কোরআন শরীফ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ পারা: ৮- ওয়ালা আন্নানা, সূরা- আল আনয়াম, আয়াত ১১১ থেকে ১৬৫ ও সূরা – আল আ’রাফ ১-৮৭

0
456

 কোরআন শরীফ: সহজ সরল বাংলা অনুবাদ
পারা: ৮- ওয়ালা আন্নানা, সূরা-  আল আনয়াম, আয়াত ১১১ থেকে ১৬৫ ও সূরা – আল আ’রাফ ১-৮৭
প্রকাশনায়: আল কোরআন একাডেমী লন্ডন

১১১. (এমনকি) আমি যদি তাদের কাছে (আমার) ফেরেশ্তাদেরও পাঠিয়ে দেই এবং (কবর থেকে) মৃত ব্যক্তিরাও যদি (উঠে এসে) তাদের সাথে কথা বলে, কিংবা আমি যদি (দুনিয়ার) সমুদয় বস্তুুও এনে তাদের ওপর জড়ো করে দেই, তবু এরা (কখনো) ঈমান আনবে না, অবশ্য (এদের কারো ব্যাপারে) যদি আল্লাহ তায়ালা (ভিন্ন কিছু) চান (তা আলাদা কথা। আসলে), এদের অধিকাংশ ব্যক্তিই মূর্খের আচরণ করে।
১১২. আমি এভাবেই প্রত্যেক নবীর জন্যে (যুগে যুগে কিছু কিছু) দুশমন বানিয়ে রেখেছি মানুষের মাঝ থেকে, (কিছু আবার) জ্বিনদের মাঝ থেকে, যারা প্রতারণা করার উদ্দেশে একে অন্যকে চমকপ্রদ কথা বলে, তোমার মালিক চাইলে তারা (অবশ্য এটা) করতো না, অতএব তুমি তাদের ছেড়ে দাও, তারা যা পারে মিথ্যা রচনা করে বেড়াক! ১১৩. যারা শেষ বিচারের দিনের ওপর ঈমান রাখে না, তাদের মন এর ফলে শয়তানের প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়ে, যাতে করে তারা তার ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকতে পারে, (সর্বোপরি) তারা যেসব কুকর্ম চালিয়ে যেতে চায়, তাও এর ফলে নির্বিঘেœ তারা চালিয়ে যেতে পারে।
১১৪. (তুমি বলো,) আমি কি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কোনো ফয়সালাকারী সন্ধান করবো, অথচ তিনিই হচ্ছেন সেই মহান সত্তা, যিনি তোমাদের কাছে সবিস্তুারে কিতাব নাযিল করেছেন; (আগে) যাদের আমি আমার কিতাব দান করেছিলাম তারা জানে, তোমার মালিকের পক্ষ থেকে সত্য বাণী নিয়েই এটা (আল কোরআন) নাযিল করা হয়েছে, অতএব তুমি কখনো সন্দিহানদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
১১৫. ন্যায় ও ইনসাফ (-এর আলোকে) তোমার মালিকের কথাগুলোকে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং তাঁর কথা পরিবর্তন করার কেউ নেই, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
১১৬. (হে মোহাম্মদ,) দুনিয়ার অধিকাংশ মানুষের কথা যদি তুমি মেনে চলো, তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে বিচ্যুত করে ছাড়বে; কেননা এরা নিছক অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই চলে, (অধিকাংশ ব্যাপারে) এরা মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছু বলেই না।
১১৭. তোমার মালিক নিসন্দেহে (এ কথা) ভালো করেই জানেন কে তাঁর পথ ছেড়ে বিপথগামী হচ্ছে, (আবার) কে সঠিক পথের অনুসারীÑ তাও তিনি সম্যক অবগত রয়েছেন।
১১৮. যদি আল্লাহ তায়ালার আয়াতের ওপর তোমরা বিশ্বাস করো, তাহলে তোমরা (শুধু) সেসব (জন্তুর গোশ্ত) খাবে, যার ওপর (যবাই করার সময়) আল্লাহ তায়ালার নাম নেয়া হয়েছে।
১১৯. তোমাদের এ কি হয়েছে! তোমরা সেসব (জন্তুর গোশ্ত) কেন খাবে না, যার ওপর (যবাইর সময়) আল্লাহ তায়ালার নাম নেয়া হয়েছে, (বিশেষ করে যখন) আল্লাহ তায়ালা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন যে, তিনি তোমাদের ওপর কোন্ কোন্ বস্তুু হারাম করেছেনÑ সে কথা অবশ্যই আলাদা যখন তোমাদের তার কাছে একান্ত বাধ্য (ও নিরুপায়) করা হয়। অধিকাংশ মানুষ সুষ্ঠু জ্ঞান ছাড়াই নিজেদের খেয়াল-খুশীমতো (মানুষকে) বিপথে চালিত করে; নিসন্দেহে তোমার মালিক সীমালংঘনকারীদের ভালো করেই জানেন।
১২০. তোমরা প্রকাশ্য গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, (বেঁচে থাকো) তার গোপন অংশ থেকেও; নিসন্দেহে যারা কোনো গুনাহ অর্জন করবে, তাদের কৃতকর্মের যথাযথ ফল তাদের প্রদান করা হবে।
১২১. (যবাইর সময়) যার ওপর আল্লাহ তায়ালার নাম নেয়া হয়নি, সে (জন্তুর গোশ্ত) তোমরা কখনো খাবে না, (কেননা) তা হচ্ছে জঘন্য গুনাহের কাজ; শয়তানের (কাজই হচ্ছে) তার সংগী-সাথীদের মনে প্ররোচনা দেয়া, যেন তারা তোমাদের সাথে (এ নিয়ে) ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়, যদি তোমরা তাদের কথা মেনে চলো, তাহলে অবশ্যই তোমরা মোশরেক হয়ে পড়বে।
১২২. যে ব্যক্তি (এক সময়) ছিলো মৃত, অতপর আমি তাকে জীবিত করলাম, (তদুপরি) তার জন্যে এমন এক আলোকবর্তিকাও আমি বানিয়ে দিলাম, যার আলো দিয়ে মানুষের সমাজে সে চলার (দিশা) পাচ্ছে, সে কি কখনো সে ব্যক্তির মতো হতে পারে, যে এমন অন্ধকারে (পড়ে) আছে, যেখান থেকে সে (কোনোক্রমেই) বেরিয়ে আসতে পারছে না; এভাবেই কাফেরদের জন্যে তাদের কর্মকান্ডকে শোভনীয় (ও সুখকর) বানিয়ে রাখা হয়েছে।
১২৩. এভাবে আমি প্রত্যেক জনপদে তার কিছু কিছু বড়ো অপরাধী নিযুক্ত করে রেখেছি, যেন তারা সেখানে (অন্যদের) ধোকা দিতে পারে; (আসলে) এসব কিছুর মাধ্যমে তারা তাদের নিজেদেরই প্রতারিত করছে, অথচ তারা নিজেরা এ কথাটা মোটেই উপলব্ধি করতে পারছে না।
১২৪. তাদের কাছে যখনি আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো আয়াত আসে তখন তারা বলে উঠে, আমরা এর ওপর কখনো ঈমান আনবো না, যতোক্ষণ না আমাদেরও তাই দেয়া হয় যা আল্লাহর রসূলদের দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা ভালো করেই জানেন তাঁর রেসালাত তিনি কোথায় রাখবেন; যারা এ অপরাধ করেছে তারা অচিরেই আল্লাহর পক্ষ থেকে অপমান ও কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে কেননা তারা আল্লাহ তায়ালার সাথে প্রতারণা করছিলো।
১২৫. আল্লাহ তায়ালা কাউকে সৎপথে পরিচালিত করতে চাইলে তিনি তার হৃদয়কে ইসলামের জন্যে খুলে দেন, (আবার) যাকে তিনি বিপথগামী করতে চান তার হৃদয়কে অতিশয় সংকীর্ণ করে দেন, (তার পক্ষে ইসলামের অনুসরণ করা এমন কঠিন হয়) যেন কোনো একজন ব্যক্তি আকাশে চড়তে চাইছে; আর যারা (আল্লাহর ওপর) বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তায়ালা এভাবেই তাদের ওপর (অপমানজনক লাঞ্ছনা ও) নাপাকী ছেয়ে দেন।
১২৬. (মূলত) এটিই হচ্ছে তোমার মালিকের (দেখানো) সহজ সরল পথ; আমি অবশ্যই আমার আয়াতসমূহ উপদেশ গ্রহণে আগ্রহীদের জন্যে বিশদভাবে বর্ণনা করেছি।
১২৭. তাদের মালিকের কাছে রয়েছে (তাদের) জন্যে শান্তির এক সুন্দর নিবাস, আল্লাহ তায়ালাই তাদের অভিভাবক, (দুনিয়ায়) তারা যা করতো এটা হচ্ছে তারই বিনিময়।
১২৮. (স্মরণ করো,) যেদিন আল্লাহ তায়ালা তাদের সবাইকে একত্রিত করবেন, (তখন তিনি শয়তানরূপী জ্বিনদের) বলবেন, হে জ্বিন সম্প্রদায়, তোমরা তো (বিভিন্ন সময়) অনেক মানুষকেই গোমরাহ করেছো, (এ সময়) মানুষের ভেতর থেকে (যারা) তাদের বন্ধু (তারা) বলবে, হে আমাদের মালিক, আমাদের এক একজন এক একজনকে (ব্যবহার করে) দুনিয়ার জীবনে প্রচুর লাভ কামাচ্ছিলাম, আর এভাবেই আমরা চূড়ান্ত সময়ে এসে হাযির হয়েছি, যা তুমি আমাদের জন্যে নির্দিষ্ট করে রেখেছিলে; আল্লাহ তায়ালা বলবেন, (হাঁ, আজ সে গোমরাহীর জন্যে) তোমাদের ঠিকানা (হবে জাহান্নামের) আগুন, সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে, অবশ্য আল্লাহ তায়ালা যা কিছু চাইবেন (তা আলাদা); তোমার মালিক অবশ্যই প্রজ্ঞাময় ও সম্যক অবহিত।
১২৯. আমি এভাবে একদল যালেমকে তাদেরই (অন্যায়) কার্যকলাপের দরুন আরেক দল যালেমের ওপর ক্ষমতাবান করে দেই।
১৩০. (আল্লাহ তায়ালা সেদিন আরো বলবেন,) হে জ্বিন ও মানুষ সম্পদায় (বলো), তোমাদের কাছে কি তোমাদেরই মধ্য থেকে আমার (এমন এমন) সব রসূল আসেনি, যারা আমার আয়াতগুলো তোমাদের কাছে বর্ণনা করতো, (উপরন্তু) যারা তোমাদের ভয় দেখাতো যে, তোমাদের আজকের এ দিনের সম্মুখীন হতে হবে; (সেদিন) ওরা বলবে, হাঁ (এসেছিলো, তবে আজ) আমরা আমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দিচ্ছি, (মূলত) দুনিয়ার জীবন এদের প্রতারিত করে রেখেছিলো, তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই একথার সাক্ষ্য দেবে যে, তারা (আসলেই) কাফের ছিলো।
১৩১. এটা এ জন্যে, তোমার মালিক অন্যায়ভাবে এমন কোনো জনপদের মানুষকে ধ্বংস করেন না, যার অধিবাসীরা (সত্য দ্বীন সম্পর্কে) সম্পূর্ণ গাফেল থাকে।
১৩২. তাদের নিজস্ব কর্ম অনুযায়ী প্রতিটি ব্যক্তির জন্যেই (তার) মর্যাদা রয়েছে, তোমার মালিক তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে মোটেই উদাসীন নন।
১৩৩. তোমার মালিক কারো মুখাপেক্ষী নন, দয়া ও অনুগ্রহের মালিক তিনি; তিনি যদি চান তাহলে তোমাদের (এই জনপদ থেকে) সরিয়ে নিতে পারেন, এবং তোমাদের পরে অন্য যাদের তিনি চান এখানে (তোমাদের জায়গায়) বসিয়েও দিতে পারেন, যেমনি করে তোমাদেরও তিনি অন্য সম্পদায়ের বংশধর থেকে উত্থান ঘটিয়েছেন। ১৩৪. তোমাদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হচ্ছে তা অবশ্যই আসবে, আর তোমরা (আল্লাহ তায়ালাকে) ব্যর্থ করে দেয়ার ক্ষমতা রাখো না।
১৩৫. (তাদের তুমি বলে দাও,) হে আমার জাতি, তোমরা নিজ নিজ জায়গায় (যা যা করার) করে যাও, আমিও (আমার করণীয়) করে যাবো, অচিরেই তোমরা জানতে পারবে, কার জন্যে পরিণামের (সুন্দর) ঘরটি (নির্দিষ্ট) রয়েছে; (এও জানতে পারবে যে,) যালেমরা কখনো সাফল্য লাভ করতে পারে না।
১৩৬. স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা যে শস্য উৎপাদন করেছেন ও গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, এ (মূর্খ) ব্যক্তিরা তারই এক অংশ আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট করে রাখে এবং নিজেদের খেয়ালখুশীমতো (একথা) বলে, এ অংশ হচ্ছে আল্লাহর জন্যে, আর এ অংশ হচ্ছে আমাদের দেবতাদের জন্যে, অতপর যা তাদের দেবতাদের জন্যে (রাখা হয়) তা (কখনো) আল্লাহর কাছ পর্যন্ত পৌঁছায় না, (যদিও) আল্লাহর (নামে) যা (রাখা হয় তা শেষতক) তাদের দেবতাদের কাছে গিয়েই পৌঁছে; কতো নিকৃষ্ট তাদের এ বিচার!
১৩৭. এভাবে বহু মোশরেকের ক্ষেত্রেই তাদের শরীক (দেবতা)রা তাদের আপন সন্তানদের হত্যা করার (জঘন্য) কাজটিকেও একান্ত শোভনীয় করে রেখেছে, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের ধ্বংস সাধন করা এবং তাদের গোটা জীবন বিধানকেই তাদের কাছে সন্দেহের বিষয়ে পরিণত করে দেয়া, অবশ্য আল্লাহ তায়ালা চাইলে তারা (কখনো) এ কাজ করতো না, অতএব তুমি তাদের ছেড়ে দাও, মিথ্যা রচনা নিয়ে (তাদের তুমি কিছুদিন ব্যস্তু) থাকতে দাও।
১৩৮. তারা বলে, এসব গবাদিপশু এবং এ খাদ্যশস্য নিষিদ্ধ (তালিকাভুক্ত), আমরা যাকে চাইবো সে ছাড়া অন্য কেউ তা খেতে পারবে না, এটা তাদের (মনগড়া একটা) ধারণা মাত্র (আবার তারা মনে করে), কিছু গবাদিপশু আছে যার পীঠ (আরোহণ কিংবা মাল সামান রাখার জন্যে) নিষিদ্ধ, আবার কিছু গবাদিপশু আছে যার ওপর (যবাই করার সময়) তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করে না, আল্লাহর ওপর মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশেই (তাদের) এসব অপচেষ্টা; অচিরেই আল্লাহ তায়ালা তাদের এ মিথ্যাচারের জন্যে তাদের (যথাযথ) প্রতিফল দান করবেন।
১৩৯. তারা বলে, এসব গবাদিপশুর পেটে যা কিছু আছে তা শুধু আমাদের পুরুষদের জন্যেই নির্দিষ্ট এবং আমাদের (মহিলা) সাথীদের জন্যে তা হারাম, তবে যদি এ (পশুর পেটে) মরা কিছু থাকে তাহলে তাতে তারা (নারী-পুরুষ) উভয়েই সমান অংশীদার; আল্লাহ তায়ালা অতি শীঘ্রই তাদের এ ধরনের উদ্ভট কথা বলার প্রতিফল দান করবেন; নিসন্দেহে তিনি হচ্ছেন প্রবল প্রজ্ঞাময়, তিনি সর্বজ্ঞ।
১৪০. অবশ্য যারা (নেহায়াত) নির্বুদ্ধিতা ও অজ্ঞতার বশবর্র্তী হয়ে নিজেদের সন্তানদের হত্যা করলো এবং আল্লাহ তায়ালা তাদের যে রেযেক দান করেছেন তা নিজেদের ওপর হারাম করে নিলো, আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে (নানা ধরনের) মিথ্যা (কথা) রচনা করলো; এসব কাজের মাধ্যমে এরা সবাই দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্তু হয়ে গেলো, এরা কখনো সৎপথের অনুসারী ছিলো না।
১৪১. মহান আল্লাহ তায়ালা- যিনি নানা প্রকারের উদ্যান বানিয়েছেন, কিছু লতা-গুল্ম, যা কোনো কান্ড ছাড়াই মাচানের ওপর তুলে রাখা (হয়েছে, আবার কিছু গাছ), যা মাচানের ওপর তুলে রাখা হয়নি (স্বীয় কান্ডের ওপর তা এমনিই দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরো সৃষ্টি করেছেন), খেজুর গাছ এবং বিভিন্ন (স্বাদ ও) প্রকার বিশিষ্ট খাদ্যশস্য ও আনারÑ (এগুলো স্বাদে গন্ধে এক রকমও হতে পারে), আবার তা ভিন্ন ধরনেরও হতে পারে, যখন তা ফলবান হয় তখন তোমরা তার ফল খাও, তোমরা ফসল তোলার দিনে (যে বঞ্চিত) তার হক আদায় করো, কখনো অপচয় করো না; কেননা, আল্লাহ তায়ালা অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।
১৪২. গবাদিপশুর মধ্যে (কিছু পশু হচ্ছে) ভারবাহী ও কিছু হচ্ছে খাবার উপযোগী, আল্লাহ তায়ালা যা তোমাদের দান করেছেন তা তোমরা খাও এবং (এ পর্যায়ে) কখনো শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না; অবশ্যই সে তোমাদের প্রকাশ্য দুশমন।
১৪৩. (আল্লাহ তায়ালা তোমাদের দিয়েছেন এই) আট প্রকারের গৃহপালিত জন্তু, (প্রথমত) তার দুটো মেষ, (দ্বিতীয়ত) তার দুটো ছাগল (হে মোহাম্মদ), তুমি (তাদের) জিজ্ঞেস করো, এর (নর দুটো কিংবা মাদি) অথবা তাদের মায়েরা যাকিছু পেটে রেখেছে তার কোনোটি (কি আল্লাহ তায়ালা তোমাদের জন্যে) হারাম করেছেন? তোমরা আমাকে প্রমাণসহ বলো যদি তোমরা সত্যবাদী হও!
১৪৪. (তৃতীয়ত) দুটো উট, (চতুর্থত) দুটো গরু; এর (নর দুটো কিংবা মাদী) দুটো কি আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন, অথবা এদের উভয়ের মায়েরা যা কিছু পেটে রেখেছে তা (কি তিনি তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন)? আল্লাহ তায়ালা যখন তোমাদের (হারামের) আদেশটি দিয়েছিলেন তখন তোমরা কি সেখানে উপস্থিত ছিলে? অতপর তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে হতে পারে যে মানুষকে গোমরাহ করার জন্যে অজ্ঞতাবশত আল্লাহর নামে মিথ্যা (কথা) রচনা করে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সীমালংঘনকারী সম্পদায়কে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।
১৪৫. (হে মোহাম্মদ,) তুমি (এদের) বলো, আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে একজন ভোজনকারী মানুষ (সাধারণত) যা খায় তার মধ্যে এমন কোনো জিনিস তো আমি পাচ্ছি নাÑ যাকে হারাম করা হয়েছে, (হাঁ, তা যদি) মরা জন্তু, প্রবাহিত রক্ত এবং শুয়োরের গোশ্ত (হয় তাহলে তা অবশ্যই হারাম), অতপর এসব হচ্ছে নাপাক, অথবা এমন (এক) অবৈধ (জন্তু) যা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারো নামে যবাই করা হয়েছে, তবে যদি কাউকে না-ফরমানী এবং সীমালংঘনজনিত অবস্থা ব্যতিরেকে (এর কোনো একটি জিনিস খেতে) বাধ্য করা হয়, তাহলে (তার ক্ষেত্রে) তোমার মালিক অবশ্যই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
১৪৬. আর আমি ইহুদীদের জন্যে নখযুক্ত সব পশুই হারাম করে দিয়েছি, গরু এবং ছাগলের চর্বিও আমি তাদের জন্যে হারাম করেছি, তবে (জন্তুর চর্বির) যা কিছু তাদের উভয়ের পিঠ, আঁত কিংবা হাড়ের সাথে জড়ানো থাকে তা (হারাম) নয়; এভাবেই এগুলোকে (হারাম করে) আমি তাদের অবাধ্যতার শাস্তিু দিয়েছিলাম, নিসন্দেহে আমি সত্যবাদী। ১৪৭. (এরপরও) যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী বলে তাহলে তুমি বলো, অবশ্যই তোমাদের মালিক এক বিশাল দয়ার আধার, (তবে) অপরাধীদের ওপর থেকে তাঁর শাস্তিু কেউই ফেরাতে পারবে না।
১৪৮. অচিরেই এ মোশরেক লোকগুলো বলতে শুরু করবে, যদি আল্লাহ তায়ালা চাইতেন তাহলে আমরা ও আমাদের পূর্বপুরুষরা তো শেরেক করতাম না, না (এভাবে) আমরা কোনো জিনিস (নিজেদের ওপর) হারাম করে নিতাম; (তুমি তাদের বলো, এর) আগেও অনেকে (এভাবে আল্লাহর আয়াতকে) অস্বীকার করেছে; অবশেষে তারা আমার শাস্তিুর স্বাদ ভোগ করেছে; তুমি (তাদের) জিজ্ঞেস করো, তোমাদের কাছে কি সত্যিই (এমন) কোনো জ্ঞান (মজুদ) আছে? (থাকলে) অতপর তা বের করে আমার জন্যে নিয়ে এসো, তোমরা তো কল্পনার ওপর (নির্ভর করেই) কথা বলো এবং (হামেশাই) মিথ্যার অনুসরণ করো।
১৪৯. তুমি (আরো) বলো, (সব কিছুর) চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে, তিনি যদি চাইতেন তাহলে তিনি তোমাদের সবাইকেই সৎপথে পরিচালিত করে দিতেন।
১৫০. (হে মোহাম্মদ,) তুমি বলো (যাও), তোমাদের সেসব সাক্ষী নিয়ে এসো যারা একথার সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ তায়ালাই এসব জিনিস (তোমাদের ওপর) হারাম করেছেন। (তাদের মধ্যে) কিছু সাক্ষী যদি সাক্ষ্য দেয়ও, তবু তুমি তাদের সাথে কোনো সাক্ষ্য দিয়ো না, যারা আমার আয়াতকে অস্বীকার করেছে, যারা পরকালের ওপর ঈমান আনেনি, আসলে তারা অন্য কিছুকে তাদের মালিকের সমকক্ষ মনে করে, (তাদেরও তুমি কখনো অনুসরণ করো না।)
১৫১. (হে মোহাম্মদ,) তুমি বলো, এসো আমিই (বরং) তোমাদের বলে দেই তোমাদের মালিক কোন্ কোন্ জিনিস তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন (সে জিনিসগুলো হচ্ছে), তোমরা তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শরীক করবে না, পিতা-মাতার সাথে ভালো ব্যবহার করবে, দারিদ্রের আশংকায় কখনো তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করবে না; কেননা আমিই তোমাদের ও তাদের উভয়েরই আহার যোগাই, প্রকাশ্যে হোক কিংবা গোপনে হোক তোমরা অশ্লীলতার কাছেও যেয়োনা, আল্লাহ তায়ালা যে জীবনকে তোমাদের জন্যে মর্যাদাবান করেছেন তাকে কখনো যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে হত্যা করো না এ হচ্ছে তোমাদের (জন্যে কতিপয় নির্দেশ), আল্লাহ তায়ালা এর মাধ্যমে তোমাদের আদেশ দিয়েছেন, এগুলো যেন তোমরা মেনে চলো, আশা করা যায় তোমরা (তাঁর বাণীসমূহ) অনুধাবন করতে পারবে।
১৫২. তোমরা কখনো এতীমদের সম্পদের কাছেও যাবে না, তবে উদ্দেশ্য যদি নেক হয় তাহলে সে একটা নির্দিষ্ট বয়সসীমায় পেঁৗঁছা পর্যন্ত (কোনো পদক্ষেপ নিলে তা ভিন্ন কথা), পরিমাপ ও ওযন (করার সময়) ন্যায্যভাবেই তা করবে, আমি (কখনো) কারো ওপর তার সাধ্যসীমার বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপাই না, যখনি তোমরা কোনো ব্যাপারে কথা বলবে তখন ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে, যদি তা (তোমাদের একান্ত) আপনজনের (বিরুদ্ধে)-ও হয়, তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে দেয়া সব অংগীকার পূরণ করো এ হচ্ছে তোমাদের (জন্যে আরো কতিপয় বিধান); এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের আদেশ দিয়েছেন (তোমরা যেন এগুলো মেনে চলো), আশা করা যায় তোমরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারবে।
১৫৩. এটা হচ্ছে আমার (দেখানো) সহজ সরল পথ, অতএব একমাত্র এরই তোমরা অনুসরণ করো, কখনো ভিন্ন পথ অবলম্বন করো না, কেননা (ভিন্ন পথ অবলম্বন করলে) তা তোমাদের তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে এ হচ্ছে তোমাদের (জন্যে আরো কয়েকটি বিধান); আল্লাহ তায়ালা (এর মাধ্যমে) তোমাদের আদেশ দিচ্ছেন (যেন তোমরা এগুলো মেনে চলো), আশা করা যায় তোমরা (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করবে।
১৫৪. অতপর আমি মূসাকে (হেদায়াত সম্বলিত) কিতাব দান করেছিলাম, (তা ছিলো) পরিপূর্ণ এবং বিশদ হেদায়াত ও রহমত, যাতে করে (বনী ইসরাঈল সম্পদায়ের) লোকেরা এ কথার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে যে, (একদিন) তাদের (সবাইকে) তাদের মালিকের সমীপে হাযির হতে হবে।
১৫৫. এ কল্যাণময় কেতাব আমিই (তোমাদের জন্যে) নাযিল করেছি, অতএব তোমরা এর অনুসরণ করো এবং (কেতাবের শিক্ষানুযায়ী) তোমরা (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করো, হয়তো তোমাদের ওপর (দয়া ও) অনুগ্রহ প্রদর্শন করা হবে।
১৫৬. (এখন) তোমরা আর একথা বলতে পারবে না যে, (আল্লাহর) কিতাব তো আমাদের আগের (ইহুদী ও খৃষ্টান এ) দুটো সম্পদায়কেই দেয়া হয়েছিলো, (তাই) আমরা সেসব কিতাবের পাঠ সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলাম।
১৫৭. অথবা একথা বলারও কোনো অজুহাত পাবে না যে, যদি (ইহুদী খৃস্টানদের মতো) আমাদেরও কোনো কিতাব দেয়া হতো, তা হলে আমরা তো তাদের চাইতে বেশী সৎপথের অনুসারী হতে পারতাম, (আজ) তোমাদের কাছে (সত্যিই) তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণ, হেদায়াত ও রহমত (সর্বস্ব কিতাব) এসেছে (তোমরা এর অনুসরণ করো), তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে, যে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করবে এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে (জেনে রেখো), যারাই এভাবে আমার আয়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, অচিরেই আমি তাদের এ জঘন্য আচরণের জন্যে এক নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তিু দেবো।
১৫৮. তারা কি (সে দিনের) প্রতীক্ষা করছে যে, তাদের কাছে (আসমান থেকে আল্লাহ তায়ালার) ফেরেশ্তা নাযিল হবে, কিংবা স্বয়ং তোমাদের মালিকই তাদের কাছে এসে (তাদের হাতে কিতাব দিয়ে) যাবেন, অথবা মালিকের পক্ষ থেকে কোনো নিদর্শনের কোনো অংশ এসে (তাদের জান্নাত-জাহান্নাম দেখিয়ে দিয়ে) যাবে, (অথচ) যেদিন সত্যিই তোমার মালিকের (পক্ষ থেকে এমন) কোনো নিদর্শন আসবে, সেদিন তো (হবে কেয়ামতের দিন, তখন) যে ব্যক্তি এর আগে ঈমান আনেনি কিংবা যে ব্যক্তি তার ঈমান দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করেনি, তার জন্যে এ ঈমান আনাটা কোনোই কাজে আসবে না; (হে মোহাম্মদ,) তুমি (তাদের) বলো, (ঠিক আছে,) তোমরাও প্রতীক্ষা করো, আমিও প্রতীক্ষা করছি।
১৫৯. যারা নিজেদের দ্বীনকে টুকরো টুকরো করে নিজেরাই নানা দল-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে, তাদের কোনো দায়িত্বই তোমার ওপর নেই; তাদের (ফয়সালার) ব্যাপারটা আল্লাহ তায়ালার হাতে, (যেদিন তারা তাঁর কাছে ফিরে যাবে) তখন তিনি তাদের বিস্তুারিত বলবেন, তারা কে কি করছিলো।
১৬০. তোমাদের মাঝে কেউ যদি একটা সৎকাজ নিয়ে (আল্লাহ তায়ালার সামনে) আসে, তাহলে তার জন্যে দশ গুণ বিনিময়ের ব্যবস্থা থাকবে, (অপরদিকে) যদি কেউ একটা গুনাহের কাজ নিয়ে আসে, তাকে (তার) একটাই প্রতিফল দেয়া হবে, (সেদিন) তাদের কারো ওপরই যুলুম করা হবে না।
১৬১. (হে মোহাম্মদ,) তুমি (তাদের) বলো, অবশ্যই আমার মালিক আমাকে সঠিক পথ দেখিয়েছেনÑ সুপ্রতিষ্ঠিত জীবন বিধান, এটাই হচ্ছে ইবরাহীমের একনিষ্ঠ প্থ, সে কখনো মোশরেকদের দলভুক্ত ছিলো না।
১৬২. তুমি (একান্ত বিনয়ের সাথে) বলো, অবশ্যই আমার নামায, আমার (আনুষ্ঠানিক) কাজকর্ম, আমার জীবন, আমার মুত্যুÑ সব কিছুই সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার জন্যে।
১৬৩. তাঁর শরীক (সমকক্ষ) কেউ নেই, আর একথা (বলার জন্যেই) আমাকে আদেশ দেয়া হয়েছে, (আÍসমর্পণকারী) মুসলমানদের মধ্যে আমিই হচ্ছি সর্বপ্রথম।
১৬৪. তুমি (আরো) বলো, (এরপরও) আমি কি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কোনো মালিক সন্ধান করে বেড়াবো? অথচ (আমি জানি) তিনিই সব কিছুর (নিরংকুশ) মালিক; (তাঁর বিধান হচ্ছে) প্রতিটি ব্যক্তি তার কৃতকর্মের জন্যে এককভাবে নিজেই দায়ী হবে এবং কেয়ামতের দিন কোনো বোঝা বহনকারী ব্যক্তিই অন্য কোনো লোকের (পাপের) বোঝা বহন করবে না, অতপর (একদিন) তোমাদের সবাইকে তোমাদের (আসল) মালিকের কাছে ফিরে যেতে হবে, সেদিন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সেসব কিছুই জানিয়ে দেবেন, যা নিয়ে (দুনিয়ার জীবনে) তোমরা মতবিরোধ করতে।
১৬৫. তিনিই সেই (মহান) সত্তা, যিনি তোমাদের এ যমীনে তাঁর খলিখা বানিয়েছেন এবং (এ কারণে তিনি) তোমাদের একজনকে অন্য জনের ওপর (কিছু বেশী) মর্যাদা দান করেছেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ তায়ালা তোমাদের সবাইকে যা কিছু দিয়েছেন তা দিয়েই তিনি তোমাদের কাছ থেকে (কৃতজ্ঞতার) পরীক্ষা নিতে চান; (জেনে রেখো,) তোমার মালিক শাস্তিুদানের ব্যাপারে অত্যন্ত (কঠোর ও) তৎপর, (আবার) তিনিই বড়ো ক্ষমাশীল ও পরম দয়াময়।

সূরা আল আ’রাফ
মক্কায় অবতীর্ণÑ আয়াত ২০৬, রুকু ২৪
রহমান রহীম আল্লাহ তায়ালার নামেÑ
১. আলিফ লা-ম মী-ম ছোয়া-দ,
২. (হে নবী,) এ (মহা) গ্রন্থ তোমার প্রতি নাযিল করা হয়েছে যেন তুমি এর দ্বারা (কাফেরদের) ভয় দেখাতে পারো, ঈমানদারদের জন্যে (এটি হচ্ছে) একটি স্মরণিকা, অতএব (এ ব্যাপারে) তোমার মনে যেন কোনো প্রকারের সংকীর্ণতা না থাকে।
৩. (হে মানুষ, এ কিতাবে) তোমাদের মালিকের কাছ থেকে তোমাদের কাছে যা কিছু পাঠানো হয়েছে তোমরা তার (যথাযথ) অনুসরণ করো এবং তা বাদ দিয়ে তোমরা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের অনুসরণ করো না; (আসলে) তোমরা খুব কমই উপদেশ মেনে চলো।
৪. এমন কতো জনপদ আমি ধ্বংস করে দিয়েছিÑ তাদের ওপর আমার আযাব আসতো যখন তারা রাতের বেলায় ঘুমিয়ে থাকতো, কিংবা (আযাব আসতো মধ্য দিনে,) যখন তারা (আহারের পর) বিশ্রাম করতো।
৫. (আর এভাবে) যখন তাদের কাছে আমার আযাব আসতো, তখন তারা এছাড়া আর কিছুই বলতোনা যে, ‘অবশ্যই আমরা ছিলাম যালেম।’
৬. যাদের কাছে নবী পাঠানো হয়েছিলো অবশ্যই আমি তাদের জিজ্ঞেস করবো, (একইভাবে) রসূলদেরও আমি প্রশ্ন করবো (মানুষরা তাদের সাথে কি আচরণ করেছে)।
৭. অতপর আমি (আমার নিজস্ব) জ্ঞান দ্বারা তাদের (প্রত্যেকের) কাছে তাদের কার্যাবলী খুলে খুলে বর্ণনা করবো, (কারণ) আমি তো (সেখানে) অনুপস্থিত ছিলাম না!
৮. সেদিন (পাপ-পুণ্যের) পরিমাপ ঠিকভাবেই করা হবে, (সেদিন) যাদের ওযনের পাল্লা ভারী হবে তারাই সফল হবে।
৯. আর যাদের পাল্লা সেদিন হালকা হবে, তারা (হচ্ছে এমন সব লোক, যারা) নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে, কারণ এরা (দুনিয়ার জীবনে) আমার আয়াতসমূহ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতো।
১০. আমিই তোমাদের (এই) যমীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, (এ জন্যে) আমি তাতে তোমাদের জন্যে সব ধরনের জীবিকার ব্যবস্থাও করে দিয়েছি; কিন্তু তোমরা (আমার এ নেয়ামতের) খুব কমই শোকর আদায় করে থাকো।
১১. আমিই তোমাদের বানিয়েছি, তারপর আমিই তোমাদের (বিভিন্ন) আকার-অবয়ব দান করেছি, অতপর আমি ফেরেশতাদের বলেছি, (সম্মানের নিদর্শন হিসেবে তোমরা) আদমকে সাজদা করো, তখন (আমার আদেশে) সবাই (আদমকে) সাজদা করলো, একমাত্র ইবলীস ছাড়া, সে কিছুতেই সাজদাকারীদের মধ্যে শামিল হলো না।
১২. আল্লাহ তায়ালা বললেন (হে ইবলীস), আমি যখন (নিজেই) তোমাকে সাজদা করার আদেশ দিলাম, তখন কোন্ জিনিস তোমাকে সাজদা করা থেকে বিরত রাখলো? ইবলীস বললো, (আমি কেন তাকে সাজদা করবো), আমি তো তার চাইতে উত্তম, (কারণ) তুমি আমাকে বানিয়েছো আগুন থেকে, আর তাকে বানিয়েছো মাটি থেকে। ১৩. আল্লাহ তায়ালা বললেন, তুমি এক্ষুণি এখান থেকে, নেমে যাও! এখানে (বসে) অহংকার করবে, এটা তোমার পক্ষে কখনো সাজে নাÑ যাও, (এখান থেকে) বেরিয়ে যাও, (কেননা) তুমি অপমানিতদেরই একজন।
১৪. সে বললো (হে আল্লাহ তায়ালা), তুমি আমাকে সেদিন পর্যন্ত (শয়তানী করার) অবকাশ দাও, যেদিন এ (আদম সন্তান)-দের পুনরায় (কবর থেকে) উঠানো হবে।
১৫. আল্লাহ তায়ালা বললেন (হঁ্যাঁ, যাও), যাদের অবকাশ দেয়া হয়েছে তুমিও তাদের একজন।
১৬. সে বললো, যেহেতু তুমি (এ আদমের জন্যেই) আমাকে গোমরাহীতে নিমজ্জিত করলে, (তাই) আমিও এদের (গোমরাহ করার) জন্যে অবশ্যই তোমার (প্রদর্শিত প্রতিটি) সরল পথে (-র বাঁকে বাঁকে ওঁৎ পেতে) বসে থাকবো। ১৭. অতপর (পথভ্রষ্ট করার জন্যে) আমি তাদের কাছে অবশ্যই আসবো, আসবো তাদের সামনের দিক থেকে, তাদের পেছন দিক থেকে, তাদের ডান দিক থেকে, তাদের বাঁ দিক থেকে, ফলে তুমি এদের অধিকাংশ লোককেই (তোমার) কৃতজ্ঞতা আদায়কারী (হিসেবে দেখতে) পাবে না।
১৮. আল্লাহ তায়ালা বললেন, বের হয়ে যাও তুমি এখান থেকে অপমানিত ও বিতাড়িত অবস্থায়; (আদম সন্তানের) যারাই তোমার অনুসরণ করবে, (তাদের এবং) তোমাদের সবাইকে দিয়ে নিশ্চয়ই আমি জাহান্নাম পূর্ণ করে দেবো। ১৯. (আল্লাহ তায়ালা আদমকে বললেন,) তুমি এবং তোমার সাথী জান্নাতে বসবাস করতে থাকো এবং এর যেখান থেকে যা কিছু চাও তা তোমরা খাও, কিন্তু এ গাছটির কাছেও যেয়ো না, (গেলে) তোমরা উভয়েই যালেমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে।
২০. অতপর শয়তান তাদের দু’জনকেই কুমন্ত্রণা দিলো যেন সে তাদের নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহ, যা তাদের পরস্পরের কাছ থেকে গোপন করে রাখা হয়েছিলোÑ প্রকাশ করে দিতে পারে, সে (তাদের আরো) বললো, তোমাদের মালিক তোমাদের এ গাছটির (কাছে যাওয়া) থেকে তোমাদের যে বারণ করেছেন, তার উদ্দেশ্য এ ছাড়া আর কিছুই নয় যে, (সেখানে গেলে) তোমরা উভয়েই ফেরেশতা হয়ে যাবে, অথবা (এর ফলে) তোমরা (জান্নাতে) চিরস্থায়ী হয়ে যাবে।
২১. সে তাদের কাছে কসম করে বললো, আমি অবশ্যই তোমাদের উভয়ের জন্যে (তোমাদের) হিতাকাংখীদের একজন।
২২. এভাবে সে এদের দুজনকেই প্রতারণার জালে আটকে ফেললো, অতপর (এক সময়) যখন তারা উভয়েই সে গাছ (ও তার ফল) আস্বাদন করলো, তখন তাদের লজ্জাস্থানসমূহ তাদের উভয়ের সামনে খুলে গেলো, (সাথে সাথে) তারা জান্নাতের কিছু লতা পাতা নিজেদের ওপর জড়িয়ে (নিজেদের গোপন স্থানসমূহ) ঢাকতে শুরু করলো; তাদের মালিক (তখন) তাদের ডাক দিয়ে বললেন, আমি কি তোমাদের উভয়কে এ গাছটি (-র কাছে যাওয়া) থেকে নিষেধ করিনি এবং আমি কি তোমাদের একথা বলে দেইনি যে, শয়তান হচ্ছে তোমাদের উভয়ের প্রকাশ্য দুশমন?
২৩. (নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে) তারা দুজনেই বলে উঠলো, হে আমাদের মালিক, আমরা আমাদের নিজেদের ওপর যুলুম করেছি, তুমি যদি আমাদের মাফ না করো তাহলে অবশ্যই আমরা চরম ক্ষতিগ্রস্তুদের দলে শামিল হয়ে যাবো। ২৪. আল্লাহ তায়ালা বললেন, (এবার) তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও, (আজ থেকে) তোমরা (ও শয়তান চিরদিনের জন্যে) একে অপরের দুশমন, সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পৃথিবীতে থাকার উদ্দেশে তোমাদের জন্যে সেখানে বসবাসের জায়গা ও জীবন-সামগ্রীর ব্যবস্থা থাকবে।
২৫. আল্লাহ তায়ালা (আরো) বললেন, তোমরা সেখানেই জীবন যাপন করবে, সেখানেই তোমরা মৃত্যুবরণ করবে এবং সেখান থেকেই তোমাদের (পুনরায়) বের করে আনা হবে।
২৬. হে আদম সন্তানরা, আমি তোমাদের ওপর পোশাক (সংক্রান্ত বিধান) পাঠিয়েছি, যাতে করে (এর দ্বারা) তোমরা তোমাদের গোপন স্থানসমূহ ঢেকে রাখতে পারো এবং (নিজেদের) সৌন্দর্যও ফুটিয়ে তুলতে পারো, (তবে আসল) পোশাক হচ্ছে (কিন্তু) তাকওয়ার (আল্লাহর ভয় জাগ্রতকারী) পোশাক, আর এটাই হচ্ছে উত্তম (পোশাক) এবং এটা আল্লাহর নিদর্শনসমূহেরও একটি (অংশ, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে), যাতে করে মানুষরা এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
২৭. হে আদমের সন্তানরা, শয়তান যেভাবে তোমাদের পিতা মাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে, তেমনি করে তোমাদেরও সে যেন প্রতারিত করতে না পারে, শয়তান তাদের উভয়ের দেহ থেকে তাদের পোশাক খুলে ফেলেছিলো, যাতে করে তাদের উভয়ের গোপন স্থানসমূহ উভয়ের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে; (মূলত) সে নিজে এবং তার সংগী-সাথীরা তোমাদের এমন সব স্থান থেকে দেখতে পায়, যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না; যারা (আমাকে) বিশ্বাস করে না তাদের জন্যে শয়তানকে আমি অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছি।
২৮. (এদের অবস্থা হচ্ছে,) তারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে তখন তারা বলে, আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরও এর ওপর পেয়েছি, স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাই আমাদের এর নির্দেশ দিয়েছেন; (হে নবী,) তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালা কখনো অশ্লীল কিছুর হুকুম দেন না; তোমরা কি আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে এমন কিছু বলছো, যার ব্যাপারে তোমরা কিছুই জানো না।
২৯. তুমি (আরো) বলো, আমার মালিক তো শুধু ন্যায়-ইনসাফেরই আদেশ দেন, (তাঁর আদেশ হচ্ছে,) প্রতিটি এবাদাতেই তোমরা তোমাদের লক্ষ্য স্থির রাখবে; তাঁকেই তোমরা ডাকো, নিজেদের জীবন বিধানকে একান্তভাবে তাঁর জন্যে খালেস করে; যেভাবে তিনি তোমাদের (সৃষ্টির) শুরু করেছেন সেভাবেই তোমরা (আবার তার কাছে) ফিরে যাবে। ৩০. (অতপর) একদল লোককে তিনি সঠিক পথ দেখিয়েছেন আর দ্বিতীয় দলটির ওপর গোমরাহী ও বিদ্রোহ ভালোভাবেই চেপে বসেছে; এরাই (পরবর্তী পর্যায়ে) আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে শয়তানদের নিজেদের অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে, (এ সত্ত্বেও) তারা নিজেদের সঠিক পথের ওপর মনে করে।
৩১. হে আদম সন্তানরা, তোমরা প্রতিটি এবাদাতের সময়ই তোমাদের সৌন্দর্য (-মন্ডিত পোশাক) গ্রহণ করো, তোমরা খাও এবং পান করো, তবে কোনো অবস্থাতেই অপচয় করো না, আল্লাহ তায়ালা কখনো অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।
৩২. (হে নবী,) তুমি বলো, আল্লাহ তায়ালার (দেয়া) সৌন্দর্য (-মন্ডিত পোশাক) এবং পবিত্র খাবার তোমাদের জন্যে কে হারাম করেছে? এগুলো তো আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং নিজেই তাঁর বান্দাদের জন্যে উদ্ভাবন করে এনেছেন; তুমি বলো, এগুলো হচ্ছে যারা ঈমান এনেছে তাদের পার্থিব পাওনা, (অবশ্য) কেয়ামতের দিন ও এগুলো ঈমানদারদের জন্যেই (নির্দিষ্ট থাকবে); এভাবেই আমি জ্ঞানী সমাজের জন্যে আমার আয়াতসমূহ খুলে খুলে বর্ণনা করি।
৩৩. তুমি (এদের আরো) বলো, হাঁ, আমার মালিক যা কিছু হারাম করেছেন তা হচ্ছে যাবতীয় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীল কাজ, গুনাহ ও অন্যায়ভাবে বাড়াবাড়ি করা, (তিনি আরো হারাম করেছেন) আল্লাহর সাথে (অন্য কাউকে) শরীক করা, যার ব্যাপারে তিনি কখনো কোনো সনদ নাযিল করেননি এবং আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে তোমাদের এমন সব (বাজে) কথা বলা, যার ব্যাপারে তোমাদের কোনোই জ্ঞান নেই।
৩৪. প্রত্যেক জাতির জন্যেই (তার উত্থান-পতনের) একটি সুনির্দিষ্ট মেয়াদ রয়েছে, যখন তাদের সে মেয়াদ আসবে তখন তারা একদন্ড বিলম্বও করবে না, তেমনি তারা এক মুহূর্ত এগিয়েও আসবে না।
৩৫. হে আদম সন্তানরা (শুরুতেই আমি তোমাদের বলেছিলাম), যখনি তোমাদের কাছে তোমাদের মধ্য থেকে রসূলরা আসবে, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াত পড়ে শোনাবে, তখন যারা (সে অনুযায়ী) আমাকে ভয় করবে এবং (নিজেদের) সংশোধন করে নেবে, তাদের কোনোই ভয় থাকবে না, তারা কখনো দুশ্চিন্তাগ্রস্তুও হবে না। ৩৬. আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এবং বড়াই করে এ (সত্য) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তারাই হবে জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরদিন অবস্থান করবে।
৩৭. যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে মিথ্যা আরোপ করে কিংবা তাঁর আয়াতকে মিথ্যা সাব্যস্তু করে, তার চাইতে বড়ো যালেম আর কে? এরা হচ্ছে সেসব ব্যক্তি, যারা কেতাবে (বর্ণিত দুর্ভাাগ্য থেকে) তাদের নিজেদের অংশ পেতে থাকবে; এমনিভাবে (তাদের মৃত্যুর সময়) তাদের কাছে আমার ফেরেশতারা যখন এসে হাযির হবে, তখন তারা বলবে (বলো), তারা (এখন) কোথায় যাদের তোমরা আল্লাহ তায়ালার বদলে ডাকতে; তারা বলবেÑ আজ সবাই (আমাদের ছেড়ে) সরে গেছে, তারা (সেদিন) সবাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, তারা সত্যিই কাফের ছিলো।
৩৮. আল্লাহ তায়ালা বলবেন, তোমাদের আগে যেসব মানুষের দল, জ্বিনের দল গত হয়ে গেছে, তাদের সাথে তোমরাও আজ সবাই জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করো; এমনি করে যখন এক একটি জনগোষ্ঠী (জাহান্নামে) দাখিল হতে থাকবে, তখন তারা তাদের (আদর্শগত ভাই) বোনদের ওপর লানত দিতে থাকবে, এভাবে (লানত দিতে দিতে) যখন সবাই সেখানে গিয়ে একত্র হবে, তখন তাদের শেষের দলটি পূর্ববর্তী দলের ব্যাপারে বলবে, হে আমাদের মালিক, এরাই হচ্ছে সেসব লোক যারা আমাদের গোমরাহ করেছিলো, তুমি এদের জাহান্নামের শাস্তিু দ্বিগুণ করে দাও; আল্লাহ তায়ালা বলবেন, (আজ) তোমাদের প্রত্যেকের (শাস্তিু) হবে দ্বিগুণ, কিন্তু তোমরা তো বিষয়টি জানোই না।
৩৯. তাদের প্রথম দলটি তাদের শেষের দলটিকে বলবে, (হাঁ, আমরা যদি অপরাধী হয়েই থাকি, তবে) তোমাদেরও আমাদের ওপর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব ছিলো না (এ সময়ই আল্লাহর ঘোষণা আসবে), এখন তোমরা সবাই নিজ নিজ কর্মফলের বিনিময়ে (জাহান্নামের) আযাবের স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো।
৪০. অবশ্যই যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং দম্ভভরে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তাদের জন্যে কখনো (রহমতভরা) আসমানের দুয়ার খুলে দেয়া হবে না, যতোক্ষণ পর্যন্ত একটি সুঁচের ছিদ্রপথ দিয়ে একটি উট প্রবেশ করতে না পারবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না; আমি এভাবেই অপরাধীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।
৪১. (সেদিন) তাদের জন্যে (নীচের) বিছানাও হবে জাহান্নামের, (আবার এই জাহান্নামই হবে) তাদের ওপরের আচ্ছাদন, এভাবেই আমি যালেমদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।
৪২. (অপরদিকে) যারা (আমার ওপর) ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আমি (তাদের) কারো ওপর তাদের সাধ্যের বাইরে দায়িত্বভার অর্পণ করি না, এ (নেক) লোকেরাই হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী, তারা সেখানে চিরদিন থাকবে।
৪৩. তাদের মনের ভেতর (পরস্পরের বিরুদ্ধে) যে ঘৃণাÑবিদ্বেষ (লুকিয়ে) ছিলো তা আমি (সেদিন) বের করে ফেলে দেবো, তাদের (জন্যে নির্দিষ্ট জান্নাতের) পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, (এসব দেখে) তারা বলবে, সমস্তু প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্যে, যিনি আমাদের এ (পুরস্কারের স্থান)-টি দেখিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাদের (হেদায়াতের) পথ না দেখালে আমরা নিজেরা কিছুতেই হেদায়াত পেতাম না, আমাদের মালিকের রসূলরা এক সত্য বিধান নিয়ে এসেছিলো। (এ সময়) তাদের জন্যে ঘোষণা দেয়া হবে, আজ তোমাদের সে (জান্নাতের) উত্তরাধিকারী করে দেয়া হলো, (আর এটা হচ্ছে সেসব কার্যক্রমের প্রতিফল) যা তোমরা দুনিয়ার জীবনে করে এসেছো।
৪৪. (এরপর) জান্নাতের অধিবাসীরা জাহান্নামী লোকদের ডেকে বলবে, আমরা তো আমাদের মালিকের (জান্নাত সংক্রান্ত) ওয়াদা সত্য পেয়েছি, তোমরা কি তোমাদের মালিকের ওয়াদাসমূহ সঠিক পাওনি? তারা বলবে, হাঁ, অতপর তাদের মাঝে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবে, যালেমদের ওপর আল্লাহ তায়ালার লানত হোক,
৪৫. যারা মানুষদের আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে বিরত রাখতে চাইতো এবং তাকে শুধু বাঁকা করতে চাইতো, আর তারা শেষ বিচারের দিনকেও অস্বীকার করতো।
৪৬. (জান্নাত ও জাহান্নাম,) তাদের উভয়ের মাঝে একটি দেয়াল থাকবে, (এই দেয়ালের) উঁচু স্থানের ওপর থাকবে (আরেক দলের) কিছু লোক, যারা (সেখানে আনীত) প্রতিটি ব্যক্তিকে তাদের নিজ নিজ চিহ্ন অনুযায়ী চিনতে পারবে, তারা জান্নাতের অধিবাসীদের ডেকে বলবে, তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। এরা (যদিও) তখন পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করেনি, কিন্তু (প্রতি মুহূর্তে) এরা সেখানে প্রবেশ করার আগ্রহ পোষণ করছে।
৪৭. অতপর যখন তাদের দৃষ্টি জাহান্নামের অধিবাসীদের (আযাবের) দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে, (তখন) তারা বলবে, হে আমাদের মালিক, (তুমি) আমাদের এ যালেম সম্পদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।
৪৮. অতপর (পার্থক্য নির্ণয়কারী সে দেয়ালের) উঁচু স্থানে অবস্থানকারী ব্যক্তিরা (জাহান্নামের) কিছু লোককেÑ যাদের তারা কোনো (বিশেষ) লক্ষণের ফলে চিনতে পারবেÑ ডেকে বলবে, (কই) তোমাদের দলবল কোনোটাই তো (আজ) কাজে এলো না, না (কাজে এলো) তোমাদের অহংকার, যা তোমরা করতে!
৪৯. (অপরদিকে আজ চেয়ে দেখো মোমেনদের প্রতি,) এরা কি সে সব লোক নয়, যাদের ব্যাপারে তোমরা কসম করে বলতে, আল্লাহ তায়ালা এদের তাঁর রহমতের কোনো অংশই দান করবেন না; (অথচ আজ এদেরকেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,) তোমরা সবাই জান্নাতে প্রবেশ করো, তোমাদের কোনোই ভয় নেই, না তোমরা দুশ্চিন্তাগ্রস্তু হবে। ৫০. (এবার) জাহান্নামের অধিবাসীরা জান্নাতের লোকদের ডেকে বলবে, আমাদের ওপর সামান্য কিছু পানি (অন্তু) ঢেলে দাও, অথবা আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে রেযেক দান করেছেন তার কিয়দংশ (আমাদের দাও); তারা বলবে, আল্লাহ তায়ালা (আজ) এ দুটি জিনিস (সে সব) কাফেরদের জন্যে হারাম করেছেন,
৫১. যারা দ্বীনকে খেল-তামাশায় পরিণত করে রেখেছিলো এবং পার্থিব জীবন তাদের প্রতারণা (-র জালে) আটকে রেখেছিলো, তাদের আজ আমি (ঠিক) সেভাবেই ভুলে যাবো যেভাবে তারা (আমার) সামনা সামনি হওয়ার এ দিনটিকে ভুলে গেছে এবং আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে।
৫২. আমি তাদের কাছে এমন একটি কিতাব নিয়ে এসেছিলাম, যা আমি (বিশদ) জ্ঞান দ্বারা (সমৃদ্ধ করে) বর্ণনা করেছি, যারা (এর ওপর) ঈমান আনবে, এ কিতাব (হবে) তাদের জন্যে (সুস্পষ্ট) হেদায়াত ও রহমত।
৫৩. এরা কি (চূড়ান্ত কোনো) পরিণামের জন্যে অপেক্ষা করছে? যেদিন (সত্যি সত্যিই) সে পরিণাম তাদের কাছে আসবে, সেদিন যারা ইতিপূর্বে এ (দিনটি)Ñকে ভুলে গিয়েছিলোÑ তারা বলবে, অবশ্যই আমাদের মালিকের পক্ষ থেকে আমাদের রসূলরা (এ দিনের) সত্য (প্রতিশ্রুতি) নিয়েই এসেছিলো, আমাদের জন্যে (আজ) কোনো সুপারিশকারী কি আছে, যারা আমাদের পক্ষে (আল্লাহর কাছে) কিছু বলবে, অথবা (এমন কি হবে যে,) আমাদের পুনরায় (দুনিয়ায়) ফিরিয়ে দেয়া হবে, যাতে আমরা (সেখানে গিয়ে) আগে যা করতাম তার চাইতে ভিন্ন ধরনের কিছু করে আসতে পারি, (মূলত) এরাই (হচ্ছে সেসব লোক যারা) নিজেরা নিজেদের ক্ষতি সাধন করেছে এবং (আল্লাহর ওপর) যা কিছু তারা মিথ্যা আরোপ করতো, তাও তাদের কাছ থেকে (আজ) হারিয়ে গেছে।
৫৪. অবশ্যই তোমাদের মালিক আল্লাহ তায়ালা, যিনি ছয় দিনে আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, অতপর তিনি ‘আরশের’ ওপর অধিষ্ঠিত হন। তিনি রাতের পর্দাকে দিনের ওপর ছেয়ে দেন, দ্রুতগতিতে তা একে অন্যকে অনুসরণ করে, (তিনিই সৃষ্টি করেছেন) সুরুজ, চাঁদ ও তারাসমূহ, (মূলত) এর সব কয়টিকেই আল্লাহ তায়ালার বিধানের অধীন করে রাখা হয়েছে; জেনে রেখো, সৃষ্টি (যেহেতু) তাঁর, (সুতরাং তার ওপর) ক্ষমতাও চলবে একমাত্র তাঁর; সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দয়ালু ও বরকতময়।
৫৫. (অতএব) তোমরা (একান্ত) বিনয়ের সাথে ও চুপিসারে শুধু তোমাদের মালিক (আল্লাহ তায়ালা)-কেই ডাকো; অবশ্যই তিনি (তাঁর রাজত্বে) যারা বাড়াবাড়ি করে তাদের পছন্দ করেন না।
৫৬. (আল্লাহর) যমীনে (একবার) তাঁর শান্তি স্থাপনের পর (তাতে) তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তোমরা ভয় ও আশা নিয়ে একমাত্র আল্লাহ তায়ালাকেই ডাকো; অবশ্যই আল্লাহর রহমত নেক লোকদের অতি নিকটে রয়েছে। ৫৭. তিনিই মহান আল্লাহ, যিনি বাতাসকে (বৃষ্টি ও) রহমতের (আগাম) সুসংবাদবাহী হিসেবে (জনপদের দিকে) পাঠান; শেষ পর্যন্ত যখন সে বাতাস (পানির) ভারী মেঘমালা বহন করে (চলতে থাকে), তখন আমি তাকে একটি মৃত জনপদের দিকে পাঠিয়ে দেই, অতপর (সে) মেঘ থেকেই আমি পানি বর্ষণ করি, অতপর তা দিয়ে (যমীন থেকে) আমি সব ধরনের ফলমূল বের করে আনি; এভাবে আমি মৃতকেও (জীবন থেকে) বের করে আনবো, সম্ভবত (এ থেকে) তোমরা কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
৫৮. উৎকৃষ্ট যমীন- (তা থেকে) তার মালিকের আদেশে তার (উৎকৃষ্ট) ফসলই উৎপন্ন হয়, আর যে যমীন বিনষ্ট হয়ে গেছে তা কঠোর পরিশ্রম ব্যতীত কিছুই উৎপন্ন করে না; এভাবেই আমি আমার নিদর্শনসমূহ স্পষ্ট করে বর্ণনা করি এমন এক জাতির জন্যে, যারা (আমার এসব নেয়ামতের) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে।
৫৯. আমি নূহকে তার জাতির কাছে পাঠিয়েছি, অতপর সে তাদের বললো, হে আমার জাতির লোকেরা, তোমরা আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব কবুল করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো মাবুদ নেই; আমি তোমাদের ওপর এক কঠিন দিনের আযাবের আশংকা করছি।
৬০. তার জাতির নেতারা বললো (হে নূহ), আমরা দেখতে পাচ্ছি তুমি এক সুস্পষ্ট গোমরাহীতে (নিমজ্জিত) রয়েছো। ৬১. সে বললো, হে আমার সম্পদায়ের লোকেরা, আমার সাথে কোনো গোমরাহী নেই, আমি তো হচ্ছি সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহর পক্ষ থেকে (আসা) একজন রসূল।
৬২. (আমার কাজ হচ্ছে) আমি আমার মালিকের বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পৌঁছে দেবো এবং (সেমতে) তোমাদের শুভ কামনা করবো, (কেননা আখেরাত সম্পর্কে) আমি আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে এমন কিছু কথা জানি যা তোমরা জানো না।
৬৩. তোমরা কি এতে আশ্চর্যনি¦ত হচ্ছো যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই (মতো) একজন মানুষের ওপর আল্লাহ তায়ালার বাণী এসেছে, যাতে করে সে তোমাদের (আযাব সম্পর্কে) সতর্ক করে দিতে পারে, ফলে তোমরা (সময় থাকতে) সাবধান হবে এবং আশা করা যায় এতে করে তোমাদের ওপর দয়া করা হবে। ৬৪. অতপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, আমি তাকে এবং তার সাথে যারা নৌকায় (আরোহণ করে) ছিলো, তাদের সবাইকে (আযাব থেকে) উদ্ধার করেছি, আর যারা আমার আযাবসমূহকে মিথ্যা বলেছে তাদের আমি (পানিতে) ডুবিয়ে দিয়েছি; এরা ছিলো (আসলেই গোঁড়া ও) অন্ধ।
৬৫. আমি আ’দ জাতির কাছে (পাঠিয়েছিলাম) তাদেরই এক ভাই হূদকে, সে (তাদের) বললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব স্বীকার করো, তিনি ছাড়া তোমাদের দ্বিতীয় কোনো ইলাহ নেই; তোমরা কি (তাঁকে) ভয় করবে না? ৬৬. তার জাতির সরদাররা, যারা (তাকে) অস্বীকার করেছে, তারা বললো, আমরা তো দেখছি তুমি নির্বুদ্ধিতায় লিপ্ত আছো এবং আমরা মনে করি তুমি মিথ্যাবাদীদেরই একজন।
৬৭. সে বললো, হে আমার সম্পদায়ের লোকেরা, আমার সাথে কোনোরকম নির্বুদ্ধিতা জড়িত নেই, বরং আমি (হচ্ছি) সৃষ্টিকুলের মালিক আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে (আগত) একজন রসূল।
৬৮. (আমার দায়িত্ব হচ্ছে) আমি আমার মালিকের (কাছ থেকে আসা) বাণীসমূহ তোমাদের কাছে পৌঁছে দেবো, তোমাদের জন্যে আমি একজন বিশ্বস্তু শুভাকাংখী।
৬৯. তোমরা কি (এটা দেখে) বিস্মিত হচ্ছো যে, তোমাদের কাছে তোমাদেরই (মতো) একজন মানুষের ওপর তোমাদের মালিকের কাছ থেকে তোমাদের (আযাবের) ভয় দেখানোর জন্যে (সুস্পষ্ট কিছু) বাণী এসেছে; স্মরণ করো, কিভাবে আল্লাহ তায়ালা নহের পর তোমাদের এই যমীনে খলীফা বানিয়েছেন এবং অন্যান্য সৃষ্টির চাইতে তিনি তোমাদের বেশী ক্ষমতা দান করেছেন, অতএব (হে আমার জাতি), তোমরা আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহগুলো স্মরণ করো, আশা করা যায় তোমরা সাফল্য লাভ করতে পারবে।
৭০. তারা (হূদকে) বললো, তুমি কি আমাদের কাছে এ জন্যেই এসেছো যে, আমরা কেবল এক আল্লাহর এবাদাত করবো এবং আমাদের পূর্বপুরুষরা যাদের বন্দেগী করেছে তাদের বাদ দিয়ে দেবো (এটাই যদি হয়), তাহলে নিয়ে এসো আমাদের কাছে সে (আযাবের) বিষয়টি, যার ব্যাপারে তুমি আমাদের (এতো) ভয় দেখাচ্ছো, যদি তুমি সত্যবাদী হও!
৭১. সে বললো, তোমাদের ওপর তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে আযাব ও ক্রোধ তো নির্ধারিত হয়েই আছে; তোমরা কি আমার সাথে সে (মিথ্যা মাবুদদের) নামগুলোর ব্যাপারে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও, যা তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা (এমনি এমনিই) রেখে দিয়েছো, যার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কোনো রকম সনদ নাযিল করেননি; (অতএব) তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করতে থাকবো।
৭২. অতপর (যখন আযাব এলো, তখন) আমি তাকে এবং তার সাথে যেসব (ঈমানদার) ব্যক্তি ছিলো, তাদের আমার রহমত দ্বারা (আযাব থেকে) বাঁচিয়ে দিলাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে আমি তাদের নির্মূল করে দিলাম, (কেননা) এরা ঈমানদার ছিলো না।
৭৩. সামুদ জাতির কাছে আমি (পাঠিয়েছিলাম) তাদেরই (এক) ভাই সালেহকে। সে (এসে) বললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহ তায়ালার বন্দেগী করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই; তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন এসে হাযির হয়েছে, (আর তোমাদের জন্যে) এ (নিদর্শনটি) হচ্ছে আল্লাহর উষ্ট্রী, একে তোমরা ছেড়ে দাও যেন তা আল্লাহ তায়ালার যমীনে (বিচরণ করে) খেতে পারে, তোমরা তাকে কোনো খারাপ মতলবে স্পর্শ করো না, তাহলে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) কঠোর আযাব এসে তোমাদের পাকড়াও করবে।
৭৪. স্মরণ করো, যখন আল্লাহ তায়ালা আদ জাতির পর তোমাদের (দুনিয়ার) খলীফা বানিয়েছিলেন এবং আল্লাহ তায়ালার যমীনে তিনি তোমাদের প্রতিষ্ঠা দান করেছেন, (যার) ফলে তোমরা এর সমতল ভূমি থেকে (মাটি নিয়ে তা দিয়ে) প্রাসাদ বানাচ্ছো, আর পাহাড় কেটে কেটে নিজেদের ঘর-বাড়ি তৈরী করতে পারছো, অতএব তোমরা আল্লাহ তায়ালার এ সব (জ্ঞান ও প্রকৌশল সংক্রান্ত) নেয়ামত স্মরণ করো এবং কোনো অবস্থায়ই আল্লাহ তায়ালার যমীনে বিপর্যয় ঘটিয়ো না।
৭৫. তার জাতির সেসব নেতৃস্থানীয় লোক, যারা নিজেদের গৌরবের বড়াই করতোÑ অপেক্ষাকৃত দুর্বল শ্রেণীর লোকদেরÑ যারা তাদের মধ্য থেকে তার ওপর ঈমান এনেছেÑ বললো, তোমরা কি সত্যিই জানো, সালেহ আল্লাহ তায়ালার পাঠানো একজন রসূল; তারা বললো (হাঁ), তার ওপর যে বাণী পাঠানো হয়েছে আমরা তা বিশ্বাস করি।
৭৬. অতপর (সে) অহংকারী লোকেরা বললো, তোমরা যা কিছুতে বিশ্বাস করো আমরা তা অস্বীকার করি।
৭৭. অতপর, তারা উষ্ট্রীটিকে মেরে ফেললো এবং (এর দ্বারা) তারা তাদের মালিকের নির্দেশের স্পষ্ট বিরোধিতা করলো এবং তারা বললো, হে সালেহ (আমরা তো উষ্ট্রীটিকে মেরে ফেললাম), যদি তুমি (সত্যিই) রসূল হয়ে থাকো তাহলে সে (আযাবের) বিষয়টা নিয়ে এসো, যার ওয়াদা তুমি আমাদের দিচ্ছো।
৭৮. অতপর এক প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প তাদের গ্রাস করে ফেললো, ফলে তারা নিজেদের ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো।
৭৯. তারপর সে তাদের কাছ থেকে অন্যদিকে চলে গেলো এবং সে নিজের জাতিকে বললো, আমি আমার মালিকের (সতর্ক) বাণী তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং তোমাদের জন্যে কল্যাণও কামনা করেছিলাম, কিন্তু তোমরা তো কল্যাণকামীদের পছন্দই করো না।
৮০. (আমি) লূতকেও (পাঠিয়েছিলাম), যখন সে তার জাতিকে বলেছিলো, তোমরা এমন এক অশ্লীলতার কাজ করছো, যা তোমাদের আগে সৃষ্টিকুলের আর কেউ (কখনো) করেনি।
৮১. তোমরা যৌন তৃপ্তির জন্যে নারীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের কাছে যাও, তোমরা বরং হচ্ছো বরং এক সীমালংঘনকারী জাতি।
৮২. তার জাতির (তখন) এ কথা বলা ছাড়া আর কোনো জবাবই ছিলো না যে, (সবাই মিলে) তাদের তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, (কেননা) এরা হচ্ছে কতিপয় পাক পবিত্র মানুষ!
৮৩. অতপর (যখন আমার আযাব এলো, তখন) আমি তাকে এবং তার পরিবার-পরিজনকে উদ্ধার করলাম, তার ¯ীকে ছাড়াÑ সে (আযাব কবলিত হয়ে) পেছনের লোকদের মধ্যে শামিল থেকে গেলো।
৮৪. আমি তাদের ওপর প্রচন্ড (আযাবের) বৃষ্টি বর্ষণ করলাম; (হাঁ) অতপর তুমি (ভালো করে) চেয়ে দেখো, অপরাধী ব্যক্তিদের পরিণাম (সেদিন) কী ভয়াবহ হয়েছিলো।
৮৫. আর মাদইয়ানবাসীদের কাছে (আমি পাঠিয়েছিলাম) তাদেরই ভাই শোয়ায়বকে; সে তাদের বললো, হে আমার জাতি, তোমরা এক আল্লাহ তায়ালার বন্দেগী করো, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোনো ইলাহ নেই; তোমাদের কাছে তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন এসে গেছে, অতপর তোমরা (সে মোতাবেক) ঠিক ঠিক মতো পরিমাপ ও ওযন করো, মানুষদের (দেয়ার সময়) কখনো (কম দিয়ে তাদের) ক্ষতিগ্রস্তু করো না, আল্লাহ তায়ালার এ যমীনে (শান্তি ও) সংস্কার স্থাপিত হওয়ার পর তাতে তোমরা (পুনরায়) বিপর্যয় সৃষ্টি করো না; তোমরা যদি (আল্লাহ তায়ালার ওপর) ঈমান আনো তাহলে এটাই (হবে) তোমাদের জন্যে কল্যাণকর।
৮৬. প্রতিটি রাস্তুায় তোমরা এজন্যে বসে থেকো না যে, তোমরা লোকদের ধমক (দেবে ভীত সšস্তু করবে) এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের তোমরা আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে বিরত রাখবে, আর সব সময় (অহেতুক) বক্রতা (ও দোষত্রুটি) খুঁজতে থাকবে; স্মরণ করে দেখো, যখন তোমরা সংখ্যায় ছিলে নিতান্ত কম, অতপর আল্লাহ তোমাদের সংখ্যা বাড়িয়ে দিলেন এবং তোমরা (পুনরায়) চেয়ে দেখো, বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন হয়েছিলো।
৮৭. আমাকে যে বাণী দিয়ে পাঠানো হয়েছে তার ওপর কোনো একটি জনগোষ্ঠী যদি ঈমান আনে, আর একটি দল যদি তার ওপর আদৌ ঈমান না আনে, তারপরও তোমরা ধৈর্য ধারণ করো, যতোক্ষণ না আল্লাহ তায়ালা নিজেই আমাদের মাঝে একটা ফয়সালা করে দেন, তিনিই হচ্ছেন উত্তম ফয়সালাকারী।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY