কোরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ পারা: ০৯, ক্বা-লাল মালাউ, সূরা: আল আ’রাফ ৮৮-২০৬, সূরা আনফাল

0
324

কোরআনের সহজ সরল বাংলা অনুবাদ
পারা: ০৯, ক্বা-লাল মালাউ, সূরা: আল আ’রাফ ৮৮-২০৬, সূরা আনফাল ৪০

৮৮. তার সম্প্রদায়ের কিছু নেতৃস্থানীয় লোক- যারা বড়াই অহংকার করছিলো বললো, হে শোয়ায়ব, আমরা অবশ্যই তোমাকে এবং তোমার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেবো, অথবা তোমাদের অবশ্যই আমাদের জাতিতে ফিরে আসতে হবে; সে বললো, যদি আমরা ইচ্ছুক না হই তাহলেও (কি তাই হবে) ?
৮৯. সেখান থেকে আল্লাহ তায়ালা আমাদের (একবার) মুক্তি দেয়ার পর যদি আমরা আবার তোমাদের জীবনাদর্শে ফিরে আসি, তাহলে আমরা (এর মাধ্যমে) আল্লাহ তায়ালার ওপর মিথ্যা আরোপ করবো; আমাদের পক্ষে এটা কখনো সম্ভব নয় যে, আমরা সেখানে ফিরে যাবো, হাঁ আমাদের মালিক যদি আমাদের ব্যাপারে অন্য কিছু চান (তাহলে সেটা ভিন্ন কথা); অবশ্যই আমাদের মালিকের জ্ঞান সব কিছুর ওপর ছেয়ে আছে; আমরা একান্তভাবে আল্লাহ তায়ালার ওপর নির্ভর করি; (এবং আমরা বলি,) হে আমাদের মালিক, আমাদের এবং আমাদের জাতির মাঝে তুমি (সঠিক একটা) ফয়সালা করে দাও, কারণ তুমিই হচ্ছো সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।
৯০. তার জাতির নেতৃস্থানীয় লোকÑ যারা (আল্লাহ তায়ালার নবীকে) অস্বীকার করেছে, তারা (সে জাতির সাধারণ মানুষদের) বললো, তোমরা যদি শোয়ায়বের অনুসরণ করো তাহলে তোমরা খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৯১. (নবীর কথা অমান্য করার কারণে) একটা প্রচন্ড ভূকসম্পন এসে তাদের (এমনভাবে) আঘাত করলো যে, অতপর দেখতে দেখতে তারা সবাই তাদের নিজ নিজ ঘরেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকলো। ৯২. যারা শোয়ায়বকে অমান্য করলো, তারা এমন (-ভাবে ধ্বংস) হয়ে গেলো (দেখে মনে হয়েছে), এখানে কোনোদিন কেউ বসবাসই করেনি, (বস্তুত) তারাই সেদিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা শোয়ায়বকে অস্বীকার করেছে।
৯৩. এরপর সে (শোয়ায়ব) তাদের কাছ থেকে চলে গেলো, (যাবার সময়) সে বললো, হে আমার জাতি, আমি তোমাদের কাছে আমার মালিকের বাণীসমূহ পৌঁছে দিয়েছিলাম এবং আমি (আন্তরিকভাবেই) তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছিলাম, আমি কেন এমন সব মানুষের জন্যে (আজ) আফসোস করবো যারা আল্লাহকেই অস্বীকার করে!
৯৪. আমি কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠিয়েছিÑ অথচ সেই জনপদে মানুষদের অভাব ও কষ্ট দিয়ে পাকড়াও করিনি, এমনটি কখনো হয়নি, আশা (করা গিয়েছিলো), এর ফলে তারা আল্লাহ তায়ালার কাছে বিনয়াবনত হবে।
৯৫. অতপর আমি তাদের দুঃখ-কষ্টের জায়গাকে সচ্ছল অবস্থার দ্বারা বদলে দিয়েছি, এমনকি যখন তারা (আমার নেয়ামত দ্বারা) প্রাচুর্য লাভ করলো, তখন তারা (আমাকেই ভুলে বসলো এবং) বললো, সচ্ছলতা ও অসচ্ছলতা তো আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপরও এসেছে, অতপর আমি তাদের এমন আকস্মিকভাবে পাকড়াও করলাম যে, তারা টেরও পেলো না।
৯৬. অথচ যদি সেই জনপদের মানুষগুলো (আল্লাহ তায়ালার ওপর) ঈমান আনতো এবং (আল্লাহ তায়ালাকে) ভয় করতো, তাহলে আমি তাদের ওপর আসমানÑযমীনের যাবতীয় বরকতের দুয়ার খুলে দিতাম, কিন্তু (তা না করে) তারা (আমার নবীকেই) মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, সুতরাং তাদের কর্মকান্ডের জন্যে আমি তাদের (ভীষণভাবে) পাকড়াও করলাম।
৯৭. (এ) লোকালয়ের মানুষগুলো কি এতোই নির্ভয় হয়ে গেছে (তারা মনে করে নিয়েছে), আমার আযাব (নিঝুম) রাতে তাদের কাছে আসবে না, যখন তারা (গভীর) ঘুমে (বিভোর হয়ে) থাকবে! ৯৮. অথবা জনপদের মানুষগুলো কি নির্ভয় হয়ে ধরে নিয়েছে যে, আমার আযাব তাদের ওপর মধ্য দিনে এসে পড়বে নাÑ যখন তারা খেল-তামাশায় মত্ত থাকবে।
৯৯. কিংবা তারা কি আল্লাহ তায়ালার কলা-কৌশল থেকেও নির্ভয় হয়ে গেছে, অথচ আল্লাহ তায়ালার কলা-কৌশল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জাতি ছাড়া অন্য কেউই নিশ্চিন্ত হতে পারে না।
১০০. (আগের) লোকদের চলে যাওয়ার পর (তাদের জায়গায়) যারা পরে দুনিয়ার উত্তরাধিকারী হয়েছে, তাদের কি এ বিষয়টি কখনো হেদায়াতের পথ দেখায় না যে, আমি ইচ্ছা করলে (যে কোনো সময়ই) তাদের অপরাধের জন্যে তাদের পাকড়াও করতে পারি এবং (এমনভাবে) তাদের দিলের ওপর মোহর মেরে দিতে পারি যে, তারা (সত্যের ডাক) শুনতেই পাবে না।
১০১. এই যে জনপদসমূহÑ যাদের কিছু কিছু কাহিনী আমি তোমাকে শোনাচ্ছি, তাদের কাছে আমার সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে রসূলরা এসেছিলো, কিন্তু তারা যে বিষয়টি এর আগে অস্বীকার করেছিলো, তার ওপর ঈমান আনলো না; আর এভাবেই আল্লাহ তায়ালা অবিশ্বাসী কাফেরদের অন্তরে মোহর মেরে দেন।
১০২. আমি এদের বেশী সংখ্যক মানুষকেই (আমার সাথে সম্পাদিত) প্রতিশ্রুতির পালনকারী হিসেবে পাইনি, বরং এদের অধিকাংশকেই আমি (বড়ো বড়ো অপরাধে) অপরাধী পেয়েছি।
১০৩. এদের (ধ্বংসের) পর আমি মূসাকে আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ দিয়ে ফেরাউন ও তার পারিষদবর্গের কাছে পাঠিয়েছি, কিন্তু তারাও (আমার) নিদর্শনসমূহের সাথে বাড়াবাড়ি করেছে, (আজ) তুমি দেখে নাও, (আমার যমীনে) বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কেমন ছিলো।
১০৪. মূসা বললো, হে ফেরাউন, আমি অবশ্যই সৃষ্টিকুলের মালিকের পক্ষ থেকে পাঠানো একজন রসূল।
১০৫. এটা নিশ্চিত, আমি আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে সত্য ছাড়া অন্য কিছু বলবো না, আমি অবশ্যই তোমাদের মালিকের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছি, অতএব তুমি বনী ইসরাঈলদের (মুক্তি দিয়ে) আমার সাথে যেতে দাও!
১০৬. ফেরাউন বললো, তুমি যদি (সত্যিই তেমন) কোনো নিদর্শন এনে থাকো এবং তুমি যদি (তোমার দাবীতে) সত্যবাদী হও, তাহলে তা (সামনে) নিয়ে এসো! ১০৭. অতপর সে তার হাতের লাঠিটি মাটিতে নিক্ষেপ করলো, সাথে সাথেই তা প্রকাশ্য একটি অজগরে পরিণত হয়ে গেলো। ১০৮. অতপর সে (বগল থেকে) তার হাত বের করলো, সাথে সাথে তা (উৎসাহী) দর্শকদের জন্যে চমকাতে লাগলো।
১০৯. (অবস্থা দেখে) ফেরাউনের জাতির প্রধান ব্যক্তিরা বললো, এ তো (দেখছি আসলেই) একজন সুদক্ষ যাদুকর!
১১০. (আসলে) এ ব্যক্তি তোমাদের সবাইকে তোমাদের (নিজেদের) দেশ থেকেই বের করে দিতে চায়, (এ পরিস্থিতিতে) তোমরা (আমাকে) কি পরামর্শ দিচ্ছো?
১১১. (অতপর) তারা ফেরাউনকে বললো, আপাতত তাকে এবং তার ভাইকে কিছু দিনের জন্যে এমনিই থাকতে দাও এবং (এ সুযোগে) তোমরা শহরে-বন্দরে (সরকারী) সংগ্রাহক পাঠিয়ে দাও। ১১২. যেন তারা দেশের সকল দক্ষ যাদুকরদের (অবিলম্বে) তোমার কাছে নিয়ে আসে।
১১৩. (সিদ্ধান্ত মোতাবেক) যাদুকররা যখন ফেরাউনের কাছে এলো, তখন তারা বললো, আমরা যদি (আজ মূসার মোকাবেলায়) বিজয়ী হই, তবে আমাদের জন্যে নিশ্চিত পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকবে তো!
১১৪. সে বললো, হাঁ (তা তো অবশ্যই) এবং তোমরাই হবে (দরবারের) ঘনিষ্ঠতম ব্যক্তিদের অন্যতম।
১১৫. (এবার) যাদুকররা বললো, হে মূসা, (যাদুর বাণ) তুমি আগে নিক্ষেপ করবে না আমরা আগে তা নিক্ষেপ করবো।
১১৬. সে বললো, তোমরাই (বরং) আগে নিক্ষেপ করো, অতপর তারা (তাদের বাণ) নিক্ষেপ করে মানুষদের দৃষ্টিশক্তির ওপর যাদু করে ফেললো, (এতে করে) তারা মানুষদের ভীত-আতংকিত করে তুললো, তারা (সেদিন সত্য সত্যই) বড়ো যাদুমন্ত্র নিয়ে হাযির হয়েছিলো।
১১৭. অতপর আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম এবং তাকে বললাম, এবার তুমি (যমীনে) তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ করো, (নিক্ষিপ্ত হবার সাথে সাথেই) তা যাদুকরদের অলীক বানোয়াটগুলোকে গ্রাস করে ফেললো।
১১৮. অতপর সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো, আর তারা যা কিছু বানিয়ে এনেছিলো তা মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো।
১১৯. সেখানে তারা সবাই পরাভূত হলো এবং তারা লাঞ্ছিত হয়ে (ফিরে) গেলো।
১২০. অতপর (সত্যের সামনে) যাদুকরদের অবনত করে দেয়া হলো।
১২১. তারা (সবাই সমস্বরে) বলে উঠলো, আমরা সৃষ্টিকুলের মালিকের ওপর ঈমান আনলাম,
১২২. (যিনি) মূসা ও হারূনের মালিক।
১২৩. (ঘটনার এই আকস্মিক মোড় পরিবর্তন দেখে) ফেরাউন বললো, (একি!) আমি তোমাদের কোনো রকম অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার ওপর ঈমান আনলে! (আসলে আমি বুঝতে পারলাম,) এ ছিলো তোমাদের সবার নিশ্চিত একটা ষড়যন্ত্র! (এ) নগরে (বসেই) তোমরা তা পাকিয়েছো, যাতে করে তার অধিবাসীদের তোমরা সেখান থেকে বের করে দিতে পারো, অচিরেই তোমরা (এ বিদ্রোহের পরিণাম) জানতে পারবে।
১২৪. আমি অবশ্যই তোমাদের একদিকের হাত ও অন্যদিকের পাগুলো কেটে ফেলবো, এরপর আমি তোমাদের সবাইকে শুলে চড়াবো।
১২৫. তারা বললো, আমরা তো (একদিন) আমাদের মালিকের কাছে ফিরে যাবোই (তাই আমরা তোমার শাস্তির পরোয়া করি না)।
১২৬. তুমি আমাদের কাছ থেকে এ কারণেই (এই) প্রতিশোধ নিচ্ছো যে, আমাদের মালিকের নিদর্শনসমূহ, যা তাঁর কাছ থেকে আমাদের কাছে এসে পৌঁছেছে, আমরা তার ওপর ঈমান এনেছি; (আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি,) হে আমাদের মালিক, তুমি আমাদের ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা দাও এবং (তোমার) অনুগত বান্দা হিসেবে তুমি আমাদের মৃত্যু দিয়ো।
১২৭. ফেরাউনের জাতির সরদাররা তাকে বললো, তুমি কি মূসা ও তার দলবলকে এ যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্যে এমনিই ছেড়ে দিয়ে রাখবে এবং তারা তোমাকে ও তোমার দেবতাদের (এভাবে) বর্জন করেই চলবে? সে বললো (না, তা কখনো হবে না), আমি (অচিরেই) তাদের ছেলেদের হত্যা করে ফেলবো এবং তাদের মেয়েদের আমি জীবিত রাখবো, (নিসন্দেহে) আমি তাদের ওপর বিপুল ক্ষমতায় ক্ষমতাবান।
১২৮. মূসা এবার তার জাতিকে বললো, (তোমরা) আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও এবং ধৈর্য ধারণ করো (মনে রেখো), অবশ্যই এ যমীন (হচ্ছে) আল্লাহ তায়ালার, তিনি নিজ বান্দাদের মাঝে যাকে চান তাকেই এ যমীনের ক্ষমতা দান করেন; চূড়ান্ত সাফল্য তাদের জন্যেইÑ যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে।
১২৯. তারা (মূসাকে) বললো, তুমি আমাদের কাছে (নবী হয়ে) আসার আগেও আমরা নির্যাতিত হয়েছি, আর (এখন) তুমি আমাদের কাছে আসার পরও আমরা একইভাবে নির্যাতিত হচ্ছি; (এর কি কোনো শেষ হবে না?) মূসা বললো (হাঁ, হবে), খুব তাড়াতাড়িই সম্ভবত তোমাদের মালিক তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করে দেবেন এবং (এ) দুনিয়ায় তিনি তোমাদের তার স্থলাভিষিক্ত করবেন, অতপর আল্লাহ তায়ালা দেখবেন তোমরা কিভাবে (তার) কাজ করো!
১৩০. ক্রমাগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমি ফেরাউনের লোকজনদের দুর্ভিক্ষ ও ফসলের স্বল্পতা দিয়ে আক্রান্ত করে রেখেছিলাম, (ভাবছিলাম) সম্ভবত তারা (কিছুটা হলেও) বুঝতে পারবে।
১৩১. যখন তাদের ওপর ভালো সময় আসতো তখন তারা বলতো, এ তো ছিলো আমাদের নিজেদেরই (পাওনা), আবার যখন দুঃসময় তাদের পেয়ে বসতো, তখন নিজেদের দুর্ভাগ্যের ভার তারা মূসা এবং তার সংগী-সাথীদের ওপরই আরোপ করতো; হাঁ, তাদের দুর্ভাগ্যের যাবতীয় বিষয় তো আল্লাহ তায়ালার হাতেই রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই (এ সম্পর্কে) অবহিত নয়।
১৩২. তারা (মূসাকে আরো) বললো, আমাদের ওপর যাদুর প্রভাব বিস্তার করার জন্যে তুমি যতো নিদর্শনই নিয়ে আসো না কেন, আমরা কখনো তোমার ওপর ঈমান আনবো না।
১৩৩. (এ ধৃষ্টতার জন্যে) অতপর আমি তাদের ওপর ঝড়-তুফান (দিলাম), পংগপাল (পাঠালাম), উকুন (ছড়ালাম), ব্যাঙ (ছেড়ে দিলাম) ও রক্ত (-পাতজনিত বিপর্যয়) নাযিল করলাম, এর সবকয়টিই (তাদের কাছে এসেছিলো আমার এক একটা) সুস্পষ্ট নিদর্শন (হিসেবে, কিন্তু এ সত্ত্বেও) তারা অহংকার বড়াই করতেই থাকলো, আসলেই তারা ছিলো একটি অপরাধী জাতি।
১৩৪. যখনি তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় আসতো, তখন তারা বলতো হে মূসা! তোমার প্রতি প্রদত্ত তোমার মালিকের প্রতিশ্রুতি মতো তুমি আমাদের জন্যে তোমার মালিকের কাছে দোয়া করো, যদি (এবারের মতো) আমাদের ওপর থেকে এ বিপদ দূর করে দাও, তাহলে অবশ্যই আমরা তোমার ওপর ঈমান আনবো এবং বনী ইসরাঈলদেরও তোমার সাথে যেতে দেবো।
১৩৫. অতপর যখনি তাদের ওপর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যেÑ যে সময়টুকু সে জন্যে নির্ধারিত ছিলোÑ সে বালা-মসিবত আমি অপসারণ করে নিতাম, তখন সাথে সাথেই তারা ওয়াদা ভংগ করে ফেলতো।
১৩৬. অতপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিলাম, তাদের আমি সাগরে ডুবিয়ে দিলাম, কেননা, তারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলো এবং (আমার) এ (শাস্তি) থেকে তারা উদাসীন হয়ে গিয়েছিলো।
১৩৭. এবার আমি (সত্যি সত্যিই) তাদের ক্ষমতার আসনে বসিয়ে দিলাম, যাদের (এতোদিন) দুর্বল করে রাখা হয়েছিলো, (তাদের আমি) এ রাজ্যের পূর্ব-পশ্চিম (-সহ সব কয়টি) প্রান্তের অধিকারী বানিয়ে দিলাম, যাতে আমি আমার প্রভূত কল্যাণ ছড়িয়ে দিয়েছি, (এভাবেই) বনী ইসরাঈলের ওপর প্রদত্ত তোমার মালিকের (প্রতিশ্রুতির) সেই কল্যাণবাণী সত্যে পরিণত হলো, কেননা তারা ধৈর্য ধারণ করেছিলো; ফেরাউন ও তার জাতির যাবতীয় শিল্পকর্ম ও উঁচু প্রাসাদÑযা তারা নির্মাণ করেছিলো, আমি সব কিছুই ধ্বংস করে দিলাম।
১৩৮. (ফেরাউনকে ডুবিয়ে মারার পর) আমি বনী ইসরাঈলদের সমুদ্র পার করিয়ে দিয়েছি, অতপর (সমুদ্রের ওপারে) তারা এমন একটি জাতির কাছে এসে পেঁৗঁছলো, যারা (সব সময়) তাদের মূর্তিদের ওপর পূজার অর্ঘ দেয়ার জন্যে বসে থাকতো, (এদের দেখে বনী ইসরাঈলের) লোকেরা বললো, হে মূসা, তুমি আমাদের জন্যেও (এ ধরনের) একটি দেবতা বানিয়ে দাও, যেমন দেবতা রয়েছে এদের; (এ কথা শুনে) সে তাদের বললো, তোমরা হচ্ছো আসলেই এক মূর্খ জাতি।
১৩৯. এ লোকেরা যেসব কাজে লিপ্ত রয়েছে, তা (একদিন) ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং এরা যা করছে তাও সম্পর্ণ বাতিল (বলে গণ্য) হবে।
১৪০. মূসা (আরো) বললো, আমি কি তোমাদের জন্যে আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে অন্য একজন মাবুদ তালাশ করতে যাবোÑ অথচ এই আল্লাহ তায়ালাই তোমাদের দুনিয়ার সব কিছুর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন।
১৪১. (তা ছাড়া তোমাদের সে সময়ের কথা স্মরণ করা উচিত,) যখন আমি তোমাদের ফেরাউনের লোকজনদের কাছ থেকে মুক্ত করেছিলাম, তারা তোমাদের মর্মান্তিক শাস্তি দিতো, তারা তোমাদের পুত্র-সন্তানদের হত্যা করতো, আর তোমাদের মেয়েদের তারা জীবিত ছেড়ে দিতো; এতে তোমাদের জন্যে তোমাদের পরোয়ারদেগারের পক্ষ থেকে এক মহা পরীক্ষা নিহিত ছিলো।
১৪২. মূসাকে (আমার কাছে ডাকার জন্যে) আমি তিরিশটি রাত নির্ধারণ করে দিয়েছিলাম, (পরে) তাতে আরো দশ মিলিয়ে তা পূর্ণ করেছি, এভাবেই তার জন্যে তার মালিকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, (যাত্রার প্রাক্কালে) মূসা তার ভাই হারূনকে বললো, (আমার অবর্তমানে) আমার লোকদের মাঝে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, তাদের (প্রয়োজনীয়) সংশোধন করবে, কখনো বিশৃংখলা সৃষ্টিকারীদের কথামতো চলবে না।
১৪৩. যখন মূসা আমার সাক্ষাতের জন্যে (নির্ধারিত স্থানে) এসে পৌঁছলো এবং তার মালিক তার সাথে কথা বললেন, তখন সে বললো, হে আমার মালিক, আমাকে (তোমার কুদরত) দেখাও, আমি তোমার দিকে তাকাই; তিনি বললেন (না), তুমি কখনো আমাকে দেখতে পাবে না, তুমি বরং (অনতিদরের) পাহাড়টির দিকে তাকিয়ে দেখো, যদি (আমার নূর দেখার পর) পাহাড়টি স্বস্থানে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তাহলে তুমি অবশ্যই (সেখানে) আমায় দেখতে পাবে, অতপর যখন তার মালিক পাহাড়ের ওপর (স্বীয়) জ্যোতি নিক্ষেপ করলেন, তখন তা পাহাড়কে চর্ণ-বিচর্ণ করে দিলো, (সাথে সাথেই) মূসা বেহুশ হয়ে গেলো, পরে যখন সে সংজ্ঞা ফিরে পেলো তখন সে বললো, মহাপবিত্রতা তোমার (হে আল্লাহ), আমি তোমার কাছে তাওবা করছি, আর তোমার ওপর ঈমান আনয়নকারীদের মধ্যে আমিই (হতে চাই) প্রথম।
১৪৪. আল্লাহ তায়ালা বললেন, হে মূসা, আমি মানুষের মাঝ থেকে তোমাকে আমার নবুওত ও আমার সাথে বাক্যালাপের মর্যাদা দিয়ে বাছাই করে নিয়েছি, অতএব আমি তোমাকে (হেদায়াতের) যা কিছু (বাণী) দিয়েছি তা (নিষ্ঠার সাথে) গ্রহণ করো এবং (এ জন্যে তুমি আমার) কৃতজ্ঞতা আদায় করো।
১৪৫. এই ফলকের মধ্যে আমি তার জন্যে সর্ববিষয়ের উপদেশমালা ও সব কিছুর বিস্তারিত বিবরণ লিখে দিলাম, অতএব একে (শক্ত করে) আঁকড়ে ধরো এবং তোমার জাতির লোকদের বলো, তারা যেন এর উৎকৃষ্ট অংশ গ্রহণ করে; অচিরেই আমি তোমাদের (সেসব ধ্বংসপ্রাপ্ত) পাপীদের আস্তানা দেখাবো।
১৪৬. অচিরেই আমি সেসব মানুষের দৃষ্টি আমার (এসব) নিদর্শন থেকে (ভিন্ন দিকে) ফিরিয়ে দেবো, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে বাহাদুরী করে বেড়ায়; (আসলে) এ লোকেরা যদি (অতীত ধ্বংসাবশেষের) সব কয়টি চিহ্নও দেখতে পায়, তবু তারা তার ওপর ঈমান আনবে না, যদি তারা সঠিক পথ দেখতেও পায়, তবু তারা (পথকে) পথ বলে গ্রহণ করবে না, যদি এর কোথাও কোনো বাঁকা পথ তারা দেখতে পায়, তাহলে তাকেই (অনুসরণযোগ্য) পথ হিসেবে গ্রহণ করবে; এটা এ কারণে যে, তারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, এবং তারা এ (আযাব) থেকেও উদাসীন ছিলো।
১৪৭. যারা আমার আয়াতসমূহ ও পরকালে আমার সামনা সামনি হওয়ার বিষয়কে অস্বীকার করবে, তাদের সব কার্যকলাপই বিনষ্ট হয়ে যাবে; আর তারা (এ দুনিয়ায়) যা কিছু করবে তাদের তেমনিই প্রতিফল দেয়া হবে।
১৪৮. মূসার জাতির লোকেরা তার (তূর পর্বতে গমনের) পর নিজেদের অলংকার দিয়ে একটি গো-বাছুর বানিয়ে নিলো, (তা ছিলো জীবনবিহীন) একটি দেহমাত্রÑ যার আওয়ায ছিলো শুধু (গরুর) হাম্বা রব; এ লোকেরা কি দেখতে পায় না যে, সে (দেহ)-টি তাদের সাথে কোনো কথা বলে না, না সেটি তাদের কোনো পথের দিশা দেয়, কিন্তু এ সত্ত্বেও তারা সেটিকে (মাবুদ বলে) গ্রহণ করলো, তারা ছিলো (আসলেই) যালেম।
১৪৯. অতপর যখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং (নিজেরা) এটা দেখতে পেলো যে, তারা গোমরাহ হয়ে গেছে, তখন তারা বললো, আমাদের মালিক যদি আমাদের ওপর দয়া না করেন এবং (গো-বাছুরকে মাবুদ বানানোর জন্যে) যদি তিনি আমাদের ক্ষমা না করেন, তাহলে আমরা নিশ্চিত ধ্বংস হয়ে যাবো।
১৫০. (কিছু দিন পর) মূসা যখন ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের লোকজনের কাছে ফিরে এলো, তখন সে (এসব কথা শুনে) বললো, আমার (তূর পর্বতে যাওয়ার) পর তোমরা কি জঘন্য কাজই না করেছো! তোমরা কি তোমাদের মালিকের কাছ থেকে (কোনো পরিষ্কার) আদেশ আসার আগেই (তোমরা আল্লাহর আদেশের ব্যাপারে) তাড়াহুড়া (শুরু) করলে! (রাগে ও ক্ষোভে) সে ফলকগুলো ফেলে দিলো এবং তার ভাইর মাথা (-র চুল) ধরে তাকে নিজের দিকে টেনে আনলো; (মূসাকে লক্ষ্য করে) সে বললো, হে আমার মায়ের ছেলে (আমার সহোদর ভাই), এ জাতির লোকগুলো আমাকে দুর্বল করে দিতে চেয়েছিলো, তারা (এক পর্যায়ে) আমাকে তো মেরেই ফেলতে চেয়েছিলো, তুমি (আজ) আমার সাথে এমন কোনো আচরণ করো না যা শত্র“দের আনন্দিত করবে, আর তুমি আমাকে কখনো যালেম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত করো না।
১৫১. সে (মূসা) বললো, হে আমার মালিক, আমাকে ও আমার ভাইকে তুমি মাফ করে দাও এবং তুমি আমাদের তোমার রহমতের মধ্যে দাখিল করে নাও, তুমিই সবচাইতে বড়ো দয়াবান। ১৫২. (আল্লাহ তায়ালা মূসাকে বললেন, হাঁ,) যেসব লোক গরুর বাছুরকে মাবুদ বানিয়েছে, অচিরেই তাদের ওপর তাদের মালিকের পক্ষ থেকে ‘গযব’ আসবে, আর দুনিয়ার জীবনেও (তাদের ওপর আসবে) অপমান এবং লাঞ্ছনা; আল্লাহ তায়ালার নামে মিথ্যা কথা রটনাকারীদের আমি এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি।
১৫৩. যেসব লোক অন্যায় কাজ করেছে, এরপর তারা তাওবা করেছে এবং (যথাযথ) ঈমান এনেছে, নিশ্চয়ই এ (যথার্থ) তাওবার পর তোমার মালিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু (হিসেবে তাদের সাথে আচরণ করবেন)।
১৫৪. পরে যখন মূসার ক্রোধ (কিছুটা) প্রশমিত হলো, তখন সে (তাওরাতের) ফলকগুলো তুলে নিলো, তার পাতায় হেদায়াত ও রহমত (সম্বলিত কথাবার্তা লিখিত) ছিলো এমন সব লোকের জন্যে, যারা তাদের মালিককে ভয় করে।
১৫৫. মূসা তার সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে (এবার) সত্তর জন লোককে আমার নির্ধারিত সময়ে সমবেত হবার জন্যে বাছাই করে নিলো, যখন এক প্রচন্ড ভূকসম্পন এসে তাদের আক্রমণ করলো (তখন) মূসা বললো, হে আমার মালিক, তুমি চাইলে তাদের সবাইকে ও আমাকে আগেই ধ্বংস করে দিতে পারতে; (আজ) আমাদের মধ্যকার কয়েকটি নির্বোধ মানুষ যে আচরণ করেছে, (তার জন্যে) তুমি কি আমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দেবে! অথচ এ ব্যাপারটা তোমার একটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়; এ (পরীক্ষা) দিয়ে যাকে চাও তাকে তুমি বিপথগামী করো, আবার যাকে চাও তাকে সঠিক পথও তো দেখাও! তুমি হচ্ছো আমাদের অভিভাবক, অতএব তুমি আমাদের ক্ষমা করে দাও, আমাদের ওপর তুমি দয়া করো, কেননা তুমিই হচ্ছো সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষমার আধার।
১৫৬. তুমি আমাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ লিখে দাও, হেদায়াতের জন্যে আমরা তোমার দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি; আল্লাহ তায়ালা বললেন (হাঁ), আমার শাস্তি আমি যাকে ইচ্ছা তাকেই দেই, আর আমার দয়া তো (আসমান-যমীনের) সবকয়টি জিনিসকেই পরিবেষ্টন করে রেখেছে; আমি অবশ্যই তা লিখে দেবো এমন লোকদের জন্যে, যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে, যারা যাকাত আদায় করে, (সর্বোপরি) যারা আমার আয়াতসমূহের ওপর ঈমান আনে।
১৫৭. যারা এই বার্তাবাহক নিরক্ষর রসূলের অনুসরণ করে চলেÑ যার উল্লেখ তাদের (কিতাব) তাওরাত ও ইনজীলেও তারা দেখতে পায়, যে (নবী) তাদের ভালো কাজের আদেশ দেয়, মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে, যে তাদের জন্যে যাবতীয় পাক জিনিসকে হালাল ও নাপাক জিনিসসমূহকে তাদের ওপর হারাম ঘোষণা করে, তাদের ঘাড় থেকে (মানুষের গোলামীর) যে বোঝা ছিলো তা সে নামিয়ে দেয় এবং (মানুষের চাপানো) যেসব বন্ধন তাদের গলার ওপর (ঝুলানো) ছিলো তা সে খুলে ফেলে; অতপর যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, যারা তাকে সাহায্য সহযোগিতা করে, (সর্বোপরি) তার সাথে (কোরআনের) যে আলো পাঠানো হয়েছে তার অনুসরণ করে, তারাই হচ্ছে সফলকাম।
১৫৮. (হে মোহাম্মদ,) তুমি বলো, হে মানুষ, আমি তোমাদের সবার কাছে আল্লাহ তায়ালার রসূল (হিসেবে এসেছি), আল্লাহ তায়ালা যিনি আকাশমন্ডল ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের একচ্ছত্র মালিক, তিনি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই, তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান, অতএব তোমরা (সেই) মহান আল্লাহ তায়ালার ওপর ঈমান আনো, তাঁর বার্তাবাহক নিরক্ষর রসলের ওপরও তোমরা ঈমান আনো, যে (রসূল নিজেও) আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর বাণীতে বিশ্বাস করে এবং তোমরা তাঁকে অনুসরণ করো, আশা করা যায় তোমরা সঠিক পথের সন্ধান পাবে।
১৫৯. মূসার জাতির মধ্যে এমন একটি সম্প্রদায়ও আছে, যারা (অন্যদের) সত্যের পথ দেখায় এবং নিজেরাও সে অনুযায়ী ইনসাফ করে।
১৬০. আমি তাদের বারোটি গোত্রে ভাগ করে তাদের স্বতন্ত্র দলে পরিণত করে দিয়েছি, মূসার সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন তার কাছে পানি চাইলো, তখন আমি মূসার কাছে ওহী পাঠালাম, তুমি তোমার হাতের লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করো, অতপর তা থেকে বারোটি ঝর্ণাধারা উদ্ভূত হলো; প্রত্যেক দল তাদের (নিজেদের) পানি পান করার স্থান চিনে নিলো; আমি তাদের ওপর মেঘের ছায়াও বিস্তার করে দিলাম, তাদের কাছে ‘মান’ ও ‘সালওয়া’ (নামক উৎকৃষ্ট খাবার) পাঠালাম; (তাদের আমি এও বললাম,) তোমাদের আমি যেসব পবিত্র জিনিস দান করেছি তা তোমরা খাও; (আমার কৃতজ্ঞতা আদায় না করে) তারা আমার ওপর কোনো যুলুম করেনি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর যুলুম করেছে।
১৬১. (সে সময়ের কথাও স্মরণ করো,) যখন তাদের বলা হয়েছিলো, তোমরা এই জনপদে গিয়ে বসবাস করো এবং সেখান থেকে যা কিছু চাও তোমরা আহার করো এবং বলো (হে মালিক), আমরা তোমার কাছে ক্ষমা চাই, আর (যখনি সেই) জনপদের দ্বারপথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করবে, (তখন) সাজদাবনত অবস্থায় প্রবেশ করবে, আমি তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবো; আমি অচিরেই উত্তম লোকদের অতিরিক্ত দান করবো।
১৬২. কিন্তু তাদের মধ্যে যারা যালেম ছিলো, তারা তাদের যা (করতে) বলা হয়েছিলো তা সম্পর্ণ বদলে দিয়ে ভিন্ন কথা বললো, তাই আমিও তাদের এ যুলুমের শাস্তি হিসেবে তাদের ওপর আসমান থেকে আযাব পাঠালাম।
১৬৩. তাদের কাছ থেকে সেই জনপদের কথা জিজ্ঞেস করো, যা ছিলো সাগরের পাড়ে (অবস্থিত)। যখন সেখানকার মানুষরা শনিবারে (আল্লাহ তায়ালার বেঁধে দেয়া) সীমালংঘন করতো, (আসলে) শনিবারেই (সাগরের) মাছগুলো তাদের কাছে উঁচু হয়ে পানির উপরিভাগে (ভেসে) আসতো এবং শনিবার ছাড়া অন্য কোনোদিন তা আসতো না, (বস্তুত) তাদের অবাধ্যতার কারণেই আমি তাদের অনুরূপ পরীক্ষা নিচ্ছিলাম।
১৬৪. (আরো স্মরণ করো,) যখন তাদের একদল লোক এও বলছিলো, তোমরা এমন একটি দলকে কেন উপদেশ দিতে যাচ্ছো, যাদের আল্লাহ তায়ালা ধ্বংস করতে, অথবা (গুনাহের জন্যে) যাদের কঠোর শাস্তি দিতে যাচ্ছেন, তারা বললো, এটা হচ্ছে তোমাদের মালিকের দরবারে (নিজেদের) একটা ওযর পেশ করা (যে, আমরা উপদেশ দিয়েছি)। হতে পারে, তারা এর ফলে সাবধান হবে। ১৬৫. অতপর যা তাদের (বার বার) স্মরণ করানো হচ্ছিলো তা তারা সম্পর্ণ ভুলে গেলো, তখন আমি (সে দল থেকে) এমন লোকদের উদ্ধার করলাম, যারা নিজেরা গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকতো, আর কঠিন শাস্তি দিয়ে পাকড়াও করলাম তাদেরÑ যারা যুলুম করেছে, তাদের নিজেদের গুনাহর জন্যে (আমি তাদের আযাব দিয়েছিলাম)।
১৬৬. তাদের যেসব (ঘৃণিত) কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছিলো, যখন তারা তা (ধৃষ্টতার সাথে) করে যাচ্ছিলো, তখন আমি তাদের বললাম, এবার তোমরা সবাই লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।
১৬৭. (স্মরণ করো,) যখন তোমার মালিক (ইহুদীদের উদ্দেশে) ঘোষণা দিলেন, তিনি কেয়ামত পর্যন্ত এ জাতির ওপর এমন লোকদের (শক্তিধর করে) পাঠাতে থাকবেন, যারা তাদের নিকৃষ্ট ধরনের শাস্তি দিতে থাকবে; (একথা) নিশ্চিত, তোমার মালিক (যেমন) সত্বর শাস্তি দান করেন, (তেমনি) তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
১৬৮. আমি তাদের দলে দলে বিভক্ত করে যমীনে ছড়িয়ে দিয়েছি, তাদের মধ্যে কিছু নেককার মানুষ (ছিলো), আবার তাদের কিছু (ছিলো) এর চাইতে ভিন্ন ধরনের, ভালো-মন্দ (উভয়) অবস্থার (সম্মুখীন) করে আমি তাদের পরীক্ষা নিয়েছি এ আশায় যে, হয়তো তারা (কখনো হেদায়াতের পথে) প্রত্যাবর্তন করবে।
১৬৯. (কিন্তু) তাদের (অযোগ্য) উত্তরসুরিরা (একের পর এক) এ যমীনে উত্তরাধিকারী হলো, তারা আল্লাহ তায়ালার কেতাবেরও উত্তরাধিকারী হলো, তারা এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ করায়ত্ত করে নেয়, (অপরদিকে মূর্খের মতো) বলতে থাকে, আমাদের (শেষ বিচারের দিন) মাফ করে দেয়া হবে, কিন্তু (অর্জিত সম্পদের) অনুরূপ সম্পদ যদি তাদের কাছে এসে পড়ে, তারা সাথে সাথেই তা হস্তগত করে নেয়; (অথচ) তাদের কাছ থেকে আল্লাহ তায়ালার কেতাবের এ প্রতিশ্রুতি কি নেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহ তায়ালা সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলবে না! আল্লাহ তায়ালার সেই কেতাবে যা আছে তা তো তারা (নিজেরা বহুবার) অধ্যয়নও করেছে; আর পরকালীন ঘরবাড়ি! (হাঁ) যারা (আল্লাহকে) ভয় করে তাদের জন্যে তো তাই হচ্ছে উত্তম (নিবাস), তোমরা কি (এ বিষয়টি) অনুধাবন করো না ?
১৭০. অপরদিকে যারা আল্লাহর কেতাবকে (কঠোরভাবে) আঁকড়ে ধরে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে (তারা জানে), আমি কখনো সংশোধনকারীদের বিনিময় নষ্ট করি না।
১৭১. যখন আমি তাদের (মাথার) ওপর পাহাড়কে উঁচু করে রেখেছিলাম, মনে হচ্ছিলো তা যেন একটি ছায়া, তারা তো ধরেই নিয়েছিলো, তা বুঝি (এখনি) তাদের ওপর পড়ে যাবে (আমি তাদের বললাম,) তোমাদের আমি (হেদায়াত সম্বলিত) যে কিতাব দিয়েছি তা কঠোরভাবে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যা কিছু আছে তা (বার বার) স্মরণ করো, (এর ফলে) আশা করা যায় তোমরা বেঁচে থাকতে পারবে।
১৭২. (তোমরা স্মরণ করো,) যখন তোমাদের মালিক আদম সন্তানের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের (পরবর্তী) সন্তান-সন্ততিদের বের করে এনেছেন এবং তাদের নিজেদের ওপর (এ মর্মে আনুগত্যের) স্বীকারোক্তি আদায় করেছেন যে, আমি কি তোমাদের মালিক নই? তারা (সবাই) বললো, হাঁ নিশ্চয়ই, আমরা (এর ওপর) সাক্ষ্য দিলাম, (এর উদ্দেশ্য ছিলো) যেন কেয়ামতের দিন তোমরা একথা বলতে না পারো যে, আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম।
১৭৩. কিংবা (একথাও যেন না) বলো যে, আল্লাহর সাথে শেরেক তো আমাদের বাপ-দাদারা আগে করেছেÑ আর আমরা তো ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর, বাতিলপন্থীদের কার্যক্রমের জন্যে কি তুমি আমাদের ধ্বংস করবে?
১৭৪. এভাবেই আমি (অতীতের) দৃষ্টান্তসমূহ তাদের কাছে খোলাখুলি বর্ণনা করি, সম্ভবত এরা (সোজা পথে) ফিরে আসবে।
১৭৫. (হে মোহাম্মদ,) তুমি তাদের কাছে (এমন) একটি মানুষের কাহিনী (পড়ে) শোনাও, যার কাছে আমি (নবীর মাধ্যমে) আমার আয়াতসমূহ নাযিল করেছিলাম, সে তা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, অতপর শয়তান তার পিছু নেয় এবং সে স¤পূর্ণ গোমরাহ লোকদের দলভুক্ত হয়ে পড়ে।
১৭৬. (অথচ) আমি চাইলে তাকে এ (আয়াতসমূহ) দ্বারা উচ্চ মর্যাদা দান করতে পারতাম, কিন্তু সে তো (ঊর্ধ্বমুখী আসমানের বদলে) নিুমুখী যমীনের প্রতিই আসক্ত হয়ে পড়ে এবং (পার্থিব) কামনা-বাসনার অনুসরণ করে। তার উদাহরণ হচ্ছে কুকুরের উদাহরণের মতো, যদি তুমি তাকে দৌড়াতে থাকো তবু সে (জিহ্বা বের করে) হাঁপাতে থাকে, আবার তোমরা সেটিকে ছেড়ে দিলেও সে (জিহ্বা ঝুলিয়ে) হাঁপাতে থাকে; এ হচ্ছে তাদের দৃষ্টান্ত যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে, এ কাহিনীগুলো (তাদের) তুমি পড়ে শোনাও, হয়তো বা তারা চিন্তা-গবেষণা করবে।
১৭৭. যে সম্প্রদায়ের লোকেরা আমার নিদর্শনসমূহ মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে, তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর যুলুম করে আসছে, তাদের উদাহরণ কতোই না নিকৃষ্ট !
১৭৮. আল্লাহ তায়ালা যাকে পথ দেখান সে (সঠিক) পথ প্রাপ্ত হবে, আবার যাকে তিনি গোমরাহ করেন তারা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত (হয়ে পড়ে)।
১৭৯. বস্তুত বহু সংখ্যক মানুষ ও জ্বিন (আছে, যাদের) আমি জাহান্নামের জন্যেই পয়দা করেছি, তাদের কাছে যদিও (বুঝার মতো) দিল আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা চিন্তা করে না, তাদের কাছে (দেখার মতো) চোখ থাকলেও তারা তা দিয়ে (সত্য) দেখে না, আবার তাদের কাছে (শোনার মতো) কান আছে, কিন্তু তারা সে কান দিয়ে (সত্য কথা) শোনে না; (আসলে) এরা হচ্ছে কতিপয় জন্তু-জানোয়ারের মতো, বরং (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) তাদের চাইতেও এরা বেশী প্রথভ্রষ্ট, এসব লোকেরা (দারুণ) উদাসীন।
১৮০. আল্লাহ তায়ালার জন্যেই যাবতীয় সুন্দর নামসমূহ (নিবেদিত), অতএব তোমরা সে সব ভালো নামেই তাঁকে ডাকো এবং সেসব লোকের কথা ছেড়ে দাও যারা তাঁর নামে বিকৃতি ঘটায়; যা কিছু তারা (দুনিয়ার জীবনে) করে এসেছে, অচিরেই তার যথাযথ ফল তারা পাবে।
১৮১. আমি যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের (মানুষ ও জ্বিনদের) মাঝে (আবার) এমন একটি দল আছে, যারা (মানুষকে) সঠিক পথের দিকে ডাকে এবং (সেমতে) নিজেরাও (নিজেদের জীবনে) ইনসাফ কায়েম করে।
১৮২. যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, ক্রমে ক্রমে আমি তাদের এমনভাবে (ধ্বংসের দিকে ঠেলে) নিয়ে যাবো, তারা (তা) টেরও পাবে না।
১৮৩. আমি তাদের (বিদ্রোহের) জন্যে অবকাশ দিয়ে রাখবো এবং (এ ব্যাপারে) আমার কৌশল (কিন্তু) অত্যন্ত শক্ত। ১৮৪. তারা কি কখনো চিন্তা করে দেখে না! তাদের সাথী (মোহাম্মদ) কোনো পাগল নয়; সে তো হচ্ছে (আযাবের) একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।
১৮৫. তারা কি আসমানসমূহ ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্বের (বিষয়টির) দিকে কখনো তাকিয়ে দেখে না এবং তাকিয়ে দেখে না আল্লাহ তায়ালা এখানে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন (তার প্রতিÑ এবং এর প্রতিও যে,) তাদের (অবস্থানের) মেয়াদও হয়তো নিকটবর্তী হয়ে এসেছে, এর পর আর কোন্ কথা আছে যা বললে এরা ঈমান আনবে?
১৮৬. আল্লাহ তায়ালা যাকে পথহারা করে দেন তাকে পথে আনার আর (দ্বিতীয়) কেউই নেই; আল্লাহ তায়ালা তো তাদের (সবাইকেই) তাদের অবাধ্যতায় উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে বেড়ানোর জন্যে ছেড়ে দেন।
১৮৭. তারা তোমার কাছে কেয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, এ দিনটি কখন সংঘটিত হবে; তুমি (তাদের) বলো, এ জ্ঞান তো (রয়েছে) আমার মালিকের কাছে, এর সময় আসার আগে তিনি তা প্রকাশ করবেন না, (তবে) আকাশমন্ডল ও যমীনের জন্যে সেদিন তা হবে একটি ভয়াবহ ঘটনা; এটি তোমাদের কাছে একান্ত আকস্মিকভাবেই; তারা (এ প্রশ্নটি এমনভাবে) জিজ্ঞেস করে যে, মনে হয় তুমি বুঝি বিষয়টি সম্পর্কে সব কিছু জানো; (তাদের) বলো, কেয়ামতের জ্ঞান তো একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছেই রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ মানুষই (এ সত্যটুকু) জানে না।
১৮৮. তুমি (আরো) বলো, আমার নিজের ভালো-মন্দের মালিকও তো আমি নই, তবে আল্লাহ তায়ালা যা চান তাই হয়; যদি আমি অজানা বিষয় সম্পর্কে জানতাম, তাহলে আমি (নিজের জন্যে সে জ্ঞানের জোরে) অনেক ফায়দাই হাসিল করে নিতে পারতাম এবং কোনো অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করতে পারতো না, আমি তো শুধু (একজন নবী, জাহান্নামের) সতর্ককারী ও (জান্নাতের) সুসংবাদবাহী মাত্র, শুধু সে জাতির জন্যে যারা আমার ওপর ঈমান আনে।
১৮৯. তিনিই আল্লাহ তায়ালা, যিনি তোমাদের একটি প্রাণ থেকে পয়দা করেছেন এবং (পরবর্তী পর্যায়ে) তার থেকে তিনি তার জুড়ি বানিয়েছেন, যেন তার (জুড়ির) কাছে (গিয়ে) সে পরম শান্তি লাভ করতে পারে, অতপর যখন (পুরুষ) সাথীটি (তার) মহিলা সাথীটিকে (দৈহিক প্রয়োজনের জন্যে) ঢেকে দিলো, তখন মহিলা সাথীটি এক লঘুু গর্ভ ধারণ করলো (এবং প্রথম দিকে) সে এ নিয়েই চলাফেরা করলো; পরে যখন সে (গর্ভের কারণে ওযনে) ভারী হয়ে এলো, তখন তারা (পুরুষ-মহিলা) উভয়েই তাদের মালিককে ডেকে বললো, হে আল্লাহ তায়ালা, যদি তুমি আমাদের একটি সুস্থ ও পূর্ণাংগ সন্তান দান করো, তাহলে আমরা অবশ্যই তোমার কৃতজ্ঞতা আদায়কারীদের দলে শামিল হবো। ১৯০. পরে (সত্যিই) যখন তিনি তাদের উভয়কে একটি (নিখুঁত) ও ভালো সন্তান দান করলেন, তখন তারা যা কিছু (সন্তানের আকারে আল্লাহর পক্ষ থেকে) তাদের দেয়া হয়েছে (সে ব্যাপারেই) অন্যদের শরীক বানিয়ে নিলো, আল্লাহ তায়ালা কিন্তু তাদের এ শরীক বানানো থেকে অনেক পবিত্র।
১৯১. এরা কি আল্লাহ তায়ালার সাথে এমন কিছুকে শরীক (মনে) করে, যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না, বরং তাদের নিজেদেরই সৃষ্টি করা হয় !
১৯২. তারা তাদের কাউকে কোনো রকম সাহায্য করতে সক্ষম নয় এবং তারা নিজেদেরও কোনো রকম সাহায্য করতে পারে না।
১৯৩. তোমরা যদি এ (মূর্খ) লোকদের হেদায়াতের পথের দিকে আহবান করো, তারা তোমাদের কথা শুনবে না, (তাই) তোমরা তাদের হেদায়াতের পথে ডাকো কিংবা চুপ করে থাকোÑ উভয়টাই তোমাদের জন্যে সমান কথা।
১৯৪. আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদের (সাহায্যের জন্যে) ডাকো, তারা তো তোমাদের মতোই কতিপয় বান্দা, তোমরা তাদের ডেকেই দেখো না, তোমরা (তোমাদের দাবীতে) সত্যবাদী হলে তাদের উচিত তোমাদের ডাকে সাড়া দেয়া।
১৯৫. তাদের কি কোনো পা আছে যার (ওপর ভর) দিয়ে তারা চলতে পারে, অথবা তাদের কি কোনো (ক্ষমতাধর) হাত আছে যা দিয়ে তারা সব কিছু ধরতে পারে, কিংবা তাদের কি কোনো চোখ আছে যা দিয়ে তারা (সব কিছু) দেখতে পারে, কিংবা আছে তাদের কোনো কান যা দিয়ে তারা শুনতে পারে! তুমি বলো, তোমরা ডাকো তোমাদের শরীকদের, এরপর তোমরা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করো, (ষড়যন্ত্র করার সময়) আমাকে কোনো অবকাশও দিয়ো না।
১৯৬. (তুমি তাদের বলো,) নিশ্চয়ই আমার অভিভাবক হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ তায়ালা, যিনি কিতাব নাযিল করেছেন, তিনি হামেশাই ভালো লোকদের অভিভাবকত্ব করেন।
১৯৭. আল্লাহ তায়ালাকে বাদ দিয়ে যাদের তোমরা ডাকো, তারা তোমাদের কোনো রকম সাহায্য করতে সক্ষম নয়, (এমন কি) তারা নিজেদেরও কোনো রকম সাহায্য করতে পারে না। ১৯৮. তোমরা যদি (কখনো) তাদের হেদায়াতের পথে আসার আহ্বান জানাও, তবে তারা শুনতেই পাবে না; (কথা বলার সময়) যদিও তুমি দেখছো, তারা তোমার দিকেই চেয়ে আছে, কিন্তু এরা (সত্য) দেখতেই পায় না।
১৯৯. (হে মোহাম্মদ, এদের সাথে) তুমি ক্ষমার নীতি অবলম্বন করো, নেক কাজের আদেশ দাও এবং মূর্খ লোকদের তুমি এড়িয়ে চলো।
২০০. কখনো যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা তোমাকে প্ররোচিত করে, সাথে সাথেই তুমি আল্লাহ তায়ালার কাছে আশ্রয় চাও; অবশ্যই তিনি (সব কিছু) শোনেন এবং (সব কিছু) জানেন।
২০১. আল্লাহ তায়ালাকে যারা ভয় করে তাদের যদি কখনো শয়তানের পক্ষ থেকে কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে, তবে তারা (সাথে সাথেই) আÍসচেতন হয়ে পড়ে, তৎক্ষণাৎ তাদের চোখ খুলে যায়।
২০২. তাদের (কাফের) ভাই-বন্ধুরা তাদের বিদ্রোহের পথেই টেনে নিয়ে যেতে চায়, অতপর তারা (চেষ্টার) কোনো ত্র“টি করে না।
২০৩. (আবার) যখন তুমি (কিছু দিন) তাদের কাছে কোনো আয়াত এনে হাযির না করো, তখন তারা বলে, ভালো হতো যদি তুমি নিজেই তেমন কিছু বেছে না নিতে! তুমি বলো, আমি তো তাই অনুসরণ করি যা আমার মালিকের কাছ থেকে আমার কাছে নাযিল হয়, আর এ (কোরআন) হচ্ছে তোমাদের মালিকের কাছ থেকে নাযিল করা (অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন) নিদর্শন, যারা ঈমান এনেছে (এ কিতাব) তাদের জন্যে হেদায়াত ও রহমত।
২০৪. যখন (তোমার সামনে) কোরআন তেলাওয়াত করা হয় তখন (মনোযোগের সাথে) তা শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো, আশা করা যায় (এর ফলে) তোমাদের ওপর দয়া করা হবে।
২০৫. (হে নবী,) তোমার মালিককে স্মরণ করো মনে মনে, সকাল-সন্ধ্যায় সবিনয়ে ও সশংক চিত্তে, অনুচ্চ স্বরের কথাবার্তা দিয়েও (তাঁকে তুমি স্মরণ করো), কখনো গাফেলদের দলে শামিল হয়ো না।
২০৬. নিসন্দেহে যারা তোমার মালিকের একান্ত সান্নিধ্যে আছে, তারা কখনো অহংকার করে তাঁর এবাদাত থেকে বিরত থাকে না, তারা তাঁর তাসবীহ করে এবং তাঁর জন্যে সাজদা করে।

সূরা আল আনফাল
মদীনায় অবতীর্ণÑ আয়াত ৭৫, রুকু ১০
রহমান রহীম আল্লাহ তায়ালার নামেÑ

১. (হে মোহাম্মদ,) লোকেরা তোমার কাছে (যুদ্ধলব্ধ ও যুদ্ধে পরিত্যক্ত) অতিরিক্ত (মাল-সামান) সম্পর্কে (আল্লাহ তায়ালার হুকুম) জানতে চাচ্ছে; তুমি (তাদের) বলো, (এ) অতিরিক্ত সম্পদ হচ্ছে (মূলত) আল্লাহ তায়ালার জন্যে এবং (তাঁর) রসূলের জন্যে, অতএব (এ ব্যাপারে) তোমরা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং (এ নির্দেশের আলোকে) নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক সংশোধন করে নাও, আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর রসলের আনুগত্য করো, যদি তোমরা সত্যিকার (অর্থে) মোমেন হয়ে থাকো।
২. মোমেন তো হচ্ছে সেসব লোক, (যাদের) আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণ করানো হলে তাদের হৃদয় কসিম্পত হয়ে ওঠে এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা (সব সময়) তাদের মালিকের ওপর নির্ভর করে।
৩. যারা নামায প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যা কিছু (অর্থ-সম্পদ) দান করেছি তা থেকে তারা (আমারই পথে) খরচ করে।
৪. (মূলত) এ (গুণসম্পন্ন) লোকগুলোই হচ্ছে সত্যিকার মোমেন, তাদের মালিকের কাছে তাদের জন্যে (বিপুল) মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা (-র ব্যবস্থা) রয়েছে।
৫. (সেভাবেই তোমাদের বের হওয়া উচিত ছিলো) যেভাবে তোমার মালিক তোমাকে তোমার বাড়ী থেকে বের করে এনেছেন, অথচ (তখনও) মোমেনদের একদল লোক (ছিলো এ কাজের দারুন অপছন্দকারী। ৬. সত্য (তোমার কাছে) প্রকাশিত হওয়ার পরও এরা তোমার সাথে বিতর্কে লিপ্ত হচ্ছে, (মনে হচ্ছিলো) তারা যেন দেখতে পাচ্ছিলো, ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকেই তাদের ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ৭. (স্মরণ করো,) যখন আল্লাহ তায়ালা তোমাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিলেনÑ দুটি দলের মধ্যে একটি দল তোমাদের (করায়ত্ত) হবে, (অবশ্য) তোমরা (তখন) চাচ্ছিলে (দুর্বল ও) নির¯ দলটিই তোমাদের (করায়ত্ত) হোক, অথচ আল্লাহ তায়ালা তাঁর ‘কথা’ দ্বারা সত্য প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছিলেন এবং (এর মাঝ দিয়ে তিনি) কাফেরদের শেকড় কেটে (তাদের নির্মূল করে) দিতে চেয়েছিলেন,
৮. (এর উদ্দেশ্য ছিলো) সত্যকে যেন (তার) সত্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত  করা  যায় এবং  বাতিলকে যাতে করে (বাতিলের মতোই) নির্মূল করা যায়, যদিও পাপিষ্ঠরা (একে) পছন্দ করেনি।
৯. (আরো স্মরণ করো,) যখন তোমরা তোমাদের মালিকের কাছে (কাতর কন্ঠে) ফরিয়াদ পেশ করছিলে,  আল্লাহ  তায়ালা  তোমাদের  ফরিয়াদ কবুল করেছিলেন এবং বলেছিলেন, হাঁ, আমি তোমাদের (এ যুদ্ধের ময়দানে) পর পর এক হাজার ফেরেশতা পাঠিয়ে সাহায্য করবো। ১০. আল্লাহ তায়ালা তোমাদের শুভ সংবাদ  দেয়া ও তা  দিয়ে  তোমাদের  মনকে  প্রশান্ত করার উদ্দেশেই এটা বলেছিলেন, (নতুবা আসল) সাহায্য তো  আল্লাহ  তায়ালার  কাছ  থেকেই আসে; নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান।
১১. (আরো স্মরণ করো,) যখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের নিরাপত্তা ও স্বস্তির জন্যে তোমাদের তন্দ্রায় আচ্ছন্ন করে দিয়েছেন এবং তোমাদের ওপর তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি নাযিল করেছেন, উদ্দেশ্য ছিলো এ (পানি) দ্বারা তিনি তোমাদের ধুয়ে পাক-সাফ করবেন, তোমাদের মন থেকে শয়তানের অপবিত্রতা দূর করবেন, তোমাদের মনে সাহস বৃদ্ধি করবেন, (সর্বোপরি যুদ্ধের ময়দানে) তিনি এর মাধ্যমে তোমাদের কদম মযবুত করবেন।
১২. (তাও স্মরণ করো,) যখন তোমার মালিক ফেরেশতাদের কাছে ওহী পাঠিয়ে বললেন, আমি তোমাদের সাথেই আছি, অতএব তোমরা মোমেনদের সাহস দাও (তাদের কদম অবিচল রাখো); অচিরেই আমি কাফেরদের  মনে দারুণ এক ভীতির সঞ্চার করে দেবো, অতএব তোমরা (তাদের) ঘাড়ের ওপর আঘাত হানো এবং তাদের (হাড়ের) প্রত্যেক জোড়ায় জোড়ায় আঘাত করো।
১৩. এ (কাজ)-টা এ কারণে যে, এরা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসলের বিরুদ্ধে মোকাবেলায় নেমেছে, আর যারাই এভাবে আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসলের বিরোধিতা করে (তাদের জানা উচিত), আল্লাহ তায়ালা আযাব দানে অত্যন্ত কঠোর।
১৪. (হে কাফেররা,) এ হচ্ছে তোমাদের (যথার্থ পাওনা), অতপর (ভালো করে) তোমরা এর স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো, কাফেরদের জন্যে দোযখের (ভয়াবহ) আযাব তো রয়েছেই।
১৫. হে মোমেন বান্দারা, তোমরা যখন যুদ্ধের ময়দানে কাফেরদের মুখোমুখি মোকাবেলা করবে, তখন কখনো পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে না।
১৬. (জেনে রেখো,) এ (যুদ্ধের) দিন যে ব্যক্তি তার পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে, সে অবশ্যই আল্লাহ তায়ালার গজব অর্জন করবে, তবে যুদ্ধের কৌশল হিসেবে কিংবা (নিজ)  বাহিনীর  সাথে  মিলিত  হবার  উদ্দেশ্য ছাড়া (যদি কেউ এমনটি করে তাহলে), তার জন্যে জাহান্নামই হবে একমাত্র আশ্রয়স্থল; আর জাহান্নাম সত্যিই নিকৃষ্ট জায়গা।
১৭. (যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছে) তাদের তোমরা কেউই হত্যা করোনি, বরং আল্লাহ তায়ালাই তাদের হত্যা করেছেন, আর তুমি যখন (তাদের প্রতি) তীর নিক্ষেপ করছিলে, (মূলত) তুমি নিক্ষেপ করোনি (করেছেন আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং), তিনি নিজের থেকে মোমেনদের উত্তম পুরস্কার দান করে (তাদের বিজয়) দিতে চেয়েছেন, নিসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা (সব কিছু) শোনেন এবং (সব কিছু) জানেন। ১৮. এটা হচ্ছে তোমাদের (ব্যাপারে তাঁর নীতি), অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা কাফেরদের ষড়যন্ত্র দুর্বল করে দেন।
১৯. (হে কাফেররা,) তোমরা একটা সিদ্ধান্ত চেয়েছিলে, হাঁ, (আজ) সে সিদ্ধান্ত (কর মুহূর্তটি) তোমাদের সামনে এসে গেছে, যদি এখনও তোমরা (যুদ্ধ থেকে) বিরত হতে চাও, তাহলে তা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর হবে, তোমরা যদি (আবার যুদ্ধের জন্যে) ফিরে আসো, তাহলে আমরাও (ময়দানে) ফিরে আসবো, আর তোমাদের বাহিনী সংখ্যায় যতোই বেশী হোক না কেন তা তোমাদের কোনোই উপকারে আসবে না, (কারণ) আল্লাহ তায়ালা ঈমানদারদের সাথেই রয়েছেন। ২০. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করো, কখনো তাঁর কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না, (বিশেষ করে) যখন তোমরা (সব কিছু) শুনতেই পাচ্ছো।
২১. তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা (মুখে) বলে, হাঁ, আমরা (নবীর কথা) শোনলাম, কিন্তু তারা আসলে কিছুই শোনে না।
২২. আল্লাহ তায়ালার কাছে (তাঁর সৃষ্টির) নিকৃষ্টতম জীব হচ্ছে সেই বধির ও মূক (মানুষগুলো), যারা (সত্য দ্বীন সম্পর্কে) কিছু বুঝে না।
২৩. আল্লাহ তায়ালা যদি জানতেন, এদের ভেতর (সামান্য) কোনো ভালো (গুণও) অবশিষ্ট আছে, তাহলে তিনি তাদের অবশ্যই (হেদায়াতের কথা) শোনাতেন; (অবশ্য) তিনি তাদের শোনালেও তারা তাকে উপেক্ষাই করতো এবং অন্যদিকে ফিরে যেতো।
২৪. হে ঈমানদার লোকেরা, তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রসলের ডাকে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদের এমন কিছুর দিকে ডাকেন যা তোমাদের সত্যিকার অর্থে জীবন দান করবে, (এ কথাটা) জেনে রেখো, আল্লাহ তায়ালা মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন; (আবার) তোমাদের সবাইকে তাঁর কাছেই জড়ো করা হবে।
২৫. তোমরা (আল্লাহদ্রোহিতার) সেই ফেতনা থেকে বেঁচে থাকো, যার ভয়াবহ শাস্তিÑ যারা তোমাদের মধ্যে যালেম শুধু তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আরো জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত কঠোর শাস্তি প্রদানকারী।
২৬. স্মরণ করো, যখন তোমরা (সংখ্যায়) ছিলে (নিতান্ত) কম, (এই) যমীনে তোমাদের মনে করা হতো তোমরা অত্যন্ত দুর্বল, তোমরা সর্বদাই এ ভয়ে (আতংকিত) থাকতে যে, কখন (অন্য) মানুষরা তোমাদের ওপর চড়াও হবে, অতপর আল্লাহ তায়ালা তোমাদের (একটি ভূখন্ডে এনে) আশ্রয় দিলেন, তাঁর (একান্ত) সাহায্য দিয়ে তিনি তোমাদের শক্তিশালী করলেন এবং তিনি এ আশায় তোমাদের (বহুবিধ) উত্তম জিনিস দান করলেন যে, তোমরা (আল্লাহর এসব নেয়ামতের) শোকর আদায় করবে।
২৭. হে ঈমানদার বান্দারা, তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও (তাঁর) রসলের সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করো না এবং জেনে-শুনে নিজেদের আমানতেরও খেয়ানত করো না। ২
৮. জেনে রেখো, তোমাদের মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি হচ্ছে (আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে) পরীক্ষামাত্র, (যে এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে) তার জন্যে আল্লাহ তায়ালার কাছে মহা প্রতিদান রয়েছে।
২৯. হে  ঈমানদার লোকেরা, তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় করে চলো, তাহলে তিনি তোমাদের জন্যে (অন্যদের সাথে) পার্থক্য নির্ণয়কারী (কিছু স্বতন্ত্র মর্যাদা) দান করবেন, তিনি তোমাদের গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেবেন, তিনি তোমাদের ক্ষমা করে দেবেন; আল্লাহ তায়ালার দান (আসলেই) অনেক বড়ো।
৩০. (স্মরণ করো,) যখন কাফেররা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলো, তারা তোমাকে বন্দী করবে অথবা তোমাকে হত্যা করবে কিংবা তোমাকে (আপন ভূমি থেকে) নির্বাসিত করে দেবে; (এ সময় একদিকে) তারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিলো, (আরেক দিকে) আল্লাহ তায়ালাও (তোমার পক্ষে) কৌশল চালিয়ে যাচ্ছিলেন; আর আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন সর্বোৎকৃষ্ট কুশলী।
৩১. যখন তাদের সামনে আমার কোনো আয়াত পড়ে শোনানো হতো, তখন তারা বলতো, (হাঁ) আমরা একথা (আগেও) শুনেছি, আমরা চাইলে এ ধরনের কথা তো নিজেরাও বলতে পারি, এগুলো তো আগের লোকদের উপকথা ছাড়া আর কিছু নয়।
৩২. তারা যখন বলেছিলো, হে আল্লাহ তায়ালা, (মোহাম্মদের আনীত) কেতাব যদি তোমার কাছ থেকে পাঠানো সত্য হয়, তাহলে (একে অমান্য করার কারণে) তুমি আমাদের ওপর আসমান থেকে পাথর বর্ষণ করো, কিংবা তুমি আমাদের ওপর কোনো কঠিন শাস্তি পাঠিয়ে দাও।
৩৩. আল্লাহ তায়ালা এমন নন যে, তিনি তাদের কোনো আযাব দেবেন, অথচ তুমি (সশরীরে) তাদের মধ্যে (বর্তমান) রয়েছো; আর আল্লাহ তায়ালা এমনও নন যে, কোনো (জাতির) মানুষদের তিনি শাস্তি দেবেন, অথচ তারা (কিছু লোক) তখনও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছে।
৩৪. কেনই বা আল্লাহ তায়ালা (Ñযারা কাফের) তাদের আযাব দেবেন নাÑ যখন তারা আল্লাহর বান্দাদের মাসজিদুল হারামে আসার পথ থেকে নিবৃত্ত করে, অথচ তারা তো (এ ঘরের) অভিভাবকও নয়; এ ঘরের (আসল) অভিভাবক হচ্ছে তারা, যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ মানুষই (এ কথাটা) জানে না।
৩৫. (এ ঘরের পাশে) তাদের (জাহেলী যুগের) নামায তো কিছু শিস দেয়া ও তালি বাজানো ছাড়া আর কিছুই ছিলো না; (এ কারণেই আল্লাহ তায়ালা তাদের বলবেন,) এখন তোমরা তোমাদের কুফরী কার্যকলাপের জন্যে শাস্তি ভোগ করো।
৩৬. যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করেছে এবং যারা নিজেদের ধন-সম্পদ (এ খাতেই) ব্যয় করেছে যে, (এর দ্বারা) মানুষদের আল্লাহ তায়ালার পথ থেকে ফিরিয়ে রাখবে; (এদের জন্যে তুমি ভেবো না,) এরা (এ পথে) ধন-সম্পদ আরো ব্যয় করতে থাকবে, অতপর একদিন সে (ব্যয় করা)-টাই তাদের জন্যে মনস্তাপের কারণ হবে, অতপর (দুনিয়ার জীবনেও) তারা পরাভূত হবে, আর যারা কুফরী করেছে আখেরাতে তাদের সবাইকে জাহান্নামের পাশে একত্রিত করা হবে।
৩৭. (এভাবেই) আল্লাহ তায়ালা ভালোকে খারাপ থেকে পৃথক করে দেবেন এবং খারাপগুলোর একটাকে আরেকটার ওপর রেখে সবগুলো এক জায়গায় স্তপীকৃত করবেন, অতপর (গোটা ¯তুপ) জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন; ¬(মূলত) এ লোকগুলো সেদিন (ভীষণ) ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
৩৮. (হে মোহাম্মদ,) যারা আল্লাহ তায়ালাকে অস্বীকার করেছে তাদের তুমি বলো, তারা যদি এ থেকে (এখনো) ফিরে আসে, তাহলে তাদের অতীতের সব কিছুই ক্ষমা করে দেয়া হবে, তবে যদি তারা (তাদের আগের কার্যকলাপের দিকে) ফিরে যায়, তাহলে তাদের (সামনে) আগের (জাতিসমূহের ভয়াবহ) পরিণামের দৃষ্টান্ত তো (মজুদ) রয়েছেই।
৩৯. (হে ঈমানদার লোকেরা,) তোমরা কাফেরদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকো, যতোক্ষণ না (আল্লাহর যমীনে কুফরীর) ফেতনা বাকী থাকবে এবং দ্বীন সম্পর্ণভাবে আল্লাহ তায়ালার জন্যেই (নির্দিষ্ট) হয়ে যাবে, (হাঁ,) তারা যদি (কুফুর থেকে) নিবৃত্ত হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালাই হবেন তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী।
৪০. (এসব কিছু সত্ত্বেও) যদি তারা সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে তোমরা জেনে রাখো, আল্লাহ তায়ালাই হচ্ছেন তোমাদের অভিভাবক, কতো উত্তম অভিভাবক আল্লাহ তায়ালা; কতো উত্তম সাহায্যকারী (তিনি)!

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY