পবিত্র কোরআন সম্পর্কে পশ্চিমাদের ধারণা পরীক্ষা করলেন ক’জন তরুন

ভিডিওসহ

0
493

পবিত্র কোরআন সম্পর্কে পশ্চিমাদের ধারণা পরীক্ষা করলেন ক’জন তরুন

টুইন টাওয়ারে হামলার পর যে বার্তা দেয়া হচ্ছে, প্যারিসে হামলার পর তার পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। বক্তব্য হলো ‘‘কোরআন সন্ত্রাসী তৎপরতার মদদ দেয় আর ইসলাম আসলে চরমন্থার ধারক’’

অথচ যা কোরআন ও ইসলামের মুল চিন্তার পরিপন্থি। এই ধারণা জনগনের কেন হয়। তা নিয়ে এক পরীক্ষা চালালো কিছু পশ্চিমা তরুন।

 যুক্তি-তর্কে না গিয়ে ওরা একটা ‘এক্সপেরিমেন্ট’ বা পরীক্ষা করবে বলে স্থির করলো৷

পরীক্ষাটা অনেকটা এ রকম৷ একটি বাইবেল নিয়ে তার ওপর পবিত্র কোরআনের মলাট দিয়ে দিলো ওরা৷ তারপর বাইবেলের যে অংশগুলি পাশ্চাত্যের আধুনিক জীবনের সঙ্গে খাপ খায় না, সেগুলি আলাদা আলাদা করে চিহ্নিত করলো৷ ব্যাস্, ‘হোমওয়ার্ক’ শেষ৷ এরপর রাস্তায় গিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সেই অংশগুলো পড়ে শোনালো ওরা৷

মজার বিষয়, উপস্থিত সকলেই কিন্তু ঐ অংশগুলোকে কোরআনের অংশ বলে মেনে নিলেন, এমনকি নারী সম্পর্কিত অংশগুলিও৷ কী লেখা ছিল বইটায়? নারীকে হতে হবে ধীর-স্থির, শান্ত৷ তাকে পুরুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার সঙ্গে তাল মানিয়ে চলতে হবে৷ ঔদ্ধত্য নয়, বরং পুরুষের আধিপত্য মেনে নেয়াই নারীর গুণ৷ নারীদের উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজন নেই, নারীকে শাসন করতে হবে, প্রয়োজনে তার হাত কেটে ফেলতে হবে৷

আর সমকামিতা? দু’জন পুরুষ যদি যৌন সম্ভোগ করে তবে তাদের হত্যা করা স্রেয়৷কি? এমনটা কি আজকের দিনে ভাবা যায়? প্রশ্ন করা হলো সকলকে৷ ‘‘অসম্ভব৷ আজকের দিনে এর কোনো অর্থই হয় না৷”

আবারো নতুন প্রশ্ন রাখা হলো৷ আচ্ছা, বাইবেলের সঙ্গে কোরআনের পার্থক্য কোথায় বলুন তো? ‘‘কোরআন অনেক বেশি আগ্রাসী৷” ‘‘বাইবেলে নারীকে অনেক বেশি সম্মান দেয়া হয়েছে৷” ‘‘বাইবেল শান্তির কথা বলে, হিংসার নয়৷”

একজন মন্তব্য করলেন, ‘‘পশ্চিমা বিশ্ব বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী৷ পৃথিবী পালটে গেছে৷ অথচ এখনও এমন কিছু মানুষ আছে, যারা ঐ মান্ধাতা আমলের কিছু লেখাকে ‘শেষ কথা’ বলে মেনে আসছে৷ এটা বদলানো দরকার৷ প্রয়োজন একটা সংস্কারের৷”

এবার পরীক্ষার শেষ পর্ব৷ মলাট খুলে ফেলা হতেই বেরিয়ে এলো ভেতরের বাইবেলটি৷ অবাক হয়ে গেলো উত্তর দাতােরা। দেখুন না সেই ভিডিওটি একবার

আসলে ইসলাম কথার অর্থ তো ‘শান্তি’৷ তাহলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা, অন্ধবিশ্বাস কোথা থেকে এলো? ‘‘হয়ত এটাও মিডিয়ারই সৃষ্টি”, বললেন একজন৷ তবে কি আসলে প্রকৃত অর্থে মিডিয়ার বা এ ধরনের অপব্যাখ্যাকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে দেশ সমাজ ও ধর্ম। যারা আইএস আর আল কায়েদা সৃষ্টি করে।

আর পশ্চিমা সমাজ এক পরষ্পর বিরোধী অবস্থানে রয়েছে। কারণ তারা প্রথমে বাইবেলের বাণীকে কোরআনের বাণী মনে করে এর বিরোধীতা করছে। পরে যখন বুঝতে পারছে এই রক্ষণশীল কথাগুলো আসলে বাইবেল থেকে আসা তখন তারা নিরব থাকছে।

মূল ভিডিও দেখুন এই লিংকে:

 

সূত্র: ডয়েচে ভেলে, ইউটিউব।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY