কোরআন শরীফ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ পারা ৭, ওয়া ইযা সামিউ, সূরা আল মায়েদা , সূরা আল আনয়াম

0
771

কোরআন শরীফ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ
পারা  ৭, ওয়া ইযা সামিউ

সূরা আল মায়েদা: আয়াত  ৮৩-১২০

সূরা আল আনয়াম,  আয়াত ১-১১০

৮৩. রসূলের  ওপর যা কিছু নাযিল করা হয়েছে তা যখন এরা শোনে, তখন সত্য চেনার কারণে তুমি এদের অনেকের চোখকেই দেখতে পাবে অশ্রুসজল, (নিবেদিত হয়ে) তারা বলে ওঠে, হে আমাদের মালিক, আমরা ঈমান এনেছি, তুমি আমাদের (নাম) সত্যের সাক্ষ্যদাতাদের দলে লিখে নাও।
৮৪. আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে আমাদের কাছে যা কিছু সত্য এসেছে তার ওপর আমরা ঈমান আনবো না কেন? (অথচ) আমরা এই প্রত্যাশা করি যে, আমাদের মালিক আমাদের সৎকর্মশীলদের দলভুক্ত করে দেবেন,
৮৫. অতপর তারা যা বললো সেজন্যে আল্লাহ তায়ালা সন্তুুষ্ট হয়ে (পরকালে) তাদের এমন এক জান্নাত দান করবেন, যার তলদেশ দিয়ে (অমীয়) ঝর্ণাধারা প্রবাহমান থাকবে, সেখানে তারা হবে চিরস্থায়ী; আর এটা হচ্ছে নেককার লোকদের (যথার্থ) পুরস্কার। ৮৬. অপরদিকে যারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতগুলো যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, তারা সবাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
৮৭. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে যে পবিত্র জিনিসগুলো হালাল করে দিয়েছেন, তোমরা সেগুলো (নিজেদের জন্যে) হারাম করে নিয়ো না, আর কখনো (হারামের) সীমা লংঘন করো না; অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সীমালংঘনকারীদের অপছন্দ করেন।
৮৮. আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে হালাল ও পবিত্র রেযেক দান করেছেন তোমরা তা খাও এবং (এ ব্যাপারে) সে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো, যাঁর ওপর তোমরা ঈমান এনেছো।
৮৯. আল্লাহ তায়ালা তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্যে তোমাদের পাকড়াও করবেন না, কিন্তুু যে শপথ তোমরা জেনে-বুঝে করো তার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তোমাদের পাকড়াও করবেন, অতপর তার কাফফারা হচ্ছে দশ জন গরীব মেসকীনকে মধ্যম মানের খাবার খাওয়ানো, যা তোমরা (সচরাচর) নিজেদের পরিবার পরিজনদের খাইয়ে থাকো, কিংবা তাদের পোশাক দান করা, অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দেয়া; যে ব্যক্তি (এর কোনোটাই) পাবে না, তার জন্যে  (কাফফারা হচ্ছে) তিন দিন রোযা (রাখা); শপথ ভাঙলে তোমাদের (শপথ ভাংগার) এ হচ্ছে কাফফারা; (অতএব) তোমরা তোমাদের শপথসমূহ রক্ষা করো; আল্লাহ তায়ালা এভাবেই তাঁর আয়াতসমূহ তোমাদের কাছে বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে পারো।
৯০. হে মানুষ, তোমরা যারা ঈমান এনেছো (তোমরা জেনে রেখো), মদ, জুয়া, পূজাার বেদী ও ভাগ্যনির্ণায়ক শর হচ্ছে ঘৃণিত শয়তানের কাজ, অতএব তোমরা তা (সম্পূরূপে) বর্জন করো। আশা করা যায় তোমরা মুক্তি পেয়ে যাবে।
৯১. শয়তান এই মদ ও জুয়ার মধ্যে (ফেলে) তোমাদের মাঝে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দিতে চায় এবং এভাবে সে তোমাদের আল্লাহ তায়ালার স্মরণ ও নামায থেকে দরে সরিয়ে রাখে, তোমরা কি (এ কাজ থেকে) ফিরে আসবে না?
৯২. তোমরা (সর্ববিষয়ে) আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রসূলের, (মদ ও জুয়ার ধ্বংসকারীতা থেকে) সতর্ক থেকো, আর তোমরা যদি (রসূলের নির্দেশনা থেকে) মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে জেনে রাখো, আমার রসূলের দায়িত্ব হচ্ছে সস্পষ্টভাবে (আমার কথাগুলো) পৌঁছে দেয়া।
৯৩. যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে, (এ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে) তারা যা কিছু খেয়েছে তার জন্যে তাদের ওপর কোনোই গুনাহ নেই, (হাঁ, ভবিষ্যতে) যদি তারা সাবধান থাকে, (আল্লাহর ওপর) ঈমান আনে এবং নেক আমল করে, অতপর (আল্লাহ তায়ালার নিষেধ থেকে) তারা সতর্ক থাকে, (একইভাবে যতোক্ষণ পর্যন্তু) তারা ঈমান আনবে ও নেক আমল করবে, অতপর আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করবে ও সততার নীতি অবলম্বন করতে থাকবে (আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাদের ক্ষমা করে দেবেন, কেননা); আল্লাহ তায়ালা সৎকর্মশীল মানুষদের ভালোবাসেন।
৯৪. হে ঈমানদার লোকেরা, (এহরাম বাঁধা অবস্থায়) আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই এমন কিছু শিকারের বস্তু দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা নেবেন, যেগুলো তোমরা সহজেই নিজেদের হাত ও বর্শা দ্বারা ধরতে পারো, যেন আল্লাহ তায়ালা এ কথা ভালো করে জেনে নিতে পারেন যে, কে তাঁকে গায়বের সাথে ভয় করে, সুতরাং এর পরও যদি কেউ সীমালংঘন করে, তার জন্যে যন্ত্রণাদায়ক আযাব রয়েছে।
৯৫. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, এহরাম (বাঁধা) অবস্থায় কখনো শিকার হত্যা করো না, যদি তোমাদের কেউ (এ অবস্থায়) জেনে-বুঝে কেউ তাকে হত্যা করে (তার জন্যে এর বিনিময় হচ্ছে), সে যে জন্তুু হত্যা করেছে তার সমান পর্যায়ের একটি গৃহপালিত জন্তুু কোরবানী হিসেবে কাবায় পৌঁছে দেবে, (যার) ফয়সালা করবে তোমাদের দু’জন ন্যায়বান বিচারক ব্যক্তি, কিংবা (তার জন্যে) কাফফারা হবে (কয়েকজন) গরীব -মেসকীনকে খাওয়ানো অথবা সমপরিমাণ রোযা রাখা, যাতে করে সে আপন কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়, (এ নিষেধাজ্ঞা জারির আগে) যা কিছু গত হয়ে গেছে আল্লাহ তায়ালা তা মাফ করে দিয়েছেন; কিন্তুু (এর পর) যদি কেউ (এর) পুনরাবৃত্তি করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা (অবশ্যই) তার কাছ থেকে প্রতিশোধ নেবেন; আর আল্লাহ তায়ালা পরাক্রমশালী ও প্রতিশোধ গ্রহণে প্রবল শক্তিমান।
৯৬. তোমাদের জন্যে সমুদ্রের শিকার হালাল করা হয়েছে এবং তার খাবার হচ্ছে তোমাদের জন্যে ও (সমুদ্রের) পর্যটকদের জন্যে (উৎকৃষ্ট) সম্পদ, (মনে রাখবে), যতোক্ষণ পর্যন্তু তোমরা এহরাম (বাঁধা) অবস্থায় থাকবে, ততোক্ষণ পর্যন্তু (শুধু) স্থলভাগের শিকারই তোমাদের জন্যে হারাম থাকবে; তোমরা ভয় করো আল্লাহ তায়ালাকে, যাঁর সমীপে তোমাদের সবাইকে জড়ো করা হবে।
৯৭. আল্লাহ তায়ালা (খানায়ে) কাবাকে সম্মানিত করেছেন মানব জাতির জন্যে (তার) ভিত্তি হিসেবে (তিনি একে প্রতিষ্ঠা করেছেন), একইভাবে তিনি সম্মানিত করেছেন (হজ্জের) পবিত্র মাসগুলোকে, কোরবানীর জন্তুুগুলোকে এবং (এ উদ্দেশে বিশেষ) পট্টি বাঁধা জন্তুুগুলোকে, এসব (বিধান) এ জন্যেই (দেয়া হয়েছে) যাতে করে তোমরা (এ কথা) জেনে নিতে পারো যে, আকাশমালা ও পৃথিবীর যেখানে যা কিছু আছে আল্লাহ তায়ালা তা সবই জানেন, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।
৯৮. তোমরা জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা শাস্তিদানের ব্যাপারে (যেমনি) কঠোর, (তেমনি পুরস্কারের বেলায়) আল্লাহ তায়ালা অত্যন্তু ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
৯৯. রসূলের দায়িত্ব (হেদায়াতের বাণী) পৌঁছে দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়, আর তোমরা যা কিছু প্রকাশ করো, যা কিছু গোপন রাখো, আল্লাহ তায়ালা তা সবই জানেন। ১০০. (হে রসূল,) তুমি বলো, পাক এবং নাপাক জিনিস কখনো সমান হতে পারে না, নাপাক জিনিসের প্রাচুর্য যতোই তোমাকে চমৎকৃত করুক না কেন! অতএব হে জ্ঞানবান মানুষরা, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, (আশা করা যায়) তোমরা সফলকাম হতে পারবে।
১০১. হে ঈমানদার লোকেরা, (আল্লাহর নবীর কাছে) এমন সব বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করো না, যার জবাব প্রকাশ করা হলে (তাতে) তোমাদের কষ্ট হবে, অবশ্য কোরআন নাযিল হবার মুহূর্তে যদি তোমরা সে প্রশ্ন করো, তাহলে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে; (এ বিধান জারির) আগে যা কিছু হয়ে গেছে তা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের মাফ করে দিয়েছেন: কেননা আল্লাহ তায়ালা পরম ক্ষমাশীল ও ধৈর্যশীল।
১০২. তোমাদের আগেও কিছু সম্প্রদায় (তাদের নবীকে এ ধরনের) প্রশ্ন করতো, কিন্তুু এর পরক্ষণেই তারা তা অমান্য করতে শুরু করলো।
১০৩. দেবতার উদ্দেশে প্রেরিত (কান ছেঁড়া) ‘বহীরা’, (দেবতার নামে উৎসর্গীকৃত) ‘সায়েবা’, (দেবতার উদ্দেশে ছেড়ে দেয়া নর ও মাদী বাচ্চা প্রসবকারী) ‘ওয়াসীলা’ ও (দেবতার উদ্দেশে ছেড়ে দেয়া দশ বাচ্চা প্রসবকারিণী উষ্ট্রী) ‘হাম’Ñ এর কোনোটাই কিন্তুু আল্লাহ তায়ালা নির্দিষ্ট করে দেননি, বরং কাফেররাই (এসব কুসংস্কার দিয়ে) আল্লাহর ওপর মিথ্যা আরোপ করে, আর এদের অধিকাংশ লোক তো (সত্য-মিথ্যার তফাৎটুকুও) উপলব্ধি করে না।
১০৪. যখন এদের বলা হয়, আল্লাহ তায়ালা যা কিছু নাযিল করেছেন তোমরা সেদিকে এসো, (এসো তাঁর) রসূলের দিকে, (তখন) তারা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদের যে বিধানের ওপর পেয়েছি তা-ই আমাদের জন্যে যথেষ্ট; যদিও তাদের বাপ-দাদারা (সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে) কিছুই জানতো না এবং তারা হেদায়াতের পথেও চলতোনা।
১০৫. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমাদের নিজেদের দায়িত্ব তোমাদের নিজেদের ওপর, অন্য (কোনো) ব্যক্তি যদি গোমরাহ হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে সে পথভ্রষ্ট ব্যক্তি তোমাদের কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না, যতোক্ষণ পর্যন্তু তোমরা নিজেরা সঠিক পথের ওপর চলতে থাকবে; তোমাদের ফেরার জায়গা (কিন্তুু) আল্লাহর দিকেই, অতপর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (সেদিন) বলে দেবেন তোমরা কে কী করছিলে!
১০৬. হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমাদের কারো যখন মৃত্যু (সময়) এসে উপনীত হয়, ওসিয়ত করার এ মুহূর্তে তোমরা তোমাদের মধ্য থেকে দু’জন ন্যায়পরায়ণ মানুষকে সাক্ষী বানিয়ে রাখবে, আর যদি তোমরা প্রবাসে থাকো এবং এ সময় যদি তোমাদের ওপর মৃত্যুর বিপদ এসে পড়ে, তখন বাইরের লোকদের মধ্য থেকে দু’জন ব্যক্তিকে সাক্ষী বানিয়ে নেবে; (পরে যদি এ ব্যাপারে) তোমাদের কোনো সন্দেহ দেখা দেয় তাহলে (সাক্ষী) দু’জনকে নামাযের পর আটকে রাখবে, অতপর তারা আল্লাহর নামে কসম করে বলবে, আমরা কোনো স্বার্থের খাতিরে এ সাক্ষ্য বিক্রি করবো না, (এর কোনো পক্ষ আমাদের) ঘনিষ্ঠ অত্মী
য় হলেও (নয়), আমরা আল্লাহর (জন্যে এ) সাক্ষ্য গোপন করবো না, (কেননা) আমরা যদি তেমন কিছু করি তাহলে আমরা গুনাহগারদের দলে শামিল হয়ে যাবো। ১০৭. পরে যদি একথা প্রকাশ পায়, এ (বাইরের) দু’জন সাক্ষী অপরাধে লিপ্ত ছিলো, তাহলে আগে (যাদের) স্বার্থহানি ঘটেছিলো তাদের মধ্য থেকে দু’জন সাক্ষী তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে, তারা (এসে) আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে, আমাদের সাক্ষ্য অবশ্যই তাদের সাক্ষ্য অপেক্ষা বেশী সত্যভিত্তিক (হবে), আমরা (সাক্ষ্যের ব্যাপারে) সীমালংঘন করিনি (আমরা যদি তেমনটি করি), তাহলে আমরা যালেমদের দলভুক্ত হয়ে পড়বো।
১০৮. এ (পদ্ধতি)-তে বেশী আশা করা যায় যে, তারা ঠিক ঠিক সাক্ষ্য নিয়ে আসবে অথবা তারা অন্তুতপক্ষে এ ভয় করবে যে, (তাদের) কসম আবার অন্য কারো কসম দ্বারা বাতিল করে দেয়া হবে; তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং (রসূলের কথা) শোনো; আল্লাহ তায়ালা কখনো পাপী লোকদের সৎপথে পরিচালিত করেন না।
১০৯. যেদিন আল্লাহ তায়ালা সকল রসূলকে একত্রিত করে জিজ্ঞেস করবেন, তোমাদের (দাওয়াতের প্রতি মানুষদের পক্ষ থেকে) কিভাবে সাড়া দেয়া হয়েছিলো; তারা বলবে, আমরা তো (তার) কিছুই জানি না; যাবতীয় গায়বের বিষয়ে তুমিই পরিজ্ঞাত।
১১০. (স্মরণ করো,) যখন আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মাইরয়াম-পুত্র ঈসা, আমার সেই নেয়ামতের কথা স্মরণ করো যা আমি তোমাকে ও তোমার মাকে দান করেছিলাম, যখন আমি পবিত্র আত্মা দিয়ে তোমাকে সাহায্য করেছিলাম। তুমি মানুষের সাথে (যেমনি) দোলনায় থাকতে কথা বলতে, (তেমনি বলতে) পরিণত বয়সেও, আমি যখন তোমাকে কেতাব, জ্ঞান-বিজ্ঞান, তাওরাত ও ইনজীল দান করেছিলাম, যখন তুমি আমারই হুকুমে কাঁচা মাটি দিয়ে পাখি সদৃশ আকৃতি বানাতে, অতপর তাতে ফুঁ দিতে, আর আমার আদেশক্রমেই তা পাখী হয়ে যেতো, আমারই হুকুমে তুমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দিতে, আমারই আদেশে তুমি মৃতদের (কবর থেকে) বের করে আনতে, পরে যখন তুমি তাদের কাছে (নবুওতের) এসব নিদর্শন নিয়ে পৌঁছলে, তখন তাদের মধ্যে যারা (তোমাকে) অস্বীকার করেছিলো তারা বললো, এ নিদর্শনগুলো যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়, তখন আমিই তোমার (কোনো অনিষ্ট সাধন) থেকে বনী ইসরাঈলদের নিবৃত্ত করে রেখেছিলাম।
১১১. (আরো স্মরণ করো,) যখন আমি হাওয়ারীদের (অন্তুরে) এ প্রেরণা দিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার প্রতি ও আমার রসূলের প্রতি ঈমান আনো, তারা বললো (হে মালিক), আমরা (তোমার ওপর) ঈমান আনলাম, তুমি (এ কথার) সাক্ষ্য থেকো যে, আমরা তোমার অনুগত ছিলাম।
১১২. (অতপর) যখন এই হাওয়ারীদের দল বললো, হে মারইয়াম-পুত্র ঈসা! তোমার মালিক কি আসমান থেকে খাবার সজ্জিত একটি টেবিল আমাদের জন্যে পাঠাতে পারেন? ঈসা জবাব দিলো, (সত্যিই) যদি তোমরা মোমেন হয়ে থাকো তাহলে (কোনো অহেতুক দাবী পেশ করার ব্যাপারে) তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো।
১১৩. তারা বললো, আমরা (শুধু এটুকুই) চাই যে, আল্লাহর পাঠানো সেই (টেবিল) থেকে (কিছু) খাবার খেতে, এতে আমাদের মন পরিতৃপ্ত হয়ে যাবে, (তাছাড়া এতে করে) আমরা এও জানতে পারবো তুমি আমাদের কাছে সঠিক কথা বলেছো, আমরা নিজেরাও এর ওপর সাক্ষী হবো।
১১৪. মারইয়াম-পুত্র ঈসা (আল্লাহর দরবারে) বললো, হে আল্লাহ, হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের জন্যে আসমান থেকে খাবার সজ্জিত একটি টেবিল পাঠাও, এ হবে আমাদের জন্যে, আমাদের পূর্ববর্তী ও আমাদের পরবর্তীদের জন্যে তোমার কাছ থেকে (পাঠানো) একটি আনন্দোৎসব; (সর্বোপরি এটা) হবে তোমার (কুদরতের একটি) নিদর্শন, তুমি আমাদের রেযেক দাও, কেননা তুমিই হচ্ছো উত্তম রেযেকদাতা। ১১৫. আল্লাহ তায়ালা বললেন, হাঁ, আমি তোমাদের ওপর (অচিরেই) তা পাঠাচ্ছি, তবে এরপরও যদি তোমাদের কেউ (আমার ক্ষমতা) অস্বীকার করে তাহলে তাকে আমি এমন কঠিন শাস্তি দেবো, যা আমি সৃষ্টিকুলের কাউকেই আর দেবো না। ১১৬. যখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন, হে মারইয়াম পুত্র ঈসা! তুমি কি কখনো (তোমার) লোকদের (একথা) বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাকে ও আমার মাকে ‘ইলাহ’ বানিয়ে নাও! (এ কথার উত্তরে) সে বলবে (হে আল্লাহ), সমগ্র পবিত্রতা তোমার জন্যে, এমন কোনো কথা আমার পক্ষে শোভা পেতো না, যে কথা বলার আমার কোনো অধিকারই ছিলো না, যদি আমি তাদের এমন কোনো কথা বলতামই, তাহলে তুমি তো অবশ্যই তা জানতে; নিশ্চয়ই তুমি তো জানো আমার মনে যা কিছু আছে, কিন্তুু আমি তো জানি না তোমার মনে কি আছে; যাবতীয় গায়ব অবশ্যই তুমি ভালো করে অবগত আছো। ১১৭. তুমি আমাকে যা কিছু বলতে হুকুম করেছো আমি তো তাদের তাছাড়া (অন্য) কিছুই বলিনি, (আর সে কথা ছিলো), তোমরা শুধু আল্লাহ তায়ালার এবাদাত করো, যিনি আমার মালিক, তোমাদেরও মালিক, আমি যতোদিন তাদের মধ্যে ছিলাম ততোদিন তো আমি (নিজেই তাদের কার্যকলাপের) সাক্ষী ছিলাম, কিন্তুু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই ছিলে তাদের ওপর একক নেগাহবান, যাবতীয় ক্রিয়াকর্মের তুমিই ছিলে একক খবরদার। ১১৮. (আজ) তাদের অপরাধের জন্যে তুমি যদি তাদের শাস্তি দাও (দিতে পারো), কারণ তারা তো তোমারই বান্দা, আর তুমি যদি তাদের ক্ষমা করে দাও (তাও তোমার মর্জি), অবশ্যই তুমি হচ্ছো বিপুল ক্ষমতাশালী, প্রজ্ঞাময়। ১১৯. আল্লাহ তায়ালা বলবেন (হাঁ), এ হচ্ছে সেদিন, যেদিন সত্যাশ্রয়ী ব্যক্তিরা তাদের সততার জন্যে (প্রচুর) কল্যাণ লাভ করবে; (আর সে কল্যাণ হচ্ছে,) তাদের জন্যে এমন সুরম্য জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে অমীয় ঝর্ণাধারা প্রবাহিত থাকবে, সেখানে তারা চিরদিন থাকবে; আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর সন্তুুষ্ট থাকবেন এবং তারাও আল্লাহর ওপর সন্তুুষ্ট থাকবে; (বস্তুত) এ হচ্ছে এক মহাসাফল্য। ১২০. আকাশমালা ও যমীন এবং এর মধ্যবর্তী সমগ্র সৃষ্টিলোকের ভেতর যা কিছু আছে তার সমূদয় বাদশাহী তো আল্লাহর জন্যেই এবং তিনিই সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।

সূরা আল আনয়াম
মক্কায় অবতীর্ণ আয়াত ১৬৫, রুকু ২০
রহমান রহীম আল্লাহ তায়ালার নামে
১. সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্যে, যিনি আকাশমালা ও ভূমন্ডল পয়দা করেছেন। তিনি অন্ধকারসমূহ ও আলো সৃষ্টি করেছেন; অতপর যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করে, তারা (প্রকারান্তুরে এর দ্বারা অন্য কিছুকেই) তাদের মালিকের সমকক্ষ হিসেবে দাঁড় করায়। ২. তিনি তোমাদের মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি (প্রত্যেকের জন্যে বাঁচার একটি) মেয়াদ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন, (তেমনি তাদের মৃত্যুর জন্যেও) তাঁর কাছে একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে, তারপরও তোমরা সন্দেহে লিপ্ত আছো! ৩. আসমানসমূহের এবং যমীনের (সর্বত্র) তিনিই তো হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ; তিনি (যেমনি) তোমাদের গোপন ও প্রকাশ্য বিষয়সমূহ জানেন, (তেমনি) তিনি জানেন তোমরা কে (পাপ-পুণ্যের) কতোটুকু উপার্জন করছো তাও। ৪. তাদের মালিকের নিদর্শনসমূহের মধ্যে এমন একটি নিদর্শনও নেই, যা তাদের কাছে আসার পর তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। ৫. তাদের কাছে যতোবারই (আমার পক্ষ থেকে) সত্য (দ্বীন) এসেছে; ততোবারই তারা তা অস্বীকার করেছে; অচিরেই তাদের কাছে সে খবরগুলো এসে হাযির হবে যা নিয়ে তারা হাসি-তামাশা করছিলো। ৬. তারা কি দেখেনি, তাদের আগে আমি এমন বহু জাতিকে বিনাশ করে দিয়েছি যাদের আমি পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা দান করেছিলাম, যা তোমাদেরও করিনি। আকাশ থেকে তাদের ওপর আমি প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছি, আবার তাদের (মাটির) নীচ থেকে আমি ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করে দিয়েছি, অতপর পাপের কারণে আমি তাদের (চিরতরে) ধ্বংস করে দিয়েছি, আর তাদের পর (তাদের জায়গায় আবার) আমি এক নতুন জাতির উত্থান ঘটিয়েছি। ৭. (হে নবী,) আমি যদি তোমার কাছে কাগজে লেখা কোনো কেতাব নাযিল করতাম এবং তারা যদি তাদের হাত দিয়ে তা ষ্পর্শও করতো, তাহলেও কাফেররা বলতো, এটা তো সস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়! ৮. তারা বলে, এ (নবী)-র প্রতি কোনো ফেরেশতা নাযিল করা হলো না কেন (যে তার সত্যতা সম্পর্কে আমাদের বলে দিতো)? যদি সত্যিই আমি কোনো ফেরেশতা পাঠিয়ে দিতাম তাহলে (তাদের) ফয়সালা (তো তখনি) হয়ে যেতো, এরপর তো আর কোনো অবকাশই তাদের দেয়া হতো না। ৯. (তা ছাড়া) আমি যদি (সত্যিই) ফেরেশতা পাঠাতাম, তাকেও তো মানুষের আকৃতিতেই পাঠাতাম, তখনও তো তারা এমনিভাবে আজকের মতো সন্দেহেই নিমজ্জিত থাকতো। ১০. (হে রসূল,) তোমার আগেও বহু নবী-রসূলকে এভাবে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা হয়েছিলো, (অনন্তুর) তাদের মধ্যে যারা নবীর সাথে যে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করেছে তাই (তাদের আযাবের আকারে) পরিবেষ্টন করে ফেলেছে! ১১. (হে নবী,) তুমি তাদের বলো, তোমরা এ পৃথিবীতে ঘুরে-ফিরে দেখো, দেখো যারা (নবী-রসূলদের) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদের কী (ভয়াবহ) পরিণাম হয়েছে। ১২. (হে নবী!) তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, আসমানসমূহ ও যমীনে যা আছে তা সব কার? তুমি বলো, (এর সবকিছুই) আল্লাহ তায়ালার জন্যে; (মানুষদের ওপর) দয়া করাটা তিনি তাঁর নিজের ওপর (কর্তব্য বলে) স্থির করে নিয়েছেন। কেয়ামতের দিন তিনি তোমাদের অবশ্যই জড়ো করবেন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই; (সত্য অস্বীকার করে) যারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে, তারা (এমন একটি দিনের আগমনকে কখনো) বিশ্বাস করে না। ১৩. রাত ও দিনের মাঝে যা কিছু স্থিতি লাভ করছে তার সব কিছুই তাঁর জন্যে; তিনি (এদের সবার কথা) শোনেন এবং (সবার অবস্থা) দেখেন। ১৪. (হে নবী,) তুমি বলো, আমি কিভাবে আসমানসমূহ ও যমীনের মালিক আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নিজের পৃষ্ঠপোষক বানিয়ে নেবো, অথচ তিনিই (সৃষ্টিলোকের সবাইকে) আহার যোগান, তাঁকে কোনো রকমের আহার যোগানো যায় না; (তুমি) বলো, আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন সবার আগে আমি মুসলমান হয়ে যাই এবং (আমাকে এই মর্মে আরো) আদেশ দেয়া হয়েছে, ‘তুমি কখনো মোশরেকদের দলে শামিল হয়ো না।’ ১৫. (তুমি আরো) বলো, আমি যদি আমার মালিকের কথা না শুনি, তাহলে আমি এক মহাদিবসের আযাব (আমার ওপর আপতিত হওয়ার) ভয় করি। ১৬. সে (কেয়ামতের) দিন যাকে তা (শাস্তি) থেকে রেহাই দেয়া হবে, তার ওপর (নিসন্দেহে) আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহ করবেন, আর এটিই (হবে সেদিনের) সস্পষ্ট সাফল্য। ১৭. (জেনে রেখো,) যদি আল্লাহ তায়ালা তোমাকে কোনো দুঃখ পৌঁছাতে চান তাহলে তিনি ছাড়া আর কেউই (তোমার থেকে) তা দর করতে পারবে না; অপরদিকে তিনি যদি তোমার কোনো উপকার করেন তাহলে (কেউ তাতে বাধাও দিতে পারে না,) তিনি সব কিছুর ওপর একক ক্ষমতাবান! ১৮. তিনি তাঁর বান্দাদের ওপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী; তিনি মহাজ্ঞানী, তিনি সম্যক ওয়াকেফহাল। ১৯. তুমি (তাদের) বলো, সাক্ষী হিসেবে কার সাক্ষ্য সবচেয়ে বেশী বড়ো? তুমি বলো, (হাঁ) একমাত্র আল্লাহ তায়ালার, যিনি তোমাদের এবং আমার মাঝে (সর্বোত্তম) সাক্ষী হয়ে থাকবেন। এ কোরআন (তাঁর কাছ থেকেই) আমার কাছে নাযিল করা হয়েছে, যেন তা দিয়ে তোমাদের এবং (তোমাদের পর) যাদের কাছে এ গ্রন্থ পৌঁছবে (তাদের সকলকে) আমি (আযাবের) ভয় দেখাই; তোমরা কি (সত্যিই) একথার সাক্ষ্য দিতে পারবে যে, আল্লাহর সাথে আরো কোনো ইলাহ রয়েছে ? (হে নবী,) তুমি (তাদের) জানিয়ে দাও, আমি (জেনে-বুঝে) কখনো এ ধরনের (মিথ্যা) সাক্ষ্য দিতে পারবো না, তুমি বলো, তিনি তো একক, তোমরা (আল্লাহ তায়ালার সাথে) যে শেরেক করে যাচ্ছো, তার থেকে আমি সম্পূ মুক্ত। ২০. (তোমার আগে) যাদের আমি কেতাব দান করেছি তারা নবীকে ঠিক সেভাবেই চেনে, যেভাবে চেনে তারা তাদের আপন ছেলেদের, কিন্তুু যারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে তারা তো (কখনো) ঈমান আনবে না। ২১. তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে, যে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে কোনো মিথ্যা কথা রচনা করে কিংবা তাঁর কোনো আয়াতকে অস্বীকার করে, এ (ধরনের) যালেমরা কখনো সাফল্য লাভ করতে পারবে না। ২২. একদিন আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করবো, অতপর মোশরেকদের আমি বলবো, তারা সবাই আজ কোথায় যাদের তোমরা (দুনিয়ার জীবনে) আমার সাথে শরীক মনে করতে! ২৩. অতপর তাদের (সেদিন) একথা (বলা) ছাড়া কোনো যুক্তিই থাকবে না যে, আল্লাহ তায়ালার কসম, যিনি আমাদের মালিক, আমরা কখনো মোশরেক ছিলাম না। ২৪. (হে নবী,) তুমি চেয়ে দেখো, কিভাবে (আজ) লোকগুলো (আযাব থেকে বাঁচার জন্যে) নিজেরাই নিজেদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে এবং (এও দেখো,) তাদের নিজেদের রচনা করা মিথ্যা (কিভাবে আজ) নিষ্ফল হয়ে যাচ্ছে! ২৫. তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকও আছে যে (বায্যিক দৃষ্টিতে মনে হয়) তোমার কথা সে কান দিয়ে শুনছে, (কিন্তুু আসলে) আমি তাদের মনের ওপর পর্দা ঢেলে দিয়েছি, যার কারণে তারা কিছুই উপলব্ধি করতে পারে না, আমি তাদের কানেও ছিপি এঁটে দিয়েছি; (মূলত) তারা যদি (আল্লাহর) সব নিদর্শন দেখেও নেয়, তবু তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনবে না; এমনকি তারা যখন তোমার সামনে আসবে তখন তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হবে, (কোরআনের আয়াত সম্পর্কে) কাফেররা বলবে, এতো পুরনো দিনের গল্পকথা ছাড়া আর কিছুই নয়। ২৬. তারা (যেমন) নিজেদের তা (শোনা) থেকে বিরত রাখে, (তেমনি) অন্যদেরও তা থেকে দরে রাখে, (মূলত এ আচরণে) তারা নিজেদেরই ধ্বংস সাধন করছে, অথচ তারা কোনো খবরই রাখে না। ২৭. তুমি যদি (সত্যিই তাদের) দেখতে পেতে যখন এই (হতভাগ্য) ব্যক্তিদের (জ্বলন্তু) আগুনের পাশে এনে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা (চীৎকার করে) বলবে, হায়! যদি আমাদের আবার (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠানো হতো, তাহলে আমরা (আর কখনো) আমাদের মালিকের আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতাম না এবং আমরা (অবশ্যই) ঈমানদার লোকদের দলে শামিল হয়ে যেতাম। ২৮. এর আগে যা কিছু তারা গোপন করে আসছিলো (আজ) তা তাদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেলো; (আসলে) যদি তাদের আবার দুনিয়ায় ফেরত পাঠানোও হয়, তবু তারা তাই করে বেড়াবে যা থেকে তাদের নিষেধ করা হয়েছিলো, তারা (আসলেই) মিথ্যাবাদী। ২৯. (এ) লোকগুলো আরও বলে, আমাদের এ পার্থিব জীবনই হচ্ছে একমাত্র জীবন, আমরা কখনোই পুনর্জীবিত হবো না। ৩০. হায়! তুমি যদি সত্যিই (সে দৃশ্য) দেখতে পেতে যখন তাদেরকে তাদের মালিকের সামনে দাঁড় করানো হবে এবং তিনি তাদের জিজ্ঞেস করবেন (আজ বলো), এ দিনটি কি সত্য নয়? তারা বলবে, হাঁ, আমাদের মালিকের শপথ (এটা সত্য); তিনি বলবেন, তাহলে (আজ) সে (কঠিন) আযাব ভোগ করো, যাকে তোমরা সব সময় অবিশ্বাস করতে। ৩১. অবশ্যই তারা (ভীষণভাবে) ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে, যারা আল্লাহর সামনা সামনি হওয়াকে মিথ্যা বলেছে; আর একদিন যখন (সত্যি সত্যিই) কেয়ামতের ঘন্টা হঠাৎ করে তাদের সামনে এসে হাযির হবে, তখন তারা বলবে, হায় আফসোস, (দুনিয়ায়) এ দিনটিকে আমরা কতোই না অবহেলা করেছি, সেদিন তারা নিজেদের পাপের বোঝা নিজেদের পিঠেই বয়ে বেড়াবে; কতো (ভারী ও) নিকৃষ্ট বোঝা হবে সেটি! ৩২. আর (এ) বৈষয়িক জীবন, এ তো নিছক কিছু খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়; (মূলত) পরকালের বাড়িঘরই তাদের জন্যে উৎকৃষ্ট যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে; তোমরা কি (মোটেই) অনুধাবন করো না? ৩৩. (হে রসূল,) আমি জানি, এ লোকগুলো যেসব কথাবার্তা বলে, তা তোমাকে (বড়োই) পীড়া দেয়, কিন্তুু তুমি কি জানো, এরা (এসব বলে শুধু) তোমাকেই মিথ্যা সাব্যস্ত করছে না; বরং এ যালেমরা (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তায়ালার আয়াতকেই অস্বীকার করছে। ৩৪. তোমার আগেও (এভাবে) বহু (নবী)-রসূলকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা হয়েছিলো, কিন্তুু তাদের মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করা ও (নানা রকম) নির্যাতন চালাবার পরও তারা (কঠোর) ধৈর্য ধারণ করেছে, শেষ পর্যন্তু তাদের কাছে আমার (পক্ষ থেকে) সাহায্য এসে হাযির হয়েছে। আসলে আল্লাহর কথার রদবদলকারী কেউ নেই, তদুপরি নবীদের (এ সব) সংবাদ তো তোমার কাছে (আগেই) এসে পোঁছেছে। ৩৫. (তারপরও) যদি তাদের এ উপেক্ষা তোমার কাছে কষ্টকর মনে হয়, তাহলে তোমার সাধ্য থাকলে তুমি (পালানোর জন্যে) ভূগর্ভে কোনো সুড়ংগ কিংবা আসমানে সিঁড়ি তালাশ করো, (পারলে ‘সেখানে চলে যাও) এবং (সেখান থেকে) তাদের জন্যে কোনো কিছু একটা নিদর্শন নিয়ে এসো; (আসলে) আল্লাহ তায়ালা যদি চাইতেন, তিনি তাদের সবাইকে হেদায়াতের ওপর জড়ো করে দিতে পারতেন, তুমি কখনো মূর্খ লোকদের দলে শামিল হয়ো না। ৩৬. যারা (এ কথাগুলো যথাযথভাবে) শোনে, তারা অবশ্যই (আল্লাহর) ডাকে সাড়া দেয় এবং যারা মরে গেছে আল্লাহ তায়ালা এদের সবাইকেও কবর থেকে উঠিয়ে (জড়ো করে) নেবেন, অতপর (মহা বিচারের জন্যে) তারা সবাই তাঁর সামনে প্রত্যাবর্তিত হবে। ৩৭. এরা বলে, (নবীর) ওপর তার মালিকের পক্ষ থেকে (আমাদের কথামতো) কোনো নিদর্শন নাযিল করা হয়নি কেন? (হে রসূল,) তুমি তাদের বলো, অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা (সব ধরনের) নিদর্শন পাঠানোর ক্ষমতা রাখেন, কিন্তুু এদের অধিকাংশ লোকই তো কিছু জানে না। ৩৮. যমীনের বুকে বিচরণশীল যে কোনো জন্তুু কিংবা বাতাসের বুকে নিজ ডানা দুটি দিয়ে উড়ে চলা যে কোনো পাখীই (তোমরা দেখো না কেন)Ñ এগুলো সবই তোমাদের মতো (আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি); আমি (আমার) গ্রন্থে বর্ণনা বিশ্লেষণে কোনো কিছুই বাকী রাখিনি, অতপর এদের সবাইকে (একদিন) তাদের মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে। ৩৯. যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তারা (হেদায়াতের ব্যাপারে) বধির ও মূক, তারা অন্ধকারে পড়ে আছে; আল্লাহ তায়ালা যাকে চান তাকে গোমরাহ করে দেন; আবার যাকে চান তাকে সঠিক পথের ওপর স্থাপন করেন। ৪০. তুমি বলো, তোমরা কি ভেবে দেখেছো, যখন তোমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে (বড়ো ধরনের) কোনো আযাব আসবে, কিংবা হঠাৎ করে কেয়ামত এসে হাযির হবে, তখন তোমরা কি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কাউকে ডাকবে? (বলো) যদি তোমরা সত্যবাদী হও! ৪১. বরং তোমরা (তো সেদিন) শুধু তাঁকেই ডাকবে, তোমরা যে জন্যে তাঁকে ডাকবে তিনি চাইলে তা দর করে দেবেন (এবং) যাদের তোমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে অংশীদার বানাতে, তাদের সবাইকেই (তখন) তোমরা ভুলে যাবে। ৪২. তোমার আগের জাতিসমূহের কাছেও আমি আমার রসূল পাঠিয়েছিলাম, তাদেরও আমি দুঃখ-কষ্ট ও বিপর্যয়ে (-র জালে) আটকে রেখেছিলাম, যাতে করে তারা বিনয়ের সাথে নতিস্বীকার করে। ৪৩. কিন্তুু সত্যিই যখন তাদের ওপর আমার বিপর্যয় এসে আপতিত হলো, তখনও তারা কেন বিনীত হলো না, অধিকন্তুু তাদের অন্তুর এতে আরো শক্ত হয়ে গেলো এবং তারা যা করে যাচ্ছিলো, শয়তান তাদের কাছে তা শোভনীয় করে তুলে ধরলো। ৪৪. অতপর তারা সে সব কিছুই ভুলে গেলো, যা তাদের (বার বার) স্মরণ করানো হয়েছিলো; তারপরও আমি তাদের ওপর (সচ্ছলতার) সব কয়টি দুয়ারই খুলে দিলাম; শেষ পর্যন্তু যখন তারা তাতেই মত্ত হয়ে গেলো যা তাদের দেয়া হয়েছিলো, তখন আমি তাদের হঠাৎ পাকড়াও করে নিলাম, ফলে তারা নিরাশ হয়ে পড়লো। ৪৫. (এভাবেই) যারাই (আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে) যুলুম করেছে, তাদেরই মূলোচ্ছেদ করে দেয়া হয়েছে; আর সকল প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্যেই, যিনি সৃষ্টিকুলের মালিক। ৪৬. (হে রসূল, তাদের) তুমি বলো, তোমরা কি একথা ভেবে দেখেছো, যদি আল্লাহ তায়ালা কখনো তোমাদের শোনার ও দেখার ক্ষমতা কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তুরসমূহের ওপর মোহর মেরে দেন, তবে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া তোমাদের দ্বিতীয় কোনো ইলাহ আছে কি, যে তোমাদের এসব কিছু ফিরিয়ে দিতে পারবে; লক্ষ্য করো, কিভাবে আমার আয়াতসমূহ আমি খুলে খুলে বর্ণনা করছি, এ সত্ত্বেও অতপর তারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ৪৭. তুমি বলো, তোমরা চিন্তুা করে দেখেছো কি, যদি কখনো অকস্মাৎ (গোপনে) কিংবা প্রকাশ্যভাবে আল্লাহর আযাব তোমাদের ওপর আপতিত হয়, (তাতে) কতিপয় যালেম সম্প্রদায়ের লোক ব্যতীত অন্য কাউকে ধ্বংস করা হবে কি? ৪৮. আমি তো রসূলদের (জান্নাতের) সুসংবাদবাহী ও (জাহান্নামের) সতর্ককারী ছাড়া অন্য কোনো হিসেবে পাঠাই না, অতপর যে ব্যক্তি (রসূলদের ওপর) ঈমান আনবে এবং (তাদের কথা মতো) নিজেকে সংশোধন করে নেবে, এমন লোকদের (পরকালে) কোনো ভয় নেই এবং তাদের (সেদিন) কোনোরকম চিন্তিুতও হতে হবে না। ৪৯. (অপরদিকে) যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তাদের এই নাফরমানীর কারণে আমার আযাব তাদের ঘিরে ধরবে। ৫০. (হে মোহাম্মদ,) তুমি বলো, আমি তো তোমাদের (একথা) বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহ তায়ালার বিপুল ধনভান্ডার রয়েছে, না (একথা বলি যে,) আমি গায়বের কোনো খবর রাখি! আর একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা, (আসলে) আমি তো সেই ওহীরই অনুসরণ করি যা আমার ওপর নাযিল করা হয়, তুমি বলো, অন্ধ আর চক্ষুষ্মান ব্যক্তি কি (কখনো) এক হতে পারে? তোমরা কি মোটেই চিন্তুাভাবনা করো না? ৫১. (হে মোহাম্মদ,) তুমি সে (কিতাবের) মাধ্যমে সেসব লোককে পরকালের (আযাবের) ব্যাপারে সতর্ক করে দাও, যারা এ ভয় করে যে, তাদেরকে (একদিন) তাদের মালিকের সামনে একত্র করা হবে, (সেদিন) তাদের জন্যে তিনি ছাড়া কোনো সাহায্যকারী বন্ধু কিংবা কোনো সুপারিশকারী থাকবে না, আশা করা যায় (এতে করে) তারা সাবধান হবে। ৫২. যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের মালিককেই ডাকে, তাঁরই সন্তুুষ্টি কামনা করে, তাদের তুমি (কখনো তোমার কাছ থেকে) সরিয়ে দিয়ো না, (কারণ) তাদের কাজকর্মের (জবাবদিহিতার) দায়িত্ব (যেমন) তোমার ওপর কিছুই নেই, (তেমনি) তোমার কাজকর্মের হিসাব-কিতাবের কোনো রকম দায়িত্বও তাদের ওপর নেই, (তারপরও) যদি তুমি তাদের তোমার কাছ থেকে দরে সরিয়ে দাও, তাহলে তুমিও বাড়াবাড়ি করা লোকদের দলে শামিল হয়ে যাবে। ৫৩. আর আমি এভাবেই তাদের একদল দ্বারা অন্য দলের পরীক্ষা নিয়েছি, যেন তারা (একদল) একথা বলতে পারে যে, এরাই কি হচ্ছে আমাদের মাঝে সে দলের লোক, যাদের ওপর আল্লাহ তায়ালা তাঁর অনুগ্রহ করেছেন; আল্লাহ তায়ালা কি (তাঁর) কৃতজ্ঞ বান্দাহদের ভালো করে জানেন না। ৫৪. যারা আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান এনেছে তারা যখন তোমার কাছে আসবে, তখন তুমি তাদের বলো, (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর) শান্তিু বর্ষিত হোকÑ তোমাদের ওপর অনুগ্রহ করাটা তোমাদের মালিক নিজের কর্তব্য বলে স্থির করে নিয়েছেন; তবে তোমাদের মধ্যে যদি কেউ কখনো অজ্ঞতাবশত কোনো অন্যায় কাজ করে বসে এবং পরক্ষণেই তাওবা করে ও (নিজের জীবন) শুধরে নেয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা (তাকে ক্ষমা করে দেবেন, তিনি) একান্তু ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। ৫৫. আর এভাবেই আমি আমার আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করি, যাতে অপরাধীদের পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। ৫৬. (হে মোহাম্মদ,) তুমি (তাদের) বলে দাও, (এক) আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে তোমরা আর যাদের গোলামী করছো, আমাকে তাদের গোলামী করতে নিষেধ করা হয়েছে; তুমি (তাদের এও) বলে দাও, আমি কখনো তোমাদের খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করি না, (তেমনটি করলে) আমি নিসন্দেহে গোমরাহ হয়ে যাবো এবং আমি আর সত্যের অনুসরণকারী দলের সাথে থাকবো না। ৫৭. তুমি বলো, আমি অবশ্যই আমার মালিকের এক উজ্জ্বল দলীল-প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি এবং তাই তোমরা অস্বীকার করছো; (এ অস্বীকার করার পরিণাম) যা তোমরা দ্রুত (দেখতে) চাও তা (ঘটানোর ক্ষমতা) আমার কাছে নেই! (সব কিছুর) চড়ান্তু ক্ষমতা তো কেবলমাত্র আল্লাহ তায়ালার হাতেই রয়েছে; (আর এ মহা) সত্যটিই তিনি (তোমাদের কাছে) বর্ণনা করছেন, তিনিই হচ্ছেন উত্তম ফয়সালাকারী। ৫৮. তুমি বলো, (আযাবের) যে বিষয়টার জন্যে তোমরা তাড়াহুড়ো করছো, তা (ঘটানো) যদি আমার ক্ষমতার মধ্যে থাকতো, তাহলে তোমাদের ও আমার মধ্যকার ফয়সালা (অনেক আগেই) হয়ে যেতো! যালেমদের (সাথে কি আচরণ করা উচিত তা) আল্লাহ তায়ালা ভালো করেই জানেন। ৫৯. গায়বের চাবিগুলো সব তাঁর হাতেই নিবদ্ধ রয়েছে, সে-ই (অদৃশ্য) খবর তো তিনি ছাড়া আর কারোই জানা নেই; জলে-স্থলে (যেখানে) যা কিছু আছে তা শুধু তিনিই জানেন; (এই সৃষ্টিরাজির মধ্যে) একটি পাতা কোথাও ঝরে না যার (খবর) তিনি ছাড়া অন্য কেউই জানে না, মাটির অন্ধকারে একটি শস্যকণাও নেইÑ নেই কোনো তাজা সবুজ, (কিংবা ক্ষয়িষ্ণু) শুকনো (কিছু), যার (পূর্ণাংগ) বিবরণ একটি সস্পষ্ট গ্রন্থে মজুদ নেই।

৬০. তিনিই মহান আল্লাহ, যিনি রাতের বেলা তোমাকে মৃত (মানুষের মতো) করে ফেলেন, আবার দিনের বেলায় তোমরা যা কিছু (যমীনের বুকে) করে বেড়াও, তাও তিনি (পুংখানুপুংখ) জানেন, পরিশেষে সেখানে তিনি তোমাদের (মৃতসম অবস্থা থেকে) আবার (জীবনের অবস্থায়) ফিরিয়ে আনেন, যাতে করে তোমাদের নির্র্দিষ্ট সময়কালটি এভাবে পূর্ণতা প্রাপ্ত হতে পারে, (আর এ মেয়াদ পূরণ করার পর) তোমাদের সবার প্রত্যাবর্তন (একদিন) তাঁর দিকেই (সংঘটিত) হবে, অতপর তিনি তোমাদের (পুংখানুপুংখ) বলে দেবেন তোমরা (দুনিয়ায়) কী কাজ করছিলে।
৬১. আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের (যাবতীয় বিষয়ের) ওপর পূর্ণ মাত্রায় কর্তৃত্বশীল, (এ জন্যেই) তিনি তোমাদের ওপর পাহারাদার (ফেরেশতা) নিযুক্ত করেন; এমনকি (দেখতে দেখতে) তোমাদের কারো যখন মৃত্যু এসে হাযির হয়, তখন প্রেরিত ফেরেশ্তারা তার (জীবনের) সমাপ্তি ঘটিয়ে দেয়, (দায়িত্ব পালনে ফেরেস্তারা) কখনো কোনো ভুল করে না।
৬২. অতপর তাদের সবাইকে বিচারের জন্যে তাদের আসল মালিকের সামনে ফিরিয়ে নেয়া হবে; হুশিয়ার (থেকো, কারণ), যাবতীয় ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কিন্তুু একা তাঁর এবং ত্বরিৎ হিসাব গ্রহণে তিনি অত্যন্তু তৎপর।
৬৩. তুমি (তাদের) বলো, যখন তোমরা স্থলভূমে ও সমুদ্রের অন্ধকারে (বিপদে) পড়ো, (যখন) তোমরা কাতর কন্ঠে এবং নীরবে তাঁকেই ডাকতে থাকো, তখন (কে) তোমাদের (সেসব থেকে) উদ্ধার করে? (কাকে তোমরা তখন) বলো (হে মালিক), আমাদের যদি তুমি এ থেকে বাঁচিয়ে দাও, তাহলে আমরা তোমার কৃতজ্ঞ বান্দাদের দলে শামিল হয়ে যাবো।
৬৪. তুমি বলে দাও, হাঁ, আল্লাহ তায়ালাই (তখন) তোমাদের সে (অবস্থা) থেকে এবং অন্যান্য যাবতীয় বিপদ-আপদ থেকে বাঁচিয়ে দেন, তারপরও তোমরা তাঁর সাথে অন্যদের শরীক করো!
৬৫. তুমি (আরো) বলো, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের ওপর তোমাদের ওপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আযাব পাঠাতে সক্ষম, অথবা তিনি তোমাদের দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূরূপে সক্ষম; লক্ষ্য করো, কিভাবে আমি আমার আয়াতসমূহ (তাদের কাছে) বর্ণনা করি, যাতে করে তারা (সত্য) অনুধাবন করতে পারে।
৬৬. তোমার জাতির লোকেরা এ (কোরআন)কে অস্বীকার করেছে, অথচ তাই একমাত্র সত্য; তুমি (তাদের এটুকুই) বলে দাও যে, আমি তোমাদের ওপর কর্মবিধায়ক নই।
৬৭. প্রতিটি বার্তার (প্রমাণের) জন্যে একটি সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ মজুদ রয়েছে এবং তোমরা অচিরেই (তা) জানতে পারবে।
৬৮. তুমি যখন এমন সব লোককে দেখতে পাও যারা আমার আয়াতসমূহ নিয়ে হাসি-বিদ্রপ করছে, তখন তুমি তাদের কাছ থেকে সরে এসো, যতোক্ষণ না তারা অন্য কথার দিকে মনোনিবেশ করে; যদি কখনো শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে (ওখানে বসিয়ে) রাখে, তাহলে মনে পড়ার পর তুমি যালেম সম্প্রদায়ের সাথে আর বসে থেকো না।
৬৯. তাদের (এসব) কার্যকলাপের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাকে যারা ভয় করে, তাদের ওপর হিসাবের কোনো দায়দায়িত্ব নেই, তবে উপদেশ তো দিয়েই যেতে হবে, হতে পারে তারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করবে।
৭০. সেসব লোকদের তুমি (আল্লাহর বিচারের জন্যে) ছেড়ে দাও, যারা তাদের দ্বীনকে নিছক খেল-তামাশায় পরিণত করে রেখেছে এবং এ পার্থিব জীবন যাদের প্রতারণার জালে আটকে রেখেছে, তুমি এ (কোরআন) দিয়ে (তাদের আমার কথা) স্মরণ করাতে থাকো, যাতে করে কেউ নিজের অর্জিত কর্মকান্ডের ফলে ধ্বংস হয়ে যেতে না পারে, (মহাবিচারের দিন) তার জন্যে আল্লাহ তায়ালা ছাড়া কোনো সাহায্যকারী বন্ধু এবং সুপারিশকারী থাকবে না। সে যদি নিজের সব কিছু দিয়েও দেয়, তবু তার কাছ থেকে (সেদিন তা) গ্রহণ করা হবে না; এরাই হচ্ছে সে (হতভাগ্য) মানুষ, যাদের নিজেদের অর্জিত গুনাহের কারণে তাদের ধ্বংস করে দেয়া হবে, আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করার কারণে তাদের জন্যে (আরো থাকবে) ফুটন্তু পানি ও মর্মন্তুুদ শাস্তি। ৭১. তুমি (তাদের) বলো, আমরা কি আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকবো, যেÑ না আমাদের কোনো উপকার করতে পারে, না আমাদের কোনো অপকার করতে পারে, আল্লাহ তায়ালা যেখানে আমাদের (চলার জন্যে) সঠিক পথ বাতলে দিয়েছেন, সেখানে তাঁকে বাদ দিয়ে আমরা কি আবার উল্টো পথে ফিরে যাবোÑ ঠিক সে ব্যক্তিটির মতো, যাকে শয়তানরা যমীনের বুকে পথভ্রষ্ট করে দ্বারে দ্বারে ঠোকর খাওয়াচ্ছে, অথচ তার সংগী-সাথীরা তাকে ডাকছে, তুমি আমাদের কাছে এসো, আমাদের কাছে (মজুদ আল্লাহ তায়ালার) সহজ সরল পথের দিকে! তুমি বলে দাও, সত্যিকার অর্থে হেদায়াত তো তাই; যা আল্লাহর (পক্ষ থেকে এসেছে) এবং আমাদের এ আদেশ দেয়া হয়েছে যেন আমরা সৃষ্টিকুলের মালিকের সামনে আনুগত্যের মাথা নত করি,
৭২. আমরা যেন নামায প্রতিষ্ঠা করি এবং আল্লাহ তায়ালাকেই ভয় করি; (কেননা) তিনিই হচ্ছেন এমন সত্তা, যাঁর সামনে (একদিন) তোমাদের সবাইকে সমবেত করা হবে।
৭৩. তিনিই যথাবিধি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন; যেদিন (আবার) তিনি বলবেন (সব কিছু বিলীন) হয়ে যাও, তখন (সাথে সাথেই) তা (বিলীন) হয়ে যাবে, তাঁর কথাই হচ্ছে চড়ান্তু সত্য, যেদিন শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে (সেদিন) যাবতীয় কর্তৃত্ব ও বাদশাহী হবে একান্তুই তাঁর; তিনি দৃশ্য-অদৃশ্য সব কিছু সম্পর্কেই সম্যক অবগত রয়েছেন; তিনি প্রজ্ঞাময়, তিনি সম্যক অবগত।
৭৪. (স্মরণ করো,) যখন ইবরাহীম তার পিতা আযরকে বললো, তুমি কি (সত্যি সত্যিই এই) মূর্তিগুলোকে মাবুদ বানিয়ে নিয়েছো? আমি তো দেখতে পাচ্ছি, তুমি ও তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা ষ্পষ্ট গোমরাহীতে নিমজ্জিত রয়েছো।
৭৫. এভাবে আমি ইবরাহীমকে আকাশসমূহ ও যমীনের যাবতীয় পরিচালন ব্যবস্থা দেখাতে চেয়েছিলাম, যেন সে নিশ্চিত বিশ্বাসীদের দলে শামিল হয়ে যেতে পারে।
৭৬. যখন তার ওপর আঁধার ছেয়ে রাত এলো, তখন সে একটি তারকা দেখতে পেলো, (তারকাটি দেখেই) সে বলে উঠলো, এ (বুঝি) আমার মালিক, অতপর যখন তারকাটি ডুবে গেলো, তখন সে (কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে) বললো, যা ডুবে যায় তাকে তো আমি (আমার মালিক বলে) পছন্দ করতে পারি না!
৭৭. (এবার) যখন সে (আকাশে) একটি ঝলমলে চাঁদ দেখলো, তখন বললো (হাঁ), এই (মনে হয়) আমার মালিক, অতপর (এক পর্যায়ে) যখন তাও ডুবে গেলো তখন সে বললো, আমার ‘রব’ যদি আমাকে সঠিক পথ না দেখান, তাহলে আমি অবশ্যই গোমরাহ লোকদের দলে শামিল হয়ে যাবো।
৭৮. (এরপর দিনের বেলায়) সে যখন দেখলো একটি আলোকোজ্জ্বল সূর্য এবং (দেখেই) বলতে লাগলো, (মনে হচ্ছে) এই আমার মালিক, (কারণ এ যাবত যা দেখেছি) এটা তার সবগুলোর চাইতে বড়ো, (সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে) তাও যখন ডুবে গেলো, তখন ইবরাহীম (নতুন বিশ্বাসে বলীয়ান হয়ে) নিজের জাতিকে ডেকে বললো, হে আমার সম্প্রদায়ের লোকেরা, তোমরা যে সব কিছুকে আল্লাহ তায়ালার সাথে অংশীদার বানাও, আমি তা থেকে সম্পূ মুক্ত।
৭৯. আমি নিষ্ঠার সাথে সেই মহান সার্বভৌম মালিকের দিকেই আমার মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছি, যিনি এই আসমানসমূহ ও যমীন (সহ চাঁদ-সুরুজ-গ্রহ-তারা সব কিছু) পয়দা করেছেন, আমি (এখন) আর মোশরেকদের দলভুক্ত নই।
৮০. (এর পরই) তার জাতির লোকেরা তার সাথে (আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে) বিতর্ক শুরু করে দিলো; (জবাবে) সে বললো, তোমরা কি আমার সাথে স্বয়ং (কুল মাখলুকাতের মালিক) আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে তর্ক করছো, অথচ তিনিই আমাকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন; আমি (এখন আর) তোমাদের (মাবুদদের) ডরাই নাÑ যাদের তোমরা আল্লাহ তায়ালার (কাজে) অংশীদার (মনে) করো। অবশ্য আমার মালিক যদি অন্য কিছু চান (সেটা আলাদা কথা); আমার মালিকের জ্ঞান সব কিছুর ওপর পরিব্যাপ্ত; (এরপরও) কি তোমরা সতর্ক হবে না?
৮১. তোমরা যাকে আল্লাহ তায়ালার সাথে অংশীদার বানাও, তাকে আমি কিভাবে ভয় করবো, অথচ তোমরা আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্যদের শরীক করতে ভয় পাও না, যাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কোনো প্রমাণপত্র তোমাদের কাছে পাঠাননি; (এ অবস্থায় তোমরাই বলো,) আমাদের এ উভয় দলের মধ্যে কোন দলটি (দুনিয়া ও আখেরাতে) নিরাপত্তালাভের বেশী অধিকারী? (বলো!) যদি তোমাদের কিছু জানা থাকে!
৮২. যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাদের ঈমানকে যুলুম (-এর কালিমা) দিয়ে কলুষিত করেনি, তারাই (হচ্ছে দুনিয়া ও আখেরাতে) নিরাপত্তালাভের বেশী অধিকারী, (মূলত) তারাই হচ্ছে হেদায়াতপ্রাপ্ত।
৮৩. এ ছিলো (শেরেক সম্পর্কিত) আমার সেই (অকাট্য) যুক্তি, যা আমি ইবরাহীমকে তার জাতির ওপর দান করেছিলাম, (এভাবেই) আমি (আমার জ্ঞান দিয়ে) যাকে ইচ্ছা তাকে সমুন্নত করি; অবশ্যই তোমার মালিক প্রবল প্রজ্ঞাময়, কুশলী।
৮৪. অতপর আমি তাকে দান করেছি ইসহাক ও ইয়াকুব (-এর মতো দুই জন সুপুত্র); এদের সবাইকেই আমি সঠিক পথের দিশা দিয়েছিলাম, (এদের) আগে আমি নহকেও হেদায়াতের পথ দেখিয়েছি, অতপর তার বংশের মাঝে দাঊদ, সোলায়মান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা এবং হারূনকেও (আমি হেদায়াত দান করেছি); আর এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার দিয়ে থাকি।
৮৫. যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা এবং ইলিয়াসকেও (আমি সঠিক পথ দেখিয়েছিলাম); এরা সবাই ছিলো নেককারদের দলভুক্ত।
৮৬. আমি (আরো সৎপথ দেখিয়েছিলাম) ইসমাঈল, ইয়াসা, ইউনুস এবং লতকেও; এদের সবাইকেই আমি (নবুওত দিয়ে) সৃষ্টিকুলের ওপর বিশেষ মর্যাদা দান করেছিলাম। ৮৭. এদের পূর্বপুরুষ, এদের পরবর্তী বংশধর ও এদের ভাই বন্ধুদেরও আমি (নানাভাবে পুরস্কৃত করেছিলাম), আমি এদেরকে বাছাই করে নিয়েছিলাম এবং আমি এদের সবাইকে সরল পথে পরিচালিত করেছিলাম।
৮৮. এ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার হেদায়াত, নিজ বান্দাদের মাঝে যাকে চান তিনি তাকেই এ হেদায়াত দান করেন; (কিন্তুু) তারা যদি শেরেক করতো, তাহলে তাদের যাবতীয় কর্ম অবশ্যই নিষ্ফল হয়ে যেতো।
৮৯. এরাই ছিলো সেসব লোক, যাদের আমি কেতাব, প্রজ্ঞা ও নবুওত দান করেছি, (এ সত্ত্বেও আজ) যদি তারা তা অস্বীকার করে (তাতে আমার কোনোই ক্ষতি নেই), আমি তো (অতীতে) এমন এক সম্প্রদায়ের ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করেছিলাম, যারা কখনো (এগুলো) প্রত্যাখ্যান করেনি।
৯০. এরা হচ্ছে সে সব (সৌভাগ্যবান বান্দা)Ñ আল্লাহ তায়ালা যাদের সৎপথে পরিচালিত করেছেন; অতএব (হে মোহাম্মদ), তুমিও এদের পথের অনুসরণ করো (এবং কাফেরদের) বলো, আমি এর ওপর তোমাদের কাছ থেকে কোনো পারিশ্রমিক চাই না; (আসলে) এ হচ্ছে (দুনিয়ার) মানুষের জন্যে একটি স্মরণিকা মাত্র।
৯১. তারা আল্লাহ তায়ালাকে তাঁর যথাযোগ্য মর্যাদা দান করেনি, (বিশেষ করে) যখন তারা বললো, আল্লাহ তায়ালা কোনো মানুষের ওপর (গ্রন্থের) কোনো বস্তুই নাযিল করেননি; তুমি তাদের জিজ্ঞেস করো, (যদি তাই হয় তাহলে) মূসার আনীত কেতাবÑ যা মানুষের জন্যে ছিলো এক আলোকবর্তিকা ও পথনির্দেশ, যা তোমরা কাগজের (পাতায়) লিখে রাখতে, যার কিছু অংশ তোমরা মানুষের সামনে প্রকাশ করতে এবং অধিকাংশই গোপন করে রাখতে, (সর্বোপরি) সে কিতাব দ্বারা তোমাদের এমন সব জ্ঞান শিক্ষা দেয়া হতো, যার কিছুই তোমরা জানতে না এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরাও জানতো নাÑ তা কে নাযিল করেছেন? তুমি বলো (হাঁ,) আল্লাহ তায়ালাই (তা নাযিল করেছেন), (হে নবী,) তুমি তাদের (এসব) নিরর্থক আলোচনায় মত্ত থাকতে দাও।
৯২. এটি এক বরকতপূর্ণ গ্রন্থ, যা আমি (তোমার কাছে) পাঠিয়েছি, এটি আগের কিতাবের পুরোপুরি সত্যায়ন করে এবং যাতে এ (কিতাব) দিয়ে তুমি মক্কা ও তার পার্শ্ববর্তী জনপদসমূহের মানুষকে সাবধান করবে; যারা আখেরাতের ওপর ঈমান আনে তারা এ কিতাবের ওপরও ঈমান আনে, আর তারা তাদের নামাযের হেফাযত করে।
৯৩. সে ব্যক্তির চাইতে বড়ো যালেম আর কে আছে যে আল্লাহ তায়ালার ওপর মিথ্যা আরোপ করে, অথবা বলে, আমার ওপর ওহী নাযিল হয়েছে, (যদিও) তার প্রতি কিছুই নাযিল করা হয়নি, (তার চাইতেই বা বড়ো যালেম কে,) যে বলে, আমি অচিরেই আল্লাহর নাযিল করা গ্রন্থের মতো কিছু নাযিল করে দেখাবো! যদি (সত্যি সত্যিই) যালেমদের মৃত্যু-যন্ত্রণা (উপস্থিত) হবার সময় (তাদের অবস্থাটা) তুমি দেখতে পেতে! যখন (মৃত্যুর) ফেরেশ্তারা তাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলবে, তোমাদের প্রাণবায়ু বের করে দাও; তোমরা আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে যেসব অন্যায় কথা বলতে এবং আল্লাহর আয়াতের ব্যাপারে যে (ক্ষমাহীন) ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, তার জন্যে আজ অত্যন্তু অবমাননাকর এক আযাব তোমাদের দেয়া হবে।
৯৪. (আজ সত্যি সত্যিই) তোমরা আমার সামনে (একাকী) নিসঙ্গ অবস্থায় এলে, যেমনি নিসঙ্গ অবস্থায় আমি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম, অতপর তোমাদের আমি যা কিছু (বিষয় সম্পদ) দান করেছিলাম, তার সবটুকুই তোমরা পেছনে ফেলে (একান্তু খালি হাতে এখানে) এসেছো, তোমাদের সাথে তোমাদের সুপারিশকারী ব্যক্তিদেরÑ যাদের তোমরা মনে করতে তারা তোমাদের (কাজকর্মের) মাঝে অংশীদার, তাদের তো আজ তোমাদের মাঝে দেখতে পাচ্ছি না। বস্তুত তাদের এবং তোমাদের মধ্যকার সেই (মিথ্যা) সম্পর্ক আজ ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে এবং তাদের ব্যাপারে তোমরা যা ধারণা করতে তাও আজ নিষ্ফল (প্রমাণিত) হয়ে গেছে।
৯৫. অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা শস্যবীজ ও আঁটিগুলো অংকুরিত করেন, তিনিই নির্জীব (কিছু) থেকে জীবন্তু (কিছু) বের করে আনেন, (আবার) তিনিই জীবন্তু (কিছু) থেকে প্রাণহীন কিছু নির্গত করেন; এই (সৃষ্টি কৌশলের মালিক) হচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা, (এরপরও) তোমরা কোথায় কোথায় ঠোকর খাচ্ছো (বলো)!
৯৬. (রাতের আঁধার ভেদ করে) তিনিই ঊষার উন্মেষ ঘটান, তিনি রাতকে তোমাদের বিশ্রামের জন্যে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এবং (দিন তারিখের) হিসাব কিতাবের জন্যে তিনি চাঁদ ও সুরুজ বানিয়েছেন, এসব কিছুই হচ্ছে মহাপরাক্রমশালী ও জ্ঞানী আল্লাহ তায়ালার নির্ধারণ করা (বিষয়)।
৯৭. তিনি তোমাদের জন্যে (অসংখ্য) তারকা বানিয়ে রেখেছেন যেন তোমরা জলে-স্থলের আঁধারে পথের দিশা পেতে পারো, যে সম্প্রদায়ের লোকেরা (এ সব কিছু) জানে, তাদের জন্যে আমি আমার নিদর্শনসমূহ খুলে খুলে বর্ণনা করেছি।
৯৮. তিনি তোমাদের মাত্র একটি ব্যক্তিসত্তা থেকে পয়দা করেছেন, অতপর তিনি (তোমাদের) থাকার জায়গা ও মালসামান রাখার জায়গা (বানালেন), জ্ঞানী লোকদের জন্যে আমি আমার নিদর্শনগুলো (এভাবেই) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে থাকি।
৯৯. তিনি আসমান থেকে পানি (-র ধারা) নাযিল করেন, অতপর সে পানি দিয়ে আমি সব রকমের উদ্ভিদ (ও গাছপালা) জন্মানোর ব্যবস্থা করি, তা থেকে সবুজ শ্যামল পাতা উদগত করি, পরে তা থেকে পরষ্পর জড়ানো ঘন শস্যদানাও সৃষ্টি করি এবং (ফলের) ভারে নুয়ে পড়া খেজুরের গোছা বের করে আনি, আংগুরের উদ্যানমালা, জলপাই ও আনার পয়দা করি, এগুলো একে অন্যের সদৃশ হয়, আবার (একটার সাথে) আরেকটার গরমিলও থাকে; গাছ যখন সুশোভিত হয় তখন (এক সময়) তা ফলবান হয়, আবার যখন ফলগুলো পাকতে শুরু করে, তখন তোমরা এই সৃষ্টি-নৈপুণ্যের দিকে তাকিয়ে থাকো; অবশ্যই এতে ঈমানদার লোকদের জন্যে বহু নিদর্শন রয়েছে।
১০০. তারা জ্বিনকে আল্লাহর সাথে শরীক মনে করে, অথচ আল্লাহ তায়ালাই জি¦নদের পয়দা করেছেন, অজ্ঞতার বশবর্তী হয়ে তারা আল্লাহ তায়ালার ওপর পুত্র-কন্যা ধারণের অপবাদও আনয়ন করে, অথচ আল্লাহ তায়ালা মহিমানি¦ত, এরা যা বলে তিনি তার চাইতে অনেক মহান ও পবিত্র।
১০১. তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের (একক) উদ্ভাবক। (এদের তুমি বলো), তাঁর সন্তুান হবে কি ভাবে, তাঁর তো জীবনসংগিনীই নেই, সব কিছু তিনিই পয়দা করেছেন এবং সব কিছু সম্পর্কে তিনি পুরোপুরিই ওয়াকেফহাল রয়েছেন।
১০২. তিনিই আল্লাহ তায়ালাÑ তোমাদের মালিক, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, সব কিছুর (একক) স্রষ্টা তিনি, সুতরাং তোমরা তাঁরই এবাদাত করো, সব কিছুর ওপর তিনি চড়ান্তু তত্তাবধায়ক বটে।
১০৩. কোনো (সাধারণ) দৃষ্টি তাঁকে দেখতে পায় না, (অথচ) তিনি সব কিছুই দেখতে পান, তিনি সূক্ষ্মদর্শী, তিনি সব কিছু সম্পর্কেই খোঁজ-খবর রাখেন। ১০৪. তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে (এই) সূক্ষ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন জ্ঞান (-এর নিদর্শন) এসেছে, অতপর যদি কোনো ব্যক্তি (এসব নিদর্শন) দেখতে পায়, তাহলে সে তা দেখবে তার নিজের (কল্যাণের) জন্যেই, আবার যদি কেউ (তা না দেখে) অন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে তার দায়িত্ব তার ওপরই (বর্তাবে। তুমি বলো); আমি তোমাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক নই।
১০৫. আমি এভাবেই আমার আয়াতগুলো (তোমাদের কাছে) বিধৃত করি, যাতে করে তারা একথা বলতে পারে, তুমি (এসব কথা ভালো করেই) পড়ে এসেছো এবং যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে যেন আমি তাকে (আরো) সস্পষ্ট করে দিতে পারি।
১০৬. (হে মোহাম্মদ,) তুমি শুধু তারই অনুসরণ করোÑ যা তোমার মালিকের কাছ থেকে তোমার কাছে নাযিল করা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, (এরপরও) যারা শেরেকে লিপ্ত, তাদের তুমি (পুরোপুরিই) এড়িয়ে চলো।
১০৭. আল্লাহ তায়ালা যদি চাইতেন, তাহলে এরা কেউই তাঁর সাথে শেরেক করতো না; আর আমি (কিন্তুু) তোমাকে তাদের ওপর পাহারাদার নিযুক্ত করে পাঠাইনি, (সত্যি কথা হচ্ছে,) তুমি তো তাদের ওপর কোনো অভিভাবকও নও।
১০৮. তারা আল্লাহ তায়ালার বদলে যাদের ডাকে, তাদের তোমরা কখনো গালি-গালাজ করো না, নইলে শত্রট্টতার বশবর্তী হয়ে না জেনে আল্লাহ তায়ালাকেও তারা গালি দেবে; আমি প্রত্যেক জাতির কাছেই তাদের নিজেদের কার্যকলাপ সুশোভন করে রেখেছি, অতপর (সবাইকেই) তাদের মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, (তারপর) তিনি তাদের বলে দেবেন, তারা (দুনিয়ার জীবনে) কি করে এসেছে।
১০৯. এরা আল্লাহর নামে কঠিন শপথ করে বলে, যদি তাদের কাছে কোনো নিদর্শন আসে, তাহলে অবশ্যই তারা তার ওপর ঈমান আনবে; তুমি বলো, নিদর্শন পাঠানো (সম্পূত) আল্লাহ তায়ালার ব্যাপার, তুমি কি জানো (এদের অবস্থা), নিদর্শন এলেও এরা কিন্তুু কখনো ঈমান আনবে না।
১১০. আমি (অচিরেই) তাদের অন্তুকরণ ও দৃষ্টিশক্তিকে (অন্যদিকে) ফিরিয়ে দেবো, যেমন তারা প্রথম বারেই এ (কোরআনের) ওপর ঈমান আনেনি এবং আমি (এবার) তাদের অবাধ্যতার আবর্তে ঘুরপাক খাওয়ার জন্যে ছেড়ে দেবো!

অনুবাদ: আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY