হেরা গুহার প্রথম ওহী

0
195

হেরা গুহার প্রথম ওহী
সাইয়েদ কুতুব শহীদ

একবার কোরায়েশ নেতারা তাদের ‘‘দারুণ নাদওয়াহ’’ নামে পরিচিত পরামর্শ গৃহে সমবেত হয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর দাওয়াতী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে এক ব্যপাক ষড়যন্ত্র আঁটে। এ খবর জানতে পেরে রসূল (স.) অত্যধিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি কাপড় চোপড় দিয়ে মাথা-মুখ ঢেকে ও কম্বল মুড়ে দিয়ে বেদনা ভারাক্রান্ত অবস্থায় শুয়ে পড়েন। এই সময় হযরত জিবরাঈল আলায়হিসৎ সালাম তাঁর কাছে সূরা মোযযামমেলের প্রথম রুকু নিয়ে এলেন। এর দ্বিতীয় রুকু নাযিল হয দীর্ঘ এক বছর পর। রসূল (স.) ও তাঁর সাহাবীদের একটি দল তখন রাত্রিকালে এত বেশী নামায পড়তেন যে, তাঁদের পা ফুলে যেতো। এ জন্য বারো মাস পর তাদেরকে আরো কম নামায পড়ার নির্দেশ দিয়ে সূরার দ্বিতীয় রুকু নাযিল হয়।

এ প্রসংগে আরো একটি বর্ণনা রয়েছে। সেই বর্ণনাটি বর্ণিত হয়েছে সূরা মোদ্দাসৎসের প্রসংগে।
সে বর্ণনার সংক্ষিপ্তসার এই যে, নবুয়ত লাভের তিন বছর পূর্ব থেকে রসূল (স.) হেরা পর্বতের গুহায় নির্জন বাস করতেন। পাক পবিত্র অবস্থায় একাকী এবাদাত করতেন। প্রতি বছর তিনি এক মাস এখানে এভাবে নির্জনে কাটাতেন। বিশেষ করে রমযান মাস তিনি এখানে বেশী কাটাতেন। মক্কা থেকে প্রায় দুই মাইল দূরবর্তী হেরা গুহায় এই নির্জন বাস কালে তার পরিবার তার কাছাকাছিই থাকতো। পুরো এক মাস তিনি এখানে কাটাতেন। এ সময় তাঁর কাছে কোন গরীব দুষ্টখী এলে তাকে তিনি খাবার দিতেন এবং এবাদাত ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। তার ধ্যান ও চিন্তা-গবেষণার বিষয় ছিল তার চারপাশে বিদ্যমান প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী এবং তার অন্তরালে অবস্থানরত মহা শক্তিধর সত্বা। তাঁর দেশবাসী যে অযৌক্তিক ও অসার পৌঊŸলিক ধ্যান ধারণা ও আকীদা বিশ^াসে নিমজ্জিত ছিল, তাতে তিনি মোটেই সন্তুস্ট ছিলেন না। কিন্তু এমন কোন সুস্পষ্ট বিকল্প পথ, কোন সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা এবং কোন ভারসাম্যপূর্ণ নীতি তার জানা ছিল না, যা তিনি সন্তুষ্টচিঊেŸ গ্রহণ করতে ও পছন্দ করতে পারেন।

রসূল (স.)-এর এই নির্জন বাসের সর্মসূচী তার জন্য আল্লাহর গৃহীত সুপরিকল্পিত কৌশলের একটি অংশ বিশেষ ছিল। আগামী দিনে যে বিরাট ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাঁর অপেক্ষায় ছিল, তার জন্য তাঁকে তৈরী করাই ছিল এই কৌশলের উদ্দেশ্য। এই সময় তিনি একান্তভাবে শুধু নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন ও আপন মনে চিন্তাভাবনায় মশগুল থাকতেন। সংসারের যাবতীয় ঝামেলা ও খুঁটিনাটি ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়ে নিভ”তে বসে নিঝুম প্রকৃতির অস্ফুট ভাষা ও আকুতি বুঝতে চেষ্টা করতেন। কিভাবে এই নির্বাক মহাবিশ^ নিজেই তার নিপুন সন্দষ্টার অস্তিত্বের পক্ষে সাক্ষ্য দিচ্চে জানতে চেষ্টা করতেন তা পর্বত গুহার সেই মর্মবিদারী নিস্তব্ধতায় থেকে থেকে তাঁর আত্মা গোটা সৃষ্টি জগতের আত্মার সাথে কণ্ঠ মিশিয়ে স্রষ্টার গুণগানে সো”ার হয়ে উঠতো। সৃষ্টির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য ও নিদ্দলুষ পরিপক্কতাকে তাঁর সঊŸা সানন্দে আলিংগন করতো এবং তিনি পরম সত্যকে পরিপূর্ণভাবে হৃদয়ংগম করার মাধ্যমে তার সাথে আচরণ করতেন ও আচরণের অভ্যাস গড়ে তুলতেন।

বাস্তব ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে তাতে আমূল পরিবর্তন সাধন করা, নিভ”তে অবস্থান করা এবং পৃথিবীর নিত্যকার ব্যস্ততা, হৈ চৈ, সংসারের শোরগোল ও ঝামেলা থেকে মুক্ত হয়ে কিছু সময় কাটানো মহান উদ্দেশ্যের জন একান্ত প্রয়োজন।

বিশাল মহাবিশ^ ও তার অগণিত তথ্য সম্পর্কে চিন্তাভাবনা ও তার ব্যাপারে দৃষ্টিভংগী নির্ণয়ের জন্য কিছুটা আলাদা সময় অপরিহার্য। কেননা কর্মচঞ্চল সাংসারিক জীবনের সাথে সর্বাত্মক, সার্বক্ষণিক ও নিবিড় ভাবে মেলামেশা করতে করতে মানুষের মন মেজাজ তার সাথে এত অভ্যস্ত ও পরিচিত হয়ে যায়। তাতে পরিবর্তন সাধনের জন্য আর কোন চেষ্টা তখন সে আর করতে চায় না। ক্ষণিকের জন্য এই সব ছোটখাট ব্যস্ততা থেকে দূরে চলে যাওয়া, ঝামেলা থেকে মুক্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন সংসার জীবনের বন্দীদশা থেকে অব্যহতি পেয়ে সাময়িকভাবে হলেও মুক্ত জীবন যাপন লাভের মাধ্যমে মানুষের আত্মা ও বিবেককে প্রশস্ততা ও তীºতা দান করার জন্য জরুরী, তা তাকে পৃথিবীর চেয়ে বৃহঊŸর জিনিস দেখার ও বুঝার যোগ্য বানায় । মানুষের সমাজ ও সামাজিক রীতিপ্রথার মুখাপেক্ষী না হয়ে আপন সঊŸার পূর্ণতা ও পরিপক্কতা অর্জনের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে সরাসরি সাহায্য গ্রহণে এবং স্বনির্ভর হতে তাকে অভ্যস্ত বানায়।

বস্তুত আল্লাহ তায়ালা মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীর সর্বো” ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ, পৃথিবীর জীবন ধারাকে ও চেহারাকে আমুল পাব্বে দেয়া এবং ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য এই পরিকল্পনা তৈরী করেছিলেন। নবুয়তের তিন বছর আগে তাকে এই নির্জন বাসে উদ্ভুদ্ধ করেছিলেন। এই নির্জনবাস বিরতিহীনভাবে একমাস স্থায়ী হতো। এ সময় একমাত্র মুক্ত প্রকৃতিই হতো তার সাথী। প্রকৃতির অন্তরালে কোনৎ অদৃশ্য জগত লুকিয়ে আছে তা নিয়ে তিনি ভাবতেন। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন সেই অদৃশ্য জগতের সাথে তার সংযোগ স্থাপিত হলো, তখন পর্যন্ত এই নির্জনবাসের কর্মসূচী অব্যাহত থাকলো।

অবশেষে যখন আল্লাহর মর্জি হলো এবং তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন যে, বিশ^বাসীর ওপর তার এই করুণাধারা বর্ষণ অর্থাৎ ওহী নাযিল করবেন, তখন জিবরাঈল (আষ্ট) একদিন রসূল (স.) এর নিকট এলেন। তিনি তখনো হেরার গুহায় অবস্থান করছিলেন। ইবনে ইসহাকের বর্ণনা মোতাবেক রসূল (স.)-তাঁর এই ঘটনা নি¤œরুপবর্ণনা করেছেন,‘‘আমি তখন নিদ্রিত। জিবরাঈল এলেন একটি রেশমী রুমাল নিয়ে। তাতে কি একটা কথা লেখা ছিল!
জিবরাঈল আমাকে সে লেখাটি দেখিয়ে বললেন, পচ্চন তো!
আমি বললাম, আমি পড়তে জানি না।
জিবরাঈল আমাকে এমন জোরে আলিংগন করলেন যে, মনে হলো আমি মরে যাচ্ছি। তারপর ছেড়ে দিলেন।
তারপর পুনরায় বললেন, পড়ুন।
আমি বললাম, আমি পড়তে জানি না।
তারপর আবার আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। তিনি এমন চাপ দিলেন যে, মনে হলো, আমার মৃত্যু বুঝি এসে গেছে।
তারপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পড়ুন।
আমি বললাম, কি পড়বো? এ কথাটা আমি শুধু সে আলিংগনের পুনরাবৃঊিŸ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বলেছিলাম।
জিবরীল বললেন, পড়, তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পড়, আর তোমার মহান প্রভু, যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানতো না।

রসূল (স.) বলেন, আমি এগুলো পড়লাম। অতপর পড়ার পালা শেষ হলো এবং তিনি চলে গেলেন। আমি ঘুম থেকে যখন জাগলাম তখন মনে হলো, আমার মানসপটে এ কথাগুলো লিখে নিয়েছি।
এরপর আমি গুহা থেকে বেরিয়ে এলাম। পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে এসে শুনলাম, আকাশ থেকে আওয়ায আসছে, ‘‘হে মোহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রসূল। আমি জিবরাঈল।’’
আমি আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকালাম। দেখলাম, জিবরাঈল একজন বিশালকায় মানুষের বেশে দাঁড়িয়ে। আকাশের এক প্রান্তে তার এক পা আরেক প্রান্তে আরেক পা।
তিনি বলছেন, ‘‘হে মোহাম্মদ! আপনি আল্লাহর রসূল’’ আমি তার দিকে তাকিয়েই রইলাম। আগে পিছে একটুও না সরে স্থির হয়েই দাঁড়িয়ে রইলাম। আমি সেভাবে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। আগে পিছে একচুলও সরছি না।

এমতাবস্থায় খাদীজা আমার সন্ধানে তার লোকজনকে পাঠায়ে দিলো। তারা মক্কার উ”তম প্রান্তে গিয়ে ঘুরে ফিরে আবার খাদীজার কাছে ফিরে গেল। আমি তখনো আমার সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছি। এরপর এক সময় জিবরাঈল চলে গেলেন। আমিও আমার পরিবারের কাছে ফিরে গেলাম। খাদীজার একেবারে কোলের কাছে ঘনিষ্ট হয়ে বসলাম।

তিনি বললেন, ‘‘ওহে কাসেমের বাবা! আপনি কোথায় ছিলেন? আমি আপনার খোঁজে লোক পাঠিয়েছিলাম। তারা মক্কায় গিয়ে আবার ফিরে এসেছে।’’
অতপর আমি যা যা দেখেছি তাঁকে বললাম।
খাদীজা বললো, ‘‘হে আমার চাচাতো ভাই, আপনি এটিকে শুভ সংবাদ হিসাবে গ্রহণ করুন এবং স্থির থাকুন। খাদীজার প্রাণ যার হাতে, তার শপথ করে আমি বলছি যে, আমি মনে করি, আপনি মানব জাতির জনে এ যুগের নবী।’’

এরপর রসূল (স.) পুনরায় পাহাড়ে না যাওয়া পর্যন্ত ওহী স্থগিত থাকলো। যেদিন পুনরায় সেখানে গেলেন, সেদিন চোখ মেলে তাকাতেই জিবরীলকে দেখলেন। দেখে এবার তিনি ভয়ে কেঁপে উঠলেন। ভয়ে তিনি সংকুচিত হয়ে মাটির কাছাকাছি ঝুঁকে পড়লেন। তারপর কাঁপতে কাঁপতে বাড়ীতে গিয়ে বললেন, ‘‘আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও, কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও।্
সবাই তাঁকে ঢেকে দিল। তবু কাঁপুনি বন্ধ হলো না। এই সময় জিবরীল তাকে ডেকে বললেন, ‘‘ইয়া আইয়ুহাল মোযযামমেল্ (হে কম্বল মুড়ে দেয়া ব্যক্তি)। কেউ কেউ বলেন, জিবরাঈল বললেন, ইয়া আইয়ুহাল মোদ্দাসসের (হে বস্ত্রাচ্চাদিত ব্যক্তি)। প্রকৃত পক্ষে এ সময় কোনৎ সূরা নাযিল হয়েছিল, তা আল্লাহই ভালো জানেন। পুর্ববর্তী বর্ণনা সঠিক হোক, কিংবা শেষোক্ত বর্ণনা এ কথা সত্য যে, রসূল (স.) ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন যে, তার সামনে রয়েছে এক সুদীর্ঘ সংগ্রাম। জিবরাঈলের সেই ডাক শোনার পর তার জন্য অপেক্ষা করছে শুধুই জাগরণ, কঠোর পরিশ্রম ও অক্লান্ত চেষ্টা সাধনা। সে ডাক তাঁকে আর ঘুমাতে দেবে না।
রসূল (স.)-কে বলা হলো, ওঠো, তিনি উঠলেন। তারপর বিশ বছরেরও বেশী কাল ধরে তিনি উঠেই রইলেন। কোন বিশ্রাম নিতে পারলেন না, স্থির হতে পারলেন না একটুও। নিজের জন্য বা নিজের পরিবারে জন্য এক মুহুর্ত শান্তভাবে জীবন উপভোগ করতে পারলেন না।

আল্লাহর দীনের দাওয়াত দিতে সেই যে তিনি উঠলেন, আর থামলেন না। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে ভারী দায়িত্বের বোঝা ঘাড়ে তুললেন। সমগ্র মানব জাতির দায়িত্ব, গোটা দীনের দায়িত্ব এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দায়িত্ব ঘাড়ে তুললেন।

তার জন্যে দ্বীনকে আসান করে দেয়া হলো
মসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে যে, সাঈদ বিন হিশাম ইবনে আব্বাসের কাছে জিজ্ঞাসা করলেন যে, রসূল (স.) কিভাবে বেজোড় সংখ্যক নামায পড়তেন?
হযরত ইবনে আব্বাস বললেন, এ ব্যাপারে হযরত আয়েশা (র.) সবচেয়ে ভালো জানেন। তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা কর। তারপর তিনি কি জবাব দেন তা আমাকে জানিও।

সাঈদ ইবনে হিশাম বলেন, আমি হযরত আয়েশাকে বললাম, হে উম্মুল মোমেনীন, আমাকে জানান রসূল (স.)-এর চরিত্র কেমন ছিল।
তিনি বললেন, তুমি কি কোরআন পড় না?
আমি বললাম, হাঁ, পড়ি।
তিনি বললেন, কোরআনই ছিল রসূল (স.)-এর চরিত্র।
এ কথা শোনার পর আমি চলে আসতে উদ্যত হয়েছিলাম। হঠাৎ মনে পড়লো, রসূল (স.) রাত্রি জেগে নামায পড়ার বিষয়টাও জেনে নেই।
আমি বললালম, হে উম্মুল মোমেনীন! রসূল (স.) কি রকম রাত জেগে নামায পড়তেন, তা আমাকে বলুন।

তিনি বললেন, সূরা আল মোযযাম্মেলের প্রথমাংশে রাত জেগে নামায পড়াকে ফরয করা হয়েছিল। ফলে রসূল (স.) ও তাঁর সাহাবীরা রাত জেগে নামায পড়তে লাগলেন। পুরো এক বছর এভাবে রাত জেগে নামায পড়ায় তাঁদের পা ফুলে গেল। এ সূরার শেষাংশকে আল্লাহ বারো মাস আকাশে আটকে রাখলেন। তারপর সূরার শেষভাগে আংশিক অব্যাহতির বিধান নাযিল করলেন। তখন থেকে রাত জাগাটা নফল হয়ে গেল, অথচ ইতিপূর্বে তা ফরয ছিল।

এরপর আমি বিদায় নেয়ার উদ্যোগ নিলাম। সহসা মনে পড়লো রসূল (স.)-এর বেজোড় সংখ্যক নামায পড়ার বিষয়টাও জেনে নেই।
আমি বললাম, হে উম্মুল মোমেনীন! রসূল (স.)-এর বেজোড় সংখ্যক নামায পড়ার বিষয়টি আমাকে জানান।
তিনি বললেন, আমরা রসূল (স.)-এর মেসওয়াক ও ওযুর পানি প্রস্তুত করে রাখতাম। এরপর আল্লাহ যেভাবে তাঁকে ঘুম থেকে জাগাতে চাইতেন জাগাতেন। তিনি জেগে মেসওয়াক করতেন, ওযু করতেন, অতপর আট রাকাত নামায পড়তেন। এই আট রাকাতের একেবারে শেষে ছাড়া তিনি বসতেন না। অষ্টম রাকাতে বসে তিনি আল্লাহর যেকের করতেন, দোয়া করতেন, কিন্তু সালাম না ফিরায়ে উঠে দাঁড়িয়ে একই নিয়মে নবম রাকাত শেষ তরে সালাম ফেরাতেন। এরপর দ্রুাকাত নামায বসে পড়তেন। এই হচ্চে এগারো রাকাত। রসূল (স.) যখন বয়োবৃদ্ধ হলেন, তখন সাত রাকাত পড়ে সালাম ফিরায়ে আরো দ্রুাকাত পড়তেন। এভাবে নয় রাকাতও পড়তেন। আর রসূল (স.) যখনই কোন নামায পড়তেন, তা অব্যাহত রাখাকে পছন্দ করতেন। কোন অসুখ, কিংবা ঘুমের কারণে রাতে জাগতে না পারলে তিনি দিনের বেলায় বারো রাকাত নামায পড়তেন। রসূল (স.) কখনো একই রাতে সকাল পর্যন্ত পুরো কোরআন পড়েছেন বলে আমার জানা নেই। রমযান ছাড়া তিনি এক নাগাড়ে একমাস কখনো রোযা রাখেননি। (যাদুল ম্য়াাদ)।

[ তাফসীর ফী যিলালিল কোরআন্ এর সূরা আল মোযযাম্মেল থেকে সংক্ষেপিত ]

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY