভাবে সেই জনপদে প্রবেশ করবো), সেখানে (তো) এক দোর্দন্ড প্রতাপশালী সম্প্রদায় রয়েছে, তারা সেখান থেকে বেরিয়ে না এলে আমরা কিছুতেই সেখানে প্রবেশ করবো না, তারা সেখান থেকে বেরিয়ে এলে আমরা (অবশ্যই) প্রবেশ করবো।
২৩. যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করছিলো, তাদের (এমন) দুজন লোক, যাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করেছিলেন, (এগিয়ে এসে) বললো, তোমরা (সদর) দরজা দিয়েই তাদের (জনপদে) প্রবেশ করো, আর (একবার) সেখানে প্রবেশ করলেই তোমরা বিজয়ী হবে, তোমরা যদি (সত্যিকার অর্থে) মোমেন হও তাহলে আল্লাহর ওপরই ভরসা করো।
২৪. তারা (আরো) বললো, হে মূসাা, সেই (শক্তিশালী) লোকেরা যতোক্ষণ (পর্যন্ত) সেখানে থাকবে, ততোক্ষণ আমরা কোনো অবস্থায়ই সেখানে প্রবেশ করবো না, (বরং) তুমিই যাও, তুমি ও তোমার মালিক উভয়ে মিলে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে রইলাম।
২৫. (তাদের কথা শুনে) মূসাা বললো, হে (আমার) মালিক (তুমি তো জানো), আমার নিজের এবং আমার ভাই ছাড়া আর কারো ওপর আমার আধিপত্য চলে না, অতএব আমাদের মাঝে ও এই নাফরমান লোকদের মাঝে তুমি একটা মীমাংসা করে দাও।
২৬. আল্লাহ তায়ালা বললেন, ( হাঁ, তাই হবে, আগামী) চল্লিশ বছর পর্যন্ত সে (জনপদ) তাদের জন্যে নিষিদ্ধ করে দেয়া হলো, (এ সময়ে) তারা উদ্ভ্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াবে; সুতরাং তুমি এই না-ফরমান লোকদের ওপর কখনো দুঃখ করো না।
২৭. (হে মোহাম্মদ,) তুমি এদের কাছে আদমের দুই পুত্রের গল্পটি যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও! (গল্পটি ছিলো,) যখন তারা দুই জনই (আল্লাহর নামে) কোরবানী পেশ করলো, তখন তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে কোরবানী কবুল করা হলো, আরেকজনের কাছ থেকে তা কিছুতেই কবুল করা হলো না, (যার কোরবানী কবুল করা হয়নি) সে বললো, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করবো (যার কোরবানী কবুল করা হলো), সে বললো, আল্লাহ তায়ালা তো শুধু পরহেযগার লোকদের কাছ থেকেই (কোরবানী) কবুল করেন।
২৮. (হিংসার বশবর্তী হয়ে) তুমি যদি আজ আমাকে হত্যা করার জন্যে আমার দিকে তোমার হাত বাড়াও, তাহলে আমি (কিন্তু) তোমাকে হত্যা করার জন্যে তোমার প্রতি আমার হাত বাড়িয়ে দেবো না, কেননা আমি সৃষ্টিকুলের মালিককে ভয় করি।
২৯. আমি (বরং) চাইবো, তুমি আমার গুনাহ ও তোমার গুনাহের (বোঝা) একাই তোমার (মাথার) ওপর উঠিয়ে নাও এবং (এভাবেই) তুমি জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে পড়ো, (মূলত) এ হচ্ছে যালেমদের (যথার্থ) কর্মফল।
৩০. শেষ পর্যন্ত তার কুপ্রবৃত্তি তাকে নিজ ভাইয়ের হত্যার কাজে উস্কানি দিলো, অতপর সে তাকে খুন করেই ফেললো এবং (এ কাজের ফলে) সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলো।
৩১. অতপর আল্লাহ তায়ালা (সেখানে) একটি কাক পাঠালেন, কাকটি (হত্যাকারীর সামনে এসে) মাটি খুঁড়তে লাগলো, উদ্দেশ্য, তাকে দেখানো কিভাবে সে তার ভাইয়ের লাশ লুকিয়ে রাখবে; (এটা দেখে) সে (নিজে নিজে) বলতে লাগলো, হায়! আমি তো এই কাকটির চাইতেও অক্ষম হয়ে পড়েছি, আমি তো আমার ভাইয়ের লাশটাও গোপন করতে পারলাম না, অতপর সে সত্যি সত্যিই (নিজের কৃতকর্মের জন্যে) অনুতপ্ত হলো।
৩২. (পরবর্তীকালে) ওই (ঘটনার) কারণেই আমি বনী ইসরাঈলদের জন্যে এই বিধান জারি করলাম যে, কোনো মানুষকে হত্যা করার কিংবা পৃথিবীতে ধ্বংসাÍক কাজ (করার শাস্তি বিধান) ছাড়া (অন্য কোনো কারণে) কেউ যদি কাউকে হত্যা করে, সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করলো; (আবার এমনিভাবে) যদি কেউ একজনের প্রাণ রক্ষা করে তবে সে যেন গোটা মানব জাতিকেই বাঁচিয়ে দিলো; এদের কাছে আমার রসূলরা সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিলো, তারপরও এদের অধিকাংশ লোক এ যমীনের বুকে সীমালংঘনকারী হিসেবেই থেকে গেলো।
৩৩. যারা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং (আল্লাহর) যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির অপচেষ্টা করে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট শাস্তি হচ্ছে এই যে, তাদের হত্যা করা হবে কিংবা তাদের শূলবিদ্ধ করা হবে, অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে, কিংবা দেশ থেকে তাদের নির্বাসিত করা হবে; এই অপমানজনক শাস্তি তাদের দুনিয়ার জীবনের (জন্যে, তাছাড়া) পরকালে তাদের জন্যে ভয়াবহ আযাব তো রয়েছেই।
৩৪. তবে (এটা তাদের জন্যে নয়,) যাদের ওপর তোমাদের আধিপত্য স্থাপিত হবার আগেই তারা তাওবা করেছে, তোমরা জেনে রেখো, আল্লাহ তায়ালা একান্ত ক্ষমাশীল ও পরম করুণাময়। ৩৫. হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং তাঁর দিকে (ধাবিত হওয়ার জন্যে) উপায় খুঁজতে থাকো (তার বিশেষ একটি উপায় হচ্ছে), তোমরা আল্লাহর পথে জেহাদ করো, সম্ভবত তোমরা সফলকাম হতে পারবে।
৩৬. আর যারা ঈমান আনতে অস্বীকার করেছে, (কেয়ামতের দিন) পৃথিবীর সমুদয় ধন-দৌলতও যদি তাদের করায়ত্ত থাকেÑ(তার সাথে আরো) যদি সমপরিমাণ সম্পদ তাদের কাছে থাকে, (এ সম্পদ) মুক্তিপণ হিসেবে দিয়েও যদি সে কেয়ামতের দিন জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি পেতে চায় (তাও সম্ভব হবে না), তার কাছ থেকে (এর কিছুই সেদিন) গ্রহণ করা হবে না, তাদের জন্যে (সেদিন) কঠোর আযাব নির্ধারিত থাকবে।
৩৭. তারা (সেদিন) দোযখের আযাব থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে, কিন্তু (কোনো অবস্থায়ই) তারা সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না, তাদের জন্যে স্থায়ী আযাব নির্দিষ্ট হয়ে আছে।
৩৮. পুরুষ ও নারীÑ এদের যে কেউই চুরি করবে, তাদের হাত দুটো কেটে ফেলো, এটা তাদেরই কর্মফল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত দন্ড; আল্লাহ তায়ালা মহাশক্তিশালী ও প্রবল প্রজ্ঞাময়।
৩৯. (হাঁ,) যে ব্যক্তি (এ জঘন্য) যুলুম করার পর (আল্লাহ তায়ালার কাছে) তাওবা করবে এবং নিজের সংশোধন করে নেবে, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা তার তাওবা কবুল করবেন; আল্লাহ তায়ালা নিসন্দেহে বড়ো ক্ষমাশীল ও দয়াময়।
৪০. তুমি কি (একথা) জানো না, এই আকাশমন্ডলী ও যমীনের একক সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যে; তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে শাস্তি দেন, আবার যাকে ইচ্ছা তাকে তিনি মাফ করে দেন; (কেননা) সব কিছুর ওপর তিনিই হচ্ছেন একক ক্ষমতাবান।
৪১. হে রসূল, যারা দ্রুতগতিতে কুফরীর পথে ধাবিত হচ্ছে, তারা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়, এরা সে দলের (লোক) যারা মুখে বলে, আমরা ঈমান এনেছি, কিন্তু (সত্যিকার অর্থে) তাদের অন্তর কখনো ঈমান আনেনি, আর (তাদের ব্যাপারও নয়) যারা ইহুদীÑ তারা মিথ্যা কথা শোনার জন্যে (সদা) কান খাড়া করে রাখে এবং (তাদের বন্ধু সম্প্রদায়ের) যেসব লোক কখনো তোমার কাছে আসেনি, এরা সেই অপর সম্প্রদায়টির জন্যেই নিজেদের কান খাড়া করে রাখে; আল্লাহর কেতাবের কথাগুলো আপন জায়গায় (বিন্যস্ত) থাকার পরেও এরা তা বিকৃত করে বেড়ায় এবং (অন্যদের কাছে) এরা বলে, (হাঁ) যদি এ (ধরনের কোনো) বিধান তোমাদের দেয়া হয় তাহলে তোমরা তা গ্রহণ করো, আর সে ধরনের কিছু না দেয়া হলে তোমরা (তা থেকে) সতর্ক থেকো; (আসলে) আল্লাহ তায়ালা যার পথচ্যুতি চান, তাকে আল্লাহর (পাকড়াও) থেকে বাঁচানোর জন্যে তুমি তো কিছুই করতে পারো না; এরাই হচ্ছে সেসব (হতভাগ্য) লোক, আল্লাহ তায়ালা কখনো যাদের অন্তরগুলোকে পাক-সাফ করার এরাদা পোষণ করেন না, তাদের জন্যে পৃথিবীতে (যেমনি) রয়েছে অপমান (ও লাঞ্ছনা), পরকালেও (তেমনি) তাদের জন্যে অপেক্ষা করছে ভয়াবহ আযাব।
৪২. (ইহুদীদের চরিত্র হচ্ছে,) এরা (যেমন) মিথ্যা কথা শুনতে অভ্যস্ত, (তেমনি) এরা হারাম মাল খেতেও ওস্তাদ; অতএব এরা যদি কখনো (কোনো বিচার নিয়ে) তোমার কাছে আসে তাহলে তুমি (চাইলে) তাদের বিচার করতে পারো কিংবা তাদের উপেক্ষা করো, যদি তুমি তাদের ফিরিয়ে দাও তাহলে (নিশ্চিত থাকো), এরা তোমার কোনোই অনিষ্ট করতে পারবে না, তবে যদি তুমি তাদের বিচার ফয়সালা করতে চাও তাহলে অবশ্যই ন্যায়বিচার করবে; নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা ন্যায় বিচারকদের ভালোবাসেন।
৪৩. এসব লোক কিভাবে তোমার কাছে বিচারের ভার নিয়ে হাযির হবে, যখন তাদের নিজেদের কাছেই (আল্লাহর পাঠানো) তাওরাত মজুদ রয়েছে, তাতেও তো (বিচার-আচার সংক্রান্ত) আল্লাহর বিধান আছে, (তুমি যা কিছুই করো না কেন) একটু পরেই তারা তোমার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, এরা আসলেই (আল্লাহর কেতাবের ব্যাপারে) ঈমানদার নয়।
৪৪. নিসন্দেহে আমি (মূসাার কাছে) তাওরাত নাযিল করেছি, তাতে (তাদের জন্যে) পথনির্দেশ ও আলোকবর্তিকা বর্তমান ছিলো, আমার নবীরাÑ যারা আমার বিধানেরই অনুবর্তন করতো, ইহুদী জাতিকে এ (হেদায়াত) মোতাবেকই আইন-কানুন প্রদান করতো, (নবীদের পর তাদের) জ্ঞানসাধক ও ধর্মীয় পন্ডিতরাও (এ অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করতো), কেননা, (নবীর পর) আল্লাহর কেতাব সংরক্ষণ করার দায়িত্ব এদেরই দেয়া হয়েছিলো, তারা (নিজেরাও) ছিলো এর (প্রত্যক্ষ) সাক্ষী, সুতরাং তোমরা মানুষদের ভয় না করে একান্তভাবে আমাকেই ভয় করো, আর আমার আয়াতসমূহ সামান্য মল্যে বিক্রি করে দিয়ো না; যারা আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না, তারাই (হচ্ছে) কাফের।
৪৫. (তাওরাতের) সেখানে আমি তাদের জন্যে বিধান নাযিল করেছিলাম যে, (তাদের) জানের বদলে জান, চোখের বদলে চোখ, নাকের বদলে নাক, কানের বদলে কান, দাঁতের বদলে দাঁত, (শাস্তি প্রয়োগের সময় এই শারীরিক) যখমটাই কিন্তু আসল দন্ড (বলে বিবেচিত হয়); অবশ্য (বাদী পক্ষের) কেউ যদি এই দন্ড মাফ করে দিতে চায়, তাহলে তা তার নিজের (গুনাহ-খাতার) জন্যে কাফফারা (হিসেবে গণ্য) হবে; আর যারাই আল্লাহর নাযিল করা বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করেনা, তারাই যালেম।
৪৬. এ ক্রমধারায় অতপর আমি মারইয়াম-পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি, (সে সময়) আগে থেকে তাওরাতের যা কিছু (অবশিষ্ট) ছিলো, সে ছিলো তার সত্যতা স্বীকারকারী, আর আমি তাকে ইনজীল দান করেছি, তাতে ছিলো হেদায়াত ও নর; তখন তাওরাতের যা কিছু (তার কাছে বর্তমান ছিলোÑ ইনজীল কেতাব) তার সত্যতাও সে স্বীকার করেছে, (তদুপরি) তাতে আল্লাহভীরু লোকদের জন্যে পথনির্দেশ ও উপদেশ (মজুদ) ছিলো।
৪৭. ইনজীলের অনুসারীদের উচিত এর ভেতর আল্লাহ তায়ালা যা কিছু নাযিল করেছেন তার ভিত্তিতে বিচার ফয়সালা করা; (কেননা) যারাই আল্লাহর নাযিল করা আইনের ভিত্তিতে বিচার করেনা তারাই ফাসেক।
৪৮. (হে মোহাম্মদ,) আমি তোমার প্রতি সত্য (দ্বীন)-সহ এ কেতাব নাযিল করেছি, (আগের) কেতাবসমহের যা কিছু (অবিকৃত অবস্থায়) তার সামনে মজুদ রয়েছে, এ কেতাব তার সত্যতা স্বীকার করে (শুধু তাই নয়), এ কেতাব (তার ওপর) হেফাযতকারীও বটে! (সুতরাং) আল্লাহ তায়ালা যেসব বিধি-বিধান নাযিল করেছেন তার ভিত্তিতেই তুমি তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করো, আর (এ বিচারের সময়) তোমার নিজের কাছে যা সত্য (দ্বীন) এসেছে, তার থেকে সরে গিয়ে তাদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করো না; আমি তোমাদের প্রতিটি (সম্প্রদায়ের) জন্যে শরীয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছি; আল্লাহ তায়ালা চাইলে তোমাদের সবাইকে একই উম্মত বানিয়ে দিতে পারতেন; বরং তিনি তোমাদের যা দিয়েছেন তার ভিত্তিতে তোমাদের যাচাই-বাছাই করে নিতে চেয়েছেন, অতএব ভালো কাজে তোমরা সবাই প্রতিযোগিতা করো; (কেননা) আল্লাহ তায়ালার দিকেই হবে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তনস্থল, (এখানে) তোমরা যেসব বিষয় নিয়ে মতভেদ করতে, (অতপর) তিনি অবশ্যই তা তোমাদের (স্পষ্ট করে) বলে দেবেন।
৪৯. (অতএব, হে মোহাম্মদ,) তোমার ওপর আল্লাহ তায়ালা যে আইন-কানুন নাযিল করেছেন তুমি তারই ভিত্তিতে এদের মাঝে বিচার ফয়সালা করো এবং কখনো তাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করো না এবং তাদের থেকে সতর্ক থেকো, যা কিছু আল্লাহ তায়ালা তোমার ওপর নাযিল করেছেন তার কোনো কোনো বিষয়ে যেন তারা কখনো তোমাকে ফেতনায় না ফেলতে পারে; অতপর (তোমার ফয়সালায়) যদি এরা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে জেনে রেখো, আল্লাহ তায়ালা তাদের নিজেদেরই কোনো গুনাহের জন্যে তাদের কোনোরকম মসিবতে ফেলতে চান; মানুষের মাঝে (আসলে) অধিকাংশই হচ্ছে অবাধ্য।
৫০. তবে কি  তারা  পুনরায় জাহেলিয়াতের  বিচার  ব্যবস্থা তালাশ করছে? অথচ যারা (আল্লাহতে) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, তাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার চাইতে উত্তম বিচারক আর কে হতে পারে?
৫১. হে ঈমানদার লোকেরা,  তোমরা  (কখনো)  ইহুদী-খৃস্টানদের  নিজেদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করো না। (কেননা) এরা নিজেরা (সব  সময়ই)  একে  অপরের বন্ধু;  তোমাদের  মধ্যে  কেউ  যদি (কখনো) এদের কাউকে বন্ধু বানিয়ে নেয় তাহলে  সে  তাদেরই দলভুক্ত হয়ে যাবে; আর আল্লাহ তায়ালা কখনো যালেম সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না।
৫২. অতপর যাদের অন্তরে (মোনাফেকীর) ব্যাধি রয়েছে তাদের তুমি দেখবে, তারা (বিশেষ) তৎপরতার সাথে এই বলে তাদের সাথে মিলিত হচ্ছে যে, ‘আমাদের আশংকা হচ্ছে, কোনো বিপর্যয় এসে আমাদের ওপর আপতিত হবে’; পরে হয়তো আল্লাহ তায়ালা (তোমাদের কাছে) বিজয় নিয়ে আসবেন কিংবা তাঁর কাছ থেকে অন্য কিছু (অনুগ্রহ তিনি দান করবেন), তখন (তা দেখে এ) লোকেরা নিজেদের মনের ভেতর যে কপটতা লুকিয়ে রেখেছিলো, তার জন্যে ভীষণ অনুতপ্ত হবে।
৫৩. (তখন) ঈমানদার লোকেরা বলবে, এরাই কি ছিলো সেসব মানুষ, যারা আল্লাহ তায়ালার নামে বড়ো বড়ো শপথ করতো (যে), তারা অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে আছে; (এই আচরণের ফলে) তাদের কার্যকলাপ বিনষ্ট হয়ে গেলো, অতপর তারা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়লো।
৫৪. হে মানুষ, তোমরা যারা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছো, তোমাদের মধ্যে কোনো লোক যদি নিজের দ্বীন (ইসলাম) থেকে  (মোরতাদ  হয়ে)  ফিরে  আসে (তাতে  আল্লাহ তায়ালার কোনো ক্ষতি নেই,) তবে আল্লাহ তায়ালা অচিরেই  (এখানে)  এমন  এক সম্প্রদায়ের উত্থান ঘটাবেন যাদের তিনি ভালোবাসবেন, তারাও তাঁকে ভালোবাসবে, (তারা হবে) মোমেনদের প্রতি কোমল ও কাফেরদের প্রতি কঠোর, তারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করবে, কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়া তারা করবে না; (মূলত) এ (সাহসটুকু) হচ্ছে আল্লাহর একটি অনুগ্রহ, যাকে চান তাকেই তিনি তা দান করেন; আল্লাহ তায়ালা প্রাচুর্যময় ও প্রজ্ঞার আধার।
৫৫. তোমাদের একমাত্র পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রসূল এবং সেসব ঈমানদার লোকেরা, যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি আল্লাহ তায়ালার সামনে যারা) সদা অবনমিত থাকে।
৫৬. আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা, তাঁর রসূল ও ঈমানদারদের নিজের বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে (তারা যেন জেনে রাখে), কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার দলটিই বিজয়ী হবে।
৫৭. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের আগে যাদের (আল্লাহ তায়ালার) কেতাব দেয়া হয়েছিলো, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে বিদ্রƒপ ও খেল-তামাশার বস্তুতে পরিণত করে রেখেছে, তাদের এবং কাফেরদের কখনো তোমরা নিজেদের বন্ধু বানিয়ো না, যদি তোমরা সত্যিকার অর্থে মোমেন হয়ে থাকো তাহলে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই (বন্ধুু বানাও এবং তাঁকেই) ভয় করো।
৫৮. যখন তোমরা (মানুষদের) নামাযের জন্যে ডাকো, তখন এই ডাককে এরা হাসি-তামাশা ও খেলার বস্তু বানিয়ে দেয়; এরা হচ্ছে এমন এক সম্প্রদায়,  যারা  (হক-বাতিলের)  কিছুই  বোঝে না।
৫৯. (হে রসূল,) তুমি এদের বলো, তোমরা যে আমাদের কাছ  থেকে  প্রতিশোধ  নিচ্ছো, তার কারণ এই যে, আমরা আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি এবং আমাদের ওপর আগে ও বর্তমানে যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি! (আসলে) তোমাদের অধিকাংশ (মানুষই)  হচ্ছে  গুনাহগার।
৬০. (হে  রসূল,)  তুমি  বলো, আমি কি তোমাদের বলে দেবোÑ আল্লাহর কাছ থেকে  সবচাইতে  নিকৃষ্ট  পুরস্কার  কে পাবে? সে লোক (হচ্ছে,) যার ওপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ দিয়েছেন, যার ওপর আল্লাহর ক্রোধ রয়েছে এবং যাদের কিছু লোককে তিনি বানর, (কিছু লোককে) শুয়োরে পরিণত করে দিয়েছেন,  যারা মিথ্যা মাবুদের আনুগত্য স্বীকার করেছে; এরাই হচ্ছে সেসব লোক, (পরকালে) যাদের অবস্থান হবে অত্যন্ত নিকৃষ্ট এবং (দুনিয়াতেও) এরা সরল পথ থেকে (বহুদরে) বিচ্যুত হয়ে পড়েছে।
৬১. তারা যখন তোমার সামনে আসে তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি, (আসলে) তারা তোমার কাছে কুফরী নিয়েই প্রবেশ করছিলো এবং তা নিয়েই তোমার কাছ থেকে তারা বেরিয়ে গেছে; (তারা মনের ভেতর) যা কিছু লুকিয়ে রাখছিলো আল্লাহ তায়ালা সে ব্যাপারে পূর্ণ ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
৬২. তাদের অনেককেই তুমি দেখতে পাবেÑ গুনাহ, (আল্লাহর সাথে) বিদ্রোহ ও হারাম মাল ভোগ করার কাজে এরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে চলেছে; এরা যা করে (মূলত) তা বড়োই নিকৃষ্ট কাজ!
৬৩. (কতো ভালো হতো এদের) ধর্মীয় নেতা ও পন্ডিত ব্যক্তিরা যদি এদের এসব পাপের কথা ও হারাম মাল ভোগ করা থেকে বিরত রাখতো! (কারণ) এরা যা কিছু (সংগ্রহ) করছে তা বড়োই জঘন্য!
৬৪. ইহুদীরা বলে, আল্লাহর (দানের) হাত বাঁধা পড়ে গেছে; (আসলে) তাদের নিজেদের হাতই বাঁধা পড়ে গেছে, আর তারা যা কিছু বলেছে সে কারণে তাদের ওপর আল্লাহ তায়ালার অভিশাপ নাযিল করা হয়েছে। আল্লাহর তো (দুনিয়া আখেরাতের) উভয় হাতই মুক্ত, যেভাবে তিনি চান সেভাবেই তিনি দান করেন। (প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে), তোমার মালিকের পক্ষ থেকে যা কিছু তোমার ওপর নাযিল করা হয়েছে, তা তাদের অনেকেরই সীমালংঘন ও কুফরীকে অবশ্যই বাড়িয়ে দিয়েছে; (ফলে) আমি তাদের মাঝে কেয়ামত পর্যন্ত একটা শত্রট্টা ও পরষ্পর বিদ্বেষ সঞ্চার করে দিয়েছি; যখনি তারা যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়ে দিতে চেয়েছে, আল্লাহ তায়ালা তখনি তা নিভিয়ে দিয়েছেন, তারা (বার বার) এ যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টির প্রয়াস পেয়েছে; আসলে আল্লাহ তায়ালা বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের মোটেই ভালোবাসেন না।
৬৫. যদি আহলে কেতাবরা ঈমান আনতো এবং (আল্লাহকে) ভয় করতো, তবে অবশ্যই আমি তাদের গুনাহখাতা মুছে দিতাম এবং তাদের আমি অবশ্যই নেয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতে প্রবেশ করাতাম।
৬৬. যদি তারা তাওরাত ও ইনজীল (তথা তার বিধান) প্রতিষ্ঠা করতো, আর যা তাদের ওপর তাদের  মালিকের কাছ থেকে নাযিল করা হয়েছে তার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতো, তাহলে তারা রেযেক পেতো তাদের  মাথার  ওপরের  (আসমান)  থেকে  ও  তাদের  পায়ের নীচের (যমীন) থেকে; তাদের মধ্যে অবশ্য একদল  (ন্যায়  ও)  মধ্যপন্থী  লোক  রয়েছে,  তবে  তাদের  অধিকাংশই হচ্ছে এমন, যাদের কর্মকান্ড খুবই নিকৃষ্ট!
৬৭.  হে  রসূল,  যা কিছু  তোমার ওপর নাযিল করা হয়েছে তা তুমি (অন্যের কাছে) পৌঁছে দাও, যদি তুমি  (তা)  না  করো  তাহলে  তুমি  তো  (মানুষদের  কাছে) তার বার্তা পৌঁছে দিলে না! আল্লাহ তায়ালা তোমাকে  মানুষের  (অনিষ্ট)  থেকে  বাঁচিয়ে রাখবেন;  নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা কখনো কোনো অবাধ্য জাতিকে পথ  প্রদর্শন করেন না।
৬৮. তুমি (তাদের) বলো, হে আহলে কেতাবরা, যতোক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তাওরাত, ইনজীল ও তোমাদের প্রতি তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত না করবে, ততোক্ষণ  পর্যন্ত (মনে করতে  হবে,)  তোমরা  কোনো কিছুর ওপরই প্রতিষ্ঠিত নেই; তোমার মালিকের কাছ থেকে  যা কিছু  তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে তা তাদের অনেকেরই সীমালংঘন ও কুফরী বাড়িয়ে দেবে, সুতরাং তুমি এই কাফের সম্প্রদায়ের জন্যে মোটেই আফসোস করো না।
৬৯. নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং যারা  ছিলো ইহুদী, সাবেয়ী, খৃস্টানÑ (এদের) যে কেউই এক আল্লাহ তায়ালা ও শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান আনবে এবং সৎকর্ম করবে, তাদের কোনো ভয় নেই, (পরকালেও) তাদের কোনো দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হতে হবে না।
৭০. বনী ইসরাঈলের কাছ থেকে আমি (আনুগত্যের) অংগীকার আদায় করে নিয়েছিলাম এবং (সে মোতাবেক) আমি তাদের কাছে রসূলদের প্রেরণ করেছিলাম; কিন্তু যখনি কোনো রসূল তাদের কাছে এমন কিছু (বিধান) নিয়ে হাযির হয়েছে, যা তাদের পছন্দসই ছিলো না, তখনি তারা (এই রসূলদের) একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছে, আরেক দলকে তারা হত্যা করেছে।
৭১. তারা ধরে নিয়েছিলো, (এতো কিছু করা সত্ত্বেও) তাদের জন্যে কোনো বিপর্যয় থাকবে না, তাই তারা (সত্য গ্রহণ করার ব্যাপারে) অন্ধ ও বধির হয়ে থাকলো, তারপরও আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর ক্ষমাপরবশ হলেন, অতপর তাদের অনেকেই আবার অন্ধ ও বধির হয়ে গেলো; তারা যা কিছু করছে আল্লাহ তায়ালা তা পর্যবেক্ষণ করছেন।
৭২. নিশ্চয়ই তারা কাফের হয়ে গেছে যারা (একথা) বলেছে, আল্লাহ হচ্ছেন মারইয়ামের পুত্র মাসীহ; অথচ মাসীহ (নিজেই একথা) বলেছে যে, হে বনী ইসরাঈল, তোমরা এক আল্লাহর এবাদাত করো, যিনি আমারও মালিক, তোমাদেরও মালিক; মূলত যে কেউই আল্লাহর সাথে শরীক করবে, আল্লাহ তায়ালা তার ওপর জান্নাত হারাম করে দেবেন, আর তার (স্থায়ী) ঠিকানা হবে জাহান্নাম; এই যালেমদের (সেদিন) কোনো সাহায্যকারীই থাকবে না।
৭৩. তারাও কুফরী করেছে যারা বলেছে, তিন জনের মধ্যে তৃতীয় জন হচ্ছেন আল্লাহ। অথচ এক  আল্লাহ  তায়ালা ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই; তারা যদি এখনো তাদের এসব (অলীক) কথাবার্তা থেকে  ফিরে  না  আসে,  তবে তাদের মাঝে যারা (একথা বলে) কুফরী করেছে, তাদের অবশ্যই কঠিন যšণাদায়ক আযাবে  পেয়ে  যাবে।
৭৪. তারা  কি  আল্লাহর  কাছে  তাওবা  করবে না?  (কখনো  কি)  তারা তাঁর কাছে ক্ষমা  প্রার্থনা  করবে  না?  আল্লাহ  তায়ালা বড়োই ক্ষমাশীল ও দয়াময়।
৭৫. মারইয়াম পুত্র মাসীহ তো রসূল ছাড়া  কিছুই  ছিলো  না,  তার  আগেও (তার মতো) অনেক রসূল গত হয়েছে; তার মা ছিলো এক সত্যনিষ্ঠ মহিলা;  তারা  (মা  ও ছেলে)  উভয়ই (আর দু’দশটি মানুষের মতো করেই) খাবার খেতো; তুমি লক্ষ্য করে দেখো,  আমি  কিভাবে  (আমার)  আয়াতগুলো  খুলে খুলে বর্ণনা করছি, তুমি দেখো, কিভাবে তারা সত্যবিমুখ হয়ে  যাচ্ছে।  ৭৬.  তুমি  বলো, তোমরা কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন কিছুর এবাদাত করছো যা তোমাদের কোনো  ক্ষতি কি ংবা  উপকার  কিছুই  করার  ক্ষমতা  রাখেনা;  (প্রকৃতপক্ষে) আল্লাহ তায়ালা (সব কিছুই) শোনেন এবং (সব কিছুই) জানেন।
৭৭. তুমি বলো, হে আহলে কেতাবরা, তোমরা কখনো নিজেদের দ্বীনের ব্যাপারে অন্যায় বাড়াবাড়ি করো না, (মাসীহের ব্যাপারে) তোমরা সেসব জাতির খেয়ালখুশীর অনুসরণ করো না, যারা তোমাদের আগেই পথভ্রষ্ট হয়ে গেছে এবং তারা অনেক লোককেই গোমরাহ করে দিয়েছে, আর তারা নিজেরাও সহজ সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে।
৭৮. বনী ইসরাঈলদের আরো যারা (মাসীহের ব্যাপারে আল্লাহর এ ঘোষণা) অস্বীকার করেছে, তাদের ওপর দাঊদ ও মারইয়াম পুত্র ঈসার মুখ থেকে অভিশাপ দেয়া হয়েছে; কেননা, তারা আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে এবং সীমালংঘন করেছে।
৭৯. তারা যেসব গর্হিত কাজ করতো তা থেকে তারা একে অপরকে বারণ করতো না, তারা যা করতো নিসন্দেহে তা ছিলো নিকৃষ্ট।
৮০. তুমি তাদের মাঝে এমন বহু লোককে দেখতে পাবে, যারা (ঈমানদারদের বদলে) কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করতেই বেশী আগ্রহী, অবশ্য তারা নিজেরা যা কিছু অর্জন করে সামনে পাঠিয়েছে তাও অতি নিকৃষ্ট, এ কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর ক্রোধানি¦ত হয়েছেন, এ লোকেরা চিরকাল আযাবেই নিমজ্জিত থাকবে।
৮১. তারা যদি সত্যিই আল্লাহ তায়ালা, (তাঁর) নবী ও তাঁর প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি যথাযথ ঈমান আনতো, তাহলে এরা কাফেরদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতো না, কিন্তু তাদের তো অধিকাংশ লোকই হচ্ছে গুনাহগার।
৮২. অবশ্যই তোমরা ঈমানদারদের সাথে শত্রট্টার ব্যাপারে ইহুদী ও মোশরেকদেরই বেশী  কঠোর  (দেখতে)  পাবে, (অপরদিকে) মোমেনদের সাথে বন্ধুত্বের ব্যাপারে তোমরা  সেসব লোককে (কিছুটা) নিকটতর পাবে, যারা বলেছে আমরা  খৃস্টান;  এটা এই কারণে যে, (তখনো) তাদের মধ্যে ধর্মীয় পন্ডিত ব্যক্তি ও সংসারবিরাগী ফকীর-দরবেশরা মজুদ ছিলো, অবশ্যই এ ব্যক্তিরা অহংকার করে না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY